📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ইরান সম্রাটের মন্ত্রী নিযুক্ত

📄 ইরান সম্রাটের মন্ত্রী নিযুক্ত


ইরান সম্রাট বাবিল অধিকার করিয়া সেখানে স্বীয় শাসন সুসংহত করেন এবং কর্তৃত্ব পরিচালনা করেন। তিনি দানিয়াল (আ)-এর বিদ্যা-বুদ্ধি ও জ্ঞান-বিবেকের কারণে তাঁহাকে খুবই সম্মান ও কদর করিতেন। তাই তিনি যখন রাষ্ট্রে ১২০ জন নাজিম ও তিনজন মন্ত্রী নিযুক্ত করেন তখন হযরত দানিয়াল (আ)-কেও মন্ত্রী নিযুক্ত করেন।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 সিংহের খাঁচায় নিক্ষেপ এবং উহা হইতে পরিত্রাণ লাভ

📄 সিংহের খাঁচায় নিক্ষেপ এবং উহা হইতে পরিত্রাণ লাভ


দানিয়াল (আ) অন্যান্য মন্ত্রী ও নাজিমদের তুলনায় বেশী জ্ঞানী ও কর্মতৎপর বলিয়া প্রমাণিত হইলে অন্যরা তাঁহার প্রতি হিংসা করিতে থাকে এবং তাঁহার ক্ষতি করিবার ফন্দি আঁটিতে থাকে। কিন্তু তাহাদের কোনও চেষ্টাই ফলবতী না হওয়ায় তাহারা বাদশাহকে পরামর্শ দিল যে, এই মর্মে এক ফরমান জারী করা হউক, ত্রিশ দিন পর্যন্ত কেহ আপনি ব্যতীত অন্য কোনও উপাস্য বা কোনও লোকের নিকট কিছু যাজ্ঞা করিলে বা কোনও আবেদন করিলে তাহাকে সিংহের খাঁচায় নিক্ষেপ করা হইবে। বাদশাহ তাহাদের পরামর্শ গ্রহণ করত উক্ত ফরমান জারী করিলেন। হযরত দানিয়াল (আ)-এর নিয়ম ছিল, দিনে তিনবার নিজের গৃহে বসিয়া তিনি আল্লাহ্ ইবাদত করিতেন এবং তাঁহার নিকট দু'আ করিতেন। ষড়যন্ত্রকারী ও হিংসুকগণ এই সুযোগ কাজে লাগাইল। তাহারা বাদশাহকে জানাইল যে, দানিয়াল (আ) আপনার নির্দেশের কোনও তোয়াক্কা করিতেছেন না; বরং প্রতিদিন তিনবার তিনি তাঁহার আল্লাহর নিকট দু'আ করিতেছেন। বাদশাহ হযরত দানিয়াল (আ)-এর প্রতি সুধারণা রাখিতেন। তাই তিনি চাহিতেছিলেন না যে, তাঁহাকে কোনওরূপ শাস্তি প্রদান করেন। কিন্তু পারিষদবর্গ পীড়াপীড়ি করিতে লাগিল যে, ঘোষণা ও ফরমান অনুযায়ী দানিয়াল (আ)-এর শাস্তি কার্যকর করা হউক এবং তাহাকে সিংহের খাঁচায় নিক্ষেপ করা হউক। অবশেষে বাধ্য হইয়া বাদশাহ হযরত দaniয়াল (আ)-কে তাহাদের নিকট সোপর্দ করিলেন। অতঃপর তাঁহাকে সিংহের খাঁচায় নিক্ষপ করা হইল। আল্লাহর কুদরতে সিংহ তাঁহার কোনই ক্ষতি করিল না। তিনি নির্ভয়ে ও সহীহ-সালামতে খাঁচার মধ্যে সময় অতিবাহিত করিতে লাগিলেন। বাদশাহ এই সংবাদ শুনিয়া নিজেই তাঁহাকে দেখিতে সিংহের খাঁচার নিকট গেলেন। বাদশাহ তাঁহাকে নিরাপদ ও অক্ষত দেখিয়া প্রফুল্ল চিত্তে তাঁহাকে বাহির করিবার নির্দেশ দিলেন। সঙ্গে সঙ্গে আরও নির্দেশ দিলেন যে, যাহারা দানিয়ালের বিরুদ্ধে অভিযোগ করিয়া তাহাকে এই শাস্তি দিতে প্ররোচিত ও বাধ্য করিয়াছে তাহদিগকে স্ত্রী-পুত্র-কন্যাসহ সিংহের খাঁচায় নিক্ষেপ করা হউক, যাহাতে তাহারা আপন কৃতকর্মের শাস্তি ভোগ করিতে পারে।
