📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ফিরআওনের লাশ

📄 ফিরআওনের লাশ


ফিরআওন পানিতে ডুবিয়া মারা যাওয়ার বিষয়টি সমুদ্র পার হইয়া যাওয়া বানু ইসরাঈলও বিশ্বাস করিতে পারিতেছিল না যে, ফিরআওন মারা গিয়াছে। তাহাদের কেহ কেহ বলিতেছিল, সে এখনই আমাদিগকে ধরিয়া ফেলিবে এবং হত্যা করিবে। তাই কেহ কেহ বারবার পিছনে ফিরিয়া তাকাইয়াও দেখিতেছিল যে, ফিরআওন সমুদ্র হইতে উঠিয়া আসে কিনা। তখন মূসা (আ) আল্লাহ্র নিকট দুআ করিলেন, আল্লাহ তাআলা সমুদ্রকে নির্দেশ দিলেন তাহার লাশ উঠাইয়া দিতে। অতঃপর সমুদ্র উহার কিনারায় এক উচু জায়গায় ঢেউয়ে তাহার লাশ ভাসাইয়া তুলিল। ফলে সকলেই উহা প্রত্যক্ষ করিয়া নিশ্চিত হইল। এক বর্ণনামতে পানির উপরেই তাহার লাশ ভাসিয়া উঠিল। তাহার পরনে তখনও তাহার বর্মটি ছিল যাহা বানু ইসরাঈল চিনিত (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ১খ, ২৭৩)। এইভাবেই আল্লাহ তাআলা বানু ইসরাঈলকে তাঁহার কুদরত প্রদর্শন করাইলেন এবং তাহারাও তাহাদের চরম শত্রুর মৃত্যু বিষয়ে নিশ্চিত হইল ও স্বস্তি লাভ করিল।
ফিরআওন ডুবিয়া যাইবার সময় যে ঈমানের ঘোষণা দিয়াছিল আল্লাহ তাহা প্রত্যাখ্যান করত তাহাকে জানাইয়া দিয়াছিলেন যে, তাহার দেহটি রক্ষা করিবেন যাহাতে তাহা পরবর্তীদের জন্য নিদর্শন হইয়া থাকে। কুরআন কারীমে ইরশাদ হইয়াছে : فَالْيَوْمَ نُنَجِّيكَ بِبَدَنِكَ لِتَكُونَ لِمَنْ خَلْفَكَ آيَةً وَإِنَّ كَثِيرًا مِّنَ النَّاسِ عَنْ آيَاتِنَا لَغَافِلُونَ (۹۲ : ۱۰) "আজ আমি তোমার দেহটি রক্ষা করিব যাহাতে তুমি তোমার পরবর্তীদের জন্য নিদর্শন হইয়া থাক। অবশ্যই মানুষের মধ্যে অনেকে আমার নিদর্শন সম্বন্ধে গাফিল" (১০ঃ ৯২)।
আল্লাহ তাঁহার এই ঘোষণা সত্যে পরিণত করিয়াছেন এবং তাহার দেহ রক্ষা করিয়াছেন। মিসরবাসী যখন ফিরআওনের লাশ দেখিল তখন তাহাদের এই অপমানজনক পরাজয় গোপন করিবার জন্য খুব দ্রুত তাহারা উহা উঠাইয়া লইয়া যায় এবং মমি করত দাফন করিয়া রাখে। হাজার হাজার বৎসর অজানা থাকিবার পর উনবিংশ শতকের শেষদিকে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন ও গবেষণায় এই লাশ আবিষ্কৃত হয়। অতঃপর উহা কয়েকবার যাদুঘরে দর্শনার্থীদের জন্য রাখা হইয়াছে। উহা আজ পর্যন্ত অবিকল রহিয়াছে। এক বর্ণনামতে ডুবিয়া যাওয়ার সময় কোন এক পাথরের সাথে আঘাত লাগিয়া তাহার বিচুকের হাড় ভাঙ্গিয়া যায়, সেই ভাঙ্গা এখনো রহিয়াছে (আম্বিয়া-ই কুরআন, ২খ, ১৯২-১৯৩)। এক বর্ণনায় তাহার নাকের কিছুটা মাছে বা হাঙ্গরে খাইয়া ফেলে যাহা আজও পরিদৃষ্ট হয় (কাসাসুল কুরআন, ১খ, ৪৫৯)।
