📄 সংকট প্রচার
আনওয়ারে আম্বিয়া গ্রন্থে বলা হইয়াছে যে, হযরত আল-য়াসা' (আ)-এর নবুওয়ত লাভের ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, পুণ্যবানদের সংস্পর্শ যে কোন মানুষের উন্নতি ও কৃতকার্যতার মহান সোপান। হযরত ইলয়াস (আ) কৃষি খামার দিয়া যাত্রা করিতেছিলেন। খামারের স্বত্বাধিকারী হাল চাষ করিতেছিল। ইলয়াস (আ)-কে দেখিয়া সে দৌড়াইয়া তাঁহার সহিত চলিতেছিল। তিনি অবাক বিস্ময়ে লোকটিকে জিজ্ঞাসা করিলেন, তুমি এইভাবে কেন আসিতেছ? কৃষিকর্মের মালিক ইত্যবসরে স্বীয় কর্মের গরুটি লইয়া আসিল এবং উহাকে যবেহ করিয়া গরুটি রান্না করিল এবং আল্লাহুর নামে সকলকে ভক্ষণ করাইল। ইলয়াস (আ) তাহার খোদাভক্তি দেখিয়া তাহার উপর অত্যন্ত খুশী হইলেন। লোকটি হযরত ইলয়াস (আ)-এর খাদেম হইবার বাসনা প্রকাশ করিলে তিনি তাহাকে বরণ করিয়া লইলেন। এই মহৎপ্রাণ ব্যক্তিটিইি ছিলেন আল-য়াসা' (আ)।
হযরত ইলয়াস (আ)-এর ওফাতের সময় নিকটবর্তী হইলে তিনি আল-য়াসা'-কে বিদায় করিয়া দিবার মনস্থ করিলেন। কিন্তু তিনিতো কোনভাবেই ছাড়িয়া যাইতে চাহেন না। ইলয়াস (আ) তাহাকে বলিলেন, কোন মনোবাঞ্ছা থাকিলে বল। তিনি বলিলেন, আমার বাসনা হইল আপনার উপর যেই পবিত্র বরকত অবতীর্ণ হয় তাহা যেন আমার উপরও অবতীর্ণ হয়। ইহার ফলে ইলয়াস (আ) তাহাকে স্বীয় খলীফা নিযুক্ত করিয়া লইলেন। মাওলানা রুমী কতইনা সুন্দর কথা বলিয়াছেনঃ يك زمانه صحبت با اولیاء + بهتر از صد سال طاعت بے ریا . "একটি মুহূর্ত ওলীগণের সংস্পর্শে থাকা শত বর্ষের প্রদর্শনীমুক্ত ইবাদত হইতে উত্তম"।
টিকাঃ
আনওয়ারে আম্বিয়া, ৩০৪ পৃ.
📄 আল-ইয়াসা' (আ)-কে সঙ্গে লইয়া ইলয়াস (আ)-এর দু'আ
আল্লাহ্ তা'আলা ইলয়াস (আ)-এর প্রতি এই মর্মে ওয়াহয়ি পাঠাইলেন যে, তোমার অবাধ্যতা একমাত্র বনী ইসরাঈলরা করিতেছে। ইহাদের অবাধ্যতার কারণে তুমি বৃষ্টি আটকাইয়া দিয়াছ। ইহার ফলে পশু-পাখি, কীট-পতঙ্গ, বৃক্ষ, লতাপাতা ধরনের জগতের অসংখ্য সৃষ্টি ধ্বংসের মুখে পতিত হইতেছে। আল্লাহ এই কথা শুনিয়া ইলয়াস (আ) অত্যন্ত বিনম্র হইয়া গেলেন। কথিত আছে যে, ইলয়াস (আ) তাৎক্ষণিকভাবে বলিয়া উঠিলেন, হে আমার রব! আমাকে অনুমতি দিন, আমিই তাহাদের জন্য দু'আপ্রার্থী হইব। তাহারা অনাবৃষ্টির ফলে যেই দুর্ভোগ পোহাইতেছে তাহা হইতে নিষ্কৃতি লাভ করিয়া স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়া আসিবে, অতঃপর আশা করা যায় তাহারা তুমি ছাড়া অন্য যাহাদের উপাসনা করিতেছে তাহা হইতে প্রত্যাবর্তন করিবে। তিনি অনুমতি লাভ করিবার পর বনী ইসরাঈলের নিকট চলিয়া গিয়া বলিলেন, আহা কি যে সর্বনাশী খেলায় তোমরা মতিয়া উঠিয়াছ! ক্ষুধা-তৃষ্ণার জ্বালায় ধুকিয়া ধুকিয়া মৃত্যুকে আলিঙ্গন করিতেছ। হায়! তোমাদের কৃতকর্মের ফলে পশু-পাখি, জীব-জন্তু, গাছ-পালা, লতা-পাতা অনাবৃষ্টির ফলে ধ্বংস হইতেছে। তোমরা তাহা হইলে আমার সঙ্গে এই প্রতিমাগুলিকে লইয়া মাঠে অবতরণ কর। যদি তাহাদের দু'আ কবুল হয় তাহা হইলে তো তাহাদের সত্যতা সম্পর্কে কোন কথাই নাই। আর যদি ইহারা তোমাদের কথামত কিছুই দিতে সক্ষম না হয় তাহা হইলে ইহাদেরকে বাতিল বলিয়া জ্ঞান করিবে। ইহার পর আমি তোমাদের জন্য দু'আ করিব। আমার দু'আর ফলে তোমাদের সংকট মোচন হইবে বলিয়া আমি আশাবাদী। তাহারা বলিল, আপনি সত্য কথা বলিয়াছেন। অতঃপর তাহারা তাহাদের প্রতিমাগুলি লইয়া বাহির হইল। উহাদের লইয়া দু'আ করিল কিন্তু