ইব্‌ন আবিদ দুনয়া আবদুল্লাহ ইব্‌ন আবি'ল-হুযায়ল সূত্রে অনুরূপ একটি ঘটনা বর্ণনা করিয়াছেন, যাহা বুপ্ত নাস্সার সম্পর্কিত। তাহা এই যে, বুপ্ত নাস্সার কূপের মধ্যে দুইটি সিংহ রাখেন এবং দানিয়াল (আ)-কে আনিয়া সেখানে উহাদের কাছে কূপে নিক্ষেপ করেন। কিন্তু উহারা তাঁহার কোনওরূপ ক্ষতি করিল না। দানিয়াল (আ) সেখানে কিছুকাল অতিবাহিত করেন। অতঃপর মানবিক চাহিদা অনুযায়ী খাদ্য ও পানীয়ের প্রতি তাঁহার আকর্ষণ জন্মিল। আল্লাহ তা'আলা শাম-এ উরমিয়ার নিকট ওহী প্রেরণ করিলেন যে, দানিয়ালের জন্য খাদ্য ও পানীয় তৈরি কর। তিনি বলিলেন, ওগো আমার প্রতিপালক! আমি রহিয়াছি পবিত্র ভূমি শাম-এ, আর দানিয়াল রহিয়াছেন ইরাকের বাবিল শহরে! আল্লাহ তাঁহাকে ওহী পাঠাইলেন, আমি তোমাকে যাহা তৈরি করার নির্দেশ দিয়াছি তুমি তাহাই কর। আমি অতি সত্ত্বর এমন একজনকে পাঠাইতেছি, যে তোমাকে এবং তুমি যাহা তৈরী করিয়াছ তাহা বহন করিয়া লইয়া যাইবে। অতঃপর উরমিয়া খাদ্য ও পানীয় তৈরি করিলেন। আল্লাহ তাঁহাকে ও তাঁহার তৈরীকৃত সামগ্রী লইয়া যাওয়ার ব্যবস্থা করিলেন। তিনি অতপর কূপের পার্শ্বে আসিয়া দাঁড়ালেন। দানিয়াল (আ) জিজ্ঞাসা করিলেন, তুমি কে? তিনি বলিলেন, আমি উরমিয়া। দানিয়াল (আ) বলিলেন, কিজন্য এইখানে আসিয়াছ? তিনি বলিলেন, আমাকে আপনার প্রতিপালক আপনার নিকট প্রেরণ করিয়াছেন। দানিয়াল (আ) বলিলেন, আমাকে তাহা হইলে আমার প্রতিপালক স্মরণ করিয়াছেন? তিনি বলিলেন, হাঁ। দানিয়াল (আ) বলিলেন, সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর, তিনি তাঁহাকে যে স্মরণ করে তাহাকে ভুলেন না। সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর যিনি তাহার ডাকে সাড়া দেন, যে তাঁহার প্রতি আশাবাদী হয়। সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর, যিনি তাঁহার উপর ভরসাকারীকে অন্যের হাতে সোপর্দ করেন না। সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর, যিনি উত্তম কর্মের উত্তম প্রতিদানই দেন। সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর যিনি ধৈর্যের প্রতিদান দেন মুক্তির দ্বারা। সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর যিনি আমাদের উপর মুসীবত আসার পর উহার ক্ষয়ক্ষতি দূর করিয়া দেন। সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর যিনি আমাদিগকে আমাদের কর্ম সম্পর্কে কুধারণা সৃষ্টি হওয়ার মুহূর্তে আমাদিগকে রক্ষা করেন। সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর, আমাদের পক্ষ হইতে সকল কলা-কৌশল বন্ধ হইয়া যাওয়ার মুহূর্তে যিনি আমাদের আশা-ভরসা।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 দানিয়াল (আ)-এর দু'আ ও তাঁহার লাশের অবস্থা

