📄 অন্যান্য ধর্মগ্রন্থে হারূন (আ)
বাইবেলে নবী হিসাবে হযরত হারূন (আ)-এর উল্লেখ নাই, বরং তাঁহাকে "যাজক" হিসাবে অভিহিত করা হইয়াছে। ইয়াহুদীদের মধ্যে "যাজক"-এর অবস্থান ও মযার্দা মুসলমানদের "ইমাম"-এর অনুরূপ ছিল (মুহাম্মাদ জামীল আহমাদ, আম্বিয়ায়ে কুরআন, ২খ, পৃ. ২৮৪-২৮৫)।
বিখ্যাত জার্মান পণ্ডিত হেইনরিখ বোল (Heinnrich Buald) বলেন, "ইয়াহুদীদের মধ্যে যেমন কাহিন শব্দটির ব্যবহার দেখা যায়, মুসলমানদের মধ্যে তেমনি "ইমাম" শব্দটির ব্যবহার দেখা যায়" (তারীখ বনী ইসরাঈল, ইং অনু, ১খ, পৃ. ২৫, পার্শ্বটীকা)।
তাওরাতের বর্ণনায় জানা যায় যে, হযরত হারুন (আ)-এর দায়িত্বে ইবাদাতখানার ব্যবস্থাপনা এবং শারী'আত ও কুরবানী ইত্যাদির রীতি-নীতি সম্পাদন করার কাজ নির্দ্ধারিত ছিল এবং বনী ইসরাঈলের জামা'আতের ইমামও তিনিই ছিলেন (আম্বিয়ায়ে কুরআন, ২খ, পৃ. ২৮৫)।
বাইবেলে আরও আছে যে, হযরত মূসা (আ) যখন তুর পাহাড়ে ই'তিকাফে যান এবং তাঁহাকে শরী'আতের নির্দেশসম্বলিত ফলক দেওয়া হয় তখন ঐ সকল নির্দেশের মধ্যে হযরত হারুন (আ)-কে যে কাহিন পদে নিযুক্তি দেওয়া হয়, সেই নির্দেশও ছিল (বাইবেল, যাত্রাপুস্তক, ২৮ : ১)।
হযরত হারুন (আ) ও তাঁহার পুত্রদের দায়িত্বে ছিল ইবাদাতখানা। বাইবেলে এই সম্পর্কে নিম্নবর্ণিত নির্দেশ উল্লিখিত হইয়াছে: "আর সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, তুমি লেবি বংশকে আনিয়া হারোণ যাজকের সম্মুখে উপস্থিত কর; তাহারা তাহার পরিচর্যা করিবে; আর আবাসের সেবাকর্ম করিবার জন্য সমাগম তাম্বুর সম্মুখে তাহার ও সমস্ত মণ্ডলীর রক্ষণীয় রক্ষা করিবে। আর তুমি লেবীয়দিগকে হারোণের ও তাহার পুত্রগণের হস্তে প্রদান করিবে; তাহারা দত্ত, ইস্রায়েল সম্ভানগণের পক্ষে তাহাকে দত্ত। আর তুমি হারোণ ও তাহার পুত্রগণকে নিযুক্ত করিবে এবং তাহারা আপনাদের যাজকত্ব পদ রক্ষণ করিবে। অন্য গোষ্ঠীভুক্ত যে কেহ নিকটবর্তী হইবে, তাহার প্রাণদণ্ড হইবে (গণনাপুস্তক, ৩:৪ ৫-১০)।
📄 হযরত হারূন (আ)-এর নবুওয়াত প্রাপ্তি
হযরত মূসা (আ)-কে রিসালাত দান করার পর আল্লাহ্ তা'আলা হযরত হারুন (আ)-কে লইয়া ফিরআওনকে তাওহীদের দাওয়াত দিতে মিসর যাওয়ার নির্দেশ দান করেন। আল্লাহ্র এই নির্দেশের প্রেক্ষিতে হযরত মূসা (আ) আল্লাহ্র নিকট আরয করিলেন:
قَالَ رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِّنْ لِسَانِي يَفْقَهُوا قَوْلِي وَاجْعَلْ لِي وَزِيرًا مِّنْ أَهْلِي هُرُونَ أَخِي اشْدُدْ بِهِ أَزْرِي وَأَشْرِكْهُ فِي أَمْرِي كَيْ نُسَبِّحَكَ كَثِيرًا وَنَذْكُرَكَ كَثِيرًا إِنَّكَ كُنْتَ بِنَا بَصِيرًا .
"মূসা বলিল, হে আমার প্রতিপালক! আমার বক্ষ প্রশস্ত করিয়া দাও এবং আমার কর্ম সহজ করিয়া দাও। আমার জিহ্বার জড়তা দূর করিয়া দাও, যাহাতে উহারা আমার কথা বুঝিতে পারে। আমার জন্য করিয়া দাও একজন সাহায্যকারী আমার স্বজনবর্গের মধ্য হইতে; আমার ভ্রাতা হারুনকে; তাহার দ্বারা আমার শক্তি সুদৃঢ় কর ও তাহাকে আমার কর্মে অংশী কর। যাহাতে আমরা তোমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করিতে পারি প্রচুর এবং তোমাকে স্মরণ করিতে পারি অধিক। তুমি তো আমাদিগের সম্যক দ্রষ্টা" (২০-২৫ : ৩৫)।
এই ক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে, জিহ্বার জড়তার কারণে এবং ইতোপূর্বে এক কিত্তীকে হত্যা করিয়া হযরত মূসা (আ) ফিরআওনের নিকট যাওয়ার ব্যাপারে সাচ্ছন্দ্যবোধ করিতেছিলেন না। পবিত্র কুরআনে হযরত মূসা (আ)-র কথা নিম্নোক্তভাবে বর্ণিত হইয়াছে:
وَيَضِيقُ صَدْرِي وَلَا يَنْطَلِقُ لِسَانِي فَأَرْسِلْ إِلَى هُرُونَ .
“এবং আমার হৃদয় সংকুচিত হইয়া পড়িতেছে, আর আমার জিহ্বা তো সাবলীল নাই। সুতরাং হারূনের প্রতিও প্রত্যাদেশ পাঠাও” (২৬ : ১৩)।
হযরত হারুন (আ) হযরত মূসা (আ)-এর তুলনায় অধিক বাকপটু, বাগ্মী, শুদ্ধভাষী ও বক্তব্য উপস্থাপনে পারদর্শী ছিলেন। তাই হযরত মূসা (আ) হযরত হারূনের মত যোগ্যতার অধিকারী এই ভাইকে তাঁহার পক্ষে কথা বলার জন্য তাঁহাকে সহায়তা করার জন্য চাহিয়াছিলেন। পবিত্র কুরআনে বলা হইয়াছে:
وَأَخِي هَرُونَ هُوَ أَفْصَحُ مِنِّى لِسَانًا فَأَرْسِلْهُ مَعِى رِدًا يُصَدِّقُنِي إِنِّي أَخَافُ أَنْ يُكَذِّبُونِ .
