📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হযরত মূসা (আ)-এর জীবদ্দশায় ও হযরত হারূন (আ)-এর দায়িত্ব পালন

📄 হযরত মূসা (আ)-এর জীবদ্দশায় ও হযরত হারূন (আ)-এর দায়িত্ব পালন


হযরত হারুন (আ)-কে নবুওয়াত দান করিয়া আল্লাহ তা'আলা হযরত মূসা (আ)-কে নির্দেশ দিলেন যে, তিনি যেন হযরত হারুনকে সঙ্গে নিয়া ফিরআওনকে তাওহীদের দাওয়াত দিতে মিসর যাওয়ার নির্দেশ দান করেন। আল্লাহ্র এই নির্দেশের প্রেক্ষিতে হযরত মূসা (আ) আল্লাহ্র নিকট আরয করিলেন:
قَالَ رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِّنْ لِسَانِي يَفْقَهُوا قَوْلِي وَاجْعَلْ لِي وَزِيرًا مِّنْ أَهْلِي هُرُونَ أَخِي اشْدُدْ بِهِ أَزْرِي وَأَشْرِكْهُ فِي أَمْرِي كَيْ نُسَبِّحَكَ كَثِيرًا وَنَذْكُرَكَ كَثِيرًا إِنَّكَ كُنْتَ بِنَا بَصِيرًا .
"মূসা বলিল, হে আমার প্রতিপালক! আমার বক্ষ প্রশস্ত করিয়া দাও এবং আমার কর্ম সহজ করিয়া দাও। আমার জিহ্বার জড়তা দূর করিয়া দাও, যাহাতে উহারা আমার কথা বুঝিতে পারে। আমার জন্য করিয়া দাও একজন সাহায্যকারী আমার স্বজনবর্গের মধ্য হইতে; আমার ভ্রাতা হারুনকে; তাহার দ্বারা আমার শক্তি সুদৃঢ় কর ও তাহাকে আমার কর্মে অংশী কর। যাহাতে আমরা তোমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করিতে পারি প্রচুর এবং তোমাকে স্মরণ করিতে পারি অধিক। তুমি তো আমাদিগের সম্যক দ্রষ্টা" (২০-২৫ : ৩৫)।
এই ক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে, জিহ্বার জড়তার কারণে এবং ইতোপূর্বে এক কিত্তীকে হত্যা করিয়া হযরত মূসা (আ) ফিরআওনের নিকট যাওয়ার ব্যাপারে সাচ্ছন্দ্যবোধ করিতেছিলেন না। পবিত্র কুরআনে হযরত মূসা (আ)-র কথা নিম্নোক্তভাবে বর্ণিত হইয়াছে:
وَيَضِيقُ صَدْرِي وَلَا يَنْطَلِقُ لِسَانِي فَأَرْسِلْ إِلَى هُرُونَ .
“এবং আমার হৃদয় সংকুচিত হইয়া পড়িতেছে, আর আমার জিহ্বা তো সাবলীল নাই। সুতরাং হারূনের প্রতিও প্রত্যাদেশ পাঠাও” (২৬ : ১৩)।
হযরত হারুন (আ) হযরত মূসা (আ)-এর তুলনায় অধিক বাকপটু, বাগ্মী, শুদ্ধভাষী ও বক্তব্য উপস্থাপনে পারদর্শী ছিলেন। তাই হযরত মূসা (আ) হযরত হারূনের মত যোগ্যতার অধিকারী এই ভাইকে তাঁহার পক্ষে কথা বলার জন্য তাঁহাকে সহায়তা করার জন্য চাহিয়াছিলেন। পবিত্র কুরআনে বলা হইয়াছে:
وَأَخِي هَرُونَ هُوَ أَفْصَحُ مِنِّى لِسَانًا فَأَرْسِلْهُ مَعِى رِدًا يُصَدِّقُنِي إِنِّي أَخَافُ أَنْ يُكَذِّبُونِ .
“আমার ভ্রাতা হারুন আমা অপেক্ষা বাগ্মী; অতএব তাহাকে আমার সাহায্যকারীরূপে প্রেরণ কর, সে আমাকে সমর্থন করিবে। আমি আশংকা করি উহারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলিবে” (২৮:৩৪)।
উপরিউক্ত আয়াতে হযরত মূসা (আ) হযরত হারুন (আ) তাঁহার চাইতে শুদ্ধভাষী ও বাগ্মী ছিলেন বলিয়া যে বক্তব্য উপস্থাপন করিয়াছেন সেই সম্পর্কে তাফসীরকার ও ঐতিহাসিকগণ বিভিন্ন মত দিয়াছেন। হযরত হারুন (আ) মিসরী ও হিব্রু উভয় ভাষায়ই খুব পারদর্শী ও অভিজ্ঞ ছিলেন। মিসরী ভাষা তাঁহার দেশীয় ভাষা আর হিব্রু তাঁহার মাতৃভাষা ছিল (হিফযুর রহমান; কাসাসুল কুরআন, বাংলা অনু., ২খ, পৃ. ৬১)।
মোটকথা, হযরত মূসা (আ)-এর আবেদন ও প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে, সর্বোপরি আল্লাহর একান্ত রহমত ও অনুগ্রহে হযরত হারুন (আ) নবুওয়াত লাভ করেন। আল্লাহ্ বলেন:
وَوَهَبْنَالَهُ مِنْ رَّحْمَتِنَا أَخَاهُ هُرُونَ نَبِيًّا ...
“আমি নিজ অনুগ্রহে তাহাকে (মূসাকে) দিলাম তাহার ভ্রাতা হারুনকে নবীরূপে” (১৯:৫৩)। হারুন (আ)-কে নবী করার ব্যাপারে মূসা (আ)-এর দোআ কবুল করা প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
قَالَ قَدْ أُوتِيْتَ سُؤْلُكَ يَمُوسى .
“তিনি বলিলেন, হে মূসা! তুমি যাহা চাহিয়াছ, তাহা, তোমাকে দেওয়া হইল” (২০:৩৬)।
হযরত মূসা (আ)-এর জীবদ্দশায় হযরত হারুন (আ)-এর দায়িত্ব পালন
হযরত হারুন (আ)-কে নবুওয়াত দান করিয়া আল্লাহ তা'আলা হযরত মূসা (আ)-কে নির্দেশ দিলেন যে, তিনি যেন হযরত হারুনকে সঙ্গে নিয়া ফিরআওনকে তাওহীদের দাওয়াত দিতে মিসর যাওয়ার নির্দেশ দান করেন। আল্লাহ্র এই নির্দেশের প্রেক্ষিতে হযরত মূসা (আ) আল্লাহ্র নিকট আরয করিলেন:
قَالَ رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِّنْ لِسَانِي يَفْقَهُوا قَوْلِي وَاجْعَلْ لِي وَزِيرًا مِّنْ أَهْلِي هُرُونَ أَخِي اشْدُدْ بِهِ أَزْرِي وَأَشْرِكْهُ فِي أَمْرِي كَيْ نُسَبِّحَكَ كَثِيرًا وَنَذْكُرَكَ كَثِيرًا إِنَّكَ كُنْتَ بِنَا بَصِيرًا .
"মূসা বলিল, হে আমার প্রতিপালক! আমার বক্ষ প্রশস্ত করিয়া দাও এবং আমার কর্ম সহজ করিয়া দাও। আমার জিহ্বার জড়তা দূর করিয়া দাও, যাহাতে উহারা আমার কথা বুঝিতে পারে। আমার জন্য করিয়া দাও একজন সাহায্যকারী আমার স্বজনবর্গের মধ্য হইতে; আমার ভ্রাতা হারুনকে; তাহার দ্বারা আমার শক্তি সুদৃঢ় কর ও তাহাকে আমার কর্মে অংশী কর। যাহাতে আমরা তোমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করিতে পারি প্রচুর এবং তোমাকে স্মরণ করিতে পারি অধিক। তুমি তো আমাদিগের সম্যক দ্রষ্টা" (২০-২৫ : ৩৫)।
এই ক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে, জিহ্বার জড়তার কারণে এবং ইতোপূর্বে এক কিত্তীকে হত্যা করিয়া হযরত মূসা (আ) ফিরআওনের নিকট যাওয়ার ব্যাপারে সাচ্ছন্দ্যবোধ করিতেছিলেন না। পবিত্র কুরআনে হযরত মূসা (আ)-র কথা নিম্নোক্তভাবে বর্ণিত হইয়াছে:
وَيَضِيقُ صَدْرِي وَلَا يَنْطَلِقُ لِسَانِي فَأَرْسِلْ إِلَى هُرُونَ .
