📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 পরিচয়

📄 পরিচয়


বাইবেলের বর্ণনামতে দানিয়াল (আ) বনূ ইসরাঈলের একজন নবী। পবিত্র ভূমি জেরুসালেমে তাঁহার জন্ম। তিনি ইয়াহুদী জাতির চারজন শীর্ষস্থানীয় নবীর অন্তর্ভুক্ত। তাঁহার প্রতি একখানা সহীফা অবতীর্ণ হয়, যাহা The Book of Daniyel (দানিয়েলের পুস্তক) নামে Old Testament (পুরাতন নিয়ম)-এর অন্তর্ভুক্ত রহিয়াছে। পুস্তকখানি বাইবেলে The Book of the Prophet Ezekiel (যিহিঙ্কেল ভাববাদীর পুস্তক)-এর পর সন্নিবেশিত হইয়াছে। ইহাতে বুঝা যায়, বনূ ইসরাঈলের ধারণামতে দানিয়ালের সহীফাখানি উহার পর অবতীর্ণ হয়। বিভিন্ন বর্ণনা হইতে জানা যায় যে, তিনি নবী ছিলেন এবং একজন উচ্চ পদস্থ রাজকর্মচারী ও স্বপ্নের ব্যাখ্যাদাতাও ছিলেন। তবে কেহ কেহ এই নামের দুই ব্যক্তির অস্তিত্বের কথা বলিয়াছেন। একজন নবী দানিয়াল (আ) এবং অপরজন কাশফ (দিব্যদর্শন)-এর অধিকারী ও স্বপ্নের ব্যাখ্যাদাতা। তবে বাইবেলের বর্ণনা হইতে প্রতীয়মান হয় যে, উভয়ে একই ব্যক্তি এবং উভয়ে এই সকল গুণের অধিকারী ছিলেন। তবে তাঁহার দাওয়াতী কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তেমন কিছু জানা যায় না।

বাইবেলের বর্ণনামতে দানিয়াল (আ) বনূ ইসরাঈলের একজন নবী। পবিত্র ভূমি জেরুসালেমে তাঁহার জন্ম। তিনি ইয়াহুদী জাতির চারজন শীর্ষস্থানীয় নবীর অন্তর্ভুক্ত। তাঁহার প্রতি একখানা সহীফা অবতীর্ণ হয়, যাহা The Book of Daniyel (দানিয়েলের পুস্তক) নামে Old Testament (পুরাতন নিয়ম)-এর অন্তর্ভুক্ত রহিয়াছে। পুস্তকখানি বাইবেলে The Book of the Prophet Ezekiel (যিহিঙ্কেল ভাববাদীর পুস্তক)-এর পর সন্নিবেশিত হইয়াছে। ইহাতে বুঝা যায়, বনূ ইসরাঈলের ধারণামতে দানিয়ালের সহীফাখানি উহার পর অবতীর্ণ হয়। বিভিন্ন বর্ণনা হইতে জানা যায় যে, তিনি নবী ছিলেন এবং একজন উচ্চ পদস্থ রাজকর্মচারী ও স্বপ্নের ব্যাখ্যাদাতাও ছিলেন। তবে কেহ কেহ এই নামের দুই ব্যক্তির অস্তিত্বের কথা বলিয়াছেন। একজন নবী দানিয়াল (আ) এবং অপরজন কাশফ (দিব্যদর্শন)-এর অধিকারী ও স্বপ্নের ব্যাখ্যাদাতা। তবে বাইবেলের বর্ণনা হইতে প্রতীয়মান হয় যে, উভয়ে একই ব্যক্তি এবং উভয়ে এই সকল গুণের অধিকারী ছিলেন। তবে তাঁহার দাওয়াতী কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তেমন কিছু জানা যায় না।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 সময়কাল

📄 সময়কাল


হযরত দানিয়াল (আ)-এর সময়কাল সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের বর্ণনা পাওয়া যায়। এক বর্ণনামতে তাঁহার সময়কাল ছিল খৃ. পৃ. ৫৮০-৫০০ সাল (মুহাম্মাদ জামীল আহমাদ, আম্বিয়া-ই কুরআন, ৩খ, ৫৫৬)। এই বর্ণনা অনুযায়ী তিনি ৮০ বৎসর জীবিত ছিলেন। তবে এই ব্যাপারে ঐতিহাসিকগণ একমত যে, বুখ্ত নাস্সার (খৃ.পৃ. ৬০৪-৫৬১) জেরুসালেম আক্রমণ করিয়া ইয়াহুদীদিগকে বন্দী করিয়া বাবিলে লইয়া আসেন তন্মধ্যে দানিয়াল (আ)-ও ছিলেন। কিন্তু কত সালে তিনি উহা আক্রমণ করেন সে ব্যাপারে দুইটি মত পাওয়া যায়। এক বর্ণনামতে খৃ. পূ. ৬০৬ সালে (আনওয়ার-ই আম্বিয়া, পৃ.৩১৩)। এই বর্ণনাটি সঠিক বলিয়া প্রতীয়মান হয় না। কারণ তাঁহার রাজত্বকাল শুরুই হয় খৃ.পূ. ৬০৪ সাল হইতে (ফারদীনান্দ তৃতিল, আল-মুনজিদ ফিল-আদাব ওয়াল-উলূম, পৃ. ৬৬)।