এই ব্যাপারে ড. মরিস বুকাইলি প্রচুর গবেষণা করেন এবং ফিরআওনের সেই মমির পরীক্ষা- নিরীক্ষাও করেন। তিনি বলেন, "মিসর রাজ দ্বিতীয় রামেসীসের সন্তান মারনেপ্তাহ-ই ছিল সেই ফিরআওন, যে হযরত মূসা (আ)-এর নেতৃত্বে ইয়াহুদীদের মিসর ত্যাগের ঘটনার সহিত জড়িত ছিল এবং সমুদ্রে ডুবিয়া মারা যায়। এই ফিরআওন মারনেপ্তাহর মমিকৃত দেহটি আবিষ্কার করেন মিঃ লরেট-১৮৯৮ খৃস্টাব্দে থেবেসের রাজকীয় উপত্যকা হইতে। সেখান হইতে মমিটিকে কায়রো আনা হয়। ১৯০৭ সালের ৮ই জুলাই এলিয়ট স্মীথ এই মমিটির আবরণ উন্মোচন করেন। তিনি তাহার 'রয়‍্যাল মামিজ' পুস্তকে (১৯১২) এই আবরণ উন্মোচন এবং মমিটির দেহ পরীক্ষার বিস্তারিত বিবরণ লিপিবদ্ধ করিয়া গিয়াছেন। এই বিবরণ হইতে জানা যায় কয়েকটি জায়গায় কিছু কিছু বিকৃতি ঘটিলেও মোটামুটিভাবে লাশটি সন্তোষজনকভাবে সংরক্ষিত ছিল। সেই সময় হইতে কায়রোর যাদুঘরে পর্যটকদের দর্শনের জন্য মমিটিকে রাখা হইয়াছে। মাথা ও ঘাড়টি খোলা, বাদবাকী দেহটি কাপড়ে ঢাকা। প্রদর্শনের এই ব্যবস্থা খোলা, বাদবাকী দেহটি কাপড়ে ঢাকা। প্রদর্শনের এই ব্যবস্থা সত্ত্বেও মমিটিকে এমন কঠোরভাবে সংরক্ষণ করা হইতেছে যে, কাহাকেও ওই মমির ফটো পর্যন্ত তুলিতে দেওয়া হয় না। সেই ১৯১২ সালে স্মীথের তোলা ফটোগুলি ছাড়া আর কোন ফটো যাদুঘর কর্তৃপক্ষের নিকটেও নাই।
"১৯৭৫ সালের জুন মাসে মিসরীয় কর্তৃপক্ষ মেহেরবানী করিয়া আমাকে (মরিস বুকাইলিকে) মমিটির শরীরের বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা করিয়া দেখার অনুমতি দান করেন। এতদিন যাবত মমিটির দেহের এইসব অংশ কাপড়েই ঢাকা পড়িয়াছিল। কর্তৃপক্ষ আমাকে মমিটির শরীরের বিভিন্ন অংশের ফটো তোলারও অনুমতি দিয়াছিলেন।
"আমার পরামর্শক্রমে ১৯৭৫ সালের জুন মাসে মমিটিকে পরীক্ষা করিয়া দেখার জন্য একটি বিশেষ টীম গঠন করা হয়। ড. এল. মেলিগাই ও ড. র‍্যামসিয়ীস-এর দ্বারা মমিটির উপর চমৎকারভাবে রেডিওগ্রাফিক স্টাডি পরিচালিত হয়। ড. মুস্তাফা মানিয়ালাভী মমিটির বুকের একটা ফাঁকা জায়গা দিয়া বুকের ভিতরটাও ভালভাবে পরীক্ষা করিয়া দেখেন। ইহা ছাড়া মমিটির পেটেও ব্যাপকভাবে পরীক্ষা চালানো হয়। কোন মমির উদরের অভ্যন্তরে এই ধরনের পরীক্ষা ও তদন্ত পরিচালনা ইহাই প্রথম।
"এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা মমিটির অভ্যন্তর ভাগের বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিস্তারিতভাবে জানিবার এবং সেই সবের ফটো তুলিবার সুযোগ পাই। অধ্যাপক সেসালডির দ্বারা মমিটির উপর পরিচালিত হইয়াছিল মেডিকো-লিগ্যাল স্টাডি। মমিটির দেহ হইতে খসিয়া পড়া একটা টুকরা অনুবীক্ষণ যন্ত্র দ্বারা পরীক্ষা করিয়া দেখা হয়। এই চূড়ান্ত পরীক্ষা ও গবেষণা পরিচালিত হয় অধ্যাপক মিগনট ও ড. ডুরিগণের দ্বারা। দুঃখের বিষয়, এইসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও তদন্তের সুনির্দিষ্ট ফলাফল এই মুহূর্তে পাঠকদিগকে জানানো সম্ভব হইতেছে না- কেননা মুদ্রণের জন্য এই পুস্তকের পাণ্ডুলিপি প্রেসে পাঠাইতে হইতেছে (১ম সংস্করণ, নভেম্বর ১৯৭৫)।
