📄 গবাদি পশুর অপরাধের ক্ষতিপূরণ
এই মোকদ্দমার বিস্তারিত বিবরণ যেমন কুরআন মজীদে উল্লিখিত হয় নাই, তদ্রূপ তাহা হাদীছ শরীফেও বর্ণিত হয় নাই। অতএব আমাদের শরীআতে উক্তরূপ ঘটনা ঘটিলে তাহার মীমাংসা কিরূপ হইবে এই বিষয়ে হানাফী, মালিকী, শাফিঈ ও হাম্বালী ফকীহগণের মধ্যে মতভেদ হইয়াছে। কাহারো ক্ষেত-খামার অপরের গৃহপালিত জন্তু বিনষ্ট বা ক্ষতিগ্রস্ত করিলে তাহার কোন ক্ষতিপূরণ দিতে হইবে কিনা, দিতে হইলে কোন অবস্থায় দিতে হইবে, কোন অবস্থায় দিতে হইবে না এবং ক্ষতিপূরণের ধরণই বা কি হইবে ইত্যাদি বিষয়ে মতভেদ আছে। এই বিষয়ে ইমাম আবূ হানীফা (র) বলেন, গবাদি পশু ছাড়িয়া দেওয়ার ব্যাপারে মালিকের কোন অবহেলা না থাকিলে, উহা রাত্রে বা দিনে যখনই ক্ষতি করুক, তাহার কোন ক্ষতিপূরণ নাই। কারণ মহানবী (স) বলেন:
জَرْহুল আ'জামাই জুবান
"পশুর আঘাতে দণ্ড নাই” (তিরমিযী, আবওয়াবুয যাকাত, বাব ১৬, নং ৫৯৬; আবওয়াবুল আহকাম, বাব ৩৭, নং ১৩১৬; বুখারী, দিয়াত, বাব ৩৮, নং ৬৪৩২; মুসলিম, হুদূদ, বাব ৫২, নং ৪৩১৬, ৪৩১৯; আবূ দাউদ, দিয়াত, বাব ফিদ-দাব্বাতি তানফাহু বিরিজলিহা; ইব্ন মাজা, দিয়াত, বাবুল জুবার, রূহুল মাআনী, ১৭ খ, পৃ. ৭৫; তু. তাফসীরে কবীর, ২১ খ., পৃ. ১৯৯)।
ইমাম শাফিঈ (র) বলেন, গবাদি পশু দিনের বেলা ক্ষতি সাধন করিলে কোনরূপ ক্ষতিপূরণ নাই। কারণ দিনের বেলা ক্ষেত পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব কৃষকের এবং রাত্রিবেলা গবাদি পশু পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব মালিকের। অতএব রাত্রিবেলা ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান করিতে হইবে (রূহুল মাআনী, ১৭ খ, পৃ. ৭৫)। এই সম্পর্কে তিনিও একটি হাদীছ পেশ করিয়াছেন:
ইন্না না কাতুল বারাআ কানাত দারিয়াতুন দাখালত ফি হাইয়িতিন ফাসাদাত ফিহি ফাকাল্লামা রাসূলুলুল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামা ফিহা ফাকাদা আন হিফজুল আমওয়ালি আলা আহলিহা বিননাহারি ওয়া আলা আহলিল মাওয়াশি মা আসাবাত মাওয়াশিহিম বিল্লাইলি।
