📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 দ্বাদশ পুত্র হইতে দ্বাদশ গোত্র

📄 দ্বাদশ পুত্র হইতে দ্বাদশ গোত্র


ইয়াকূব (আ)-এর মামা লাভান-এর দুই কন্যা ছিল, বড়জনের নাম লিয়া এবং ছোটজনের নাম রাহীল। সাত বৎসর পর ইয়াকূব (আ) মামার ছোট কন্যা রাহীলকে বিবাহ করিতে আগ্রহ প্রকাশ করিলেন। কিন্তু মামা তাঁহার সহিত জ্যেষ্ঠা কন্যা লিয়ার বিবাহ দিলেন। কারণ জ্যেষ্ঠা কন্যাকে অবিবাহিত রাখিয়া কনিষ্ঠা কন্যার বিবাহদান তাহাদের রীতিবিরুদ্ধ ছিল (বিদায়া, ১খ., পৃ. ১৯৫)। অবশ্য পরে আরো সাত বৎসর (বিদায়া, ১খ., পৃ. ১৯৫; বাইবেলের আদিপুস্তক, ২৯: ২৭) মামার পশুপাল চরাইবার পর তিনি তাঁহার কাঙ্খিত মামাত ভগিনী রাহীলকেও বিবাহ করিতে সক্ষম হইলেন। তৎকালে একত্রে দুই বোনকে বিবাহ করা বৈধ ছিল। তাহার কন্যা লিয়ার সহিত জুলফা (সিল্পা) ও রাহীলের সহিত বিলহা নাম্নী দুইটি দাসীও দান করেন। পরে দুই স্ত্রী স্ব স্ব দাসীকেও ইয়াকূব (আ)-এর সহিত বিবাহ দেন (বিদায়া, ১খ., পৃ. ১৯৫)।
আল্লাহ্ তা'আলা এই চারজন স্ত্রীর গর্ভে ইয়াকূব (আ)-কে দ্বাদশ পুত্র ও এক কন্যা সন্তান দান করেন। প্রথম স্ত্রী লিয়ার গর্ভে রূবিল (রূবেন=পুত্রকে দেখ), শাম'ঊন (শিমিয়ন=শ্রবণ), লাবী (লেবী-আসক্ত), ইয়াহুযা (যিহূদা-স্তব), ঈসাখর, অপর বর্ণনায় ইনসাখর (ইযাখর=বেতন) ও যাঈলুন (সবূলূন= বসবাস) নামে পাঁচ পুত্র সন্তান এবং রাহীলের গর্ভে হযরত ইউসুফ (যোশেফ= বৃদ্ধি) ও বিনয়ামীন (বিন্যামিন=দক্ষিণ হস্তের পুত্র), তৃতীয় স্ত্রী এবং রাহীলের দাসী বিলহার গর্ভে দান (বিচার) ও নাফতালী (মল্লযুদ্ধ), চতুর্থ স্ত্রী এবং লিয়ার দাসী যুলফার গর্ভে জাদ, অপর বর্ণনায় হায (গাদ=সৌভাগ্য) ও আশীর (ধন্য) জন্মগ্রহণ করে (বিদায়া, ১খ., পৃ. ১৯৭; আরও দ্র. পৃ. ১৯৫; আল-কামিল, ১খ, পৃ. ৯৫-৬; তাফসীরে তাবারী, বাংলা অনু., ২খ, পৃ. ৩৬৭-৮; বাইবেলের আদিপুস্তক, ২৯ : ৩২-৩৫; ৩০ : ১-২৪; ৩৫ : ১৮ ও ২৩-২৬)। বিনয়ামীন ব্যতীত ইয়াকূব (আ)-এর সকল সন্তান তাঁহার মাতুলালয় হাররানে (তাবারীর মতে বাবিলে) জন্মগ্রহণ করেন।
ইয়াকূব (আ)-এর উসীলায় আল্লাহ্ তা'আলা তাঁহার মামার সম্পদে, বিশেষত গবাদিপশুতে প্রচুর বরকত ও প্রাচুর্য দান করেন। তিনি মোট বিশ বৎসর মাতুলালয়ে অবস্থান করেন (বিদায়া, ১খ., পৃ. ১৯৫)। পরে আল্লাহ তা'আলা ওহীর মাধ্যমে ইয়াকুব (আ)-কে তাঁহার পিতৃভূমিতে প্রত্যাবর্তনের নির্দেশ দান করেন এবং তাঁহাকে সহায়তা দানের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন (বিদায়া, ১খ., পৃ. ১৯৫)। তদনুযায়ী তিনি সপরিবারে প্রচুর সম্পদসহ পিতৃভূমি হেব্রনে ফিরিয়া আসেন। আসার পথে রাহীল “আফরাছ” (ইফরাত বা বেথেলহাম) নামক স্থানে বিনয়ামীনকে প্রসব করার পরপরই ইনতিকাল করেন। ইয়াকূব (আ) তাহাকে এখানেই দাফন করেন এবং তাহার কবরের উপর একটি প্রস্তর স্তম্ভ স্থাপন করেন (বিদায়া, ১খ., পৃ. ১৯৭; বাইবেলের আদিপুস্তক, ৩৫ : ১৬-২০)।
