📄 ন্যায় বিচারের শিকল
ওয়াহ্ ইব্ন মুনাব্বিহ বলেন, ইয়াহুদীদের মধ্যে দুষ্কৃতি ও মিথ্যা সাক্ষ্যদানের ব্যাপক প্রসার ঘটিলে দাউদ (আ)-কে বিচার মীমাংসার জন্য একটি স্বর্ণের শিকল দান করা হয়। ইহা কুদরতীভাবে আসমান হইতে বায়তুল মাকদিসের পবিত্র প্রস্তর খণ্ডের দিকে ঝুলন্ত ছিল। বাদী ও বিবাদী কোন দাবি লইয়া উপস্থিত হইলে তাহাদের মধ্যে যে সত্যবাদী সে উক্ত কুদরতী শিকল স্পর্শ করিতে পারিত এবং যে মিথ্যাবাদী সে উহা স্পর্শ করিতে পারিত না। এইভাবে বিবাদ মীমাংসা হইতেছিল। একদা এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তির নিকট তাহার মূল্যবান মণি-মুক্তা গচ্ছিত রাখে, পরে উহা ফেরত চাহিলে আমানতদার উহা সম্পূর্ণ অস্বীকার করে। সে উহা একটি ফাঁপা কাষ্ঠ খণ্ডের মধ্যে লুকাইয়া রাখে। তাহারা বিবাদ মীমাংসার জন্য কুদরতী শিকলের নিকট উপস্থিত হইয়া প্রথমে বাদী তাহা স্পর্শ করিল। বিবাদীকে তাহা স্পর্শ করিতে বলা হইলে সে উক্ত কাষ্ঠখণ্ড বাদীর হাতে দিয়া বলিল, হে আল্লাহ! আপনি অবগত আছেন যে, আমি ঐ ব্যক্তিকে তাহার আমানত ফিরাইয়া দিয়াছি, অতঃপর সে অগ্রসর হইয়া কুদরতী শিকল স্পর্শ করিল। ইহাতে বিষয়টি ইয়াহুদীদের নিকট জটিল আকার ধারণ করিল এবং তাহাদের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হইল। অতঃপর শিকলটি দ্রুত তাহাদের দৃষ্টি হইতে অদৃশ্য হইয়া গেল (বিদায়া, ২খ, পৃ. ১২; তাহযীব তারীখ দিমাশক, ৫খ, পৃ. ১৯৬)।
📄 হযরত দাউদ (আ)-এর ইনতিকাল
মানব সৃষ্টির সূচনায় আল্লাহ তা'আলা হযরত দাউদ (আ)-কে ষাট বৎসর আয়ু দান করেন। হযরত আদম (আ) স্বীয় আয়ুষ্কাল হইতে চল্লিশ বৎসর তাঁহাকে দান করেন (দ্র. ৩ নং অনুচ্ছেদের ১১ নং হাদীছ; আরও দ্র. বিদায়া, ২খ, পৃ. ১৫-৬; আল-মুসতাদরাক, ২খ, পৃ. ৫৮৬; তাবাকাত ইব্ন সা'দ, ১খ, পৃ. ২৯)। এই হিসাবে তিনি এক শত বৎসর জীবিত ছিলেন। ইতিহাসের গ্রন্থাবলীতে ইহাই সমর্থিত (আরাইস, পৃ. ৩১৫; বিদায়া, ২খ, পৃ. ১৬; আল-কামিল, ১খ, পৃ. ১৭৪)।
তবে হাদীছের কোন কোন বর্ণনায় আছে, আদম (আ)-এর প্রস্তাবের পর আল্লাহ তা'আলা বলেন, "ইযান ইউকতাবা ওয়া ইউখতামা ওয়ালা ইউবাদ্দাল" (যেহেতু লিপিবদ্ধ হইয়া মোহরাঙ্কিত হইয়া গিয়াছে এবং পরিবর্তিত ইহবে না; তাবাকাত ইবন সা'দ, ১খ, পৃ. ২৮-৯)। এই বাক্য দ্বারা বুঝা যায় যে, আদম (আ)-এর প্রস্তাব গৃহীত হয় নাই। তাহা হইলে তিনি ষাট বৎসরই জীবিত ছিলেন। আল্লামা ইন্ন জারীর তাবারী (র) বলেন, কতক আহলে কিতাবের মতে তিনি ৭৭ বৎসর জীবিত ছিলেন, কিন্তু এই মত ভ্রান্ত (বিদায়া, ২খ, পৃ. ১৬)। আনওয়ারে আম্বিয়ার লেখক 'রহমাতুল্লিল আলামীন' গ্রন্থের (৩খ, পৃ. ১২৭) বরাতে তাঁহার বয়স ৭৭ বৎসর লিখিয়াছেন (পৃ. ১১১)। বাইবেলে বলা হইয়াছে, পরে