📄 মিসরীয় নারীদের অবস্থা
মিসরের রাজা-উযীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা তথা সকল সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীই ফিরআওনের সহিত বানু ইসরাঈলের পাকড়াও অভিযানে বাহির হয় এবং সকলেই পানিতে ডুবিয়া মারা যায়। অবশিষ্ট ছিল শুধু শিশু, বৃদ্ধ, মহিলা, নিম্ন পর্যায়ের চাকুরীজীবি ও দাসগণ। তখন উচ্চপদস্থ লোকদের বিধবা স্ত্রীরা বাধ্য হইয়া তাহাদের নিম্ন পদস্থ চাকুরীজীবি পুরুষ ও চাকর-বাকরদের সহিত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। এইজন্য তাহারা নূতন স্বামীদের উপর পূর্বের ন্যায়ই প্রাধান্য ও কর্তৃত্ব প্রয়োগ করিতে থাকে, যাহা আজ পর্যন্ত (লেখকের সময়কাল) মিসরীয় সংস্কৃতির অংশরূপে চালু রহিয়াছে (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ১খ, ২৭৪)।
📄 ফিরআওন ও তাহার সম্প্রদায়ের শাস্তি
দুনিয়াতে ফিরআওন ও তাহার সম্প্রদায়ের কিছু শাস্তি ও তাহাদের অপমানজনক পরিণতির কথা ইতোপূর্বে উল্লিখিত হইয়াছে; বারযাখ জগতে (মৃত্যুর পর হইতে কিয়ামতের পূর্ব পর্যন্ত) তাহাদের শাস্তির কথা কুরআন কারীমে এইভাবে উল্লিখিত হইয়াছে: وَحَاقَ بِالِ فِرْعَوْنَ سُوءَ الْعَذَابِ . النَّارُ يُعْرَضُونَ عَلَيْهَا غُدُوا وَعَشِيًّا (٤٦-٤٥ : ٤٠) "এবং কঠিন শাস্তি পরিবেষ্টন করিল ফিরআওন সম্প্রদায়কে। সকাল-সন্ধ্যায় উহাদিগকে উপস্থিত করা হয় আগুনের সম্মুখে" (৪০ : ৪৫-৪৬)।
এই অবস্থা কিয়ামত পর্যন্ত চলিতে থাকিবে। দুনিয়াতে ও আখিরাতে তাহার উপর অভিসম্পাত। কিয়ামতের দিন সে তাহার সম্প্রদায়সহ চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামে প্রবেশ করিবে। ইরশাদ হইয়াছে: يَقْدُمُ قَوْمَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَأَوْرَدَهُمُ النَّارَ وَبِئْسَ الْوِرْدُ المَوْرُودُ. وَاتَّبِعُوا فِي هَذِهِ لَعْنَةً وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ بِئْسَ الرقدُ الْمَرْفُودُ (۹۹-۹۸ : ۱۱) "সে (ফিরআওন) কিয়ামতের দিন তাহার সম্প্রদায়ের অগ্রভাগে থাকিবে এবং সে উহাদিগকে লইয়া অগ্নিতে প্রবেশ করিবে। যেখানে তাহারা প্রবেশ করিবে তাহা কত নিকৃষ্ট স্থান! এই দুনিয়ায় উহাদিগকে করা হইয়াছিল অভিশাপগ্রস্ত এবং অভিশাপগ্রস্ত হইবে উহারা কিয়ামতের দিনেও। কত নিকৃষ্ট সে পুরস্কার যাহা উহাদিগকে দেওয়া হইবে" (১১ঃ ৯৮-৯৯)।
