📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 মুক্তির উপায় ঈমান ও নেক আমল

📄 মুক্তির উপায় ঈমান ও নেক আমল


মুক্তির উপায় ঈমান ও নেক আমল
কুরআন মজীদে আল্লাহর গযবে যে কয়েকটি সম্প্রদায়ের ধ্বংস হওয়ার কথা উল্লেখ আছে, তাহাতে লক্ষ্য করা যায় যে, আল্লাহ তা'আলা তথাকার নেক বান্দাদেরকে তাঁহার বিশেষ ব্যবস্থায় গযব নাযিলের পূর্ব মুহূর্তে উদ্ধার করিয়া লইয়াছেন। অতএব মুক্তির একমাত্র উপায় হইতেছে ঈমান ও তদনুযায়ী আমল, কোন ব্যক্তিবিশেষের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক নহে। হযরত লূত (আ)-এর স্ত্রী এবং হযরত নূহ (আ)-এর স্ত্রী ও এক পুত্রের ঈমান না থাকার কারণে নবীর সহিত আত্মীয়তা সম্পর্ক সত্ত্বেও তাহারা শাস্তি হইতে রক্ষা করিতে পারে নাই, বরং অন্যান্য পাপীদের সহিত তাহারাও ধ্বংস হইয়া গিয়াছে।

ضَرَبَ اللَّهُ مَثَلًا لِّلَّذِينَ كَفَرُوا امْرَأَتَ نُوحٍ وَامْرَأَتَ لُوطٍ كَانَتَا تَحْتَ عَبْدَيْنِ مِنْ عِبَادِنَا صَالِحَيْنِ فَخَانَتْهُمَا فَلَمْ يُغْنِيَا عَنْهُمَا مِنَ اللَّهِ شَيْئًا وَقِيلَ ادْخُلَا النَّارَ مَعَ الدَّاخِلِينَ. "আল্লাহ কাফেরদের জন্য নূহের স্ত্রী ও লূতের স্ত্রীর দৃষ্টান্ত দিতেছেন। উহারা ছিল আমার বান্দাদের মধ্যে দুই সৎকর্মপরায়ণ বান্দার অধীন। কিন্তু উহারা তাহাদের সহিত বিশ্বাসঘাতকতা করিয়াছিল। ফলে নূহ ও লূত উহাদেরকে আল্লাহ্ শাস্তি হইতে রক্ষা করিতে পারিল না এবং উহাদেরকে বলা হইল, তোমরা উভয়ে প্রবেশকারীদের সহিত জাহান্নামে প্রবেশ কর" (৬৬:১০)।

হযরত নূহ (আ)-এর নাফরমান পুত্র যখন ঝঞ্ঝা বিক্ষুব্ধ মহা প্লাবনে ডুবিয়া যাইতেছিল তখন তিনি বলিলেন:
رَبِّ إِنَّ ابْنِي مِنْ أَهْلِي . "হে আমার প্রতিপালক! আমার পুত্র আমার পরিবারভুক্ত" (১১:৪৫)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 দীনের দাওয়াত দানকারীদের জন্য শিক্ষণীয়

📄 দীনের দাওয়াত দানকারীদের জন্য শিক্ষণীয়


মহান আল্লাহ তাঁহার মহান নবীর আবেদনের উত্তরে বলিলেন :
يَنُوحُ إِنَّهُ لَيْسَ مِنْ أَهْلِكَ إِنَّهُ عَمَلٌ غَيْرُ صَالِحٍ فَلَا تَسْتَلْنِ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ "হে নূহ! সে তো তোমার পরিবারভুক্ত নহে। সে অবশ্যই অসৎকর্মপরায়ণ। সুতরাং যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নাই সেই বিষয়ে তুমি আমাকে অনুরোধ করিও না" (১১:৪৬)।

উপরিউক্ত ঘটনাত্রয় হইতে প্রতিভাত হয় যে, আল্লাহ্ প্রিয় বান্দাদের সহিত আত্মীয়তার সম্পর্ক কিংবা রক্তের বন্ধন কাহাকেও অপকর্মের পরিণতি হইতে রক্ষা করিতে পারে না। আল্লাহ্র অবাধ্য যেই ব্যক্তিই হউক তাহার ঠিকানা জাহান্নাম।