তাহাদের দু'আ কবুল হইল না, অনাবৃষ্টি জনিত সংকট হইতে মুক্তি পাইল না। তাহারা ইলয়াস (আ)-কে অনুরোধ করিয়া বলিল, হে ইলয়াস! আল্লাহ্ দরবারে আমাদের জন্য দু'আ করুন। ইলয়াস (আ) তাহাতে সাড়া দিয়া আল-য়াসা' (আ)-কে সঙ্গে লইয়া আল্লাহর দরবারে দু'আ করিলেন। অনাবৃষ্টি জনিত দুর্ভোগ লাঘব করিবার জন্য ঢাল সদৃশ এক খণ্ড মেঘ সমুদ্রের উপর ছায়াপাত করিল। তাহারা ইহা প্রত্যক্ষ করিল। মেঘখণ্ডটি তাহাদের দিকে ধাবিত হইয়া তাহাদের উপর বর্ষিত হইল। ইহাতে তাহাদের সমগ্র আবাস ভূমিসিঞ্চিত হইল। তাহাদের উপর এই পরিমাণ বারিপাত হইয়াছিল যে, ইহার ফলে অনেক দালান ধ্বসিয়া পড়িয়া গিয়াছিল। অতঃপর তাহারা আল্লাহর নবী ইলয়াস (আ)-এর নিকট দালানকোঠা ধ্বসিয়া পড়ার এবং বীজ না থাকার অভিযোগ পেশ করিল। বলিল, আমাদের নিকট চাষাবাদ করিবার উপযোগী কোন শস্যদানা নাই। তখন আল্লাহ তা'আলা ইলয়াস (আ)-এর নিকট ওয়াহয়ি পাঠাইলেন যে, তাহারা যেন জমিতে লবণ ছিটাইয়া দেয়। তাহারা ওয়াহয়ির আদেশ মুতাবিক তাহা করিল। ইহার ফলে তাহাদের জন্য বুট উৎপন্ন হইল। বালি ছিটাইয়া দিবার আদেশ করা হইলে তাহারা তাহা করিল। ইহার ফলে তাহাদের জন্য চারাগাছ উৎপন্ন হইল। এইভাবে মহান আল্লাহ বনী ইসরাঈলের সংকট মোচন করিয়া দিবার পর তাহারা ওয়াদা ভঙ্গ করিল। কুফরী হইতে ফিরিল না, বরং পূর্ব হইতে আরও অধিক মাত্রায় গোমরাহিতে লিপ্ত হইল। ইলয়াস (আ) ইহা দেখিয়া আল্লাহর দরবারে এখান হইতে চলিয়া যাইবার দু'আ করিলেন। তাঁহার নিকট ওয়াহয়ি আসিল, তুমি অমুক অমুক দিন পর্যন্ত অপেক্ষা কর, আর অমুক দিবসে অমুক স্থানে বাহির হইয়া পড়িও। যখন তোমার নিকট কোন জিনিস আসিতে দেখিবে তখন তুমি উহার উপর সওয়ার হইয়া যাইবে। ইহাতে ভীত হইবে না।
কথামত ইলয়াস (আ) বাহির হইলেন। তাঁহার সহিত আল-য়াসা' ইব্ন আখতুব (আ)-ও বাহির হইলেন। নির্দেশিত স্থানে যখন তাঁহারা উপনীত হইলেন তখন আগুনের একটি অশ্বকে তাহাদের দিকে ধাবিত হইতে দেখিলেন। অশ্বটি ইলয়াস (আ)-এর সামনে অবস্থান করিল। তিনি দ্রুত উহার উপর সওয়ার হইলেন। তাঁহাকে লইয়া অশ্বটি যাত্রারম্ভ করিলে আল-য়াসা' (আ) তাঁহাকে ডাকিয়া বলিলেন, হে ইলয়াস! আমাকে কী নির্দেশ দিয়া যাত্রা করিতেছেন? এই সময় আল-য়াসা' (আ)-এর উপর খোলা আকাশ হইতে ইলয়াস (আ)-এর চাদরটি নিক্ষিপ্ত হইল। ইহাই ছিল ইলয়াস (আ)-এর অন্তিম যাত্রা। তাঁহাকে বনী ইসরাঈল সম্প্রদায় হইতে উঠাইয়া লওয়া হইয়াছিল। পানাহার গ্রহণের চাহিদা তাঁহার হইতে দূর করা হইয়াছিল। তাঁহাকে পালকযুক্ত কাপড় পরানো হইয়াছিল। তিনি নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলে মানব ফেরেশতারূপে গণ্য হইয়া গেলেন। ইলয়াস (আ)-কে তুলিয়া লইবার পর আল্লাহ তা'আলা স্বীয় করুণা দ্বারা আল-য়াসা' (আ)-কে নবুওয়ত দান করিলেন। বনী ইসরাঈলের নবী ও রাসূল হিসাবে তাঁহাকে নিযুক্ত করা হইল। তাঁহার নিকট ওয়াহয়ি আসিতে লাগিল। মহান আল্লাহ তাঁহার বান্দা ইলয়াস (আ)-কে যেইভাবে স্থানে স্থানে সব সময় সাহায্য করিয়াছিলেন সেইভাবে তাঁকেও সাহায্য করিতেন। বনী ইসরাঈল সম্প্রদায় তাঁহার আনুগত্য স্বীকার করিয়া লইল। তাঁহার উপর ঈমান আনিল। তাহারা তাঁহাকে খুবই ভক্তি করিত। তাঁহার আদেশ-নিষেধকে মাথা পাতিয়া গ্রহণ করিত। বনী ইসরাঈল হইতে আল-য়াসা' (আ)-এর পৃথক হইবার পূর্ব পর্যন্ত আল্লাহ্র আদেশ তাহাদের মধ্যে অটুট ছিল।
টিকাঃ
ছা'লাবী, কাসাসুল আমবিয়া, ২৭৮ পৃ.)
