📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বৈবাহিক জীবন

📄 বৈবাহিক জীবন


আবদুল ওয়াহ্হাব আন-নাজ্জার তাঁহার গ্রন্থে লিখিয়াছেন যে, ইবরাহীম (আ)-এর সঙ্গে দেশান্তর গমনে লূত (আ)-এর সহিত লূত-পত্নীও ছিল (কাসাসুল আম্বিয়া, পৃ. ৮৩)। তবে অধিকাংশ নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে এই সময় তাঁহার সহিত লূত-পত্নী ছিল না, তবে তিনি তখন বিবাহিত ছিলেন কি না তাহা স্পষ্ট নহে। কুরআন মজীদে লূত (আ), তাঁহার জাতি ও তাঁহার স্ত্রীর সহিত সংশ্লিষ্ট বর্ণনা হইতে অনুমিত হয় যে, তিনি সাদূমে পৌছিয়া তথাকার এক নারীকে বিবাহ করিয়াছিলেন। তাহার বংশপরিচয় সম্পর্কে ইসলামী উৎস ও বাইবেল নীরব। তাহাদের সহিত তাঁহার বৈবাহিক সম্পর্ক থাকার কারণে হয়তো এই জাতিকে কওমে লূত বলা হইয়াছে। লূত (আ)-এর স্ত্রী যদি দেশত্যাগের দীর্ঘ সফরে তাঁহাদের সহিত থাকিত, তবে মিসরে ইবরাহীম (আ)-এর স্ত্রী সারার বেলায় যাহা ঘটিয়াছিল, তাহার বেলায়ও অনুরূপ না ঘটিবার কোন কারণ ছিল না। অতএব এই ঘটনা হইতে অনুমিত হয় যে, লূত (আ) তখন বিবাহিত ছিলেন না। তবে নাজ্জারের কাসাস গ্রন্থে যে হাদীছ উক্ত হইয়াছে (পৃ. ৮৪) তাহা তাঁহার বিবাহিত হওয়ার ইঙ্গিত বহন করে।
লূত (আ) বৈবাহিক জীবনে সুখী ছিলেন বলিয়া মনে হয় না। কারণ তাঁহার স্ত্রী তাঁহার উপর ঈমান আনে নাই; সে তাহার জ্ঞাতি সাদৃমদের মত মুশরিক ছিল। লূত (আ)-এর বাড়িতে সুদর্শন যুবকের বেশে ফেরেশতাগণ আগমন করিলে তাঁহার স্ত্রীই তাহার লম্পট জাতিকে সেই খবর জানাইয়া দিয়াছিল। তাই তাঁহার স্ত্রীও সাদূমবাসীদের উপর পতিত গযবে ধ্বংস হয় (তাফসীরে তাবারী, ১২ খ, পৃ. ৫৫)। তাহার অবাধ্যচারিতা, বিশ্বাসঘাতকতা ও উহার পরিণতি সম্পর্কে কুরআন মজীদে বলা হইয়াছে :
ضَرَبَ اللَّهُ مَثَلًا لَّلَّذِينَ كَفَرُوا امْرَأَتَ نُوحٍ وَامْرَأَتَ لُوطٍ كَانَتَا تَحْتَ عَبْدَيْنِ مِنْ عِبَادِنَا صَالِحَيْنِ فَخَانَتْهُمَا فَلَمْ يُغْنِيَا عَنْهُمَا مِنَ اللَّهِ شَيْئًا وَقِيلَ ادْخُلَا النَّارَ مَعَ الدَّاخِلِينَ. "আল্লাহ কাফেরদের জন্য নূহের স্ত্রী ও লূতের স্ত্রীর দৃষ্টান্ত দিতেছেন। উহারা ছিল আমার বান্দাদের মধ্যে দুই সৎকর্মপরায়ণ বান্দার অধীন। কিন্তু উহারা তাহাদের সহিত বিশ্বাসঘাতকতা করিয়াছিল। ফলে নূহ ও লূত উহাদেরকে আল্লাহ্ শাস্তি হইতে রক্ষা করিতে পারিল না এবং উহাদেরকে বলা হইল, তোমরা উভয়ে প্রবেশকারীদের সহিত দোযখে প্রবেশ কর" (৬৬:১০)।
ইব্‌ন কাছীর (র) লূত (আ)-এর স্ত্রীর নাম ওয়ালিহা (والهة) এবং ছা'লাবী ওয়াইলা (واعلة) উল্লেখ করিয়াছেন (বিদায়া, ২খ, পৃ. ১৮১; আরাইস, পৃ. ১১৩; সংক্ষিপ্ত ই.বি.-তে 'হালসাকা' উক্ত হইয়াছে, ১ম সং, ২খ, পৃ. ৪০৭)। উপরিউক্ত আয়াতে "উহারা তাহাদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করিয়াছিল" কথার তাৎপর্য এই যে, তাহারা উভয়ে দু'জন মহান নবীর স্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও তাঁহাদের দীন গ্রহণ করে নাই, বরং কুফরের উপর থাকিয়া তাঁহাদের সহিত বিশ্বাসঘাতকতা করিয়াছিল। বিশ্বাসঘাতকতা অর্থ এই নহে যে, তাহারা ব্যভিচারেও লিপ্ত হইয়াছিল। কখনও নহে। কারণ আল্লাহ তা'আলা কোন নবীর স্ত্রীর সহিত ব্যভিচার করিবার ক্ষমতা রুদ্ধ করিয়া দিয়াছেন। যেমন ইব্‌ন আব্বাস (রা)-সহ পূর্বকালের ও পরবর্তী কালের মুফাসসির ও ঐতিহাসিকগণ বলেন, কোনও নবীর স্ত্রী কখনও ব্যভিচারে লিপ্ত হয় নাই (তাফসীর ইব্‌ন আব্বাস, পৃ. ৪৭৮; বিদায়া, ১খ, পৃ. ১৮২)। উপমহাদেশীয় আলমগণের তাফসীর গ্রন্থাবলীতেও ইব্‌ন আব্বাস (রা)-র মত গৃহীত হইয়াছে। ইব্‌ন আব্বাস (রা) আরও বলেন, দুই নবীর স্ত্রীদ্বয় প্রকাশ্যে ঈমান আনিয়াছিল, কিন্তু বাস্তবে ছিল মুনাফিক (পৃ. স্থা.)।
ইসলামী উৎসসমূহে হযরত লূত (আ)-এর তিন কন্যা, মতান্তরে দুই কন্যা সন্তানের উল্লেখ পাওয়া যায়, জ্যেষ্ঠার নাম রীছা এবং কনিষ্ঠার নাম রাবিয়া (সংক্ষিপ্ত ই.বি., ১ম সং., ২খ, পৃ. ৪০৭), মতান্তরে যা'ওয়ারা'আ ও যীতাআ (কুরতুবী, ৯খ, পৃ. ৭৬; রূহুল মাআনী, ১২খ, পৃ. ১০৬; তাবারীতে জ্যেষ্ঠার নাম রীছা)। তাঁহারাও পিতার দীনের অনুসারী নেককার মহিলা ছিলেন এবং পিতার সহিত আল্লাহর গযবের স্থান ত্যাগ করিয়া নিরাপদ স্থানে চলিয়া যান। তাঁহাদের একজন ছিলেন হযরত শু'আয়ব (আ)-এর পিতামহী এবং অপরজন ছিলেন হযরত আয়্যব (আ)-এর মাতা (ইব্‌ন কুতায়বা, আল-মাআরিফ, পৃ. ৪১-৪২-এর বরাতে ই.বি., ২৩খ, পৃ. ৩৭৪)। বাইবেলে বলা হইয়াছে যে, হযরত লূত (আ)-এর সহিত সাদূম ত্যাগকারিনী তাঁহার দুই কন্যা ছিলেন অবিবাহিতা (আদিপুস্তক, ১৯: ৮)। বাইবেলে আরো উক্ত হইয়াছে যে, মহান আল্লাহ হযরত লূত (আ)-কে নির্দেশ দিলেন, "তোমার জামাতা ও পুত্র-কন্যা যতজনই এই নগরে আছে, সে সকলকে এই স্থান হইতে লইয়া যাও” (আদিপুস্তক, ১৯ : ১২)। "তখন দূত বাহিরে গিয়া, যাহারা তাঁহার কন্যাদিগকে বিবাহ করিয়াছিল, আপনার সেই জামাতাদিগকে কহিলেন, উঠ, এ স্থান হইতে বাহির হও, কেননা সদাপ্রভু এই নগর উচ্ছন্ন করিবেন" (আদিপুস্তক, ১৯ : ১৪)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 কাওমে লূত-এর পরিচয়