“এবং আমার হৃদয় সংকুচিত হইয়া পড়িতেছে, আর আমার জিহ্বা তো সাবলীল নাই। সুতরাং হারূনের প্রতিও প্রত্যাদেশ পাঠাও” (২৬ : ১৩)।
হযরত হারুন (আ) হযরত মূসা (আ)-এর তুলনায় অধিক বাকপটু, বাগ্মী, শুদ্ধভাষী ও বক্তব্য উপস্থাপনে পারদর্শী ছিলেন। তাই হযরত মূসা (আ) হযরত হারূনের মত যোগ্যতার অধিকারী এই ভাইকে তাঁহার পক্ষে কথা বলার জন্য তাঁহাকে সহায়তা করার জন্য চাহিয়াছিলেন। পবিত্র কুরআনে বলা হইয়াছে:
وَأَخِي هَرُونَ هُوَ أَفْصَحُ مِنِّى لِسَانًا فَأَرْسِلْهُ مَعِى رِدًا يُصَدِّقُنِي إِنِّي أَخَافُ أَنْ يُكَذِّبُونِ .
“আমার ভ্রাতা হারুন আমা অপেক্ষা বাগ্মী; অতএব তাহাকে আমার সাহায্যকারীরূপে প্রেরণ কর, সে আমাকে সমর্থন করিবে। আমি আশংকা করি উহারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলিবে” (২৮:৩৪)।
উপরিউক্ত আয়াতে হযরত মূসা (আ) হযরত হারুন (আ) তাঁহার চাইতে শুদ্ধভাষী ও বাগ্মী ছিলেন বলিয়া যে বক্তব্য উপস্থাপন করিয়াছেন সেই সম্পর্কে তাফসীরকার ও ঐতিহাসিকগণ বিভিন্ন মত দিয়াছেন। হযরত হারুন (আ) মিসরী ও হিব্রু উভয় ভাষায়ই খুব পারদর্শী ও অভিজ্ঞ ছিলেন। মিসরী ভাষা তাঁহার দেশীয় ভাষা আর হিব্রু তাঁহার মাতৃভাষা ছিল (হিফযur রহমান; কাসাসুল কুরআন, বাংলা অনু., ২খ, পৃ. ৬১)।
মোটকথা, হযরত মূসা (আ)-এর আবেদন ও প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে, সর্বোপরি আল্লাহর একান্ত রহমত ও অনুগ্রহে হযরত হারুন (আ) নবুওয়াত লাভ করেন। আল্লাহ্ বলেন:
وَوَهَبْنَالَهُ مِنْ رَّحْمَتِنَا أَخَاهُ هُرُونَ نَبِيًّا ...
“আমি নিজ অনুগ্রহে তাহাকে (মূসাকে) দিলাম তাহার ভ্রাতা হারুনকে নবীরূপে” (১৯:৫৩)। হারুন (আ)-কে নবী করার ব্যাপারে মূসা (আ)-এর দোআ কবুল করা প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
قَالَ قَدْ أُوتِيْتَ سُؤْلُكَ يَمُوسى .
“তিনি বলিলেন, হে মূসা! তুমি যাহা চাহিয়াছ, তাহা, তোমাকে দেওয়া হইল” (২০:৩৬)।
হযরত মূসা (আ)-এর জীবদ্দশায় হযরত হারুন (আ)-এর দায়িত্ব পালন
হযরত হারুন (আ)-কে নবুওয়াত দান করিয়া আল্লাহ তা'আলা হযরত মূসা (আ)-কে নির্দেশ দিলেন যে, তিনি যেন হযরত হারুনকে সঙ্গে নিয়া ফিরআওনকে তাওহীদের দাওয়াত দিতে মিসর যাওয়ার নির্দেশ দান করেন। আল্লাহ্র এই নির্দেশের প্রেক্ষিতে হযরত মূসা (আ) আল্লাহ্র নিকট আরয করিলেন:
قَالَ رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِّنْ لِسَانِي يَفْقَهُوا قَوْلِي وَاجْعَلْ لِي وَزِيرًا مِّنْ أَهْلِي هُرُونَ أَخِي اشْدُدْ بِهِ أَزْرِي وَأَشْرِكْهُ فِي أَمْرِي كَيْ نُسَبِّحَكَ كَثِيرًا وَنَذْكُرَكَ كَثِيرًا إِنَّكَ كُنْتَ بِنَا بَصِيرًا .
"মূসা বলিল, হে আমার প্রতিপালক! আমার বক্ষ প্রশস্ত করিয়া দাও এবং আমার কর্ম সহজ করিয়া দাও। আমার জিহ্বার জড়তা দূর করিয়া দাও, যাহাতে উহারা আমার কথা বুঝিতে পারে। আমার জন্য করিয়া দাও একজন সাহায্যকারী আমার স্বজনবর্গের মধ্য হইতে; আমার ভ্রাতা হারুনকে; তাহার দ্বারা আমার শক্তি সুদৃঢ় কর ও তাহাকে আমার কর্মে অংশী কর। যাহাতে আমরা তোমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করিতে পারি প্রচুর এবং তোমাকে স্মরণ করিতে পারি অধিক। তুমি তো আমাদিগের সম্যক দ্রষ্টা" (২০-২৫ : ৩৫)।
এই ক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে, জিহ্বার জড়তার কারণে এবং ইতোপূর্বে এক কিত্তীকে হত্যা করিয়া হযরত মূসা (আ) ফিরআওনের নিকট যাওয়ার ব্যাপারে সাচ্ছন্দ্যবোধ করিতেছিলেন না। পবিত্র কুরআনে হযরত মূসা (আ)-র কথা নিম্নোক্তভাবে বর্ণিত হইয়াছে:
وَيَضِيقُ صَدْرِي وَلَا يَنْطَلِقُ لِسَانِي فَأَرْسِلْ إِلَى هُرُونَ .
“এবং আমার হৃদয় সংকুচিত হইয়া পড়িতেছে, আর আমার জিহ্বা তো সাবলীল নাই। সুতরাং হারূনের প্রতিও প্রত্যাদেশ পাঠাও” (২৬ : ১৩)।
হযরত হারুন (আ) হযরত মূসা (আ)-এর তুলনায় অধিক বাকপটু, বাগ্মী, শুদ্ধভাষী ও বক্তব্য উপস্থাপনে পারদর্শী ছিলেন। তাই হযরত মূসা (আ) হযরত হারূনের মত যোগ্যতার অধিকারী এই ভাইকে তাঁহার পক্ষে কথা বলার জন্য তাঁহাকে সহায়তা করার জন্য চাহিয়াছিলেন। পবিত্র কুরআনে বলা হইয়াছে:
وَأَخِي هَرُونَ هُوَ أَفْصَحُ مِنِّى لِسَانًا فَأَرْسِلْهُ مَعِى رِدًا يُصَدِّقُنِي إِنِّي أَخَافُ أَنْ يُكَذِّبُونِ .
“আমার ভ্রাতা হারুন আমা অপেক্ষা বাগ্মী; অতএব তাহাকে আমার সাহায্যকারীরূপে প্রেরণ কর, সে আমাকে সমর্থন করিবে। আমি আশংকা করি উহারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলিবে” (২৮:৩৪)।
উপরিউক্ত আয়াতে হযরত মূসা (আ) হযরত হারুন (আ) তাঁহার চাইতে শুদ্ধভাষী ও বাগ্মী ছিলেন বলিয়া যে বক্তব্য উপস্থাপন করিয়াছেন সেই সম্পর্কে তাফসীরকার ও ঐতিহাসিকগণ বিভিন্ন মত দিয়াছেন। হযরত হারুন (আ) মিসরী ও হিব্রু উভয় ভাষায়ই খুব পারদর্শী ও অভিজ্ঞ ছিলেন। মিসরী ভাষা তাঁহার দেশীয় ভাষা আর হিব্রু তাঁহার মাতৃভাষা ছিল (হিফযur রহমান; কাসাসুল কুরআন, বাংলা অনু., ২খ, পৃ. ৬১)।
মোটকথা, হযরত মূসা (আ)-এর আবেদন ও প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে, সর্বোপরি আল্লাহর একান্ত রহমত ও অনুগ্রহে হযরত হারুন (আ) নবুওয়াত লাভ করেন। আল্লাহ্ বলেন:
وَوَهَبْنَالَهُ مِنْ رَّحْمَتِنَا أَخَاهُ هُرُونَ نَبِيًّا ...