“আমার ভ্রাতা হারুন আমা অপেক্ষা বাগ্মী; অতএব তাহাকে আমার সাহায্যকারীরূপে প্রেরণ কর, সে আমাকে সমর্থন করিবে। আমি আশংকা করি উহারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলিবে” (২৮:৩৪)।
উপরিউক্ত আয়াতে হযরত মূসা (আ) হযরত হারুন (আ) তাঁহার চাইতে শুদ্ধভাষী ও বাগ্মী ছিলেন বলিয়া যে বক্তব্য উপস্থাপন করিয়াছেন সেই সম্পর্কে তাফসীরকার ও ঐতিহাসিকগণ বিভিন্ন মত দিয়াছেন। হযরত হারুন (আ) মিসরী ও হিব্রু উভয় ভাষায়ই খুব পারদর্শী ও অভিজ্ঞ ছিলেন। মিসরী ভাষা তাঁহার দেশীয় ভাষা আর হিব্রু তাঁহার মাতৃভাষা ছিল (হিফযুর রহমান; কাসাসুল কুরআন, বাংলা অনু., ২খ, পৃ. ৬১)।
মোটকথা, হযরত মূসা (আ)-এর আবেদন ও প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে, সর্বোপরি আল্লাহর একান্ত রহমত ও অনুগ্রহে হযরত হারুন (আ) নবুওয়াত লাভ করেন। আল্লাহ্ বলেন:
وَوَهَبْنَالَهُ مِنْ رَّحْمَتِنَا أَخَاهُ هُرُونَ نَبِيًّا ...
“আমি নিজ অনুগ্রহে তাহাকে (মূসাকে) দিলাম তাহার ভ্রাতা হারুনকে নবীরূপে” (১৯:৫৩)। হারুন (আ)-কে নবী করার ব্যাপারে মূসা (আ)-এর দোআ কবুল করা প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
قَالَ قَدْ أُوتِيْتَ سُؤْلُكَ يَمُوسى .
“তিনি বলিলেন, হে মূসা! তুমি যাহা চাহিয়াছ, তাহা, তোমাকে দেওয়া হইল” (২০:৩৬)।
📄 হযরত মূসা (আ)-এর জীবদ্দশায় ও হযরত হারূন (আ)-এর দায়িত্ব পালন
হযরত হারুন (আ)-কে নবুওয়াত দান করিয়া আল্লাহ তা'আলা হযরত মূসা (আ)-কে নির্দেশ দিলেন যে, তিনি যেন হযরত হারুনকে সঙ্গে নিয়া ফিরআওনকে তাওহীদের দাওয়াত দিতে মিসর যাওয়ার নির্দেশ দান করেন। আল্লাহ্র এই নির্দেশের প্রেক্ষিতে হযরত মূসা (আ) আল্লাহ্র নিকট আরয করিলেন:
قَالَ رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِّنْ لِسَانِي يَفْقَهُوا قَوْلِي وَاجْعَلْ لِي وَزِيرًا مِّنْ أَهْلِي هُرُونَ أَخِي اشْدُدْ بِهِ أَزْرِي وَأَشْرِكْهُ فِي أَمْرِي كَيْ نُسَبِّحَكَ كَثِيرًا وَنَذْكُرَكَ كَثِيرًا إِنَّكَ كُنْتَ بِنَا بَصِيرًا .
"মূসা বলিল, হে আমার প্রতিপালক! আমার বক্ষ প্রশস্ত করিয়া দাও এবং আমার কর্ম সহজ করিয়া দাও। আমার জিহ্বার জড়তা দূর করিয়া দাও, যাহাতে উহারা আমার কথা বুঝিতে পারে। আমার জন্য করিয়া দাও একজন সাহায্যকারী আমার স্বজনবর্গের মধ্য হইতে; আমার ভ্রাতা হারুনকে; তাহার দ্বারা আমার শক্তি সুদৃঢ় কর ও তাহাকে আমার কর্মে অংশী কর। যাহাতে আমরা তোমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করিতে পারি প্রচুর এবং তোমাকে স্মরণ করিতে পারি অধিক। তুমি তো আমাদিগের সম্যক দ্রষ্টা" (২০-২৫ : ৩৫)।
এই ক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে, জিহ্বার জড়তার কারণে এবং ইতোপূর্বে এক কিত্তীকে হত্যা করিয়া হযরত মূসা (আ) ফিরআওনের নিকট যাওয়ার ব্যাপারে সাচ্ছন্দ্যবোধ করিতেছিলেন না। পবিত্র কুরআনে হযরত মূসা (আ)-র কথা নিম্নোক্তভাবে বর্ণিত হইয়াছে:
وَيَضِيقُ صَدْرِي وَلَا يَنْطَلِقُ لِسَانِي فَأَرْسِلْ إِلَى هُرُونَ .
“এবং আমার হৃদয় সংকুচিত হইয়া পড়িতেছে, আর আমার জিহ্বা তো সাবলীল নাই। সুতরাং হারূনের প্রতিও প্রত্যাদেশ পাঠাও” (২৬ : ১৩)।
হযরত হারুন (আ) হযরত মূসা (আ)-এর তুলনায় অধিক বাকপটু, বাগ্মী, শুদ্ধভাষী ও বক্তব্য উপস্থাপনে পারদর্শী ছিলেন। তাই হযরত মূসা (আ) হযরত হারূনের মত যোগ্যতার অধিকারী এই ভাইকে তাঁহার পক্ষে কথা বলার জন্য তাঁহাকে সহায়তা করার জন্য চাহিয়াছিলেন। পবিত্র কুরআনে বলা হইয়াছে:
وَأَخِي هَرُونَ هُوَ أَفْصَحُ مِنِّى لِسَانًا فَأَرْسِلْهُ مَعِى رِدًا يُصَدِّقُنِي إِنِّي أَخَافُ أَنْ يُكَذِّبُونِ .