📄 কাওমে লূত-এর পরিচয়


লূত (আ)-এর সম্প্রদায় নৃতাত্ত্বিক বিবেচনায় তাঁহার স্বগোত্রীয় ছিল না, বরং যে জাতির হেদায়াতের জন্য আল্লাহ তাঁহাকে নবীরূপে প্রেরণ করিয়াছিলেন তাহাদেরকে লূত সম্প্রদায় (১১ : ৭০, ৭৪; ২২ : ৪০; ২৬ : ১৬০; ৩৮ : ১৩ এবং ৫৪ : ৩৩), লূতের ভ্রাতৃবৃন্দ (৫০ : ১৩); তাঁহার জাতি (৬ : ৮০; ৭ : ৮০; ১১:৭৮; ২৭ : ৫৪, ৫৬ এবং ২৯ : ২৮, ২৯) এবং তাহাদের ভ্রাতা (২৬ : ১৬১) বলিয়া কুরআন মজীদে সম্বোধন করা হইয়াছে। একটি আয়াতে এই সম্প্রদায়কে "আল-মু'তাফিকা' (উল্টানো জনপদবাসী, ৫৩ : ৫৩) বলা হইয়াছে তাহাদেরকে প্রদত্ত শাস্তির প্রকৃতি অনুযায়ী। এই জাতির আবাস ছিল সাদৃম, 'আমূদ, আরূম, সা'উর ও সাবুর। এইগুলির মধ্যে সাদৃমই ছিল তাহাদের সর্ববৃহৎ শহর। আল্লাহ্র গযবে ধ্বংসের সময় এসব শহরের মোট জনবসতি ছিল আনুমানিক চল্লিশ লক্ষ (আল-মুসতাদরাক, ২খ, পৃ. ৫৬২; বিদায়া, ১খ. পৃ. ১৮২; আল-কামিল, ১খ, পৃ. ৯৩)। আল-কামিলে পাঁচটি শহরের নাম নিম্নরূপ: সাদূম, সাব্‌'আ, আমুরা, দূমা ও সা'উত (পৃ. স্থা.)। আল-বিদায়া গ্রন্থে তাহাদের জনবসতির সংখ্যা সাতটি বলা হইয়াছে (পৃ. স্থা.)। কোন কোন ঐতিহাসিকের মতে বর্তমান মৃত সাগর তাহাদের ধ্বংসাবশেষে সৃষ্ট। তৎপূর্বে এখানে কোন সমুদ্র ছিল না, তাই ইহার অপর নাম মৃতসাগর (নাজ্জারের কাসাসুল আম্বিয়া, পৃ. ১১৩)। এই জাতি ছিল চরম উচ্ছৃঙ্খল এবং পাপাচারী, যাহার কারণে তাহাদেরকে সমূলে ধ্বংস করা হইয়াছে (বিস্তারিত দ্র. লূত জাতির পাপাচার অনুচ্ছেদে)। সংক্ষিপ্ত ই.বি.-তে এলাকাগুলির নাম উল্লিখিত হইয়াছে সাদূম, আমোরা, আদমাহ, সেবাইম ও সো'আর-রূপে। ছা'লাবীর মতে সো'আর নগরী ধ্বংসের হাত হইতে রক্ষা পায়। কারণ উহার অধিবাসিগণ হযরত লূত (আ)-এর প্রতি ঈমান আনিয়াছিল (১ম সং, ২খ, পৃ. ৪০৭)। বাইবেলের মতে হযরত লূত (আ) তাঁহার পরিবারবর্গসহ প্রথমে এই শহরে আশ্রয় গ্রহণ করেন (আদিপুস্তক, ১৯ : ২০-২২)। ওয়াকিদী জনবসতিগুলি নিম্নোক্তভাবে উল্লেখ করিয়াছেন : সাদূম, আমূরা, আদমৃতা, সা'উরা ও সাবুরা (মুরূজ, ১খ, পৃ. ৫৭)।
লূত সম্প্রদায়ের পাপাচার ও তাহাদের মর্মান্তিক পরিণতি
এই সম্প্রদায় ছিল জঘন্য পাপাচারী। কুরআন মজীদে তাহাদের অন্যান্য পাপাচারের মধ্যে সর্বাধিক জঘন্য পাপকর্ম উল্লিখিত হইয়াছে তাহাদের সমকামিতা (লাওয়াতাত)। আল্লামা ইব্‌ন কাছীর (র) বলেন, তাহারা এমন একটি নিকৃষ্ট পাপকর্মের প্রচলন করে যাহা ইতোপূর্বে কোন আদম-সন্তান অথবা অন্য কোন জীব করে নাই। তাহা হইল নারীদের ত্যাগ করিয়া পুরুষে-পুরুষে তাহাদের কামতৃপ্তি লাভ করা। সাদৃমবাসীদের পূর্বে কোন মানব সন্তানের তাহাতে লিপ্ত হওয়া তো দূরের কথা, সে ইহার চিন্তাও করে নাই। দামিশক জামে মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা উমায়্যা খলীফা ওয়ালীদ ইব্‌ন আবদুল মালিক বলেন, আল্লাহ তা'আলা যদি আমাদেরকে লূত জাতির এই কুকর্মের কথা অবহিত না করিতেন তাহা হইলে আমরা চিন্তাও করিতে পারিতাম না যে, যৌন সম্ভোগের জন্য নারী ছাড়া পুরুষকেও ব্যবহার করা যায় (তাফসীরে ইব্‌ন কাছীর, ২খ, পৃ. ৩৪)। কুরআন মজীদে উল্লেখযোগ্য সংখ্যকবার তাহাদের নৈতিক অবক্ষয় ও লূত (আ)-এর উপদেশ সম্পর্কে আলোচনা আসিয়াছে। ১১ : ৭৮ আয়াতে বলা হইয়াছে যে, তাহারা নানারকম পাপাচারে লিপ্ত থাকিত। ১৫ : ৫৮ আয়াতে তাহাদেরকে অপরাধী সম্প্রদায়, ২১ : ৭৪ আয়াতে অশ্লীল কার্যকলাপে লিপ্ত সম্প্রদায়, ২২ : ৪৩ আয়াতে রাসূলগণকে প্রত্যাখ্যানকারী সম্প্রদায়, ২৬ : ১৬০ আয়াতে রাসূলগণকে প্রত্যাখ্যানকারী ও সমকামিতায় লিপ্ত সম্প্রদায়, ২৭ : ৫৪-৫৫ আয়াতে অশ্লীল কর্মে ও সমকামিতায় লিপ্ত সম্প্রদায়, ২৯ : ২৮-২৯ আয়াতে অশ্লীল কর্মে, সমকামিতায়, রাহাজানিতে ও প্রকাশ্য মজলিসে ঘৃণ্যকর্মে লিপ্ত সম্প্রদায় এবং ৩৮ : ১২-১৪ ও ২৯:৩১ আয়াতে যালেম সম্প্রদায় এবং ৫০ : ১২-১৪ ও ৫৪:৩৩ আয়াতে রাসূলগণকে প্রত্যাখ্যানকারী সম্প্রদায় হিসাবে উল্লেখ করা হইয়াছে।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 লূত সম্প্রদায়ের পাপাচার ও তাহাদের মর্মান্তিক পরিণতি

