📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হযরত ইয়াকুব (আ)-এর নবুওয়াত লাভ

📄 হযরত ইয়াকুব (আ)-এর নবুওয়াত লাভ


ইয়াকূব (আ) ছিলেন আল্লাহ তা'আলার একজন সম্মানিত মহান পয়গাম্বর, তিনি বিশেষভাবে কানআনবাসীদের মধ্যে আল্লাহ্ দীন প্রচারের জন্য প্রেরিত হইয়াছিলেন এবং এখানেই তিনি জীবনের অধিকাংশ কাল দীন ইসলামের প্রচার করেন (কাসাসুল কুরআন, উর্দু, ১খ., পৃ. ২৭৯)। মহান আল্লাহ তাঁহার নবুওয়াত সম্পর্কে বলেন:
وَوَهَبْنَا لَهُ اسْحَقَ وَيَعْقُوبَ وَكُلًّا جَعَلْنَا نَبِيًّا . "এবং আমি তাহাকে দান করিলাম ইসহাক ও ইয়াকূব এবং প্রত্যেককে নবী করিলাম" (১৯:৪৯)।
وأوحينا إلى ابراهيمَ وَاسْمَعِيلَ وَاسْحَقَ وَيَعْقُوبَ وَالْأَسْبَاطَ . "আমি ওহী পাঠাইয়াছি ইবরাহীম, ইসমাঈل, ইসহাক, ইয়াকূব ও তাহার বংশধরগণের নিকট ” (৪ঃ ১৬৩)।
قُلْ أَمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ عَلَيْنَا وَمَا أُنْزِلَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَاسْمُعِيلَ وَإِسْحَقَ وَيَعْقُوبَ وَالأَسْبَاطَ . "বল, আমরা ঈমান আনিয়াছি আল্লাহতে এবং আমাদের প্রতি যাহা নাযিল হইয়াছে এবং ইবরাহীম, ইসমাঈল ইসহাক ও ইয়াকূব এবং তাহার বংশধরগণের প্রতি যাহা নাযিল হইয়াছে” (৩ঃ ৮৪; আরও দ্র. ২ঃ ১৩৬ ও ২১ঃ ৭২)।
নবী-রাসূলগণের প্রধান দায়িত্ব হইল মানবজাতির নিকট আল্লাহ্র বাণী পৌঁছাইয়া দেওয়া, তাহা বুঝাইয়া দেওয়া এবং বাস্তবক্ষেত্রে তাহা কিভাবে কার্যকর করিতে হইবে তাহা দেখাইয়া দেওয়া। হযরত ইয়াকূব (আ) নবী হিসাবে নিশ্চয় এসব দায়িত্ব পালন করিয়াছেন, কিন্তু তিনি কিভাবে তাঁহার এলাকাবাসীর মধ্যে দীনের দাওয়াত পেশ করিয়াছেন এবং তাহা কতদূর ফলপ্রসূ হইয়াছে, ইতিহাসের গ্রন্থাবলীতে ইহার কোন বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায় না। তবে এতখানি জানা যায় যে, তাঁহার এলাকায় তখনও পৌত্তলিক কানআন বংশীয়রা রাজত্ব করিত। তিনি সপরিবারে তাঁহার মাতুলালয় হইতে কানআনে ফিরিয়া আসিবার পর তাহার কন্যাকে কানআন বংশীয় এক রাজপুত্র অপহরণ করিয়াছিল। পরবর্তীতে ইয়াকূব (আ)-এর সন্তানগণের হাতে উক্ত রাজবংশের পতন ঘটে (দ্র. আদিপুস্তক, ৩৪ঃ ১-৩১)। এই ঘটনার পর হইতে অত্র এলাকায় ইয়াকূব (আ)-এর দাওয়াতের বরকতে পৌত্তলিকতার অবসান ঘটিতে থাকে এবং জনগণ দীন ইসলাম গ্রহণ করিতে থাকে। এক পর্যায়ে এই এলাকা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলে পরিণত হয়। অতঃপর হযরত ইয়াকূব (আ) এখানে আল্লাহর ঘর বায়তুল মাকদিস নির্মাণ করেন। বর্তমান কালে ইহা ইয়াহুদী-খৃস্টান-মুসলিম এই তিন জাতির পবিত্র স্থানরূপে স্বীকৃত।
ইহা ব্যতীত নিবন্ধের বিভিন্ন স্থানে তাঁহার নবুওয়াতের বিষয় সংক্রান্ত আয়াতসমূহ উদ্ধৃত হইয়াছে। হযরত ইয়াকূব (আ)-এর নবী জীবনের অধিকাংশ বিবরণ সূরা ইউসুফ-এ হযরত ইউসুফ (আ)-এর সহিত সংশ্লিষ্ট।
হযরত ইয়াকূব (আ)-এর মিসর গমন ও অন্তিম জীবন
হযরত ইয়াকুব (আ) তাঁহার মাতৃভূমি মেসোপটামিয়া হইতে সপরিবারে প্রত্যাবর্তনের পর জন্মভূমি কান্‌আনেই (ফিলিস্তীন) বসবাস করিতে থাকেন। জীবনের শেষ পর্যায়ে খৃ. পূ. ১৭০৬ অব্দে (বাইবেল ডিকশনারী, পৃ. ২৩), পুত্র ইউসুফ (আ)-এর আবেদনক্রমে ৭০ সদস্যবিশিষ্ট (Americana, ১৫/৬৫) পরিবার-পরিজনসহ তিনি মিসরে গমন করেন (আহলে কিতাব মতে), ভিন্নমতে ৭৩, অপর মতে ৮৩, আরেক মতে ৩৯০ জন (বিদায়া, ১খ., পৃ. ২১৮)। ৮০ বৎসর পর, হাসান বসরীর (র) মতে ৮৩ বৎসর, কাতাদার (র) মতে ৩৫ বৎসর, ইন্ন ইসহাকের (র) মতে ১৮ বৎসর এবং আহলে কিতাবমতে ৪০ বৎসর পর পিতা-পুত্রের পুনর্মিলন হয় (বিদায়া, ১খ., পৃ. ২১৭)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হযরত ইয়াকুব (আ)-এর মিসর গমন ও অন্তিম জীবন

📄 হযরত ইয়াকুব (আ)-এর মিসর গমন ও অন্তিম জীবন


হযরত ইয়াকুব (আ) তাঁহার মাতৃভূমি মেসোপটামিয়া হইতে সপরিবারে প্রত্যাবর্তনের পর জন্মভূমি কান্‌আনেই (ফিলিস্তীন) বসবাস করিতে থাকেন। জীবনের শেষ পর্যায়ে খৃ. পূ. ১৭০৬ অব্দে (বাইবেল ডিকশনারী, পৃ. ২৩), পুত্র ইউসুফ (আ)-এর আবেদনক্রমে ৭০ সদস্যবিশিষ্ট (Americana, ১৫/৬৫) পরিবার-পরিজনসহ তিনি মিসরে গমন করেন (আহলে কিতাব মতে), ভিন্নমতে ৭৩, অপর মতে ৮৩, আরেক মতে ৩৯০ জন (বিদায়া, ১খ., পৃ. ২১৮)। ৮০ বৎসর পর, হাসান বসরীর (র) মতে ৮৩ বৎসর, কাতাদার (র) মতে ৩৫ বৎসর, ইন্ন ইসহাকের (র) মতে ১৮ বৎসর এবং আহলে কিতাবমতে ৪০ বৎসর পর পিতা-পুত্রের পুনর্মিলন হয় (বিদায়া, ১খ., পৃ. ২১৭)।