📄 আল-ইয়াসা' (আ)-এর নবুওয়াত লাভকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষিত
তাওরাত গ্রন্থের আলোকে তাঁহার নবুওয়ত লাভের সময় ইসরাঈলের অধিপতি ছিলেন যূরাম (ইউরাম), শাসনকাল অনুমানিক খৃষ্টপূর্ব ৮৪৫ হইতে ৮৩৪। ইয়াহুদার রাজা ছিলেন আকযিয়াহ (আখযিয়াহ), শাসনকাল আনুমানিক ৮৩৮ হইতে ৮৩৪ খৃষ্টপূর্ব। তাঁহার ইন্তিকালের সময় য়াহুদার অধিপতিগণের মধ্যে যুওয়াসের রাজত্বকাল ছিল। শাসনকাল অনুমানিক ৮২৯ হইতে ৭৯০ খৃস্টপূর্ব। তাওরাতের বিবরণসমূহ হইতে অনুমেয়, আরামীদের সংগে যুদ্ধের সময় তিনি অত্যন্ত কঠিন ও বিপদ-সংকুল দিনগুলোতে বনী ইসরাঈলকে সাহায্য করিয়াছিলেন এবং তাহাদেরকে উৎসাহ প্রদান করিয়াছিলেন। কিন্তু এই সকল ঘটনার কেবল গুটিকতক ঘটনা ইতহিাস সমর্থিত। তাওরাতের অধ্যয়নে যেইভাবে ইলয়াস (আ)-এর ধর্মের সুস্পষ্ট কোন চিত্র আমাদের মধ্যে প্রস্ফুটিত হয় না সেইরূপ অবস্থা আল-য়াসা' (আ)-র ধর্মের। 'হিব্রু ইলীশা' শব্দের অর্থ হইল "আল্লাহ্র অনুগ্রহে মুক্তিপ্রাপ্ত"।
টিকাঃ
উরদূ দাইরায়ে মাআরিফে ইসলামিয়া, লাহোর ১৩৮৮ হি,/১৯৬৮ খৃ., ২১৪-২১৫ পৃ.)
📄 ঈলীশাদের কৃত আরও নানাবিধ কার্য
আল-য়াসা' (আ) জর্দান নদীর পানি রাশিতে ইলয়াস (আ)-এর চাদর দ্বারা আঘাত হানিলে পানি রাশি দুইভাগে বিভক্ত হইয়া গিয়াছিল। এই ঘটনা সম্পর্কে বাইবেলে বলা হইয়াছে, "পরে তিনি এলিয়ের গাত্র হইতে পতিত সেই শালখানি লইয়া জলে আঘাত করিয়া কহিলেন, এলিয়ের সদাপ্রভু কোথায়? আর তিনিও জলে আঘাত করিলে জল এদিকে ওদিকে বিভক্ত হইল এবং ইলীশয় পার হইয়া গেলেন"। আরীহার পানি ছিল ব্যবহারের অনুপযোগী। আল-য়াসা' (আ) সেই পানিতে লবণ নিক্ষেপ করিলে পানি নির্মল ও সুপেয় হইয়া গিয়াছিল। এই সম্পর্কে বাইবেলে বলা হইয়াছে, "নগরের লোকেরা ইলীশয়কে কহিল, বিনয় করি, দেখুন, এই নগরের স্থান রম্য বটে, ইহাত প্রভু দেখিতেছেন, কিন্তু জল মন্দ ও ভূমি ফলনাশক। তিনি কহিলেন আমার কাছে নূতন একটা ভাড় আনিয়া তাহাতে লবণ রাখ। পরে তাঁহার কাছে তাহা আনীত হইল। তিনি বাহির হইয়া জলের উনুইর নিকট গিয়া তাহাতে লবণ ফেলিলেন এবং কহিলেন, সদাপ্রভু এই কথা কহেন, আমি এ জল ভাল করিলাম, অদ্যাবধি ইহা আর মৃত্যুজনক কি ফলনাশক হইবে না। ইলীশয়ের উক্ত সেই বাক্যানুসারে সেই জল অদ্য পর্যন্ত ভাল হইয়া আছে। আল-য়াসা' (আ)-এর গৃহের কয়েকজন বালককে শাপ দিয়াছিলেন। কারণ তাঁহার সহিত উহারা বিদ্রুপ করিয়াছিল। এই শাপের ফলে বন হইতে দুইটি ভল্লুকী আত্মপ্রকাশ করিয়া এই বালকদের বিয়াল্লিশজনকে ছিড়িয়া ফেলিয়াছিল। এই সম্পর্কে বাইবেলে বলা হইয়াছে, ইলীশয় (আ) বৈথেলে যাইতেছিলেন। এমন সময় নগর হইতে কতকগুলি বালক আসিয়া তাহাকে বিদ্রুপ করিয়া কহিল, রে টাক্ পড়া! উঠিয়া আয়। রে টাক পড়া! উঠিয়া আয়। তখন তিনি পশ্চাৎ দিকে মুখ ফিরাইয়া তাহাদিগকে দেখিলেন এবং সদাপ্রভুর নামে তাহাদিগকে শাপ দিলেন, আর বন হইতে দুইটা ভল্লুকী আসিয়া তাহাদের মধ্যে বিয়াল্লিশজন বালককে