📄 একটি মূল্যায়ন
শনিবারের উক্ত ঘটনা হযরত দাউদ (আ)-এর যুগে সংঘটিত হইয়াছিল বলিয়া কোনও কোনও তাফসীরকার ও ঐতিহাসিক মত প্রকাশ করিয়াছেন এবং অনেকে উহার কাল নির্দেশ করেন নাই। সংগত কারণে এই ঘটনা দাউদ (আ)-এর সমকালীন বলিয়া মনে হয় না। কারণ দাউদ (আ) ছিলেন একদিকে মহামর্যাদাবান নবী এবং অন্যদিকে তিনি ছিলেন সমকালীন একচ্ছত্র শাসক। তাঁহার রাজধানী বায়তুল মাকদিস হইতে ঘটনাস্থল আইলার দূরত্ব খুব বেশি নহে। কোন একটি সম্প্রদায় তাঁহার মত একজন মহান নবী ও দক্ষ শাসকের শাসনাধীন ও নিকটস্থ এলাকায় অবস্থান করিয়া দিনের পর দিন তাওরাতের একটি কঠোর বিধান (যাহা লংঘনের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড) অমান্য করিয়া দুষ্কর্মে লিপ্ত থাকিবে আর তিনি দেশের সর্বময় কর্তৃত্বের অধিকারী হইয়া নীরব থাকিবেন, তাহাদের দমনের জন্য কোন সামরিক বাহিনী প্রেরণ করিবেন না তাহা যেমন প্রশাসনিক নীতিমালার পরিপন্থী তেমনি নবুওয়াতের শানেরও খেলাফ। ঘটনাটি তাঁহার আমলের পূর্বেও ঘটিতে পারে। কারণ তালূত-জালুতের যুদ্ধের পূর্ব পর্যন্ত ইসরাঈলীরা ছিল পথভ্রষ্ট ও পরাধীন, এমনকি তাহারা পৌত্তলিকতায়ও লিপ্ত ছিল। এইরূপ অধঃপতিত অবস্থায় তাহাদের যে কোনরূপ ধর্মবিরোধী তৎপরতায় লিপ্ত হওয়া স্বাভাবিক।
ঘটনাটি দাউদ ও সুলায়মান (আ) বংশের রাজত্বের পতনের পরেও ঘটিতে পারে। যেমন ইয়ারমিয়া (যিরমিয়) নবীর সময় জেরুসালেমের মূল শহরের সিংহদ্বার হইতে লোকেরা শনিবার মাল-সামান লইয়া চলিয়া যাইত এবং ঐ দিনের বিধিনিষেধের তোয়াক্কা করিত না। এই কারণে ইয়ারমিয়া নবী আল্লাহর পক্ষ হইতে ইয়াহুদীদের ধমক দিলেন যে, তাহারা এইভাবে শরীআতের প্রকাশ্য ও স্পষ্ট বিরোধিতা ত্যাগ না করিলে জেরুসালেমকে আগুনে পোড়াইয়া ফেলা হইবে (তু. যিরমিয়, ১৭: ২১-২৭)। হিযকিয়েল (যিহিঙ্কেল) নবীর কিতাবেও শনিবারের অবমাননাকে ইয়াহুদীদের জাতীয় অপরাধসমূহের মধ্যে একটি মারাত্মক অপরাধ বলিয়া ঘোষণা করা হইয়াছে (তু. যিহিঙ্কেল, ২০: ১২-২৪)। অতএব সূরা আল-আ'রাফে শনিবার লংঘনের যে ঘটনা উল্লিখিত হইয়াছে তাহা এই সময়কার হওয়া অসম্ভব নহে (নিবন্ধকার)।
📄 দাউদ (আ)-এর প্রতি অপবাদ ও উহার অসারতা
ইয়াহুদীরা হযরত দাউদ (আ)-এর মত নিষ্পাপ ও পূত চরিত্র নবীর উপর এমন একটি জঘন্য অপবাদ আরোপ করিয়াছে, যাহা বর্ণনার অযোগ্য এবং ইহাকে তাহাদের ধর্মগ্রন্থে প্রবিষ্ট করিতেও তাহারা কুণ্ঠাবোধ করে নাই। বাইবেলের ২য় শমূয়েল-এর ১১শ ও ১২শ অধ্যায়ে এই ঘটনা বিবৃত হইয়াছে। একদল মুফাসসির ও ঐতিহাসিক কুরআন মজীদে দাউদ (আ) সম্পর্কে উক্ত কয়েকটি আয়াতের ব্যাখ্যা করিতে গিয়া বাইবেলের সেই উপাখ্যানও বর্ণনা করিয়াছেন এবং অপর দল ইহাকে একটি বানোয়াট ঘটনা বিবেচনায় সতর্কতার সহিত বর্জন করিয়াছেন। সূরা সাদ-এ আল্লাহ তা'আলা বলেন:
