📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 উকুন

📄 উকুন


অতঃপর আল্লাহ তাআলা উকুন প্রেরণ করিলেন। এক বর্ণনামতে মূসা (আ)-কে একটি ঢিবির নিকট গিয়া লাঠি দ্বারা উহাতে আঘাত করিবার নির্দেশ দেওয়া হইল। তিনি বিশাল একটি ঢিবির নিকট গিয়া উহাতে আঘাত করিলেন। ফলে উহা হইতে উকুন বাহির হইয়া তাহাদের ক্ষেত-খামার, ঘর-বাড়ি, বিছানাপত্র সব কিছুতেই ছড়াইয়া পড়িল। শস্য বিনষ্ট করিল, তাহাদের খাদ্যদ্রব্য নষ্ট করিল এবং দিবা রাত্র তাহাদিগকে কামড়াইতে থাকিল। ফলে তাহারা ঘুমাইতে পারিল না, শান্তি ও স্বস্তি উঠিয়া গেল এবং বাধ্য হইয়া তাহারা মূসা (আ)-কে আবারও পূর্বানুরূপ অনুরোধ করিল। অতঃপর মূসা (আ)-এর দুআয় আল্লাহ তাহাদের এই বিপদ তুলিয়া লইলেন। কিন্তু এইবারও তাহারা ঈমান আনিল না (বিদায়া, প্রাগুক্ত)

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ব্যাঙ

📄 ব্যাঙ


তখন আল্লাহ তাহাদের নিকট বেঙ প্রেরণ করিলেন। তাহাদের সমস্ত ঘরে বেঙ ভর্তি হইয়া গেল। তাহাদের খাদ্যদ্রব্য, ঘটি-বাটি, ডেগ-ডেকচি, হাঁড়ি-পাতিল সব কিছুর মধ্যেই বেঙ প্রবেশ করিল। বেঙের এত বেশী উৎপাত হইল যে, কেহ কাপড়ের বাক্স অথবা আহার্য দ্রব্য খুলিলেই দেখিত উহাতে অনেকগুলি বেঙ বসিয়া রহিয়াছে (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ১খ, ২৬৬)। তাহাদের কেহ আহার করিবার জন্য অথবা পানি পান করিবার জন্য পাত্রের মুখ খুলিতেই উহার মধ্যে বেঙ দেখিতে পাইত (প্রাগুক্ত, ১খ, ২৬৫)। অতিষ্ট হইয়া তাহারা আবারও মূসা (আ)-এর নিকট এই বিপদ হইতে পরিত্রাণের জন্য দুআ করিবার আবেদন করিল এবং শাস্তি বিদূরিত হইলে ঈমান আনয়নের প্রতিশ্রুতি দিল। অতঃপর আল্লাহ তাআলা উহা উঠাইয়া লইলেন। কিন্তু এইবারও তাহার ঈমান আনিল না।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 রক্ত

