📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 সন্তান-সন্তুতি

📄 সন্তান-সন্তুতি


ইতোপূর্বে ‘পরিবার-পরিজনের সহিত সাক্ষাত’ উপ-শিরোনামে বলা হইয়াছে যে, হযরত উযায়র (আ) এক শত বৎসর মৃত থাকার পর পুনর্জীবন লাভ করিয়া স্বগৃহে প্রত্যাবর্তন করেন এবং তাঁহার জীবিত থাকা এক শত আঠার বৎসর বয়সের এক পুত্র তাঁহার দুই কাঁধের মধ্যস্থলের তিল দেখিয়া তাঁহাকে চিনিতে পারিয়াছিলেন। ইহা হইতে বুঝা যায় যে, তিনি বিবাহিত ছিলেন এবং তাঁহার একাধিক পুত্র ও পৌত্রাদি ছিল। বিদায়া ওয়ান-নিহায়ায় (পৃ. ৪২) উল্লিখিত হইয়াছে, হযরত উযায়র (আ) তাঁহার বৃদ্ধ পুত্র ও পৌত্রদের সহিত যুবক অবস্থায় বসবাস করিতেন। কেননা তিনি যখন চল্লিশ বৎসর বয়সের ছিলেন, তখন আল্লাহ তাঁহাকে মৃত্যু দান করিয়াছিলেন এবং সেই অবস্থায়ই তাঁহাকে পুনর্জীবিত করিয়াছিলেন।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 যুল-কিফল ও গৌতম বুদ্ধ

📄 যুল-কিফল ও গৌতম বুদ্ধ


ইদানিং কেহ কেহ বৌদ্ধ ধর্মের প্রচারক গৌতম বুদ্ধের সহিত যুল-কিফল (আ)-এর সম্পৃক্ততার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করিতেছেন। এই সম্পর্কে মাওলানা হিফযুর রহমান বলেন, আধুনিক কালের কাহারো কাহারো বিস্ময়কর অভিমত হইল যে, যুল-কিফল গৌতম বুদ্ধের উপাধি। ইহার কারণ হইল, গৌতম বুদ্ধের সদর দফতরের নাম "কপিল"। কপিলের আরবী কিফ্‌ল। আরবীতে যুল-কিফল শব্দটি মালিক ও অধিকারী অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন সম্পদ ও বিত্তশালী ব্যক্তিকে যূ'মাল বলা হয়। শহর বা রাজ্যের অধিকারী ব্যক্তিকে যূ-বালাদ-এর খুবই প্রচলন রহিয়াছে। তাহারা বলেন, এই স্থলে যুল-কিফল বলিতে কপিলের অধিকারী বা তাহার শাসক বুঝানো হইয়াছে। এই অভিমত যাহারা পোষণ করেন তাহাদের যুক্তি হইল, গৌতম বুদ্ধের প্রচারিত ধর্মের মূল শিক্ষা ছিল তাওহীদ বা একত্ববাদ, যাহা ইসলামী দাওয়াতের অনুরূপ ছিল। কালক্রমে বৌদ্ধরা উহাতে বিকৃতি ঘটায়। বর্তমান বৌদ্ধ ধর্ম অতীতের ধর্মসমূহের মতই বিকৃত ও পরিবর্তিত রূপ, যাহার ফলে মূল ইসলামী শিক্ষার সহিত উহা পরস্পরবিরোধী মনে হয়। সুতরাং ব্যক্তি, নাম ও তাহার প্রচারিত ধর্মের মৌল শিক্ষার দিকে তাকাইলে মনে হয় তিনিই যুল-কিফল (আ)। এই অভিমত নিছক অনুমান ছাড়া আর কিছুই নহে। ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ হইতে সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য পাওয়া গেলে তবেই উহা গ্রহণ করা যাইতে পারে যাহা অস্বীকার করার কোন যৌক্তিকতা নাই। কিন্তু কেবল অনুমানের ভিত্তিতে এবং সঠিক ইতিহাস ব্যতীত কোন নবীকে কোন ধর্মপ্রচারকের সহিত সম্পৃক্ত করা আদৌ ঠিক নয়। কারণ কোন নবীকে নবী হিসাবে মান্য না করা যেমন কুফরী, অনুরূপ কোন অনবীকে নবী বলিয়া সাব্যস্ত করা বাতিল আকীদার শামিল। যুল-কিফল (আ)-কে গৌতম বুদ্ধ বলিয়া সাব্যস্ত করা অনুমান মাত্র। ইহার স্বপক্ষে ঐতিহাসিক কোন প্রমাণ পাওয়া যায় নাই।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00