ইব্‌ন কাছীর (র) আহলে কিতাবের বরাতে উল্লেখ করেন যে, কানআনে বসবাসকালে ইয়াকূব (আ)-এর একমাত্র কন্যা দীনাকে এতদ অঞ্চলের রাজপুত্র শিখীম অপহরণ করে। শিখীমের পিতা জামূর (হমোর) তাহার পুত্রের সহিত এই কন্যাকে বিবাহ দেওয়ার প্রস্তাব করিলে ইয়াকূব (আ)-এর পুত্রগণ বলিলেন যে, তাহারা খাতনাহীনদের সহিত আত্মীয়তা করেন না। যদি তাহারা সকলে খাতনা করিতে সম্মত হয় তবে উক্ত প্রস্তাব গ্রহণ করা যাইতে পারে। তাহারা খাতনা করিবার তৃতীয় দিনে অসুস্থ হইয়া পড়িল। এই সুযোগে ইয়াকূব (আ)-এর পুত্রগণ রাজ-পরিবারে আক্রমণ চালাইয়া শিখীম ও তাহার পিতাসহ বহু লোককে হত্যা করেন। এই আক্রমণে রাজবংশের শক্তি খর্ব হইয়া যায় (দ্র. আদিপুস্তক ৩৪ : ১-৩১)। বাইবেলে বর্ণিত এই ঘটনাটি নবী পরিবারের মর্যাদার পরিপন্থী বিধায় গ্রহণযোগ্য নহে।
কুরআন মজীদ হইতেও ইয়াকূব (আ)-এর বারজন পুত্র থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। ইউসুফ (আ) তাঁহার পিতার নিকট তাঁহার স্বপ্নের কথা এইভাবে ব্যক্ত করেন:
يَـٰٓأَبَتِ إِنِّى رَأَيْتُ أَحَدَ عَشَرَ كَوْكَبًا وَٱلشَّمْسَ وَٱلْقَمَرَ رَأَيْتُهُمْ لِى سَـٰجِدِينَ "হে আমার পিতা! নিশ্চয় আমি দেখিয়াছি একাদশ নক্ষত্র, সূর্য ও চন্দ্রকে, আমি এইগুলিকে আমার প্রতি সিজদাবনত অবস্থায় দেখিয়াছি” (১২:৪)।
ইব্‌ন আব্বাস (রা)-র মতে একাদশ নক্ষত্র অর্থ ইউসুফ (আ)-এর একাদশ ভ্রাতা এবং সূর্য ও চন্দ্র অর্থ তাঁহার পিতা-মাতা (তাফসীরে ইব্‌ন আব্বাস, পৃ. ১৯৩; তাফসীরে উছমানী, সৌদী সং, পৃ. ৩১২, টীকা ২; মাআরেফুল কোরআন, সংক্ষিপ্ত সৌদী সং, পৃ. ৬৫১, কলাম ২; তাফহীমুল কুরআন, সূরা ইউসুফ, ৪ নং টীকা)। ইবন আব্বাস (রা)-র মতে ইউসুফ (আ)-এর স্বপ্ন দর্শনকালে তাঁহার মাতা রাহীল জীবিত ছিলেন (তাফসীরে ইব্‌ন আব্বাস, পৃ. ১৯৩)। তাফসীরে কুরতুবীতে বলা হইয়াছে যে, তখন তাঁহার মাতা জীবিত ছিলেন না, তাঁহার সৎমাতা লিয়া জীবিত ছিলেন। শেষোক্ত মত সত্য হইলে ইয়াকূব (আ) সপরিবারে মিসর গমনকালেও লিয়া জীবিত ছিলেন। কারণ ইউসুফ (আ)-এর রাজ-দরবারে তাহাদের উপস্থিতি প্রসঙ্গে কুরআন মজীদে বলা হইয়াছে:
وَرَفَعَ أَبَوَيْهِ عَلَى الْعَرْشِ وَخَرُّوا لَهُ سُجَّدًا . "এবং ইউসুফ তাহার মাতা-পিতাকে উচ্চাসনে বসাইল এবং তাহারা সকলে তাহার সম্মানে সিজদায় লুটাইয়া পড়িল” (১২ঃ ১০০)।
বাইবেল হইতে জানা যায় যে, লিয়া ইয়াকূব (আ)-এর জীবদ্দশায় মারা যান (আদিপুস্তক, ৪৯ঃ ৩১)। তাঁহার অপর স্ত্রীদ্বয় কখন মৃত্যুবরণ করেন সেই সম্পর্কে কিছু জানা যায় না।