وَجَعَلْنَاهُمْ أَئِمَّةً يَدْعُونَ إِلَى النَّارِ وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ لَا يُنْصَرُونَ. وَاتَّبَعْنَاهُمْ فِي هذه الدُّنْيَا لَعَنَةً وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ هُمْ مِّنَ الْمَقْبُوحِينَ (٤٢-٤١ : ٢٨) "উহাদিগকে আমি নেতা করিয়াছিলাম। উহারা লোকদিগকে জাহান্নামের দিকে আহবান করিত। কিয়ামতের দিন উহাদিগকে সাহায্য করা হইবে না। এই পৃথিবীতে আমি উহাদের পশ্চাতে লাগাইয়া দিয়াছি অভিসম্পাত এবং কিয়ামতের দিন উহারা হইবে ঘৃণিত" (২৮ঃ ৪১-৪২)।
📄 বানু ইসরাঈল সীনাই অঞ্চলে
বাইবেলে বর্ণিত আছে যে, বানু ইসরাঈল সহীহ-সালামতে লোহিত সাগর পার হইয়া গেল এবং স্বচক্ষে ফিরআওন ও তাহার সম্প্রদায়ের লোকজনকে ডুবিয়া মরিতে এবং ফিরআওনের লাশ ভাসিয়া উঠিতে দেখিয়া স্বাভাবিকভাবেই তাহারা খুবই আনন্দ-উল্লাস প্রকাশ করিল। এই আনন্দ প্রকাশের পর মূসা (আ) তাঁহার সম্প্রদায়ের লোকজন একত্র করিয়া বলিলেন, আল্লাহ তাআলা তোমাদের উদ্দেশ্যে বলিয়াছেন যে, আল্লাহই তোমাদিগকে মহাবিপদ ও নির্যাতন হইতে পরিত্রাণ দিয়াছেন। সুতরাং তোমরা তাঁহার শোকর আদায় কর এবং তাঁহারই ইবাদত কর। অতঃপর হযরত মূসা (আ) তাঁহার সম্প্রদায়কে সঙ্গে লইয়া শূর প্রান্তর হইয়া সীন বা সীনাইয়ের পথ ধরিলেন (দ্র. যাত্রাপুস্তক, ১৫: ২২; ১৬: ১)। উহাকে 'তীহ' উপত্যকাও বলা হয়। পূর্ববর্তী কালে এই অঞ্চল আরব ভূমির অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং ইহা 'তুর' পর্বত পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। ইহা ছিল পানিবিহীন শুষ্ক ভূমি। এখানে প্রচণ্ড গরম পড়িত এবং গাছপালা না থাকার ফলে ছায়ার ব্যবস্থা ছিল না। এইজন্যই মূসা (আ)-এর সম্প্রদায় এখানে পৌঁছিয়া ছায়া, খাদ্যদ্রব্য ও শাক-সব্জির আবেদন করিয়াছিল, যাহার বিবরণ পরে আসিতেছে। সীনাইয়ের পথে মন্দিরসমূহে তাহারা পূজারীদেরকে মূর্তিপূজা করিতে দেখিল এবং মূসা (আ)-কে তাহাদের দেবতাদের মত দেবতা বানাইয়া দিতে বলিল। ইহাতে মূসা (আ) দারুণভাবে ক্ষুব্ধ হইয়া তাহাদিগকে ভর্ৎসনা করিলেন। ইহার বিবরণ কুরআন কারীমে এইভাবে বিবৃত হইয়াছে:
وَجَاوَزْنَا بِبَنِي إِسْرَائِيلَ الْبَحْرَ فَأَتَوا عَلَى قَوْمٍ يَعْكُفُونَ عَلَى أَصْنَامٍ لَهُمْ قَالُوا يَا مُوسَى اجْعَلْ لَنَا إِلَهَا كَمَا لَهُمْ أَلِهَةٌ. قَالَ إِنَّكُمْ قَوْمٌ تَجْهَلُوْنَ إِنْ هُؤُلاءِ مُتَبَّرٌ مَا هُمْ فِيْهِ وَبَاطِلٌ مَّا كَانُوا يَعْمَلُونَ . قَالَ أَغَيْرَ اللَّهِ ابْغِيْكُمْ الهَا وَهُوَ فَضَّلَكُمْ عَلَى العَالِمِينَ (١٤٠-١٣٨ : ٧)
