📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 জন্ম ও বংশপরিচয়

📄 জন্ম ও বংশপরিচয়


ইসরাঈলী বর্ণনামতে হযরত ইসহাক (আ) চল্লিশ বৎসর বয়সে পিতা ইবরাহীম (আ)-এর পসন্দ ও আদেশ অনুসারে জ্ঞাতি সম্পর্কীয়া রিফকা (রেবেকা) বিন্ত বাতুওয়াঈলকে বিবাহ করেন।
বুখারী শরীফ ও অন্যান্য হাদীছ গ্রন্থে ইবন 'উমার (রা) সূত্রের হাদীছে আছে, রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেনঃ ان الكريم بن الكريم بن الكريم من الكريم يوسف بن يعقوب بن اسحاق بن ابراهيم (বংশ পরম্পরায়) মর্যাদাশীল ব্যক্তির পুত্র-মর্যাদাশীল মর্যাদাশীল, ব্যক্তির পুত্র-মর্যাদাশীল, মর্যাদাশীল ব্যক্তির পুত্র হইলেন ইউসুফ ইবন ইয়াকূব ইবন ইসহাক ইবন ইবরাহীম।" আবূ হুরায়রা (রা) বর্ণিত হাদীছে আছেঃ সর্বাধিক মর্যাদাবান ব্যক্তি কে (اى الناس اكرم) প্রশ্নের জবাবে রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, يوسف نبي الله بن نبي الله من نبى الله بن خليل الله (অভিজাত) ব্যক্তি আল্লাহর নবী ইউসুফ (আ), যিনি আল্লাহর নবী ইয়াকুব (আ)-এর পুত্র। ইয়াকূব ছিলেন আল্লাহর নবী ইসহাক (আ)-এর পুত্র এবং ইসহাক (আ) ইবরাহীম খলীলুল্লাহর পুত্র” (বুখারী, কিতাবুল আম্বিয়া, বরাত, বিদায়া, ১খ, ১৯৩; মুখতাসার তাফসীর ইবন কাছীর, ২খ, ২৪০)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হযরত ইউসুফ (আ)-এর সময়কাল

📄 হযরত ইউসুফ (আ)-এর সময়কাল


ইতিহাস গ্রন্থসমূহে ইউসুফ (আ)-এর সময়কাল ১৯২৭ খৃ. পূ. হইতে ১৮১৭ খৃ. পূ. বলা হইয়াছে অর্থাৎ তাওরাতের এই বর্ণনামতে তাঁহার জীবনকাল ১১০ বৎসর (দ্র. আম্বিয়ায়ে কুরআন, ১খ, ৩০২-৩০৩, বরাত ই. বিশ্বকোষ, ২২খ, ১১৭)। প্রথম মানব হযরত আদম (আ)-এর পৃথিবীতে আগমন সাল হইতে হযরত ইউসুফ (আ)-এর জন্ম পর্যন্ত সময়ের ব্যবধান ছিল বাইবেলে প্রদত্ত হিসাবমতে ২১৭৯ বৎসর।
• মুসলিম ঐতিহাসিকদের অনেকেই এই বিবরণের উদ্ধৃতি দিয়াছেন। আবার কেহ কেহ ইহাতে দ্বিমত পোষণ করিয়া ভিন্নতর বর্ণনা দিয়াছেন। ইবনুল আছীরের বর্ণনামতে নূহ (আ)-এর তুফানের ১২৬৩ বৎসরে হযরত ইবরাহীম (আ) জন্মগ্রহণ করেন এবং আদম (আ) ও ইবরাহীম (আ)-এর মধ্যে সময়ের ব্যবধান ছিল ৩৩৩৭ বৎসর (আল-কামিল, ১খ, ৬৩)। সুতরাং এ বিষয়ে সন্দেহমুক্ত ও সুনিশ্চিত সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া দুরূহ। ফলে এই বিষয়ে তাওরাতে বর্ণিত ইয়াহুদীদের বিবৃতিকে প্রামাণ্য মনে না করিবার যথেষ্ট যুক্তি রহিয়াছে।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 কুরআন ও হাদীছে হযরত ইউসুফ (আ)

📄 কুরআন ও হাদীছে হযরত ইউসুফ (আ)


পবিত্র কুরআনে অন্যান্য বিশিষ্ট নবী-রাসূলগণের ন্যায় হযরত ইউসুফ (আ)-এর নাম উল্লিখিত হইয়াছে, যাহা তাঁহার বিশিষ্ট মর্যাদার অধিকারী হওয়ার প্রমাণ বহন করে। তাঁহার জন্য আরও মর্যাদা ও গর্বের বিষয় এই যে, পবিত্র কুরআনে তাঁহার প্রপিতামহের নামে যেরূপে একটি সূরার নামকরণ করা হইয়াছে 'সূরা ইবরাহীম' (সূরা নং ১৪), তদ্রূপ তাঁহার নামেও একটি স্বতন্ত্র সূরার নামকরণ করা হইয়াছে 'সূরা ইউসুফ' (সূরা নং ১২)। সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য বিষয় এই যে, পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন সূরায় অন্যান্য নবীগণের সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হইয়াছে, এমনকি অন্য নবীগণের নামে নামকরণকৃত সূরাসমূহেও তাঁহাদের আংশিক আলোচনার তুলনায় ১১১ আয়াতের বিশাল পরিসরযুক্ত সূরা ইউসুফের প্রায় সম্পূর্ণটা জুড়িয়া রহিয়াছে তাঁহার জীবনের ঘটনাবলীর বিবরণ। সূরা ইউসুফ ব্যতীত অন্যত্র দুইবার-সহ পবিত্র কুরআনে তাঁহার নাম 'ইউসুফ' মোট সাতাশবার উল্লিখিত হইয়াছে। সূরা আনআমের আয়াতে আছে:
وَوَهَبْنَا لَهُ إِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ كُلَّا هَدَيْنَا وَنُوحًا هَدَيْنَا مِنْ قَبْلُ وَمِنْ ذُرِّيَّتِهِ دَاوُدَ وَسُلَيْمَنَ وَأَيُّوبَ وَيُوسُفَ وَمُوسَى وَهَارُونَ .
"আমি তাহাকে (ইবরাহীমকে) দান করিলাম ইসহাক ও ইয়াকূব (সন্তান ও নবীরূপে)। তাহাদের প্রত্যেককে আমি সঠিক পথের দিশা (নবুওয়াত) দান করিলাম; ইতোপূর্বে আমি হিদায়াত দান করিয়াছিলাম নূহকে; এবং তাহার (ইবরাহীমের) বংশধরদের মধ্য হইতে দাউদ, সুলায়মান, আইয়ুব, ইউসুফ, মূসা ও হারুনকে" (৬:৮৪)।
সূরা আল-মু'মিন-এ আছে : وَلَقَدْ جَاءَكُمْ يُوسُفُ مِنْ قَبْلُ بِالْبَيِّنَات "তোমাদের নিকট ইউসুফ আসিয়াছিল ইতোপূর্বে স্পষ্ট প্রমাণাদি সহকারে..." (৪০:৩৪)।
সূরা ইউসুফের ৪, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১৭, ২১, ২৯, ৪৬, ৫১, ৫৬, ৫৮, ৬৯, ৭৬, ৭৭, ৮০, ৮৪, ৮৫, ৮৭, ৮৯, ৯০, ৯৪, ৯৯ এই চব্বিশটি আয়াতে মোট ২৫ বার (৯০ নং আয়াতে ২বার) তাঁহার নাম উল্লিখিত হইয়াছে।
হাদীছে তাঁহার বংশমর্যাদা, তাঁহার অপরিসীম সৌন্দর্য, তাঁহার নজিরবিহীন সবর ও সহনশীলতা, তাঁহার অনুপম গুণাবলী ও অন্যান্য প্রসঙ্গে মহানবী (স) তাঁহার কথা আলোচনা করিয়াছেন।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 সূরা ইউসুফ নাযিল হওয়া প্রসঙ্গ