ছিড়িয়া ফেলিল। আল-য়াসা' (আ) এমন একজন স্ত্রীলোককে স্বচ্ছলতা দান করিয়াছিলেন যাহাকে পাওনাদাররা ঋণ পরিশোধের জন্য বাধ্য করিয়াছিল। এই স্বচ্ছলতার পরিধি এমন ব্যাপকতর ছিল যে, ইহার দ্বারা স্ত্রীলোকটি তাহার দুইজন সন্তানসহ জীবন ধারণ করিতে সক্ষম হইত। এই প্রসঙ্গে বাংলা বাইবেলে বলা হইয়াছে, "একদা শিষ্য ভাববাদিগণের মধ্যে একজনের স্ত্রী ইলীশয়ের কাছে কাঁদিয়া কহিল, আপনার দাস আমার স্বামী মরিয়াছেন, আপনি জানেন, আপনার দাস সদাপ্রভুকে ভয় করিতেন। এখন মহাজন আমার দুইটি সন্তানকে দাস করিবার জন্য লইয়া যাইতে আসিয়াছে। ইলীশয় তাহাকে বলিলেন, আমি তোমার নিমিত্ত কি করিতে পারি? বল দেখি, ঘরে তোমার কি আছে? সে কহিল, এক বাটী তৈল ব্যতিরেকে আপনার দাসীর আর কিছু নাই। তখন তিনি কহিলেন, যাও, বাহির হইতে তোমার সমস্ত প্রতিবেশীর নিকট হইতে শূন্য পাত্র চাহিয়া আন, অল্প আনিও না। পরে ভিতরে গিয়া তুমি ও তোমার পুত্রেরা ঘরে থাকিয়া দাররুদ্ধ কর এবং সেই সকল পাত্রে তৈল ঢাল, এক এক পাত্র পূর্ণ হইলে তাহা এক দিকে রাখ। পরে সে স্ত্রীলোক তাঁহার নিকট হইতে প্রস্থান করিল, আর সে ও তাহার পুত্রেরা ঘরে থাকিয়া দ্বার রুদ্ধ করিল। তাহারা পুনঃপুনঃ তাহাকে পাত্র আনিয়া দিল এবং সে তৈল ঢালিল। সমস্ত পাত্র পূর্ণ হইলে পর সে আপন পুত্রকে কহিল, আর পাত্র আন। পুত্র কহিল, আর পাত্র নাই। তখন তৈলের স্রোত বন্ধ হইল। পরে সে গিয়া সদাপ্রভুর লোককে সংবাদ দিল। তিনি কহিলেন, যাও, সেই তৈল বিক্রয় করিয়া তোমার ঋণ পরিশোধ কর এবং যাহা অবশিষ্ট থাকিবে তদ্দ্বারা তুমি ও তোমার পুত্রেরা দিনপাত কর”। আল- য়াসা' (আ) শূনেমে বসবাসকারী একজন স্ত্রীলোকের একটি পুত্র মৃত্যুবরণ করিবার পর আবার তাহাকে জীবন দান করিয়াছিলেন। স্ত্রীলোকটি স্বীয় গৃহে তাহাকে অতিথি হিসাবে বরণ করিয়াছিল। এই সম্পর্কে বাইবেলে বলা হইয়াছে, “একদিন ইলীশয় শূনেমে যান। তথায় এক ধনবতী মহিলা ছিলেন, তিনি আগ্রহ সহকারে তাঁহাকে ভোজনের নিমন্ত্রণ করিলেন। পরে যতবার তিনি ঐ পথ দিয়া যাইতেন ততবার আহার করণার্থে সেই স্থানে যাইতেন। আর সেই মহিলা আপন স্বামীকে কহিলেন, দেখ, আমি বুঝিতে পারিয়াছি, এই যে ব্যক্তি আমাদের নিকট দিয়া যখন তখন যাতায়াত করেন, ইনি সদাপ্রভুর একজন পবিত্রাত্মা। বিনয় করি, আইস, আমরা প্রাচীরের উপরে একটা ক্ষুদ্র কুঠরী নির্মাণ করি এবং তাঁহার মধ্যে তাঁহার নিমিত্ত একখানি খাট, একখানি মেজ, একখানি আসন ও একটি পিলসুজ রাখি। তিনি আমাদের এখানে আসিলে সেই স্থানে থাকিবেন। একদিন ইলীশয় সেখানে আসিলেন আর সেই কুঠরীতে প্রবেশ করিয়া শয়ন করিলেন। পরে তিনি আপন চাকর গেহসিকে কহিলেন, তুমি ঐ শূনেমীয়াকে ডাক। তাহাতে সে তাহাকে ডাকিলে সেই স্ত্রীলোকটি তাঁহার সম্মুখে দাঁড়াইলেন। তখন ইলীশয় গেহসিকে কহিলেন, উহাকে বল, দেখুন আমাদের নিমিত্ত আপনি এই সকল চিন্তা করিলেন, এখন আপনার নিমিত্ত কি করিতে হইবে? রাজার কিম্বা সেনাপতির নিকটে আপনার কি কোন নিবেদন আছে? তিনি