📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ইউনুস (আ)-এর সম্প্রদায়ের নিকট পুনরায় আগমন ও দীন প্রচার

📄 ইউনুস (আ)-এর সম্প্রদায়ের নিকট পুনরায় আগমন ও দীন প্রচার


তিনি রোগগ্রস্ত অবস্থায় মাছের পেট হইতে নিক্ষিপ্ত হইলেন। তাঁহাকে ছায়াদানকারী লাউ গাছটি হঠাৎ মরিয়া গেল। তিনি কাঁদিতে লাগিলেন। মহান আল্লাহ বলিলেন, তুমি একটি গাছের বিয়োগ ব্যথায় কাঁদিতেছ, পক্ষান্তরে এক লক্ষ মানবের জন্য সামান্য দুঃখও পাইতেছ না? মহান আল্লাহ তাঁহাকে তাঁহার সম্প্রদায়ের নিকট ফিরিয়া যাইতে নির্দেশ দিলেন। তিনি তাহাদের উদ্দেশে রওয়ানা হইবার প্রাক্কালে এক রাখালের সাক্ষাত পাইলেন। রাখালের কাছে ইউনুস (আ) আত্মপরিচয় গোপন রাখিয়া নিজের সম্প্রদায়ের অবস্থা সম্পর্কে জানিতে চাহিলেন। রাখাল বলিল, হাঁ, তাঁহারা তাহাদের নিকট প্রেরিত নবী ইউনুস (আ)-এর প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় রহিয়াছে। তখন তিনি নিজেই যে তাহাদের সেই প্রতিক্ষিত নবী ইউনুস, তাহার পরিচয় দান করিলেন। তাহার সহিত যে তাহাদের নবী ইউনুস (আ)-এর সাক্ষাৎ হইয়াছিল এই খবরটি তাহাদেরকে জানাইবার জন্যও ভিনি রাখালকে বলিয়া দিলেন। সে বলিল, আমি কোন সাক্ষ্য-প্রমাণ ব্যতীত এই ঘটনা তাহাদেরকে বলিতে ভয় পাইতেছি। তখন তাহারই চারিত ছাগলগুলি হইতে একটি ছাগল, সেখানকার চারণভূমি ও সেখানে অবস্থিত একটি গাছ, তিনিই যে নবী ইউনুস (আ) সেই মর্মে সাক্ষ্য দান করিল।
রাখাল তাহার সম্প্রদায়ের নিকট ফিরিয়া গেল। তাহার সহিত যে তাহাদের নবী ইউনুস (আ)-এর সাক্ষাত হইয়াছিল সেই সংবাদও তাহাদেরকে জানাইল। তাহারা তাহাদের আকাংখিত নবী ইউনুস (আ)-এর সাক্ষাত লাভের জন্য রাখালের সহিত রওয়ানা হইল। তাহারা পূর্বের সেই নির্ধারিত স্থানে আসিয়া পৌঁছাইল, যেখানে ইউনুস (আ)-এর সহিত ঐ রাখালের সাক্ষাত হইয়াছিল। ইউনুস (আ) সেখানে আত্মগোপন করিয়াছিলেন। ইউনুস (আ)-কে শনাক্ত করিয়া সাক্ষ্যদাতা সেই ছাগলটি, তিনি কোথায় লুকাইয়া রহিয়াছেন, সে সম্পর্কে অবহিত করিল। তাহারা সেখানে উপস্থিত হইল। তাহারা তাহাদের বহু প্রতিক্ষীত সেই নবীকে পাইয়া আনন্দে আত্মহারা হইল, তাঁহার হাত-পা চুম্বন করিল। খুশীতে উচ্ছ্বসিত হইয়া আড়ম্বর আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়া তাহাদের নবীকে লোকালয়ে ফিরাইয়া আনিল। তিনি দীর্ঘ দিন পর নিজের সম্প্রদায়ের নিকট ফিরিয়া আসিলেন। তিনি চল্লিশটি দিন তাঁহার নিজের পরিবার-পরিজন ও সন্তান-সন্তুতির মধ্যে অবস্থান করিলেন। ইহার পর জনসাধারণের নিকট উপস্থিত হইলেন। তাহাদের পুনরায় ইসলামের শাশ্বত সত্যের দিকে আহ্বান জানাইতে আরম্ভ করিলেন। তাহাদেরকে ইসলামের দীক্ষাদানে আত্মনিয়োগ করিলেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত একাগ্র চিত্তে দীন প্রচারে নিমগ্ন রহিলেন।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ইনতিকাল

