📄 হযরত ইলয়াস (আ) জীবিত আছেন কিনা?
ঐতিহাসিক ও তাফসীরবিদগণের নিকট হযরত ইলয়াস (আ)-এর জীবিত থাকিবার বিষয় বহুল আলোচিত। তিনি কি জীবিত রহিয়াছেন না ইনতিকাল করিয়াছেন তাহা লইয়া আলোচনার অন্ত নাই। তাফসীরে মাযহারীতে উল্লিখিত বর্ণনায় দেখা যায় যে, ইলয়াস (আ)-কে অগ্নি অশ্বে আরোহণ করাইয়া আকাশে তুলিয়া লওয়া হয় এবং তিনি হযরত ঈসা (আ)-এর মতই জীবিত রহিয়াছেন। এইরূপ আরো কতিপয় বর্ণনা তাঁহার জীবিত থাকিবার প্রমাণ বহন করে। সিররী ইবন ইয়াহইয়া 'আবদুল আযীয ইবন আবু দারদার সূত্রে বর্ণনা করেন, হযরত ইলয়াস (আ) এবং হযরত খিযির (আ) উভয়ে রায়তুল মুকাদ্দাসে রমযানের রোযা রাখেন। হজ্জের সময় প্রতি বছর একত্র হন। ইহাও বর্ণিত আছে যে, হযরত ইলয়াস (আ) পৃথিবীর স্থলভাগে এবং হযরত খিযির (আ) সামুদ্রিক ভাগে কর্তব্যরত রহিয়াছেন। পাহাড়-পর্বত, অরণ্য বা মরুভূমিতে যাহারা পথ হারাইয়া ফেলে, তাহদিগকে পথ প্রদর্শন করেন হযরত ইলয়াস (আ), আর খিযির (আ) সমুদ্র পথের মুসফিরদের সাহায্য করিয়া থাকেন।
ইবনে আসাকির কা'ব (রা)-এর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন, চারজন নবী বর্তমানে জীবিত রহিয়াছেন: দুইজন দুনিয়াতে, দুইজন আসমানে। দুনিয়াতে হইলেন হযরত ইলয়াস (আ) ও হযরত খিযির (আ) এবং আসমানে রহিয়াছেন হযরত ঈসা (আ) ও হযরত ইদরীস (আ)। ইবন আসাকির আরো লিখিয়াছেন, হযরত খিযির (আ) ও হযরত ইলয়াস (আ) প্রত্যেক বৎসর হজ্জের সময় একত্র হন।
'হযরত আনাস (রা) বলেন, একদা আমরা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের সহিত সফরে ছিলাম। এক স্থানে আমরা বিশ্রাম গ্রহণ করিলাম। সেইখানে মরুভূমিতে এক ব্যক্তিকে দেখিলাম, তিনি বলিতেছেন, হে আল্লাহ! আমাকে উম্মতে মুহাম্মদিয়ার অন্তর্ভুক্ত কর। আমি লক্ষ্য করিলাম যে, লোকটি দৈর্ঘ্যে প্রায় তিন শত হাত, এবং ইহার চাইতেও বেশী। আমাকে তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, তুমি কে? আমি বলিলাম, হযরত রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের খাদেম আনাস। লোকটি বলিলেন, তিনি কোথায়? হযরত আনাস (রা) বলিলেন, তিনি নিকটেই রহিয়াছেন, আপনার কথা শ্রবণ করিতেছেন। লোকটি বলিলেন, তাঁহাকে আমার সালাম পৌঁছাইয়া দাও এবং বল, আপনার ভাই ইলয়াস (আ) আপনাকে সালাম দিয়োছেন। হযরত আনাস (রা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের খেদমতে হাযির হইয়া এই সংবাদ দিলে তিনি বাহির হইয়া আসিয়া ঐ ব্যক্তিকে আলিঙ্গন করিলেন এবং তাঁহারা উভয়ে বসিয়া কথা বলিলেন। উক্ত ব্যক্তি বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি বৎসরে একদিন আহার করি। ইহা আমার স্বাভাবিক ব্যাপার, অদ্য আপনি ও আমি একসঙ্গে আহার করিব। ইহার পর আসমান হইতে খাবার নাযিল হইল। তাহাতে ছিল রুটি, মাছ ও অন্যান্য দ্রব্য। তাঁহারা উভয়ে আহার গ্রহণ করিলেন এবং আমাকেও খাইতে দিলেন, অতঃপর একসঙ্গে আসরের নামায আদায় করিলেন। ইহার পর তিনি বিদায় গ্রহণ করিলেন। আমি দেখিলাম তিনি মেঘমালা অতিক্রম করিয়া আকাশ পানে চলিয়া যাইতেছেন।
ইমাম হাকিম (র) তাঁহার মুসতাদরাক-এ ইহা বর্ণনা করিবার পর বলিয়াছেন, এই হাদীছটির সনদ বিশুদ্ধ হইলেও ইমাম বুখারী ও মুসলিম ইহা সংকলন করেন নাই। কিন্তু হাফিজ শামসুদ্দীন যাহাবী (র) তাঁহার "তালখীসুল মুসতাদরাক"-এ ইহা বর্ণনা করিয়া অতঃপর লিখিয়াছেন, আমি বলি, বরং ইহা বানোয়াট হাদীছ। আল্লাহ ইহার বানোয়াটকারীর অমঙ্গল করুন। আমি ধারণাও করিতাম না এবং সঙ্গত মনে করি না হাকেম এতদূর অজ্ঞতার পরিচয় দিবেন যে, এইরূপ একটি বর্ণনাকে তিনি বিশুদ্ধ সাব্যস্ত করিবেন। ইহার সনদের মধ্য হইতে য়াযীদ বালবী কিংবা ইবনু সায়্যার সম্ভবত ইহা রচনা করিয়াছে।
টিকাঃ
মাজহারী, ১০ খ., ৬৪