📄 লূত সম্প্রদায়ের পাপাচার ও তাহাদের মর্মান্তিক পরিণতি


এই সম্প্রদায় ছিল জঘন্য পাপাচারী। কুরআন মজীদে তাহাদের অন্যান্য পাপাচারের মধ্যে সর্বাধিক জঘন্য পাপকর্ম উল্লিখিত হইয়াছে তাহাদের সমকামিতা (লাওয়াতাত)। আল্লামা ইব্‌ন কাছীর (র) বলেন, তাহারা এমন একটি নিকৃষ্ট পাপকর্মের প্রচলন করে যাহা ইতোপূর্বে কোন আদম-সন্তান অথবা অন্য কোন জীব করে নাই। তাহা হইল নারীদের ত্যাগ করিয়া পুরুষে-পুরুষে তাহাদের কামতৃপ্তি লাভ করা। সাদৃমবাসীদের পূর্বে কোন মানব সন্তানের তাহাতে লিপ্ত হওয়া তো দূরের কথা, সে ইহার চিন্তাও করে নাই। দামিশক জামে মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা উমায়্যা খলীফা ওয়ালীদ ইব্‌ন আবদুল মালিক বলেন, আল্লাহ তা'আলা যদি আমাদেরকে লূত জাতির এই কুকর্মের কথা অবহিত না করিতেন তাহা হইলে আমরা চিন্তাও করিতে পারিতাম না যে, যৌন সম্ভোগের জন্য নারী ছাড়া পুরুষকেও ব্যবহার করা যায় (তাফসীরে ইব্‌ন কাছীর, ২খ, পৃ. ৩৪)। কুরআন মজীদে উল্লেখযোগ্য সংখ্যকবার তাহাদের নৈতিক অবক্ষয় ও লূত (আ)-এর উপদেশ সম্পর্কে আলোচনা আসিয়াছে। ১১ : ৭৮ আয়াতে বলা হইয়াছে যে, তাহারা নানারকম পাপাচারে লিপ্ত থাকিত। ১৫ : ৫৮ আয়াতে তাহাদেরকে অপরাধী সম্প্রদায়, ২১ : ৭৪ আয়াতে অশ্লীল কার্যকলাপে লিপ্ত সম্প্রদায়, ২২ : ৪৩ আয়াতে রাসূলগণকে প্রত্যাখ্যানকারী সম্প্রদায়, ২৬ : ১৬০ আয়াতে রাসূলগণকে প্রত্যাখ্যানকারী ও সমকামিতায় লিপ্ত সম্প্রদায়, ২৭ : ৫৪-৫৫ আয়াতে অশ্লীল কর্মে ও সমকামিতায় লিপ্ত সম্প্রদায়, ২৯ : ২৮-২৯ আয়াতে অশ্লীল কর্মে, সমকামিতায়, রাহাজানিতে ও প্রকাশ্য মজলিসে ঘৃণ্যকর্মে লিপ্ত সম্প্রদায় এবং ৩৮ : ১২-১৪ ও ২৯:৩১ আয়াতে যালেম সম্প্রদায় এবং ৫০ : ১২-১৪ ও ৫৪:৩৩ আয়াতে রাসূলগণকে প্রত্যাখ্যানকারী সম্প্রদায় হিসাবে উল্লেখ করা হইয়াছে। এই বহুবিধ গর্হিত অপরাধসমূহের মধ্যে প্রধানত মহান নবীর আহ্বানে সাড়া দিয়া সমকামিতা ত্যাগ না করার পরিণতিতেই এই জাতি আল্লাহর গযবে ধ্বংস হইয়াছিল। হাকেম নীশাপুরী (র) তাহাদের মধ্যে এই ঘৃণ্য পাপাচার কিভাবে সংক্রমিত হইয়াছিল তাহার একটি বর্ণনা দিয়াছেন। ইব্‌ন আব্বাস (রা) বলেন, যে বিষয়টি তাহাদেরকে নারীদের ত্যাগ করিয়া পুরুষদের সহিত কুকর্ম করিতে প্ররোচিত করিয়াছিল তাহা এই যে, তাহাদের আবাসিক এলাকায় এবং আবাসিক এলাকার বাহিরেও পথিপার্শ্বে তাহাদের ফলের বাগান ছিল। তাহারা দুর্ভিক্ষের শিকার হইলে তাহারা পরস্পর বলিল, তোমরা পথিপার্শ্বের বাগানসমূহের ফল পথিক-মুসাফিরদেরকে খাইতে নিষেধ করিলে তাহা দ্বারা তোমাদের জীবিকার