উত্তর করিলেন, আমি আপন লোকদের মধ্যে বাস করিতেছি। পরে ইলীশয় কহিলেন, তবে উহার জন্য কি করিতে হইবে? গেহসি কহিল, নিশ্চয়ই উহার পুত্র নাই, স্বামীও বৃদ্ধ। ইলীশয় কহিলেন, উহাকে ডাক। পরে তাহাকে ডাকিলে তিনি দ্বারে দাঁড়াইলেন, তখন ইলীশয় কহিলেন। এই ঋতুতে এই সময় পুনরায় উপস্থিত হইলে আপনি পুত্র ক্রোড়ে করিবেন। কিন্তু তিনি কহিলেন, না; হে প্রভু! হে সদাপ্রভুর লোক! আপনার দাসীকে মিথ্যা কথা কহিবেন না। পরে ইলীশয়ের বাক্যানুসারে সেই স্ত্রী গর্ভধারণ করিয়া সেই সময় পুনরায় উপস্থিত হইলে পুত্র প্রসব করিলেন। বালকটি বড় হইলে পরে সে একদিন ছেদকদের কাছে আপন পিতার নিকটে গেল। পরে সে পিতাকে কহিল, আমার মাতা! আমার মাতা! তখন পিতা চাকরকে কহিলেন, তুমি ইহাকে তুলিয়া ইহার মাতার কাছে লইয়া যাও। পরে সে তাহাকে তুলিয়া মাতার কাছে আনিলে বালকটি মধ্যাহ্ন কাল পর্যন্ত তাহার ক্রোড়ে বসিয়া থাকিল, পরে সে মরিয়া গেল। তখন মাতা উপরে গিয়া সদাপ্রভুর লোকের খাটে তাহাকে শয়ন করাইলেন। পরে দ্বাররুদ্ধ করিয়া বাহিরে আসিলেন, আর আপন স্বামীকে ডাকিয়া বলিলেন, বিনয় করি, তুমি চাকরদের একজনকে ও একটি গৰ্দ্দভী আমার কাছে পাঠাইয়া দেও। আমি সদাপ্রভুর লোকের কাছে তাড়াতাড়ি গিয়া ফিরিয়া আসিব। তিনি কহিলেন, অদ্য তাঁহার নিকটে কেন যাইবে? অদ্য অমাবস্যাও নয়, বিশ্রাম বারও নয়। নারী কহিলেন, মঙ্গল হইবে। আর তিনি গর্দভী সাজাইয়া তখন চাকরকে কহিলেন, গৰ্দ্দভী চালাইয়া চল, আজ্ঞা না পাইলে আমার গতি শিথিল করিও না। পরে তিনি কর্মিল পর্বতে সদাপ্রভুর লোকের নিকট বলিলেন। তখন সদাপ্রভুর লোক তাহাকে দূর হইতে দেখিয়া আপন চাকর গেহসিকে কহিলেন, দেখ, ঐ সেই শূনেমিয়া! একবার দৌড়িয়া গিয়া উহার সহিত সাক্ষাৎ কর, আর জিজ্ঞাসা কর আপনার মঙ্গল? আপনার স্বামীর মঙ্গল? বালকটার মঙ্গল? তিনি উত্তর করিলেন, মঙ্গল। পরে পর্বতে সদাপ্রভুর লোকের কাছে উপস্থিত হইয়া তিনি তাঁহার চরণ ধরিলেন। তাহাতে গেহসি তাহাকে ঠেলিয়া দিবার জন্য নিকটে আসিল। কিন্তু সদাপ্রভুর লোক কহিলেন, উহাকে থাকিতে দেও, উহার প্রাণ শোকাকুল হইয়াছে, আর সদাপ্রভু আমা হইতে তাহা গোপন করিয়াছেন, আমাকে জানান নাই। তখন স্ত্রীলোকটি কহিলেন, আমার প্রভুর কাছে আমি কি পুত্র চাহিয়াছিলাম? আমাকে প্রতারণা করিবেন না, একথা কি বলি নাই? তখন ইলীশয় গেহসিকে কহিলেন, কটি বন্ধন কর, আমার এই যষ্টি হস্তে লইয়া প্রস্থান কর, কাহারও সহিত সাক্ষাৎ হইলে তাহাকে মঙ্গলবাদ করিও না এবং কেহ মঙ্গলবাদ করিলে তাহাকে উত্তর দিও না। পরে বালকটির মুখের উপরে আমার এই যষ্টি রাখিও। তখন বালকের মাতা কহিলেন, জীবন্ত সদাপ্রভুর দিব্য এবং আপনার জীবিত প্রাণের দিব্য! আমি আপনাকে ছাড়িব না। তখন ইলীশয় উঠিয়া তাহার পশ্চাত পশ্চাতে চলিলেন। ইতোমধ্যে গেহসি তাহাদের অগ্রে গিয়া বালকটির মুখে ঐ যষ্টি রাখিল, তথাপি কোন শব্দ হইল না, অবধানের কোন লক্ষণ ও পাওয়া গেল না। অতএব গেহসি তাঁহার সহিত সাক্ষাৎ করিতে