"বারাআ ইব্ন আযিব (রা)-র একটি উস্ত্রী এক গোষ্ঠীর বাগানে প্রবেশ করিয়া উহাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। বাগান-মালিক এই প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত কথা বলিলে তিনি মীমাংসা করিয়া দেন যে, দিনের বেলা মালের হেফাজত করা মালিকের দায়িত্ব এবং রাত্রিবেলা গবাদি পশু কোন ক্ষতি সাধন করিলে উহার দায় গবাদির মালিকের উপর বর্তাইবে" (ইবন মাজা, আহকাম, বাব ১৩, নং ২৩৩২ ও ২৩৩৩; আবু দাউদ, বুয়ু, বাবুল মাওয়াশী তুফসিদু যার'আ কাওম; মুওয়াত্তা ইমাম মালিক, কিতাবুল আকদিয়া, বাবুল কাদা ফিদ দাওয়ারী)।
📄 দুই নারীর সন্তান সংক্রান্ত বিবাদ
পিতা-পুত্রের রায়ে পার্থক্য সংক্রান্ত আরও একটি ঘটনা হাদীস শরীফে উল্লিখিত হইয়াছে।
আবূ হুরায়রা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন : দুইটি স্ত্রীলোকের সহিত তাহাদের দুইটি (দুগ্ধপোষ্য) পুত্র সন্তানও ছিল। একটি নেকড়ে বাঘ আসিয়া তাহাদের একজনের সন্তানটিকে ছিনাইয়া লইয়া গেল। সঙ্গের মহিলাটি বলিল, তোমার পুত্রকেই (নেকড়ে) লইয়া গিয়াছে। অপর মহিলা বলিল, নেকড়ে তোমার পুত্রকেই লইয়া গিয়াছে। অতঃপর উভয়ে হযরত দাউদ (আ)-এর নিকট বিচার প্রার্থনা করিলে তিনি শিশুটির ব্যাপারে অধিক বয়স্কা মহিলার পক্ষে রায় দেন। তাহারা দুই মহিলা প্রস্থান করিয়া সুলায়মান (আ)-এর সামনে দিয়া যাইতেছিল। তাহারা তাঁহাকে মোকদ্দমার বিবরণ শুনাইলে তিনি (লোকদেরকে) বলিলেন, আমার জন্য একটি ছুরি আন, আমি ইহাকে দুই টুকরা করিয়া তাহাদের দুইজনকে দিব। অল্প বয়স্কা মহিলা বলিল, আপনি ইহা করিবেন না, আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন। (আমি মানিয়া নিয়াছি যে,) শিশুটি তাহারই। অতঃপর তিনি শিশুটির ব্যাপারে অল্প বয়স্কা মহিলার পক্ষে রায় দেন” (বুখারী, আম্বিয়া, বাব ৪০, নং ৩১৭৪; মুসলিম, আকদিয়া, বাব ৬০, নং ৪৩৪৬; মুসনাদে আহমাদ; তাফসীর ইব্ন কাছীর, ২খ, পৃ. ৫১৬)। কিছুটা তথ্যগত বিকৃতিসহ বাইবেলেও ঘটনাটি বর্ণিত আছে (দ্র. ১ম রাজাবলী, ৩ঃ ১৬-২৮)।
প্রসঙ্গক্রমে হযরত দাউদ ও সুলায়মান (আ)-এর বিচারকার্য হইতে বিচার বিভাগীয় কার্যক্রমের একটি মূলনীতিও অবহিত হওয়া যায়। কোনও বিষয়ে কুরআন ও সুন্নাহ্ সিদ্ধান্ত (বা নস) বিদ্যমান না থাকিলে ইসলামী আদালতের বিচারক তাহার ইজতিহাদের ভিত্তিতে রায় প্রদান করিতে পারেন। তবে শর্ত এই যে, বিচারক হওয়ার অত্যাবশ্যকীয় গুণাবলী সংশ্লিষ্ট বিচারকের মধ্যে বিদ্যমান থাকিতে হইবে। ইসলামী শরীআতের বিধান সম্পর্কে অজ্ঞ, মূর্খ ও' অনভিজ্ঞ বক্তি বিচারক হওয়ার যোগ্য নহে। এই পর্যায়ে মহানবী (স) বলেনঃ