“আমি নিজ অনুগ্রহে তাহাকে (মূসাকে) দিলাম তাহার ভ্রাতা হারুনকে নবীরূপে” (১৯:৫৩)। হারুন (আ)-কে নবী করার ব্যাপারে মূসা (আ)-এর দোআ কবুল করা প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
قَالَ قَدْ أُوتِيْتَ سُؤْلُكَ يَمُوسى .
“তিনি বলিলেন, হে মূসা! তুমি যাহা চাহিয়াছ, তাহা, তোমাকে দেওয়া হইল” (২০:৩৬)।
হযরত মূসা (আ)-এর জীবদ্দশায় হযরত হারুন (আ)-এর দায়িত্ব পালন
হযরত হারুন (আ)-কে নবুওয়াত দান করিয়া আল্লাহ তা'আলা হযরত মূসা (আ)-কে নির্দেশ দিলেন যে, তিনি যেন হযরত হারুনকে সঙ্গে নিয়া ফিরআওনকে তাওহীদের দাওয়াত দিতে মিসর যাওয়ার নির্দেশ দান করেন। আল্লাহ্র এই নির্দেশের প্রেক্ষিতে হযরত মূসা (আ) আল্লাহ্র নিকট আরয করিলেন:
قَالَ رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِّنْ لِسَانِي يَفْقَهُوا قَوْلِي وَاجْعَلْ لِي وَزِيرًا مِّنْ أَهْلِي هُرُونَ أَخِي اشْدُدْ بِهِ أَزْرِي وَأَشْرِكْهُ فِي أَمْرِي كَيْ نُسَبِّحَكَ كَثِيرًا وَنَذْكُرَكَ كَثِيرًا إِنَّكَ كُنْتَ بِنَا بَصِيرًا .
"মূসা বলিল, হে আমার প্রতিপালক! আমার বক্ষ প্রশস্ত করিয়া দাও এবং আমার কর্ম সহজ করিয়া দাও। আমার জিহ্বার জড়তা দূর করিয়া দাও, যাহাতে উহারা আমার কথা বুঝিতে পারে। আমার জন্য করিয়া দাও একজন সাহায্যকারী আমার স্বজনবর্গের মধ্য হইতে; আমার ভ্রাতা হারুনকে; তাহার দ্বারা আমার শক্তি সুদৃঢ় কর ও তাহাকে আমার কর্মে অংশী কর। যাহাতে আমরা তোমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করিতে পারি প্রচুর এবং তোমাকে স্মরণ করিতে পারি অধিক। তুমি তো আমাদিগের সম্যক দ্রষ্টা" (২০-২৫ : ৩৫)।
এই ক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে, জিহ্বার জড়তার কারণে এবং ইতোপূর্বে এক কিত্তীকে হত্যা করিয়া হযরত মূসা (আ) ফিরআওনের নিকট যাওয়ার ব্যাপারে সাচ্ছন্দ্যবোধ করিতেছিলেন না। পবিত্র কুরআনে হযরত মূসা (আ)-র কথা নিম্নোক্তভাবে বর্ণিত হইয়াছে:
وَيَضِيقُ صَدْرِي وَلَا يَنْطَلِقُ لِسَانِي فَأَرْسِلْ إِلَى هُرُونَ .
“এবং আমার হৃদয় সংকুচিত হইয়া পড়িতেছে, আর আমার জিহ্বা তো সাবলীল নাই। সুতরাং হারূনের প্রতিও প্রত্যাদেশ পাঠাও” (২৬ : ১৩)।
হযরত হারুন (আ) হযরত মূসা (আ)-এর তুলনায় অধিক বাকপটু, বাগ্মী, শুদ্ধভাষী ও বক্তব্য উপস্থাপনে পারদর্শী ছিলেন। তাই হযরত মূসা (আ) হযরত হারূনের মত যোগ্যতার অধিকারী এই ভাইকে তাঁহার পক্ষে কথা বলার জন্য তাঁহাকে সহায়তা করার জন্য চাহিয়াছিলেন। পবিত্র কুরআনে বলা হইয়াছে:
وَأَخِي هَرُونَ هُوَ أَفْصَحُ مِنِّى لِسَانًا فَأَرْسِلْهُ مَعِى رِدًا يُصَدِّقُنِي إِنِّي أَخَافُ أَنْ يُكَذِّبُونِ .
“আমার ভ্রাতা হারুন আমা অপেক্ষা বাগ্মী; অতএব তাহাকে আমার সাহায্যকারীরূপে প্রেরণ কর, সে আমাকে সমর্থন করিবে। আমি আশংকা করি উহারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলিবে” (২৮:৩৪)।
উপরিউক্ত আয়াতে হযরত মূসা (আ) হযরত হারুন (আ) তাঁহার চাইতে শুদ্ধভাষী ও বাগ্মী ছিলেন বলিয়া যে বক্তব্য উপস্থাপন করিয়াছেন সেই সম্পর্কে তাফসীরকার ও ঐতিহাসিকগণ বিভিন্ন মত দিয়াছেন। হযরত হারুন (আ) মিসরী ও হিব্রু উভয় ভাষায়ই খুব পারদর্শী ও অভিজ্ঞ ছিলেন। মিসরী ভাষা তাঁহার দেশীয় ভাষা আর হিব্রু তাঁহার মাতৃভাষা ছিল (হিফযur রহমান; কাসাসুল কুরআন, বাংলা অনু., ২খ, পৃ. ৬১)।
মোটকথা, হযরত মূসা (আ)-এর আবেদন ও প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে, সর্বোপরি আল্লাহর একান্ত রহমত ও অনুগ্রহে হযরত হারুন (আ) নবুওয়াত লাভ করেন। আল্লাহ্ বলেন:
وَوَهَبْنَالَهُ مِنْ رَّحْمَتِنَا أَخَاهُ هُرُونَ نَبِيًّا ...
“আমি নিজ অনুগ্রহে তাহাকে (মূসাকে) দিলাম তাহার ভ্রাতা হারুনকে নবীরূপে” (১৯:৫৩)। হারুন (আ)-কে নবী করার ব্যাপারে মূসা (আ)-এর দোআ কবুল করা প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
قَالَ قَدْ أُوتِيْتَ سُؤْلُكَ يَمُوسى .
“তিনি বলিলেন, হে মূসা! তুমি যাহা চাহিয়াছ, তাহা, তোমাকে দেওয়া হইল” (২০:৩৬)।
হযরত মূসা (আ)-এর জীবদ্দশায় হযরত হারুন (আ)-এর দায়িত্ব পালন
হযরত হারুন (আ)-কে নবুওয়াত দান করিয়া আল্লাহ তা'আলা হযরত মূসা (আ)-কে নির্দেশ দিলেন যে, তিনি যেন হযরত হারুনকে সঙ্গে নিয়া ফিরআওনকে তাওহীদের দাওয়াত দিতে মিসর যাওয়ার নির্দেশ দান করেন। আল্লাহ্র এই নির্দেশের প্রেক্ষিতে হযরত মূসা (আ) আল্লাহ্র নিকট আরয করিলেন:
قَالَ رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِّنْ لِسَانِي يَفْقَهُوا قَوْلِي وَاجْعَلْ لِي وَزِيرًا مِّنْ أَهْلِي هُرُونَ أَخِي اشْدُدْ بِهِ أَزْرِي وَأَشْرِكْهُ فِي أَمْرِي كَيْ نُسَبِّحَكَ كَثِيرًا وَنَذْكُرَكَ كَثِيرًا إِنَّكَ كُنْتَ بِنَا بَصِيرًا .
"মূসা বলিল, হে আমার প্রতিপালক! আমার বক্ষ প্রশস্ত করিয়া দাও এবং আমার কর্ম সহজ করিয়া দাও। আমার জিহ্বার জড়তা দূর করিয়া দাও, যাহাতে উহারা আমার কথা বুঝিতে পারে। আমার জন্য করিয়া দাও একজন সাহায্যকারী আমার স্বজনবর্গের মধ্য হইতে; আমার ভ্রাতা হারুনকে; তাহার দ্বারা আমার শক্তি সুদৃঢ় কর ও তাহাকে আমার কর্মে অংশী কর। যাহাতে আমরা তোমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করিতে পারি প্রচুর এবং তোমাকে স্মরণ করিতে পারি অধিক। তুমি তো আমাদিগের সম্যক দ্রষ্টা" (২০-২৫ : ৩৫)।
এই ক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে, জিহ্বার জড়তার কারণে এবং ইতোপূর্বে এক কিত্তীকে হত্যা করিয়া হযরত মূসা (আ) ফিরআওনের নিকট যাওয়ার ব্যাপারে সাচ্ছন্দ্যবোধ করিতেছিলেন না। পবিত্র কুরআনে হযরত মূসা (আ)-র কথা নিম্নোক্তভাবে বর্ণিত হইয়াছে:
وَيَضِيقُ صَدْرِي وَلَا يَنْطَلِقُ لِسَانِي فَأَرْسِلْ إِلَى هُرُونَ .
