📘 সীরাত বিশ্বকোষ 📄 ফিরআওন গৃহে মূসা (আ)

📄 ফিরআওন গৃহে মূসা (আ)


এমনিভাবে একদিন তিনি উক্ত রশির প্রান্ত নিজের নিকট বাঁধিয়া রাখিতে ভুলিয়া গেলেন। তখন মূসা (আ)-সহ বাক্স নীল নদে ভাসিয়া গেল। এক বর্ণনামতে বাক্সটি যখন তাহার দৃষ্টি সীমার বাহিরে চলিয়া গেল তখন ইবলীস আসিয়া তাহাকে ধোঁকা দিতে লাগিল। অতঃপর তিনি মনে মনে বলিলেন, আহা! আমি নিজ হাতে কি কাজ করিলাম। আমার সম্মুখে যদি তাহাকে হত্যাও করা হইত এবং আমি তাঁহাকে কাফন পরাইয়া কবর দিতাম তাহাই তো ভাল হইত। এখন তো নিজ হাতে সমুদ্রের মাছ ও হাঙ্গর কুমিরের নিকট সোপর্দ করিয়া দিলাম। অতঃপর তিনি নিজ কন্যা ও মূসা (আ)-এর ভগ্নি মারয়ামকে উহার অনুসরণে গমন করিবার নির্দেশ দিলেন। কুরআন কারীমে ইরশাদ হইয়াছে:
وَقَالَتْ لِأُخْتِهِ قُصِيْهِ فَبَصُرَتْ بِهِ عَنْ جُنْب وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ (۲۸ : ۱۱) মূসার ভগ্নীকে সে বলিল, "ইহার পেছনে পেছনে যাও। সে উহাদের অজ্ঞাতসারে দূর হইতে তাহাকে দেখিতেছিল" (২৮:১১)।
অতঃপর সমুদ্রের ঢেউ তাহাকে একবার উপরে তুলিতেছিল, একবার নীচে নামাইতেছিল। এমনি করিয়া মূসা (আ)-কে বহনকারী বাক্সটি ফিরআওনের বাড়ির নিকট গাছপালা ও ঝোপ-ঝাড়ের মধ্যে গিয়া পৌছিল। ফিরআওনের দাসীরা গোসল করিতে গিয়া উহা দেখিতে পাইয়া উঠাইয়া লইয়া আসিল, কিন্তু উহার বদ্ধ মুখ তাহারা খুলিতে পারিল না। অতঃপর উহা ফিরআওনের স্ত্রী আসিয়া বিন্ত মুষাহিম-এর নিকট লইয়া গেল। তাহারা মনে করিয়াছিল, উহাতে বুঝি ধনরত্ন রহিয়াছে। কুরআন কারীমে তাহার এই ঘটনার কথা এইভাবে উল্লিখিত হইয়াছে: فَالْتَقَطَهُ أَلُ فِرْعَوْنَ لِيَكُونَ لَهُمْ عَدُوا وَحَزَنًا (۲۸ : ۸) "অতঃপর ফিরআওনের লোকজন তাহাকে উঠাইয়া লইল। ইহার পরিণাম তো এই ছিল যে, সে উহাদের শত্রু ও দুঃখের কারণ হইবে" (২৮:৮)।
অতঃপর বাক্স খুলিয়া দেখা গেল অপরূপ সুন্দর ফুটফুটে চাঁদের মত এক শিশু, প্রকৃতপক্ষে নবুওয়াতের নূরে তাঁহার চেহারা ঝলমল করিতেছিল। তাহাকে দেখিবামাত্র আসিয়ার অন্তরে শিশুটির প্রতি গভীর স্নেহ ও মমতার উদ্রেক হইল। অতঃপর ফিরআওন আসিয়া বলিল, ইহা কি? সে শিশুটিকে হত্যার নির্দেশ দিল। কিন্তু আসিয়া শিশুটির পক্ষ হইয়া ইহার বিরোধিতা করিলেন, যাহা কুরআন কারীমে এইভাবে বর্ণিত হইয়াছে: وَقَالَتِ امْرَأَتُ فِرْعَوْنَ قُرَّةٌ عَيْنٍ لِي وَلَكَ لا تَقْتُلُوهُ عَسَى أَنْ يُنْفَعَنَا أَوْ نَتَّخِذَهُ وَلَدًا وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ (۲۸:۹) "ফিরআওনের স্ত্রী বলিল : এই শিশু আমার ও তোমার নয়ন-প্রীতিকর। ইহাকে হত্যা করিও না, সে আমাদের উপকারে আসিতে পারে, আমরা সন্তান হিসাবেও তাহাকে গ্রহণ করিতে পারি" (২৮:৯)।