"আমি বানু ইসরাঈলকে সমুদ্র পার করাইয়া দেই; অতঃপর তাহারা প্রতিমা পূজায় রত এক জাতির নিকট উপস্থিত হয়। তাহারা বলিল, হে মূসা! তাহাদের দেবতার ন্যায় আমাদের জন্যও এক দেবতা গড়িয়া দাও। সে বলিল, তোমরা তো এক মূর্খ সম্প্রদায়। এইসব লোক যাহাতে লিপ্ত রহিয়াছে তাহা তো বিধ্বস্ত হইবে এবং তাহারা যাহা করিতেছে তাহাও অমূলক। সে আরও বলিল, আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের জন্য আমি কি অন্য ইলাহ খুঁজিব? অথচ তিনি তোমাদিগকে বিশ্বজগতের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়াছেন" (৭ঃ ১৩৮-১৪০)।
তাহাদের এই প্রস্তাব ছিল চরম ধৃষ্টতাপূর্ণ এবং দাসসুলভ। কারণ মহান আল্লাহ্র এত নিদর্শন, যাদুকরদের ঘটনা, প্লাবন, পঙ্গপাল, উকুন, বেঙ, রক্ত প্রভৃতি নয়টি চাক্ষুষ নিদর্শন এবং দলবলসহ ফিরআওনের মৃত্যু ও তাহার কবল হইতে মুক্তির পরও তাহারা এক আল্লাহ ব্যতীত অন্য উপাস্যের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করিয়াছিল।
প্রকৃতপক্ষে বানু ইসরাঈল যদিও নবীদের বংশধর ছিল এবং তখন পর্যন্ত তাহাদের ভেতরে পিতৃপুরুষ হইতে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ইসলামী ভাবধারা ও প্রভাব কিছুটা হইলেও অবশিষ্ট ছিল, এতদসত্ত্বেও প্রায় সাড়ে চারি শত বৎসর মিসরীয় মূর্তিপূজকদের সান্নিধ্যে বসবাস এবং তাহাদের অধীনে গোলাম হিসাবে থাকার কারণে তাহাদের মধ্যে মূর্তিপূজার মানসিকতা সৃষ্টি হইয়াছিল। ফলে মূর্তি-পূজকদিগকে দেখিয়া তাহাদের সুপ্ত আগ্রহ মাথাচাড়া দিয়া উঠে। তাই মূসা (আ)-এর নিকট তাহারা এবং অন্যরা এই জঘন্য আবদার করিয়া বসে। আর শুধু এই ক্ষেত্রেই নহে তাহাদের এই দাসসুলভ মানসিকতা ও ধ্যান-ধারণার কারণে তাহারা শক্তি-সাহস হারাইয়া ফেলে এবং জিহাদে অংশগ্রহণ করিতে ভয় পায়।
📄 বানু ইসরাঈলের জন্য খাদ্য-পানীয় ও ছায়ার ব্যবস্থা
ইসরাঈলীগণ লোহিত সাগর পার হইয়া উহার পূর্ব দিকে অবস্থিত মিনাহ (শূর, সীন বা সায়ন) উপত্যকায় উপনীত হইল, যাহা পর্বত পর্যন্ত বিস্তৃত। বৃক্ষলতা ও খাদ্য-পানীয়বিহীন এই মরুভূমিতে পৌছিয়া তাহারা ঘাবড়াইয়া গেল। দীর্ঘ পথ অতিক্রম করিয়া তাহারা তৃষ্ণার্ত হইয়া পড়িয়াছিল। আল্লাহর নবী মূসা (আ)-এর প্রতি তাহাদের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে, তিনি আল্লাহ্র নিকট আবেদন করিলে তাহা মঞ্জুর হইবে। তাই তাহারা তাঁহাকে বলিল, আমরা এখন পানি কোথায় পাই? তৃষ্ণায় তো ছটফট করিয়া মারা যাইব। এইখানে তো এক ফোটা পানিও পাওয়া যাইবে না। তখন মূসা (আ) আল্লাহ্র নিকট পানির আবেদন করিলেন। আল্লাহ তাআলা তাহাকে লাঠি দ্বারা যমীনে আঘাত করিতে নির্দেশ দিলেন। মূসা (আ) এই নির্দেশমত যমীনে বা পাথরে আঘাত করিতেই বারোটি ঝর্ণাধারার সৃষ্টি হইয়া উহা হইতে অত্যন্ত সুমিষ্ট পানি প্রবাহিত হইতে লাগিল। বানু ইসরাঈলের বারোটি উপগোত্র উহা হইতে পানি পান করিতে লাগিল। তাহাদের তৃষ্ণা নিবৃত্ত হইল (দ্র. ২:৬০; ৭: ১৬০ নং আয়াত)। তবে বাইবেলে এই সংখ্যার উল্লেখ নাই (দ্র. যাত্রাপুস্তক, ১৭: ৩-৭)।
এখন তাহারা বলিতে লাগিল, পানির তো ব্যবস্থা হইল কিন্তু জীবন ধারণের মূল উপকরণ আহার্য কোথায় পাইব? তখন মূসা (আ)-এর দু'আয় আল্লাহ তাআলা তাহাদের জন্য অত্যন্ত সুস্বাদু খাবার 'মান্না' ও 'সালওয়া'-এর ব্যবস্থা করিয়া দিলেন (দ্র. ২:৫৭, ৭: ১৬০; ২০: ৮০-৮১)। 'মান্না' হইল কাহারও মতে ময়দার পাতলা রুটি, কাহারও মতে মধু, কাহারও মতে আঠা জাতীয় পদার্থ যাহার স্বাদ মধুর ন্যায়, কাহারও মতে কমলালেবু (আল-কামিল, ১খ., ১৪৯)। কাহারও মতে সাদা বরফ খণ্ডের ন্যায় শিশিরের আকৃতিসম্পন্ন এক ধরনের পদার্থ যাহা রাত্রিবেলা আকাশ হইতে যমীনে ও বৃক্ষপত্রে পতিত হইত যাহা অত্যন্ত সুস্বাদু মিষ্টির ন্যায় ছিল (কাসাসুল কুরআন, ১খ, ৭৮)। আর 'সালওয়া' হইল এক প্রকার পাখী সদৃশ যাহা প্রবল দক্ষিণা বায়ুপ্রবাহের ফলে ঝাঁকে ঝাঁকে আসিয়া মাটিতে বসিত, আর বনূ ইসরাঈলগণ সহজেই উহা ধরিয়া ভুনা করিয়া খাইত। ইকরিমার বর্ণনামতে উহা ছিল চড়ুই হইতে একটু বড় পাখি, যাহা জান্নাতের খাবার হইবে। ওয়াহ্হ্ব ইবন মুনাব্বিহ-এর বর্ণনামতে উহা কবুতরের ন্যায় মাংশল এক ধরনের পাখি (ইব্ন কাছীর, তাফসীর, ১খ, ৯৬-৯৭)। 'মাননা' আসিত ভোরবেলায় আর 'সালওয়া' আসিত বিকাল বেলায় (আল- বিদায়া, ১খ, ২৮২)। তাহাদের প্রতি নির্দেশ ছিল, প্রত্যেকের যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই গ্রহণ করিবে, তাহার অধিক নহে। অধিক গ্রহণ করিলে তাহা নষ্ট হইয়া যাইত (ইব্ন কাছীর, তাফসীর, প্রাগুক্ত)। প্রতিদিন বিনা পরিশ্রমে তাহাদিগকে এইরূপ খাবার প্রদান করা হইত।