“এবং আমার হৃদয় সংকুচিত হইয়া পড়িতেছে, আর আমার জিহ্বা তো সাবলীল নাই। সুতরাং হারূনের প্রতিও প্রত্যাদেশ পাঠাও” (২৬ : ১৩)।
হযরত হারুন (আ) হযরত মূসা (আ)-এর তুলনায় অধিক বাকপটু, বাগ্মী, শুদ্ধভাষী ও বক্তব্য উপস্থাপনে পারদর্শী ছিলেন। তাই হযরত মূসা (আ) হযরত হারূনের মত যোগ্যতার অধিকারী এই ভাইকে তাঁহার পক্ষে কথা বলার জন্য তাঁহাকে সহায়তা করার জন্য চাহিয়াছিলেন। পবিত্র কুরআনে বলা হইয়াছে:
وَأَخِي هَرُونَ هُوَ أَفْصَحُ مِنِّى لِسَانًا فَأَرْسِلْهُ مَعِى رِدًا يُصَدِّقُنِي إِنِّي أَخَافُ أَنْ يُكَذِّبُونِ .
“আমার ভ্রাতা হারুন আমা অপেক্ষা বাগ্মী; অতএব তাহাকে আমার সাহায্যকারীরূপে প্রেরণ কর, সে আমাকে সমর্থন করিবে। আমি আশংকা করি উহারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলিবে” (২৮:৩৪)।
উপরিউক্ত আয়াতে হযরত মূসা (আ) হযরত হারুন (আ) তাঁহার চাইতে শুদ্ধভাষী ও বাগ্মী ছিলেন বলিয়া যে বক্তব্য উপস্থাপন করিয়াছেন সেই সম্পর্কে তাফসীরকার ও ঐতিহাসিকগণ বিভিন্ন মত দিয়াছেন। হযরত হারুন (আ) মিসরী ও হিব্রু উভয় ভাষায়ই খুব পারদর্শী ও অভিজ্ঞ ছিলেন। মিসরী ভাষা তাঁহার দেশীয় ভাষা আর হিব্রু তাঁহার মাতৃভাষা ছিল (হিফযur রহমান; কাসাসুল কুরআন, বাংলা অনু., ২খ, পৃ. ৬১)।
মোটকথা, হযরত মূসা (আ)-এর আবেদন ও প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে, সর্বোপরি আল্লাহর একান্ত রহমত ও অনুগ্রহে হযরত হারুন (আ) নবুওয়াত লাভ করেন। আল্লাহ্ বলেন:
وَوَهَبْنَالَهُ مِنْ رَّحْمَتِنَا أَخَاهُ هُرُونَ نَبِيًّا ...
“আমি নিজ অনুগ্রহে তাহাকে (মূসাকে) দিলাম তাহার ভ্রাতা হারুনকে নবীরূপে” (১৯:৫৩)। হারুন (আ)-কে নবী করার ব্যাপারে মূসা (আ)-এর দোআ কবুল করা প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
قَالَ قَدْ أُوتِيْتَ سُؤْلُكَ يَمُوسى .
“তিনি বলিলেন, হে মূসা! তুমি যাহা চাহিয়াছ, তাহা, তোমাকে দেওয়া হইল” (২০:৩৬)।
আল্লাহ্র উপরিউক্ত নির্দেশমতে হযরত হারূন (আ) হযরত মূসা (আ)-এর সঙ্গে মিলিত হইলেন। দুই ভ্রাতা মিলিত হওয়ার ঘটনা কাসাসুল কুরআনে নিম্নোক্তরূপে বর্ণনা করা হইয়াছে :
আল্লাহ পাকের আদেশ পালনের জন্য মূসা মিসর অভিমুখে রওয়ানা হইলেন। যখন তিনি মিসরে পৌঁছিলেন, তখন রাত্রি হইয়া গিয়াছিল। চুপি চুপি মিসরে প্রবেশপূর্বক নিজের বাড়িতে গিয়া পৌঁছিলেন। তখন তাঁহার মা ও বড় ভাই হারূন (আ) রাতের আহার গ্রহণ করিতেছিলেন। তিনিও তাঁহাদের সহিত আহার করিলেন। অতঃপর হারুন (আ) কে বলিলেন, "আল্লাহ আমাকে ও তোমাকে ফিরাআওনের নিকট গিয়া আল্লাহর দাসত্ব ও আনুগত্য স্বীকার করার দাওয়াত দিতে আদেশ দিয়াছেন। তুমি আমার সঙ্গে চল। তখন উভয়ই ফিরআওনের প্রাসাদের দিকে রওয়ানা হইলেন। সেখানে পৌঁছিয়া দেখিলেন, প্রাসাদের কপাট বন্ধ। মূসা (আ) দ্বাররক্ষী ও সচিবদের (হাজিব) বলিলেন, 'তোমরা ফিরআওনকে গিয়া, বুল যে, আল্লাহর রাসূল দরজায় অপেক্ষা করিতেছেন। তাহারা তখন তাঁহার সঙ্গে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করিতে লাগিল। ফিরআওনের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য মূসা (আ)-কে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করিতে হইয়াছিল। মতান্তরে তিনি স্বীয় লাঠি দ্বারা দরজায় আঘাত করিলে ফিরআওন দুই ভাইকে ডকিয়া পাঠায়। "আর সদাপ্রভু হারোণকে বলিলেন, তুমি মোশির সহিত সাক্ষাত করিতে প্রান্তরে যাও। তাহাতে তিনি গিয়া ঈশ্বরের পর্বতে তাঁহার দেখা পাইলেন ও তাঁহাকে চুম্বন করিলেন। তখন মোশি প্রেরণকর্তা সদাপ্রভুর সমস্ত বাক্য ও তাহাদের আজ্ঞাপিত সমস্ত চিহ্নের বিষয় হারোণকে জ্ঞাত করিলেন। পরে মোশি ও হারোণ গিয়া ইস্রায়েল সন্তানদের সমস্ত প্রাচীনকে একত্র করিলেন। আর হারোণু মোশির প্রতি সদাপ্রভুর কথিত সমস্ত বাক্য তাহাদিগকে জ্ঞাত করিলেন এবং তিনি লোকদের দৃষ্টিতে সেই সকল চিহ্ন-কার্য করিলেন। তাহাতে লোকেরা বিশ্বাস করিল; এবং সদাপ্রভু ইসরাঈল সন্তানদিগের তত্ত্বাবধান করিয়াছেন ও তাহাদের দুঃখ দেখিয়াছেন, ইহা শুনিয়া তাহারা মস্তক নমন পূর্বক প্রণিপাত করিল" (পবিত্র বাইবেল, যাত্রাপুস্তক ৪৪৪ ২৭-৩১)।
হযরত হারুন (আ) ও হযরত মূসা (আ) উভয়ের সাক্ষাতের পর তাঁহারা পরস্পরের মধ্যে কথাবার্তা সমাপ্ত করিয়া সিদ্ধান্ত নিলেন যে, আল্লাহ তা'আলার আদেশ পালনের উদ্দেশে ফিরআওনের নিকট যাওয়া এবং তাহাকে আল্লাহ তা'আলার পয়গাম পৌঁছাইয়া দেওয়া উচিত। কোন কোন তাফসীরকার লিখিয়াছেন, যখন উভয় ভ্রাতা ফিরআওনের দরবারে গমন করিতে উদ্যত হইলেন, তখন তাঁহাদের মাতা স্নেহাতিশয্যের দরুন তাঁহাদিগকে বারণ করিতে চাহিলেন। "তোমরা এমন ব্যক্তির নিকট যাইতে চাহিতেছ, যে যুগপৎ রাজমুকুট এবং রাজসিংহাসনের মালিক, যালিম এবং অহংকারী। সেখানে যাইও না, সেখানে যাওয়া বিফল হইবে। কিন্তু উভয়ে মাতাকে বুঝাইলেন, আল্লাহ তা'আলার আদেশ লংঘন করা যায় না। তিনি ওয়াদা করিয়াছেন যে, আমরা সফলকাম হইব। যাহা হউক, উভয় ভ্রাতা ফিরআওনের দরবারে পৌঁছিলেন এবং নির্ভয়ে ও নিশ্চিন্তে ভিতরে প্রবেশ করিলেন। ফিরআওনের সিংহাসনের নিকট পৌঁছিয়া হযরত মূসা (আ) ও হারূন (আ) নিজেদের আগমনের কারণ বর্ণনা করিলেন। যখন কথোপকথন আরম্ভ হইল, তাঁহারা বলিলেন, ফিরআওন! আল্লাহ তা'আলা আমাদিগকে রাসূল নিযুক্ত করিয়া তোমার নিকট পাঠাইয়াছেন। আমরা তোমার নিকট দুইটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চাহিতেছি। একটি এই যে, আল্লাহ তা'আলাকে একক ও অদ্বিতীয় বলিয়া বিশ্বাস এবং কাহাকেও তাঁহারে শরীক সাব্যস্ত করিবে না। দ্বিতীয়টি হইল, যুলম ও অত্যাচার হইতে নিবৃত্ত হও এবং বনী ইসরাঈলকে আপনার দাসত্ব হইতে মুক্ত করিয়া দাও। আমরা যাহা কিছু বলিতেছি, দৃঢ় বিশ্বাস কর যে, আমরা বানোয়াট এবং কৃত্রিম বলিতেছি না। আমাদের এমন দুঃসাহসও নাই যে, আমরা আল্লাহ তা'আলা সম্বন্ধে মিথ্যা কথা বলিব। আমাদের সত্যতা প্রমাণের জন্য যেমন আমাদের এই শিক্ষা স্বয়ং সাক্ষী রহিয়াছে তদ্রূপ আল্লাহ আমাদিগকে দুইটি মু'জিযাও দান করিয়াছেন। অতএব তোমার জন্য ইহাই সঙ্গত হইবে যে, সত্যকে ও আল্লাহ পাকের এই পয়গামকে কবূল করিয়া নাও এবং বনী ইসরাঈলকে মুক্তি দাও (হিফজুর রহমান সিওহারাবী, কাসাসূল কুরআন, বংগানুবাদ নূরুর রহমান, ২খ, পৃ. ৭৬-৭৭)।
হযরত মূসা (আ) ও হযরত হারুন (আ)-এর এই আহবানে ফিরআওন সাড়া দেওয়া তো দূরের কথা, উপরন্তু ফিরআওন তাহার মন্ত্রী হামানকে একটি উচ্চ ইমারত নির্মাণ করিতে আদেশ দিল যাহাতে সে মূসা ও হারূনের খোদার অবস্থা জানিতে পারে এবং খোদা ও তাহাদের উভয়ের মুকাবিলা করিতে পারে। তাঁহারা উভয়ে ফিরআওনকে সর্বতোভাবে বুঝাইলেন, কিন্তু সে ও তাহার সভাসদগণ ক্ষিপ্ত হইয়া মুকাবিলার চ্যালেঞ্জ জানাইল, এমনকি তাঁহাদের জেলখানায় বন্দী করার হুমকি দিল। এমতাবস্থায় আল্লাহ তা'আলা হযরত মূসার মাধ্যমে কতিপয় মু'জিযার প্রকাশ ঘটান। তন্মধ্যে একটি হইল ফিরআওনের দরবারে হযরত মূসার লাঠি ফেলিয়া দেওয়া এবং সেই লাঠি এক বিরাটকায় অজগরের আকৃতি ধারণ করা। তবে পবিত্র কুরআনের বর্ণনায় এই মুজিযা হযরত মূসার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। কিন্তু বাইবেলের বর্ণনায় দেখা যায় যে, লাঠি অজগর হইয়া যাওয়ার মুজিযাটি পবিত্র কুরআনের বর্ণনা ও বাইবেলের বর্ণনা পরস্পরবিরোধী। তবে কুরআনের বর্ণনাই সঠিক ও গ্রহণযোগ্য। তবে বিষয়টির এইভাবে সমন্বয় করা যাইতে পারে যে, যেহেতু হযরত হারুন (আ) প্রায় সর্বক্ষেত্রেই হযরত মূসা (আ)-এর সঙ্গী, সহকারী, সাহায্যকারী ও সহসংঘটক ছিলেন, সেইহেতু এই ক্ষেত্রেও হযরত হারুন হযরত মূসার দ্বারা সংঘটিত এই মুজিয়ার সহসংঘটক ছিলেন ও সশরীরে উপস্থিত ছিলেন।
হযরত মূসা ও হারুন (আ) অতঃপর বনী ইসরাঈলকে সঙ্গে লইয়া তুর ময়দান হইতে সীন বা সীনাই-এর পথ ধরিলেন। সীনার দেব মন্দিরসমূহে তখন মূর্তিপূজকরা মূর্তিপূজায় রত ছিল। বনী ইসরাঈল এই দৃশ্য দেখিয়া বলিতে লাগিল, আমাদেরকেও এইরূপ মাবুদ বানাইয়া দাও। তাহা হইলে আমরা ইহাদের মত উহাদের পূজা করিব। হযরত মূসা বনী ইসরাঈলের এ অকৃতজ্ঞতা ও শিরক্-এর ধ্যান-ধারণার জন্য শাসাইলেন। কিন্তু তাহারা সাময়িকভাবে নিবৃত্ত হইলেও পরে সামেরীর প্ররোচনায় বাহুর পূজায় লিপ্ত হইয়া পড়ে।
হযরত মূসা (আ) যখন তুর পাহাড়ে ৪০ দিনের ই'তিকাফের জন্য গমন করেন তখন হযরত হারুন (আ)-কে তাঁহার স্থলাভিষিক্ত করিয়া যান এবং মানুষকে হিদায়াত করা, আহকামে শারী'আতের প্রচলন ও প্রয়োগ এবং নেতৃত্বের যে অধিকার কেবল মূসার জন্য খাস ছিল, তিনি তাহার সব কিছুই হযরত হারুনকে অর্পণ করিয়া যান এবং বনী ইসরাঈলের হিদায়াতের দায়িত্ব তাঁহাকে দিয়া যান। এই সম্পর্কে তিনি হারুন (আ)-কে পরামর্শ দেন যে, বনী ইসরাঈল অস্থির স্বভাবের লোক। যদি আমার অনুপস্থিতিতে ইহারা গোমরাহীর পথে ধাবিত হয়, তাহা হইলে ইহাদের প্রতিরোধ করার চেষ্টা করিবে এবং আমার কর্ম-পদ্ধতি অনুসরণ করিবে। উপরন্তু ইহাও লক্ষ্য রাখিবে যেন আমার অনুপস্থিতিতে বনী ইসরাঈলের মধ্যে বিভেদ ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি না হয় (আম্বিয়ায়ে কুরআন, ২খ, পৃ. ২৯০)। পবিত্র কুরআনে বলা হইয়াছেঃ এবং মূসা তাহার ভ্রাতা হারুনকে বলিল, 'আমার অনুপস্থিতিতে আমার সম্প্রদায়ের মধ্যে তুমি আমার প্রতিনিধিত্ব করিবে, সংশোধন করিবে এবং বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পথ অনুসরণ করিবে না' (দ্র. সূরা আ'রাফ: ১৪২)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বাছুর পূজার পিছু হইয়া পড়া

📄 বাছুর পূজার পিছু হইয়া পড়া


কিন্তু হযরত মূসা (আ) তুর পাহাড়ে চলিয়া যাওয়ার পর কতিপয় এমন ঘটনা সংঘটিত হয় যাহাতে তাঁহার আশংকাই সত্য হইয়া দেখা দেয় এবং যেভাবে তিনি হযরত হারুনকে বনী ইসরাঈলের তত্ত্বাবধান করিতে বলিয়াছিলেন, তাহা শেষ পর্যন্ত সম্ভব হয় নাই। তাহারা মিসর হইতে চলিয়া আসার সময় যেসব স্বর্ণালংকার তাহাদের সঙ্গে নিয়া আসিয়াছিল, হযরত মূসা (আ) তুর পাহাড়ে যাওয়ার পর সামেরী স্বর্ণালংকারসমূহ গলাইয়া সেই স্বর্ণের দ্বারা একটি বাছুর বানায়। সে একটি কল তৈরি করিয়া বাছুরের ভিতরে স্থাপন করিয়া দেয়। ফলে ইহার ভিতর হইতে এক ধরনের আওয়াজ বাহির হইতেছিল। সামেরী বনী ইসরাঈলকে বলে যে, মূসা কোথায় আছে জানি না এবং সে কোন খোদাকে তালাশ করিতে গিয়াছে? তোমাদের খোদা তো ইহাই। তখন বনী ইসরাঈল এই বাছুরের চতুষ্পার্শ্ব ঘিরিয়া দাঁড়াইল এবং ইহাকেই পূজা করিতে শুরু করিয়া দিল (মুহাম্মদ জামীল আহমদ, আম্বিয়ায়ে কুরআন, ২খ, পৃ. ২৯০-২৯১)।
সামেরী যখন বনী ইসরাঈলকে উৎসাহ প্রদান করিল যে, তাহারা যেন তাহার স্বহস্তে নির্মিত গো-বাছুরকে নিজেদের মা'বৃদ মনে করে এবং উহার পূজা করে, তখন তাহারা সহজে উহা কবুল করিয়া লইল। হযরত হারুন (আ) ইহা দেখিয়া বনী ইসরাঈলকে খুব বুঝাইলেন যে, এরূপ করিও না। ইহা তো গোমরাহীর পথ। কিন্তু তাহারা হারূন (আ)-এর কথা মান্য করিতে অস্বীকার করিল এবং বলিল, আমরা যাহা অবলম্বন করিয়াছি মূসা (আ) ফিরিয়া না আসা পর্যন্ত উহা হইতে নিবৃত্ত হইব না (হিফজুর রহমান সিওহারাবী, কাসাসুল কুরআন, বংগানুবাদ ২খ, পৃ. ২০০-২০১)।
কেবল ইহাই নহে, যখন হযরত হারূন বনী ইসরাঈলকে ঐ শির্ক হইতে বিরত রাখার জন্য এবং তাহাদের সংশোধন ও হিদায়াতের জন্য আরও তৎপর হইলেন, তখন তাহারা আরও বিগড়াইয়া যায় এবং হযরত হারূন (আ)-কে হত্যা করিতে উদ্যত হয়। পবিত্র কুরআনে হযরত হারূনের বক্তব্য নিম্নোক্তভাবে বিধৃত হইয়াছেঃ "হারূন বলিল, হে আমার সহোদর! লোকেরা তো আমাকে দুর্বল মনে করিয়াছিল এবং আমাকে প্রায় হত্যা করিয়াই ফেলিয়াছিল" (দ্র. সূরা আ'রাফ: ১৫০)।
উপরিউক্ত বর্ণনায় ইহা স্পষ্ট যে, হারূন (আ) আপ্রাণ চেষ্টা করিয়াছিলেন, কিন্তু পাছে বনী ইসরাঈলের মধ্যে বিভেদও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, এই আশংকায় তিনি হযরত মূসা (আ)-র প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষা করিতে লাগিলেন (মুহাম্মাদ জামীল আহমাদ, আম্বিয়ায়ে কুরআন, ২খ, পৃ. ২৯১)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হযরত মূসা (আ)-এর প্রত্যাবর্তন ও হযরত হারূন (আ)-এর সাথে বিতর্ক

📄 হযরত মূসা (আ)-এর প্রত্যাবর্তন ও হযরত হারূন (আ)-এর সাথে বিতর্ক


তূর পাহাড়ে আল্লাহ তা'আলা হযরত মূসা (আ)-কে বনী ইসরাঈলের গোমরাহীর কথা অবহিত করেন। ফলে তিনি অত্যন্ত চিন্তিত ও রাগান্বিত অবস্থায় দ্রুত কওমের নিকট প্রত্যাবর্তন করেন। তাওরাতের বর্ণনায় দেখা যায় যে, যখন তিনি বনী ইসরাঈলের অবস্থানস্থলের সন্নিকটে পৌছেন, তখন তিনি বনী ইসরাঈলের আওয়ায শুনিতে পান। এ আওয়ায ঐ বাছুর পূজার গানের আওয়ায ছিল। ঐ সময় হযরত মূসার সঙ্গে তাঁহার খাস খাদেম হযরত ইউশা ইব্‌ন্ন নূনও ছিলেন। তিনি মনে করেন যে, সম্ভবত ইহা যুদ্ধের আওয়ায (আম্বিয়ায়ে কুরআন, ২খ, পৃ. ২৯২)।
বাইবেলে আছেঃ "পরে যিহোশূয় কোলাহলকারী লোকদের রব শুনিয়া মোশিকে কহিলেন, শিবিরে যুদ্ধের শব্দ হইতেছে। তিনি কহিলেন, উহা ত জয়ধ্বনির শব্দ নয়, পরাজয় ধ্বনিরও শব্দ নয়; আমি গানের শব্দ শুনিতে পাইতেছি। পরে তিনি শিবিরের নিকটবর্তী হইলে ঐ গোবৎস এবং নৃত্য দেখিলেন" (বাইবেলের যাত্রাপুস্তক, ৩২: ১৭-১৯)।
এই ঘটনায় হযরত মূসা (আ) অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হন। তিনি সম্ভবত এইজন্য বেশী রাগান্বিত হন যে, হযরত হারূন (আ)-এর উপস্থিতিতে ইহাদের পথভ্রষ্টতা কিভাবে সীমা অতিক্রম করিল। কওমের লোকদের নিকট পৌঁছিয়া তিনি তাহাদিগকে জিজ্ঞাসা করেন, তোমাদের একী অবস্থা? তোমরা কি শুরু করিয়াছ? কওমের লোকেরা তাঁহার ক্ষোভ ও ঈমানী জযবা দেখিয়া ভয়ে কাঁপিতে লাগিল এবং বলিতে লাগিল, আমরা নির্দোষ, এই ভুল আমাদের নিজেদের ইচ্ছায় করি নাই। সামেরী আমাদের অলংকারগুলি গলাইয়া বাছুর বানায় এবং বলে, মূসা (আ) আমাদিগকে ভুলিয়া গিয়াছেন, তোমাদের মা'বৃদ তো এখানেই রহিয়াছে। ফলে আমরা ইহার পূজা করিতে শুরু করিলাম।" কওমের লোকদের এই জওয়াব শুনার পরও হযরত মূসা এই তথ্য পান নাই যে, হযরত হারূন এই প্রেক্ষিতে কওমকে বাছুর পূজা হইতে বিরত রাখার জন্য কি কি পদক্ষেপ নিয়াছিলেন এবং তাহাদের হিদায়াত ও সংশোধনের জন্য কি ধরনের চেষ্টা করিয়াছিলেন। তিনি প্রচণ্ড রাগে ও ক্ষোভে ফাটিয়া পড়েন এবং তাঁহার হাত হইতে তাওরাতের ফলকগুলি ফেলিয়া দিয়া হযরত হারূনের দিকে অগ্রসর হইয়া তাঁহার মাথা ও দাড়ি ধরিয়া নিজের দিকে টানিয়া আনিলেন (আম্বিয়ায়ে কুরআন, ২খ, পৃ. ২৯২-২৯৩)।
হযরত হারুন (আ) রিসালাত ও নবুওয়াতের ব্যাপারে হযরত মূসার সাহায্যকারী এবং ঐ মুহূর্তে তাঁহার প্রতিনিধি। এইজন্য তিনি হযরত হারুনকে কৈফিয়তের সুরে বলেন, “হে হারুন! তুমি যখন দেখিলে উহারা পথভ্রষ্ট হইয়াছে তখন কিসে তোমাকে নিবৃত্ত করিল আমার অনুসরণ করা হইতে? তবে কি তুমি আমার আদেশ অমান্য করিলে” (দ্র. ২০: ৯২-৯৩)?
হযরত হারূনের প্রতিনিধিত্বের সময় যে ফিতনা সংঘটিত হয় এবং যিনি হযরত মূসা’র ক্রোধ দেখিয়া প্রথম দিকে নিশ্চুপ ছিলেন, তিনি এইবার কৈফিয়ত দানের ভাষায় বলিতে লাগিলেন, “হারুন বলিল : হে আমার সহোদর! আমার শ্মশ্রু ও কেশ ধরিয়া আকর্ষণ করিও না; আমি আশংকা করিয়াছিলাম যে, তুমি বলিবে, তুমি বনী ইসরাঈলদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করিয়াছ ও তুমি আমার বাক্য পালনে যত্নবান হও নাই” (দ্র. ২০ঃ ৯৪)।
উপরন্তু হযরত হারুন (আ) বলেন যে, বনী ইসরাঈলের মধ্যে মতপার্থক্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় সেইজন্য আমি কঠোর কোন পদক্ষেপ গ্রহণের আগে তোমার প্রত্যাবর্তনের জন্য অপেক্ষা করা সমীচীন মনে করিলাম (আম্বিয়ায়ে কুরআন, ২খ, পৃ. ২৯৫)।
এই ক্ষেত্রে একটি প্রশ্ন উত্থাপিত হইতে পারে যে, হযরত মূসা (আ) আল্লাহ্র রাসূল ছিলেন এবং তাঁহার ভাই হযরত হারূনও আল্লাহর প্রেরিত নবী ছিলেন। তাহা ছাড়া হযরত হারূন মূসা'র বড় ভাই ছিলেন। কিন্তু তাহা সত্ত্বেও হযরত মূসা (আ) কিভাবে তাঁহার বড় ভাই হারূন (আ)-এর সহিত রূঢ় আচরণ করিলেন? ইহা কি নবী-রাসূলের শান-এর পরিপন্থী নহে? ইহার উত্তরে মাওলানা শিব্বীর আহমদ উছমানী (র) বলেন :
“হযরত মূসা (আ) বনী ইসারঈলের ঐ মুশরেকী কর্মকাণ্ড দেখিয়া এবং হযরত হারুন (আ)-এর নম্রতা ও দুর্বলতার কথা অনুমান করিয়া এত উত্তেজিত হইয়া পড়েন যে, হারুন (আ)-এর প্রতি রাগে ও ক্ষোভে এবং ঈমানী তেজে তেজোদ্দীপ্ত হইয়া তাঁহার দাড়ি ও মাথার চুল টানিয়া ধরেন। তিনি হারুনকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এই কাজ করেন নাই।
“হযরত হারুন সম্পর্কে তাঁহার তখন এই ধারণা হইয়াছিল যে, তিনি সম্ভবত ঐ অবস্থার সংশোধনের যথাযথ চেষ্টা করেন নাই, অথচ তাঁহাকে এই ব্যাপারে তাগিদ দেওয়া হইয়াছিল। অবশ্যই হারুন তাঁহার বড় ভাই ও নবী ছিলেন, কিন্তু পদমর্যাদায় তিনি (মূসা) বড় ছিলেন এবং রাজনৈতিক ও অন্যান্য সার্বিক ব্যবস্থাপনার দিক হইতে হযরত হারুনকে তাঁহার উযীর ও অনুসারী বানানো হইয়াছিল। এই ঘটনায় মূসা (আ)- এর নেতৃত্বের ও শাসন ক্ষমতার মর্যাদার প্রকাশ ঘটে, যেন তাঁহার পক্ষ হইতে উত্তেজনা প্রকাশ ও কঠোর বিচার-বিশ্লেষণ হযরত হারুনের ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থাপনার উপর এক ধরনের ভর্ৎসনা ছিল। ইহা দ্বারা কওমকেও এই মর্মে অবহিত করা হয় যে, পয়গাম্বরের অন্তর তাওহীদের প্রেমে কতখানি বিভোর এবং শিক ও কুফরের প্রতি কতখানি বিতৃষ্ণ হইতে পারে, যাহার ফলে এই বিষয়ে বিন্দুমাত্র অলসতা অথবা নীরবতা সহ্য করিতে পারেন না। এমনকি কোন নবী'র ব্যাপারে যদি এমন ধারণা হয় যে, তিনি শিক-এর মুকাবিলায় উচ্চকণ্ঠ হওয়ায় ন্যূনতম ত্রুটি করিয়াছেন তাহা হইলে তিনি আল্লাহর নিকট মর্যাদার অধিকারী হইলেও এইরূপ জবাবদিহিতা হইতে তিনি নিষ্কৃতি পাইবেন না। এই অবস্থায় শারী'আতের দৃষ্টিতে মূসা (আ)-এর কোন ত্রুটি ছিল না" (আম্বিয়ায়ে কুরআন, ২খ, পৃ. ২৯৩-২৯৪)।
হযরত মূসা (আ)-এর রাগ, ক্ষোভ ও হযরত হারূনের সহিত রূঢ় আচরণ যে কোন ব্যক্তিগত বা মর্যাদাগত কারণে ছিল না তাহা সহজেই অনুমেয়। হযরত মূসা (আ) যখন প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে অবগত হইলেন, তখন তাঁহার রাগ ও ক্ষোভ নির্বাপিত হইয়া গেল। তৎক্ষণাৎ তিনি আল্লাহর দরবারে তাঁহার নিজের জন্য ও. হযরত হারূনের ক্ষমার জন্য দু'আ করেন: "মূসা বলিল, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ও আমার ভ্রাতাকে ক্ষমা কর এবং আমাদিগকে তোমার দয়ার আশ্রয় দাও আর তুমিই শ্রেষ্ঠ দয়ালু" (দ্র. ৭ঃ ১৫১)।
বাইবেলে স্বর্ণের বাছুর তৈরী সম্পর্কে যে তথ্য উপস্থাপন করা হইয়াছে তাহাতে দেখা যায় যে, হযরত হারূন-ই ঐ বাছুর তৈরি করিয়াছিলেন (দ্র. যাত্রাপুস্তক, ২৪১-৬)। অনুরূপ আরও কিছু তথ্য হযরত হারুন (আ) সম্পর্কে উল্লিখিত হইয়াছে, যাহা হযরত হারূনের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অপবাদ।
কিন্তু পবিত্র কুরআন এমন এক মু'জিযা যে, এই কুরআন প্রত্যেক পয়গাম্বরকে নিষ্পাপ প্রমাণ করে এবং তাহাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অমূলক অভিযোগ ও অপবাদ হইতে তাহাদিগকে পবিত্র ও নির্দোষ ঘোষণা করিয়া পয়গাম্বরদের পবিত্রতাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে। হযরত হারূনের ব্যাপারেও কুরআন মিথ্যা ও অসত্যের প্রাসাদকে আসল অপরাধীর নাম উল্লেখ করিয়া কেবল একটি শব্দ "সামেরী” দ্বারা সর্বকালের জন্য ধুলিস্যাৎ করিয়া দেয় (আম্বিয়ায়ে কুরআন, ২খ, পৃ. ২৯৭)। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ বলেন: قَالَ فَإِنَّا قَدْ فَتَنَّا قَوْمَكَ مِنْ بَعْدِكَ وَأَضَلَّهُمُ السَّامِرِيُّ . "তিনি বলিলেন, আমি তোমার সম্প্রদায়কে পরীক্ষায় ফেলিয়াছি তোমার চলিয়া আসার পর এবং সামেরী উহাদিগকে পথভ্রষ্ট করিয়াছে” (২০:৮৫)।
অতঃপর হযরত মূসা (আ)-এর অনুসন্ধানের পর খোদ বনী ইসরাঈলের যবানীতে কুরআন নিম্নোক্ত সাক্ষ্য দেয়: قَالُوا مَا أَخْلَفْنَا مَوْعِدَكَ بِمَلْكِنَا وَلَكِنَّا حُمَلْنَا أَوْزَارًا مِّنْ زِينَةِ الْقَوْمِ فَقَدَفْتُهَا فَكَذَلِكَ الْقَى السَّامِرِيُّ. "উহারা বলিল, আমরা তোমার প্রতি প্রদত্ত অংগীকার স্বেচ্ছায় ভংগ করি নাই। তবে আমাদের উপর চাপাইয়া দেওয়া হইয়াছিল লোকের অলংকারের বোঝা এবং আমরা উহা অগ্নিকাণ্ডে নিক্ষেপ করি, অনুরূপভাবে সামেরীও নিক্ষেপ করে” (২০৪৮৭)।