তিনি আয়ু, ধন ও গৌরবে পরিপূর্ণ হইয়া শুভ বৃদ্ধাবস্থায় মরিলেন (১ম বংশাবলী, ২৯ : ২৮)। সুদ্দী তাঁহার সনদ-পরস্পরায় বর্ণনা করিয়াছেন যে, তিনি শনিবার আকস্মিকভাবে ইনতিকাল করেন। ইসহাক ইব্ন বিশর তাঁহার সনদ-পরস্পরায় বর্ণনা করেন যে, তিনি এক শত বৎসর বয়সে বুধবার আকস্মিকভাবে ইনতিকাল করেন। আবুস সাকান আল-হাজারী বলেন, ইবরাহীম (আ) দাউদ (আ) ও সুলায়মান (আ) তিনজনই আকস্মিকভাবে ইনতিকাল করেন। বর্ণিত আছে যে, দাউদ (আ) তাঁহার মিহরাব হইতে অবতরণরত অবস্থায় মালাকুল মাওত আসিয়া উপস্থিত হইলে তিনি বলেন, আমাকে মিহরাব হইতে নামিতে অথবা উহাতে আরোহণ করিতে দিন। মালাকুল মাওত বলিলেন, হে আল্লাহ্ নবী! বৎসর, মাস, প্রতিপত্তি, রিযিক সবই নিঃশেষ হইয়া গিয়াছে। তৎক্ষণাৎ তিনি মিহরাবের সিড়ির উপর সিজদায় লুটাইয়া পড়িলেন এবং সিজদাবনত অবস্থায় ইনতিকাল করেন (উপরন্তু দ্র. ৩ নং অনুচ্ছেদ, ৮ ও ৯ নং হাদীছ; সম্পূর্ণ বর্ণনা বিদায়া, ২খ, পৃ. ১৬ হইতে গৃহীত)।
ওয়াহ্হ্ ইব্ন মুনাব্বিহ বলেন, গ্রীষ্মের রৌদ্রের মধ্যে তাঁহার জানাযায় অসংখ্য লোক উপস্থিত হয়, ইহাদের মধ্যে রাহিবই (ইয়াহুদী আলিম) ছিলেন চল্লিশ হাজার এবং পাখিরা গোটা এলাকায় উপস্থিত জনতার উপর ছায়া বিস্তার করিয়া রাখে। বনূ ইসরাঈল হযরত মূসা ও হারুন (আ)-এর পর তাঁহার ইনতিকালে অধিক শোকাভিভূত হয় (বিদায়া, ২খ, পৃ. ১৬-১৭)।
আনওয়ারে আম্বিয়ার গ্রন্থকার 'রহমাতুল্লিল আলামীন' গ্রন্থের (৩খ, পৃ. ১২৭) বরাতে বলেন যে, দাউদ (আ) মহানবী (স)-এর জন্মের ১৫৮৬ বৎসর পূর্বে ইনতিকাল করেন (পৃ. ১১১)। বিভিন্ন উৎসে তাঁহার মৃত্যুসন নিম্নরূপ উল্লেখ করা হইয়াছে: ৯৬৫ খৃ. পূ.; ৯৭০ খৃ. পূ.; ৯৬০ খৃ. পূ.; ৯৬২ খৃ. পূ. ইত্যাদি (বরাতের জন্য দ্র. ১২ নং অনুচ্ছেদ)। তাঁহাকে তাঁহার লোকদের সহিত জেরুসালেমের গিরিতে (সায়হুন) দাফন করা হয়। তাঁহার কবরের চিহ্ন এখনও বিদ্যমান (আনওয়ারে আম্বিয়া, পৃ. ১১১)।
বাইবেলের বর্ণনামতে, মৃত্যু নিকটবর্তী হইলে দাউদ (আ) তাঁহার পুত্র সুলায়মান (আ)-কে যে শেষ উপদেশ দান করেন উহা এই যে, সমস্ত মর্তলোকের যে পথ, আমি সেই পথে গমন করিতেছি। তুমি বলবান হও এবং পুরুষত্ব প্রকাশ কর, আপন প্রতিপালক সদাপ্রভুর রক্ষণীয় বিধান রক্ষা করিয়া তাঁহার পথে চল, মূসা (আ)-এর ব্যবস্থায় লিখিত তাঁহার বিধি, তাঁহার আজ্ঞা, তাঁহার শাসন ও তাঁহার সাক্ষ্য সকল পালন কর, যেন তুমি যে কোন কার্য কর ও যে দিকে ফির, বুদ্ধিপূর্বক চলিতে পার। আর যেন সদাপ্রভু আমার সম্বন্ধে যে বাক্য বলিয়াছেন, তাহা সংস্থাপন করেন। তিনি বলিয়াছেন, তোমার সন্তানেরা যদি সমস্ত অন্তঃকরণের ও সমস্ত প্রাণের সহিত আমার সম্মুখে সত্য আচরণ করিতে আপনাদের পথে সাবধানে চলে, তবে তিনি বলেন, ইসরাঈলের সিংহাসনে তোমার (বংশের) লোকের অভার হইবে না" (১ম রাজাবলী, ২: ১-৪)।