ইবন ইসহাক আহলে কিতাবের বরাতে বলেন, হযরত ইয়াকূব (আ) মিসরে আগমনের পর এখানে ১৭ বৎসর জীবিত ছিলেন (বিদায়া, ১খ., পৃ. ২২০; আদিপুস্তক, ৪৭: ২৮)। কিন্তু Collier's Enyclopedia-তে সাত বৎসর উল্লেখ করা হইয়াছে (১৩ খ., পৃ. ৪২৭)। এই সময়কালে পিতা-পুত্র মিসরে ব্যাপক ভিত্তিতে ইসলাম প্রচার করেন। ফলে গরিষ্ঠ সখ্যক মিসরবাসী দীনে হানীফের ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করেন। বস্তুত নবী-রাসূলগণের প্রধান কাজই হইল মানবজাতির নিকট আল্লাহ্ দীনের দাওয়াত পৌঁছানো। তাই তাঁহারা সর্বাবস্থায় দীনের দাওয়াত দিয়াছেন, এমনকি হযরত ইউসুফ (আ) সম্পর্কে তো কুরআন মজীদেই বর্ণিত হইয়াছে যে, তিনি অত্যন্ত প্রজ্ঞার সহিত যুক্তি সহকারে জেলখানায় বন্দী অবস্থায়ও তাঁহার সহ-কয়েদীদের মধ্যে দীনের প্রচারকার্য অব্যাহত রাখেন (দ্র. ১২: ৩৭-৪০)।
ইন্ন কাছীর (র) বলেন, আহলে কিতাবমতে মিসরে গমনকালে তাঁহার বয়স হইয়াছিল ১৩০ বৎসর (বিদায়া, ১খ., পৃ. ২২০), কিন্তু তিনি তাঁহার বয়স মোট ১৪০ বৎসর উল্লেখ করিয়াছেন (পৃ. ২২০)। অথচ বাইবেলে তাঁহার মোট বয়স ১৪৭ বৎসর বর্ণিত হইয়াছে (আদিপুস্তক, ৪৭ঃ ২৮; Collier's Ency., ১৩ খ, পৃ. ৪২৭; Americana, ১৫খ, পৃ. ৬৫৫; Ency. Relig., ৭খ, পৃ. ৫০৩)। মৃত্যুর পূর্বে তিনি ইউসুফ (আ)-কে ওসিয়াত করিয়া যান যে, তাঁহার লাশ যেন তাঁহার পিতৃপুরুষ ইসহাক ও ইবরাহীম (আ)-এর কবরস্থানে দাফন করা হয় এবং তাঁহার ওসিয়াত প্রতিপালিত হয় (বিদায়া, ১খ., পৃ. ২২০; আদিপুস্তক, ৪৯ : ৩০-৩৩; আরও দ্র. Collier's Ency., ১৩খ, পৃ. ৪২৭; Ency. Relig., ৭খ., পৃ. ৫০৪; Americana, ১৫খ, পৃ. ৬৫৫)। ইউসুফ (আ)-ই তাঁহার পিতার লাশ কানআনে বহন করিয়া আনেন এবং হেবরনে (বর্তমান আল-খলীল) দাফন করেন (বিদায়া, ১খ., পৃ. ২২০)। মিসরবাসী তাঁহার জন্য ৭০ দিন শোক পালন করে (ঐ, পৃ. ২২০; আদিপুস্তক, ৫০: ৩)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 অন্তিম উপদেশ

📄 অন্তিম উপদেশ