وَهَلْ أَتْكَ نَبَؤُا الْخَصْمِ إِذْ تَسَوَّرُوا الْمِحْرَابَ إِذْ دَخَلُوا عَلَى دَاوُدَ فَفَزِعَ مِنْهُمْ قَالُوا لَا تَخَفْ خَصْمَن بَغَى بَعْضُنَا عَلَى بَعْضٍ فَاحْكُمْ بَيْنَنَا بِالْحَقِّ وَلَا تُشْتِط وَاهْدِنَا الى سواء الصراط . إِنَّ هَذَا أَخِي لَهُ تِسْعٌ وَتِسْعُونَ نَعْجَةً وَلِي نَعْجَةً وَاحِدَةً فَقَالَ اكْفُلْنِيهَا وَعَزَّنِي فِي الْخِطَابِ. قَالَ لَقَدْ ظَلَمَكَ بِسُؤَالِ نَعْجَتِكَ إِلَى نِعَاجَهُ وَإِنَّ كثيراً مِّنَ الْخُلَطَاء لَيَبْغِى بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْض الا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّلِحَتِ وَقَلِيلٌ مَّاهُمْ وَظَنُّ دَاوُدُ إِنَّمَا فَتَنَّهُ فَاسْتَغْفَرَ رَبَّهُ وَخَرَّ رَاكِعًا وَأَنَابَ. فَغَفَرْنَا لَهُ ذَلِكَ وَإِنَّ لَهُ عِنْدَنَا لَزُلْفَى وَحُسْنَ مَابٍ.
"তোমার নিকট বিবদমান লোকদের বৃত্তান্ত পৌঁছিয়াছে কি, যখন তাহারা প্রাচীর টপকাইয়া ইবাদতখানায় প্রবেশ করিয়াছিল? তাহারা যখন দাউদের নিকট পৌছিল তখন সে ঘাবড়াইয়া গিয়াছিল তাহাদের কারণে। তাহারা বলিল, আপনি ঘাবড়াইবেন না, আমরা দুই বিবদমান পক্ষ, আমাদের একে অপরের উপর যুলুম করিয়াছে। অতএব আপনি আমাদের মধ্যে ন্যায়বিচার করুন, অবিচার করিবেন না এবং আমাদেরকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন। এই ব্যক্তি আমার ভাই, তাহার আছে নিরানব্বইটি দুম্বা এবং আমার আছে মাত্র একটি দুম্বা। সে বলে, ইহাকে আমার যিম্মায় দিয়া দাও এবং কথায় সে আমার প্রতি কঠোরতা প্রদর্শন করিয়াছে। দাউদ বলিল, তোমার দুম্বাটিকে তাহার দুম্বাগুলির সহিত যুক্ত করিবার দাবি করিয়া সে তোমার প্রতি যুলুম করিয়াছে। শরীকদের অনেকে একে অপরের উপর অবিচারই করিয়া থাকে, করে না কেবল সৎকর্মপরায়ণ ব্যক্তিগণ এবং তাহারা সংখ্যায় অল্প। দাউদ বুঝিতে পারিল যে, আমি তাহাকে পরীক্ষা করিয়াছি। অতঃপর সে তাহার প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করিল, সিজদায় লুটাইয়া পড়িল এবং তাঁহার দিকে প্রত্যাবর্তন করিল। অতএব আমি তাহার ত্রুটি ক্ষমা করিলাম এবং আমার নিকট রহিয়াছে তাহার জন্য নৈকট্যের মর্যাদা ও শুভ পরিণাম” (৩৮: ২১-২৫)।
উপরিউক্ত আয়াত কয়টি কুরআন মজীদের 'মুতাশাবিহ' (দ্ব্যর্থবোধক) আয়াতসমূহের অন্তর্ভুক্ত। এখানে স্পষ্টভাবে বলা হয় নাই যে, পরীক্ষার বিষয় কি ছিল এবং হযরত দাউদ (আ) কি ভুল করিয়াছিলেন, যে কারণে তিনি ক্ষমাপ্রার্থী হইলেন এবং আল্লাহ তাঁহাকে ক্ষমা করিলেন। উক্ত আয়াতগুলির সহিত শরীয়াতের আদেশ-নিষেধ বা হালাল-হারাম কোন বিষয়েরও সম্পর্ক নাই। বস্তুত এই জাতীয় বিষয়ে কুরআনের নির্দেশে অস্পষ্টতা থাকিলে রাসূলুল্লাহ (স) তাহা নিজের কথা বা কর্মের দ্বারা দূর করিয়া দিতেন। অতএব কুরআন মজীদে যেভাবে যতখানি বিষয় বর্ণিত হইয়াছে তাহার উপর সেইভাবে ততখানি ঈমান আনা কর্তব্য এবং অস্পষ্ট বিষয়কে অস্পষ্ট হিসাবে রাখা বাঞ্ছনীয়। পূর্বকালের বিশেষজ্ঞ আলিমগণের একটি নীতি এই যে, "আবহিমু মা আবহামাহুল্লাহ" (আল্লাহ যাহা অস্পষ্ট রাখিয়াছেন তোমরা তাহা অস্পষ্ট থাকিতে দাও)।
তবে কোনও কোনও তাফসীরকার দাউদ (আ)-এর পরীক্ষার বিষয়টি প্রচলিত প্রবচন (লোককাহিনী) ও পূর্ববর্তীদের মতামতের আলোকে নির্ধারণ করিতে সচেষ্ট হইয়াছেন। বাইবেলে বর্ণিত কাহিনী অনুযায়ী, একদা হযরত দাউদ (আ)-এর দৃষ্টি তাঁহার প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য হিত্তীয় উরিয়ার স্ত্রী ও ইলয়াসের কন্যা বৎশেবার উপর পতিত হইল। তাঁহার মনে তাহাকে বিবাহ করার আকাঙ্খা জাগ্রত হইল। তিনি ঊরিয়াকে হত্যা করানোর উদ্দেশ্যে তাহাকে ভয়ানক বিপদজনক যুদ্ধাভিযানে প্রেরণ করেন। ফলে সে এক যুদ্ধে নিহত হয়। পরে এক সময় দাউদ (আ) তাহার পত্নীকে বিবাহ করেন (দ্র. ২-সমূয়েল, ১২: ১-৮৯)। কোন কোন মুফাসসির এই ঘটনাটি উল্লেখ করিয়াছেন। শুধু পার্থক্য এই যে, বাইবেল তাঁহার প্রতি ব্যভিচারের যে ন্যাক্কারজনক অপবাদ আরোপ করিয়াছে, মুফাসসিরগণ তাহা প্রত্যাখ্যান করিয়াছেন। রাযী (র) বলেন, হযরত দাউদ (আ)-এর ক্ষমা প্রার্থনা সংক্রান্ত বিষয় উল্লেখের পূর্বে আল্লাহ তা'আলা তাঁহার এমন দশটি সদগুণের উল্লেখ করিয়াছেন যাহার দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, তাহাঁর দ্বারা কোন প্রকার গর্হিত কর্ম প্রকাশ পাওয়া সম্পূর্ণ অসম্ভব। (১) আল্লাহ তা'আলা মহানবী (স)-কে দাউদ (আ)-এর ন্যায় ধৈর্য ধারণের নির্দেশ দিয়াছেন (৩৮: ১৭)। (২) আল্লাহ তা'আলা দাউদ (আ)-কে তাঁহার বান্দা বলিয়া বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করিয়াছেন (৩৮: ১৭), যেমন মুহাম্মদ (স)-কে তাঁহার বান্দা বলিয়া সম্বোধন করিয়াছেন (তু. ১৭:১)। (৩) আল্লাহ তা'আলা তাঁহাকে শক্তি-সামর্থ্যের অধিকারীরূপে অভিহিত করিয়াছেন, যাহারা সাহায্যে তিনি আল্লাহর আনুগত্যে অবিচল থাকিতেন (৩৮: ১৭)। (৪) তিনি ছিলেন আল্লাহ অভিমুখী (৩৮: ১৭)। (৫) আল্লাহ পর্বতমালাকে তাঁহার সহিত তাঁহার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণায় নিয়োজিত করিয়াছিলেন (৩৮: ১৮) এবং (৬) দলবদ্ধ বিহঙ্গ কুলকেও (৩৮: ১৯)। (৭) সবকিছুই ছিল তাঁহার অনুগত (৩৮: ১৮) অর্থাৎ দাউদ (আ) যখনই আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণায় নিয়োজিত হইতেন তখনই পর্বতমালা ও বিহঙ্গকুলও তাহাতে সাড়া দিত। (৮) আল্লাহ তা'আলা তাঁহার কর্তৃত্ব ও রাজত্বকে সুসংহত করিয়াছেন। এই প্রসঙ্গে ইন আব্বাস (রা) একটি মোকদ্দমার ঘটনা বর্ণনা