পানাহারের ব্যবস্থা হইয়া গেলে তাহারা বলিল, এই প্রচণ্ড রৌদ্র ও গরমে আমরা কিভাবে বাস করিব? কোন ছায়াবান বৃক্ষ এখানে নাই! তখন মূসা (আ) তাহাদিগকে সান্ত্বনা দিলেন এবং আল্লাহর দরবারে দু'আ করিলেন। ফলে অসংখ্য মেঘখণ্ড আসিয়া তাহাদিগকে ছায়া দিতে লাগিল (দ্র. ২ঃ ৫৭)। তাহারা যেখানেই যাইত, ছায়াও তাহাদের মাথার উপর থাকিয়া সেখানেই গমন করিত। বাইবেলের বর্ণনামতে বানু ইসরাঈলের আবাসের উপর হইতে মেঘ নীত হইলে তাহারা সফরে বাহির হইত, আর ঊর্ধ্বে নীত না হইলে তাহারা সফরে বাহির হইত না। কেননা দিবসে উহা মেঘ এবং রাত্রিতে অগ্নি আবাসের উপর অবস্থিতি করিত (যাত্রাপুস্তক, ৪০: ৩৬-৩৮)।
আবদুল ওয়াহ্হাব আন-নাজজার উল্লেখ করিয়াছেন যে, বানু ইসরাঈলের ঘটনায় পানির যে প্রস্রবণের কথা উল্লেখ করা হইয়াছে তাহা লোহিত সাগরের পূর্ব দিকে মরুভূমিতে সুয়েয হইতে খুব বেশি দূরে নহে। এখনও তাহা 'উয়ুন মূসা' (মূসার প্রস্রবণ) নামে প্রসিদ্ধ হইয়া আছে। উক্ত প্রস্রবণের পানি এখন বহুলাংশে শুকাইয়া গিয়াছে। কোন কোনটির চিহ্নও প্রায় বিলুপ্ত হইয়া গিয়াছে। আর উক্ত প্রস্রবণের উপর কোথাও কোথাও এখন খেজুরের বাগান পরিদৃষ্ট হয় (আন-নাজ্জার, কাসাসুল-আম্বিয়া, পৃ. ২১১)।
কুরআন কারীমে বর্ণিত ঘটনায় বুঝা যায় যে, লাঠি দ্বারা আঘাত করিয়া পানি বাহির করিবার ঘটনা একবারই মাত্র সংঘটিত হয় নাই; বরং 'তীহ' ময়দানের বিভিন্ন স্থানে কয়েকবার সংঘটিত হইয়াছিল (কাসাসুল কুরআন, ১খ, ৪৮)।
মোটকথা হযরত মূসা (আ)-এর বদৌলতে বানু ইসরাঈলের উপর আল্লাহ্র অশেষ রহমতস্বরূপ বিভিন্ন নিয়ামত প্রদান করা হইতেছিল এই আশায় যে, শত শত বৎসরের গোলামী ও নির্যাতনের ফলে তাহাদের মধ্যে সৃষ্ট কাপুরুষতা ও হতাশার অবসান হইবে এবং নব প্রাণচাঞ্চল্যে ও নব উদ্দীপনায় তাহারা আল্লাহর শোকর-গুযারী করিবে। কিন্তু অদ্ভূত স্বভাবের এই সম্প্রদায়ের উপর ইহার কোনই প্রভাব পড়িল না। এত সুস্বাদু খাবার পাইয়াও তাহারা সন্তুষ্ট হইল না। একদিন তাহারা সকলে জড়ো হইয়া মূসা (আ)-কে বলিল, আমরা প্রতিদিন একই রকম খাদ্যে ধৈর্য ধারণ করিতে পারিব না। সুতরাং তুমি তোমার প্রতিপালকের নিকট দু'আ কর, তিনি যেন ভূমিজাত দ্রব্য, শাকসজি, কাঁকুড়, গম, মসুর ও পেঁয়াজ আমাদের জন্য উৎপাদিত করেন যাহাতে আমরা বেশ করিয়া খাইতে পারি (দ্র. ২ঃ ৬১)। হযরত মূসা (আ) তাহাদের এই ধরনের আবেদনে অতিশয় রাগান্বিত হইয়া বলিলেন, তোমরা কেমন বোকা! তোমরা কি উৎকৃষ্টতর বস্তুকে নিকৃষ্টতর বস্তুর সহিত বদল করিতে চাহ? আর এইভাবে তোমরা আল্লাহ্ নিয়ামতের শোকর-গুযারীর পরিবর্তে নাশোকারী করিতে চাহ? বাস্তবেই যদি তোমরা তাহা চাহ তবে কোন নগরে অবতরণ কর, তোমরা যাহা চাহ তাহা সেখানে আছে। এইভাবে তাহারা লাঞ্ছনা ও দারিদ্র্যগ্রস্ত হইল এবং তাহারা আল্লাহ্ ক্রোধের পাত্র হইল (প্রাগুক্ত)।