📄 হযরত ইউশা (আ) কর্তৃক অন্যান্য অঞ্চল জয়
উল্লেখ্য, ঐ পাঁচ রাজার পতনের পর তথা ইসরাঈলীগণ বায়তুল মুকাদ্দাস অঞ্চলে প্রবেশের পর সেই দিবসেই মক্কেদা বিজয় করেন এবং সেইখানের অধিবাসীদের হত্যা করেন (প্রাগুক্ত, ১০: ২৮)। এইভাবে লাখীশ বিজয়ের সময় গেষয়ের রাজা লাখীশবাসীদের সহায়তা করিবার জন্য আসিলে ইউশা' (আ) তাহাকেও হত্যা করিলেন (প্রাগুক্ত, ১০: ৩২-৩৩) এবং পার্শ্ববর্তী অন্যান্য রাজত্ব জয় করেন।
যিহোশূয়ের পুস্তকে আরো আসিয়াছে যে, তিনি উত্তরাঞ্চলীয় কনানীয় রাজাদেরকেও পরাস্ত করিয়া সেই সমস্ত অঞ্চল জয় করিয়াছিলেন (প্রাগুক্ত, ১১: ১-২৩)। ইব্ন কাছীর উল্লেখ করিয়াছেন, হযরত ইউশা' ইব্ন নূন (আ) যুদ্ধ করিতে করিতে শাম অঞ্চলের ৩১জন রাজকে পরাভূত করিয়াছিলেন (ইব্ন কাছীর, প্রাগুক্ত, ১খ, পৃ. ৩০১)।
হযরত ইয়ূশা (আ) এইভাবে সকল অঞ্চলে আল্লাহর দীনকে প্রতিষ্ঠিত করিয়াছিলেন। কিন্তু বানু ইসরাঈল জাতি আল্লাহ্ সেই নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে নাই। তাহাদেরকে বলা হইয়াছিল, তোমরা বিজয়ী হওয়ায় সিজদা অবনত মস্তকে বায়তুল মুকাদ্দাসে প্রবেশ কর। কিন্তু তাহারা উহার উল্টা করিল তথা দম্ভ প্রকাশে সেইখানে প্রবেশ করিল, যাহা আল-কুরআনেও উক্ত হইয়াছে:
وَإِذْ قُلْنَا ادْخُلُوا هذه القَرْيَةَ فَكُلُوا مِنْهَا حَيْثُ شِئْتُمْ رَغَدًا وَادْخُلُوا الْبَابَ سُجْدًا وَقُولُوا حِطَّةٌ نَغْفِرْ لَكُمْ خَطِيكُمْ وَسَنَزِيدُ الْمُحْسِنِينَ. فَبَدِّلَ الَّذِينَ ظَلَمُوا قَوْلاً غَيْرَ الَّذِي قِيلَ لَهُمْ فَأَنْزَلْنَا عَلَى الَّذِينَ ظَلَمُوا رِجْرًا منَ السَّمَاء بِمَا كَانُوا يَفْسُقُونَ.
স্মরণ কর, যখন আমি বলিলাম, "এই জনপদে প্রবেশ কর, যথা ও যেথা ইচ্ছা স্বচ্ছন্দে আহার কর, নতশিরে প্রবেশ কর দ্বার দিয়া এবং বল, ক্ষমা চাই। আমি তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করিব এবং সৎকর্মপরায়ণ লোকদের প্রতি আমার দান বৃদ্ধি করিব। কিন্তু যাহারা অন্যায় করিয়াছিল তাহার। তাহাদিগকে যাহা বলা হইয়াছিল তাহার পরিবর্তে অন্য কথা বলিল। সুতরাং অনাচারীদের প্রতি আমি আকাশ হইতে শান্তি প্রেরণ করিলাম; কারণ তাহারা সত্য ত্যাগ করিয়াছিল" (২:৫৮-৫৯)।
সহীহ বুখারীর রিওয়ায়াতে উল্লেখ আছে, তাহাদেরকে বলা হইয়াছিল حطة অর্থাৎ حط غيا خظننا অর্থাৎ “আমাদের গুনাহগুলি মিটাইয়া দিন, কিন্তু তাহারা তাহা পরিবর্তন করিয়া বলিতেছিল حبة في شعرة )শীষের মধ্যে শস্যবীজ দিন) অর্থাৎ তাহারা অনেকটা তামাশাচ্ছলে তাহা বলিতে শুরু করিয়াছিল (ইব্ن কাছীর, প্রাগুক্ত, ১খ, পৃ. ৩০২; আরও দ্র. কাসাসুল কুরআন, অনু. মাওলানা নূরুর রহমান, এমদাদিয়া লাইব্রেরী, ঢাকা, ১৯৯৭ খৃ., পৃ. ২৩২)। সেই কারণে আসমানী গযব তাহাদের উপর অবতীর্ণ হইয়াছিল। এই গযব কাহারো মতে প্লেগ রোগ, কাহারো মতে শিলাবৃষ্টি (প্রাগুক্ত, পৃ. ৩০৩); রূহুল-মা'আনী, ১খ, ২৬৭)।
📄 প্রশাসনিক শৃংখলা বিধান
হযরত ইউশা' (আ) সেই সমস্ত এলাকা বিজয় করিয়াই ক্ষান্ত হন নাই, বরং সেই সমস্ত এলাকায় প্রশাসনিক শৃংখলাও প্রতিষ্ঠা করিয়াছিলেন। তাঁহার প্রশাসনিক উদ্যোগের কয়েকটি এখানে উল্লেখ করা হইল।
📄 অঞ্চল বিভাজন
তিনি ওহীর মাধ্যমে আদেশ প্রাপ্ত হইয়া বানু ইসরাঈলের মাঝে বিজিত ও তৎপার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহ বিভাজন করিয়াছিলেন (বিস্তারিত বিবরণের জন্য পবিত্র বাইবেল, দ্বিতীয় বিবরণ, ৩: ১২, ১৬-১৭; যিহোশূয়ের পুস্তক, ১৩: ১৫-২৩)।
📄 কর্মকর্তা ও বিচারক নিয়োগ
দ্বিতীয়ত, হযরত ইউশা' (আ) প্রশাসনিক শৃংখলা বিধানে বানু ইসরাঈলের মধ্যে প্রতি এক হাজার, প্রতি এক শত, প্রতি দশজন এইভাবে বিভক্ত করিয়া প্রতি ইউনিটের জন্য একজন নেতা নির্ধারণ করিয়া দেন। আর শরঈ আইনে বিচার কাজের সুবিধার্থে বিচারক নিয়োগ করেন (বাইবেলের যিহোশূয়, ১৩: ১৫-২৩)।