📄 ইনতিকাল


তিনি কখন ইন্তিকাল করেন তাহার সঠিক কোন তথ্য কোন বর্ণনায় পাওয়া যায় না। যে সকল গবেষক ও মনিষী নবী (আ)-দের নামের তালিকা প্রণয়ন করিয়াছেন তাহাদের তালিকাতে নবীদের নামের ধারাবাহিকতা ভিন্ন ভিন্ন আকারে পরিলক্ষিত হয়। এইজন্য তিনি কোন্ নবীর পরে এবং কোন নবীর পূর্বে, তাহা নির্ধারণ করা বেশ দুরুহ। ইহার পরেও তিনি যে পূর্বোল্লিখিত নিনিওয়া শহরে প্রেরিত হইয়াছিলেন সেই শহর ধ্বংসের ঐতিহাসিক প্রমাণাদি ও বাইবেলের বর্ণনাকে সঠিক বলিয়া ধরিয়া লইলে ঈসা (আ)-এর আবির্ভাবের সাত শত হইতে আট শত বৎসর পূর্বেই তিনি ইন্তিকাল করেন তাহা প্রমাণিত হয়।
শাহ আবদুল কাদির (র)-এর মতে তিনি নিনিওয়াতেই ইন্তিকাল করেন এবং সেখানেই তাঁহাকে দাফন করা হইয়াছিল। আবদুল ওয়াহ্হাব নাজ্জার বলেন, ফিলিস্তীনের প্রসিদ্ধ শহর 'আল-খলীল'-এর নিকটে হুলহুল (Halhul) নামক জায়গায় পাশাপাশি দুইটি কবর বিদ্যমান রহিয়াছে। ইহার একটি হইতেছে ইউনুস (আ)-এর এবং অপরটি হইতেছে তাঁহার পিতা-মাতার কবর।
আমাদের মতে, তিনি যেহেতু নিনিওয়াতে দাওয়াতি কাজে নিয়োজিত ছিলেন সেহেতু তিনি সেখানেই ইনতিকাল করেন এবং এই শহর ধ্বংস হওয়ার সাথেই তাঁহার কবরের চিহ্নও বিলুপ্ত হইয়া গিয়াছে। তিনি ফিলিস্তীনের আল-খলীল এলাকায় অবস্থান করিবার অথবা সেখানে যাওয়ার কোন ঐতিহাসিক তথ্য বা প্রমণ আমাদের কাছে না থাকায় পূর্বোল্লিখিত কবর যে ইউনুস (আ)-এর কবর তাহার সঠিক কোন ভিত্তি নাই। সম্ভবত কে বা কাহারা স্বার্থসিদ্ধির জন্য এই অপরিচিত কবরকে তাঁহার কবর বলিয়া চালাইয়া দিয়াছে।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ইউনুস (আ)-এর সন্তান-সন্তুতি

📄 ইউনুস (আ)-এর সন্তান-সন্তুতি


তিনি যে মৃত্যুর সময় সন্তান-সন্ততি রাখিয়া যান কোন কোন বর্ণনায় তাহার প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে তাঁহার সন্তান-সন্ততির সংখ্যা ও নাম জানা যায় নাই।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ইউনুস (আ)-এর ফযীলত বা মর্যাদা

📄 ইউনুস (আ)-এর ফযীলত বা মর্যাদা


নবীগণের (আ) মধ্যে মর্যাদাগত পার্থক্য থাকিলেও সকল নবীই ছিলেন সকল যুগের সেরা মানুষ। সেই হিসাবে তিনি যে বিশেষ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন তাহা বলিবার অপেক্ষা রাখে না। ইহা ছাড়া রাসূলুল্লাহ (স)-এর একটি হাদীছে তাঁহার বিশেষ মর্যাদার স্বীকৃতি পাওয়া যায়। আবদুল্লাহ ইব্‌ন মাসউদ (রা) রাসূলুল্লাহ (স) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন যে, তিনি বলিয়াছেন “কেহ যেন কখনো এই কথা না বলে যে, আমি ইউনুস ইব্‌ন মাওা হইতে শ্রেষ্ঠ।” এই একই হাদীছ ইব্‌ন আব্বাস (রা) হইতে আহমাদ, মুসলিম ও আবূ দাউদ শরীফেও বর্ণিত হইয়াছে। রাসূলুল্লাহ (স)-এর পক্ষ হইতে কোন মর্যাদাবান ব্যক্তিকেও তাঁহার চাহিতে শ্রেষ্ঠ জ্ঞানে নিষেধাজ্ঞা মূলত তাঁহার বিশেষ মর্যাদার স্পষ্ট স্বীকৃতি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00