📄 দাউদ (আ)-এর সন্তান সন্তুতি
ইন্ন কাছীরের মতে দাউদ (আ) ছিলেন তাঁহার পিতার তেরজন পুত্র সন্তানের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ (বিদায়া, ২খ, পৃ. ৮), আর ইবনুল আছীরের মতে দাউদ (আ)-এর তেরজন পুত্রসন্তানের মধ্যে সুলায়মান (আ) ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ (আল-কামিল, ১খ, পৃ. ১৭৪)। কিন্তু বাইবেলে দাউদ (আ)-এর একাধিক স্ত্রীর গর্ভজাত তের-এর অধিক পুত্র সন্তানের নাম উল্লেখ আছে। হেব্রনে জন্মগ্রহণকারী পুত্রগণের নাম: অম্লোন (আম্মোন), দানিয়াল, অবশালোম, আদোনিয়া, শফটিয় ও যিফ্রিয়ম (১ম বংশাবলী, ৩ঃ ১-৩; ২য় শমূয়েল, ৩ঃ ২-৫; শেষোক্ত গ্রন্থে দানিয়ালের পরিবর্তে কিলাব নাম উল্লিখিত আছে)। জেরুসালেমে জন্মগ্রহণকারী পুত্র সন্তানগণ: শুম্মুয়, শোবব, নাথন, সুলায়মান, যিভর, ইলীশূয়, ইল্পেলট, নোগহ, নেফগ, ফাফিয়, ইলীশামা বীলিয়াদা ও ইলীফেলট (১ম বংশাবলী, ১৪:৪-৭; ২য় শমূয়েল, ৫: ১৪-১৬; শেষোক্ত গ্রন্থে এগারজনের নাম আছে বীলিয়াদা স্থলে ইলিয়াদা আছে)। ইহাদের সহিত তাঁহার কোন কন্যা সন্তানের নাম উল্লিখিত হয় নাই।
📄 বাইবেলের বর্ণনার গ্রহণযোগ্যতা
অত্র নিবন্ধে বাইবেল এবং ইয়াহুদী-খৃস্টান জাতির রচিত বিশ্বকোষসমূহেরও বরাত প্রদান করা হইয়াছে। ইসরাঈলী বর্ণনা গ্রহণ সম্পর্কে হাদীছ শরীফে নিষেধাজ্ঞা আছে, তবে ক্ষেত্রবিশেষে শর্ত সাপেক্ষে অনুমিতও আছে। নবী-রাসূলগণের জীবন কাহিনী সম্পর্কে বাইবেল ভিত্তিক গ্রন্থাবলী রচিত হইয়াছে, তদ্রূপ কুরআন ভিত্তিক প্রচুর গ্রন্থাবলীও রচিত হইয়াছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, ইয়াহুদী-খৃস্টান লেখকগণ ইসলামী উৎসের মূল্যায়ন করা তো দূরে থাকুক, ইসলামের নামটি পর্যন্ত উল্লেখ করেন নাই। বরং কোন কোন লেখক তো এই পর্যন্ত বলিয়াছেন যে, দাউদ (আ) সম্পর্কে বাইবেলের বাহিরে কোনও তথ্য পাওয়া যায় না (দ্র. Ency. Religion, vol. 4, P. 242, col. 1)।
রাসূলুল্লাহ (স) প্রাথমিক পর্যায়ে ইসরাঈলী বর্ণনা গ্রহণ করিতে নিষেধ করিয়াছিলেন। তিনি বলেন:
عَنْ جَابِرٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِيْنَ آتَاهُ عُمَرُبْنُ الخَطَابِ فَقَالَ إِنَّا نَسْمَعُ أَحَادِيثَ مِنْ يَهُودَ تُعْجِبُنَا أَفَتَرَى أَنْ نَّكْتُبَ بَعْضَهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمُتَهَوَّكُونَ أَنْتُمْ كَمَا تَهَوَّكَتِ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى لَقَدْ جِئْتُكُمْ بِهَا بَيْضَاءَ نَقِيَّةً وَلَوْ كَانَ مُوسَى حَيًّا مَا وَسِعَهُ إِلَّا اتَّبَاعِي.
