📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হযরত ইউনুস (আ)-এর সময়কাল ও নবুওয়াত প্রাপ্তি

📄 হযরত ইউনুস (আ)-এর সময়কাল ও নবুওয়াত প্রাপ্তি


ইউনুস (আ) ইসরাঈল বংশের নবী ছিলেন। তিনি নবীবর হিযকীল (আ)-এর সময়ই প্রেরিত হইয়াছিলেন। তাঁহাকে ইরাকের মাওসিল অঞ্চলের একটি প্রসিদ্ধ শহর নিনাওয়া (Ninivich) এলাকায় পাঠান হইয়াছিল। ইহা অ্যাসিরীয়দের (Assyrian) বিখ্যাত শহর ছিল। ঐতিহাসিকগণ এ বিষয়ে একমত যে, এই শহরটি খৃস্টপূর্ব ৬১২ সালে ব্যাবলনীয়দের হাতে নিশ্চিহ্ন হইয়া যায়। আহলে কিতাবদের বর্ণনা অনুযায়ী ইউনুস (আ)-এর তিরোধানের কয়েক যুগ পর নিনাওয়াবাসিগণ খৃস্টপূর্ব ৬৯০ সালে পুনরায় শিরক-এ নিমজ্জিত হয়। তখন নাহুম (আ) নামক এক ইসরাঈলী নবীকে তাহাদের নিকট পাঠান হইয়াছিল। তিনি তাহাদেরকে একত্ববাদের দিকে আহবান জানাইলেন। কিন্তু তাহারা এই দাওয়াত গ্রহণ না করিয়া চরম বিরোধিতা করিল। তিনি তাহাদেরকে ধ্বংস হইয়া যাইবার ভয় প্রদর্শন করিলেন। অবশেষে সত্তর বৎসর পর উক্ত শহরটি ধ্বংস হইয়া গেল। ইহা দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, ইউনুস (আ)-এর সময়কাল ছিল খৃস্টপূর্ব ৬৯০ সালেরও অনেক আগে। ইমাম বুখারী (র) তাঁহাকে মূসা (আ), শু'আয়ব (আ) ও দাউদ (আ)-এর মধ্যবর্তী স্থানে তালিকাভুক্ত করিয়াছেন।
বাইলের বর্ণনা অনুযায়ী ইউনুস (আ) ঈসা (আ)-এর আবির্ভাবের ৮০০ বৎসর পূর্বের নবী ছিলেন। তিনি যখন নবুওয়াত লাভ করিয়াছিলেন, তখন তাঁহার বয়স ছিল ২৮ বৎসর।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ইউনুস (আ)-এর সম্প্রদায়ের পরিচয় ও তাহাদের গোমরাহী

📄 ইউনুস (আ)-এর সম্প্রদায়ের পরিচয় ও তাহাদের গোমরাহী


নিনিওয়া অঞ্চলে তদানিন্তন কালে বসবাসরত লোকেরাই ছিল ইউনুস (আ)-এর সম্প্রদায়। মহান আল্লাহ রাব্বুল 'আলামীন এই সম্প্রদায়কে হিদায়াতের পথে ডাকিবার জন্য ইউনুস (আ)-কে সেখানে নবী করিয়া প্রেরণ করিয়াছিলেন।
কোন কোন বিদ্বানদের অভিমত হইতেছে যে, ইউনুস (আ)-এর সম্প্রদায় ছিল দুইটি। এই উভয় সম্প্রদায়ের নিকট তাঁহাকে পাঠান হইয়াছিল। মাছের ঘটনা সংঘটিত হইবার পূর্বে নিনিওয়ার অধিবাসীদের নিকট তাঁহাকে পাঠান হইল। আর মাছের ঘটনার পরে তাঁহাকে অন্য সম্প্রদায়ের নিকট প্রেরণ করা হয়। সূরা আস-সাফফাতের আয়াতসমূহের উপরে ভিক্তি করিয়াই এই মতামত প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে। যেমন বলা হইয়াছে: وَإِن يُونُسَ لَمِنَ الْمُرْسَلِينَ ، إِذْ أَبَقَ إلى الفُلْكِ الْمَشْحُونِ . فَسَاهَمَ فَكَانَ مِنَ الْمُدْحَضِينَ . فَالْتَقَمَهُ الحُوتُ وَهُوَ مُلِيمٌ ، فَلَوْلا أَنَّهُ كَانَ مِنَ الْمُسَبِّحِينَ . للبث فِي بَطْنِه إِلى يَوْمِ يُبْعَثُونَ ، فَنَبَدْنَاهُ بِالْعَرَاءِ وَهُوَ سَقِيمٌ ، وَأَنْبَتْنَا عَلَيْهِ شَجَرَةً مِّنْ يَقْطِينِ .