হযরত ইয়াকূব (আ) পুত্রগণের মধ্যে বৃদ্ধ বয়সের পুত্র ইউসুফ (আ)-কে সর্বাধিক স্নেহ করিতেন। স্বপ্নের বিবরণ শুনিয়াই তিনি তাঁহাকে নিজ ভ্রাতাদের নিকট তাহা গোপন রাখার উপদেশ দেন, যাহাতে তাহারা তাঁহার ক্ষতিসাধন করিতে না পারে (দ্র. ১২:৫)। ১২ঃ ৬ হইতে ১৮ আয়াত পর্যন্ত তাঁহার বিরুদ্ধে সৎ ভ্রাতাদের ষড়যন্ত্র ও তাহা বাস্তবায়নের ঘটনা উল্লিখিত হইয়াছে। সর্বাধিক প্রিয় সন্তানকে হারাইয়া হযরত ইয়াকূব (আ) পুত্রশোকে এক পর্যায়ে দৃষ্টিশক্তি হারাইয়া ফেলেন এবং পরবর্তী কালে ইউসুফ (আ)-এর জামা তাঁহার মুখমণ্ডলে স্পর্শ করাইলে তিনি পুনরায় দৃষ্টিশক্তি লাভ করেন (দ্র. ১২:৮৪ ও ৯৬)। এক সময়ে কানআনে দুর্ভিক্ষের প্রাদুর্ভাব হইলে ইয়াকূব (আ) তাঁহার দশ পুত্রকে খাদ্যশস্য সংগ্রহের জন্য মিসরে প্রেরণ করেন। ইউসুফ (আ) তাহাদেরকে দেখিয়া চিনিয়া ফেলেন কিন্তু নিজের পরিচয় গোপন রাখেন, অবশ্য তাহারা তাঁহাকে চিনিতে পারে নাই (দ্র. ১২: ৫৮)। তিনি তাহাদেরকে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য দান করেন, গোপনে তাহাদের ক্রয়মূল্য ফেরত দেন এবং তাহারা পুনর্বার আসিলে তাহাদের কনিষ্ঠ ভ্রাতাকে সঙ্গে করিয়া আনিবার জন্য জোর তাগিদ দেন (দ্র. ১২ঃ ৫৯-৬২)। তাহাদের কনিষ্ঠ ভ্রাতা এবং ইউসুফ (আ)-এর সহোদর বিনয়ামীনই ছিলেন তখন ইয়াকূব (আ)-এর সর্বাধিক স্নেহের পাত্র। মিসর হইতে ফিরিয়া আসিয়া তাহারা পিতাকে মিসরের শাসনকর্তার অনুরোধ সম্পর্কে অবহিত করিল এবং বিনয়ামীনকে তাহাদের সঙ্গী করা হইলে তাহার নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতিও প্রদান করিল (১২ঃ ৬৩)। ইয়াকূব (আ) বিদায়কালে বলিলেন:
فَاللَّهُ خَيْرٌ حَفِظَا وَهُوَ أَرْحَمُ الرَّحِمِينَ. "আল্লাহ্ই রক্ষণাবেক্ষণে শ্রেষ্ঠ এবং তিনি সর্বশ্রেষ্ট দয়ালু" (১২ঃ ৬৪)।
দ্বিতীয়বার তাহারা মিসর পৌছিলে ইউসুফ (আ) তাঁহার সহোদরকে সুকৌশলে নিজের কাছে রাখিয়া দেন এবং নিজের পরিচয় সহোদরের নিকট ব্যক্ত করেন (দ্র. ১২ঃ ৬৯-৭৯)। বিনয়ামীন মিসর হইতে প্রত্যাবর্তন না করায় ইয়াকুব (আ) আল্লাহ্র তরফ হইতে ইঙ্গিত পাইলেন যে, তাঁহার স্নেহের ধন ইউসুফ (আ) এখনো জীবিত আছেন। তিনি পুত্রদের সহিত সাক্ষাতের জন্য ব্যাকুল হইয়া উঠিলেন। এইজন্য তাঁহার অপর পুত্রগণ তাঁহার প্রতি অনুযোগ (দ্র. ১২ঃ ৮৬) করিলে তিনি বলেন:
إِنَّمَا أَشْكُوا بَنِي وَحُزْنِي إِلَى اللَّهِ وَأَعْلَمُ مِنَ اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ. "আমি আমার অসহনীয় বেদনা এবং আমার দুঃখ শুধু আল্লাহ্র নিকট নিবেদন করিতেছি। আমি আল্লাহ্র নিকট হইতে জানি যাহা তোমরা জান না" (১২ঃ ৮৬)। তৃতীয়বার তাহারা মিসর পৌঁছিলে ইউসুফ (আ) তাহাদের সামনে নিজের পরিচয় ব্যক্ত করেন, তাহাদের পূর্বের কৃতকর্মের কথা স্মরণ করাইয়া দেন এবং তাহাদের জন্য ক্ষমা ঘোষণা করেন এবং তাহাদের সকলকে সপরিবারে মিসরে চলিয়া আসিতে বলেন (দ্র. ১২ঃ ৮৬-৯৩)।
তখন তিনি স্পষ্টভাবে ইউসুফ (আ)-এর নাম উচ্চারণ পূর্বক তাহাদেরকে পুনরায় মিসরে যাইতে বলেন। তাহারা ইউসুফ (আ)-এর দরবারে উপস্থিত হইয়া অনুনয়-বিনয় করিয়া তাহাদের জন্য রসদ সরবরাহের আবেদন জানায়। তিনি তাহাদের সঙ্গে পিতার জন্য নিজের জামা প্রেরণ করেন (দ্র. ১২: ৯৩)। চতুর্থবারের সফরে হযরত ইয়াকূব (আ) সপরিবারে মিসর গমন করেন। তাঁহারা শহরদ্বারে পৌছিলে ইউসুফ (আ) পিতা-মাতাকে আলিঙ্গনের মাধ্যমে অভ্যর্থনা জানাইয়া নির্ভয়ে ও নিরাপদে রাজধানীতে প্রবেশ করিতে বলেন। রাজ-দরবারে তিনি পিতা-মাতাকে তাঁহার পাশে বসান এবং দশ ভ্রাতা তাঁহাকে রাজকীয় সম্মান প্রদর্শন পূর্বক সিজদা করে (দ্র. ১২ঃ ৯৯-১০০)। তখন ইউসুফ (আ) বলেন:
يابَتِ هُذَا تَأْوِيلُ رُؤْيَايَ مِنْ قَبْلُ قَدْ جَعَلَهَا رَبِّي حَقًّا . "হে আমার পিতা! ইহাই আমার পূর্বেকার স্বপ্নের ব্যাখ্যা, আমার প্রতিপালক উহাকে সত্যে পরিণত করিয়াছেন" (১২ঃ ১০০)।
দ্বাদশ পুত্র হইতে দ্বাদশ গোত্র
হযরত ইয়াকূব (আ)-এর দ্বাদশ পুত্র হইতে আল্লাহ তা'আলা দ্বাদশ গোত্রের উন্মেষ ঘটান। এই সম্পর্কে কুরআন মজীদে সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বিদ্যমান:
وَقَطَّعْنَهُمُ اثْنَتَيْ عَشْرَةَ أَسْبَاطًا أَمَمًا . "আমি তাহাদেরকে দ্বাদশ গোত্রে বিভক্ত করিয়াছি" (৭: ১৬০; আরও দ্র. ৫: ১২; এবং ২ঃ ৬০)।
পুত্রগণের মধ্যে হযরত ইউসুফ (আ)-এর নবুওয়াত সম্পর্কে কুরআন মজীদে সুস্পষ্ট উল্লেখ আছে, কিন্তু তাঁহার অবশিষ্ট ভ্রাতাগণ নবী ছিলেন কি না সেই বিষয়ে কোন উল্লেখ নাই। অধিকাংশ তাফসীরকারের মতে তাহারা নবী ছিলেন না (বিদায়া, ১খ, পৃ. ১৯৮)। অবশ্য কতক তাফসীরকার নিম্নোক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় তাহারাও নবী ছিলেন বলিয়া মত প্রকাশ করিয়াছেন:
وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْنَا وَمَا أُنْزِلَ إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَاسْمَعِيلَ وَاسْحَقَ وَيَعْقُوبَ وَالْأَسْبَاطَ . "এবং যাহা নাযিল হইয়াছে ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকূব ও তাহার বংশধরগণের উপর" (২ঃ ১৩৬)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হযরত ইয়াকুব (আ)-এর নবুওয়াত লাভ

📄 হযরত ইয়াকুব (আ)-এর নবুওয়াত লাভ


ইয়াকূব (আ) ছিলেন আল্লাহ তা'আলার একজন সম্মানিত মহান পয়গাম্বর, তিনি বিশেষভাবে কানআনবাসীদের মধ্যে আল্লাহ্ দীন প্রচারের জন্য প্রেরিত হইয়াছিলেন এবং এখানেই তিনি জীবনের অধিকাংশ কাল দীন ইসলামের প্রচার করেন (কাসাসুল কুরআন, উর্দু, ১খ., পৃ. ২৭৯)। মহান আল্লাহ তাঁহার নবুওয়াত সম্পর্কে বলেন:
وَوَهَبْنَا لَهُ اسْحَقَ وَيَعْقُوبَ وَكُلًّا جَعَلْنَا نَبِيًّا . "এবং আমি তাহাকে দান করিলাম ইসহাক ও ইয়াকূব এবং প্রত্যেককে নবী করিলাম" (১৯:৪৯)।
وأوحينا إلى ابراهيمَ وَاسْمَعِيلَ وَاسْحَقَ وَيَعْقُوبَ وَالْأَسْبَاطَ . "আমি ওহী পাঠাইয়াছি ইবরাহীম, ইসমাঈل, ইসহাক, ইয়াকূব ও তাহার বংশধরগণের নিকট ” (৪ঃ ১৬৩)।
قُلْ أَمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ عَلَيْنَا وَمَا أُنْزِلَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَاسْمُعِيلَ وَإِسْحَقَ وَيَعْقُوبَ وَالأَسْبَاطَ . "বল, আমরা ঈমান আনিয়াছি আল্লাহতে এবং আমাদের প্রতি যাহা নাযিল হইয়াছে এবং ইবরাহীম, ইসমাঈল ইসহাক ও ইয়াকূব এবং তাহার বংশধরগণের প্রতি যাহা নাযিল হইয়াছে” (৩ঃ ৮৪; আরও দ্র. ২ঃ ১৩৬ ও ২১ঃ ৭২)।
নবী-রাসূলগণের প্রধান দায়িত্ব হইল মানবজাতির নিকট আল্লাহ্র বাণী পৌঁছাইয়া দেওয়া, তাহা বুঝাইয়া দেওয়া এবং বাস্তবক্ষেত্রে তাহা কিভাবে কার্যকর করিতে হইবে তাহা দেখাইয়া দেওয়া। হযরত ইয়াকূব (আ) নবী হিসাবে নিশ্চয় এসব দায়িত্ব পালন করিয়াছেন, কিন্তু তিনি কিভাবে তাঁহার এলাকাবাসীর মধ্যে দীনের দাওয়াত পেশ করিয়াছেন এবং তাহা কতদূর ফলপ্রসূ হইয়াছে, ইতিহাসের গ্রন্থাবলীতে ইহার কোন বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায় না। তবে এতখানি জানা যায় যে, তাঁহার এলাকায় তখনও পৌত্তলিক কানআন বংশীয়রা রাজত্ব করিত। তিনি সপরিবারে তাঁহার মাতুলালয় হইতে কানআনে ফিরিয়া আসিবার পর তাহার কন্যাকে কানআন বংশীয় এক রাজপুত্র অপহরণ করিয়াছিল। পরবর্তীতে ইয়াকূব (আ)-এর সন্তানগণের হাতে উক্ত রাজবংশের পতন ঘটে (দ্র. আদিপুস্তক, ৩৪ঃ ১-৩১)। এই ঘটনার পর হইতে অত্র এলাকায় ইয়াকূব (আ)-এর দাওয়াতের বরকতে পৌত্তলিকতার অবসান ঘটিতে থাকে এবং জনগণ দীন ইসলাম গ্রহণ করিতে থাকে। এক পর্যায়ে এই এলাকা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলে পরিণত হয়। অতঃপর হযরত ইয়াকূব (আ) এখানে আল্লাহর ঘর বায়তুল মাকদিস নির্মাণ করেন। বর্তমান কালে ইহা ইয়াহুদী-খৃস্টান-মুসলিম এই তিন জাতির পবিত্র স্থানরূপে স্বীকৃত।
ইহা ব্যতীত নিবন্ধের বিভিন্ন স্থানে তাঁহার নবুওয়াতের বিষয় সংক্রান্ত আয়াতসমূহ উদ্ধৃত হইয়াছে। হযরত ইয়াকূব (আ)-এর নবী জীবনের অধিকাংশ বিবরণ সূরা ইউসুফ-এ হযরত ইউসুফ (আ)-এর সহিত সংশ্লিষ্ট।
হযরত ইয়াকূব (আ)-এর মিসর গমন ও অন্তিম জীবন