"তবুও এইসব পরীক্ষা ও তদন্তের ফলে উপস্থিত যাহা জানা গিয়াছে, তাহাও কম গুরুত্বপূর্ণ নহে। দেখা গিয়াছে মমিটির হাড়ে একাধিক ক্ষত বিদ্যমান। সেইগুলিতে বড় বড় ফাঁকও রহিয়াছে। উহার কোন কোনটি হয়তোবা ক্ষয় হইয়া গিয়া থাকিতে পারে। তবে সেইগুলি ফিরআওনের মৃত্যুর আগে হইয়াছে না পরে এখন তাহা নির্ণয় করা সম্ভব হইতেছে না। মমিটি পরীক্ষা করিয়া আরো যাহা পাওয়া গিয়াছে তাহাতে বলা যাইতে পারে যে, এই ফির'আওনের মৃত্যু হইয়াছে- ধর্মগ্রন্থ তথা কুরআন কারীমে যেমনটি বলা হইয়াছে, পানিতে ডুবিয়া যাওয়ার কারণে কিংবা পানিতে ডুবিয়া যাওয়ার প্রাক্কালে নিদারুণ কোনও 'শক'-এর দরুন। আবার একই সঙ্গে সংঘটিত এই দুইটি কারণেও তাহার মৃত্যু ঘটা বিচিত্র নহে” (বাইবেল কোরআন ও বিজ্ঞান, মূলঃ ড. মরিস বুকাইলি, অনু, আখতার-উল-আলম, পৃ. ৩২১-৩২৩)।
ফিরআওনের মৃত্যু ও বনু ইসরাঈলের মুক্তি লাভ হইয়াছিল মুহাররাম মাসের দশ তারিখ (আল-বুখারী, আস-সাহীহ, বাব সওমু য়াওমি 'আশূরা)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 মিসরীয় নারীদের অবস্থা

📄 মিসরীয় নারীদের অবস্থা


মিসরের রাজা-উযীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা তথা সকল সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীই ফিরআওনের সহিত বানু ইসরাঈলের পাকড়াও অভিযানে বাহির হয় এবং সকলেই পানিতে ডুবিয়া মারা যায়। অবশিষ্ট ছিল শুধু শিশু, বৃদ্ধ, মহিলা, নিম্ন পর্যায়ের চাকুরীজীবি ও দাসগণ। তখন উচ্চপদস্থ লোকদের বিধবা স্ত্রীরা বাধ্য হইয়া তাহাদের নিম্ন পদস্থ চাকুরীজীবি পুরুষ ও চাকর-বাকরদের সহিত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। এইজন্য তাহারা নূতন স্বামীদের উপর পূর্বের ন্যায়ই প্রাধান্য ও কর্তৃত্ব প্রয়োগ করিতে থাকে, যাহা আজ পর্যন্ত (লেখকের সময়কাল) মিসরীয় সংস্কৃতির অংশরূপে চালু রহিয়াছে (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ১খ, ২৭৪)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ফিরআওন ও তাহার সম্প্রদায়ের শাস্তি

📄 ফিরআওন ও তাহার সম্প্রদায়ের শাস্তি


দুনিয়াতে ফিরআওন ও তাহার সম্প্রদায়ের কিছু শাস্তি ও তাহাদের অপমানজনক পরিণতির কথা ইতোপূর্বে উল্লিখিত হইয়াছে; বারযাখ জগতে (মৃত্যুর পর হইতে কিয়ামতের পূর্ব পর্যন্ত) তাহাদের শাস্তির কথা কুরআন কারীমে এইভাবে উল্লিখিত হইয়াছে: وَحَاقَ بِالِ فِرْعَوْنَ سُوءَ الْعَذَابِ . النَّارُ يُعْرَضُونَ عَلَيْهَا غُدُوا وَعَشِيًّا (٤٦-٤٥ : ٤٠) "এবং কঠিন শাস্তি পরিবেষ্টন করিল ফিরআওন সম্প্রদায়কে। সকাল-সন্ধ্যায় উহাদিগকে উপস্থিত করা হয় আগুনের সম্মুখে" (৪০ : ৪৫-৪৬)।
