📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ইনতিকাল

📄 ইনতিকাল


তিনি কখন ইন্তিকাল করেন তাহার সঠিক কোন তথ্য কোন বর্ণনায় পাওয়া যায় না। যে সকল গবেষক ও মনিষী নবী (আ)-দের নামের তালিকা প্রণয়ন করিয়াছেন তাহাদের তালিকাতে নবীদের নামের ধারাবাহিকতা ভিন্ন ভিন্ন আকারে পরিলক্ষিত হয়। এইজন্য তিনি কোন্ নবীর পরে এবং কোন নবীর পূর্বে, তাহা নির্ধারণ করা বেশ দুরুহ। ইহার পরেও তিনি যে পূর্বোল্লিখিত নিনিওয়া শহরে প্রেরিত হইয়াছিলেন সেই শহর ধ্বংসের ঐতিহাসিক প্রমাণাদি ও বাইবেলের বর্ণনাকে সঠিক বলিয়া ধরিয়া লইলে ঈসা (আ)-এর আবির্ভাবের সাত শত হইতে আট শত বৎসর পূর্বেই তিনি ইন্তিকাল করেন তাহা প্রমাণিত হয়।
শাহ আবদুল কাদির (র)-এর মতে তিনি নিনিওয়াতেই ইন্তিকাল করেন এবং সেখানেই তাঁহাকে দাফন করা হইয়াছিল। আবদুল ওয়াহ্হাব নাজ্জার বলেন, ফিলিস্তীনের প্রসিদ্ধ শহর 'আল-খলীল'-এর নিকটে হুলহুল (Halhul) নামক জায়গায় পাশাপাশি দুইটি কবর বিদ্যমান রহিয়াছে। ইহার একটি হইতেছে ইউনুস (আ)-এর এবং অপরটি হইতেছে তাঁহার পিতা-মাতার কবর।
আমাদের মতে, তিনি যেহেতু নিনিওয়াতে দাওয়াতি কাজে নিয়োজিত ছিলেন সেহেতু তিনি সেখানেই ইনতিকাল করেন এবং এই শহর ধ্বংস হওয়ার সাথেই তাঁহার কবরের চিহ্নও বিলুপ্ত হইয়া গিয়াছে। তিনি ফিলিস্তীনের আল-খলীল এলাকায় অবস্থান করিবার অথবা সেখানে যাওয়ার কোন ঐতিহাসিক তথ্য বা প্রমণ আমাদের কাছে না থাকায় পূর্বোল্লিখিত কবর যে ইউনুস (আ)-এর কবর তাহার সঠিক কোন ভিত্তি নাই। সম্ভবত কে বা কাহারা স্বার্থসিদ্ধির জন্য এই অপরিচিত কবরকে তাঁহার কবর বলিয়া চালাইয়া দিয়াছে।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ইউনুস (আ)-এর সন্তান-সন্তুতি

📄 ইউনুস (আ)-এর সন্তান-সন্তুতি


তিনি যে মৃত্যুর সময় সন্তান-সন্ততি রাখিয়া যান কোন কোন বর্ণনায় তাহার প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে তাঁহার সন্তান-সন্ততির সংখ্যা ও নাম জানা যায় নাই।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ইউনুস (আ)-এর ফযীলত বা মর্যাদা