হযরত ইয়াকুব (আ) তাঁহার মাতৃভূমি মেসোপটামিয়া হইতে সপরিবারে প্রত্যাবর্তনের পর জন্মভূমি কান্‌আনেই (ফিলিস্তীন) বসবাস করিতে থাকেন। জীবনের শেষ পর্যায়ে খৃ. পূ. ১৭০৬ অব্দে (বাইবেল ডিকশনারী, পৃ. ২৩), পুত্র ইউসুফ (আ)-এর আবেদনক্রমে ৭০ সদস্যবিশিষ্ট (Americana, ১৫/৬৫) পরিবার-পরিজনসহ তিনি মিসরে গমন করেন (আহলে কিতাব মতে), ভিন্নমতে ৭৩, অপর মতে ৮৩, আরেক মতে ৩৯০ জন (বিদায়া, ১খ., পৃ. ২১৮)। ৮০ বৎসর পর, হাসান বসরীর (র) মতে ৮৩ বৎসর, কাতাদার (র) মতে ৩৫ বৎসর, ইন্ন ইসহাকের (র) মতে ১৮ বৎসর এবং আহলে কিতাবমতে ৪০ বৎসর পর পিতা-পুত্রের পুনর্মিলন হয় (বিদায়া, ১খ., পৃ. ২১৭)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হযরত ইয়াকুব (আ)-এর মিসর গমন ও অন্তিম জীবন

📄 হযরত ইয়াকুব (আ)-এর মিসর গমন ও অন্তিম জীবন


হযরত ইয়াকুব (আ) তাঁহার মাতৃভূমি মেসোপটামিয়া হইতে সপরিবারে প্রত্যাবর্তনের পর জন্মভূমি কান্‌আনেই (ফিলিস্তীন) বসবাস করিতে থাকেন। জীবনের শেষ পর্যায়ে খৃ. পূ. ১৭০৬ অব্দে (বাইবেল ডিকশনারী, পৃ. ২৩), পুত্র ইউসুফ (আ)-এর আবেদনক্রমে ৭০ সদস্যবিশিষ্ট (Americana, ১৫/৬৫) পরিবার-পরিজনসহ তিনি মিসরে গমন করেন (আহলে কিতাব মতে), ভিন্নমতে ৭৩, অপর মতে ৮৩, আরেক মতে ৩৯০ জন (বিদায়া, ১খ., পৃ. ২১৮)। ৮০ বৎসর পর, হাসান বসরীর (র) মতে ৮৩ বৎসর, কাতাদার (র) মতে ৩৫ বৎসর, ইন্ন ইসহাকের (র) মতে ১৮ বৎসর এবং আহলে কিতাবমতে ৪০ বৎসর পর পিতা-পুত্রের পুনর্মিলন হয় (বিদায়া, ১খ., পৃ. ২১৭)।
ইবন ইসহাক আহলে কিতাবের বরাতে বলেন, হযরত ইয়াকূব (আ) মিসরে আগমনের পর এখানে ১৭ বৎসর জীবিত ছিলেন (বিদায়া, ১খ., পৃ. ২২০; আদিপুস্তক, ৪৭: ২৮)। কিন্তু Collier's Enyclopedia-তে সাত বৎসর উল্লেখ করা হইয়াছে (১৩ খ., পৃ. ৪২৭)। এই সময়কালে পিতা-পুত্র মিসরে ব্যাপক ভিত্তিতে ইসলাম প্রচার করেন। ফলে গরিষ্ঠ সখ্যক মিসরবাসী দীনে হানীফের ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করেন। বস্তুত নবী-রাসূলগণের প্রধান কাজই হইল মানবজাতির নিকট আল্লাহ্ দীনের দাওয়াত পৌঁছানো। তাই তাঁহারা সর্বাবস্থায় দীনের দাওয়াত দিয়াছেন, এমনকি হযরত ইউসুফ (আ) সম্পর্কে তো কুরআন মজীদেই বর্ণিত হইয়াছে যে, তিনি অত্যন্ত প্রজ্ঞার সহিত যুক্তি সহকারে জেলখানায় বন্দী অবস্থায়ও তাঁহার সহ-কয়েদীদের মধ্যে দীনের প্রচারকার্য অব্যাহত রাখেন (দ্র. ১২: ৩৭-৪০)।
ইন্ন কাছীর (র) বলেন, আহলে কিতাবমতে মিসরে গমনকালে তাঁহার বয়স হইয়াছিল ১৩০ বৎসর (বিদায়া, ১খ., পৃ. ২২০), কিন্তু তিনি তাঁহার বয়স মোট ১৪০ বৎসর উল্লেখ করিয়াছেন (পৃ. ২২০)। অথচ বাইবেলে তাঁহার মোট বয়স ১৪৭ বৎসর বর্ণিত হইয়াছে (আদিপুস্তক, ৪৭ঃ ২৮; Collier's Ency., ১৩ খ, পৃ. ৪২৭; Americana, ১৫খ, পৃ. ৬৫৫; Ency. Relig., ৭খ, পৃ. ৫০৩)। মৃত্যুর পূর্বে তিনি ইউসুফ (আ)-কে ওসিয়াত করিয়া যান যে, তাঁহার লাশ যেন তাঁহার পিতৃপুরুষ ইসহাক ও ইবরাহীম (আ)-এর কবরস্থানে দাফন করা হয় এবং তাঁহার ওসিয়াত প্রতিপালিত হয় (বিদায়া, ১খ., পৃ. ২২০; আদিপুস্তক, ৪৯ : ৩০-৩৩; আরও দ্র. Collier's Ency., ১৩খ, পৃ. ৪২৭; Ency. Relig., ৭খ., পৃ. ৫০৪; Americana, ১৫খ, পৃ. ৬৫৫)। ইউসুফ (আ)-ই তাঁহার পিতার লাশ কানআনে বহন করিয়া আনেন এবং হেবরনে (বর্তমান আল-খলীল) দাফন করেন (বিদায়া, ১খ., পৃ. ২২০)। মিসরবাসী তাঁহার জন্য ৭০ দিন শোক পালন করে (ঐ, পৃ. ২২০; আদিপুস্তক, ৫০: ৩)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 অন্তিম উপদেশ

📄 অন্তিম উপদেশ


হযরত ইয়াকূব (আ) যখন বুঝিতে পারিলেন যে, তাঁহার অন্তিম মুহূর্ত নিকটবর্তী, তিনি তাঁহার সন্তানদেরকে ডাকিয়া সেই উপদেশ দান করিলেন যাহা তাঁহার পিতামহ হযরত ইবরাহীম (আ) তাঁহার পুত্রগণকে দান করিয়াছিলেন। তাঁহার উপদেশ এই ছিল যে, "আল্লাহ এক, তাঁহার কোনও শরীক নাই"। এই মূল ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত দীন ইসলামকে আমৃত্য আকড়াইয়া ধরিতে হইবে। কুরআন মজীদে বিষয়টি এইভাবে উল্লিখিত হইয়াছে:
وَوَصَّى بِهَا إِبْرَاهِيمُ بَنِيْهِ وَيَعْقُوبُ . يُبَنِى إِنَّ اللهَ اصْطَفَى لَكُمُ الدِّينَ فَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُّسْلِمُونَ . "এবং ইবরাহীম ও ইয়াকূব এই সম্বন্ধে তাহাদের পুত্রগণকে নির্দেশ দিয়া বলিয়াছিল, হে পুত্রগণ! আল্লাহই তোমাদের জন্য এই দীনকে মনোনীত করিয়াছেন। অতএব তোমরা আমৃত্য মুসলমান থাকিবে। ইয়াকুবের নিকট যখন মৃত্যু আসিল তখন তোমরা কি উপস্থিত ছিলে? সে যখন তাহার পুত্রগণকে জিজ্ঞাসা করিল, আমার পরে তোমরা কিসের ইবাদত করিবে, তখন তাহারা বলিল, আমরা আপনার ইলাহ্-এর এবং আপনার পিতৃপুরুষ ইবরাহীম, ইসমাঈল ও ইসহাকের ইলাহ্-এর ইবাদত করিব। তিনিই একমাত্র ইলাহ এবং আমরা তাঁহার নিকট আত্মসমর্পণকারী" (২ : ১৩২-৩)।
রাসূলুল্লাহ (স) যখন মদীনা ও তৎপার্শ্ববর্তী এলাকাসমূহে "আল্লাহ্ এক এবং তাঁহার কোনও শরীক নাই", এই দাওয়াত দিতেছিলেন এবং বলিতেছিলেন, ইহাই ইবরাহীম (আ)-এর একনিষ্ঠ ধর্ম (দীনে হানীফ), তখন ইয়াহুদী ও খৃস্টানরা দাবি করিল যে, তাহারাই তো ইবরাহীম (আ)-এর ধর্মের অনুসারী। শুধু তাহাই নহে, ইয়াহুদী-খৃস্টানরা তো মুসলমানদেরকে নূতন ধর্ম ত্যাগ করিয়া তাহাদের নিজ নিজ ধর্মের অনুসরণ করিতে বলিতে লাগিল এবং ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব (আ) ও তাঁহার বংশধরগণ ইয়াহুদী-খৃস্টান ছিল বলিয়া দাবি করে। মহান আল্লাহ্ ভাষায় :
أَمْ تَقُولُونَ إِنَّ ابْرَاهِيمَ وَاسْمَعِيلَ وَاسْحَقَ وَيَعْقُوبَ وَالأَسْبَاطَ كَانُوا هُودًا أو نَصْرَى قُلْ أَنْتُمْ أَعْلَمُ أَمِ اللَّهُ. "তোমরা কি বল, ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকূব ও তাহার বংশধরগণ ইয়াহুদী কিংবা খৃস্টান ছিল? তুমি বল, তোমরা কি বেশি জান, না আল্লাহ” (২ : ১৪০)?