📄 দানিয়াল (আ)-এর দু'আ ও তাঁহার লাশের অবস্থা


হযরত দানিয়াল (আ) ঠিক কখন এবং কিভাবে ইনতিকাল করেন তাহার কোন সঠিক বর্ণনা পাওয়া যায় না। দ্বিতীয় খলীফা উমার ইবনুল খাত্তাব (রা)-এর শাসনামলে বর্তমান ইরানের পৃযিস্তান বিজিত হইলে তুসতার (শুস্তার, সূস) নামে উহারই একটি প্রদেশে তাঁহার লাশ পাওয়া যায়। অতঃপর হযরত উমার (রা)-এর লিখিত নির্দেশে তাঁহাকে দাফন করত কবরটির চিহ্ন বিলীন করিয়া দেওয়া হয়। এই সম্পর্কিত বিবরণ পরে আসিতেছে। তিনি আল্লাহর নিকট দু'আ করিয়াছিলেন যে, উম্মাতে মুহাম্মাদীর হাতে যেন তাহার দাফন হয়। এই মর্মে একটি রিওয়ায়াত পাওয়া যায়।
ইবন আবিদ দুনয়া (র) আবুল আশ'আছ আল-আহমারী (র) সূত্রে একটি মুরসাল হাদীছ বর্ণনা করিয়াছেন যে, রাসূলুল্লাহ (স) বলেন, দানিয়াল (আ) আল্লাহর নিকট দু'আ করিয়াছিলেন যে, তাঁহাকে যেন মুহাম্মাদ (স)-এর উম্মাত দাফন করে। অতঃপর আবূ মূসা আল-আশ'আরী (রা) যখন তুসতার জয় করেন তখন তাঁহাকে একটি সিন্দুকের মধ্যে পান। আর রাসূলুল্লাহ (স) ইহাও বলিয়াছিলেন, যে ব্যক্তি দaniয়ালের সন্ধান দিবে তাহাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিও। অতঃপর হারকূস নামক এক ব্যক্তি তাঁহার সন্ধান দেয়। আবূ মূসা (রা) উমার (রা)-কে এই সংবাদ জানাইয়া পত্র লিখিলেন। তখন উমার (রা) তাঁহাকে এই নির্দেশ দিয়া পত্র লিখিলেন, লাশটিকে দাফন কর এবং হারকূসকে আমার নিকট পাঠাইয়া দাও। কারণ নবী (স) তাঁহাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়াছেন। এই রিওয়ায়াতটি সম্পর্কে হাফিজ ইব্‌ন কাছীর (রা) উল্লেখ করিয়াছেন যে, হাদীছটি মুরসাল, ইহা মাহফুজ নহে।
হযরত দানিয়াল (আ)-এর জীবদ্দশায় তাঁহার বহু মু'জিযা দেখিয়া লোকজন তাঁহাকে আল্লাহর প্রিয় ও অসাধারণ মানব বলিয়া গণ্য করে। তাই তাঁহার মৃত্যুর পরও তাঁহার লাশকে বরকতময় বলিয়া মনে করিতে থাকে। এই ধারণার বশবর্তী হইয়া তাহারা তাঁহার লাশ দাফন না করিয়া সযত্নে রাখিয়া দেয়। কথিত আছে যে, একবার সূস (তুসতার) প্রদেশে অনাবৃষ্টি দেখা দেয়। ফলে ফসলাদি না হওয়ায় মারাত্মক দুর্ভিক্ষ নামিয়া আসে। তখন উহার অধিবাসিগণ বিশ্বাস করিল যে, দানিয়াল (আ)-এর লাশের উসীলায় বৃষ্টি প্রার্থনা করিলে আল্লাহ তা'আলা উহা কবুল করত বৃষ্টি দান করিবেন। তাই উক্ত আশা লইয়া তাহারা বাবিলের অধিবাসীদের নিকট হইতে কিছু দিনের জন্য উহা চাহিয়া লয়। এইরূপে হযরত দানিয়াল (আ)-এর লাশ সূস-এর অধিবাসীদের নিকট পৌঁছিয়া যায়। অতঃপর তাহারা উক্ত লাশ আর বাবিলে ফেরত দেয় নাই। এমতাবস্থায় আবূ মূসা (রা) সূস জয় করিয়া তাঁহার লাশের সন্ধান পান।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 দানিয়াল (আ)-এর লাশের সহিত প্রাপ্ত জিনিসপত্র ও তাঁহার লাশ দাফন