হযরত ইয়াকূব (আ) যখন বুঝিতে পারিলেন যে, তাঁহার অন্তিম মুহূর্ত নিকটবর্তী, তিনি তাঁহার সন্তানদেরকে ডাকিয়া সেই উপদেশ দান করিলেন যাহা তাঁহার পিতামহ হযরত ইবরাহীম (আ) তাঁহার পুত্রগণকে দান করিয়াছিলেন। তাঁহার উপদেশ এই ছিল যে, "আল্লাহ এক, তাঁহার কোনও শরীক নাই"। এই মূল ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত দীন ইসলামকে আমৃত্য আকড়াইয়া ধরিতে হইবে। কুরআন মজীদে বিষয়টি এইভাবে উল্লিখিত হইয়াছে:
وَوَصَّى بِهَا إِبْرَاهِيمُ بَنِيْهِ وَيَعْقُوبُ . يُبَنِى إِنَّ اللهَ اصْطَفَى لَكُمُ الدِّينَ فَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُّسْلِمُونَ . "এবং ইবরাহীম ও ইয়াকূব এই সম্বন্ধে তাহাদের পুত্রগণকে নির্দেশ দিয়া বলিয়াছিল, হে পুত্রগণ! আল্লাহই তোমাদের জন্য এই দীনকে মনোনীত করিয়াছেন। অতএব তোমরা আমৃত্য মুসলমান থাকিবে। ইয়াকুবের নিকট যখন মৃত্যু আসিল তখন তোমরা কি উপস্থিত ছিলে? সে যখন তাহার পুত্রগণকে জিজ্ঞাসা করিল, আমার পরে তোমরা কিসের ইবাদত করিবে, তখন তাহারা বলিল, আমরা আপনার ইলাহ্-এর এবং আপনার পিতৃপুরুষ ইবরাহীম, ইসমাঈল ও ইসহাকের ইলাহ্-এর ইবাদত করিব। তিনিই একমাত্র ইলাহ এবং আমরা তাঁহার নিকট আত্মসমর্পণকারী" (২ : ১৩২-৩)।
রাসূলুল্লাহ (স) যখন মদীনা ও তৎপার্শ্ববর্তী এলাকাসমূহে "আল্লাহ্ এক এবং তাঁহার কোনও শরীক নাই", এই দাওয়াত দিতেছিলেন এবং বলিতেছিলেন, ইহাই ইবরাহীম (আ)-এর একনিষ্ঠ ধর্ম (দীনে হানীফ), তখন ইয়াহুদী ও খৃস্টানরা দাবি করিল যে, তাহারাই তো ইবরাহীম (আ)-এর ধর্মের অনুসারী। শুধু তাহাই নহে, ইয়াহুদী-খৃস্টানরা তো মুসলমানদেরকে নূতন ধর্ম ত্যাগ করিয়া তাহাদের নিজ নিজ ধর্মের অনুসরণ করিতে বলিতে লাগিল এবং ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব (আ) ও তাঁহার বংশধরগণ ইয়াহুদী-খৃস্টান ছিল বলিয়া দাবি করে। মহান আল্লাহ্ ভাষায় :
أَمْ تَقُولُونَ إِنَّ ابْرَاهِيمَ وَاسْمَعِيلَ وَاسْحَقَ وَيَعْقُوبَ وَالأَسْبَاطَ كَانُوا هُودًا أو نَصْرَى قُلْ أَنْتُمْ أَعْلَمُ أَمِ اللَّهُ. "তোমরা কি বল, ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকূব ও তাহার বংশধরগণ ইয়াহুদী কিংবা খৃস্টান ছিল? তুমি বল, তোমরা কি বেশি জান, না আল্লাহ” (২ : ১৪০)?
