📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 তিনটি বিষয়ের ব্যাখ্যা

📄 তিনটি বিষয়ের ব্যাখ্যা


(১) হুদহুদ পাখি সাবা হইতে ফিরিয়া আসিয়া সুলায়মান (আ)-কে বলিল, "আপনি যাহা অবগত নহেন আমি তাহা অবগত হইয়াছি" (২৭ঃ ২২)। এখানে লক্ষ্য করা যায় যে, সুলায়মান (আ) যে সম্পর্কে অবগত নহেন সেই সম্পর্কে একটি পাখি অবগত হইয়াছে। ইহার উত্তরে বলা যায়, সারা পৃথিবী সম্পর্কে সুলায়মান (আ)-এর জ্ঞান থাকা জরুরী ছিল না, তাঁহার যতটুকু জ্ঞানের প্রয়োজন, আল্লাহ তাঁহাকে ততটুকুই দান করিয়াছিলেন। এখানে বিষয়টি হযরত মূসা (আ) ও খিযির (আ)-এর সহিত তুলনীয় (তাফসীরে কবীর। পৃ.)।
সুলায়মান (আ) সম্পর্কে বলা হইয়াছেঃ "আমাকে সকল কিছু দেওয়া হইয়াছে" (২৭:১৬)। আবার হুদহুদ পাখি সাবার রাণী সম্পর্কে বলিল, "তাহাকে সকল কিছু দেওয়া হইয়াছে" (২৭ঃ ২৩)। একদিকে একজন মহান নবী ও পরাক্রমশালী শাসক এবং অপরদিকে একজন মুশরিক শাসক সম্পর্কে একই কথা বলা হইয়াছে। এই সম্পর্কে ইমাম রাযী (র) বলেন, সুলায়মান (আ)-কে নবুওয়াত, নবুওয়াতী প্রজ্ঞা এবং রাজকার্য পরিচালনার পার্থিব শক্তি দান করা হইয়াছে। অপরদিকে সাবার রাণীকে শুধু পার্থিব শক্তি দান করা হইয়াছে। একজনকে ইহ-জাগতিক ও অতি-প্রাকৃতিক উভয় শক্তি দান করা হইয়াছে এবং অপরজনকে শুধু ইহ-জাগতিক শক্তি দান করা হইয়াছে।
(৩) হুদহুদ সাবার রাণীর সিংহাসন সম্পর্কে বলিল, وَلَهَا عَرْسٌ عَظِيمٌ "তাহার আছে এক বিরাট সিংহাসন" (২৭ঃ ২৩)। অপরদিকে আল্লাহ তাআলার আরশ সম্পর্কে বলা হইয়াছে: وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ “এবং তিনি মহান আরশের অধিপতি” (৪০: ১৫; আরও দ্র. ২০:৮৬; ২৭ : ২৬)। দুই স্থানেই "আরশ আজীম" ব্যবহৃত হইয়াছে। ইমাম রাযী বলেন, আল্লাহ্র আরশ যদি শাব্দিক অর্থে তাঁহার সিংহাসন হইয়া থাকে, তবে বলা যায় যে, সমকালীন পার্থিব রাজা- বাদশাহগণের সিংহাসনের তুলনায় সাবার রাণীর সিংহাসন ছিল অতুলনীয়। কিন্তু তাহা আল্লাহ্ত্র সিংহাসনের তুলনায় কিছুই নহে। তিনি যেন গোটা বিশ্বলোকের মহান স্রষ্টা, তাঁহার সিংহাসনও অদ্রুপ মহান ও গৌরবময় (তাফসীরে কবীর)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বায়ুর উপর কর্তৃত্ব