“আমার ভ্রাতা হারুন আমা অপেক্ষা বাগ্মী; অতএব তাহাকে আমার সাহায্যকারীরূপে প্রেরণ কর, সে আমাকে সমর্থন করিবে। আমি আশংকা করি উহারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলিবে” (২৮:৩৪)।
উপরিউক্ত আয়াতে হযরত মূসা (আ) হযরত হারুন (আ) তাঁহার চাইতে শুদ্ধভাষী ও বাগ্মী ছিলেন বলিয়া যে বক্তব্য উপস্থাপন করিয়াছেন সেই সম্পর্কে তাফসীরকার ও ঐতিহাসিকগণ বিভিন্ন মত দিয়াছেন। হযরত হারুন (আ) মিসরী ও হিব্রু উভয় ভাষায়ই খুব পারদর্শী ও অভিজ্ঞ ছিলেন। মিসরী ভাষা তাঁহার দেশীয় ভাষা আর হিব্রু তাঁহার মাতৃভাষা ছিল (হিফযুর রহমান; কাসাসুল কুরআন, বাংলা অনু., ২খ, পৃ. ৬১)।
মোটকথা, হযরত মূসা (আ)-এর আবেদন ও প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে, সর্বোপরি আল্লাহর একান্ত রহমত ও অনুগ্রহে হযরত হারুন (আ) নবুওয়াত লাভ করেন। আল্লাহ্ বলেন:
وَوَهَبْنَالَهُ مِنْ رَّحْمَتِنَا أَخَاهُ هُرُونَ نَبِيًّا ...
“আমি নিজ অনুগ্রহে তাহাকে (মূসাকে) দিলাম তাহার ভ্রাতা হারুনকে নবীরূপে” (১৯:৫৩)। হারুন (আ)-কে নবী করার ব্যাপারে মূসা (আ)-এর দোআ কবুল করা প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
قَالَ قَدْ أُوتِيْتَ سُؤْلُكَ يَمُوسى .
“তিনি বলিলেন, হে মূসা! তুমি যাহা চাহিয়াছ, তাহা, তোমাকে দেওয়া হইল” (২০:৩৬)।
হযরত মূসা (আ)-এর জীবদ্দশায় হযরত হারুন (আ)-এর দায়িত্ব পালন
হযরত হারুন (আ)-কে নবুওয়াত দান করিয়া আল্লাহ তা'আলা হযরত মূসা (আ)-কে নির্দেশ দিলেন যে, তিনি যেন হযরত হারুনকে সঙ্গে নিয়া ফিরআওনকে তাওহীদের দাওয়াত দিতে মিসর যাওয়ার নির্দেশ দান করেন। আল্লাহ্র এই নির্দেশের প্রেক্ষিতে হযরত মূসা (আ) আল্লাহ্র নিকট আরয করিলেন:
قَالَ رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِّنْ لِسَانِي يَفْقَهُوا قَوْلِي وَاجْعَلْ لِي وَزِيرًا مِّنْ أَهْلِي هُرُونَ أَخِي اشْدُدْ بِهِ أَزْرِي وَأَشْرِكْهُ فِي أَمْرِي كَيْ نُسَبِّحَكَ كَثِيرًا وَنَذْكُرَكَ كَثِيرًا إِنَّكَ كُنْتَ بِنَا بَصِيرًا .
"মূসা বলিল, হে আমার প্রতিপালক! আমার বক্ষ প্রশস্ত করিয়া দাও এবং আমার কর্ম সহজ করিয়া দাও। আমার জিহ্বার জড়তা দূর করিয়া দাও, যাহাতে উহারা আমার কথা বুঝিতে পারে। আমার জন্য করিয়া দাও একজন সাহায্যকারী আমার স্বজনবর্গের মধ্য হইতে; আমার ভ্রাতা হারুনকে; তাহার দ্বারা আমার শক্তি সুদৃঢ় কর ও তাহাকে আমার কর্মে অংশী কর। যাহাতে আমরা তোমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করিতে পারি প্রচুর এবং তোমাকে স্মরণ করিতে পারি অধিক। তুমি তো আমাদিগের সম্যক দ্রষ্টা" (২০-২৫ : ৩৫)।
এই ক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে, জিহ্বার জড়তার কারণে এবং ইতোপূর্বে এক কিত্তীকে হত্যা করিয়া হযরত মূসা (আ) ফিরআওনের নিকট যাওয়ার ব্যাপারে সাচ্ছন্দ্যবোধ করিতেছিলেন না। পবিত্র কুরআনে হযরত মূসা (আ)-র কথা নিম্নোক্তভাবে বর্ণিত হইয়াছে:
وَيَضِيقُ صَدْرِي وَلَا يَنْطَلِقُ لِسَانِي فَأَرْسِلْ إِلَى هُرُونَ .
“এবং আমার হৃদয় সংকুচিত হইয়া পড়িতেছে, আর আমার জিহ্বা তো সাবলীল নাই। সুতরাং হারূনের প্রতিও প্রত্যাদেশ পাঠাও” (২৬ : ১৩)।
হযরত হারুন (আ) হযরত মূসা (আ)-এর তুলনায় অধিক বাকপটু, বাগ্মী, শুদ্ধভাষী ও বক্তব্য উপস্থাপনে পারদর্শী ছিলেন। তাই হযরত মূসা (আ) হযরত হারূনের মত যোগ্যতার অধিকারী এই ভাইকে তাঁহার পক্ষে কথা বলার জন্য তাঁহাকে সহায়তা করার জন্য চাহিয়াছিলেন। পবিত্র কুরআনে বলা হইয়াছে:
وَأَخِي هَرُونَ هُوَ أَفْصَحُ مِنِّى لِسَانًا فَأَرْسِلْهُ مَعِى رِدًا يُصَدِّقُنِي إِنِّي أَخَافُ أَنْ يُكَذِّبُونِ .
“আমার ভ্রাতা হারুন আমা অপেক্ষা বাগ্মী; অতএব তাহাকে আমার সাহায্যকারীরূপে প্রেরণ কর, সে আমাকে সমর্থন করিবে। আমি আশংকা করি উহারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলিবে” (২৮:৩৪)।
উপরিউক্ত আয়াতে হযরত মূসা (আ) হযরত হারুন (আ) তাঁহার চাইতে শুদ্ধভাষী ও বাগ্মী ছিলেন বলিয়া যে বক্তব্য উপস্থাপন করিয়াছেন সেই সম্পর্কে তাফসীরকার ও ঐতিহাসিকগণ বিভিন্ন মত দিয়াছেন। হযরত হারুন (আ) মিসরী ও হিব্রু উভয় ভাষায়ই খুব পারদর্শী ও অভিজ্ঞ ছিলেন। মিসরী ভাষা তাঁহার দেশীয় ভাষা আর হিব্রু তাঁহার মাতৃভাষা ছিল (হিফযur রহমান; কাসাসুল কুরআন, বাংলা অনু., ২খ, পৃ. ৬১)।
মোটকথা, হযরত মূসা (আ)-এর আবেদন ও প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে, সর্বোপরি আল্লাহর একান্ত রহমত ও অনুগ্রহে হযরত হারুন (আ) নবুওয়াত লাভ করেন। আল্লাহ্ বলেন:
وَوَهَبْنَالَهُ مِنْ رَّحْمَتِنَا أَخَاهُ هُرُونَ نَبِيًّا ...
