📄 ফিরআওনের রাজপ্রাসাদে মূসা (আ)
দুধ পান করানোর নির্দিষ্ট সময়কাল শেষ হইলে মূসা (আ)-এর মাতা তাঁহাকে ফিরআওনের নিকট ফেরত দেন। মূসা (আ) এখন হইতে রাজপ্রাসাদে পুত্রস্নেহে মহা আদরযত্নে বড় হইতে লাগিলেন। একদিন হযরত আসিয়া তাঁহাকে লইয়া ক্রীড়া-কৌতুক করিতেছিলেন। এক সময় তিনি ফিরআওনের কোলে শিশু মূসাকে দিলেন। মুসা (আ) কোলে উঠিয়াই তাহার দাড়ি ধরিয়া টান দিলেন এবং কয়েকটি দাড়ি উপড়াইয়া ফেলিলেন। ফিরআওন বলিল, শীঘ্রই জল্লাদগণকে ডাক, এই সেই শিশু। আসিয়া বলিলেন, এতো অবুঝ শিশু, নিতান্তই শিশুসুলভ আচরণ সে করিয়াছে। বিশ্বাস না হয় পরীক্ষা করিয়া দেখা যাক। মিসরে আমার চাইতে মূল্যবান ও অধিক গহনার অধিকারী আর কোন মহিলা নাই। আমি তাহার সম্মুখে ইয়াকৃতের গহনা ও আগুনের জ্বলন্ত অঙ্গার রাখিব। সে যদি ইয়াকৃত ধরে তবে বুঝিব সে জ্ঞানের অধিকারী, তখন তাহাকে হত্যা করিও। আর যদি অঙ্গার ধরে তবে বুঝিতে হইবে, সে নিতান্তই শিশু। অতঃপর আসিয়া তাহার ইয়াকৃতের গহনা বাহির, করিয়া একটি তরিতে রাখিলেন এবং অপর একটি তন্তরিতে জ্বলন্ত অঙ্গার রাখিলেন। অতঃপর মূসা (আ)-কে ছাড়িয়া দেওয়া হইল। জিবরাঈল (আ) আসিয়া তাঁহার হাতে জ্বলন্ত অঙ্গার উঠাইয়া দিলেন আর শিশু মূসা উহা মুখে পুরিয়া দিলেন। ইহাতে তাহার জিহ্বা পুড়িয়া গেল। ইহার ফলে পরবর্তী কালে তাঁহার কথায় কিছুটা তোতলামী আসিয়াছিল, যাহা দূর করিবার জন্য তিনি দু'আ করেন। কুরআন কারীমে ইরশাদ হইয়াছে : وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِّنْ لِسَانِي يَفْقَهُوا قَوْلِي “আমার জিহ্বার জড়তা দূর করিয়া দাও, যাহাতে উহারা আমার কথা বুঝিতে পারে" (২০ঃ ২৭-২৮)।
এদিকে মূসা (আ)-এর মাতার মনে শুধু একটিই চিন্তা ছিল যে, তাহার শিশু পুত্রের না জানি কি হইল! আল্লাহ তাহাকে সবরের ক্ষমতা দান করিলেন এবং তাহার পুত্রকে তাহার নিকটু ফিরাইয়া দেওয়ার ব্যবস্থা করিলেন। শিশু পুত্রকে দুধ পান করানোর জন্য ধাত্রী মহিলাদিগকে ডাকা হইল। তাঁহারা তাহাকে দুধ পান করাইতে পারিলে ফিরআউনের প্রাসাদে স্থান পাওয়া এবং মোটা অংকের বখশিশ পাওয়ার আশায় সকলেই আগ্রহভরে আগমন করিল। প্রত্যেকেই তাঁহাকে দুধ পান করানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করিল কিন্তু শিশু পুত্র কাহারও দুধ পান করিল না। কারণ আল্লাহ যে তাঁহাকে স্বীয় মাতৃক্রোড়ে ফিরাইয়া দিবেন বলিয়া অঙ্গীকার করিয়াছিলেন, তাই আল্লাহ' অন্য মহিলার দুধ পান করা তাঁহার জন্য হারাম করিয়া দিয়াছিলেন। কুরআন কারীমে ইরশাদ হইয়াছে: وَحَرَّمْنَا عَلَيْهِ المَرَاضِعَ مِنْ قَبْلُ (۱۲ : ۲۸) "পূর্ব হইতেই আমি ধাত্রী স্তন্য পানে তাহাকে বিরত রাখিয়াছিলাম” (২৮: ১২) ইহাতে আসিয়া ও অন্যান্য সকলে খুবই বিচলিত হইয়া পড়িল এবং বিভিন্নভাবে তাঁহাকে দুধ পান করাইরার চেষ্টা করিল, কিন্তু কৃতকার্য হইল-না। শিশু মূসা (আ) অন্য কাহারও দুধ বা কিছুই গ্রহণ করিলেন না। অতঃপর তাঁহাকে মহিলাদেরসহ বাজারে পাঠাইয়া দেওয়া হইল ইহা দেখিবার জন্য যে, সেখানে কোনও মহিলার দুধ পান করে কি না। এদিকে তাঁহার ভগ্নী মরিয়াম মায়ের নির্দেশ মত বাক্সটিকে অনুসরণ করিয়া লোকজনের সহিত সেখানে আসিয়া উপস্থিত হইয়াছিলেন। তিনি তাহাদের এই অবস্থা দেখিয়া নিজের পরিচয় গোপন রাখিয়া তাহাদিগকে বলিলেন: هَلْ أَدُلُّكُمْ عَلَى أَهْلِ بَيْتِ يَكْفُلُونَهُ لَكُمْ وَهُمْ لَهُ نَاصِحُونَ (۲۸:۱۲) -"তোমাদিগকে কি আমি এমন এক পরিবারের সন্ধান দিব যাহারা তোমাদের হইয়া ইহাকে লালন-পালন করিবে, এবং ইহার মঙ্গলকামী হইবে" (২৮:১২)।
ইবন আব্বাস (রা) বলেন, তিনি এই কথা বলার পর তাহারা বলিল, 'উহারা তাহার মঙ্গল কামনা করিবে এবং তাহাকে স্নেহ করিবে' এই কথা দ্বারা কি বুঝাইতে চাহিতেছ। তাহারা কি ইহাকে চিনে? তাহারা এই ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করিতেছিল। এক বর্ণনামতে তাহারা তাহাকে পাকড়াও করিল এবং উক্ত কথাগুলি বলিল। তিনি ইহার উত্তরে বলিলেন, বাদশাহর সহিত সম্পর্ক সৃষ্টি হওয়ার এবং তাহার নিকট হইতে উপকার লাভের আশায় উহারা তাহার মঙ্গলকামী হইবে এবং তাহাকে স্নেহ করিবে। অতঃপর তাহারা মরিয়াম-এর সহিত তাহাদের বাড়িতে গেল। শিশুটিকে তাহার মাতা কোলে লইয়া দুধ দিল। অমনি সে উহা চোষণ করিতে লাগিল এবং দুধপান করিতে লাগিল। ইহাতে তাহারা খুবই সন্তুষ্ট হইল। তাহাদের মধ্য হইতে একজন তাড়াতাড়ি আসিয়া আসিয়াকে এই সুসংবাদ দিল। অতঃপর আসিয়া তাহাকে রাজ-প্রাসাদে ডাকাইয়া আনিলেন এবং তাহার নিকট সেখানে থাকিয়া বাচ্চাকে দুধ পান করাইবার প্রস্তাব দিলেন। কিন্তু তিনি তাহাতে অপারগতা প্রকাশ করিয়া বলিলেন, আমার স্বামী-সন্তান রহিয়াছে। কাজেই আমি উহা পারিব না। তবে আপনি যদি বাচ্চাকে আমার সহিত পাঠাইয়া দেন তবে বাড়ীতে বসিয়া দুধ পান করানো আমার দ্বারা সম্ভব হইতে পারে। অতঃপর আসিয়া বাচ্চাকে তাহার সহিত পাঠাইয়া দিলেন এবং তাহার জন্য ভাতা নির্ধারণ করিলেন, তাহার ভরণ-পোষণ, কাপড়-চোপড়ের ভার লইলেন এবং উপঢৌকনও প্রদান করিলেন। অতঃপর তিনি কোলের বাচ্চা কোলে লইয়া স্বগৃহে ফিরিয়া আসিলেন। এক বর্ণনামতে মরিয়াম আসিয়া তাহার মাতাকে খবর দিলে তিনি প্রাসাদে পৌঁছিয়া বাচ্চাকে স্তন্য দান করেন। তখন সে দুধ পান করিতে লাগিল এবং দুধ পান করিতে করিতে ঘুমাইয়া পড়িল। তখন তাহার মুখ দিয়া প্রায় বাহির হইয়া যাইতেছিল, ‘এ আমার পুত্র’। তখন আল্লাহই তাহাকে ইহা বলা হইতে রক্ষা করেন। ইহার প্রতিই কুরআন কারীমে ইঙ্গিত করা হইয়াছে:
إِنْ كَادَتْ لَتُبْدِي بِهِ لَوْلا أَنْ رَبَطْنَا عَلَى قَلْبِهَا لِتَكُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ (۲۸:۱۰)
"যাহাতে সে আস্থাশীল হয় তজ্জন্য আমি তাহার হৃদয়কে দৃঢ় করিয়া না দিলে সে তাহার পরিচয় তো প্রকাশ করিয়াই দিত" (২৮: ১০)। ইহার পর আসিয়া উক্ত প্রস্তাব দেন।
টিকাঃ
আত-তাবারী তারীখ, ১খ, ৩৯০; আল-মুনতাজাম, ১খ, ৩৩৪
আল-কামিল, ১খ, ১৩২; আল-বিদায়া, প্রাগুক্ত
আল-কামিল, ১খ, ১৩২
আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ১খ, ২৪০
আল-কামিল, ১খ, ১৩২
আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ১খ, ২৪০
আল-কামিল, ১খ., ১৩২-১৩৩; আত-তাবারী, তারীখ, ১খ, ৩৭৮-৮০
📄 আল-কুরআনে হযরত মূসা (আ)
কুরআন কারীমের বহু স্থানে হযরত মূসা (আ)-এর উল্লেখ করা হইয়াছে। বলা যায়, যত বেশী স্থানে তাঁহার আলোচনা ও ঘটনার উল্লেখ আসিয়াছে অন্য কোন নবীর আলোচনা তত আসে নাই। তাঁহার উম্মতের অবস্থা রাসূলুল্লাহ (স)-এর সহিত অধিক সামঞ্জস্যশীল। তাঁহার ঘটনাবলীতে স্বাধীন-পরাধীনের সংগ্রাম এবং হক ও বাতিলের মুকাবিলার অপূর্ব দৃষ্টান্ত নিহিত রহিয়াছে। উপরন্তু উহা শিক্ষা ও উপদেশাবলীর এক মহাভাণ্ডার। তাই শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণের জন্য আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন সময় ও পরিবেশে প্রয়োজন মাফিক কোথাও সংক্ষিপ্ত, কোথায়ও বিস্তারিত তাঁহার ঘটনার উল্লেখ করিয়াছেন আল- কুরআনুল কারীমে। নিম্নে তাঁহার ও বানু ইসরাঈল সম্পর্কে আলোচনার স্থানসমূহ সংক্ষিপ্ত আকারে উল্লেখ করা হইল:
ক্রঃ নং সূরার নাম আয়াতসমূহ আয়াত সংখ্যা
১. বাকারা ৪৭-৬১, ৬৩-৭৫, ৮৩-৮৭, ৯২-৯৩, ৬৫ আয়াত ১০৮, ১৩৬, ২৪৬, ২৪৮
২. আল ইমরান ৮৪ ১
৩. নিসা ১৫০-১৫৬, ১৬৪ ১২
৪. মাইদা ১২, ১৩, ২০-২৬ ৩১
৫. আনআম ৮৪-৯০, ১৪৬-১৫৪ ২১
৬. আ'রাফ ১0৩-১৫৭, ১৫৯-১৭১ ৬৮
৭. আনফাল ৬৮ ১
৮. ইউনুস ৭৪-৯৩ ২০
৯. হুদ ৯৬-৯৯, ১১০ ৫
১০. ইবরাহীম ৫, ৬, ৮ ৩
১১. নাহল ১২৪ ১
১২. বানু ইসরাঈল ২-৮, ১০১-১০৪ ১১
১৩. কাহাফ্ফ ৬০-৮২ ২৩
১৪. মারয়াম ৫১-৫৩ ৩
১৫. তাহা ৯-৯৮ ৯২
১৬. আম্বিয়া ৪৮, ৪৯ ২
১৭. মুমিনূন ৪৫-৪৯ ৫
১৮. ফুরকান ৩৫-৩৬ ২
১৯. শু'আরা ১০-৬৬: ৫৭
২০. নামল ৭-১৪ ৮
২১. কাসাস ৩-৪৮ ৪৬
২২. 'আনকাবূত ৩৯-৪০ ২
২৩. আলিফ লাম-মীম সাজদা ২৩-২৪ ২
২৪. আহযাব ৬৯ ১
২৫. আস-সাফফাত ১১৪-১২২ ৯
২৬. মু'মিন ২৩-৪৫, ৫৩-৫৪ ২৩
২৭. যুখরুফ ৪৬-৫৬ ১১
২৮. দুখান ১৭-৩৩ ১৭
২৯. জাছিয়া ১৬-১৭ ২
৩০. আয-যারিয়াত ৩৮-৪০ ৩
৩১. কামার ৪১-৫৫ ১৫
৩২. সাফ্ফ ৫ ১
৩৩. জুমুআ ৫,৬ ২
৩৪. তাহরীম ১১ ১
৩৫. আল-হাক্কা ৯, ১০ ২
৩৬. মুয্যাম্মিল ১৫, ২৬ ১১
৩৭. আন-নাযি'আত ১৫-২৫ ৮
৩৮. ফা ২০-১৩ ৮
৩৯. আ'লা ১৯ ১
মোট ৫১৬
আল-কুরআনুল কারীমের কত স্থানে তাঁহার উল্লেখ আসিয়াছে সে সম্পর্কিত একটি ছক নিম্নরূপ :
ক্রমিক নং সুরার নাম স্থান সংখ্যা ক্রমিক নং সুরার নাম স্থান সংখ্যা
১. বাকারা ১৩ স্থানে ১৫. মুমিনূন ২
২. আল-ইমরান ১ ১৬. ফুরকান ১
৩. নিসা ৩ ১৭. শু'আরা ৮
৪. মাইদা ৩ ১৮. নামল ৩
৫. আন'আম ৩ ১৯. কাসাস ১৮
৬. আ'রাফ ৩ ২০. সাজদা ১
৭. ইউনুস ৮ ২১. আহযাব ২
৮. হুদ ৩ ২২. সাফ্ফাত ২
৯. ইবরাহীম ৩ ২৩. মুমিন ৮
১০. বানু ইসরাঈল ৩ ২৪. যুখরুফ ১
১১. কাহফ ২ ২৫. যারিয়াত ১
১২. মারয়াম ১ ২৬. সাফ্ফ ১
১৩. তাহা ১৭ ২৭. আন-নাযিআত ১
১৪. আম্বিয়া ১ ২৮. আলা ১
মোট ১২৯
টিকাঃ
হিফজুর রাহমান সিউহারবী, কাসাসুল-কুরআন, ১খ, ১৭-৩৭০
📄 বাইবেলে হযরত মূসা (আ)
বাইবেলের বিরাট একটি অংশে মূসা (আ) সম্পর্কে আলোচনা করা হইয়াছে। বিশেষত ইহার পুরাতন নিয়ম (Old Testament)-এর অন্তর্ভুক্ত পঞ্চ পুস্তক যথা আদিপুস্তক, যাত্রাপুস্তক, লেবীয় পুস্তক, গণনাপুস্তক এবং দ্বিতীয় বিবরণ। শেষোক্ত চারটির পুরাটাই জুড়িয়া রহিয়াছে মূসা (আ) সম্পর্কিত বিবরণ।
বহু শতাব্দী যাবত ইয়াহুদী ও খৃস্টানগণ তো বিশ্বাসই করিয়া আসিতেছিল যে, তাওরাতের লেখক হইতেছেন স্বয়ং হযরত মূসা (আ)। তিনি যে তাওরাতের এই পাঁচটি খণ্ড রচনা করিয়াছিলেন, খৃষ্টপূর্ব ১ম শতাব্দীর পূর্ব পর্যন্ত সেই ধারণা সঠিক বলিয়া প্রমাণ করিবার প্রয়াস অব্যাহত ছিল। ফ্লাভিয়াস জোসেফাস ও আলেকজান্দ্রিয়ার ফিলো ছিলেন এই ধারণার সমর্থক। তবে বর্তমান কালে এই ধারণা সম্পূর্ণরূপে পরিত্যক্ত হইয়াছে এবং তাওরাত যে মূসা (আ)-এর রচনা নহে সেই বিষয়ে এখন আর কাহারও দ্বিমত নাই। এখানে পঞ্চ পুস্তকের চারিটি হইতে সংক্ষেপে কিছু আলোচনা করা হইল।
টিকাঃ
বাইবেল কোরআন ও বিজ্ঞান, মূল ড.মরিস বুকাইলি, অনু. আপ্তার-উল্-আলম, পৃ. ২৪
📄 যাত্রা পুস্তক
ইহার শুরুতে তথা প্রথম অধ্যায়ে ইসরাঈলীদের বৃদ্ধি ও দৌরাত্ম্য ভোগের আলোচনা করা হইয়াছে। দ্বিতীয় অধ্যায় হইতে মূসা (আ)-এর বিবরণ শুরু হইয়াছে। প্রথমে মূসা (আ)-এর জন্ম ও তাঁহাকে সংরক্ষণের বিষয়টি বর্ণিত হইয়াছে যাহা কুরআন কারীমের বর্ণনার সহিত কিছুটা সঙ্গতিপূর্ণ। বলা হইয়াছে: "আর সেই স্ত্রী গর্ভধারণ করিয়া পুত্র প্রসব করিলেন ও শিশুটিকে সুশ্রী দেখিয়া তিন মাস গোপনে রাখিলেন। পরে আর গোপন করিতে না পারাতে তিনি এক নলের পেটরা লইয়া মেটিয়া তৈল ও আলকাতরা লেপন করিয়া তাহার মধ্যে বালকটিকে রাখিলেন ও নদী তীরস্থ নলবনে তাহা স্থাপন করিলেন। আর তাহার কি দশা ঘটে তাহা দেখিবার জন্য তাহার ভগ্নি দূরে দাঁড়াইয়া রহিল। পরে ফরৌনের কন্যা স্নানার্থে নদীতে আসিলেন এবং তাহার সহচরীগণ নদীর তীরে বেড়াইতেছিল। আর তিনি নলবনের মধ্যে ঐ পেটরা দেখিয়া আপন দাসীকে তাহা আনিতে পাঠাইলেন। পরে পেটরা খুলিয়া শিশুটিকে দেখিলেন; তখন ছেলেটি কাঁদিতেছে"।
'অতঃপর তাহাকে আনিয়া তাহার নামকরণ করা হইল মোশি অর্থাৎ টানিয়া তোলা। কেননা তিনি কহিলেন, আমি তাহাকে জল হইতে টানিয়া তুলিয়াছি'। অতঃপর তাঁহার মাদ্য়ান উপস্থিতি, সেখানে যিগ্রো নামক মাদয়ানের যাজকের কন্যাকে বিবাহ ও পুত্র সন্তান লাভ, স্বীয় শ্বশুরের মেষপাল চরানো এবং একদিন মেষপালন লইয়া গিয়া হোরেবে ঈশ্বরের পর্বতে উপস্থিতি, সেখানে সদাপ্রভুর দূতের দর্শন দান ও নবৃওয়াত প্রদানের কথা উল্লিখিত হইয়াছে। ভ্রাতা হারুন (আ)-কেও তাঁহার সঙ্গী হিসাবে নবৃওয়াত প্রদানের ঘোষণা দিয়া বলা হইয়াছে, "আর তোমার ভ্রাতা হারোন তোমার ভাববাদী হইবে"। অতঃপর ফিরআওন তাহাদের দাওয়াতে সাড়া না দেওয়ায় একে একে রক্ত, ভেক, পিত্ত, দংশক, পশুর মহামারী, মানুষ ও পশুর শরীরে ক্ষত, ভারী শিলাবৃষ্টি, পঙ্গপাল, গাঢ় অন্ধকার প্রভৃতি নিদর্শন প্রেরণ এবং বনী ইসরাঈলের মিসর ত্যাগ-এর সবিস্তার বর্ণনা দেওয়া হইয়াছে। অতঃপর মূসা (আ)-কে দশ আজ্ঞা ও নানাবিধ আজ্ঞা প্রদানের কথা উল্লিখিত হইয়াছে।
টিকাঃ
যাত্রাপুস্তক ২:২-৬
প্রাগুক্ত, ২:১০
প্রাগুক্ত, ৭: ১