📄 বায়ুর উপর কর্তৃত্ব


আল্লাহ তাআলা হযরত সুলায়মান (আ)-কে বায়ুকে নিজ প্রয়োজন মাফিক ব্যবহার করার মু'জিযা দান করিয়াছিলেন। তিনি যখনই চাহিতেন বায়ুর সাহায্যে দিনের প্রথম প্রহরে এক মাসের দূরত্ব এবং শেষ প্রহরে এক মাসের দূরত্ব স্বল্প সময়ের মধ্যে অতিক্রম করিতেন। কুরআন মজীদে এই সম্পর্কে তিনটি কথা বলা হইয়াছেঃ (১) বায়ুকে সুলায়মান (আ)-এর নিয়ন্ত্রণাধীন করা হইয়াছিল; (২) বায়ু তাঁহার নির্দেশের এতই অনুগত ছিল যে, উহা বেগবান ও দ্রুত গতিসম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও তাঁহার নির্দেশে মোলায়েম ও মৃদু গতিসম্পন্ন হওয়ায় আরামদায়ক হইত; (৩) মৃদু গতিসম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও হযরত সুলায়মান (আ) দিনের প্রথম প্রহরে ও অপরাহ্নে পৃথকভাবে এক এক মাসের পথ অতিক্রম করিতেন যেন তাহা বর্তমান কালের উড়োজাহাজের মত দ্রুতগতিসম্পন্ন ছিল, অথচ তাহাতে শক্তিউৎপাদক কোন যন্ত্রপাতি ছিল না, আল্লাহ্ হুকুমেই তাহা শূন্যে উড্ডয়ন করিত (কাসাসুল কুরআন, ২খ, পৃ. ১০৪-৫; আম্বিয়া-ই কুরআন, ৩খ, পৃ. ১০৩; আনওয়ারে আম্বিয়া, পৃ. ১১৪-৫)। কুরআন মজীদে বলা হইয়াছে:
وَلِسُلَيْمَنَ الرِّيْحَ عَاصِفَةً تَجْرِي بِأَمْرِهِ إِلَى الْأَرْضِ الَّتِي بَارَكْنَا فِيهَا وَكُنَّا بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِمِينَ .
"এবং সুলায়মানের বশীভূত করিয়া দিয়াছিলাম উদ্দাম বায়ুকে, উহা তাহার আদেশক্রমে প্রবাহিত হইত সেই দেশের দিকে যেখানে আমি কল্যাণ রাখিয়াছি। প্রত্যেক বিষয় সম্পর্কে আমিই সম্যক অবগত” (২১:৮১)।
وَلسُلَيْمَنَ الرِّيحَ غُدُوهَا شَهْرٌ وَرَوَاحُهَا شَهْرٌ .
"আমি সুলায়মানের অধীন করিয়াছিলাম বায়ুকে যাহা প্রভাতে এক মাসের পথ এবং সন্ধ্যায় এক মাসের পথ অতিক্রম করিত” (৩৪: ১২)।
فَسَخَّرْنَا لَهُ الرِّيْحَ تَجْرِي بِأَمْرِهِ رُخَاءً حَيْثُ أَصَابَ .