“আমি নিজ অনুগ্রহে তাহাকে (মূসাকে) দিলাম তাহার ভ্রাতা হারুনকে নবীরূপে” (১৯:৫৩)। হারুন (আ)-কে নবী করার ব্যাপারে মূসা (আ)-এর দোআ কবুল করা প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
قَالَ قَدْ أُوتِيْتَ سُؤْلُكَ يَمُوسى .
“তিনি বলিলেন, হে মূসা! তুমি যাহা চাহিয়াছ, তাহা, তোমাকে দেওয়া হইল” (২০:৩৬)।
হযরত মূসা (আ)-এর জীবদ্দশায় হযরত হারুন (আ)-এর দায়িত্ব পালন
হযরত হারুন (আ)-কে নবুওয়াত দান করিয়া আল্লাহ তা'আলা হযরত মূসা (আ)-কে নির্দেশ দিলেন যে, তিনি যেন হযরত হারুনকে সঙ্গে নিয়া ফিরআওনকে তাওহীদের দাওয়াত দিতে মিসর যাওয়ার নির্দেশ দান করেন। আল্লাহ্র এই নির্দেশের প্রেক্ষিতে হযরত মূসা (আ) আল্লাহ্র নিকট আরয করিলেন:
قَالَ رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِّنْ لِسَانِي يَفْقَهُوا قَوْلِي وَاجْعَلْ لِي وَزِيرًا مِّنْ أَهْلِي هُرُونَ أَخِي اشْدُدْ بِهِ أَزْرِي وَأَشْرِكْهُ فِي أَمْرِي كَيْ نُسَبِّحَكَ كَثِيرًا وَنَذْكُرَكَ كَثِيرًا إِنَّكَ كُنْتَ بِنَا بَصِيرًا .
"মূসা বলিল, হে আমার প্রতিপালক! আমার বক্ষ প্রশস্ত করিয়া দাও এবং আমার কর্ম সহজ করিয়া দাও। আমার জিহ্বার জড়তা দূর করিয়া দাও, যাহাতে উহারা আমার কথা বুঝিতে পারে। আমার জন্য করিয়া দাও একজন সাহায্যকারী আমার স্বজনবর্গের মধ্য হইতে; আমার ভ্রাতা হারুনকে; তাহার দ্বারা আমার শক্তি সুদৃঢ় কর ও তাহাকে আমার কর্মে অংশী কর। যাহাতে আমরা তোমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করিতে পারি প্রচুর এবং তোমাকে স্মরণ করিতে পারি অধিক। তুমি তো আমাদিগের সম্যক দ্রষ্টা" (২০-২৫ : ৩৫)।
এই ক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে, জিহ্বার জড়তার কারণে এবং ইতোপূর্বে এক কিত্তীকে হত্যা করিয়া হযরত মূসা (আ) ফিরআওনের নিকট যাওয়ার ব্যাপারে সাচ্ছন্দ্যবোধ করিতেছিলেন না। পবিত্র কুরআনে হযরত মূসা (আ)-র কথা নিম্নোক্তভাবে বর্ণিত হইয়াছে:
وَيَضِيقُ صَدْرِي وَلَا يَنْطَلِقُ لِسَانِي فَأَرْسِلْ إِلَى هُرُونَ .
“এবং আমার হৃদয় সংকুচিত হইয়া পড়িতেছে, আর আমার জিহ্বা তো সাবলীল নাই। সুতরাং হারূনের প্রতিও প্রত্যাদেশ পাঠাও” (২৬ : ১৩)।
হযরত হারুন (আ) হযরত মূসা (আ)-এর তুলনায় অধিক বাকপটু, বাগ্মী, শুদ্ধভাষী ও বক্তব্য উপস্থাপনে পারদর্শী ছিলেন। তাই হযরত মূসা (আ) হযরত হারূনের মত যোগ্যতার অধিকারী এই ভাইকে তাঁহার পক্ষে কথা বলার জন্য তাঁহাকে সহায়তা করার জন্য চাহিয়াছিলেন। পবিত্র কুরআনে বলা হইয়াছে:
وَأَخِي هَرُونَ هُوَ أَفْصَحُ مِنِّى لِسَانًا فَأَرْسِلْهُ مَعِى رِدًا يُصَدِّقُنِي إِنِّي أَخَافُ أَنْ يُكَذِّبُونِ .
“আমার ভ্রাতা হারুন আমা অপেক্ষা বাগ্মী; অতএব তাহাকে আমার সাহায্যকারীরূপে প্রেরণ কর, সে আমাকে সমর্থন করিবে। আমি আশংকা করি উহারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলিবে” (২৮:৩৪)।
উপরিউক্ত আয়াতে হযরত মূসা (আ) হযরত হারুন (আ) তাঁহার চাইতে শুদ্ধভাষী ও বাগ্মী ছিলেন বলিয়া যে বক্তব্য উপস্থাপন করিয়াছেন সেই সম্পর্কে তাফসীরকার ও ঐতিহাসিকগণ বিভিন্ন মত দিয়াছেন। হযরত হারুন (আ) মিসরী ও হিব্রু উভয় ভাষায়ই খুব পারদর্শী ও অভিজ্ঞ ছিলেন। মিসরী ভাষা তাঁহার দেশীয় ভাষা আর হিব্রু তাঁহার মাতৃভাষা ছিল (হিফযur রহমান; কাসাসুল কুরআন, বাংলা অনু., ২খ, পৃ. ৬১)।
মোটকথা, হযরত মূসা (আ)-এর আবেদন ও প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে, সর্বোপরি আল্লাহর একান্ত রহমত ও অনুগ্রহে হযরত হারুন (আ) নবুওয়াত লাভ করেন। আল্লাহ্ বলেন:
وَوَهَبْنَالَهُ مِنْ رَّحْمَتِنَا أَخَاهُ هُرُونَ نَبِيًّا ...
“আমি নিজ অনুগ্রহে তাহাকে (মূসাকে) দিলাম তাহার ভ্রাতা হারুনকে নবীরূপে” (১৯:৫৩)। হারুন (আ)-কে নবী করার ব্যাপারে মূসা (আ)-এর দোআ কবুল করা প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
قَالَ قَدْ أُوتِيْتَ سُؤْلُكَ يَمُوسى .
“তিনি বলিলেন, হে মূসা! তুমি যাহা চাহিয়াছ, তাহা, তোমাকে দেওয়া হইল” (২০:৩৬)।
হযরত মূসা (আ)-এর জীবদ্দশায় হযরত হারুন (আ)-এর দায়িত্ব পালন
হযরত হারুন (আ)-কে নবুওয়াত দান করিয়া আল্লাহ তা'আলা হযরত মূসা (আ)-কে নির্দেশ দিলেন যে, তিনি যেন হযরত হারুনকে সঙ্গে নিয়া ফিরআওনকে তাওহীদের দাওয়াত দিতে মিসর যাওয়ার নির্দেশ দান করেন। আল্লাহ্র এই নির্দেশের প্রেক্ষিতে হযরত মূসা (আ) আল্লাহ্র নিকট আরয করিলেন:
قَالَ رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِّنْ لِسَانِي يَفْقَهُوا قَوْلِي وَاجْعَلْ لِي وَزِيرًا مِّنْ أَهْلِي هُرُونَ أَخِي اشْدُدْ بِهِ أَزْرِي وَأَشْرِكْهُ فِي أَمْرِي كَيْ نُسَبِّحَكَ كَثِيرًا وَنَذْكُرَكَ كَثِيرًا إِنَّكَ كُنْتَ بِنَا بَصِيرًا .