"আর ইউনুস অবশ্যই প্রেরিত পুরুষদের অন্যতম। যখন সে বোঝাই করা একটি নৌকার দিকে পালাইয়া যাইতে লাগিল ও পরে লটারীতে অংশগ্রহণ করিয়া দোষী সাব্যস্ত হইল। শেষ পর্যন্ত মাছ তাঁহাকে গিলিয়া ফেলিল। সে ছিল তিরস্কৃত। তখন যদি সে তাসবীহকারীদের অন্তর্ভুক্ত না হইত, তাহা হইলে তাহাকে কিয়ামত পর্যন্ত মাছের পেটে থাকিতে হইত। অবশেষে আমি তাহাকে বিজন ভূখণ্ডে নিক্ষেপ করিলাম, তখন সে রুগ্ন ছিল। আমি তাহার উপর লতাবিশিষ্ট গাছ উদগত করিলাম" (৩৭: ১৩৯-১৪৬)।
সেখানে ইউনুস (আ)-এর ঘটনা বর্ণনা করিতে যাইয়া প্রথমে মাছের ঘটনা উল্লেখ করা হইয়াছে। ইহার পরে বলা হইয়াছে: وَأَرْسَلْنَاهُ إِلى مِائَةِ أَلْفِ أَوْ يَزِيدُونَ ، فَأَمَنُوا فَمَتَّعْنَاهُمْ إِلَى حِينٍ .
"আমি তাহাকে এক লক্ষ কিম্বা উহা অপেক্ষা বেশী লোকদের নিকট প্রেরণ করিলাম। অতঃপর তাহারা ঈমান আনিল। তাহাদেরকে আমি একটি সময় পর্যন্ত জীবন উপভোগ করিবার সুযোগ দিলাম" ( ৩৭: ১৪৭-১৪৮)।
সুতরাং ইহাতে ধরিয়া লওয়া যায় যে, মাছের ঘটনা সংঘটিত হইবার পরে তাঁহাকে অন্য একটি সম্প্রদায়ের নিকট পাঠান হইয়াছিল। ইহার পূর্বে অন্য একটি সম্প্রদায়ের মাঝে রিসালাতের দায়িত্ব পালন করিতে যাইয়া মহান আল্লহর নির্দেশ ব্যতীত হিজরত করিবার কারণে তাঁহাকে মাছের পেটে বন্দী থাকিতে হয়। ইহা দ্বারা প্রামণিত হয় যে, মাছের ঘটনার পূর্বে তাঁহাকে একটি সম্প্রদায়ের নিকট আর এই ঘটনার পরে তাঁহাকে অন্য সম্প্রদায়ের নিকট প্রেরণ করা হইয়াছিল। অতএব সেখানে এইভাবে বর্ণিত হইবার কারণে আমরা বলিতে পারি যে, তাঁহাকে মাছের ঘটনার পূর্বে নিনিওয়াবাসীর কাছে পাঠান হইয়াছিল। আর যেহেতু তাঁহাকে এই ঘটনার পরে অন্য সম্প্রদায়ের নিকট প্রেরণ করা হইয়াছিল বলিয়া মনে হইতেছে সেহেতু তিনি নাম না জানা আর কোন এক সম্প্রদায়ের নিকট প্রেরিত হইয়াছিলেন বলিয়া ধারণা করা যায়।
আলোচ্য আয়াতসমূহে ঘটনার ধারাবহিকতার দিক লক্ষ করিয়া ইউনুস (আ)-কে পৃথক পৃথক দু'টি সম্প্রদায়ের নিকট পাঠান হইয়াছিল, এই ধারণার অবকাশ থাকিলেও মুফাসসিরগণ ইহাতে একমত যে, তাঁহাকে শুধু নিনিওয়ায় বসবাসরত সম্প্রদায়ের নিকটই প্রেরণ করা হইয়াছিল, অন্য কোন সম্প্রদায়ের নিকট তাঁহাকে প্রেরণ করা হয় নাই। কোন ঘটনার পূর্বাংশ পরে ও পরের অংশ পূর্বে উল্লেখ করা সাহিত্য অলংকারের অন্যতম নিয়ম, ইহা দ্বারা ঘটনার আসল ধারাবাহিকতা পরিবর্তন হওয়া অত্যাবশ্যকীয় নয়। আল-কুরআনে সেই নীতি অবলম্বন করা হইয়াছে।