"অতএব আমি তাহার অধীন করিয়া দিলাম বায়ুকে, যাহা তাহার আদেশে, সে যেখানে ইচ্ছা করিত সেথায় মৃদুমন্দভাবে প্রবাহিত হইত” (৩৮: ৩৬)।
হাসান বসরী (র) বলেন যে, হযরত সুলায়মান (আ) ভোরে দামিশক হইতে যাত্রা করিয়া এক মাসের পথের দূরত্বে ইসতাখর পৌঁছিয়া সকালের নাশতা করিতেন এবং বিকালে ইসতাখর হইতে যাত্রা করিয়া এক মাসের পথের দূরত্বে কাবুল পৌঁছিয়া তথায় রাত্রিযাপন করিতেন (বিদায়া, ২খ, পৃ. ২৭)।
নবী-রাসূলগণকে আল্লাহ তাআলার পক্ষ হইতে প্রদত্ত মু'জিযাসমূহ অতি-প্রাকৃতিক ধরনের, যাহা জড়বুদ্ধির আয়ত্বের বাহিরে। আজকাল বিজ্ঞানের বদৌলতে ইহার কিছু কিছু অনুধাবন করা সহজতর হইতেছে। মানুষ এই বাতাসের শক্তি কাজে লাগাইয়া আকাশযান চালাইতেছে, শীতে ও গরমে বিশেষ যন্ত্রর সাহায্যে প্রয়োজনমত উহা গরম ও ঠাণ্ডা করা হইতেছে, আবার কখনও প্রচণ্ড বেগে তাহা প্রবাহিত করা হইতেছে। নির্দিষ্ট কোন বস্তু বা পাত্রের ভেতর হইতে মানবীয় বুদ্ধিবলে বায়ুকে অপসারণ করা হইতেছে ইত্যাদি। মানবীয় বুদ্ধিই যদি অদৃশ্যমান একটি সৃষ্টিকে এইভাবে ইচ্ছামত ব্যবহার করিতে পারে, তবে আল্লাহ্ কুদরত উহাকে একজন মহান নবীর নিয়ন্ত্রণাধীন করিয়া দিলে তাহাকে অলিক বলিয়া ধারণা করার কোন ভিত্তি নাই।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 জিন্ন জাতির উপর কর্তৃত্ব

📄 জিন্ন জাতির উপর কর্তৃত্ব


অনুরূপভাবে আল্লাহ্ তাআলা হযরত সুলায়মান (আ)-কে একটি অদৃশ্যমান ও অজড় জাতি জিন্নদের উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার ক্ষমতা দান করিয়াছিলেন। হযরত সুলায়মান (আ)-এর রাজত্বের একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য এই যে, মানবজাতিসহ জিন্ন জাতি তাঁহার কর্তৃত্বাধীন ছিল। তিনি ইহাদের উপর যাবতীয় ধরনের নিয়ন্ত্রণ লাভ করিয়াছিলেন। ইহারা সমুদ্রের তলদেশ হইতে তাঁহার জন্য দুর্লভ মুক্তা আহরণ করিত। তিনি ইহাদের দ্বারা নূতন নূতন শহর ও প্রাসাদ নির্মাণ করাইতেন, বৃহদাকারের হাঁড়ি-পাতিল ও পত্রাদি তৈয়ারি করাইতেন। ইহাদের মধ্যে কেহ বিদ্রোহী বা অবাধ্য হইলে তিনি উহাকে জিঞ্জীরাবদ্ধ করিয়া রাখিতেন। মোটকথা, আল্লাহ তাআলা তাঁহাকে জিন্নদের উপর এতখানি নিয়ন্ত্রণক্ষমতা দান করিয়াছিলেন যে, তিনি যথেচ্ছা ইহাদিগকে ব্যবহার করিতে পারিতেন। এই সম্পর্কে কুরআন মজীদে বলা হইয়াছে:
وَمِنَ الشَّيْطِينِ مَنْ يَغُوصُونَ لَهُ وَيَعْمَلُونَ لَهُ عَمَلا دُونَ ذَلِكَ وَكُنَّا لَهُمْ حُفِظِينَ .
“এবং শয়তানদের মধ্যে কতক তাহার জন্য ডুবুরীর কাজ করিত, ইহা ব্যতীত অন্য কাজও করিত; আমি উহাদের রক্ষাকারী ছিলাম" (২১:৮২)।
বাইবেল হইতে এই সম্পর্কে যৎসামান্য ইঙ্গিত পাওয়া যায়ঃ "আর হীরমের যে সকল জাহাজ ওফীর হইতে স্বর্ণ লইয়া আসিত, সেই সকল জাহাজ ওফীর হইতে বিস্তর চন্দনকাঠ ও মনিও আনিত” (১ম রাজাবলী, ১০: ১১)।
وَمِنَ الْجِنَّ مَنْ يُعْمَلُ بَيْنَ يَدَيْهِ بِاذْنِ رَبِّهِ .
"তাহার প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে জিন্নদের কতক তাহার সম্মুখে কাজ করিত" (৩৪: ১২)।
والشَّيْطينَ كُلِّ بَنَّا ، وغَواصِ وَآخَرِينَ مُقَرَّنِينَ فِي الْأَصْفَادِ .