📄 দানিয়াল (আ)-এর লাশের সহিত প্রাপ্ত জিনিসপত্র ও তাঁহার লাশ দাফন


ইউনুস ইব্‌ন বুকায়র (র) আবুল আলিয়া সূত্রে বর্ণনা করেন যে, আবুল আলিয়া (র) বলেন, আমরা যখন তুসতার জয় করিলাম তখন হুরমুযান-এর কোষাগারে একখানি চৌকি পাইলাম, যাহার উপর একটি লাশ ছিল। লাশটির মাথার নিকট ছিল একখানি মুসহাফ। অতঃপর আমরা মুসহাফখানি উমার (রা)-এর নিকট লইয়া আসিলাম। তখন তিনি কা'ব (র)-কে ডাকাইয়া উহার আরবীতে অনুবাদ করাইলেন। আরবদের মধ্যে আমিই প্রথম ব্যক্তি এই গ্রন্থ পাঠ করি। বর্ণনাকারী আবু খালিদ বলেন, আমি আবুল আলিয়াকে জিজ্ঞাসা করিলাম, উহাতে কি ছিল? তিনি বলিলেন, তোমাদের সীরাত, তোমাদের বিভিন্ন কর্মের বিবরণ, তোমাদের বাক্যের লাহান (স্বর) এবং পরবর্তীতে যাহা ঘটিবে তাহা। আমি বলিলাম, আপনারা মৃত লোকটিকে কি করিয়াছিলেন? তিনি বলিলেন, দিনের বেলায় আমরা পৃথক পৃথক তেরটি কবর খনন করি। অতঃপর রাত্রিবেলায় আমরা তাঁহাকে দাফন করি এবং সবগুলি কবরই আমরা সমান করিয়া ফেলি যাহাতে লোকজনের কাছে কোনটি তাঁহার কবর সে কথা গোপন থাকে। ফলে কেহ কবর খুঁড়িয়া তাঁহার লাশ উঠাইতে না পারে। আমি বলিলাম, তাহারা উহার নিকট কি কামনা করিত? তিনি বলিলেন, বৃষ্টি বন্ধ হইয়া গেলে তাহারা উহার খাটিয়া বাহিরে লইয়া আসিত, অতঃপর বৃষ্টি হইত। আমি বলিলাম, লোকটি কে বলিয়া আপনাদের ধারণা? তিনি বলিলেন, তাঁহাকে দানিয়াল বলা হইত। আমি বলিলাম, কত দিন পূর্বে তিনি মারা গিয়াছিলেন বলিয়া আপনারা ধারণা করেন? তিনি বলিলেন, তিন শত বৎসর পূর্বে। আমি বলিলাম, তাঁহার কিছুই কি পরিবর্তিত হয় নাই? তিনি বলিলেন, পিছনের কয়েকটি চুল ব্যতীত আর কিছুই নষ্ট হয় নাই। নবীদের গোশত মাটিতে মিশিয়া যায় না, আর তাহা জীব-জন্তুতেও খায়না।
হাফিজ ইব্‌ন কাছীর উক্ত রিওয়ায়াত উদ্ধৃত করিয়া মন্তব্য করিয়াছেন যে, আবুল আলিয়া পর্যন্ত ইহার সনদ সহীহ। কিন্তু তাহার মৃত্যু তারিখ 'তিন শত বৎসর পূর্বে' যদি সঠিক হইয়া থাকে তবে ধরিয়া লইতে হইবে যে, তিনি নবী দানিয়াল নহেন, বরং একজন সৎ বান্দা। কারণ বুখারী শরীফে বর্ণিত হাদীছ অনুযায়ী হযরত 'ঈসা (আ) ও মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (স)-এর মধ্যখানে অন্য কোনও নবী আসেন নাই। আর তাঁহাদের দুইজনের মধ্যে চারি শত বৎসরের ব্যবধান। এক বর্ণনামতে ছয় শত বৎসরের এবং অপর এক বর্ণনামতে ছয় শত বিশ বৎসরের। তাঁহার মৃত্যু তারিখ হইতে পারে আট শত বৎসর পূর্বে। ইহাই নবী দানিয়াল-এর যুগের কাছাকাছি সময়। আর বাস্তবেও ইহা নবী দানিয়াল-এর লাশ হওয়াই স্বাভাবিক ও যুক্তিযুক্ত। কারণ তাঁহাকে পারস্য-রাজ বন্দী করিয়া লইয়া গিয়াছিলেন এবং সেখানেই তিনি বন্দী অবস্থায় কাটান। এই লাশটি যে নবী দানিয়ালের সেই ব্যাপারে হাফিজ ইব্‌ন কাছীর আরো একটি দলীল পেশ করিয়াছেন। তিনি বলেন, আবুল আলিয়া হইতে সহীহ সনদে বর্ণিত আছে যে, উহার নাক ছিল এক বিঘত লম্বা। আর আনাস ইবন মালিক (রা) হইতে উত্তম সনদে বর্ণিত আছে যে, উহার নাক ছিল এক হাত লম্বা। উক্ত রিওয়ায়তদ্বয়ের আলোকে বলা যায় যে, তিনি প্রাচীন নবীদের একজন হইবেন। কারণ পরবর্তীকালের লোকজনের নাক এত লম্বা হওয়া যুক্তিযুক্ত নহে। মানুষের গঠনাকৃতি ক্রমান্বয়ে ছোট হইতেছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00