📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হযরত আইয়ূব (আ)-এর ইনতিকাল

📄 হযরত আইয়ূব (আ)-এর ইনতিকাল


কঠিন পীড়া ও অগ্নিপরীক্ষা হইতে মুক্তিলাভের পর হযরত আইয়ূব (আ) এক শত চল্লিশ বৎসর পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। পুত্র, প্রপৌত্রসহ চারি পুরুষ পর্যন্ত তিনি দেখিয়া যাইতে সক্ষম হন। ইহার পর তিনি ইনতিকাল করেন। ইয়াহূদী পণ্ডিতগণের মতে তাঁহার সর্বমোট বয়স ২১০ বৎসর ছিল।

টিকাঃ
কাসাসুল কুরআন, ২য় খণ্ড, পৃ. ১৯৩; তাফসীর মাজেদী, পৃ. ৬৭০, টীকা নং ১১০

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 শিক্ষণীয় বিষয়

📄 শিক্ষণীয় বিষয়


হযরত আইয়ূব (আ)-এর জীবনীর উল্লেখযোগ্য শিক্ষণীয় বিষয়গুলি নিম্নরূপ:
(১) আল্লাহ পাকের বান্দাগণের মধ্য হইতে আল্লাহ তা'আলার সহিত যাহার যতটুকু সান্নিধ্য আছে তাহার পরীক্ষাও সে অনুপাতে হইয়া থাকে। পরীক্ষায় পতিত হইয়া যদি কেহ সবর করে, কোনরূপ অভিযোগ না করে তবে তাহার মর্যাদা পূর্বের তুলনায় শত গুণে বাড়িয়া যায়। একদা হযরত সা'দ (রা) নবী করীম (স)-কে প্রশ্ন করিলেন:
اي الناس اشد بلاء قال الانياء ثم الامثل فالامثل يبتلى الرجل على حسب دينه فان كان في دينه صلبا اشتد بلاته وان كان في دينه رقة ابتلي علي قدر دينه
"কোন ধরনের মানুষ কঠিনতর পরীক্ষার সম্মুখীন হইয়া থাকে? রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, নবীগণ সর্বাধিক কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হইয়া থাকেন। ইহার পর যাহারা উত্তম। এইভাবে পরীক্ষার কঠোরতা ক্রমেই লঘু হইতে থাকে। মোটকথা, মানুষ তাহাদের দীনের স্তর অনুপাতেই পরীক্ষার মুখামুখি হইয়া থাকে। কেহ যদি ধর্মে দৃঢ় ও পরিপক্ক হয় তবে তাহার পরীক্ষা অপরাপর মানুষের তুলনায় কঠিন হয়। আর যে ব্যক্তি ধর্মের ব্যাপারে দুর্বল তাহার পরীক্ষাও সেই অনুসারেই হইয়া থাকে”।
(২) সুখে-দুঃখে তথা জীবনের সকল অবস্থায় মানুষের জন্য উচিত তাহাদের প্রতিপালকের শোকর আদায় করা, জীবনে সুখ-সমৃদ্ধি আসিলে উহাকে আল্লাহ পাকের রহমত বলিয়া গণ্য করা। আর যদি কোন প্রতিকূল পরিবেশ বা পরিস্থিতির সম্মুখীন হইতে হয় তাহা হইলে ধৈর্যধারণ করা। আল্লাহর প্রতি অভিযোগ নবী-রাসূলগণের শিক্ষার পরিপন্থী।
(৩) মানুষের জন্য উচিত কোন অবস্থাতেই আল্লাহর রহমত হইতে নিরাশ না হওয়া। নিরাশ হওয়া কুফরী।
(৪) স্ত্রীর জন্য উচিত সর্বদা স্বামীর খেদমতে নিয়োজিত থাকা, সুখে-দুঃখে সর্বাবস্থায় স্বামীর পাশে থাকা, নিজের সর্বস্ব উজাড় করিয়া দিয়া হইলেও স্বামীর সন্তুষ্টি অর্জন করা এবং তাহার সেবায় নিয়োজিত থাকা। যেমন হযরত আইয়ূব (আ)-এর সতী-সাধবী স্ত্রী হযরত রহীমা (রা) করিয়াছিলেন।

টিকাঃ
তিরমিযী ২য় খণ্ড, পৃ. ৬৫
কাসাসুল কুরআন, ২য় খণ্ড, পৃ. ১৯৩-১৯৫

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00