📄 ইউনুস (আ)-এর ফযীলত বা মর্যাদা


নবীগণের (আ) মধ্যে মর্যাদাগত পার্থক্য থাকিলেও সকল নবীই ছিলেন সকল যুগের সেরা মানুষ। সেই হিসাবে তিনি যে বিশেষ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন তাহা বলিবার অপেক্ষা রাখে না। ইহা ছাড়া রাসূলুল্লাহ (স)-এর একটি হাদীছে তাঁহার বিশেষ মর্যাদার স্বীকৃতি পাওয়া যায়। আবদুল্লাহ ইব্‌ন মাসউদ (রা) রাসূলুল্লাহ (স) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন যে, তিনি বলিয়াছেন “কেহ যেন কখনো এই কথা না বলে যে, আমি ইউনুস ইব্‌ন মাওা হইতে শ্রেষ্ঠ।” এই একই হাদীছ ইব্‌ন আব্বাস (রা) হইতে আহমাদ, মুসলিম ও আবূ দাউদ শরীফেও বর্ণিত হইয়াছে। রাসূলুল্লাহ (স)-এর পক্ষ হইতে কোন মর্যাদাবান ব্যক্তিকেও তাঁহার চাহিতে শ্রেষ্ঠ জ্ঞানে নিষেধাজ্ঞা মূলত তাঁহার বিশেষ মর্যাদার স্পষ্ট স্বীকৃতি।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ইউনুস (আ)-এর ইবাদত বন্দেগী