ব্যবস্থা হইয়া যাইত। তাহারা বলিল, আমরা তাহাদেরকে কিভাবে নিষেধ করিব? তাহারা পরস্পরের মুখামুখী হইয়া বলিল, ঐ বাগানের ব্যাপারে তোমরা এই নীতি অবলম্বন কর যে, তোমাদের অপরিচিত কোন বিদেশী তোমাদের জনবসতিতে আসিলে তোমরা তাহার মালপত্র লুণ্ঠন করিয়া নিজ দখলে নাও এবং তাহার সহিত কুকর্ম কর। ইহা করিলে লোকেরা আর তোমাদের এলাকা দিয়া যাতায়াত করিবে না। (তাহাতে তোমাদের পথিপার্শ্বের বাগানের ফল রক্ষা পাইবে)। অতঃপর নিকটস্থ পাহাড় হইতে সুদর্শন ও সুশ্রী যুবকের বেশে শয়তান পথিকরূপে তাহাদের নিকট আবির্ভূত হইল। তাহারা তাহাকে দেখিবামাত্র তাহার দিকে ধাবিত হইয়া তাহার সহিত কুকর্ম করিল এবং তাহার সর্বস্ব লুণ্ঠন করিয়া লইয়া গেল। অতঃপর সে চলিয়া গেল। ইহার পর হইতে কোন আগন্তুকের আবির্ভাব হইলেই তাহারা তাহার সহিত উক্তরূপ কদর্য আচরণ করিত এবং ইহা তাহাদের অভ্যাসে পরিণত হইয় গেল। অবশেষে আল্লাহ তা'আলা তাহাদের নিকট লূত (আ)-কে প্রেরণ করিলেন। তিনি তাহাদেরকে এই কদর্য অপকর্ম হইতে বিরত থাকিতে বলিলেন, তাহাদেরকে শাস্তির ভয় দেখাইলেন এবং তাহাদেরকে ইহা পরিহারের অনুরোধ করিলেন। তিনি বলিলেন, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা এমন কুকর্ম করিতেছ যাহা তোমাদের পূর্বে বিশ্ববাসীর কেহ করে নাই।... অতঃপর তিনি ইব্‌ন আব্বাস (রা) হইতে হাদীছের অবশিষ্ট অংশ বর্ণনা করেন (আল-মুসতাদরাক, ২খ, পৃ. ৫৬২)।
ইবরাহীম (আ)-এর শরীআতে আগন্তুক মেহমানের আপ্যায়নের সুব্যবস্থা করা ফরয ছিল (প্রাগুক্ত)। এই ফরয আদায় না করিয়া তাহারা আগন্তুকের সর্বস্ব লুণ্ঠন করিয়া লওয়ার পর তাহার সহিত জোরপূর্বক কুকর্ম করিত এবং ইহার পরিণতিতে ঈমানের অন্যতম ভূষণ “লজ্জাশীলতা" তাহাদের চক্ষু ও চরিত্র হইতে বিদায় গ্রহণ করিল। সমকামিতার পাশাপাশি তাহারা রাহাজানি ও লুটতরাজে মাতিয়া থাকিত। তাহারা অভিনব পদ্ধতিতে ব্যবসায়ীর পণ্য লুণ্ঠন করিত। কোন ব্যবসায়ী তাহাদের এলাকায় পৌঁছিলে তাহার পণ্য হইতে তাহাদের প্রত্যেকে একটু একটু করিয়া লইয়া যাইত। এইভাবে তাহার সর্বস্ব লুণ্ঠিত হইলে কোন ব্যক্তি আসিয়া বলিত, আমি তোমার এই যৎকিঞ্চিৎ মাল নিয়াছি, এই তাহা ফেরত দিলাম। বণিক বলিত, আমার সর্বস্ব লুণ্ঠিত হইয়া গিয়াছে, আমি এই সামান্য জিনিস ফেরত লইয়া কি করিব? তুমি ইহা লইয়া যাও। অতঃপর সে উহা লইয়া চলিয়া যাওয়ার পর আরেকজন আসিয়া একই কথা বলিত। এইভাবে বণিক তাহার মূলধন হারাইয়া রিক্তহস্ত হইয়া যাইত (নাজ্জারের কাসাসুল আম্বিয়া, পৃ. ১১২)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 শাস্তির ফেরেশতার আগমন