📄 সূরা ইউসুফ নাযিল হওয়া প্রসঙ্গ


মহানবী (স)-এর নিকট সাহাবীগণ কোন ঘটনা শুনিবার আগ্রহ প্রকাশ করিলেন, তখন সূরা ইউসুফ নাযিল হইল। ভিন্নমতে ইয়াহুদীদের প্রশ্নের জবাবে সূরাটি নাযিল হয়। ইহা দ্বারা রাসূলুল্লাহ (স)-এর নবুওয়াতের প্রমাণ পাওয়া যায়। (১) হাকেম ও ইব্‌ন আবু হাতিম, সা'দ ইবন আবু ওয়াক্কাস (রা) হইতে, ইবন জারীর তাবারী আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) হইতে এবং ইবন মারদাওয়ায়হ আবদুল্লাহ ইবন মাস'ঊদ (রা) হইতে রিওয়ায়াত করিয়াছেন। নবী (স)-এর উপর কুরআন নাযিল হওয়ার সময় এবং কুরআন তিলাওয়াত করার কালে সাহাবীগণ বলিলেন, আপনি যদি আমাদিগকে কোন কাহিনী শুনাইতেন। তখন আল্লাহ তা'আলা নাযিল করিলেন, نحن نقص عليك احسن القصص "আমি তোমার নিকট উত্তম কাহিনী বর্ণনা করিতেছি"।
(২) মুশরিকরা নবী (স)-এর নবুওয়াতের দাবির প্রেক্ষিতে আসমানী কিতাবের জ্ঞানসম্পন্ন ইয়াহুদীদের কাছে বুদ্ধি ও পরামর্শ চাহিল। তাহারা এই প্রশ্ন শিখাইয়া দিল যে, তোমরা তাহাকে জিজ্ঞাসা কর... কিংবা ইয়াহুদীরা তাঁহাকে পরীক্ষা করিবার জন্য এবং বেকায়দায় ফেলিবার অসৎ উদ্দেশ্যে সরাসরি তাঁহার কাছে প্রশ্ন উত্থাপন করিল, আপনি সত্য নবী হইলে বলুন তো ইয়াকূব-বংশ সিরীয় অঞ্চল হইতে মিসরে স্থানান্তরিত হইয়াছিল কেন এবং ইউসুফের বৃত্তান্ত কি ছিল? কিংবা প্রশ্নভাষ্যটি ছিল নিম্নরূপ: বলুন তো, নবীকূলের মধ্যে সেই নবী কে ছিলেন যিনি শামে বসবাস করিতেন এবং তাঁহার এক পুত্র মিসরে নীত হইয়াছিলেন এবং পুত্রশোকে কাঁদিতে কাঁদিতে পিতা অন্ধ হইয়া গিয়াছিলেন? তখন সূরা ইউসুফ নাযিল করা হইল। উম্মী হওয়ার কারণে তাওরাত-ইনজীল পাঠ করিয়া তাঁহার পক্ষে ঘটনাটি জানিবারও কোন অবকাশ ছিল না। এই অবস্থায় তাওরাতের বর্ণনার তুলনায় অধিক পূর্ণাঙ্গ এবং সঠিক তথ্য সমৃদ্ধ ইয়াকূব-ইউসুফের জীবন-বৃত্তান্ত বর্ণনা করা ছিল তাঁহার জন্য নবুওয়াতের প্রমাণ বহনকারী প্রকাশ্য মু'জিযা [ইবন কাছীর (মুখতাসার) ২খ, ২৩৯; কুরতুবী, ৫খ, ১১৮; মাজহারী, ৫খ, ১৩৫; মাআরিফুল কুরআন, ৫খ, ৫১৭]।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00