ফিরআওন বলিল, আমি আশঙ্কা করিতেছি যে, ইহা বনী ইসরাঈলের শিশু এবং হয়তো বা ইহার হাতেই আমার ধ্বংশ হইবে। বর্ণিত আছে যে, আসিয়া যখন বলিল, "এই শিশু আমার ও তোমার চোখের মণি হইবে" তখন ফিরআওন বলিয়াছিল, "তোমার ব্যাপারে ঠিক আছে কিন্তু আমার ব্যাপারে নহে” অর্থাৎ তাহাকে দিয়া আমার কোন প্রয়োজন নাই এবং সে আমার চোখের মণি হইবে না। বলা হইয়া থাকে الْبَلاءُ مُؤَكَّلٌ بِالْقَوْلِ অর্থাৎ বিপদাপদ আপন কথার দ্বারাই আসে। রাসূলুল্লাহ (স) বলেন, যাঁহার নামে কসম করা হয় তাঁহার কসম! ফিরআওন যদি সেই দিন তাঁহাকে চোখের মণি বলিয়া স্বীকার করিত, আসিয়া যেমন করিয়াছিলেন তাহা হইলে আল্লাহ অবশ্যই তাহাকে হিদায়াত দান করিতেন, যেমন হিদায়াত দান করিয়াছিলেন আসিয়াকে। আসিয়া যে বলিয়াছিলেন عَسَى أَنْ يُنْفَعَنَا "হয়ত সে আমাদের উপকারে আসিবে", তিনি যে উপকারের আশা করিয়াছিলেন আল্লাহ তাঁহাকে তাহা 'দান করিয়াছিলেন। দুনিয়াতে এইভাবে যে, তাঁহার দ্বারা আল্লাহ তাঁহাকে হিদায়াত দান করিয়াছিলেন, আর আখিরাতে এইভাবে যে, তাঁহার কারণেই তাঁহাকে জীন্নাত দান করিবেন, (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ১খ., ২৪০)। তাহাদের কোন পুত্র সন্তান ছিল না, তাই শিশুটিকে তাহীরা পালক পুত্ররূপে গ্রহণ করিল। ইহার প্রতিই কুরআন কারীমে ইঙ্গিত করা হইয়াছে: وَلَدُ )خ "অথবা আমরা উহাকে পুত্ররূপে গ্রহণ করিব"।
এদিকে মূসা (আ)-এর মাতার মনে শুধু একটিই চিন্তা ছিল যে, তাহার শিশু পুত্রের না জানি কি হইল! আল্লাহ তাহাকে সবরের ক্ষমতা দান করিলেন এবং তাহার পুত্রকে তাহার নিকটু ফিরাইয়া দেওয়ার ব্যবস্থা করিলেন। শিশু পুত্রকে দুধ পান করানোর জন্য ধাত্রী মহিলাদিগকে ডাকা হইল। তাঁহারা তাহাকে দুধ পান করাইতে পারিলে ফিরআউনের প্রাসাদে স্থান পাওয়া এবং মোটা অংকের বখশিশ পাওয়ার আশায় সকলেই আগ্রহভরে আগমন করিল। প্রত্যেকেই তাঁহাকে দুধ পান করানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করিল কিন্তু শিশু পুত্র কাহারও দুধ পান করিল না। কারণ আল্লাহ যে তাঁহাকে স্বীয় মাতৃক্রোড়ে ফিরাইয়া দিবেন বলিয়া অঙ্গীকার করিয়াছিলেন, তাই আল্লাহ' অন্য মহিলার দুধ পান করা তাঁহার জন্য হারাম করিয়া দিয়াছিলেন। কুরআন কারীমে ইরশাদ হইয়াছে: وَحَرَّمْنَا عَلَيْهِ المَرَاضِعَ مِنْ قَبْلُ (۱۲ : ۲۸) "পূর্ব হইতেই আমি ধাত্রী স্তন্য পানে তাহাকে বিরত রাখিয়াছিলাম” (২৮: ১২) ইহাতে আসিয়া ও অন্যান্য সকলে খুবই বিচলিত হইয়া পড়িল এবং বিভিন্নভাবে তাঁহাকে দুধ পান করাইরার চেষ্টা করিল, কিন্তু কৃতকার্য হইল-না। শিশু মূসা (আ) অন্য কাহারও দুধ বা কিছুই গ্রহণ করিলেন না। অতঃপর তাঁহাকে মহিলাদেরসহ বাজারে পাঠাইয়া দেওয়া হইল ইহা দেখিবার জন্য যে, সেখানে কোনও মহিলার দুধ পান করে কি না। এদিকে তাঁহার ভগ্নী মরিয়াম মায়ের নির্দেশ মত বাক্সটিকে অনুসরণ করিয়া লোকজনের সহিত সেখানে আসিয়া উপস্থিত হইয়াছিলেন। তিনি তাহাদের এই অবস্থা দেখিয়া নিজের পরিচয় গোপন রাখিয়া তাহাদিগকে বলিলেন: هَلْ أَدُلُّكُمْ عَلَى أَهْلِ بَيْتِ يَكْفُلُونَهُ لَكُمْ وَهُمْ لَهُ نَاصِحُونَ (۲۸:۱۲) -"তোমাদিগকে কি আমি এমন এক পরিবারের সন্ধান দিব যাহারা তোমাদের হইয়া ইহাকে লালন-পালন করিবে, এবং ইহার মঙ্গলকামী হইবে" (২৮:১২)।
ইবন আব্বাস (রা) বলেন, তিনি এই কথা বলার পর তাহারা বলিল, 'উহারা তাহার মঙ্গল কামনা করিবে এবং তাহাকে স্নেহ করিবে' এই কথা দ্বারা কি বুঝাইতে চাহিতেছ। তাহারা কি ইহাকে চিনে? তাহারা এই ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করিতেছিল। এক বর্ণনামতে তাহারা তাহাকে পাকড়াও করিল এবং উক্ত কথাগুলি বলিল। তিনি ইহার উত্তরে বলিলেন, বাদশাহর সহিত সম্পর্ক সৃষ্টি হওয়ার এবং তাহার নিকট হইতে উপকার লাভের আশায় উহারা তাহার মঙ্গলকামী হইবে এবং তাহাকে স্নেহ করিবে। অতঃপর তাহারা মরিয়াম-এর সহিত তাহাদের বাড়িতে গেল। শিশুটিকে তাহার মাতা কোলে লইয়া দুধ দিল। অমনি সে উহা চোষণ করিতে লাগিল এবং দুধপান করিতে লাগিল। ইহাতে তাহারা খুবই সন্তুষ্ট হইল। তাহাদের মধ্য হইতে একজন তাড়াতাড়ি আসিয়া আসিয়াকে এই সুসংবাদ দিল। অতঃপর আসিয়া তাহাকে রাজ-প্রাসাদে ডাকাইয়া আনিলেন এবং তাহার নিকট সেখানে থাকিয়া বাচ্চাকে দুধ পান করাইবার প্রস্তাব দিলেন। কিন্তু তিনি তাহাতে অপারগতা প্রকাশ করিয়া বলিলেন, আমার স্বামী-সন্তান রহিয়াছে। কাজেই আমি উহা পারিব না। তবে আপনি যদি বাচ্চাকে আমার সহিত পাঠাইয়া দেন তবে বাড়ীতে বসিয়া দুধ পান করানো আমার দ্বারা সম্ভব হইতে পারে। অতঃপর আসিয়া বাচ্চাকে তাহার সহিত পাঠাইয়া দিলেন এবং তাহার জন্য ভাতা নির্ধারণ করিলেন, তাহার ভরণ-পোষণ, কাপড়-চোপড়ের ভার লইলেন এবং উপঢৌকনও প্রদান করিলেন। অতঃপর তিনি কোলের বাচ্চা কোলে লইয়া স্বগৃহে ফিরিয়া আসিলেন, (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ১খ, ২৪০)। এক বর্ণনামতে মরিয়াম আসিয়া তাহার মাতাকে খবর দিলে তিনি প্রাসাদে পৌঁছিয়া বাচ্চাকে স্তন্য দান করেন। তখন সে দুধ পান করিতে লাগিল এবং দুধ পান করিতে করিতে ঘুমাইয়া পড়িল। তখন তাহার মুখ দিয়া প্রায় বাহির হইয়া যাইতেছিল, ‘এ আমার পুত্র’। তখন আল্লাহই তাহাকে ইহা বলা হইতে রক্ষা করেন। ইহার প্রতিই কুরআন কারীমে ইঙ্গিত করা হইয়াছে:
إِنْ كَادَتْ لَتُبْدِي بِهِ لَوْلا أَنْ رَبَطْنَا عَلَى قَلْبِهَا لِتَكُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ (۲۸:۱۰)
"যাহাতে সে আস্থাশীল হয় তজ্জন্য আমি তাহার হৃদয়কে দৃঢ় করিয়া না দিলে সে তাহার পরিচয় তো প্রকাশ করিয়াই দিত" (২৮: ১০)। ইহার পর আসিয়া উক্ত প্রস্তাব দেন।