এই অবস্থা কিয়ামত পর্যন্ত চলিতে থাকিবে। দুনিয়াতে ও আখিরাতে তাহার উপর অভিসম্পাত। কিয়ামতের দিন সে তাহার সম্প্রদায়সহ চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামে প্রবেশ করিবে। ইরশাদ হইয়াছে: يَقْدُمُ قَوْمَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَأَوْرَدَهُمُ النَّارَ وَبِئْسَ الْوِرْدُ المَوْرُودُ. وَاتَّبِعُوا فِي هَذِهِ لَعْنَةً وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ بِئْسَ الرقدُ الْمَرْفُودُ (۹۹-۹۸ : ۱۱) "সে (ফিরআওন) কিয়ামতের দিন তাহার সম্প্রদায়ের অগ্রভাগে থাকিবে এবং সে উহাদিগকে লইয়া অগ্নিতে প্রবেশ করিবে। যেখানে তাহারা প্রবেশ করিবে তাহা কত নিকৃষ্ট স্থান! এই দুনিয়ায় উহাদিগকে করা হইয়াছিল অভিশাপগ্রস্ত এবং অভিশাপগ্রস্ত হইবে উহারা কিয়ামতের দিনেও। কত নিকৃষ্ট সে পুরস্কার যাহা উহাদিগকে দেওয়া হইবে" (১১ঃ ৯৮-৯৯)।
وَجَعَلْنَاهُمْ أَئِمَّةً يَدْعُونَ إِلَى النَّارِ وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ لَا يُنْصَرُونَ. وَاتَّبَعْنَاهُمْ فِي هذه الدُّنْيَا لَعَنَةً وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ هُمْ مِّنَ الْمَقْبُوحِينَ (٤٢-٤١ : ٢٨) "উহাদিগকে আমি নেতা করিয়াছিলাম। উহারা লোকদিগকে জাহান্নামের দিকে আহবান করিত। কিয়ামতের দিন উহাদিগকে সাহায্য করা হইবে না। এই পৃথিবীতে আমি উহাদের পশ্চাতে লাগাইয়া দিয়াছি অভিসম্পাত এবং কিয়ামতের দিন উহারা হইবে ঘৃণিত" (২৮ঃ ৪১-৪২)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বানু ইসরাঈল সীনাই অঞ্চলে

📄 বানু ইসরাঈল সীনাই অঞ্চলে


বাইবেলে বর্ণিত আছে যে, বানু ইসরাঈল সহীহ-সালামতে লোহিত সাগর পার হইয়া গেল এবং স্বচক্ষে ফিরআওন ও তাহার সম্প্রদায়ের লোকজনকে ডুবিয়া মরিতে এবং ফিরআওনের লাশ ভাসিয়া উঠিতে দেখিয়া স্বাভাবিকভাবেই তাহারা খুবই আনন্দ-উল্লাস প্রকাশ করিল। এই আনন্দ প্রকাশের পর মূসা (আ) তাঁহার সম্প্রদায়ের লোকজন একত্র করিয়া বলিলেন, আল্লাহ তাআলা তোমাদের উদ্দেশ্যে বলিয়াছেন যে, আল্লাহই তোমাদিগকে মহাবিপদ ও নির্যাতন হইতে পরিত্রাণ দিয়াছেন। সুতরাং তোমরা তাঁহার শোকর আদায় কর এবং তাঁহারই ইবাদত কর। অতঃপর হযরত মূসা (আ) তাঁহার সম্প্রদায়কে সঙ্গে লইয়া শূর প্রান্তর হইয়া সীন বা সীনাইয়ের পথ ধরিলেন (দ্র. যাত্রাপুস্তক, ১৫: ২২; ১৬: ১)। উহাকে 'তীহ' উপত্যকাও বলা হয়। পূর্ববর্তী কালে এই অঞ্চল আরব ভূমির অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং ইহা 'তুর' পর্বত পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। ইহা ছিল পানিবিহীন শুষ্ক ভূমি। এখানে প্রচণ্ড গরম পড়িত এবং গাছপালা না থাকার ফলে ছায়ার ব্যবস্থা