“এবং শয়তানদিগকে (তাহার অধীন করিয়া দিলাম), যাহারা সকলেই ছিল প্রাসাদ নির্মাণকারী ও ডুবুরী এবং শৃঙ্খলে আবদ্ধ আরও অনেককে" (৩৮: ৩৭-৩৮)।
সুলায়মান (আ)-কে ইহাদের উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দান করা হইয়াছিল এবং ইহার জন্য তাঁহাকে কোনরূপ জবাবদিহি করিতে হইত না (বিদায়া, ২খ, পৃ. ৩০)। মহান আল্লাহ বলেন:
هذَا عَطَاؤُنَا فَامْنُنْ أَوْ أَمْسِكْ بِغَيْرِ حِسَابٍ .
“এইসব আমার অনুগ্রহ, ইহা হইতে তুমি অন্যকে দিতে অথবা নিজে রাখিতে পার। ইহার জন্য তোমাকে হিসাব দিতে হইবে না" (৩৮: ৩৯)।
কতক লোক জিন্নের অস্তিত্বকে অস্বীকার করিয়া বলে যে, কুরআন মজীদে জিন্ন দ্বারা তৎকালের অসম শক্তিশালী, বিরাটকায় ও দুর্ধর্ষ একটি জাতিকে বুঝানো হইয়াছে যাহাদেরকে হযরত সুলায়মান (আ) ব্যতীত অপর কেহ নিয়ন্ত্রণে আনিতে পারে নাই (কাসাসুল কুরআন, ২খ, পৃ. ১০৬; নির্বাচিত রচনাবলী, ২খ, পৃ. ৯৩)। যে জিনিসের অস্তিত্ব সম্পর্কে কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায় না, সেই জিনিসকে কেবল ধর্মগ্রন্তের সনদের ভিত্তিতে বাস্তব বলিয়া মানিয়া নিতে ইহারা দ্বিধাবোধ করে। তাই তাহারা কুরআন ব্যাখ্যার নামে উহার বিকৃতি সাধনে তৎপর হয়। বস্তুত জিন্ন মানবজাতির মতই একটি অদৃশ্যমান স্বতন্ত্র জাতি। কুরআন মজীদের ১৬টি সূরায় জিন্ন সম্পর্কে বক্তব্য আছে।
উদাহরণস্বরূপ:
৬. আল-আন'আম : ১০০, ১১২, ১২৮, ১৩০
৭. আল-আ'রাফ: ৩৮, ১৯৭
১১. হুদ: ১১৯
১৫. আল-হিজরঃ ২৭
১৭. আল-ইসরা: ৮৮
১৮. আল-কাহফঃ ৫০
২৭. আন-নামল: ১৭, ৩৯
৩২. আস-সাজদা: ১৩
৩৪. সাবা: ১২, ১৪, ৪১
৩৭. আস-সাফ্ফাত: ১৫৮
৪১. হা-মীম-সাজদা: ২৫, ২৬
৪৬. আল-আহকাফ: ১৮, ২৯
৫১. আয-যারিয়াত: ৫৬
৫৫. আর-রহমান: ১৫, ৩৩, ৩৯, ৫৬, ৭৪
৭২. আল-জিন্ন: ১, ৫, ৬
১১৪. আন-নাস: ৬
উপরিউক্ত আয়াতসমূহে ৩২বার জিন্ন, জান্ন, জিন্নাতুন শব্দসমূহ উদ্ধৃত হইয়াছে এবং কোন কোন আয়াতে জিন্ন সম্পর্কে যথেষ্ট তথ্য বিদ্যমান আছে। উদাহরণস্বরূপ:
وَخَلَقَ الْجَانَّ مِنْ مَّارِجٍ مِّنْ نَّارٍ . "এবং তিনি জিন্নকে সৃষ্টি করিয়াছেন নির্ধূম অগ্নিশিখা হইতে” (৫৫: ১৫)।
وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلا لِيَعْبُدُونِ . "আমি জিন্ন ও মানুষকে এইজন্য সৃষ্টি করিয়াছি যে, তাহারা আমারই ইবাদত করিবে” (৫১: ৫৬)।