পূর্বোক্ত আয়াত নাযিল পূর্বক ইয়াহুদী-খৃস্টানদের উপরিউক্ত দাবি প্রত্যাখ্যান করিয়া আসল সত্য তুলিয়া ধরা হইয়াছে। আয়াতে প্রদত্ত প্রশ্নাকারে প্রতিবাদের তাৎপর্য অনুধাবন করার জন্য দুইটি বিষয় বিবেচনায় রাখিতে হইবে। (এক) ইয়াহুদী ও খৃস্টান ধর্মের বর্তমান যে কাঠামো তাহা পরবর্তী কালের সৃষ্টি। ইয়াহুদী ধর্মের নামকরণ, উহার ধর্মীয় বিশেষত্ব, অনুষ্ঠানমালা ও নিয়ম-কানুন খৃস্টপূর্ব ৩য়-৪র্থ শতাব্দীতে রূপ লাভ করিয়াছে। অনুরূপভাবে যেসব ধারণা-বিশ্বাস ও বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদির সমষ্টিকে খৃষ্টবাদ বলা হয় তাহা হযরত ঈসা (আ)-এর বহু পরবর্তী কালে উদ্ভাবিত হইয়াছে। সুতরাং ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তাঁহার বংশধরের ইয়াহুদী বা খৃস্টান হওয়ার দাবি অসার কল্পনামাত্র। (দুই) স্বয়ং ইয়াহুদী-খৃস্টানদের নিজস্ব ধর্মীয় গ্রন্থাবলী হইতেও এই কথা প্রমাণিত হইয়াছে যে, হযরত ইবরাহীম (আ)-সহ উক্ত নবীগণ এক আল্লাহ ব্যতীত অপর কিছুর ইবাদত, উপাসনা, আনুগত্যে বিশ্বাসী ছিলেন না এবং আল্লাহ তা'আলার সাথে কাহাকেও অংশীদার করিতেন না। অতএব এই কথা সুস্পষ্ট যে, ইয়াহুদীবাদ ও খৃস্টবাদ উভয়ই পূর্বোক্ত নবীগণের আচরিত চিরসত্য পথ হইতে বিচ্যুত হইয়া গিয়াছে (তাফহীমুল কুরআন, সূরা বাকারার ১৩৫ নং আয়াতের ১৩৫ নং টীকা)।
বাইবেলে হযরত ইয়াকূব (আ)-এর মৃত্যকালীন অবস্থা বিস্তারিতভাবে বর্ণিত থাকিলেও তাহাতে কুরআন মজীদে উক্ত এই মূল্যবান অন্তিম উপদেশের কোনও উল্লেখ নাই। অবশ্য ইয়াহুদীদের তালমূদ গ্রন্থে যে দীর্ঘ উপদেশমালা বর্ণিত আছে, কুরআনের উপদেশের সহিত উহার যথেষ্ট সামঞ্জস্য রহিয়াছে। তাহাতে হযরত ইয়াকূব (আ)-এর এই কথাগুলি পাওয়া যায়ঃ "তোমরা সদাপ্রভু আল্লাহ্ ইবাদত করিতে থাকিবে। তিনি তোমাদেরকে সকল বিপদ হইতে রক্ষা করিবেন, যেমন করিয়াছেন তোমাদের পূর্বপুরুষদেরকে। নিজ সন্তানদেরকে সদাপ্রভুকে ভালোবাসিতে এবং তাঁহার নির্দেশ মান্য করিয়া চলিতে শিক্ষা দিবে, যাহাতে তাহাদের জীবনের অবকাশ দীর্ঘতর হয়। কেননা যাহারা সত্যের সহিত সকল কাজ সম্পন্ন করে এবং সত্যের পথে ঠিকভাবে চলে, আল্লাহ তাহাদের রক্ষণাবেক্ষণ করেন”। উত্তরে সেই সন্তানগণ বলিল, "আপনি যেই উপদেশ দিলেন তাহা আমরা মান্য করিব, আল্লাহ আমাদের সহায় হউন।" তখন ইয়াকূব (আ) বলিলেন, "তোমরা যদি সদাপ্রভুর সহজ সরল পথ হইতে ডানে-বায়ে ভ্রষ্ট হইয়া না যাও, তবে আল্লাহ নিশ্চয়ই তোমাদের সহায় হইবেন" (তাফহীমুল কুরআন, ২ঃ ১৩৩ আয়াতের ১৩৩ নং টীকা)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00