📄 রক্ত


অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাজা রক্ত দিয়া তাহাদিগকে পরীক্ষায় ফেলিলেন। নদী ও কূপের সমস্ত পানি রক্তে পরিণত হইল। এমনও বর্ণিত আছে যে, একই স্থান হইতে ইসরাঈলী ও কিবতী পানি পান করিতে গেলে ইসরাঈলী ব্যক্তিটি স্বচ্ছ ও নির্মল পানি পাইত কিন্তু কিবতীটি পাইত রক্ত। ইসরাঈলী কোন লোক স্বচ্ছ পানি মুখে লইয়া কিবতীর মুখে কুল্লি করিয়া দিলেও তাহার মুখে গিয়া উহা রক্তে পরিণত হইত। এইভাবে সাত দিন অতিবাহিত হইল (আল-কামিল, ১খ, ১৪৩)। উল্লেখ্য যে, এসবই ছিল মূসা (আ)-এর সুস্পষ্ট মুজিযা। তাই এই সকল অসুবিধা কেবল কিবতীগণেরই দেখা দিত। বানু ইসরাঈলগণ ইহা হইতে নিরাপদ থাকিত। ইব্‌ন আবী হাতিমের এক বর্ণনামতে তাহাদের নাক দিয়া রক্ত ঝরিত (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া ১খ, ২৬৬)। অতঃপর অসহ্য হইয়া তাহারা মূসা (আ)-এর নিকট আবারো পূর্বের ন্যায় আবেদন করিল। মূসা (আ)-এর দুআয় ইহা হইতেও তাহারা মুক্তি পাইল। কিন্তু তাহারা ঈমান আনিল না। তাহাদের বারংবার এই অঙ্গীকার ভঙ্গের কথা কুরআন কারীমে এইভাবে ইরশাদ হইয়াছে:
فَلَمَّا كَشَفْنَا عَنْهُمُ الْعَذَابَ إِذَا هُمْ يَنْكُثُونَ (٤٣ : ٥٠) "অতঃপর যখন আমি উহাদের উপর হইতে শাস্তি বিদূরিত করিলাম তখনই উহারা অঙ্গীকার ভঙ্গ করিয়া বসিল" (৫০:৪৩)।
এইভাবে আল্লাহ তাআলা একটির পর একটি নিদর্শন প্রেরণ করেন, যাহা পূর্বেরটির তুলনায় আরো বড় ও শক্তিশালী। কিন্তু তাহারা ক্রমান্বয়ে বেশী করিয়া কুফরী ও অবাধ্যাচারণ করিতে থাকে। আর আল্লাহও তাহাদিগকে অবকাশ দিতে থাকেন। অতপর আল্লাহ তাআলা মূসা ও হারুন (আ)-কে নির্দেশ দিলেন, আরো নম্র ও বিনীতভাবে ফিরআওন-এর নিকট দাওয়াত পৌছাইতে। কুরআন কারীমে ইরশাদ হইয়াছে:
فَقُولَا لَهُ قَوْلًا لَيْنَا لَعَلَّهُ يَتَذَكَّرُ أَوْ يَخْشَى (٢٠: ٤٤) “তোমরা তাহার সহিত নম্র কথা বলিবে, হয়তো সে উপদেশ গ্রহণ করিবে অথবা ভয় করিবে" (৪৪:২০)।
নির্দেশ পাইয়া তাঁহারা ফিরআওনের নিকট আগমন করেন। মূসা (আ) ফিরআওনকে লক্ষ্য করিয়া বলিলেন, ফিরআওন! আমি যদি তোমাকে এই ব্যবস্থা করিয়া দিই যে, তুমি যুবক থাকিবে, বৃদ্ধ হইবেনা; তোমার রাজত্ব তোমার হইতে ছিনাইয়া লওয়া হইবে না, বিবাহ-শাদী, খানা-পিনা ও ভ্রমণের স্বাদ তুমি পাইতে থাকিবে, আর মৃত্যুর পর তুমি জান্নাত পাইবে, তবে কি আমার উপর ঈমান আনিবে? এইরূপ নরম কথায় ও উক্ত প্রস্তাবে তাহার কিছুটা ভাবান্তর হইল। সে বলিল, হামান আসিলে আমি তাহার সহিত পরামর্শ করিয়া বলিব। অতপর হামান আসিলে ফিরআওন তাহাকে উক্ত বৃত্তান্ত শুনাইল। ইহা শুনিয়া হামান তাহাকে মৃদু ভর্ৎসনা করিয়া বলিল, আমি তো আপনার সম্পর্কে ভাল ধারণাই পোষণ করিতাম। এতদিন লোকে আপনার উপাসনা করিয়াছে, আর এখন আপনি নিজেই অন্যের উপাসনাকারী দাস হইয়া যাইবেন! হামানের এহেন শ্লেষপূর্ণ কথায় প্রভাবিত হইয়া সে তাহার পারিষদবর্গকে লক্ষ্য করিয়া ঘোষণা করিল:
"আমিই তোমাদের শ্রেষ্ঠ প্রতিপালক" (৭৯: ২৪)। أَنَا رَبُّكُمُ الْأَعْلَى (٢٤ : ٧٩)
مَا عَلِمْتُ لَكُمْ مِّنْ اللَّهِ غَيْرِي (۳۸ : ۲۸) aaaa e te fat a a car "আমি ব্যতীত তোমাদের অন্য কোন ইলাহ আছে বলিয়া আমি জানি না" (২৮: ৩৮)-এর মধ্যে চল্লিশ বৎসরের ব্যবধান (আত-তাবারী, তারীখ, ১খ, ৪১১-৪০২; আল- মুনতাজাম, ১খ, ৩৪৫)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 মূসা (আ)-এর উপর ঈমান আনয়নকারীদের সংখ্যা