📄 শাস্তির ফেরেশতার আগমন


শাস্তির ফেরেশতার আগমন
প্রথমে হযরত ইবরাহীম (আ) ও পরে হযরত লূত (আ)-এর নিকট আগত মানবরূপী ফেরেশতাগণের সহিত লূত সম্প্রদায়ের আচরণেও তাহাদের কদর্য পাপাচারের চিত্র ফুটিয়া উঠে। শাস্তির ভয়াবহ বার্তাসহ ফেরেশতা আগমনের বিষয় কুরআন মজীদের চার স্থানে উল্লিখিত হইয়াছে:
وَ لَقَدْ جَاءَتْ رُسُلُنَا إِبْرَاهِيمَ بِالْبُشْرَى قَالُوا سَلْمًا قَالَ سَلْمٌ فَمَا لَبِثَ أَنْ جَاءَ بِعِجْلٍ حَنِيدٍ ، فَلَمَّا رَأَى أَيْدِيَهُمْ لَا تَصِلُ إِلَيْهِ نَكِرَهُمْ وَأَوْجَسَ مِنْهُمْ خِيفَةً ، قَالُوا لَا تَخَفْ إِنَّا أُرْسِلْنَا إِلَى قَوْمِ لُوطٍ ... فَلَمَّا ذَهَبَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ الرَّوْعُ وَجَاءَتْهُ الْبُشْرَى يُجَادِلُونَ فِي قَوْمِ لُوطٍ . إِنَّ إِبْرَاهِيمَ لَعَلِيمٌ أَوَّاهُ مُنِيبٌ ، يَا إِبْرَاهِيمُ أَعْرِضْ عَنْ هَذَا إِنَّهُ قَدْ جَاءَ أَمْرُ رَبِّكَ وَإِنَّهُمْ آتِيهِمْ عَذَابٌ غَيْرُ مَرْدُودٍ. وَلَمَّا جَاءَتْ رُسُلُنَا لُوطًا سِيءَ بِهِمْ وَضَاقَ بِهِمْ ذَرْعًا وَقَالَ هَذَا يَوْمٌ عَصِيبٌ ، وَجَاءَهُ قَوْمُهُ يُهْرَعُونَ إِلَيْهِ وَمِنْ قَبْلُ كَانُوا يَعْمَلُونَ السَّيِّئَاتِ قَالَ يُقَوْمٍ هُؤُلَاءِ بَنَاتِي هُنَّ أَطْهَرُ لَكُمْ فَاتَّقُوا اللَّهَ وَلَا تُخْزُونِ فِي ضَيْفِى أَلَيْسَ مِنْكُمْ رَجُلٌ رَشِيدٌ . قَالُوا لَقَدْ عَلِمْتَ مَا لَنَا فِي بَنْتِكَ مِنْ حَقِّ وَإِنَّكَ لَتَعْلَمُ مَا نُرِيدُ. قَالَ لَوْ أَنَّ لِي بِكُمْ قُوَّةً أَوْ آوِى إِلَى رُكْنٍ شَدِيدٍ. قَالُوا يُلُوطُ إِنَّا رُسُلُ رَبِّكَ لَنْ يُصِلُّوا إِلَيْكَ فَأَسْرِ بِأَهْلِكَ بِقِطْعٍ مِنَ الَّيْلِ وَلَا يَلْتَفِتْ مِنْكُمْ أَحَدٌ إِلَّا امْرَأَتَكَ إِنَّهُ مُصِيبُهَا مَا أَصَابَهُمْ إِنَّ مَوْعِدَهُمُ الصُّبْحُ أَلَيْسَ الصُّبْحُ بِقَرِيبٍ.

