📄 হযরত ইউশা (আ)-এর ইনতিকাল
হযরত ইউশা' (আ) সুদীর্ঘ সামরিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় প্রচারমূলক কাজ করিতে করিতে একসময় অত্যন্ত দুর্বল ও বয়োবৃদ্ধ হইয়া পড়েন। এইভাবে বানু ইসরাঈলকে মোটামুটিভাবে বিজয়ী বেশে রাখিয়া একদা তিনি ইনতিকাল করেন। তিনি কত সালে ইনতিকাল করেন, তাহা নির্দিষ্টভাবে জানা যায় না। তবে ঐতিহাসিকগণের মতে তিনি মূসা (আ)-এর পর ২৭ বৎসর জীবিত ছিলেন (দ্র. ইব্ন কাছীর, প্রাগুক্ত, ১খ, পৃ. ৩০৩; আরও দ্র, ইবনুল আছীর, প্রাগুক্ত, ১খ, পৃ. ১৫৫)। তিনি কত বৎসর জীবিত ছিলেন তাহা লইয়া কিছু মতভেদ আছে। যিহোশূয়ের পুস্তকে লেখা আছে যে, তিনি এক শত দশ বৎসর জীবিত ছিলেন (যিহোশূয়ের পুস্তক, ১৪: ২৯)। ইবনুল আছীরের মতে এক শত ছাব্বিশ বৎসর (ইবনুর আছীর, প্রাগুক্ত) ইন্ন কাছীরের মতে এক শত সাতাইশ বৎসর (ইন্ন কাছীর, প্রাগুক্ত)। যিহোশূয়ের পুস্তকে উল্লেখ আছে, গাশ পর্ব্বতের উত্তরে পর্ব্বতময় ইফ্রায়িম প্রদেশস্থ তিমনাথ সেরাহ শহরে তাঁহাকে দাফন করা হয় (দ্র. যিহোশূয়ের পুস্তক, ২৪:৩০)।
📄 উপসংহার
বলা যায়, হযরত মূসা (আ)-এর একান্ত খাদেম ও সহকারীরূপে হযরত ইউশা' (আ)-এর জীবন শুরু হইয়া পরবর্তীকালে নবুওয়াতী দায়িত্ব পালনার্থে ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামরিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্ম সাধন করিয়া ইতিহাসে তিনি অত্যুজ্জ্বল ভূমিকা রাখিয়াছেন। তিনি তাঁহার দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনের সকল কার্যাবলী একমাত্র আল্লাহ্ দীন প্রচার করিবার জন্য ব্যয় করেন এবং তাওহীদপন্থীদের জন্য পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাসকে শত্রুমুক্ত করিয়াছিলেন। মূসা (আ) ও তাঁহার জীবনের ঘটনাবলীতে কিছু কিছু সাদৃশ্য খুঁজিয় পাওয়া যায়। যেমন নবুওয়াত, সামরিক অভিযান, অলৌকিকভাবে ইসরাঈলীদেরকে নৌপথ পার করা, পবিত্র ভূমি দখলের জন্য অদম্য প্রচেষ্টা ইত্যাদি।
📄 গ্রন্থপঞ্জী
(১) আল-কুরআনুল করীম, বঙ্গানুবাদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ঢাকা; (২) আল-আলুসী, রূহুল মা'আনী, বৈরূত দারা ইয়াহইয়াউত তুরাছিল 'আরবী, তা, বি, (১৫খ, পৃ. ১২-১৪); (৩) আল-'আয়নী, 'উমদাতুল কারী, পাকিস্তান, বেলুচিস্তান, আল-মাকতাবাতুর রাশীদিয়া, ১৪০ হি; (৪) ইমাম মুসলিম, সহীহ মুসলিম, বঙ্গানুবাদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ঢাকা ১৯৯৪ ইং; (৫) আল-কুরতুবী, আল-জামিউ লিআহকামিল কুরআন, কায়রো, দারুল কিতাবিল 'আরাবী, ১৩৮৭/১৯৬৭; (৬) আত-তাবারী, তারীখুল উমামি ওয়াল মুলুক, বৈরূত ১৪০৩ হি/১৯৮৩ খৃ.; (৭) ইব্ন হাজার আসকালানী, ফাতহুল, বারী, (বৈরূত, মা'রিফা); (৮) জামীল আহমদ, আম্বিয়ায়ে কুরআন (লাহোর, আলী এন্ড সন্স); (৯) ইব্ন কাছীর, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, কায়রো ১৪০৮ হি./ ১৯৮৮ খৃ.; (১০) ইবনুল আছীর, আল-কামিল ফিত-তারীখ, (বৈরূত, ১ম সং ১৪০৭ হি./ ১৯৮৭ ইং); (১১) ইবনুল আরাবী, আহকামুল কুরআন (বৈরূত তা, বি); ১২) সায়্যিদ কুতব, ফী যিলালিল কুরআন, বৈরূত ১৪০১ হি/১৯৮১ খৃ.; (১৩) বাইবেল, বাংলাদেশ বাইবেল সোসাইটি, ঢাকা ৯৩/৯৭; (১৪) হিফযুর রহমান, কাছাছুল কুরআন, অনু. মাওলানা নুরুয যামান, ঢাকা ১৯৯৭ খৃ.।