"জাবির (রা) বলেন, উমার ইবনুল খাত্তাব (রা) নবী (স)-এর নিকট আসিয়া বলিলেন, আমরা ইয়াহুদীদের নিকট অনেক কথা শুনিয়া থাকি যাহা আমাদের নিকট অতি চমৎকার মনে হয়। আপনি কি আমাদেরকে উহা লিখিবার অনুমতি দিবেন? তিনি বলেন : তোমরাও কি (তোমাদের দীন সম্পর্কে) দ্বিধাগ্রস্ত রহিয়াছ, যেরূপ ইয়াহুদী-খৃস্টানরা দ্বিধাগ্রস্ত রহিয়াছে। অবশ্যই আমি তোমাদের নিকট সম্পূর্ণ উজ্জ্বল ও পরিষ্কার দীন আনিয়াছি। মূসা (আ)-ও যদি জীবিত থাকিতেন, তাহা হইলে তাঁহার পক্ষেও আমার অনুসরণ ছাড়া গত্যন্তর ছিল না" (আহমাদ ও বায়হাকীর বরাতে মিশকাত, বাংলা অনু., ১খ, পৃ. ১৮৫, নং ১৬৮)।
عَنْ جَابِرٍ أَنَّ عُمَرَ ابْنَ الْخَطَّابِ أَتَى رَسُولَ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِنُسْخَةٍ مِنَ التَّوْرَاةِ فَقَالَ يَا رَسُولَ الله هذه نُسْخَةٌ مِنَ التَّوْرَاةِ فَسَكَتَ فَجَعَلَ يَقْرَأُ وَوَجْهُ رَسُولِ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَغَيَّرُ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ ثَكِلَتْكَ الثَّوَاقِلُ مَا تَرَى مَا بِوَجْهِ رَسُولُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَنَظَرَ عُمَرُ إِلى وَجْهِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَعُوذُ بِاللَّهِ مَنْ غَضَبِ اللَّهِ وَغَضَبِ رَسُولِهِ رَضِيْنَا بِاللَّهِ رَبَّا وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ نَّبِيًّا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَوْ بَدَا لَكُمْ مُوسَى فَاتَّبَعْتُمُوهُ وَتَرَكْتُمُونِي لَضَلَلْتُمْ عَنْ سَوَاءِ السَّبِيلِ وَلَوْ كَانَ حَيًّا وَأَدْرَكَ نُبُوَّتِي لَا تَّبَعَنِي .
"জাবির (রা) বলেন, উমার ইবনুল খাত্তাব (রা) তাওরাতের একটি খণ্ডসহ রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট উপস্থিত হইয়া বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ইহা এক কপি তাওরাত। তিনি নীরব রহিলেন। উমার (রা) উহা পড়িতে লাগিলেন এবং রাসূলুল্লাহ (স)-এর মুখমণ্ডল বিবর্ণ হইতে লাগিল। আবূ বাক্র (রা) বলেন, তোমার সর্বনাশ হউক! তুমি কি লক্ষ্য করিতেছ না যে, রাসূলুল্লাহ (স)-এর মুখমণ্ডল কী রূপ ধারণ করিয়াছে! উমার (রা) রাসূলুল্লাহ (স)-এর মুখমণ্ডলের দিকে তাকাইয়া বলিলেন, আমি আল্লাহ্র অসন্তুষ্টি ও তাঁহার রাসূলের অসন্তুষ্টি হইতে আল্লাহ্র নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করিতেছি এবং আমরা আল্লাহকে রব, ইসলামকে দীন ও মুহাম্মাদ (স)-কে নবীরূপে পাইয়া সন্তুষ্ট আছি। রাসূলুল্লাহ (স) বলেন : সেই সত্তার শপথ, যাঁহার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! যদি তোমাদের নিকট মূসাও আত্মপ্রকাশ করিতেন এবং তোমরা আমাকে ত্যাগ করিয়া তাঁহার অনুসরণ করিতে, তাহা হইলে তোমরা অবশ্যই সরল পথ হইতে বিচ্যুত হইতে। তিনি যদি জীবিত থাকিতেন এবং আমার নবুওয়াত প্রত্যক্ষ করিতেন, তবে অবশ্যই আমার অনুসরণ করিতেন" (সুনানুদ দারিমীর বরাতে মিশকাত, বাংলা অনু., ১খ, পৃ. ১৯৩-৪, নং ১৮৪)।