করেন। এক ব্যক্তি দাউদ (আ)-এর দরবারে উপস্থিত হইয়া অভিযোগ দায়ের করে যে, অমুক ব্যক্তি তাহার একটি গরু অন্যায়ভাবে তাহার দখলভুক্ত করিয়াছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দরবারে তলব করিয়া জিজ্ঞাসা করা হইলে সে উক্ত অভিযোগ অস্বীকার করে। তিনি বাদীকে সাক্ষ্য প্রমাণ পেশ করিতে বলিলে সে তাহাতে ব্যর্থ হয়। রাত্রে দাউদ (আ) স্বপ্নে দেখিলেন যে, আল্লাহ তা'আলা বিবাদীকে হত্যা করার জন্য তাঁহাকে নির্দেশ দিতেছেন। তিনি মনে করিলেন, ইহা একটি স্বপ্ন মাত্র। তাই তিনি কোন পদক্ষেপ গ্রহণ হইতে বিরত থাকেন। পরে তাঁহাকে ওহীর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা বিবাদীকে হত্যার নির্দেশ দেন। অতএব তিনি বিবাদীকে ডাকাইয়া তাহাকে অবহিত করেন, আল্লাহ তা'আলা তোমাকে হত্যা করার জন্য আমাকে নির্দেশ দিয়াছেন। বিবাদী বলিল, আল্লাহ সঠিক নির্দেশ দিয়াছেন। আমি বাদীর পিতাকে ধোঁকা দিয়া হত্যা করিয়াছিলাম। অতঃপর দাউদ (আ) তাহার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেন। এই জাতীয় ঘটনা তাঁহার রাজত্বকে সুসংহত করে (তাফসীর কবীর, ২৬খ, পৃ. ১৮৭; তাহযীব তা'রীখ দিমাশক, ৫খ, ১৯৬)। (৯) আল্লাহ তা'আলা তাঁহাকে হিকমাত তথা নবুওয়াত-সঞ্জাত প্রজ্ঞা দান করিয়াছেন (৩৮ঃ ২০)। (১০) আল্লাহ তা'আলা তাঁহাকে ফয়সালাকর বাগ্মিতা দান করিয়াছেন। জ্ঞান-বুদ্ধি, প্রজ্ঞা, প্রতিভা ও বাকপটুতার উচ্চ পর্যায়ে উন্নীত হওয়া ছাড়া কাহারও পক্ষে এই গুণ অর্জন করা সম্ভব নহে। অতএব আল্লাহ তা'আলা যাহার মধ্যে এতগুলি উচ্চতর বৈশিষ্ট্যের সমাবেশ ঘটাইয়াছেন তাঁহার দ্বারা কোন অপকর্ম সংঘটিত হইতে পারে না (তাফসীরে কবীর, ২৬ খ, পৃ. ১৮৪-৮৮ ও ১৮৯-৯০)। এজন্যই হযরত আলী (রা) তাঁহার খিলাফতকালে একটি অধ্যাদেশ জারী করেন:
مَنْ حَدَّثَكُمْ بِحَدِيث دَاوُدَ عَلَى مَا يَرْوِيهِ القَصَاصُ جَلَدَتُهُ مِائَةَ وَسِتِّينَ .
"কোন ব্যক্তি কাহিনীকারগণের বর্ণিত দাউদ (আ) সম্পর্কিত ঘটনা তোমাদের নিকট বর্ণনা করিলে আমি তাহাকে এক শত ষাট বেত্রাঘাত করিব" (তাফসীরে কবীর, ২৬ খ, পৃ. ১৯২; তাফসীরে কাশশাফ, ৩খ., পৃ. ৩৬৭; তাফসীরে বায়দাবী, ৩খ, পৃ. ২৩৩; আল-কামিল, ১খ, পৃ. ১৭১; নাজ্জারের কাসাসুল আম্বিয়া, পৃ. ৩১২)।
উপরন্তু মোকদ্দমা সংক্রান্ত ঘটনা এবং দাউদ (আ)-এর ক্ষমা প্রার্থনার কথা উল্লেখের পরও আল্লাহ তা'আলা তাঁহাকে আরও কয়টি গুণে গুণান্বিত করিয়াছেন এবং তাহাকে রাষ্ট্রনায়ক নিয়োগের ঘোষণা দিয়াছেন। মহান আল্লাহ বলেন:
وَإِنَّ لَهُ عِنْدَنَا لَزُلْفَى وَحُسْنَ مَاب. يُدَاوُدُ إِنَّا جَعَلْنَكَ خَلِيقَةً فِي الْأَرْضِ فَاحْكُمْ بَيْنَ النَّاسِ بِالْحَقِّ وَلَا تَتَّبِع الهوى فَيُضِلُّكَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ .
"তাহার জন্য আমার নিকট রহিয়াছে নৈকট্যের মর্যাদা ও উত্তম পরিণাম। হে দাউদ! আমি তোমাকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করিয়াছি। অতএব তুমি লোকদের মধ্যে সুবিচার কর এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ করিও না। কেননা ইহা তোমাকে আল্লাহ্র পথ হইতে বিচ্যুত করিবে" (৩৮: ২৫-২৬)।
অতএব ঘটনার পূর্বাপর বর্ণনাই প্রমাণ করে যে, উরিয়াকে হত্যার ষড়যন্ত্র এবং তাহার স্ত্রীর সহিত অবৈধ সম্পর্কের ঘটনা সম্পূর্ণ বানোয়াট এবং দুশ্চরিত্র ইয়াহুদী ও কাহিনীকারদের অপপ্রচার মাত্র।
মোকদ্দমা ও ক্ষমা প্রার্থনার বিষয় হিসাবে বিভিন্ন তাফসীরকার ও ঐতিহাসিক ভিন্ন ঘটনাকে উল্লেখ করিয়াছেন। কেহ বলিয়াছেন, উরিয়ার সহিত বতসেবার বিবাহ হয় নাই, বরং সে তাহার পরিবারের নিকট বিবাহের প্রস্তাব পাঠাইয়াছিল, অতঃপর হযরত দাউদ (আ)-ও বিবাহের প্রস্তাব পাঠান। ইহাতে তাহার পরিবার প্রভাবিত হয়। এখানে তাঁহার ত্রুটি এই ছিল যে, তিনি তাঁহার একজন মুসলিম ভ্রাতার প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব দিয়াছেন, অথচ তখনও তাঁহার একাধিক স্ত্রী ছিল (তাফসীরে কবীর, ২৬ খ., পৃ. ১৯২; জাসসাসের আহকামুল কুরআন, ৩খ, পৃ. ৩৭৯)।
কোন কোন তাফসীরকার বলেন, হযরত দাউদ (আ) তাঁহার কর্মসূচীকে চারি ভাগে বিভক্ত করিয়া লইয়াছিলেন: এক দিন আল্লাহ্ ইবাদতের জন্য, এক দিন বিচারকার্য পরিচালনার জন্য,একদিন স্বীয় পরিবার-পরিজনের তদারকি করার জন্য এবং এক দিন ইসরাঈলীদেরকে ওয়াজ-নসীহত করার জন্য। আল্লাহ্র নির্দেশ ব্যতীত তিনি নিজের সময়ের এইরূপ বণ্টন করিয়াছিলেন, যাহার দরুন তিনি আল্লাহ্র নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করেন (আহকামুল কুরআনের বরাতে মা'আরেফুল কোরআন, বাংলা অনু., ই. ফা., ১৪০১/১৯৯৪, ৭খ, পৃ. ৪৯০; আল-কামিল, ১খ, পৃ. ১৭১; হাকেম, মুসতাদরাক, ২খ, পৃ. ৫৮৬; শেষোক্ত দুই গ্রন্থে তাঁহার সময় তিন ভাগে বিভক্ত করার কথা উল্লেখ আছে)।
পরিশেষে বলা যায়, ঘটনা যাহাই ঘটিয়া থাকুক, আল্লাহ তা'আলা তাহা স্পষ্ট করেন নাই, তাই আমাদেরকেও সেই বিষয়ে নীরবতা অবলম্বন করাই উচিত। মহানবী (স) বলেনঃ إِنَّ اللَّهَ فَرَضَ فَرَائِضَ فَلَا تُضَيِّعُوهَا وَحَرَّمَ حُرُمَاتِ فَلَا تَنْتَهِكُوهَا وَحَدٌ حُدُودًا فَلَا تَعْتَدُوهَا وَسَكَتَ عَنْ أَشْيَاءَ مِنْ غَيْرِ نِسْيَانِ فَلَا تَبْحَثُوا عَنْهَا .
"আল্লাহ তা'আলা কতগুলি বিষয় ফরযরূপে নির্ধারণ করিয়াছেন, সেগুলি বিনাশ করিও না, কতগুলি বিষয় হারাম করিয়াছেন, সেগুলির মর্যাদাহানি (লংঘন) করিও না, কতগুলি সীমা নির্ধারণ করিয়াছেন, সেগুলি অতিক্রম করিও না এবং কতগুলি বিষয়ে ভুলে নহে, ইচ্ছাকৃতভাবেই নীরব রহিয়াছেন, সেইগুলি নিয়া বিতর্কে বা আলোচনায় লিপ্ত হইও না" (দারু কুতনীর বরাতে মিশকাতুল মাসাবীহ, কিতাবুল ঈমান, বাব আল-ই'তিসাম বিল-কিতাব ওয়াস-সুন্নাহ, সর্বশেষ হাদীছ)। وَاعْمَلُوا بِالْمُحْكَمِ وَأَمِنُوا بِالْمُتَشَابِهِ وَاعْتَبِرُوا بِالْأَمْثَالِ.