ফিরিয়া গিয়া তাহাকে কহিল, বালকটি জাগে নাই। পরে ইলীশয় সেই গৃহে আসিলেন, আর দেখ, বালকটি মৃত ও তাহার শয্যায় শায়িত। তখন তিনি প্রবেশ করিলেন এবং তাহাদের দুইজনকে বাহিরে রাখিয়া দ্বার রুদ্ধ করিয়া সদাপ্রভুর কাছে, প্রার্থনা করিলেন। আর (খাটে) উঠিয়া বালকটির উপরে শয়ন করিলেন; তিনি তাঁহার মুখের উপরে আপন মুখ, চক্ষুর উপরে চক্ষু ও করতলের উপরে করতল দিয়া তাহার উপরে আপনি লম্বমান হইলেন। তাহাতে বালকটির গাত্র উত্তাপ যুক্ত হইতে লাগিল। পরে তিনি ফিরিয়া আসিয়া গৃহমধ্যে একবার এদিক একবার ওদিক করিলেন, আবার উঠিয়া তাহার উপরে লম্বমান হইলেন, তাহাতে বালকটি সতবার হাঁচিল ও বালকটি চক্ষু মেলিল। তখন তিনি গেহসিকে ডাকিয়া কহিলেন, ঐ শূনেমিয়াকে ডাক। সে তাহাকে ডাকিলে স্ত্রীলোকটি তাঁহার নিকটে আসিলেন। ইলীশয় কহিলেন, আপনার পুত্রকে তুলিয়া লউন। তখন সে স্ত্রীলোক নিকটে গিয়া তাঁহার পদতলে পড়িয়া ভূমিতে প্রণিপাত করিলেন এবং আপন পুত্রকে তুলিয়া লইয়া বাহিরে গেলেন। নামান কুষ্ঠ রোগ হইতে মুক্তি লাভ করিয়াছিল। বাইবেলে এই ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ নিম্নরূপঃ অরাম রাজ্যের সেনাপতি নামান আপন প্রভুর সাক্ষাতে মহান ও সম্মানিত লোক ছিলেন। কেননা তাঁহার দ্বারা সদাপ্রভু অরামকে বিজয়ী করিয়াছিলেন। আর তিনি বলবান বীর, কিন্তু কুষ্ঠ রোগী ছিলেন। এক সময়ে অরামীয়েরা দলে দলে গমন করিয়াছিল, তাহারা ইস্রায়েল দেশ হইতে একটি ছোট বালিকাকে বন্দী করিয়া আনিলে সেই নামানের পত্নীর পরিচারিকা হইয়াছিল। সে আপন স্ত্রীকে কহিল, আহা! শমরিয়ায় যে ভাববাদী আছেন, তাঁহার সহিত যদি আমার প্রভুর সাক্ষাৎ হইত, তবে তিনি তাহাকে কুষ্ঠ হইতে উদ্ধার করিতেন। পরে নামান গিয়া আপন প্রভুকে কহিলেন, ইস্রায়েল দেশ হইতে আনীতা সেই বালিকা এই কথা কহিতেছে। অরাম রাজ কহিলেন, তুমি যাও, সেখানে যাও, আমি ইসরাঈলের রাজার কাছে পত্র পাঠাই। তখন তিনি আপনার সঙ্গে দশ তালন্ত রৌপ্য, ছয় সহস্র স্বর্ণ মুদ্রা ও দশজোড়া বস্ত্র লইয়া প্রস্থান করিলেন। আর তিনি ইস্রায়েলের রাজার কাছে পত্র লইয়া গেলেন। পত্রে এই কথা লিখিত ছিল, এই পত্র যখন আপনার নিকটে পৌঁছিবে, তখন দেখুন, আমি আপনার দাস নামানকে আপনার কাছে প্রেরণ করিলাম, আপনি তাহাকে কুষ্ঠ হইতে উদ্ধার করিবেন। এই পত্র পাঠ করিয়া ইস্রায়েলের রাজা বস্ত্র ছিঁড়িয়া কহিলেন, মারিবার ও বাঁচাইবার ঈশ্বর কি আমি যে, এই ব্যক্তি একজন মনুষ্যকে কুষ্ঠ হইতে উদ্ধার করণার্থে আমার কাছে পাঠাইতেছে? বিনয় করি, তোমরা বিবেচনা করিয়া দেখ। কিন্তু সে আমার বিরুদ্ধে সূত্র অন্বেষণ করিতেছে। পরে ইস্রায়েলের রাজা আপন বস্ত্র ছিড়িয়াছেন, ইহা শুনিয়া সদাপ্রভুর লোক ইলীশয় রাজার কাছে এই কথা বলিয়া পাঠাইলেন, আপনি কেন বস্ত্র ছিঁড়িলেন? সে ব্যক্তি আমার কাছে আইসুক, তাহাতে জানিতে পারিবে যে, ইস্রায়েলের মধ্যে একজন ভাববাদী আছে। অতএব নামান আপন অশ্বগণের ও রথসমূহের সহিত আসিয়া ইলীশয়ের