দীনের দাওয়াত দানকারীদের জন্য শিক্ষণীয়
হযরত লূত (আ)-এর জীবনে আল্লাহর দীনের দা'ওয়াত দানকারীর জন্য অনেক শিক্ষণীয় বিষয় রহিয়াছে।

(১) তিনি তাঁহার জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাঁহার মহান পথপ্রদর্শক হযরত ইবরাহীম (আ)-এর আনুগত্য করিয়াছেন সুখে-সম্পদে, বিপদে-আপদে সর্বাবস্থায়। যুবক বয়সে জন্মভূমি ত্যাগ করিয়া এবং পিতৃব্যের আহ্বানে সাড়া দিয়া তাঁহার প্রতি ঈমান আনিয়া তিনি এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করিয়াছেন।

২. ধৈর্যের সহিত দীর্ঘ বিশটি বৎসর ধরিয়া তিনি সাদৃমবাসীদের মধ্যে আল্লাহ্র দীনের প্রচার করিলেন। এই দীর্ঘ সময়ে সাদৃমবাসীরা তাঁহার আহ্বানে সাড়া না দেওয়া সত্ত্বেও তিনি দা'ওয়াতী কাজ অব্যাহত রাখেন এবং নৈরাশ্য তাঁহাকে স্পর্শ করিতে পারে নাই।

৩. তিনি মহাসত্যকে মানুষের সামনে পেশ করার সঙ্গে সঙ্গে সমাজে প্রচলিত পাপাচার ও অন্যায়-অত্যাচারের কঠোর ও তীব্র সমালোচনা করেন এবং অপরাধীদেরকে তাহা পরিহার করিয়া সচ্চরিত্রতা, সততা ও আল্লাহভীতি অবলম্বনের দা'ওয়াত দেন।

৪. আল্লাহ্ উপর ভরসা রাখিয়া দা'ওয়াতী কাজের সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় পার্থিব উপায়-উপকরণও ব্যবহার করিতে হইবে।

৫. প্রতিকূল অবস্থায়ও পরোপকারে তৎপর থাকিতে হইবে। হযরত লূত (আ) তাঁহার ও তাঁহার পরিবারবর্গের জীবন বিপন্ন করিয়াও আগন্তুকগণের নিরাপত্তার চেষ্টা করিয়াছিলেন।

৬. দা'ওয়াত দানকারীর দা'ওয়াত কেহ কবুল না করিলেও তিনি তাহার প্রচেষ্টার পূর্ণ প্রতিদান লাভ করিবেন এবং দা'ওয়াত দানের দায়িত্ব পালনকারীরূপে গণ্য হইবেন।

৭. হাজারও বাধা-বিপত্তির মধ্যে আল্লাহ তা'আলা তাঁহার মুক্তির পথ বাহির করিয়া দেন। হযরত লূত (আ)-এর দুইটি উক্তির তাৎপর্য
মানববেশে তিন ফেরেশতার আগমনে হযরত লূত (আ)-এর বাড়িতে যে এক কঠিন পরিস্থিতির সৃষ্টি হইয়াছিল তাহাতে তিনি একান্তই নিরূপায় হইয়া সাদৃমীদিগকে (লক্ষ্য) করিয়া বলিয়াছিলেন :

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হযরত লূত (আ)-এর দুইটি উক্তির তাৎপর্য

📄 হযরত লূত (আ)-এর দুইটি উক্তির তাৎপর্য


হযরত লূত (আ)-এর দুইটি উক্তির তাৎপর্য
মানববেশে তিন ফেরেশতার আগমনে হযরত লূত (আ)-এর বাড়িতে যে এক কঠিন পরিস্থিতির সৃষ্টি হইয়াছিল তাহাতে তিনি একান্তই নিরূপায় হইয়া সাদৃমীদিগকে (লক্ষ্য) করিয়া বলিয়াছিলেন :
يُقَوْمٍ هُؤُلَاءِ بَنَاتِي هُنَّ أَطْهَرُ لَكُمْ . “হে আমার সম্প্রদায়! ইহারা আমার কন্যা, তোমাদের জন্য ইহারা পবিত্র" (১১ঃ ৭৮)।
هُؤُلَاء بَنَاتِي إِنْ كُنْتُمْ فَعَلَيْنَ "একান্তই তোমরা যদি কিছু করিতে চাহ তবে আমার এই কন্যাগণ রহিয়াছে” (১৫ঃ ৭১)।

হযরত লূত (আ)-এর এই কথার তাৎপর্য নির্ধারণে তাফসীরকার ও মুহাদ্দিছগণের মধ্যে তিনটি মত লক্ষ্য করা যায়। (১) ইমাম কুরতুবীর মতে, হযরত লূত (আ) এখানে তাঁহার ঔসরজাত কন্যাদেরকে বুঝাইয়াছেন। অর্থাৎ তাঁহার কথার তাৎপর্য হইল:
أَزَوِّجُكُمُوهُنَّ فَهُوَ أَطْهَرُ لَكُمْ مِمَّا تُرِيدُونَ . هُنَّ أَطْهَرُ لَكُمْ أَنْ أَحَلَّ . "আমি ইহাদেরকে তোমাদের সহিত বিবাহ দেই, তোমরা যাহা ইচ্ছা করিয়াছ তাহা তোমাদের জন্য হালাল হইবে” (আহকামুল কুরআন, ৯খ, পৃ. ৭৬)। তাবিঈগণের মধ্যে হযরত কাতাদা (র)-এর মতে উক্ত আয়াতে লূত (আ)-এর কন্যাগণকে বুঝানো হইয়াছে (তাফসীরে কবীর, ১৭খ, পৃ. ১৩২)। আল্লামা যামাখশারীও অনুরূপ মত ব্যক্ত করিয়াছেন (কাশশাফ, ২খ, পৃ. ২৮৩, বৈরূত সং)। হাসান ইবনুল ফাদল ও যাজ্জাজের মতও তাই, তবে তাহাদের মতে ইসলাম গ্রহণের শর্তে তিনি তাহাদের সহিত কন্যাগণের বিবাহ দিতে চাহিয়াছিলেন (রূহুল মাআনী, ১২খ, পৃ. ১০৬, বৈরূত সং)। কতক তাফসীরকারের মতে, তৎকালে কাফের ও মুসলমানদের মধ্যে আন্ত-বিবাহ জায়েয ছিল এবং পরে তাহা নিষিদ্ধ হয়। যেমন রাসূলুল্লাহ (স) নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বে তাঁহার কন্যা যয়নব (রা)-কে আবুল 'আস ইবনুর রবীর সহিত এবং কন্যা রুকায়্যা (রা)-কে আবু লাহাবের পুত্র উতবার সহিত বিবাহ দিয়াছিলেন, অথচ দুই জামাতাই তখন পৌত্তলিক ছিল (রূহুল মাআনী, ১২খ, পৃ. ১০৬; কুরতুবী, ৯খ, পৃ. ৭৬; কাশশাফ, ২খ, পৃ. ২৮৩)। কতক তাফসীরকারের মতে, হযরত লূত (আ) কর্তৃক তাঁহার নিজ কন্যাদেরকে প্রদান সম্পর্কিত কথার ভিন্নতর তাৎপর্য আছে। যেমন কোন ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে উৎপীড়িত হইতে দেখিয়া উৎপীড়ককে বলিল, তাহাকে নির্যাতন করিও না, বরং তাহার পরিবর্তে আমাকে মার। বক্তার কথাটির তাৎপর্য এই নহে যে, নির্যাতিতকে ছাড়িয়া তাহাকেই নির্যাতন করা হউক, বরং ইহার অর্থ হইল, নির্যাতন করা হইতে নির্যাতককে বিরত করা। হযরত লূত (আ)-এর কথার তাৎপর্যও ইহাই। ইমাম রাযী, ইসফাহানী, আবুস সুউদ প্রমুখ তাফসীরকার এবং আবদুল ওয়াহ্হাব নাজ্জার এই মতকে অগ্রাধিকার দিয়াছেন (কাসাসুল কুরআন, বাংলা অনু., ১খ, পৃ. ২৬৫)।

অধিকাংশ তাফসীরকারের মতে, হযরত লূত (আ) "ইহারা আমার কন্যা" কথাটি দ্বারা তাঁহার উম্মতের নারীদেরকে বুঝাইয়াছেন। কারণ নবীগণ স্ব স্ব উম্মতের জন্য পিতৃতুল্য। অর্থাৎ তিনি সাদৃমীদেরকে বলিয়াছিলেন, তোমাদের কামপ্রবৃত্তি চরিতার্থ করার জন্য নারিগণই তো আছে। অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সমকামিতা পরিহার কর। তাবিঈগণের মধ্যে মুজাহিদ ও সাঈদ ইবন জুবায়র (র) এই মত ব্যক্ত করিয়াছেন (তাফসীরে কুরতুবী, ৯খ, পৃ. ৭৬; তাফসীরে কবীর, ১৭খ, পৃ. ৩২; তাফসীরে তাবারী, ১৫খ, পৃ. ৪১৩-৪ ইত্যাদি)। ইব্‌ন আব্বাস (রা) হইতেও অনুরূপ মত ব্যক্ত হইয়াছে (তাফসীরে ইবন আব্বাস, পৃ. ১৮৯ ও ২১৯)।

উপরন্তু ১৫: ৫০-৬০; ২৬ঃ ১৬৯-১৭২; ২৭:৫৭, ২৯ ৩২-৩৩ এবং ৩৭: ১৩৪-১৩৬ আয়াতসমূহ হইতে স্পষ্টভাবে জানা যায় যে, লূত (আ)-এর স্ত্রী ব্যতীত তাঁহার পরিবারের লোকজনই কেবল আল্লাহ্র গযব হইতে রক্ষা পায়। অতএব সর্বোতভাবে প্রমাণিত হয় যে, ঐ জনপদে লূত-পরিবারের সদস্যগণ ব্যতীত আর কোন মুমিন লোক ছিল না। ১১৪ ৭৮ ও ১৫: ৭১ আয়াতে বলা হইয়াছে : هؤلاء بناتی )আমার এই কন্যাগণ), ইহার দ্বারা লুত (আ)-এর সম্প্রদায়ের কন্যাগণকে বুঝানো হইয়াছে।

লূত (আ)-এর প্রতি নির্দেশ ছিল যে, তিনি যেন তাঁহার পরিজনসহ রাত্রিকালে সাদৃম ত্যাগ করেন, পথিমধ্যে তাহাদের কেহ যেন পশ্চাতে ফিরিয়া না তাকায় এবং তাহাদেরকে যেই এলাকায় সরিয়া যাইতে নির্দেশ প্রদান করা হইয়াছে, তাহারা যেন সেথায় চলিয়া যান, কারণ প্রত্যূষেই সাদৃমবাসীকে সমূলে ধ্বংস করা হইবে (১১: ৮১; ১৫: ৬৫)। নির্দেশ মোতাবেক লূত (আ) রাত্রির অন্ধকারে সপরিবারে বসতি ত্যাগ করিয়া নিরাপদ স্থানে রওয়ানা হইলেন। পথিমধ্যে তাঁহার স্ত্রী পশ্চাতে ফিরিয়া তাকাইলে শূন্য হইতে নিক্ষিপ্ত পাথরের আঘাতে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় (বিদায়া, ১খ, পৃ. ১৮২; আরাইস, পৃ. ১১৩)। বাইবেলে বলা হইয়াছে যে, সে পশ্চাতে তাকাইলে একটি লবণস্তম্ভে রূপান্তরিত হইয়া যায় (আদিপুস্তক, ১৯: ২৬)। তাঁহারা নিরাপদ এলাকায় সরিয়া যাওয়ার পর ভোরবেলা সূর্য উদিত হইলে আল্লাহ্র অমোঘ নির্দেশ বাস্তবায়িত হইল (বিদায়া, ১খ, পৃ. ১৮১-৮২; আল-কামিল, ১খ, পৃ. ৯৩; আরাইস, পৃ. ১১৩; আদিপুস্তক, ১৯: ২৪)। হযরত জিবরাঈল (আ), মতান্তরে হযরত মীকাঈল (আ) তাঁহার দুইটি ডানা মাটির গর্ভে প্রবিষ্ট করাইয়াসিাদৃমবাসীর সমগ্র এলাকা শূন্যে তুলিয়া ফেলিলেন। তখন মোরগ ও কুকুরের মত প্রাণীরা গগণবিদারী আর্তনাদে চীৎকার করিয়া উঠিল, শূন্য হইতে প্রস্তর বর্ষিত হইল এবং স্টোটা এলাকাকে উল্টাইয়া শূন্য হইতে সজোরে নিক্ষেপ করা হল্পল। এভাবে মুহূর্তের মধ্যে একটি জনবসতি পৃথিবীর বুক স্ত্রইতে নিশ্চিহ্ন হইয়া গেল। চতুষ্পদ জন্তু হইতেও নিকৃষ্ট মানবরূপী পিশাচগুলির সঙ্গে নিষ্পাপ প্রাণীগুলিও ধ্বংস হইল (বিদয়া, ১খ, পৃ. ১৮২; আল-কামিল, ১খ, পৃ. ৯৩; আরাইস, পৃ. ১১৩; বাইবেলের আদিপুস্তক, ১৯: ২৪-২৫)। চল্লিশ লক্ষ (মতান্তরে চার হাজার ও চার শত) জনবসতি সম্বলিত পাঁচটি এলাকা (বিদায়ায় সাতটি) সাদৃম, সাবআ, আমুরা (বাইবেলে ঘমোরা), দূমা, সাউত ইত্যাদি চিরকালের জন্য মানবজাতির শিক্ষা গ্রহণের বিষয়ে পরিণত হইল (পূর্বোক্ত বরাত)। কুরআন মজীদের বিভিন্ন সূরায় এই গযব নাযিলের বিভিষীকাময় দৃশ্য এভাবে তুলিয়া ধরা হইয়াছে :