উপরিউক্ত হাদীছদ্বয় হইতে বুঝা যায় যে, শরীআতে মুহাম্মাদীর নীতির পরিপন্থী কোন কিছু অন্য ধর্ম হইতে গ্রহণ করা যাইবে না। ইব্ন আব্বাস (রা)-র বক্তব্য হইতেও ইহার সমর্থন পাওয়া যায়। তিনি ধর্মীয় ব্যাপারে আহলে কিতাবের নিকট কিছু জিজ্ঞাসা করিতে মুসলমানদেরকে নিষেধ করিয়াছেন (বুখারী, ২খ, পৃ. ৬০৮, নং ২৪৯০)। পরবর্তী পর্যায়ে রাসূলুল্লাহ (স) আহলে কিতাব-এর বক্তব্য সম্পর্কে নীরবতা অবলম্বন করিতে বলিয়াছেন:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ كَانَ أَهْلُ الْكِتَابِ يَقْرَءُونَ التَّوْرَاةَ بِالْعِبْرَانِيَّةِ وَيُفَسِّرُونَهَا بِالْعَرَبِيَّةِ لِأَهْلِ الْإِسْلَامِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تُصَدِّقُوا أَهْلَ الْكِتَابِ وَلَا تُكَذِّبُوهُمْ وَقُولُوا آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْنَا الْآيَةَ .
"আবূ হুরায়রা (রা) বলেন, আহলে কিতাবের লোকেরা তাওরাত হিব্রু ভাষায় পাঠ করিয়া মুসলমানদিগকে তাহা আরবী ভাষায় ব্যাখ্যা করিয়া বুঝাইয়া দিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলেনঃ তোমরা আহলে কিতাবকে সত্যবাদীও বলিও না এবং মিথ্যাবাদীও সাব্যস্ত করিও না, বরং তোমরা বল, “আমরা ঈমান আনিয়াছি আল্লাহ্ উপর এবং যাহা আমাদের প্রতি নাযিল হইয়াছে তাহাতে” (বুখারী, তাফসীর, বাব ১২, নং ৪১২৭, ৪খ, পৃ. ৩০৪; ৬খ, পৃ. ৪৪৭-৮, নং ৬৮৪৭; পৃ. ৫৪৬-৭, নং ৭০২২)।
مَا حَدَّثَكُمْ أَهْلُ الْكِتَابِ فَلَا تُصَدِّقُوهُمْ وَلَا تُكَذِّبُوهُمْ وَقُولُوا آمَنَّا بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ فَإِنْ كَانَ بَاطِلًا لَمْ تُصَدِّقُوهُ وَإِنْ كَانَ حَقًّا لَمْ تُكَذِّبُوهُ .
আবূ নামলা আনসারী (রা) হইতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলেনঃ “আহলে কিতাব তোমাদের নিকট যাহা বর্ণনা করে সেই ব্যাপারে তোমরা তাহাদেরকে সত্যবাদীও বলিও না এবং মিথ্যাবাদীও বলিও না বরং তোমরা বল, আমরা আল্লাহ্ ও তাঁহার রাসূলগণের উপর ঈমান আনিলাম। তাহাদের কথা অসত্য হইয়া থাকিলে তোমরা তাহা সত্য প্রতিপন্ন করিলে না এবং সত্য হইয়া থাকিলে অসত্য প্রতিপন্ন করিলে না” (আবূ দাউদ, কিতাবুল ইল্ম, বাব ২)।
অতঃপর মুসলমানগণ ঈমানে, আমলে ও জ্ঞানে সমৃদ্ধ হইলে এবং তাহারা দীনের উপর সুদৃঢ় হইয়া গেলে মহানবী (স) প্রয়োজনবোধে বনূ ইসরাঈলের বিবৃতিসমূহ আলোচনা করার অনুমতি প্রদান করেন।
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ بَلِّغُوا عَنِّي وَلَوْ آيَةً وَحَدِّثُوا عَنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ وَلَا حَرَجَ .
"আবদুল্লাহ ইব্ন আমর (রা) হইতে বর্ণিত। নবী (স) বলেন: আমার পক্ষ হইতে একটিমাত্র আয়াত (বাক্য) হইলেও তোমরা তাহা (মানুষের নিকট) পৌঁছাইয়া দাও এবং বনূ ইসরাঈল হইতে বর্ণনা করিতে পার, ইহাতে কোন অসুবিধা নাই" (তিরমিযী, ইল্ম, বাব ১৩, নং ২৬০৬)।