"তোমরা মুহকাম আয়াত অনুযায়ী আমল কর, মুতাশাবিহ আয়াতের উপর ঈমান আনো এবং উপদেশ সম্বলিত আয়াত হইতে উপদেশ গ্রহণ কর" (মাসাবীহু'স-সুন্নাহ ও বায়হাকীর শু'আবুল ঈমান-এর বরাতে মিশকাতুল মাসাবীহ, পূর্বোক্ত অধ্যায় ও বাব, আল-ফাসলু'ছ-ছালিছ)।
📄 সূরা সাদ -এর তিলাওয়াতের সিজদা
সূরা সাদ-এর ২৪ নম্বর আয়াত তিলাওয়াত করিলে সিজদা দিতে হয়। হানাফী মাযহাবমতে এখানে সিজদা করা ওয়াজিব, শাফিঈ মাযহাবমতে ঐচ্ছিক, কারণ ইহা একজন নবীর তওবা মাত্র। এই বিষয়ে ইব্ন আব্বাস (রা) হইতে তিনটি হাদীছ বর্ণিত হইয়াছে।
(১) ইব্ন আব্বাস (রা) বলেন, সূরা সাদ-এর সিজদা অত্যাবশ্যকীয় সিজদাসমূহের অন্তর্ভুক্ত নহে। তবে নবী (স)-কে আমি ইহাতে সিজদা করিতে দেখিয়াছি (বুখারী, বাংলা সং, ই.ফা., পৃ. ২৭২, বাব ৬৮৬, নং ১০০৮; তিরমিযী, সাফার, বাব ১৫, নং ৫৩৮; আবু দাউদ, ই.ফা., বাংলা সং, ২খ, পৃ. ২৯২, সালাত, বাব ৩৩৮, নং ১৪০৯; মুসনাদে আহমাদের বরাতে বিদায়া, ২খ, পৃ. ১২-১৩)।
(২) সূরা সাদ-এ নবী (স) সিজদা করিয়াছেন এবং বলিয়াছেন: দাউদ (আ) তওবাস্বরূপ সিজদা করিয়াছিলেন, আর আমরা শুকরিয়াস্বরূপ: সিজদা করিতেছি অর্থাৎ তাঁহার তওবা কবুল হইয়াছে বিধায় আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করিতেছি (নাসাঈ, ইফতিতাহ, বাব সুজদিল কুরআন)।
(৩) মুজাহিদ (র) ইব্ন আব্বাস (রা)-কে জিজ্ঞাসা করেন, সূরা সাদ-এ কি সিজদা আছে? তিনি বলেন, হাঁ (বুখারী, তাফসীর সূরা আন'আম, নং ৪২৭১, আধুনিক প্রকাশনী সং, ৪খ, পৃ. ৩৮৮)।
আবূ সাঈদ (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) মিম্বারে দাঁড়াইয়া সূরা সাদ তিলাওয়াত করেন। তিনি সিজদার আয়াত পড়ার পর নিচে নামিয়া সিজদা করেন এবং তাঁহার সঙ্গের লোকজনও সিজদা করে। তিনি অন্য এক দিনও এই সূরা পাঠ করেন এবং সিজদার আয়াতে পৌছিলে লোকজন সিজদা দিতে উদ্যত হয়। রাসূলুল্লাহ (স) বলেন: ইহা তো একজন নবীর তওবার সিজদা। কিন্তু আমি লক্ষ্য করিতেছি যে, তোমরা সিজদা করিতে উদ্যত হইয়াছ। অতএব তিনি নিচে নামিয়া সিজda করেন এবং তাহারাও সিজদা করে (আবূ দাউদ, পূর্বোক্ত সং, সালাত, বাব ৩৩৮, নং ১৪১০)।
অতএব ইমামগণের সর্বসম্মতভাবে না হইলেও সূরা সাদ-এ তিলাওয়াতের সিজদা ওয়াজিব হওয়ার মতই অগ্রাধিকারযোগ্য (তু. তাফহীমুল কুরআন, উক্ত সূরার ২৬ নং টীকা)। কথিত আছে যে, হযরত দাউদ (আ) সিজদারত অবস্থায় চল্লিশ দিন কাটাইয়া দেন, কেবল জরুরী প্রয়োজন ছাড়া সিজদা হইতে উঠিতেন না (তাফসীরে কাশশাফ, ৩খ, পৃ. ৩৭১; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ২খ., পৃ. ১৩; সার্বিক আলোচনার জন্য দ্র. জাসসাস, আহকামুল কুরআন, ৩খ, পৃ. ৩৮০; ইবনুল আরাবী, আহ্কামুল কুরআন, ৪খ, পৃ. ১৬৪০; কুরতুবী, আহ্কামুল কুরআন, ১৫ খ, পৃ. ১৮৩-৪; তাফসীর মাজহারী, ৮খ, পৃ. ১৬৯)।