পূর্বোক্ত আয়াত নাযিল পূর্বক ইয়াহুদী-খৃস্টানদের উপরিউক্ত দাবি প্রত্যাখ্যান করিয়া আসল সত্য তুলিয়া ধরা হইয়াছে। আয়াতে প্রদত্ত প্রশ্নাকারে প্রতিবাদের তাৎপর্য অনুধাবন করার জন্য দুইটি বিষয় বিবেচনায় রাখিতে হইবে। (এক) ইয়াহুদী ও খৃস্টান ধর্মের বর্তমান যে কাঠামো তাহা পরবর্তী কালের সৃষ্টি। ইয়াহুদী ধর্মের নামকরণ, উহার ধর্মীয় বিশেষত্ব, অনুষ্ঠানমালা ও নিয়ম-কানুন খৃস্টপূর্ব ৩য়-৪র্থ শতাব্দীতে রূপ লাভ করিয়াছে। অনুরূপভাবে যেসব ধারণা-বিশ্বাস ও বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদির সমষ্টিকে খৃষ্টবাদ বলা হয় তাহা হযরত ঈসা (আ)-এর বহু পরবর্তী কালে উদ্ভাবিত হইয়াছে। সুতরাং ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তাঁহার বংশধরের ইয়াহুদী বা খৃস্টান হওয়ার দাবি অসার কল্পনামাত্র। (দুই) স্বয়ং ইয়াহুদী-খৃস্টানদের নিজস্ব ধর্মীয় গ্রন্থাবলী হইতেও এই কথা প্রমাণিত হইয়াছে যে, হযরত ইবরাহীম (আ)-সহ উক্ত নবীগণ এক আল্লাহ ব্যতীত অপর কিছুর ইবাদত, উপাসনা, আনুগত্যে বিশ্বাসী ছিলেন না এবং আল্লাহ তা'আলার সাথে কাহাকেও অংশীদার করিতেন না। অতএব এই কথা সুস্পষ্ট যে, ইয়াহুদীবাদ ও খৃস্টবাদ উভয়ই পূর্বোক্ত নবীগণের আচরিত চিরসত্য পথ হইতে বিচ্যুত হইয়া গিয়াছে (তাফহীমুল কুরআন, সূরা বাকারার ১৩৫ নং আয়াতের ১৩৫ নং টীকা)।
বাইবেলে হযরত ইয়াকূব (আ)-এর মৃত্যকালীন অবস্থা বিস্তারিতভাবে বর্ণিত থাকিলেও তাহাতে কুরআন মজীদে উক্ত এই মূল্যবান অন্তিম উপদেশের কোনও উল্লেখ নাই। অবশ্য ইয়াহুদীদের তালমূদ গ্রন্থে যে দীর্ঘ উপদেশমালা বর্ণিত আছে, কুরআনের উপদেশের সহিত উহার যথেষ্ট সামঞ্জস্য রহিয়াছে। তাহাতে হযরত ইয়াকূব (আ)-এর এই কথাগুলি পাওয়া যায়ঃ "তোমরা সদাপ্রভু আল্লাহ্ ইবাদত করিতে থাকিবে। তিনি তোমাদেরকে সকল বিপদ হইতে রক্ষা করিবেন, যেমন করিয়াছেন তোমাদের পূর্বপুরুষদেরকে। নিজ সন্তানদেরকে সদাপ্রভুকে ভালোবাসিতে এবং তাঁহার নির্দেশ মান্য করিয়া চলিতে শিক্ষা দিবে, যাহাতে তাহাদের জীবনের অবকাশ দীর্ঘতর হয়। কেননা যাহারা সত্যের সহিত সকল কাজ সম্পন্ন করে এবং সত্যের পথে ঠিকভাবে চলে, আল্লাহ তাহাদের রক্ষণাবেক্ষণ করেন”। উত্তরে সেই সন্তানগণ বলিল, "আপনি যেই উপদেশ দিলেন তাহা আমরা মান্য করিব, আল্লাহ আমাদের সহায় হউন।" তখন ইয়াকূব (আ) বলিলেন, "তোমরা যদি সদাপ্রভুর সহজ সরল পথ হইতে ডানে-বায়ে ভ্রষ্ট হইয়া না যাও, তবে আল্লাহ নিশ্চয়ই তোমাদের সহায় হইবেন" (তাফহীমুল কুরআন, ২ঃ ১৩৩ আয়াতের ১৩৩ নং টীকা)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বায়তুল মাকদিস নির্মাণ

📄 বায়তুল মাকদিস নির্মাণ


আল্লামা ইব্‌ন কাছীর (র) তাঁহার তাফসীর গ্রন্থে পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবের বরাতে লিখিয়াছেন যে, হযরত ইয়াকূব (আ) সর্বপ্রথম বায়তুল মাকদিস নির্মাণ করেন (তাফসীর ইন্ন কাছীর, বাংলা অনু., ১খ, পৃ. ৫৭৩)। বাইবেলের আদিপুস্তকে উল্লিখিত আছে : "পরে যাকোব প্রত্যূষে উঠিয়া বালিশের নিমিত্ত যে প্রস্তর রাখিয়াছিলেন, তাহা লইয়া স্তম্ভরূপে স্থাপন করিয়া তাহার উপর তৈল ঢালিয়া দিলেন। আর সেই স্থানের নাম বৈথেল (বায়ত ঈল=আল্লাহ্ত্র ঘর) রাখিলেন এবং এই যে প্রস্তর আমি স্তম্ভরূপে স্থাপন করিয়াছি, ইহা আল্লাহ্র ঘর হইবে” (২৮ঃ ১৮-২২)।
অতএব হযরত ইয়াকূব (আ)-ই বায়তুল মাকদিস-এর প্রথম নির্মাতা, অতঃপর হযরত সুলায়মান (আ) ইহা পুননির্মাণ করেন (বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ১খ., পৃ. ১৯৪ ও ১৯৬; আল-মাআরিফ, পৃ. ২৩)।
হযরত আবু যার আল-গিফারী (রা) বলেন, আমি বলিলাম,
يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ مَسْجِدٍ وُضِعَ فِي الْأَرْضِ أَوَّلُ قَالَ الْمَسْجِدُ الحَرَامُ قَلْتُ ثُمَّ أَيُّ قَالَ الْمَسْجِدُ الْأَقْصَى قَالَ كَمْ كَانَ بَيْنَهُمَا قَالَ أَرْبَعُونَ سَنَةً . "হে আল্লাহ্র রাসূল! পৃথিবীতে সর্বপ্রথম কোন মসজিদ নির্মিত হয়? তিনি বলেন: মসজিদুল হারাম। আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, অতঃপর কোনটি? তিনি বলেন: মসজিদুল আকসা (বায়তুল মাকদিস)। আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, এই মসজিদ নির্মাণের মধ্যকার (কালের) ব্যবধান কত ছিল? তিনি বলেন: চল্লিশ বৎসর" (বুখারী, আম্বিয়া, বাব ১০, নং ৩১১৬; বাব ৪০, নং ৩১৭৩; মুসলিম, মাসাজিদ, নং ১০৪২-৩; নাসাঈ, মাসাজিদ, বাব আয়্যু মাসজিদ উদিআ আওয়ালান; ইব্‌ন মাজা, মাসাজিদ, বাব ৭, নং ৭৫৩)।
বাইবেলের বিবরণ ও উক্ত হাদীছের বিষয়বস্তু হইতে প্রমাণিত হয় যে, হযরত ইবরাহীম (আ) কর্তৃক কাবা ঘর নির্মিত হওয়ার চল্লিশ বৎসর পর তাঁহার পৌত্র হযরত ইয়াকূব (আ) বায়তুল মাকদিস নির্মাণ করেন। উক্ত হাদীছের ভিত্তিতে ইব্‌ن হিব্বান মত প্রকাশ করেন যে, হযরত ইবরাহীম (আ) ও হযরত সুলায়মান (আ)-এর যুগের মধ্যে মাত্র চল্লিশ বৎসরের ব্যবধান ছিল। তিনি ধারণা করেন যে, হযরত সুলায়মান (আ)-ই বায়তুল মাকদিসের নির্মাতা। তাঁহার এই ধারণা যথার্থ নহে। বস্তুত হযরত সুলায়মান (আ)-এর যুগ ও হযরত ইবরাহীম (আ)-এর যুগের মধ্যে পার্থক্য হাজার বৎসরের অধিক। সুলায়মান (আ) উহা পুনর্নির্মাণ করিয়াছিলেন মাত্র (তাফসীর ইব্‌ن কাছীর, বাংলা অনু, ১খ, পৃ. ৫৭৪)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00