"আমার ফেরেশতাগণ তো সুসংবাদ লইয়া ইবরাহীমের নিকট আসিল। তাহারা বলিল, সালাম। সেও বলিল, সালাম। সে অবিলম্বে কাবাবকৃত এক গো-বৎস লইয়া আসিল। সে যখন দেখিল, তাহাদের হস্ত উহার দিকে প্রসারিত হইতেছে না, তখন তাহাদেরকে অবাঞ্ছিত মনে করিল এবং তাহাদের সম্বন্ধে তাহার মনে ভীতির সঞ্চার হইল। তাহারা বলিল, ভয় করিও না, আমরা তো লূতের সম্প্রদায়ের প্রতি প্রেরিত হইয়াছি।... অতঃপর যখন ইবরাহীমের ভীতি দূরীভূত হইল এবং তাহার নিকট সুসংবাদ আসিল তখন সে লূতের সম্প্রদায় সম্পর্কে আমার সহিত বাদানুবাদ করিতে লাগিল। ইবরাহীম তো অবশ্যই সহনশীল, কোমল হৃদয়, সতত আল্লাহ অভিমুখী। হে ইবরাহীম। ইহা হইতে বিরত হও; তোমার প্রতিপালকের বিধান আসিয়া পড়িয়াছে; তাঁহাদের প্রতি আসিবে এমন শাস্তি যাহা অনিবার্য। আর যখন আমার প্রেরিত ফেরেশতাগণ লূতের নিকট আসিল, তখন তাহাদের আগমনে সে বিষণ্ণ হইল এবং নিজকে তাহাদের রক্ষায় অসমর্থ মনে করিল এবং বলিল, ইহা নিদারুণ দিন। তাহার সম্প্রদায় তাহার নিকট উদ্ভ্রান্ত হইয়া ছুটিয়া আসিল এবং পূর্ব হইতে তাহারা কুকর্মে লিপ্ত ছিল। সে বলিল, হে আমার সম্প্রদায়! ইহারা আমার কন্যা, তোমাদের জন্য ইহারা পবিত্র। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার মেহমানদের ব্যাপারে আমাকে হেয় করিও না। তোমাদের মধ্যে কি কোন ভাল মানুষ নাই? তাহারা বলিল, তুমি তো জান, তোমার কন্যাদেরকে আমাদের কোন প্রয়োজন নাই, আমরা কি চাই তাহা তো তুমি জানই। সে বলিল, তোমাদের উপর যদি আমার শক্তি থাকিত অথবা যদি আমি কোন সুদৃঢ় স্তম্ভের আশ্রয় লইতে পারিতাম! তাহারা বলিল, হে লূত! নিশ্চয় আমরা তোমার প্রতিপালকের প্রেরিত ফেরেশতা। উহারা কখনও তোমার নিকট পৌঁছিতে পারিবে না। সুতরাং তুমি রাত্রির কোন এক সময় তোমার স্ত্রী ব্যতীত তোমার পরিজনসহ বাহির হইয়া পড় এবং তোমাদের মধ্যে কেহ যেন পিছন দিকে না তাকায়। উহাদের যাহা ঘটিবে তাহারও তাহাই ঘটিবে। নিশ্চয় প্রভাত উহাদের জন্য নির্ধারিত কাল। প্রভাত কি নিকটবর্তী নহে” (১১ : ৬৯-৮১)?