ছিল না। এইজন্যই মূসা (আ)-এর সম্প্রদায় এখানে পৌঁছিয়া ছায়া, খাদ্যদ্রব্য ও শাক-সব্জির আবেদন করিয়াছিল, যাহার বিবরণ পরে আসিতেছে। সীনাইয়ের পথে মন্দিরসমূহে তাহারা পূজারীদেরকে মূর্তিপূজা করিতে দেখিল এবং মূসা (আ)-কে তাহাদের দেবতাদের মত দেবতা বানাইয়া দিতে বলিল। ইহাতে মূসা (আ) দারুণভাবে ক্ষুব্ধ হইয়া তাহাদিগকে ভর্ৎসনা করিলেন। ইহার বিবরণ কুরআন কারীমে এইভাবে বিবৃত হইয়াছে:
وَجَاوَزْنَا بِبَنِي إِسْرَائِيلَ الْبَحْرَ فَأَتَوا عَلَى قَوْمٍ يَعْكُفُونَ عَلَى أَصْنَامٍ لَهُمْ قَالُوا يَا مُوسَى اجْعَلْ لَنَا إِلَهَا كَمَا لَهُمْ أَلِهَةٌ. قَالَ إِنَّكُمْ قَوْمٌ تَجْهَلُوْنَ إِنْ هُؤُلاءِ مُتَبَّرٌ مَا هُمْ فِيْهِ وَبَاطِلٌ مَّا كَانُوا يَعْمَلُونَ . قَالَ أَغَيْرَ اللَّهِ ابْغِيْكُمْ الهَا وَهُوَ فَضَّلَكُمْ عَلَى العَالِمِينَ (١٤٠-١٣٨ : ٧)
"আমি বানু ইসরাঈলকে সমুদ্র পার করাইয়া দেই; অতঃপর তাহারা প্রতিমা পূজায় রত এক জাতির নিকট উপস্থিত হয়। তাহারা বলিল, হে মূসা! তাহাদের দেবতার ন্যায় আমাদের জন্যও এক দেবতা গড়িয়া দাও। সে বলিল, তোমরা তো এক মূর্খ সম্প্রদায়। এইসব লোক যাহাতে লিপ্ত রহিয়াছে তাহা তো বিধ্বস্ত হইবে এবং তাহারা যাহা করিতেছে তাহাও অমূলক। সে আরও বলিল, আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের জন্য আমি কি অন্য ইলাহ খুঁজিব? অথচ তিনি তোমাদিগকে বিশ্বজগতের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়াছেন" (৭ঃ ১৩৮-১৪০)।
তাহাদের এই প্রস্তাব ছিল চরম ধৃষ্টতাপূর্ণ এবং দাসসুলভ। কারণ মহান আল্লাহ্র এত নিদর্শন, যাদুকরদের ঘটনা, প্লাবন, পঙ্গপাল, উকুন, বেঙ, রক্ত প্রভৃতি নয়টি চাক্ষুষ নিদর্শন এবং দলবলসহ ফিরআওনের মৃত্যু ও তাহার কবল হইতে মুক্তির পরও তাহারা এক আল্লাহ ব্যতীত অন্য উপাস্যের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করিয়াছিল।
প্রকৃতপক্ষে বানু ইসরাঈল যদিও নবীদের বংশধর ছিল এবং তখন পর্যন্ত তাহাদের ভেতরে পিতৃপুরুষ হইতে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ইসলামী ভাবধারা ও প্রভাব কিছুটা হইলেও অবশিষ্ট ছিল, এতদসত্ত্বেও প্রায় সাড়ে চারি শত বৎসর মিসরীয় মূর্তিপূজকদের সান্নিধ্যে বসবাস এবং তাহাদের অধীনে গোলাম হিসাবে থাকার কারণে তাহাদের মধ্যে মূর্তিপূজার মানসিকতা সৃষ্টি হইয়াছিল। ফলে মূর্তি-পূজকদিগকে দেখিয়া তাহাদের সুপ্ত আগ্রহ মাথাচাড়া দিয়া উঠে। তাই মূসা (আ)-এর নিকট তাহারা এবং অন্যরা এই জঘন্য আবদার করিয়া বসে। আর শুধু এই ক্ষেত্রেই নহে তাহাদের এই দাসসুলভ মানসিকতা ও ধ্যান-ধারণার কারণে তাহারা শক্তি-সাহস হারাইয়া ফেলে এবং জিহাদে অংশগ্রহণ করিতে ভয় পায়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00