بمَعْشَرَ الْجِنَّ وَالْإِنْسِ إِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ تَنْفُذُوا مِنْ أَقْطَارِ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ فَانْفُذُوا لَا تَنْفُذُونَ إِلَّا بِسُلْطَانٍ . "হে জিন্ন ও মনুষ্য সম্প্রদায়! তোমরা যদি আকাশ-মণ্ডলী ও পৃথিবীর সীমা অতিক্রম করিতে পার তবে অতিক্রম কর, কিন্তু তোমরা অতিক্রম করিতে পারিবে না সনদ ব্যতিরেকে" (৫৫: ৩৩)।
وَإِذْ صَرَفْنَا إِلَيْكَ نَفَرًا مِّنَ الْجِنِّ يَسْتَمِعُونَ الْقُرْآنَ . "স্মরণ কর, যখন আমি তোমার প্রতি আকৃষ্ট করিয়াছিলাম একদল জিন্নকে, যাহারা কুরআন পাঠ শুনিতেছিল” (৪৬: ২৯)।
قُلْ أُوحِيَ إِلَى أَنَّهُ اسْتَمَعَ نَفَرٌ مِّنَ الْجِنِّ فَقَالُوا إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآنًا عَجَبًا "বল, আমার প্রতি ওহী প্রেরিত হইয়াছে যে, জিন্নদের একটি দল মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করিয়াছে এবং বলিয়াছে, আমরা তো এক বিস্ময়কর কুরআন শ্রবণ করিয়াছি” (৭২ : ১)।
রাসূলুল্লাহ (স)-এর হাদীছেও জিন্ন একটি স্বতন্ত্র জাতি হিসাবে স্বীকৃত হইয়াছে। মহানবী (স) বলেন:
خُلِقَتِ الْمَلَائِكَةُ مِنْ نُورٍ وَخُلِقَ الْجَانُ مِنْ مَّارِجٍ مِّنْ نَارٍ وَخُلِقَ أَدَمُ مِمَّا وُصِفَ لَكُمْ . "ফেরেশতাগণকে নূর দ্বারা সৃষ্টি করা হইয়াছে; জিন্নকে সৃষ্টি করা হইয়াছে নির্ঘুম অগ্নিশিখা দ্বারা এবং আদম (আ)-কে সৃষ্টি করা হইয়াছে তোমাদের নিকট বর্ণিত বস্তু দ্বারা" (মুসলিম, যুহদ, বাব ফী আহাদীছ মুতাফাররিকা, ২ খ.)।
لا تَسْتَنْجُوا بِالرُّوث ولا بالعظامِ فَإِنَّهُ زَادُ اخْوَانِكُمْ مِّنَ الْجِنَّ . "তোমরা না শুষ্ক গোবর দ্বারা আর না হাড় দ্বারা শৌচকার্য করিবে। কারণ এইগুলি তোমাদের ভ্রাতৃকুল জিন্নদিগের খাদ্য” (তিরমিযী, তাহারাত, বাব কারাহিয়াতি মা ইয়ুসতানজা বিহী, ১খ, আরও দ্র. বুখারী, মানাকিবুল আনসার, বীব মা জাআ মিনাল জিন্ন, নং ৩৫৭৩)।
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ سَجَدَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالنَّجْمِ وَسَجَدَ مَعَهُ الْمُسْلِمُوْنَ وَالْمُشْرِكُونَ والجن والانس . "ইব্‌ন আব্বাস (রা) বলেন, মহানবী (স) সূরা আন-নাজম-এ সিজদা করিলে তাঁহার সহিত মুসলমান, মুশরিক, জিন্ন ও মানব সকলে সিজদা করে" (বুখারী, তাফসীর সূরা নাজম; আরও দ্র. তিরমিযী, আবওয়াবুস সাফার, বাব মা জাআ ফিস-সাজdaতি ফিন-নাজম, ১ খ.)।