وَنَبِّئْهُمْ عَنْ ضَيْفِ ابْرَاهِيمَ . إِذْ دَخَلُوا عَلَيْهِ فَقَالُوا سَلْمًا . قَالَ إِنَّا مِنْكُمْ وَجِلُونَ . قَالُوا لَا تَوْجَلْ إِنَّا نُبَشِّرُكَ بِغُلَمٍ عَلِيمٍ. ... قَالَ فَمَا خَطِبُكُمْ أَيُّهَا الْمُرْسَلُونَ. قَالُوا إِنَّا أُرْسِلْنَا إِلَى قَوْمٍ مُجْرِمِينَ إِلَّا أَلَ لُوطٍ إِنَّا لَمُنَجُوهُمْ أَجْمَعِينَ . إِلَّا امْرَأَتَهُ قَدَّرْنَا إِنَّهَا لَمِنَ الْغَبِرِينَ . فَلَمَّا جَاءَ أَلَ لُوطُ الْمُرْسَلُونَ. قَالَ إِنَّكُمْ قَوْمٌ مُنْكَرُونَ قَالُوا بَلْ جِئْتُكَ بِمَا كَانُوا فِيْهِ يَمْتَرُونَ، وَأَتَيْنُكَ بِالْحَقِّ وَإِنَّا لَصُدِقُونَ، فَأَسْرِ بِأَهْلِكَ بِقِطْعِ مِّنَ الَّيْلِ وَاتَّبِعْ أَدْبَارَهُمْ وَلَا يَلْتَفِتْ مِنْكُمْ أَحَدٌ وَامْضُوا حَيْثُ تُؤْمَرُوْنَ، وَقَضَيْنَا إِلَيْهِ ذَلِكَ الْأَمْرَ أَنَّ دَابِرَ هُؤُلَاءِ مقطوع مُصْبِحِيْنَ . وَجَاءَ أَهْلُ الْمَدِينَةِ يَسْتَبْشِرُونَ . قَالَ إِنَّ هَؤُلَاءِ ضَيْفِي فَلَا تَفْضَحُونِ، وَاتَّقُوا اللَّهَ وَلَا تُخْزُونِ. قَالُوا أَوَلَمْ نَنْهَكَ عَنِ الْعَلَمِينَ . قَالَ هُؤُلَاءِ بَنْتِى إِنْ كُنْتُمْ فَعِلِينَ لَعَمْرُكَ إِنَّهُمْ لَفِي سَكْرَتِهِمْ يعمهون .

"আর তাহাদেরকে অবহিত কর ইবরাহীমের মেহমানদের কথা। যখন তাহারা তাহার নিকট উপস্থিত হইয়া বলিল, সালাম, তখন সে বলিয়াছিল, আমরা তোমাদের আগমনে আতঙ্কিত। তাহারা বলিল, ভয় করিও না, আমরা তোমাকে এক জ্ঞানী পুত্রের সুসংবাদ দিতেছি...। সে বলিল, হে ফেরেশতাগণ! তোমাদের আর বিশেষ কি কাজ আছে? তাহারা বলিল, আমাদেরকে এক অপরাধী সম্প্রদায়ের প্রতি প্রেরণ করা হইয়াছে। তবে দূতের পরিবারের বিরুদ্ধে নহে। আমরা তাহার স্ত্রী ব্যতীত তাহাদের সকলকে রক্ষা করিব। আমরা স্থির করিয়াছি যে, সে অবশ্যই পশ্চাতে অবস্থানকারীদের অন্তর্ভুক্ত। ফেরেশতাগণ যখন লূত পরিবারের নিকট আসিল, তখন লূত বলিল, তোমরা তো অপরিচিত লোক। তাহারা বলিল, না, উহারা যে বিষয়ে সন্ধিগ্ধ ছিল আমরা তোমার নিকট তাহাই লইয়া আসিয়াছি। আমরা তোমার নিকট সত্য সংবাদ লইয়া আসিয়াছি এবং অবশ্যই আমরা সত্যবাদী। সুতরাং তুমি রাত্রির কোন এক সময়ে তোমাব পরিবারবর্গসহ বাহির হইয়া পড় এবং তুমি তাহাদের পশ্চাদনুসরণ কর এবং তোমাদের মধ্যে কেহ যেন পশ্চাত দিকে না তাকায়। তোমাদেরকে যেথায় যাইতে বলা হইয়াছে তোমরা তথায় চলিয়া যাও। আমি তাহাকে এই বিষয়ে ফয়সালা জানাইয়া দিলাম যে, প্রত্যুষে উহাদেরকে সমূলে বিনাশ করা হইবে। নগরবাসীরা উল্লসিত হইয়া উপস্থিত হইল। সে বলিল, ইহারা আমার মেহমান, অতএব তোমরা আমাকে বেইজ্জত করিও না। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমাকে হেয় করিও না। উহারা বলিল, আমরা কি দুনিয়া সুদ্ধ লোককে আশ্রয় দিতে তোমাকে নিষেধ করি নাই? লূত বলিল, একান্তই যদি তোমরা কিছু করিতে চাহ তবে আমার এই কন্যাগণ রহিয়াছে। তোমার জীবনের শপথ! উহারা তো মত্ততায় বিমূঢ় হইয়া আছে" (১৫: ৫১-৭২)।

وَلَمَّا جَاءَتْ رُسُلُنَا إِبْرَاهِيمَ بِالْبُشْرَى قَالُوا إِنَّا مُهْلِكُوا أَهْلِ هذه القَرْيَةِ إِنَّ أَهْلَهَا كَانُوا ظُلِمِينَ . قَالَ إِنَّ فِيهَا لُوْطًا قَالُوا نَحْنُ أَعْلَمُ بِمَنْ فِيْهَا لَنُنَجِّيَنَّهُ وَأَهْلَهُ إِلَّا امْرَأَتَهُ كَانَتْ مِنَ الغَبِرِينَ، وَلَمَّا أَنْ جَاءَتْ رُسُلُنَا لُوطًا سِيءَ بِهِمْ وَضَاقَ بِهِمْ ذَرْعًا وَقَالُوا لَا تَخَفْ وَلَا تَحْزَنْ إِنَّا مُنَجُوكَ وَأَهْلَكَ إِلَّا امْرَأَتَكَ كَانَتْ مِنَ الْعَبِرِينَ إِنَّا مُنْزِلُونَ عَلَى أَهْلِ هَذِهِ الْقَرْيَةِ رِجْرًا مِّنَ السَّمَاءِ بِمَا كَانُوا يَفْسُقُونَ .