"মূসা বলিল, হে আমার প্রতিপালক! আমার বক্ষ প্রশস্ত করিয়া দাও এবং আমার কর্ম সহজ করিয়া দাও। আমার জিহ্বার জড়তা দূর করিয়া দাও, যাহাতে উহারা আমার কথা বুঝিতে পারে। আমার জন্য করিয়া দাও একজন সাহায্যকারী আমার স্বজনবর্গের মধ্য হইতে; আমার ভ্রাতা হারুনকে; তাহার দ্বারা আমার শক্তি সুদৃঢ় কর ও তাহাকে আমার কর্মে অংশী কর। যাহাতে আমরা তোমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করিতে পারি প্রচুর এবং তোমাকে স্মরণ করিতে পারি অধিক। তুমি তো আমাদিগের সম্যক দ্রষ্টা" (২০-২৫ : ৩৫)।
এই ক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে, জিহ্বার জড়তার কারণে এবং ইতোপূর্বে এক কিত্তীকে হত্যা করিয়া হযরত মূসা (আ) ফিরআওনের নিকট যাওয়ার ব্যাপারে সাচ্ছন্দ্যবোধ করিতেছিলেন না। পবিত্র কুরআনে হযরত মূসা (আ)-র কথা নিম্নোক্তভাবে বর্ণিত হইয়াছে:
وَيَضِيقُ صَدْرِي وَلَا يَنْطَلِقُ لِسَانِي فَأَرْسِلْ إِلَى هُرُونَ .
“এবং আমার হৃদয় সংকুচিত হইয়া পড়িতেছে, আর আমার জিহ্বা তো সাবলীল নাই। সুতরাং হারূনের প্রতিও প্রত্যাদেশ পাঠাও” (২৬ : ১৩)।
হযরত হারুন (আ) হযরত মূসা (আ)-এর তুলনায় অধিক বাকপটু, বাগ্মী, শুদ্ধভাষী ও বক্তব্য উপস্থাপনে পারদর্শী ছিলেন। তাই হযরত মূসা (আ) হযরত হারূনের মত যোগ্যতার অধিকারী এই ভাইকে তাঁহার পক্ষে কথা বলার জন্য তাঁহাকে সহায়তা করার জন্য চাহিয়াছিলেন। পবিত্র কুরআনে বলা হইয়াছে:
وَأَخِي هَرُونَ هُوَ أَفْصَحُ مِنِّى لِسَانًا فَأَرْسِلْهُ مَعِى رِدًا يُصَدِّقُنِي إِنِّي أَخَافُ أَنْ يُكَذِّبُونِ .
“আমার ভ্রাতা হারুন আমা অপেক্ষা বাগ্মী; অতএব তাহাকে আমার সাহায্যকারীরূপে প্রেরণ কর, সে আমাকে সমর্থন করিবে। আমি আশংকা করি উহারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলিবে” (২৮:৩৪)।
উপরিউক্ত আয়াতে হযরত মূসা (আ) হযরত হারুন (আ) তাঁহার চাইতে শুদ্ধভাষী ও বাগ্মী ছিলেন বলিয়া যে বক্তব্য উপস্থাপন করিয়াছেন সেই সম্পর্কে তাফসীরকার ও ঐতিহাসিকগণ বিভিন্ন মত দিয়াছেন। হযরত হারুন (আ) মিসরী ও হিব্রু উভয় ভাষায়ই খুব পারদর্শী ও অভিজ্ঞ ছিলেন। মিসরী ভাষা তাঁহার দেশীয় ভাষা আর হিব্রু তাঁহার মাতৃভাষা ছিল (হিফযur রহমান; কাসাসুল কুরআন, বাংলা অনু., ২খ, পৃ. ৬১)।
মোটকথা, হযরত মূসা (আ)-এর আবেদন ও প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে, সর্বোপরি আল্লাহর একান্ত রহমত ও অনুগ্রহে হযরত হারুন (আ) নবুওয়াত লাভ করেন। আল্লাহ্ বলেন:
وَوَهَبْنَالَهُ مِنْ رَّحْمَتِنَا أَخَاهُ هُرُونَ نَبِيًّا ...
“আমি নিজ অনুগ্রহে তাহাকে (মূসাকে) দিলাম তাহার ভ্রাতা হারুনকে নবীরূপে” (১৯:৫৩)। হারুন (আ)-কে নবী করার ব্যাপারে মূসা (আ)-এর দোআ কবুল করা প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
قَالَ قَدْ أُوتِيْتَ سُؤْلُكَ يَمُوسى .
“তিনি বলিলেন, হে মূসা! তুমি যাহা চাহিয়াছ, তাহা, তোমাকে দেওয়া হইল” (২০:৩৬)।
হযরত মূসা (আ)-এর জীবদ্দশায় হযরত হারুন (আ)-এর দায়িত্ব পালন
হযরত হারুন (আ)-কে নবুওয়াত দান করিয়া আল্লাহ তা'আলা হযরত মূসা (আ)-কে নির্দেশ দিলেন যে, তিনি যেন হযরত হারুনকে সঙ্গে নিয়া ফিরআওনকে তাওহীদের দাওয়াত দিতে মিসর যাওয়ার নির্দেশ দান করেন। আল্লাহ্র এই নির্দেশের প্রেক্ষিতে হযরত মূসা (আ) আল্লাহ্র নিকট আরয করিলেন:
قَالَ رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِّنْ لِسَانِي يَفْقَهُوا قَوْلِي وَاجْعَلْ لِي وَزِيرًا مِّنْ أَهْلِي هُرُونَ أَخِي اشْدُدْ بِهِ أَزْرِي وَأَشْرِكْهُ فِي أَمْرِي كَيْ نُسَبِّحَكَ كَثِيرًا وَنَذْكُرَكَ كَثِيرًا إِنَّكَ كُنْتَ بِنَا بَصِيرًا .