অপরপক্ষে কোন কোন গবেষক বলিয়াছেন যে, ইউনুস (আ)-কে মাছের ঘটনার পরে নিনিভায় বসবাসরত সম্প্রদায়ের নিকটে প্রেরণ করা হইয়াছিল, আর এই ঘটনার পূর্বে অন্য কোন নাম জানা যায়নি এমন সম্প্রদায়ের নিকটেও প্রেরণ করা হইয়াছিল।
মুফাস্সিসর, ঐতিহাসিক বা অন্য কাহারো নিকট হইতে নiniওয়ার অধিবাসীরা ব্যতীত ইউনুস (আ)-এর যে অন্য কোন সম্প্রদায় ছিল, ইহার নাম, তাহাদের বসবাসের স্থান বা অন্য কোন তথ্য পাওয়া যায় নাই বরং তাহাকে একই সম্প্রদায়ের নিকট মাছের ঘটনার পূর্বে একবার ও পরে আর একবার, এই দুইবারই পাঠাইবার পক্ষে অনেক সমর্থন পাওয়া যায় বিধায় আমাদের অভিমত এই যে, ইউনুস (আ)-এর সম্প্রদায় ছিল শুধু নিনিওয়াবাসী। অন্য কোন সম্প্রদায়ের নিকট হিদায়াত পেশের দায়িত্ব তাঁহাকে দেওয়া হয় নাই। তবে ইউনুস (আ)-এর নিনিওয়াবাসী এই সম্প্রদায়ের লোকসংখ্যা কত ছিল ইহা সম্পর্কে সূরা আস-সাফ্ফাত-এর বর্ণনায় এক লক্ষ অথবা উহা অপেক্ষা বেশী বলিয়া উল্লেখ করা হইলেও বেশী বলিতে কত ছিল সে সম্পর্কে মতভেদ রহিয়াছে। ইমাম মাকহুলের মতে এই বেশীর অর্থ হইতেছে দশ হাজার। তিরমিযী (র) আবুল আলীয়া উবায় ইব্‌ন কা'ব হইতে বর্ণনা করিয়াছেন যে, এই আয়াত সম্পর্কে তিনি রাসূলুল্লাহ (স)-কে প্রশ্ন করিয়াছিলেন। উত্তরে তিনি বলিয়াছিলেন যে, বেশীর অর্থ হইতেছে বিশ হাজার। হাদীছটির বর্ণনাকারী যদি অপরিচিত না হইত তাহা হইলে আমরা এই সংখ্যাকে চূড়ান্ত বলিয়া ধরিয়া লইতে পারিতাম। এই বিষয়ে ইব্‌ন আব্বাস (রা) হইতে কয়েকটি বর্ণনা উল্লেখ করা হইয়াছে। তাহা হইতেছে—এই বেশীর অর্থ ত্রিশ হাজার, ত্রিশ হাজার ও চল্লিশ হাজারের মধ্যবর্তী কোন একটি সংখ্যা, চল্লিশ ও পঞ্চাশ হাজারের মধ্যকার কোন সংখ্যা। সাঈদ ইব্‌ন যুবায়র (র) বলিয়াছেন, এই বেশীর অর্থ হইতেছে—সত্তর হাজার। তবে মহান আল্লাহ ও তাঁহার রাসূল (স)-এর পক্ষ হইতে এ বিষয়ে সহীহ কোন বর্ণনা না পাওয়ার কারণে এই সংখ্যা কত ছিল উহা নির্দিষ্ট করিয়া না বলাই উত্তম।
সংখ্যা যাহাই হউক না কেন তাহারা শিরক-এ নিমজ্জিত ছিল। কুফরী ও শির্ক তাহাদেরকে এমনভাবে আচ্ছন্ন করিয়া ফেলিয়াছিল যে, কোন প্রকার সত্য তাহাদের কর্ণকুহরে প্রবেশ করিতেছিল না। তাহারা স্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত ছিল।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ইউনুস (আ)-এর দাওয়াত ও তাবলীগ