গৃহদ্বারে উপস্থিত হইলেন। তখন ইলীশয় তাঁহার কাছে একজন দূত পাঠাইয়া কহিলেন, আপনি গিয়া সাতবার যর্দানে স্নান করুন, আপনার নূতন মাংস হইবে ও আপনি শুচি হইবেন। তখন নামান ক্রুদ্ধ হইয়া চলিয়া গেলেন, আর কহিলেন, দেখ, আমি ভাবিয়াছিলাম, তিনি অবশ্য বাহির হইয়া আমার নিকটে আসিবেন এবং দাঁড়াইয়া আপন সদাপ্রভুর নামে ডাকিবেন, আর কুষ্ঠ স্থানের উপর হাত দোলাইয়া কুষ্ঠীকে উদ্ধার করিবেন। ইস্রায়েলের সমস্ত জলাশয় হইতে দম্মেশকের আবানা ও পর্পর নদী কি উত্তম নয়? আমি কি তাহাতে স্নান করিয়া শুচি হইতে পরি না? আর তিনি মুখ ফিরাইয়া ক্রোধের আবেগে প্রস্থান করিলেন। কিন্তু তাহার দাসেরা নিকটে আসিয়া নিবেদন করিল, পিতা! ঐ ভাববাদী যদি কোন মহৎকর্ম করিবার আজ্ঞা আপনাকে দিতেন, আপনি কি তাহা করিতেন না? তবে স্নান করিয়া শুচি হউন, তাঁহার এই আজ্ঞাটি কি মানিবেন না? তখন তিনি সদাপ্রভুর লোকের আজ্ঞানুসারে নামিয়া গিয়া সাত বার যর্দনে ডুব দিলেন, তাহাতে ক্ষুদ্র বালকের ন্যায় তাহার নূতন মাংস হইল ও তিনি শুচি হইলেন। বাইবেলের বর্ণনামতে ইলয়াসা (আ)-এর ঊর্ধ্বকাশে চলিয়া যাইবার পূর্বমুহূর্তে আল-য়াসা' (আ)-এর সঙ্গে কথোপকথন করেন। পরে যখন সদা প্রভু এলিয়কে ঘূর্ণবায়ুতে স্বর্গে তুলিয়া লইতে উদ্যত হইলেন, তখন এলিয় ও ইলীশয় গিলগল হইতে যাত্রা করিলেন। আর এলিয় ইলীশয়কে কহিলেন, বিনয় করি, তুমি এই স্থানে থাক, কেননা সদাপ্রভু আমাকে বৈথেল পর্যন্ত পাঠাইলেন। ইলীশয় কহিলেন, জীবন্ত সদাপ্রভুর দিব্য! আমি আপনাকে ছাড়িব না। পরে তাঁহারা বৈথেলে নামিয়া গেলেন। তখন বৈথেলের শিষ্য ভাববাদিগণ বাহিরে ইলীশয়ের কাছে আসিয়া তাঁহাকে কহিল, অদ্য সদাপ্রভু আপনার শীর্ষ হইতে আপনার প্রভুকে লইবেন, ইহা কি আপনি জানেন? তিনি কহিলেন, হাঁ, আমি তাহা জানি; তোমরা নীরব হও। পরে এলিয় তাহাকে কহিলেন, হে ইলীশয়, বিনয় করি তুমি এই স্থানে থাক; কেননা সদাপ্রভু আমাকে যিরীহোতে পাঠাইলেন। তিনি কহিলেন, জীবন্ত সদাপ্রভুর দিব্য এবং আপনার জীবিত প্রাণের দিব্য! আমি আপনাকে ছাড়িব না। পরে তাঁহারা যিরীহোতে আসিলেন। তখন যিরীহোর শিষ্য ভাববাদিগণ ইলীশয়ের নিকটে আসিয়া কহিল, অদ্য সদাপ্রভু আপনার শীর্ষ হইতে আপনার প্রভুকে লইবেন, ইহা কি আপনি জানেন? তিনি উত্তর করিলেন, হাাঁ আমি তাহা জানি, তোমরা নীরব হও। পরে এলিয় তাহাকে কহিলেন, বিনয় করি, তুমি এই স্থানে থাক, কেননা সদাপ্রভু আমাকে যৰ্দ্দনে পাঠাইলেন। তিনি কহিলেন, জীবন্ত সদাপ্রভুর দিব্য এবং আপনার জীবিত প্রাণের দিব্যু! আমি আপনাকে ছাড়িব না। পরে তাঁহারা দুইজন চলিলেন। তখন শিষ্য-ভাববাদিগণের মধ্যে পঞ্চাশজন লোক গিয়া তাহাদের সম্মুখে দূরে দাঁড়াইল, আর যদ্দনের ধারে ঐ দুইজন দাঁড়াইলেন। পরে এলিয় আপন শাল ধরিয়া গুটাইয়া লইয়া জলে আঘাত করিলেন, তাহাতে জল এদিকে ওদিকে বিভক্ত হইল এবং তাঁহারা দুইজন শুষ্ক ভূমি দিয়া পার হইলেন। পার হইলে পর এলিয় ইলীশয়কে কহিলেন, তোমার নিমিত্ত আমি কি