📄 মূসা (আ)-এর উপর ঈমান আনয়নকারীদের সংখ্যা


ইব্‌ন আব্বাস (রা)-এর বর্ণনামতে যাদুকরদের পরাজয়ের পর-মূসা (আ) আরো ২০ বৎসর ফিরআওন ও তাহার সম্প্রদায়ের নিকট অবস্থান করিয়া বিভিন্নভাবে তাহাদিগকে দাওয়াত দিতে থাকেন এবং একটির পর একটি নিদর্শন দেখাইতে থাকেন (আল-মুনতাজাম, ১খ, ৩৪৫)। কিন্তু কতিপয় লোক গোপনে ঈমান আনয়ন করা ছাড়া প্রথমদিকে প্রকাশ্যে কেহই ঈমান আনিল না। কুরআন কারীমে ইরশাদ হইয়াছে: فَمَا أَمَنَ لِمُوسَى إِلَّا ذُرِّيَّةٌ مِّنْ قَوْمِهِ عَلَى خَوْفٌ مِّنْ فِرْعَوْنَ وَمَلَاهِمْ أَنْ يُفْتِنَهُمْ وَإِنَّ فِرْعَوْنَ لَعَالٍ فِي الْأَرْضِ وَإِنَّهُ لَمِنَ الْمُسْرِفِينَ (۸۳ : ۱۰)
"ফিরআওন ও তাহার পারিষদবর্গ নির্যাতন করিবে এই আশংকায় তাহার সম্প্রদায়ের একদল ব্যতীত আর কেহ মূসার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে নাই। দেশে তো ফিরআওন পরাক্রমশালী ছিল এবং সে ছিল অবশ্যই সীমালংঘনকারীদের অন্তর্ভুক্ত" (১০:৮৩)। এক বর্ণনামতে উহাদের সংখ্যা ছিল ৩ জন: ফিরআওনের স্ত্রী, ফিরআওন বংশের এক ব্যক্তি, যাহার উপদেশ ও পরামর্শের কথা পূর্বে উল্লেখ করা হইয়াছে; আর শহরের প্রান্ত হইতে ছুটিয়া আসিয়া যে ব্যক্তি মূসাকে সংবাদ দিয়াছিল যে, পারিষদবর্গ তাঁহাকে হত্যার পরামর্শ করিতেছে, তাই সে যেন শহর হইতে বাহির হইয়া যায়। হইহা ইব্‌ন আব্বাস (রা)-এর মত। অপর এক বর্ণনামতে কিবতীদের মধ্যে ফিরআওন বংশের একটি দল, সকল যাদুকর এবং বানু ইসরাঈলের সকল শাখা মূসা (আ)-এর উপর ঈমান আনিয়া (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ১খ, ২৬৮)। প্রকৃতপক্ষে প্রথমদিকে মূসা (আ)-এর উপর ঈমান আনিয়াছিল বানু ইসরাঈলের কিছু সংখ্যক যুবক। কিছু কাল পরে বানু ইসরাঈলের অন্য সকলেই তাঁহার দলভুক্ত হইয়াছিল এবং সেই সকলকে লইয়া তিনি মিসর ত্যাগ করিয়াছিলেন। এক বর্ণনামতে তাহাদের সংখ্যা ছিল প্রায় ছয় লক্ষ (আত-তাবারী, তারিখ, ১খ, ৪১৪)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00