📄 দাউদ (আ)-এর মু'জিযা ও মর্যাদা
কুরআন মজীদের তিন স্থানে দাউদ (আ)-এর সহিত পাহাড়-পর্বত ও বিহঙ্গকূলের আল্লাহ্ যিকির ও তাঁহার মহিমা ঘোষণায় যোগ দেওয়ার কথা উদ্ধৃত হইয়াছে। যেমন, "আমি পর্বতমালা ও পক্ষীকুলকে অধীন করিয়া দিয়াছিলাম, ইহারা দাউদের সঙ্গে আমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করিত। আমিই ছিলাম এইসবের কর্তা" (২১: ৭৯)।
"নিশ্চয় আমি দাউদের প্রতি অনুগ্রহ করিয়াছি। হে পর্বতমালা! দাউদের সহিত আমার পবিত্রতা ঘোষণা কর এবং পক্ষীকুলকেও (একই নির্দেশ দিয়াছি)" (৩৪: ১০)।
"আমি পর্বতমালাকে নিয়োজিত করিয়াছিলাম যেন ইহারা সকাল-সন্ধ্যায় তাঁহার সহিত আমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে এবং সমবেত পক্ষীকুলকেও (নিয়োজিত করিয়াছিলাম), সকলেই ছিল তাঁহার অভিমুখী” (৩৮: ১৮-১৯)।
হযরত দাউদ (আ)-এর সহিত তাঁহার সুমধুর কণ্ঠে কণ্ঠ মিলাইয়া পাহাড়-পর্বত ও পক্ষীকুলের আল্লাহর মহিমা ও পবিত্রতা ঘোষণায় শরীক হওয়া একটি সুপ্রসিদ্ধ বিষয়। আল্লাহ তা'আলা দাউদ (আ)-কে প্রদত্ত গুণাবলীর সহিত তাঁহাকে সুমধুর কণ্ঠস্বরও দান করিয়াছিলেন। তিনি যখন যাবূর কিতাব পাঠ করিতেন তখন পক্ষীকুল শূন্যলোকে থামিয়া যাইত এবং তাঁহার সহিত আল্লাহর মহিমা ঘোষণায় শরীক হইত। একইভাবে পর্বতমালা, তরুলতা ইত্যাদি হইতেও তাসবীহ্ আওয়াজ শোনা যাইত। ইহা ছিল দাউদ (আ)-কে আল্লাহ্ প্রদত্ত একটি মুজিযা। প্রতিটি অচেতন বস্তুর মধ্যেও মুজিযারূপে চেতনা সৃষ্টি হইতে পারে। প্রামাণ্য সত্য এই যে, পাহাড় ও পাথরসমূহের মধ্যেও ইহাদের উপযোগী জীবন ও চেতনা বিদ্যমান রহিয়াছে (মাআরেফুল কোরআন, পৃ. ৮৮৪, তাফহীম, সূরা আম্বিয়া, ৭১ নং টীকা; তাফসীরে কবীর, ২১খ, পৃ. ১৯৯; বিদায়া, বালাম ১, ২খ, পৃ. ১০-১১)। যেমন কুরআন মজীদে পাথর সম্পর্কে বলা হইয়াছে:
وَإِنَّ مِنَ الْحِجَارَةِ لَمَا يَتَفَجَّرُ مِنْهُ الْأَنْهُرُ وَإِنَّ مِنْهَا لَمَا يَشَقَّقُ فَيَخْرُجُ مِنْهُ الْمَاءُ وَإِنَّ مِنْهَا لَمَا يَهْبِطُ مِنْ خشية الله .
"কতক পাথর এমন যে, উহা হইতে নদী-নালা প্রবাহিত হয় এবং কতক এইরূপ যে, বিদীর্ণ হওয়ার পর উহা হইতে পানি নির্গত হয়, আবার কতক এমন যে, তাহারা আল্লাহর ভয়ে ধ্বসিয়া পড়ে” (২ঃ ৭৪)।
বস্তুত আল্লাহ্ প্রতিটি সৃষ্টিই নিজ নিজ ভাষায় তাঁহার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে। মহান আল্লাহ বলেন:
أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ يُسَبِّحُ لَهُ مَنْ فِي السَّمُوتِ وَالْأَرْضِ وَالطَّيْرُ صُقْتِ كُلُّ قَدْ عَلِمَ صَلَاتَهُ وَتَسْبِيحَهُ.