করিব? তাহা তোমার নিকট হইতে আমার নীত হইবার পূর্বে যাজ্ঞা কর। ইলীশয় কহিলেন, বিনয় করি, আপনার আত্মার দুই অংশ আমাতে বর্তুক। তিনি কহিলেন, কঠিন বর যাজ্ঞা করিলে; যদি তোমার নিকট হইতে নীত হইবার সময়ে আমাকে দেখিতে পাও, তবে তোমার প্রতি তাহা বর্তিবে, কিনতু না দেখিলে বর্তিবে না। পরে এইরূপ ঘটিল, তাঁহারা যাইতে যাইতে কথা কহিতেছেন ইতিমধ্যে দেখ, অগ্নিময় এক রথ ও অগ্নিময় অশ্বগণ আসিয়া তাহাদিগকে পৃথক করিল এবং এলিয় ঘূর্ণাবায়ুতে স্বর্গে উঠিয়া গেলেন।
ইলীশয়ের কৃত আরও নানাবিধ কার্য
বাইবেলের ২ রাজাবলীতে আছে, একদা শিষ্য ভাববাদিগণ ইলীশয়কে কহিল, দেখুন আমরা আপনার সাক্ষাতে যে স্থানে বাস করিতেছি, ইহা আমাদের পক্ষে সঙ্কীর্ণ। অনুমতি করুন আমরা যৰ্দ্দনে গিয়া প্রত্যেক জন তথা হইতে এক একখানি কড়ি কাষ্ঠ লইয়া আমাদের জন্য সেখানে বাসস্থান প্রস্তুত করি। তিনি কহিলেন, যাও। আর একজন কহিল, আপনি অনুগ্রহ করিয়া আপনার দাসদের সহিত চলুন। তিনি কহিলেন, যাইব। অতএব তিনি তাহাদের সহিত গেলেন, পরে যদ্দনের নিকটে উপস্থিত হইয়া তাঁহারা কাষ্ঠ ছেদন করিতে লাগিল। কিন্তু একজন কড়িকাষ্ঠ ছেদন করিতেছিল, এমন সময়ে কুড়ালির ফলা জলে পড়িয়া গেল। তাহাতে সে কাঁদিয়া কহিল, হায় হায়! প্রভু! আমিত উহা ধার করিয়া আনিয়াছিলাম। তখন সদাপ্রভুর লোক জিজ্ঞাসা করিলেন, তাহা কোথায় পড়িয়াছে? সে তাহাকে সেই স্থান দেখাইল। তখন ইলীশয় একখানি কাষ্ঠ কাটিয়া সেই স্থানে ফেলিয়া লৌহখানি ভাসাইয়া উঠাইলেন আর তিনি কহিলেন, উহা তুলিয়া লও। তাহাতে সে হাত বাড়াইয়া তাহা লইল। বাইবেল পুরাতন ও নূতন নিয়ম, রাজাবলী ১৯: ২০-এ বলা হইয়াছে, ইলয়াস (আ) যখন স্বীয় শাল আল-য়াসা' (আ)-এর গায়ে ফেলিয়া দিয়াছিলেন তখন তিনি বলদ সকল ত্যাগ করিয়া এলিয়ের পশ্চাতে পশ্চাতে দৌড়িয় গিয়া তাহাকে কহিলেন, বিনয় করি, অনুমতি দিউন, আমি আপন মাতা-পিতাকে চুম্বন করিয়া আসি, পরে আপনার পশ্চাদগামী হইব। তিনি তাহাকে কহিলেন, তুমি ফিরিয়া যাও। বল দেখি, আমি তোমার কি করিলাম? পরে তিনি তাঁহার পশ্চাদগমন হইতে ফিরিয়া গেলেন এবং সেই বলদজোড়া লইয়া বলিদান করিলেন এবং তাহাদের যোয়ালিকাষ্ঠের দ্বারা তাহাদের মাংস পাক করিলেন, পরে লোকদিগকে দিলে তাহারা ভোজন করিল। তখন তিনি উঠিয়া এলিয়ের পশ্চাদগামী হইলেন ও তাঁহার পরিচর্যা করিতে লাগিলেন।
টিকাঃ
বুতরুস আল-বুসতানী, দাইরাতুল মাআরিফ, ৪খ, ৩৩৫
বাইবেল, বাংলাদেশ বাইবেল সোসাইটী, ঢাকা ৫৭৪ পৃ.)
পবিত্র বাইবেল, পুরাতন ও নূতন নিয়ম, প্রাগুক্ত, পৃ. ৫৭৫
বুতরুস আল-বুসতানী, প্রাগুক্ত
বাইবেল, পুরাতন ও নূতন নিয়ম, প্রাগুক্ত
বুতরুস আল-বুসতানী, দাইরাতুল মাআরিফ
পবিত্র বাইবেল, পুরাতন ও নূতন নিয়ম, পৃ. ৫৭৭- ৫৭৮
বুতরুস আল-বুসতানী, দাইরাতুল মাআরিফ
বাইবেল, প্রাগুক্ত, পৃ. ৫৭৮ ৫৭৯
বাইবেল, প্রাগুক্ত, পৃ. ৫৮০ - ৫৮১
বাইবেল রাজাবলীর দ্বিতীয় খণ্ড, ২: ১-১১, পৃ. ৫৭৩-৫৭৪
বাইবেল, প্রাগুক্ত, পৃ. ৫৮২-৫৮৩
বাইবেল, পৃ. ৫৬৩