কুরআন মজীদ ও হাদীছ শরীফে জিন্নদিগের সম্পর্কে বহুবিধ তথ্য বিদ্যমান যাহা দ্বারা ইহারা স্বতন্ত্র জাতি প্রমাণিত হয়। সুতরাং মু'মিন মুসলমানদের ঈমান এই যে, ইহারা আল্লাহ পাকের একটি বিশেষ সৃষ্টি।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 তামার প্রস্রবণ

📄 তামার প্রস্রবণ


হযরত দাউদ (আ)-এর জন্য যেমন লৌহকে মোলায়েম ও নমনীয় করিয়া দেওয়া হইয়াছিল (দ্র. ৩৪ : ১০), অদ্রূপ হযরত সুলায়মান (আ)-এর জন্য তাম্রের প্রস্রবণ প্রবাহিত করা হইয়াছিল। তিনি প্রয়োজনমত ইহা দালান-কোঠা, দুর্গাদি, নৌযান ইত্যাদি নির্মাণ কাজে ব্যবহার করিতেন। এই সম্পর্কে কুরআন মজীদে বলা হইয়াছে:
وَأَسَلْنَا لَهُ عَيْنَ القطر . "আমি তাহার জন্য গলিত তামের এক প্রস্রবণ প্রবাহিত করিয়াছিলাম” (৩৪ : ১২)।
কতক তাফসীরকার বলেন যে, আল্লাহ তাআলা ইয়ামানে গলিত তামার একটি প্রস্রবণ প্রবাহিত করিয়া উহা হযরত সুলায়মান (আ)-এর নিয়ন্ত্রণাধীন করিয়া দিয়াছিলেন (মাওদিহুল কুরআন-এর বরাতে আম্বিয়া-ই কুরআন, ৩খ, পৃ. ১০৫)। কতক মুফাসসির বলেন যে, আল্লাহ তাআলা হযরত সুলায়মান (আ)-এর প্রয়োজন মাফিক তাম্রকে গলাইয়া দিতেন এবং ইহা ছিল আল্লাহ প্রদত্ত তাঁহার এক মু'জিযা (কাসাসুল কুরআন, ২খ, পৃ. ১১১)। আবদুল ওয়াহ্হাব আন-নাজ্জার বলেন, ভূগর্ভস্থ উত্তপ্ত উপাদানের কারণে যে স্তরে তাম্র বিগলিত অবস্থায় থাকে, আল্লাহ তাআলা হযরত সুলায়মান (আ)-কে উহার সন্ধান দিয়াছিলেন। তৎপূর্বে কেহই এই সম্পর্কে অবহিত ছিল না (কাসাসুল আম্বিয়া, পৃ. ৩৯৩)। ইন্ন কাছীর (র) হযরত কাতাদা (র)-এর বরাতে বলেন যে, গলিত তাম্রের এই প্রস্রবণ ইয়ামানে অবস্থিত ছিল, যাহা আল্লাহ তাআলা হযরত সুলায়মান (আ)-এর জন্য উন্মুক্ত করিয়াছিলেন (বিদায়া, ২খ, পৃ. ২৮)। সুদ্দী (র) বলেন, তিনি ইহা নির্মাণ ইত্যাদি কর্মে ব্যবহার করিতেন (ঐ, পৃ. ২৮)। প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্যের ফলে আকাবা উপসাগরের তীরে ঈলাত (বর্তমান আকাবা)-এর পশ্চিমে প্রায় পঁচিশ বর্গমাইল এলাকা জুড়িয়া তাম্র খনির প্রাচীন নিদর্শন আবিস্কৃত হইয়াছে, যাহা হইতে সুলায়মান (আ)-এর যুগে তাম্র উত্তোলন করা হইতে (আম্বিয়া-ই কুরআন, ৩খ, পৃ. ১০৬, টীকা ১)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00