ইজা ইজতাহিদা আল-হাকিমু ফা আসাবা ফালাহু আজরানি ওয়া ইজা ইজতাহিদা ফা আখতাআ ফালাহু আজরুন।
"বিচারক স্বীয় সাধ্যানুসারে পূর্ণ মাত্রায় চেষ্টা-সাধনা করিয়া সঠিক রায় প্রদান করিতে পারিলে সে দ্বিগুণ পুরস্কার পাইবে এবং ভুল রায় প্রদান করিলে একটি পুরস্কার পাইবে" (বুখারী, ই'তিসাম, ৬খ, পৃ. ৪৪৩, নং ৬৮৩৮; মুসলিম, আকদিয়া, বাব ৫৬ নং ৪৩৩৮; তিরমিযী, আহকাম, বাব ২, নং ১২৬৫; আবু দাউদ, কাদা, বাব ফিল কাদী ইউখতী; ইব্ন মাজা, আহকাম, (২) বাবুল হাকেম ইয়াজতাহিদু, নং ২৩১৪)।
আল-কুদাতু সালাসা: কাদিইয়ানি ফিন-নারি ওয়া কাদী ফিল-জান্নাতি। রাজুলুন কাদা বিগাইরিল হাক্কি ফা আলিমা যাকুন ফাযাকা ফিন-নারি। ওয়া কাদী লা ইয়ালামু ফা আহলাকা হুকুকান-নাসি ফাহুওয়া ফিন-নারি। ওয়া কাদী কাদা বিল-হাক্কি ফাজালিকা ফিল-জান্নাতি।
"বিচারক তিন শ্রেণীর, তাহাদের দুই শ্রেণী দোযখী এবং এক শ্রেণী জান্নাতী। যে ব্যক্তি (বিচারক) স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে অন্যায় রায় প্রদান করে সে দোযখী। যে ব্যক্তি সত্যকে উপলব্ধি না করিয়াই রায় প্রদান করে এবং মানুষের অধিকার নস্যাৎ করে, সেও দোযখী। যে ব্যক্তি প্রকৃত সত্য উপলব্ধি করিয়া তদনুসারে রায় প্রদান করে সে জান্নাতী (তিরমিযী, আহকাম, বাব ১, নং ১২৬১; আবূ দাউদ, কাদা, বাব ফিল কাদী ইউখতি; ইব্ন মাজা, আহkam, (১) বাবুল হাকেম ইয়াজতাহিদু, নং ২৩১৫)।
📄 ন্যায় বিচারের শিকল
ওয়াহ্ ইব্ন মুনাব্বিহ বলেন, ইয়াহুদীদের মধ্যে দুষ্কৃতি ও মিথ্যা সাক্ষ্যদানের ব্যাপক প্রসার ঘটিলে দাউদ (আ)-কে বিচার মীমাংসার জন্য একটি স্বর্ণের শিকল দান করা হয়। ইহা কুদরতীভাবে আসমান হইতে বায়তুল মাকদিসের পবিত্র প্রস্তর খণ্ডের দিকে ঝুলন্ত ছিল। বাদী ও বিবাদী কোন দাবি লইয়া উপস্থিত হইলে তাহাদের মধ্যে যে সত্যবাদী সে উক্ত কুদরতী শিকল স্পর্শ করিতে পারিত এবং যে মিথ্যাবাদী সে উহা স্পর্শ করিতে পারিত না। এইভাবে বিবাদ মীমাংসা হইতেছিল। একদা এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তির নিকট তাহার মূল্যবান মণি-মুক্তা গচ্ছিত রাখে, পরে উহা ফেরত চাহিলে আমানতদার উহা সম্পূর্ণ অস্বীকার করে। সে উহা একটি ফাঁপা কাষ্ঠ খণ্ডের মধ্যে লুকাইয়া রাখে। তাহারা বিবাদ মীমাংসার জন্য কুদরতী