"মূসা বলিল, হে আমার প্রতিপালক! আমার বক্ষ প্রশস্ত করিয়া দাও এবং আমার কর্ম সহজ করিয়া দাও। আমার জিহ্বার জড়তা দূর করিয়া দাও, যাহাতে উহারা আমার কথা বুঝিতে পারে। আমার জন্য করিয়া দাও একজন সাহায্যকারী আমার স্বজনবর্গের মধ্য হইতে; আমার ভ্রাতা হারুনকে; তাহার দ্বারা আমার শক্তি সুদৃঢ় কর ও তাহাকে আমার কর্মে অংশী কর। যাহাতে আমরা তোমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করিতে পারি প্রচুর এবং তোমাকে স্মরণ করিতে পারি অধিক। তুমি তো আমাদিগের সম্যক দ্রষ্টা" (২০-২৫ : ৩৫)।
এই ক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে, জিহ্বার জড়তার কারণে এবং ইতোপূর্বে এক কিত্তীকে হত্যা করিয়া হযরত মূসা (আ) ফিরআওনের নিকট যাওয়ার ব্যাপারে সাচ্ছন্দ্যবোধ করিতেছিলেন না। পবিত্র কুরআনে হযরত মূসা (আ)-র কথা নিম্নোক্তভাবে বর্ণিত হইয়াছে:
وَيَضِيقُ صَدْرِي وَلَا يَنْطَلِقُ لِسَانِي فَأَرْسِلْ إِلَى هُرُونَ .
“এবং আমার হৃদয় সংকুচিত হইয়া পড়িতেছে, আর আমার জিহ্বা তো সাবলীল নাই। সুতরাং হারূনের প্রতিও প্রত্যাদেশ পাঠাও” (২৬ : ১৩)।
হযরত হারুন (আ) হযরত মূসা (আ)-এর তুলনায় অধিক বাকপটু, বাগ্মী, শুদ্ধভাষী ও বক্তব্য উপস্থাপনে পারদর্শী ছিলেন। তাই হযরত মূসা (আ) হযরত হারূনের মত যোগ্যতার অধিকারী এই ভাইকে তাঁহার পক্ষে কথা বলার জন্য তাঁহাকে সহায়তা করার জন্য চাহিয়াছিলেন। পবিত্র কুরআনে বলা হইয়াছে:
وَأَخِي هَرُونَ هُوَ أَفْصَحُ مِنِّى لِسَانًا فَأَرْسِلْهُ مَعِى رِدًا يُصَدِّقُنِي إِنِّي أَخَافُ أَنْ يُكَذِّبُونِ .
“আমার ভ্রাতা হারুন আমা অপেক্ষা বাগ্মী; অতএব তাহাকে আমার সাহায্যকারীরূপে প্রেরণ কর, সে আমাকে সমর্থন করিবে। আমি আশংকা করি উহারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলিবে” (২৮:৩৪)।
উপরিউক্ত আয়াতে হযরত মূসা (আ) হযরত হারুন (আ) তাঁহার চাইতে শুদ্ধভাষী ও বাগ্মী ছিলেন বলিয়া যে বক্তব্য উপস্থাপন করিয়াছেন সেই সম্পর্কে তাফসীরকার ও ঐতিহাসিকগণ বিভিন্ন মত দিয়াছেন। হযরত হারুন (আ) মিসরী ও হিব্রু উভয় ভাষায়ই খুব পারদর্শী ও অভিজ্ঞ ছিলেন। মিসরী ভাষা তাঁহার দেশীয় ভাষা আর হিব্রু তাঁহার মাতৃভাষা ছিল (হিফযur রহমান; কাসাসুল কুরআন, বাংলা অনু., ২খ, পৃ. ৬১)।
মোটকথা, হযরত মূসা (আ)-এর আবেদন ও প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে, সর্বোপরি আল্লাহর একান্ত রহমত ও অনুগ্রহে হযরত হারুন (আ) নবুওয়াত লাভ করেন। আল্লাহ্ বলেন:
وَوَهَبْنَالَهُ مِنْ رَّحْمَتِنَا أَخَاهُ هُرُونَ نَبِيًّا ...
“আমি নিজ অনুগ্রহে তাহাকে (মূসাকে) দিলাম তাহার ভ্রাতা হারুনকে নবীরূপে” (১৯:৫৩)। হারুন (আ)-কে নবী করার ব্যাপারে মূসা (আ)-এর দোআ কবুল করা প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
قَالَ قَدْ أُوتِيْتَ سُؤْلُكَ يَمُوسى .
“তিনি বলিলেন, হে মূসা! তুমি যাহা চাহিয়াছ, তাহা, তোমাকে দেওয়া হইল” (২০:৩৬)।
আল্লাহ্র উপরিউক্ত নির্দেশমতে হযরত হারূন (আ) হযরত মূসা (আ)-এর সঙ্গে মিলিত হইলেন। দুই ভ্রাতা মিলিত হওয়ার ঘটনা কাসাসুল কুরআনে নিম্নোক্তরূপে বর্ণনা করা হইয়াছে :
আল্লাহ পাকের আদেশ পালনের জন্য মূসা মিসর অভিমুখে রওয়ানা হইলেন। যখন তিনি মিসরে পৌঁছিলেন, তখন রাত্রি হইয়া গিয়াছিল। চুপি চুপি মিসরে প্রবেশপূর্বক নিজের বাড়িতে গিয়া পৌঁছিলেন। তখন তাঁহার মা ও বড় ভাই হারূন (আ) রাতের আহার গ্রহণ করিতেছিলেন। তিনিও তাঁহাদের সহিত আহার করিলেন। অতঃপর হারুন (আ) কে বলিলেন, "আল্লাহ আমাকে ও তোমাকে ফিরাআওনের নিকট গিয়া আল্লাহর দাসত্ব ও আনুগত্য স্বীকার করার দাওয়াত দিতে আদেশ দিয়াছেন। তুমি আমার সঙ্গে চল। তখন উভয়ই ফিরআওনের প্রাসাদের দিকে রওয়ানা হইলেন। সেখানে পৌঁছিয়া দেখিলেন, প্রাসাদের কপাট বন্ধ। মূসা (আ) দ্বাররক্ষী ও সচিবদের (হাজিব) বলিলেন, 'তোমরা ফিরআওনকে গিয়া, বুল যে, আল্লাহর রাসূল দরজায় অপেক্ষা করিতেছেন। তাহারা তখন তাঁহার সঙ্গে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করিতে লাগিল। ফিরআওনের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য মূসা (আ)-কে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করিতে হইয়াছিল। মতান্তরে তিনি স্বীয় লাঠি দ্বারা