📄 ইউনুস (আ)-এর ইবাদত বন্দেগী


ইউনুস (আ)-এর ইবাদতের ধরন, প্রকৃতি, নিয়ম-পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত কোন তথ্য পাওয়া যায় না। পবিত্র কুরআনে এই বিষয়ে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত আকারে বলা হইয়াছে, অ
"তিনি ছিলেন তাসবীহ পাঠকারীদের অন্তর্ভুক্ত” (৩৭: ১৪৩)। এই আয়াত হইতে জানা যায় যে, তাসবীহ পাঠ করাই ছিল তাঁহার অন্যতম ইবাদত। এখানে তাসবীহ-এর অর্থ কি সে বিষয়ে বিভিন্ন মত উক্ত হইয়াছে। আরবীতে মূলত 'সুবহানাল্লাহ' বলা বা পড়াকে তাসবীহ বলা হইয়া থাকে। সেই জন্য হযরত ইব্‌ন জুবায়র (র)-এর মতে এখানে তাসবীহ-এর অর্থ হইতেছে শুধুমাত্র 'সুবহানাল্লাহ' পড়া। পরবর্তীতে তাসবীহ শব্দটির অর্থ ব্যাপকতা লাভ করিয়াছে। শুধু সুবহানাল্লাহ নহে, বরং সকল প্রকার যিকির-আযকারও তাসবীহ-এর অন্তর্ভুক্ত হইয়াছে। সেজন্য অনেকের মতে এখানে তাসবীহ-এর অর্থ হইতেছে ব্যাপকভাবে আল্লাহর যিকির-আযকার করা, মহত্ত্ব বর্ণনা করা, গুণগান করা, স্তুতি করা। কাহারও কাহারও মতে এখানে তাসবীহ বলিতে যিকির ও অন্যান্য ইবাদত উভয়টিকে বুঝান হইয়াছে। ইব্‌ন আব্বাস (রা) ও আর-রাযীর মতে এখানে তাসবীহ-এর অর্থ হইতেছে সালাত আদায় করা। কেহ কেহ ইহা দ্বারা নফল সালাত আদায় করা বুঝিয়াছেন। এখানে তাসবীহ হইল, মাছের পেটে অবস্থানের সময় তিনি যে সালাত আদায় করিয়াছিলেন তাহা। যাহাই হউক বিভিন্ন নবীদের সময়, ইবাদতের প্রকৃতি ছিল ভিন্ন। হইতে পারে ইউনুস (আ)-এর শরীআতে তাসবীহ করাই ছিল আমাদের সালাত আদায় করার মতই গুরুত্বপূর্ণ ফরয ইবাদত, এমনকি যে সকল নবী ও রাসূল (আ)-এর সময় সালাত আদায়ের প্রচলন ছিল; ইহার প্রকৃতি, নিয়ম-পদ্ধতিও এক এক নবী রাসূল (আ)-এর সময় অন্য নবী-রাসূল (আ) হইতে ভিন্ন হওয়াটা ছিল স্বাভাবিক। সেজন্য এখানে তাসবীহ-এর অর্থ সালাত হইলেও সেই সালাত হয়তবা উম্মতে মুহাম্মাদীর সালাত থেকে ভিন্ন পদ্ধতির ছিল। তাসবীহ-এর প্রকৃতি যাহাই হউক না কেন, সন্দেহাতীভাবে বলা যায় যে, সেটিই ছিল ইউনুস (আ)-এর ইবাদত।
কোন কোন মুফাসসিরের মতে তাঁহার এই তাসবীহ ছিল, মাছের পেটে অবস্থানের পূর্বে তিনি যে তাসবীহ পাঠ করিতেন সেই তাসবীহ। কেহ কেহ বলেন, না, মাছের পেটে অবস্থানের সময় তিনি যে তাসবীহ পাঠ করিয়াছিলেন এখানে সেই সময়ের তাসবীহকে বুঝান হইয়াছে। হযরত কাতাদা (র) বলিয়াছেন, "এইটি ছিল তাঁহার সুসময়ের আমলবিশেষ"। ইবন আবী হাতিম, বায়হাকী, আল-হাকেম হযরত হাসান (রা) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন, "তিনি সুসময়ে প্রচুর পরিমাণে সালাত আদায় করিতেন। যখন তিনি মাছের পেটে প্রবেশ করিলেন তখন এই অবস্থাকে মৃত্যুর অবস্থা ধারণা করিলেন। তারপর তিনি তাঁহার দুইটি পা নাড়াইলেন। সে সময় পাদু'টিকে তিনি নড়াতে দেখিয়া সিজদাতে অবনত হইলেন এবং বলিলেন, "হে রাব্ব! আমি এমন একটি জায়গাকে আপনার উদ্দেশে সিজদার জায়গা হিসাবে গ্রহণ করিলাম যেই স্থানকে অন্য কেহ কখনো সিজদার জায়গা হিসাবে গ্রহণ করে নাই"। এই বর্ণনা অনুযায়ী স্পষ্টত বুঝা যাইতেছে যে, তিনি মাছের পেটে অবস্থানের পূর্বে ও অবস্থানরত উভয় অবস্থাতেই ইবাদতকারী ছিলেন। অপর একটি হাদীছে বিষয়টি আরো পরিষ্কারভাবে বর্ণিত হইয়াছে। সেখানে ফেরেশতারা ইউনুস (আ)-কে মাছের পেটে বন্দী হওয়ার খবর শুনিয়া আশ্চর্য হইয়া আল্লাহ তা'আলাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, হয়রত আবূ হুরায়রা (রা) যেমন বলিয়াছেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ (স)-কে বলিতে শুনিয়াছি, "তাঁহারা আশ্চর্য হইয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, তিনি কি ঐ ইউনুস (আ) যিনি প্রত্যহ আপনার উদ্দেশে অসংখ্য ভাল কাজ সম্পাদন করিতেন? মহান আল্লাহ বলিলেন, হাঁ"। সুতরাং এই হাদীছে ইউনুস (আ) যে পূর্ব হইতেই অসংখ্য ভাল কাজ করিতেন তাহার প্রমাণ পাওয়া যায়। তাই এ কথা পরিষ্কার করিয়া বলা যায় যে, ইউনুস (আ) তাসবীহ, তাঁহার শরীআতে প্রচলিত সালাত ও বিভিন্ন প্রকার ভাল কাজকে ইবাদত হিসাবে পালন করিতেন। এই সবগুলিই ছিল তাঁহার ইবাদত হিসাবে গণ্য।

টিকাঃ
আবু হায়‍্যান, তাফসীর, ৭খ, ৩৫৯
আল-আলুসী; ২৩ খ. ৪৪
আল-আলুসী ২৩ খ., ১৪৪
আর-রাযী, ২৬ খ., ১৫৬
আবু হ্যায়ান, ৭খ, ৩৫৯
আল-আলুসী, ২৩ খ, ১৪৪
ইবন হাজার, ৬খ., ৫২১; ইবন কাছীর, কাসাসুল আমবিয়া, ২৯১

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00