টিকাঃ
আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ১খ, ২৩৯
আল-কামিল, ১খ, ১৩২
আত-তাবারী, তারীখ, ১খ., ৩৮৯
আল-কামিল, ১খ, ১৩২; তাবারী, তারীখ, ১খ., ৩৮৯
আল-কামিল, ১খ, ১৩২
আল-বিদায়া, প্রাগুক্ত
আল-কামিল, ১খ, ১৩২
আল-কামিল, ১খ., ১৩২-১৩৩; আত-তাবারী, তারীখ, ১খ, ৩৭৮-৮০

📘 সীরাত বিশ্বকোষ 📄 ফিরআওন পত্নী পরিচয়

📄 ফিরআওন পত্নী পরিচয়


ফিরআওন পত্নীর নাম ছিল আসিয়া। তাহার বংশলতিকা হইলঃ আসিয়া বিন্ত মুযাহিম ইবন উবায়দ ইবনুর রায়‍্যান ইবনুল-ওয়ালীদ। এই ওয়ালীদ ছিলেন হযরত ইউসুফ (আ)-এর সময়কার ফিরআওন। কাহারও কাহারও মতে আসিয়া ছিলেন বানু ইসরাঈল বংশীয়া। সুহায়লীর বর্ণনামতে তিনি ছিলেন মূসা (আ)-এর ফুফু। তবে ইহা যুক্তিসম্মত নহে। কেননা ফিরআওন ছিল চরম বনী ইসরাঈল বিদ্বেষী। অতএব সে তাহাদের কোন মহিলাকে বিবাহ করিতে পারে না।
হযরত মূসা (আ)-এর প্রতি অতিশয় স্নেহবৎসল হওয়ার কারণে আল্লাহ তাহাকে হিদায়াতের নি'মত দান করিয়াছিলেন এবং তাহার দুআ কবুল করিয়া জান্নাতে তাহার জন্য প্রাসাদ নির্মাণ করিয়াছেন (এই বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ পরে আসিতেছে)। এক বর্ণনামতে মূসা (আ) যেদিন যাদুকরদের উপর বিজয় লাভ করেন সেই দিন আসিয়া তাঁহার প্রতি ঈমান আনয়ন করেন।

টিকাঃ
আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ১খ. ২৩৯
আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ১খ, ২৩৯
ছানাউল্লাহ পানীপতী, আত-তাফসীরুল মাজহারী, ১খ, ৩৪৭

📘 সীরাত বিশ্বকোষ 📄 'মূসা' নামের তাৎপর্য

📄 'মূসা' নামের তাৎপর্য


. ইমাম ইবন জারীর তাবারীর বর্ণনামতে কিবতী ভাষায় 'মৃ' অর্থ পানি, আর 'শা' অর্থ গাছ। মূসা (আ)-কে তথা তিনি যে বাক্সে ছিলেন তাহা গাছ ও পানির মধ্যে পাওয়া গিয়াছিল বলিয়া তাঁহার উক্ত নামকরণ করা হইয়াছে।
অপর এক বর্ণনামতে মূসা হিব্রু শব্দ 'মূশা' হইতে উদ্ভূত, যাহার অর্থ 'নাজাত দানকারী'। তিনি যেহেতু বনী ইসরাঈলকে চারি শত বৎসরের গোলামী হইতে নাজাত দান করেন সেইজন্য ইয়ত-বা তাঁহার উক্ত নামকরণ করা হইয়াছে। Sibenian Bible ও ইঞ্জীলে মূসা শব্দটি এইভাবে আসিয়াছে, যাহার অর্থ "পানি হইতে সংগৃহীত"। যেহেতু ফিরআওন কন্যা অথবা তাহার স্ত্রী উহাকে নীল নদ হইতে সংগ্রহ করিয়াছিল, এইজন্য তাঁহা উক্ত নামকরণ করা হইয়া থাকিবে।