হযরত হারুন (আ)-এর বিরুদ্ধে বাইবেলের অপবাদের উত্তরে স্বয়ং আল্লাহ তা'আলা হযরত হারূনের নির্দোষ হওয়ার ঘোষণা দেন: وَ لَقَدْ قَالَ لَهُمْ هُرُونَ مِنْ قَبْلُ لِقَوْمٍ إِنَّمَا فُتِتُمْ بِهِ وَإِنَّ رَبَّكُمُ الرَّحْمَنُ فَاتَّبِعُونِي وَأَطِيعُوا أَمْرِي "হারুন উহাদিগকে পূর্বেই বলিয়াছিল, হে আমার সম্প্রদায়! ইহা দ্বারা তো কেবল তোমাদিগকে পরীক্ষায় ফেলা হইয়াছে। তোমাদের প্রতিপালক দয়াময়; সুতরাং তোমরা আমার অনুসরণ কর এবং আমার আদেশ মানিয়া চল" (২০ : ৯০)।
হযরত মূসা (আ) ও হযরত হারুন (আ)-এর কথাবার্তার পর হযরত মূসা (আ) সামিরীকে যে প্রশ্ন করেন, সেই প্রশ্নের উত্তরে হারূনের নির্দোষিতা ও সামেরীর অপরাধ প্রমাণিত হইয়া যায়। পবিত্র কুরআনে বলা হইয়াছে:
قَالَ فَمَا خَطْبُكَ يَا سَامِرِيُّ . قَالَ بَصُرْتُ بِمَا لَمْ يَبْصُرُوا بِهِ فَقَبَضْتُ قَبْضَةً مِنْ أَثَرِ الرَّسُولِ فَنَبَدْتُهَا وَكَذَلِكَ سَوَّلَتْ لِي نَفْسِي . "মূসা বলিল, হে সামেরী! তোমার ব্যাপার কী? সে বলিল, আমি দেখিয়াছিলাম যাহা উহারা দেখে নাই। অতঃপর আমি সেই দূতের পদচিহ্ন হইতে একমুষ্টি মাটি লইয়াছিলাম এবং আমি উহা নিক্ষেপ করিয়াছিলাম এবং আমার মন আমার জন্য শোভন করিয়াছিল এইরূপ করা" (২০:৯৫-৯৬)।
সামেরী'র স্বীকারোক্তিমূলক এই আয়াতের তাফসীরে হযরত শাহ্ আবদুল কাদের দেহলবী (র) বলেন, যখন বনী ইসরাঈল দ্বিধাবিভক্ত সমুদ্রের মধ্যে প্রবেশ করিল, জিবরাঈল (আ) মধ্যস্থলে পড়িলেন, যাহাতে ফিরআওন বনী ইসরাঈল পর্যন্ত পৌঁছিতে না পারে। সামেরী চিনিতে পারিল যে, ইনি জিবরাঈল (আ)। তাঁহার পদচিহ্ন হইতে সে কিছু মাটি উঠাইয়া লইল। সেই মাটিই সে স্বর্ণ-নির্মিত গো-বাছুরের মধ্যে নিক্ষেপ করিল। স্বর্ণগুলি ছিল কাফিরের সম্পদ যাহা ধোঁকার মাধ্যমে গ্রহণ করা হইয়াছিল। এখন উহাতে বরকতময় মাটি পতিত হইল। হক ও বাতিল মিশ্রিত হইয়া এক চমৎকারিত্বের সৃষ্টি হইল, ফলে উহার মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ও আওয়ায উৎপন্ন হইল। এমন বস্তু হইতে দূরে থাকা উচিত। ইহা হইতেই মূর্তিপূজা প্রসার লাভ করে (হিফজুর রহ্মান সিওহারাবী, কাসাসুল কুরআন, বংগানুবাদ, ২খ, পৃ. ২১২)।
সুতরাং ইহা একটি প্রতিষ্ঠিত সত্যে পরিণত হইয়া গেল যে, হযরত মূসা (আ) যখন হযরত হারুন (আ)-কে বনী ইসরাঈলের মধ্যে তাঁহার স্থলাভিষিক্তরূপে রাখিয়া তূর পাহাড়ে যান, তখন হযরত হারুন (আ) সঠিকভাবেই দায়িত্ব পালন করিয়াছিলেন। অস্থিরমতি, অসহিষ্ণু ও পথভ্রষ্ট বনী ইসরাঈল সামেরীর প্ররোচনায় পৌত্তলিকতায় লিপ্ত হয়। হযরত হারূন তাহাদিগকে শত চেষ্টা করিয়াও নিবৃত্ত করিতে পারেন নাই। প্রথমে হযরত মূসা (আ) হযরত হারুন (আ)-এর প্রতি অসন্তুষ্ট হইলেও পরে প্রকৃত অবস্থা বুঝিতে পারেন এবং সামেরীকে ভর্ৎসনা করেন। সামেরী চিরকালের জন্য ধিকৃত হইবে তাহা জানাইয়া দেন, যাহা পবিত্র কুরআনের ভাষায় নিম্নোক্তরূপে বর্ণিত হইয়াছে:
وَانْظُرْ إِلَى الْهَكَ الَّذِي ظَلْتَ عَلَيْهِ عَاكِفًا لَنُحَرِّقَنَّهُ ثُمَّ لَنَنْسِفَنَّهُ فِي الْيَمِّ نَسْفًا . "মূসা বলিল, দূর হও! তোমার জীবদ্দশায় তোমার জন্য ইহাই রহিল যে, তুমি বলিবে, আমি অস্পৃশ্য এবং তোমার জন্য রহিল এক নির্দিষ্ট কাল, তোমার বেলায় যাহার ব্যতিক্রম হইবে না এবং তুমি তোমার সেই ইলাহের প্রতি লক্ষ্য কর যাহার পূজায় তুমি রত ছিলে। আমরা উহাকে জ্বালাইয়া দিবই, অতঃপর উহাকে বিক্ষিপ্ত করিয়া সাগরে নিক্ষেপ করিবই" (২০:৯৭)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হযরত হারূন (আ)-এর শেষ জীবন

📄 হযরত হারূন (আ)-এর শেষ জীবন


শেষ জীবন পর্যন্ত হযরত হারুন (আ) তীহ্ প্রান্তরে বনী ইসরাঈল সম্প্রদায়ের সঙ্গে ছিলেন এবং হযরত মূসা (আ)-এর কাঁধে কাঁধ মিলাইয়া দায়িত্ব পালন করিতে থাকেন। সিনাই উপত্যকা হইতে তিনি বনী ইসরাঈলের সঙ্গে রাফীদীন-এ পৌছেন, ঐ স্থানে হযরত মূসা (আ) পাথরে তাঁহার লঠি দ্বারা আঘাত করিয়া আল্লাহ্র নির্দেশে পানি'র ১২টি ঝর্ণা প্রবাহিত করিয়োছিলেন। তথা হইতে হযরত হারুন কাবেস-এ পৌঁছেন, যেখানে মান্না ও সালওয়া নাযিল হইয়াছিল। এই স্থানে বনী ইসরাঈলকে জিহাদ করার নির্দেশ দেওয়া হইলে তাহারা সিরিয়ায় প্রবেশ করিতে অস্বীকার করে এবং আল্লাহ্ ও তাঁহার রাসূলের সাথে বেআদবি শুরু করে, তখন হারূনও মূসা'র সঙ্গে আল্লাহর ভয়ে সিজদায় পতিত হন। হযরত মূসা'র অনুসরণে তাঁহার তৎপরতা এবং তাঁহার উপর হযরত মূসা'র আস্থা-ঐ সময়ে মূসা (আ) আল্লাহ্র দরবারে যে আরয করিয়াছিলেন, তাহার দ্বারাই বুঝা যায় : قَالَ رَبِّ إِنِّي لَا أَمْلِكُ إِلَّا نَفْسِي وَأَخِي فَافْرُقْ بَيْنَنَا وَبَيْنَ الْقَوْمِ الْفُسْقِينَ.
"সে (মূসা) বলিল, হে আমার প্রতিপালক! আমার ও আমার ভ্রাতা ব্যতীত অপর কাহারও উপর আমার আধিপত্য নাই। সুতরাং তুমি আমাদের ও সত্যত্যাগী সম্প্রদায়ের মধ্যে ফয়সালা করিয়া দাও” (৫:২৫)।
বনী ইসরাঈলকে এই অপতৎপরতার কারণে (সিরিয়া, ফিলিস্তীন ও জর্দানের অংশ) আল্লাহর নির্দেশে ৪০ বৎসরের জন্য শামদেশে তাহাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয় এবং বলিয়া দেওয়া হয় যে, বর্তমান প্রজন্মের ইউশা' (আ) ও কালিব ছাড়া আর কেউ-ই শামদেশে প্রবেশ করিতে পারিবে না। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে হযরত হারুন (আ) বনী ইসরাঈলের সঙ্গে দীর্ঘ কাল কাবেস-এ অবস্থান করেন। অতঃপর বনী ইসরাঈল যখন কাবেস হইতে প্রস্থান করে তখন তিনিও তাহাদের সহযাত্রী হইয়া আদূম রাজ্যের সীমান্তে অবস্থিত কূহ্ শা'ঈর-এর পার্শ্ব দিয়া অতিক্রম করেন। ইহাই ছিল তাঁহার জীবনের শেষ সফর (আম্বিয়ায়ে কুরআন, ২খ, পৃ. ৩০০-৩০১)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00