হযরত দানিয়াল (আ)-এর সময়কাল সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের বর্ণনা পাওয়া যায়। এক বর্ণনামতে তাঁহার সময়কাল ছিল খৃ. পৃ. ৫৮০-৫০০ সাল (মুহাম্মাদ জামীল আহমাদ, আম্বিয়া-ই কুরআন, ৩খ, ৫৫৬)। এই বর্ণনা অনুযায়ী তিনি ৮০ বৎসর জীবিত ছিলেন। তবে এই ব্যাপারে ঐতিহাসিকগণ একমত যে, বুখ্ত নাস্সার (খৃ.পূ. ৬০৪-৫৬১) জেরুসালেম আক্রমণ করিয়া ইয়াহুদীদিগকে বন্দী করিয়া বাবিলে লইয়া আসেন তন্মধ্যে দানিয়াল (আ)-ও ছিলেন। কিন্তু কত সালে তিনি উহা আক্রমণ করেন সে ব্যাপারে দুইটি মত পাওয়া যায়। এক বর্ণনামতে খৃ. পূ. ৬০৬ সালে (আনওয়ার-ই আম্বিয়া, পৃ.৩১৩)। এই বর্ণনাটি সঠিক বলিয়া প্রতীয়মান হয় না। কারণ তাঁহার রাজত্বকাল শুরুই হয় খৃ.পূ. ৬০৪ সাল হইতে (ফারদীনান্দ তৃতিল, আল-মুনজিদ ফিল-আদাব ওয়াল-উলূম, পৃ. ৬৬)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বাদশাহর অনুকম্পা লাভ

📄 বাদশাহর অনুকম্পা লাভ


বাইবেলের বর্ণনামতে হযরত দানিয়াল (আ)-কে আল্লাহ তায়ালা জ্ঞান, বিবেক, বিদ্যা-বুদ্ধি, বিচক্ষণতা ও কর্মতৎপরতার সঙ্গে সঙ্গে দেহ সৌষ্ঠব ও বাহ্যিক সৌন্দর্যও দান করিয়াছিলেন। তাঁহার অপর তিন সঙ্গীও তদ্রূপ ছিলেন। এই কারণে বাদশাহ তাঁহাদের প্রতি সদয় হন। বাদশাহ তাঁহাদের জন্য প্রতি দিন শাহী খাবার বরাদ্দ করেন এবং তাহাদিগকে তাহার খিদমতে হাজির থাকিবার নির্দেশ দেন (আনওয়ার-ই আম্বিয়া, পৃ. ৩১৪; বাইবেল, দানিয়াল পুস্তক, ১:১৭)।

বাইবেলের বর্ণনামতে হযরত দানিয়াল (আ)-কে আল্লাহ তায়ালা জ্ঞান, বিবেক, বিদ্যা-বুদ্ধি, বিচক্ষণতা ও কর্মতৎপরতার সঙ্গে সঙ্গে দেহ সৌষ্ঠব ও বাহ্যিক সৌন্দর্যও দান করিয়াছিলেন। তাঁহার অপর তিন সঙ্গীও তদ্রূপ ছিলেন। এই কারণে বাদশাহ তাঁহাদের প্রতি সদয় হন। বাদশাহ তাঁহাদের জন্য প্রতি দিন শাহী খাবার বরাদ্দ করেন এবং তাহাদিগকে তাহার খিদমতে হাজির থাকিবার নির্দেশ দেন (আনওয়ার-ই আম্বিয়া, পৃ. ৩১৪; বাইবেল, দানিয়াল পুস্তক, ১:১৭)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ ও উহা হইতে পরিত্রাণ লাভ