শিকলের নিকট উপস্থিত হইয়া প্রথমে বাদী তাহা স্পর্শ করিল। বিবাদীকে তাহা স্পর্শ করিতে বলা হইলে সে উক্ত কাষ্ঠখণ্ড বাদীর হাতে দিয়া বলিল, হে আল্লাহ! আপনি অবগত আছেন যে, আমি ঐ ব্যক্তিকে তাহার আমানত ফিরাইয়া দিয়াছি, অতঃপর সে অগ্রসর হইয়া কুদরতী শিকল স্পর্শ করিল। ইহাতে বিষয়টি ইয়াহুদীদের নিকট জটিল আকার ধারণ করিল এবং তাহাদের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হইল। অতঃপর শিকলটি দ্রুত তাহাদের দৃষ্টি হইতে অদৃশ্য হইয়া গেল (বিদায়া, ২খ, পৃ. ১২; তাহযীব তারীখ দিমাশক, ৫খ, পৃ. ১৯৬)।
📄 হযরত দাউদ (আ)-এর ইনতিকাল
মানব সৃষ্টির সূচনায় আল্লাহ তা'আলা হযরত দাউদ (আ)-কে ষাট বৎসর আয়ু দান করেন। হযরত আদম (আ) স্বীয় আয়ুষ্কাল হইতে চল্লিশ বৎসর তাঁহাকে দান করেন (দ্র. ৩ নং অনুচ্ছেদের ১১ নং হাদীছ; আরও দ্র. বিদায়া, ২খ, পৃ. ১৫-৬; আল-মুসতাদরাক, ২খ, পৃ. ৫৮৬; তাবাকাত ইব্ন সা'দ, ১খ, পৃ. ২৯)। এই হিসাবে তিনি এক শত বৎসর জীবিত ছিলেন। ইতিহাসের গ্রন্থাবলীতে ইহাই সমর্থিত (আরাইস, পৃ. ৩১৫; বিদায়া, ২খ, পৃ. ১৬; আল-কামিল, ১খ, পৃ. ১৭৪)।
তবে হাদীছের কোন কোন বর্ণনায় আছে, আদম (আ)-এর প্রস্তাবের পর আল্লাহ তা'আলা বলেন, "ইযান ইউকতাবা ওয়া ইউখতামা ওয়ালা ইউবাদ্দাল" (যেহেতু লিপিবদ্ধ হইয়া মোহরাঙ্কিত হইয়া গিয়াছে এবং পরিবর্তিত ইহবে না; তাবাকাত ইবন সা'দ, ১খ, পৃ. ২৮-৯)। এই বাক্য দ্বারা বুঝা যায় যে, আদম (আ)-এর প্রস্তাব গৃহীত হয় নাই। তাহা হইলে তিনি ষাট বৎসরই জীবিত ছিলেন। আল্লামা ইন্ন জারীর তাবারী (র) বলেন, কতক আহলে কিতাবের মতে তিনি ৭৭ বৎসর জীবিত ছিলেন, কিন্তু এই মত ভ্রান্ত (বিদায়া, ২খ, পৃ. ১৬)। আনওয়ারে আম্বিয়ার লেখক 'রহমাতুল্লিল আলামীন' গ্রন্থের (৩খ, পৃ. ১২৭) বরাতে তাঁহার বয়স ৭৭ বৎসর লিখিয়াছেন (পৃ. ১১১)। বাইবেলে বলা হইয়াছে, পরে তিনি আয়ু, ধন ও গৌরবে পরিপূর্ণ হইয়া শুভ বৃদ্ধাবস্থায় মরিলেন (১ম বংশাবলী, ২৯ : ২৮)। সুদ্দী তাঁহার সনদ-পরস্পরায় বর্ণনা করিয়াছেন যে, তিনি শনিবার আকস্মিকভাবে ইনতিকাল করেন। ইসহাক ইব্ন বিশর তাঁহার সনদ-পরস্পরায় বর্ণনা করেন যে, তিনি এক শত বৎসর বয়সে বুধবার আকস্মিকভাবে ইনতিকাল করেন। আবুস সাকান আল-হাজারী বলেন, ইবরাহীম (আ) দাউদ (আ) ও সুলায়মান (আ) তিনজনই আকস্মিকভাবে ইনতিকাল করেন। বর্ণিত আছে