"তুমি কি দেখ না যে, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যাহারা আছে তাহারা এবং দলবদ্ধভাবে উড্ডীয়মান বিহঙ্গকুল আল্লাহ্র পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে? প্রত্যেকেই নিজ নিজ ইবাদতের ও মহিমা ঘোষণার পদ্ধতি জ্ঞাত আছে” (২৪:৪১)।
تُسَبِّحُ لَهُ السَّمُوتُ السَّبْعُ وَالْأَرْضُ وَمَنْ فِيهِنَّ وَإِنْ مِّنْ شَيْءٍ إِلا يُسَبِّحُ بِحَمْدِهِ وَلَكِنْ لَا تَفْقَهُونَ تَسْبيحَهُمْ .
"সপ্ত আকাশ ও পৃথিবী এবং এতদুভয়ের মধ্যের সমস্ত কিছু তাঁহার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে। এমন কিছু নাই যাহা তাঁহার সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে না, কিন্তু উহাদের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা তোমরা বুঝিতে পার না" (১৭: ৪৪; আরও দ্র. ১৩: ১৩; ৫৯: ২৪; ৬২: ১; ৬৪:১ ও ২১৪ ২০)।
আল্লামা যামাখশারী (র) ও অপরাপর তাফসীরকার বলেন, ইহা অবাস্তব নহে যে, আল্লাহ তা'আলা প্রতিটি বস্তুর মধ্যে এই পরিমাণ বোধশক্তি ও চেতনা নিহিত রাখিয়াছেন, যাহা দ্বারা সে তাহার স্রষ্টা প্রভুর পরিচয় জানিতে পারে। ইহাও অবাস্তব নহে যে, ইহাদেরকে বিশেষ প্রকারের ভাষাজ্ঞান দান করা হইয়াছে এবং বিশেষ প্রকার তাসবীহ ও ইবাদত-বন্দেগীর নিয়ম-কানুন শিক্ষা দেওয়া হইয়াছে, যাহাতে তাহারা মশগুল থাকে (মাআরেফুল কোরআন, পৃ. ৯৪৮)।
"কিন্তু তোমরা তাহাদের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা বুঝিতে পার না" অর্থাৎ সকল মানুষ বুঝিতে না পারিলেও আল্লাহ তা'আলা নবী-রাসূলগণকে তাহা বুঝিবার ক্ষমতা দান করিয়াছেন। "আমিই ছিলাম ইহার কর্তা" (২১:৭৯) অর্থাৎ এইসব স্বাভাবিক প্রাকৃতিক নিয়ম বিরুদ্ধ ঘটনা আল্লাহ তা'আলার নির্দেশেই ঘটিয়াছিল।
উক্ত আয়াতসমূহ হইতে স্বতই প্রমাণিত হয় যে, দাউদ (আ) যখন আল্লাহ্র প্রশংসা করিতেন, তাঁহার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করিতেন এবং তাঁহার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করিতেন, তখন তাঁহার সুমধুর সুরের ঝংকারে পাহাড়-পর্বত, পক্ষীকুল ইত্যাদি বিমোহিত হইয়া তাঁহার সুরে সুর মিলাইত। মহানবী (স)-এর পবিত্র বাণী হইতেও দাউদ (আ)-এর সুমধুর কণ্ঠস্বরের প্রমাণ পাওয়া যায়। তাঁহার অন্যতম সাহাবী আবূ মূসা আশ'আরী (রা)-র কণ্ঠস্বর ছিল অসাধারণ সুমধুর। একদা তিনি কুরআন তিলাওয়াত করিতেছিলেন এবং মহানবী (স) এই দিক দিয়া অতিক্রম করিতেছিলেন। তিনি তাঁহার কণ্ঠস্বর শুনিয়া দাঁড়াইয়া গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ ধরিয়া তাঁহার তিলাওয়াত শুনিলেন। তিনি তিলাওয়াত শেষ করিলে মহানবী (স) বলেন:
لَقَدْ أُوتِيَ مِزْماراً مِنْ مَزامير آل داؤد "এই ব্যক্তিকে দাউদ (আ)-এর সুমধুর কণ্ঠস্বরের এক অংশ দেওয়া হইয়াছে।"
এখানে 'মাযামীর' বলিতে দাউদ (আ)-এর সুললিত কণ্ঠে আল্লাহ তা'আলার মহিমা ও পবিত্রতা সম্পর্কিত আসমানী কিতাবের বাণীসমূহ তিলাওয়াত বুঝায় যাহা তাঁহার চতুষ্পার্শ্বের পরিবেশেও প্রতিধ্বনিত হইত।