দরজায় আঘাত করিলে ফিরআওন দুই ভাইকে ডকিয়া পাঠায়। "আর সদাপ্রভু হারোণকে বলিলেন, তুমি মোশির সহিত সাক্ষাত করিতে প্রান্তরে যাও। তাহাতে তিনি গিয়া ঈশ্বরের পর্বতে তাঁহার দেখা পাইলেন ও তাঁহাকে চুম্বন করিলেন। তখন মোশি প্রেরণকর্তা সদাপ্রভুর সমস্ত বাক্য ও তাহাদের আজ্ঞাপিত সমস্ত চিহ্নের বিষয় হারোণকে জ্ঞাত করিলেন। পরে মোশি ও হারোণ গিয়া ইস্রায়েল সন্তানদের সমস্ত প্রাচীনকে একত্র করিলেন। আর হারোণু মোশির প্রতি সদাপ্রভুর কথিত সমস্ত বাক্য তাহাদিগকে জ্ঞাত করিলেন এবং তিনি লোকদের দৃষ্টিতে সেই সকল চিহ্ন-কার্য করিলেন। তাহাতে লোকেরা বিশ্বাস করিল; এবং সদাপ্রভু ইসরাঈল সন্তানদিগের তত্ত্বাবধান করিয়াছেন ও তাহাদের দুঃখ দেখিয়াছেন, ইহা শুনিয়া তাহারা মস্তক নমন পূর্বক প্রণিপাত করিল" (পবিত্র বাইবেল, যাত্রাপুস্তক ৪৪৪ ২৭-৩১)।
হযরত হারুন (আ) ও হযরত মূসা (আ) উভয়ের সাক্ষাতের পর তাঁহারা পরস্পরের মধ্যে কথাবার্তা সমাপ্ত করিয়া সিদ্ধান্ত নিলেন যে, আল্লাহ তা'আলার আদেশ পালনের উদ্দেশে ফিরআওনের নিকট যাওয়া এবং তাহাকে আল্লাহ তা'আলার পয়গাম পৌঁছাইয়া দেওয়া উচিত। কোন কোন তাফসীরকার লিখিয়াছেন, যখন উভয় ভ্রাতা ফিরআওনের দরবারে গমন করিতে উদ্যত হইলেন, তখন তাঁহাদের মাতা স্নেহাতিশয্যের দরুন তাঁহাদিগকে বারণ করিতে চাহিলেন। "তোমরা এমন ব্যক্তির নিকট যাইতে চাহিতেছ, যে যুগপৎ রাজমুকুট এবং রাজসিংহাসনের মালিক, যালিম এবং অহংকারী। সেখানে যাইও না, সেখানে যাওয়া বিফল হইবে। কিন্তু উভয়ে মাতাকে বুঝাইলেন, আল্লাহ তা'আলার আদেশ লংঘন করা যায় না। তিনি ওয়াদা করিয়াছেন যে, আমরা সফলকাম হইব। যাহা হউক, উভয় ভ্রাতা ফিরআওনের দরবারে পৌঁছিলেন এবং নির্ভয়ে ও নিশ্চিন্তে ভিতরে প্রবেশ করিলেন। ফিরআওনের সিংহাসনের নিকট পৌঁছিয়া হযরত মূসা (আ) ও হারূন (আ) নিজেদের আগমনের কারণ বর্ণনা করিলেন। যখন কথোপকথন আরম্ভ হইল, তাঁহারা বলিলেন, ফিরআওন! আল্লাহ তা'আলা আমাদিগকে রাসূল নিযুক্ত করিয়া তোমার নিকট পাঠাইয়াছেন। আমরা তোমার নিকট দুইটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চাহিতেছি। একটি এই যে, আল্লাহ তা'আলাকে একক ও অদ্বিতীয় বলিয়া বিশ্বাস এবং কাহাকেও তাঁহারে শরীক সাব্যস্ত করিবে না। দ্বিতীয়টি হইল, যুলম ও অত্যাচার হইতে নিবৃত্ত হও এবং বনী ইসরাঈলকে আপনার দাসত্ব হইতে মুক্ত করিয়া দাও। আমরা যাহা কিছু বলিতেছি, দৃঢ় বিশ্বাস কর যে, আমরা বানোয়াট এবং কৃত্রিম বলিতেছি না। আমাদের এমন দুঃসাহসও নাই যে, আমরা আল্লাহ তা'আলা সম্বন্ধে মিথ্যা কথা বলিব। আমাদের সত্যতা প্রমাণের জন্য যেমন আমাদের এই শিক্ষা স্বয়ং সাক্ষী রহিয়াছে তদ্রূপ আল্লাহ আমাদিগকে দুইটি মু'জিযাও দান করিয়াছেন। অতএব তোমার জন্য ইহাই সঙ্গত হইবে যে, সত্যকে ও আল্লাহ পাকের এই পয়গামকে কবূল করিয়া নাও এবং বনী ইসরাঈলকে মুক্তি দাও (হিফজুর রহমান সিওহারাবী, কাসাসূল কুরআন, বংগানুবাদ নূরুর রহমান, ২খ, পৃ. ৭৬-৭৭)।
হযরত মূসা (আ) ও হযরত হারুন (আ)-এর এই আহবানে ফিরআওন সাড়া দেওয়া তো দূরের কথা, উপরন্তু ফিরআওন তাহার মন্ত্রী হামানকে একটি উচ্চ ইমারত নির্মাণ করিতে আদেশ দিল যাহাতে সে মূসা ও হারূনের খোদার অবস্থা জানিতে পারে এবং খোদা ও তাহাদের উভয়ের মুকাবিলা করিতে পারে। তাঁহারা উভয়ে ফিরআওনকে সর্বতোভাবে বুঝাইলেন, কিন্তু সে ও তাহার সভাসদগণ ক্ষিপ্ত হইয়া মুকাবিলার চ্যালেঞ্জ জানাইল, এমনকি তাঁহাদের জেলখানায় বন্দী করার হুমকি দিল। এমতাবস্থায় আল্লাহ তা'আলা হযরত মূসার মাধ্যমে কতিপয় মু'জিযার প্রকাশ ঘটান। তন্মধ্যে একটি হইল ফিরআওনের দরবারে হযরত মূসার লাঠি ফেলিয়া দেওয়া এবং সেই লাঠি এক বিরাটকায় অজগরের আকৃতি ধারণ করা। তবে পবিত্র কুরআনের বর্ণনায় এই মুজিযা হযরত মূসার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। কিন্তু বাইবেলের বর্ণনায় দেখা যায় যে, লাঠি অজগর হইয়া যাওয়ার মুজিযাটি পবিত্র কুরআনের বর্ণনা ও বাইবেলের বর্ণনা পরস্পরবিরোধী। তবে কুরআনের বর্ণনাই সঠিক ও গ্রহণযোগ্য। তবে বিষয়টির এইভাবে সমন্বয় করা যাইতে পারে যে, যেহেতু হযরত হারুন (আ) প্রায় সর্বক্ষেত্রেই হযরত মূসা (আ)-এর সঙ্গী, সহকারী, সাহায্যকারী ও সহসংঘটক ছিলেন, সেইহেতু এই ক্ষেত্রেও হযরত হারুন হযরত মূসার দ্বারা সংঘটিত এই মুজিয়ার সহসংঘটক ছিলেন ও সশরীরে উপস্থিত ছিলেন।