যে, দাউদ (আ) তাঁহার মিহরাব হইতে অবতরণরত অবস্থায় মালাকুল মাওত আসিয়া উপস্থিত হইলে তিনি বলেন, আমাকে মিহরাব হইতে নামিতে অথবা উহাতে আরোহণ করিতে দিন। মালাকুল মাওত বলিলেন, হে আল্লাহ্ নবী! বৎসর, মাস, প্রতিপত্তি, রিযিক সবই নিঃশেষ হইয়া গিয়াছে। তৎক্ষণাৎ তিনি মিহরাবের সিড়ির উপর সিজদায় লুটাইয়া পড়িলেন এবং সিজদাবনত অবস্থায় ইনতিকাল করেন (উপরন্তু দ্র. ৩ নং অনুচ্ছেদ, ৮ ও ৯ নং হাদীছ; সম্পূর্ণ বর্ণনা বিদায়া, ২খ, পৃ. ১৬ হইতে গৃহীত)।
ওয়াহ্হ্ ইব্ন মুনাব্বিহ বলেন, গ্রীষ্মের রৌদ্রের মধ্যে তাঁহার জানাযায় অসংখ্য লোক উপস্থিত হয়, ইহাদের মধ্যে রাহিবই (ইয়াহুদী আলিম) ছিলেন চল্লিশ হাজার এবং পাখিরা গোটা এলাকায় উপস্থিত জনতার উপর ছায়া বিস্তার করিয়া রাখে। বনূ ইসরাঈল হযরত মূসা ও হারুন (আ)-এর পর তাঁহার ইনতিকালে অধিক শোকাভিভূত হয় (বিদায়া, ২খ, পৃ. ১৬-১৭)।
আনওয়ারে আম্বিয়ার গ্রন্থকার 'রহমাতুল্লিল আলামীন' গ্রন্থের (৩খ, পৃ. ১২৭) বরাতে বলেন যে, দাউদ (আ) মহানবী (স)-এর জন্মের ১৫৮৬ বৎসর পূর্বে ইনতিকাল করেন (পৃ. ১১১)। বিভিন্ন উৎসে তাঁহার মৃত্যুসন নিম্নরূপ উল্লেখ করা হইয়াছে: ৯৬৫ খৃ. পূ.; ৯৭০ খৃ. পূ.; ৯৬০ খৃ. পূ.; ৯৬২ খৃ. পূ. ইত্যাদি (বরাতের জন্য দ্র. ১২ নং অনুচ্ছেদ)। তাঁহাকে তাঁহার লোকদের সহিত জেরুসালেমের গিরিতে (সায়হুন) দাফন করা হয়। তাঁহার কবরের চিহ্ন এখনও বিদ্যমান (আনওয়ারে আম্বিয়া, পৃ. ১১১)।
বাইবেলের বর্ণনামতে, মৃত্যু নিকটবর্তী হইলে দাউদ (আ) তাঁহার পুত্র সুলায়মান (আ)-কে যে শেষ উপদেশ দান করেন উহা এই যে, সমস্ত মর্তলোকের যে পথ, আমি সেই পথে গমন করিতেছি। তুমি বলবান হও এবং পুরুষত্ব প্রকাশ কর, আপন প্রতিপালক সদাপ্রভুর রক্ষণীয় বিধান রক্ষা করিয়া তাঁহার পথে চল, মূসা (আ)-এর ব্যবস্থায় লিখিত তাঁহার বিধি, তাঁহার আজ্ঞা, তাঁহার শাসন ও তাঁহার সাক্ষ্য সকল পালন কর, যেন তুমি যে কোন কার্য কর ও যে দিকে ফির, বুদ্ধিপূর্বক চলিতে পার। আর যেন সদাপ্রভু আমার সম্বন্ধে যে বাক্য বলিয়াছেন, তাহা সংস্থাপন করেন। তিনি বলিয়াছেন, তোমার সন্তানেরা যদি সমস্ত অন্তঃকরণের ও সমস্ত প্রাণের সহিত আমার সম্মুখে সত্য আচরণ করিতে আপনাদের পথে সাবধানে চলে, তবে তিনি বলেন, ইসরাঈলের সিংহাসনে তোমার (বংশের) লোকের অভার হইবে না" (১ম রাজাবলী, ২: ১-৪)।