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হযরত লূত (আ)-এর ইনতিকাল

📄 হযরত লূত (আ)-এর ইনতিকাল


লূত (আ)-এর শেষ জীবন সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানা যায় না। তাঁহার সম্প্রদায়ের ধ্বংসের পর হয়তো তিনি আর দীর্ঘকাল জীবিত ছিলেন না। কারণ তিনি বেশি দিন জীবিত থাকিলে পুনরায় তাঁহার নবুওয়াতী দায়িত্ব পালন সম্পর্কিত অতিরিক্ত কিছু তথ্য অন্তত বাইবেল, কুরআন মজীদ ও ইতিহাসের গ্রন্থাবলীতে বিদ্যমান থাকিত। এই সকল উৎসই এই ব্যাপারে নীরব। বাইবেল ভিত্তিক বর্ণনা হইতে এতখানি জানা যায় যে, তিনি গযব নাযিলের পূর্বে সপরিবারে প্রথমে সোয়ার (Zoar) নামক শহরে গিয়া আশ্রয় গ্রহণ করেন, যাহা লূত সাগরের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত ছিল। অতঃপর তিনি অজ্ঞাত এক পর্বতের গুহায় দুই কন্যাসহ আশ্রয় গ্রহণ করেন (Ency. Brit., vol. 14, P. 401; Collier's Ency., vol. 15, P. 20)। তিনি এখানেই ইনতিকাল করেন কি না তাহা অজ্ঞাত এবং তাঁহার জীবনকাল সম্পর্কিত তথ্যও এখানেই শেষ। ইসলামী উৎসে বলা হইয়াছে যে, গযব নাযিলের পূর্বে তিনি সিরিয়া অভিমুখে প্রস্থান করেন (আল-কামিল, ১খ, পৃ. ৯৩; বিদায়া, ১খ, পৃ. ১৮১)।
লূত (আ) ছিলেন এমন একজন নবী যিনি নিজ সম্প্রদায়ের নিকট প্রেরিত না হইয়া, তাঁহার সহিত সম্পর্কহীন ভিন্ন সম্প্রদায়ের নিকট প্রেরিত হইয়াছিলেন। তাঁহার পর হইতে যে কোন জাতির নিকট সেই জাতিভুক্ত কোন মহান ব্যক্তিকে নবীরূপে প্রেরণ করা হইয়াছে। মহান আল্লাহ বলেন: وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ رَسُولٍ إِلَّا بِلِسَانِ قَوْمِهِ لِيُبَيِّنَ لَهُمْ . "আমি প্রত্যেক রাসূলকেই তাহার স্বজাতির ভাষাভাষী করিয়া পাঠাইয়াছি তাহাদের নিকট পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করিবার জন্য" (১৪:৪)।
মহানবী (স) বলেন: فَمَا بَعَثَ اللَّهُ بَعْدَهُ مِنْ نَبِي إِلَّا فِي ثَرْوَةٍ مِّنْ قَوْمِهِ . "আল্লাহ তা'আলা লুত (আ)-এর পর হইতে যে কোন জাতির নিকট তাহাদের মধ্যকার প্রভাবশালী বংশ হইতেই নবী প্রেরণ করিয়াছেন” (আল-মুসতাদরাক, ২খ, পৃ. ৫৬১)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00