📄 ইউনুস (আ)-এর দাওয়াত ও তাবলীগ


তিনি তাঁহার সম্প্রদায়কে তেত্রিশ বৎসর ধরিয়া মহান আল্লাহর পথে আসিবার আহবান জানাইলেন, শিরক-এর ভয়াবহতা ব্যাখ্যা করিলেন, মহান আল্লাহর উপর ঈমান আনিলে ইহকাল ও পরকালে যেসব কল্যাণ নিহিত রহিয়াছে তাহার সুসংবাদ দিলেন, আর ঈমান না আনিলে, শিরক ও কুফরীর মধ্যে নিমজ্জিত থাকিলে যেই কঠিন পরিণতি তাহাদের জন্য অবধারিত, উহার ভয় তাহাদেরকে দেখাইলেন। ফলে দীর্ঘ এই তেত্রিশ বৎসরে মাত্র দুইজন লোক ঈমান আনিল। তিনি নিরাশ হইলেন, তাহাদের জন্য বদদো'আ করিলেন। এত তাড়াতাড়ি নিরাশ হইয়া তাঁহাকে বদদো'আ না করিবার জন্য নির্দেশ দেওয়া হইল। তাহাদের মাঝে আরো চল্লিশ দিন দাওয়াতী কাজ অব্যাহত রাখার জন্য তাঁহাকে বলা হইল। সাঁইত্রিশ দিন অতিবাহিত হইল। কেহই তাঁহার আহবানে সাড়া দিল না।
ঐকান্তিক আস্থার সহিত তিনি তাহাদেরকে দাওয়াত দিতে থাকলেন। তাহারা কুফরীর উপর অটল রহিল, ইউনুস (আ)-কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করিল। তখন তিনি দুঃখ ভারাক্রান্ত হইয়া পড়িলেন। তাঁহার এই মিথ্যা প্রতিপন্নকারী সম্প্রদায়কে অল্প দিনের মধ্যেই শাস্তি অবতীর্ণ হইবার ভয় দেখাইয়া তিনি তাহাদেরকে পরিত্যাগ করিয়া অন্যত্র রওনা হইলেন।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ইউনুস (আ)-এর সম্প্রদায়ের প্রতি আগত শাস্তি ও ইহা রহিত হইবার কারণ

📄 ইউনুস (আ)-এর সম্প্রদায়ের প্রতি আগত শাস্তি ও ইহা রহিত হইবার কারণ


নিজের সম্প্রদায়কে পরিত্যাগের পূর্বে কুফরীর উপর অবিচল এই সম্প্রদায়কে তিনি তিন দিনের মধ্যে অনিবার্য কঠোর শাস্তি অবতীর্ণ হইবার ভীতি প্রদর্শন করিলেন। আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) মুজাহিদ, কাতাদা, সাঈদ ইবন্ যুবায়র (র) প্রমুখ মনীষিগণ বলিয়াছেন যে, তিনি তাঁহার সম্প্রদায়কে পরিত্যাগ করিয়া যাইতে দেখিলে তাহারা মহান আল্লাহর পক্ষ হইতে তাহাদের উপর কঠিন শাস্তি পতিত হইবার ব্যাপারে আশঙ্কা বোধ করিল। ইউনুস (আ)-এর ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী শাস্তির পূর্বাভাসস্বরূপ তাহাদের গায়ের রং তাহারা পরিবর্তিত হইতে দেখিল। কৃষ্ণ রঙের মেঘ ধোঁয়া ছড়াইতে ছড়াইতে তাহাদেরকে আচ্ছন্ন করিয়া ফেলিল। তাহারা তাহাদের অনিবার্য ধ্বংস উপলব্ধি