হযরত মূসা ও হারুন (আ) অতঃপর বনী ইসরাঈলকে সঙ্গে লইয়া তুর ময়দান হইতে সীন বা সীনাই-এর পথ ধরিলেন। সীনার দেব মন্দিরসমূহে তখন মূর্তিপূজকরা মূর্তিপূজায় রত ছিল। বনী ইসরাঈল এই দৃশ্য দেখিয়া বলিতে লাগিল, আমাদেরকেও এইরূপ মাবুদ বানাইয়া দাও। তাহা হইলে আমরা ইহাদের মত উহাদের পূজা করিব। হযরত মূসা বনী ইসরাঈলের এ অকৃতজ্ঞতা ও শিরক্-এর ধ্যান-ধারণার জন্য শাসাইলেন। কিন্তু তাহারা সাময়িকভাবে নিবৃত্ত হইলেও পরে সামেরীর প্ররোচনায় বাহুর পূজায় লিপ্ত হইয়া পড়ে।
হযরত মূসা (আ) যখন তুর পাহাড়ে ৪০ দিনের ই'তিকাফের জন্য গমন করেন তখন হযরত হারুন (আ)-কে তাঁহার স্থলাভিষিক্ত করিয়া যান এবং মানুষকে হিদায়াত করা, আহকামে শারী'আতের প্রচলন ও প্রয়োগ এবং নেতৃত্বের যে অধিকার কেবল মূসার জন্য খাস ছিল, তিনি তাহার সব কিছুই হযরত হারুনকে অর্পণ করিয়া যান এবং বনী ইসরাঈলের হিদায়াতের দায়িত্ব তাঁহাকে দিয়া যান। এই সম্পর্কে তিনি হারুন (আ)-কে পরামর্শ দেন যে, বনী ইসরাঈল অস্থির স্বভাবের লোক। যদি আমার অনুপস্থিতিতে ইহারা গোমরাহীর পথে ধাবিত হয়, তাহা হইলে ইহাদের প্রতিরোধ করার চেষ্টা করিবে এবং আমার কর্ম-পদ্ধতি অনুসরণ করিবে। উপরন্তু ইহাও লক্ষ্য রাখিবে যেন আমার অনুপস্থিতিতে বনী ইসরাঈলের মধ্যে বিভেদ ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি না হয় (আম্বিয়ায়ে কুরআন, ২খ, পৃ. ২৯০)। পবিত্র কুরআনে বলা হইয়াছেঃ এবং মূসা তাহার ভ্রাতা হারুনকে বলিল, 'আমার অনুপস্থিতিতে আমার সম্প্রদায়ের মধ্যে তুমি আমার প্রতিনিধিত্ব করিবে, সংশোধন করিবে এবং বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পথ অনুসরণ করিবে না' (দ্র. সূরা আ'রাফ: ১৪২)।
📄 বাছুর পূজার পিছু হইয়া পড়া
কিন্তু হযরত মূসা (আ) তুর পাহাড়ে চলিয়া যাওয়ার পর কতিপয় এমন ঘটনা সংঘটিত হয় যাহাতে তাঁহার আশংকাই সত্য হইয়া দেখা দেয় এবং যেভাবে তিনি হযরত হারুনকে বনী ইসরাঈলের তত্ত্বাবধান করিতে বলিয়াছিলেন, তাহা শেষ পর্যন্ত সম্ভব হয় নাই। তাহারা মিসর হইতে চলিয়া আসার সময় যেসব স্বর্ণালংকার তাহাদের সঙ্গে নিয়া আসিয়াছিল, হযরত মূসা (আ) তুর পাহাড়ে যাওয়ার পর সামেরী স্বর্ণালংকারসমূহ গলাইয়া সেই স্বর্ণের দ্বারা একটি বাছুর বানায়। সে একটি কল তৈরি করিয়া বাছুরের ভিতরে স্থাপন করিয়া দেয়। ফলে ইহার ভিতর হইতে এক ধরনের আওয়াজ বাহির হইতেছিল। সামেরী বনী ইসরাঈলকে বলে যে, মূসা কোথায় আছে জানি না এবং সে কোন খোদাকে তালাশ করিতে গিয়াছে? তোমাদের খোদা তো ইহাই। তখন বনী ইসরাঈল এই বাছুরের চতুষ্পার্শ্ব ঘিরিয়া দাঁড়াইল এবং ইহাকেই পূজা করিতে শুরু করিয়া দিল (মুহাম্মদ জামীল আহমদ, আম্বিয়ায়ে কুরআন, ২খ, পৃ. ২৯০-২৯১)।
সামেরী যখন বনী ইসরাঈলকে উৎসাহ প্রদান করিল যে, তাহারা যেন তাহার স্বহস্তে নির্মিত গো-বাছুরকে নিজেদের মা'বৃদ মনে করে এবং উহার পূজা করে, তখন তাহারা সহজে উহা কবুল করিয়া লইল। হযরত হারুন (আ) ইহা দেখিয়া বনী ইসরাঈলকে খুব বুঝাইলেন যে, এরূপ করিও না। ইহা তো গোমরাহীর পথ। কিন্তু তাহারা হারূন (আ)-এর কথা মান্য করিতে অস্বীকার করিল এবং বলিল, আমরা যাহা অবলম্বন করিয়াছি মূসা (আ) ফিরিয়া না আসা পর্যন্ত উহা হইতে নিবৃত্ত হইব না (হিফজুর রহমান সিওহারাবী, কাসাসুল কুরআন, বংগানুবাদ ২খ, পৃ. ২০০-২০১)।
কেবল ইহাই নহে, যখন হযরত হারূন বনী ইসরাঈলকে ঐ শির্ক হইতে বিরত রাখার জন্য এবং তাহাদের সংশোধন ও হিদায়াতের জন্য আরও তৎপর হইলেন, তখন তাহারা আরও বিগড়াইয়া যায় এবং হযরত হারূন (আ)-কে হত্যা করিতে উদ্যত হয়। পবিত্র কুরআনে হযরত হারূনের বক্তব্য নিম্নোক্তভাবে বিধৃত হইয়াছেঃ "হারূন বলিল, হে আমার সহোদর! লোকেরা তো আমাকে দুর্বল মনে করিয়াছিল এবং আমাকে প্রায় হত্যা করিয়াই ফেলিয়াছিল" (দ্র. সূরা আ'রাফ: ১৫০)।
উপরিউক্ত বর্ণনায় ইহা স্পষ্ট যে, হারূন (আ) আপ্রাণ চেষ্টা করিয়াছিলেন, কিন্তু পাছে বনী ইসরাঈলের মধ্যে বিভেদও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, এই আশংকায় তিনি হযরত মূসা (আ)-র প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষা করিতে লাগিলেন (মুহাম্মাদ জামীল আহমাদ, আম্বিয়ায়ে কুরআন, ২খ, পৃ. ২৯১)।