📄 অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ ও উহা হইতে পরিত্রাণ লাভ


হযরত দানিয়াল (আ) ছিলেন অন্যান্য নবীগণের মতই খাঁটি তাওহীদবাদী। মুশরিকদের শত হুমকি ধমকি ও নির্যাতন সত্ত্বেও তিনি এক আল্লাহর উপাসনা পরিত্যাগ করেন নাই। বুখত নাস্সার একবার একটি স্বর্ণের মূর্তি বানাইয়া উহা শহরে স্থাপন করেন এবং রাজ্যস্থ সকলকে উহার উপাসনা করিবার নির্দেশ দেন। অন্যান্য সকলে বাদশাহর নির্দেশ মানিলেও দানিয়াল (আ) ও তাঁহার তিন বন্ধু উহার উপাসনা করিতে অস্বীকার করিলেন। বাবিলবাসিগণ বাদশাহর নিকট তাহাদের সম্পর্কে অভিযোগ করে। বাদশাহ তাহাদিগকে স্বীয় দরবারে ডাকাইয়া ধমকাইয়া বলিলেন, তোমরা আমার নির্দেশ পালন করিলে না কেন? তোমরা প্রস্তুত হও, যখন বাদ্য বাজিবে তখন উক্ত মূর্তিকে সিজদা করিবে, অন্যথায় তোমাদিগকে জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করা হইবে। তাঁহারা উত্তর দিলেন, যে আল্লাহ আমাদিগকে সৃষ্টি করিয়াছেন তিনি আমাদিগকে উক্ত অগ্নিকুণ্ড হইতে রক্ষা করিতে সক্ষম। আর তিনিই আমাদিগকে আপনার হাত হইতে রক্ষা করিতে পারেন। আমরা কখনও আপনার বানানো মূর্তির উপাসনা করিব না। বাদশাহ ইহা শুনিয়া খুবই ক্রুদ্ধ ও ক্ষুব্ধ হইলেন এবং তাহাদিগকে জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করার নির্দেশ দিলেন। কিন্তু আল্লাহ্ কুদরতে অগ্নি তাঁহাদের কোনই ক্ষতি করিতে পারিল না, বরং যাহারা তাহাদিগকে নিক্ষেপ করিয়াছিল তাহারাই দগ্ধীভূত হইয়া নিহত হইল। বাদশাহ ইহা দেখিয়া তাহাদিগকে খুবই সম্মান দান করিলেন, রাষ্ট্রের উচ্চ পদে সমাসীন করিলেন এবং ঘোষণা করিয়া দিলেন যে, ইয়াহুদীদের উপাস্য সম্পর্কে কেহ কোনরূপ খারাপ মন্তব্য করিতে পারিবে না। করিলে তাহাকে খণ্ড-বিখণ্ড করা হইবে এবং তাহার গৃহ সারের ঢিবি করা হইবে (দানিয়াল পুস্তক, ৩ঃ১-৩০)।

হযরত দানিয়াল (আ) ছিলেন অন্যান্য নবীগণের মতই খাঁটি তাওহীদবাদী। মুশরিকদের শত হুমকি ধমকি ও নির্যাতন সত্ত্বেও তিনি এক আল্লাহর উপাসনা পরিত্যাগ করেন নাই। বুখত নাস্সার একবার একটি স্বর্ণের মূর্তি বানাইয়া উহা শহরে স্থাপন করেন এবং রাজ্যস্থ সকলকে উহার উপাসনা করিবার নির্দেশ দেন। অন্যান্য সকলে বাদশাহর নির্দেশ মানিলেও দানিয়াল (আ) ও তাঁহার তিন বন্ধু উহার উপাসনা করিতে অস্বীকার করিলেন। বাবিলবাসিগণ বাদশাহর নিকট তাহাদের সম্পর্কে অভিযোগ করে। বাদশাহ তাহাদিগকে স্বীয় দরবারে ডাকাইয়া ধমকাইয়া বলিলেন, তোমরা আমার নির্দেশ পালন করিলে না কেন? তোমরা প্রস্তুত হও, যখন বাদ্য বাজিবে তখন উক্ত মূর্তিকে সিজদা করিবে, অন্যথায় তোমাদিগকে জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করা হইবে। তাঁহারা উত্তর দিলেন, যে আল্লাহ আমাদিগকে সৃষ্টি করিয়াছেন তিনি আমাদিগকে উক্ত অগ্নিকুণ্ড হইতে রক্ষা করিতে সক্ষম। আর তিনিই আমাদিগকে আপনার হাত হইতে রক্ষা করিতে পারেন। আমরা কখনও আপনার বানানো মূর্তির উপাসনা করিব না। বাদশাহ ইহা শুনিয়া খুবই ক্রুদ্ধ ও ক্ষুব্ধ হইলেন এবং তাহাদিগকে জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করার নির্দেশ দিলেন। কিন্তু আল্লাহ্ কুদরতে অগ্নি তাঁহাদের কোনই ক্ষতি করিতে পারিল না, বরং যাহারা তাহাদিগকে নিক্ষেপ করিয়াছিল তাহারাই দগ্ধীভূত হইয়া নিহত হইল। বাদশাহ ইহা দেখিয়া তাহাদিগকে খুবই সম্মান দান করিলেন, রাষ্ট্রের উচ্চ পদে সমাসীন করিলেন এবং ঘোষণা করিয়া দিলেন যে, ইয়াহুদীদের উপাস্য সম্পর্কে কেহ কোনরূপ খারাপ মন্তব্য করিতে পারিবে না। করিলে তাহাকে খণ্ড-বিখণ্ড করা হইবে এবং তাহার গৃহ সারের ঢিবি করা হইবে (দানিয়াল পুস্তক, ৩ঃ১-৩০)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00