করিল। সেই মুহূর্তে মহান আল্লাহ তাহাদের অন্তকরণে তাহাদের কৃত পাপরাশি হইতে তওবা করিবার অনুভূতি জাগ্রত করিয়া দিলেন। তাহারা তাহাদের নিকট প্রেরিত নবীর সাথে অনাকাংখিত কঠোর আচরণ করিয়া যে তাঁহাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করিয়াছিল সেইজন্য তাহারা মনেপ্রাণে অনুতপ্ত হইল। ইহার পর তাহারা পশমের তৈরী পোশাক পরিধান করিল। তাহারা তাহাদের মালিকানাভুক্ত সকল চতুষ্পদ প্রাণীকে তাহাদের বাচ্চাসমূহ হইতে বিচ্ছিন্ন করিল। তাহারা একাগ্র চিত্তে ঈমান আনয়ন করিল, মহান আল্লাহকে স্মরণ করিল। তাহারা নিরুপায় হইয়া চিৎকার ছাড়িয়া মহান আল্লাহকে ডাকিতে লাগিল। কাকুতি-মিনতি করিয়া, অশ্রুসিক্ত হইয়া তাঁহার শাহী দরবারে কান্নাকাটি করিতে লাগিল, নিজেদের অপারগতা প্রকাশ করিয়া ক্ষমা চাহিলে। যুলুম করিয়া তাহারা পরস্পরে একে অপরের যাহা কিছু ভোগ করিয়া আসিতেছিল, তাহা ইহার প্রকৃত মালিকের নিকটে ফিরাইয়া দিল। সকল পুরুষ-নারী, পুত্র-কন্যা মিলিয়া গগনবিদারী শব্দ করিয়া কাঁদিতে লাগিল। তাহাদের গৃহপালিত ও বন্য সকল পশুরা আকাশ ফাটা চিৎকার করিল। উট ও উট শাবকরা আর্তনাদ করিল। গরু-বাঁছুর প্রকম্পিত ডাক ছাড়িল। ছাগল ও ছাগশিশুরা ভীতসন্ত্রস্ত হইয়া করুণ শব্দ করা শুরু করিল। গোটা পরিবেশ ধ্বংসোম্মুখ ও অত্যন্ত বিপদশংকুল রূপ পরিগ্রহ করিল। অন্তরের গভীরতা হইতে উচ্ছ্বসিত মহান আল্লাহর শাস্তির ভয়ে সন্ত্রস্ত বান্দাদের এই ক্ষমা প্রার্থনা মহান আল্লাহর অপার অনুকম্পার দরজায় করাঘাত করিল। তিনি তাঁহার অসীম অনুগ্রহ ও সীমাহীন রহমতের দ্বারা তাহাদের পাপরাশি ক্ষমা করিলেন। তাহাদের উপর অনিবার্য শাস্তি আন্তরিক তওবা ও ঐকান্তিক ঈমান আনয়নের জন্য তিনি রহিত করিলেন। এই দিনটি ছিল আশূরার দিন বুধবার, মতান্তরে মধ্য শাওয়ালের বুধবার। এই ঘটনার উল্লেখ করিয়া আল্লাহ বলেন :
"শুধু ইউনুসের সম্প্রদায় ছাড়া অন্য কোন জনপদের লোকেরা (শাস্তি অনিবার্য উপলব্ধি করিয়া) ইউনুসের সম্প্রদায়ের মত কেন ঈমান গ্রহণ করিল না, যাহাদের ঈমান গ্রহণ তাহাদের জন্য লাভবান প্রমাণিত হইয়াছিল? অতঃপর (ইউনুসের সম্প্রদায়ের) যাহারা ঈমান আনিয়াছিল আমি তাহাদের পার্থিব জীবন হইতে লাঞ্ছনার শাস্তি দূর করিয়া তাহাদেরকে একটি সময় পর্যন্ত জীবন উপভোগের সুযোগ দিয়াছিলাম" (১০ : ৯৮)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00