"যখন আমার প্রেরিত ফেরেশতাগণ সুসংবাদসহ ইবরাহীমের নিকট আসিল, তখন তাহারা বলিয়াছিল, আমরা এই জনপদবাসীকে ধ্বংস করিব। ইহার অধিবাসীরা তো যালেম। ইবরাহীম বলিল, এই জনপদে তো লূত রহিয়াছে। উহারা বলিল, সেখানে কাহারা আছে তাহা আমরা ভাল জানি। আমরা তো লূতকে ও তাহার পরিজনবর্গকে রক্ষা করিবই, তাহার স্ত্রীকে ব্যতীত, সে তো পশ্চাতে অবস্থানকারীদের অন্তর্ভুক্ত। আর যখন আমার প্রেরিত ফেরেশতাগণ লূতের নিকট আসিল, তখন তাহাদের জন্য সে বিষণ্ণ হইয়া পড়িল এবং নিজেকে তাহাদের রক্ষায় অসমর্থ মনে করিল। তাহারা বলিল, ভয় করিও না, দুঃখও করিও না, আমরা তোমাকে ও তোমার পরিবারবর্গকে রক্ষা করিব, তোমার স্ত্রী ব্যতীত, সে তো পশ্চাতে অবস্থানকারীদের অন্তর্ভুক্ত। আমরা এই জনপদবাসীদের উপর আকাশ হইতে শাস্তি নাযিল করিব, কারণ উহারা পাপাচার করিতেছিল" (২৯: ৩১-৩৪)।

هَلْ أَنَّكَ حَدِيثُ ضَيْفِ إِبْرَاهِيمَ الْمُكْرَمِينَ * إِذْ دَخَلُوا عَلَيْهِ فَقَالُوا سَلْمًا ، قَالَ سَلَّمٌ قَوْمٌ مُنْكَرُونَ . فَرَاغَ إِلَى أَهْلِهِ فَجَاءَ بِعِجْلٍ سَمِيْنِ * فَقَرَّبَهُ إِلَيْهِمْ قَالَ أَلَا تَأْكُلُونَ . فَأَوْجَسَ مِنْهُمْ خِيفَةً قَالُوا لَا تَخَفْ . وَبَشِّرُوهُ بِغُلْمٍ عَلِيمٍ *

"তোমার নিকট ইবরাহীমের সম্মানিত অতিথিদিগের বৃত্তান্ত আসিয়াছে কি? যখন উহারা তাহার নিকট উপস্থিত হইয়া বলিল, 'সালাম'। উত্তরে সে বলিল, 'সালাম'। তাহার মনে হইল, ইহারা তো অপরিচিত লোক। অতঃপর ইবরাহীম তাহাদিগকে কিছু না বলিয়া তাহার স্ত্রীর নিকট গেল এবং একটি মাংসল গো-বৎস ভাজা লইয়া আসিল ও তাহাদের সামনে রাখিল এবং পরে বলিল, 'তোমরা খাইতেছ না কেন'? ইহাতে উহাদিগের সম্পর্কে তাহার মনে ভীতির সঞ্চার হইল। উহারা বলিল, 'ভীত হইও না'। অতঃপর উহারা তাহাকে এক গুণী পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দিল...। ইবরাহীম বলিল, হে ফেরেশতাগণ! তোমাদের বিশেষ কাজ কি? তাহারা বলিল, আমাদেরকে এক অপরাধী সম্প্রদায়ের প্রতি প্রেরণ করা হইয়াছে- উহাদের উপর মাটির শক্ত ঢেলা নিক্ষেপ করার জন্য। সেইগুলি তোমার প্রতিপালকের নিকট হইতে সীমালংঘনকারীদের জন্য চিহ্নিত" (৫১: ২৪-২৮)।

উল্লিখিত আয়াতসমূহে লক্ষ্য করা যায় যে, ফেরেশতাগণ একটি ব্যক্তিগত সুসংবাদ ও একটি জাতিগত দুঃসংবাদসহ প্রথমে হযরত ইবরাহীম (আ)-এর নিকট আগমন করেন। তাঁহারা তাঁহাকে একজন জ্ঞানবান পুত্রসন্তান লাভের সুসংবাদ প্রদানের পর লূত সম্প্রদায়ের ধ্বংসের দুঃসংবাদ সম্পর্কে অবহিত করেন। তিন সদস্যবিশিষ্ট ফেরেশতাগণের এই দলটির প্রধান ছিলেন হযরত জিবরাঈল (আ) এবং অপর দুইজন ছিলেন হযরত মীকাঈল ও হযরত ইসরাফীল (আ)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00