টিকাঃ
আত-তাবারী, তারীখ, ১খ, ৩৯০
আম্বিয়া-ই কুরআন, ২খ, ৯৪

📘 সীরাত বিশ্বকোষ 📄 বংশপরিচয়

📄 বংশপরিচয়


হযরত মূসা (আ) ইবরাহীম (আ)-এর অষ্টম (মতান্তরে সপ্তম) পুরুষে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁহার বংশলতিকা হইল : মূসা ইব্‌ন ইমরান ইবন কাহাহ ইব্‌ন গাযির (মতান্তরে য়াসহার) ইব্‌ন লাবী ইব্‌ন ইয়াকুব ইবন ইসহাক ইবন ইবরাহীম (আ)। কোন কোন বর্ণনায় কাহাছ ও লাবী-এর মধ্যখানে গাযির-এর নাম উল্লেখ করা হয় নাই বরং বলা হইয়াছে: কাহাছ ইবন লাবী। তাঁহার বংশ ও পূর্বপুরুষের একটি ছক নিম্নরূপ:
মূসা (আ)-এর পিতার নাম ইমরান। কুরআন কারীমে মূসা (আ)-এর জন্ম প্রসঙ্গে তাঁহার মাতা ও ভগ্নীর উল্লেখ আছে। কিন্তু পিতা, সম্পর্কে কোন বর্ণনা নাই। এই জন্য অনেকের ধারণা যে, মূসা (আ)-এর জন্মের সময় তিনি জীবিত ছিলেন না।
হযরত মূসা (আ)-এর মাতার নাম সম্পর্কে মতভেদ রহিয়াছে। সুহায়লীর বর্ণনামতে তাহার নাম আয়ারুখা, মতান্তরে আয়াযাখত; ছা'লাবীর বর্ণনামতে লুখা বিনত হানিদ ইবন লাবী ইবন ইয়াকুব (আ)। কোন কোন তাফসীরে যুজান্য বলিয়া উল্লেখ করা হইয়াছে।
অন্য এক বর্ণনামতে তাহার নাম ইয়ূকাবিদ (JOCHEBED)। এক বর্ণনামতে তিনি ছিলেন মূসা (আ)-এর পিতা ইমরান-এর ফুফু অর্থাৎ লাবীর কন্যা।
হযরত মূসা (আ)-এর মাতা ছিলেন একজন সম্মানিত মহিলা এবং আল্লাহর প্রিয়পাত্রী। আল্লাহ তাঁহার গর্ভে দুইজন খ্যাতিমান নবীর আবির্ভাব ঘটাইয়া তাঁহাকে গৌরবান্বিত করেন। তিনি তাঁহার নিকট প্রত্যাদেশ প্রেরণ করিয়াও তাঁহাকে সম্মানিত ও মর্যাদাবতী করেন। যেমন কুরআন কারীমে ইরশাদ হইয়াছে:
وَأَوْحَيْنَا إِلَى أُمِّ مُوسَى أَنْ أَرْضِعِيهِ فَإِذَا خِفْتِ عَلَيْهِ فَالْقِيْهِ فِي الْيَمِّ وَلَا تَخَافِي وَلَا تَحْزَنِي إِنَّا رَادُّوهُ اليكِ وَجَاعِلُوهُ مِنَ الْمُرْسَلِينَ (۷ : ۲۸)
আল্লামা হাফিজ ইব্‌ন কাছীর বলেন, তবে ইহা নবুওয়াতের ওয়াহয়ি ছিল না, বরং ইহা ছিল ইলহাম। তাই ইহার অর্থ অন্তরে ইংগিত দ্বারা নির্দেশ করা। যেমন অন্য আয়াতে আল্লাহ তা'আলা মৌমাছির প্রতি ইলহাম প্রেরণের কথা উল্লেখ করিয়া বলিয়াছেন:
وَأَوْحَى رَبُّكَ إِلَى النَّحْلِ أَنِ اتَّخِذُى مِنَ الْجِبَالِ بُيُوتًا وَمِنَ الشَّجَرِ وَمِمَّا يَعْرِشُونَ . ثُمَّ كُلِي مِنْ كُلِّ الثَّمَرَاتِ فَاسْلُكِي سُبُلَ رَبِّكَ ذللاً (۱۹-۱۸ : ١٦)

টিকাঃ
আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ১খ, ২৩৭
আম্বিয়া-ই কুরআন, ২খ, ৯৬৭
আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ১খ., ২৩৯
আবদুল ওয়াহহাব আন-নাজ্জার, কাসাসুল আম্বিয়া, পৃ. ১৫৬-১৫৮

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية