📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 জন্ম ও বংশ পরিচয়

📄 জন্ম ও বংশ পরিচয়


হযরত লূত (আ) কুরআন মজীদে উল্লিখিত ২৫ জন মহান নবীর অন্তর্ভুক্ত এবং ৬ : ৮৩-৮৬ আয়াতে যে ১৮ জন নবীর নাম উক্ত হইয়াছে, তিনি তাঁহাদেরও অন্তর্ভুক্ত। তিনি আনু. ২১২০ খৃ. পূ. অব্দে (আম্বিয়ায়ে কুরআন, ১খ, পৃ. ৩৭৭) তাঁহার পিতৃপুরুষের জন্মভূমি ফাদ্দান আরাম-এ জন্মগ্রহণ করেন (আরাইস, পৃ. ৭৯)। তিনি হযরত ইবরাহীম (আ)-এর সহোদর হারান-এর পুত্র (বিদায়া, ১খ, পৃ. ১৪৯; আরাইস, পৃ. ১০৯; আল-কামিল, ১খ, পৃ. ৭৬; নাজ্জার, পৃ. ৮৩; আল-মুসতাদরাক, ২খ, পৃ. ৫৬১; আদিপুস্তক, ১১ : ২৭)। তাঁহার বংশলতিকা নিম্নরূপ : লূত ইব্‌ন হারান ইব্‌ন আযর (তারিখ অথবা তারিহ) ইব্‌ন নাখুর ইব্‌ন সারূগ ইব্‌ন আবগু ইব্‌ন ফালিগ ইব্‌ন আবির ইব্‌ন শালিখ ইব্‌ন কায়নান ইব্‌ন আরফাখশায ইব্‌ন সাম ইব্‌ন নূহ (আ) (আল-কামিল, ১খ, পৃ. ৭২)। কোনও কোনও সূত্রে হারান-এর পরিবর্তে হারূন ও ফারান এবং নাখুর-এর পরিবর্তে বাখুর উক্ত হইয়াছে (আল-মুসতাদরাক, ২খ, পৃ. ৫৬১; জামহারাতু আনসাবিল আরাব, নির্ঘণ্ট)। হযরত লূত (আ)-এর পিতামহ এবং হযরত ইবরাহীম (আ)-এর পিতা তারিখ বাইবেলে তেরাহ (আদি পুস্তক, ১১ : ৩১) এবং কুরআন মজীদে (৬ : ৭৪) আযার (آزر) নামে উক্ত হইয়াছে। ইবন সা'দ-এর মতে হযরত ইবরাহীম (আ)-এর চতুর্থ স্ত্রী হাজনী (حجونی) অথবা হাজুরা-এর গর্ভজাত সপ্ত সন্তানের মধ্যে ষষ্ঠ সন্তানের নাম ছিল লূত (তাবাকাত, ১খ, পৃ. ৪৮; আল-মুসতাদরাক, ২খ, পৃ. ৫৬১)। উক্ত স্ত্রী হাজুরা (حجورا)-কে ইবরাহীম (আ) সারার মৃত্যুর পর বিবাহ করিয়াছিলেন (আল-মুসতাদরাক, ২খ, পৃ. ৫৬০)। ইনি এবং নবী হযরত লূত (আ) একই ব্যক্তি বলিয়া কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। তাফসীরকারগণ, ঐতিহাসিকগণ, উপরন্তু বাইবেল-ভিত্তিক সাহিত্যে লূত (আ) ইবরাহীম (আ)-এর ভ্রাতুষ্পুত্র বলিয়া উল্লেখ রহিয়াছে।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 দৈহিক গঠন

📄 দৈহিক গঠন


লূত (আ)-এর গাত্রবর্ণ ছিল শুভ্র, মুখমণ্ডলের গড়ন চমৎকার, সরু নাসিকা, কর্ণদ্বয় অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র, হস্ত-পদের অঙ্গুলিসমূহ লম্বা এবং দাঁতগুলি ছিল উজ্জ্বল। তাঁহার হাসিতে তাঁহার গাম্ভীর্যপূর্ণ ও বুদ্ধিদীপ্ত ব্যক্তিত্বের প্রকাশ ঘটিত। তাঁহার জাতি তাঁহাকে নানাভাবে নির্যাতন করিলেও তিনি তাহাদেরকে কষ্ট দেন নাই (আল-মুসতাদরাক, ২খ, পৃ. ৫৬১-৬২)। তাঁহার সরু নাসিকা ও লম্বা আঙ্গুল তাঁহার দীর্ঘদেহী হওয়ার সাক্ষ্য বহন করে। ফলে শৈশব হইতেই তিনি নিঃসন্তান পিতৃব্য হযরত ইবরাহীম (আ)-এর গৃহে লালিত-পালিত হন। তিনি ছিলেন পিতৃব্যের একান্ত স্নেহভাজন। ছা'আলাবী তাঁহার নামের ব্যাখ্যায় বলেন যে, ইবরাহীম (আ) তাঁহাকে আন্তরিকভাবে স্নেহ করিতেন বিধায় তিনি যেন তাঁহার অন্তরের সহিত আঁটিয়া গিয়াছিলেন, জড়াইয়া গিয়াছিলেন। তাই তাঁহার নামকরণ করা হইয়াছে লূত। লাতা, ইয়ালুতু অর্থাৎ সংযুক্ত হওয়া, বিজড়িত হওয়া (আরাইস, পৃ. ১০৯; বিদায়া, ১খ, ১৪৯)। তিনি শৈশবেই পিতৃহারা হইয়াছিলেন। ইবরাহীম (আ) তাঁহার পৌত্তলিক জাতির সহিত বিশ্বাস ও আদর্শগত বিরোধের কারণে তাঁহার জন্মভূমি ফাদ্দান আরাম (فدان ارام) (আরাইস, পৃ. ৭৯) হইতে কালদীয় এলাকার ঊর (اور) নামক শহরে স্থানান্তরিত হইয়াছিলেন (আরাইস, পৃ. ৮৩)। এই শহরটি দক্ষিণ ইরাকে ফুরাত নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত ছিল। বর্তমান তালুল আবীদ উর-এর স্থানেই অবস্থিত। বিশ শতকের গোড়ার দিকে প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্যে এই শহরের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হইয়াছে (ই.বি., ২৩খ, পৃ. ৩৭১)। ই.বি.-তে বলা হইয়াছে যে, তিনি উর-এ জন্মগ্রহণ করেন (পৃ. ৩৭১)। অতঃপর তাঁহারা দুর্ভিক্ষের কারণে (ই.বি., ২৩খ, পৃ. ৩৭১) উক্ত স্থান ত্যাগ করিয়া হারান বা হাররান নামক এলাকায় স্থানান্তরিত হন। এখানে লূত (আ)-এর পিতা হারান তাহার পিতা আযার-এর জীবদ্দশায় ইনতিকাল করেন (আদিপুস্তক, ১১ : ২৮)। স্থানান্তর গমনের এই সকল সফরে হযরত ইবরাহীম (আ)-এর স্ত্রী সারা, পিতা তারিখ (আযার), ভ্রাতা নাহুর, ভ্রাতার স্ত্রী মালিকা এবং ভ্রাতুষ্পুত্র লূত (আ)-ও তাঁহার সঙ্গে ছিলেন (বিদায়া, ১খ, পৃ. ১৫০; আরাইস, পৃ. ১০৯; নাজ্জারের কাসাসুল আম্বিয়া, পৃ. ৮৩; বাইবেলের আদিপুস্তক, ১১ : ৩১-৩২)। ইব্‌ন কাছীরের বর্ণনামতে তিনি বাবিল হইতে হাররানে আসেন (১খ, পৃ. ১৫০)। উর হইতে তিনি পুনরায় স্থানান্তরিত হইয়া পবিত্র ভূমি ফিলিস্তীনে চলিয়া আসেন এবং এই সফরেও তাঁহার স্ত্রী সারা, ভ্রাতুষ্পুত্র লূত এবং দূতের স্ত্রীও তাঁহার সঙ্গে ছিলেন (নাজ্জার, পৃ. ৮৩)। ইবরাহীম (আ)-এর এইভাবে ঘন ঘন স্থানান্তরের কারণ এই যে, উক্ত এলাকাসমূহের জনগোষ্ঠী ও শাসকগোষ্ঠী ছিল পৌত্তলিক বা মুশরিক। তাওহীদের আকীদায় বিশ্বাসীদের সহিত তাহাদের সংঘর্ষ ছিল অনিবার্য। সুতরাং ইবরাহীম ও লূত (আ) নির্যাতনের শিকার হইয়াই বারবার আবাসিক এলাকা পরিবর্তন করিয়াছেন। এই দেশত্যাগ সম্পর্কে কুরআন মজীদে বলা হইয়াছে:
وَنَجَّيْنَاهُ وَلُوطًا إِلَى الْأَرْضِ الَّتِي بَارَكْنَا فِيهَا لِلْعَلَمِينَ . "এবং আমি তাহাকে ও লূতকে উদ্ধার করিয়া লইয়া গেলাম সেই দেশে যেথায় আমি বিশ্ববাসীর জন্য কল্যাণ রাখিয়াছি” (২১ঃ ৭১)।
উবায় ইব্‌ন কাব (রা), আবুল 'আলিয়া, কাতাদা (র) প্রমুখের মতে উক্ত আয়াতে তাহাদের সিরিয়া গমন বুঝানো হইয়াছে এবং ইব্‌ন 'আব্বাস (রা)-র মতে মক্কাকে বুঝানো হইয়াছে (বিদায়া, ১খ, পৃ. ১৫০; তাফসীরে কবীর, ২২খ, পৃ. ১৯০; রূহুল মাআনী, ১৭খ, পৃ. ৭০)। রূহুল মাআনীতে মিসরের কথাও উল্লিখিত হইয়াছে, তবে সিরিয়া সম্পর্কিত মতকে সহীহ বলা হইয়াছে। তাফসীরে কাশশাফে শুধু সিরিয়ার উল্লেখ আছে (২খ, পৃ. ৫৭৮)। পৃথিবীর বুকে ইবরাহীম (আ)-ই সর্বপ্রথম হিজরত করেন এবং তাঁহার স্ত্রীও তাঁহার সঙ্গী হন। লূত (আ)-ও তাঁহার সঙ্গে ছিলেন। হযরত উছমান (রা) সস্ত্রীক হাবশায় হিজরত করিলে মহানবী (স) বলেন:
انَّ عُثْمَانَ أَوَّلُ مُهَاجِرٍ بِأَهْلِهِ بَعْدَ لُوطٍ . "লূত (আ)-এর পর উছমানই সস্ত্রীক সর্বপ্রথম মুহাজির" (নাজ্জারের কাসাসুল আম্বিয়া, পৃ. ৮৪)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 কুরআন ও হাদীছে হযরত লূত (আ)

📄 কুরআন ও হাদীছে হযরত লূত (আ)


কুরআন মজীদের মোট ১৭টি সূরায় সাতাশবার নামোল্লেখসহ হযরত লূত (আ) ও তাঁহার কাওম সম্পর্কে আলোচনা বিদ্যমান: ৬ : ৮৬; ৭ : ৮০-৮৪; ১১ : ৬৯-৮৩; ১৫ : ৫১-৭৭; ২১ : ৫১-৭৫; ২২:৪২-৪৩; ২৫: ৪০; ২৬ : ১৬০-১৭৫; ২৭:৫৪-৫৮; ২৯: ২৬-৩৫; ৩৭: ১৩৩-১৩৮; ৩৮: ১৩; ৫০: ১৩; ৫১: ২৪-৩৭; ৫৩ ৫৩-৫৪; ৫৪ : ৩৩-৩৮ এবং ৬৬:১০।
সূরা আল-আন'আম (৬)-এ ৮৩-৮৬ আয়াতে মোট আঠারজন নবীর নামোল্লেখ করা হইয়াছে, এই ৮৬ নং আয়াতে তিনজন নবীর নাম সহীহ আল-বুখারীর কিতাবুত তাফসীরে, বাব: "উলাইকাল্লাযীনা হাদাল্লাহু ফাবিহুদাহুম ইকতাদিহ্" (৬: ৯০) অনুচ্ছেদেও উক্ত হইয়াছে। সূরা আম্বিয়া (২১)-র ৭১ নং আয়াতে ইবরাহীম (আ)-এর সহিত তাঁহার বরকতময় ভূমিতে হিজরতের কথা ব্যক্ত হইয়াছে। সূরা হজ্জের ৪২-৪৮ আয়াতে কয়েকজন নবীর উম্মতের করুণ পরিণতির উল্লেখপূর্বক মহানবী (স)-কে সান্ত্বনা দিয়া বলা হইয়াছে যে, তাঁহার জাতি তাঁহাকে প্রত্যাখ্যান করিলে তাহাদেরও অনুরূপ পরিণতি হইবে। এই প্রসঙ্গে কওমে দূতেরও উল্লেখ করা হইয়াছে। সূরা 'আনকাবূতের ২৬ নং আয়াতে ইবরাহীম (আ)-এর উপর তাঁহার ঈমান আনার কথা ব্যক্ত হইয়াছে। ৩৮: ১৩ এবং ৫০ : ১৩ আয়াতে লূত (আ)-কে তাঁহার জাতি কর্তৃক প্রত্যাখ্যান করার কথা উক্ত হইয়াছে। ৬৬: ১০ আয়াতে লূত (আ)-এর স্ত্রীর কুফরী এবং পরিণামে তাহার জাহান্নামী হওয়ার কথা বলা ইয়াছে। ৫৩ঃ ৫৩ আয়াতে "আল-মু'তাফিকাহ” (উল্টানো আবাসভূমি) দ্বারা দূত (আ)-এর সম্প্রদায়কে বুঝানো হইয়াছে (তাফসীরে ইবন 'আব্বাস, পৃ. ৪৪৮; তাফসীরে তাবারী, ২৭ খ, পৃ. ৪৭; তাফসীরে কুরতুবী, ২৭খ, পৃ. ১২০; তাফসীরে উছমানী, পৃ. ৭০১, টীকা ৬; তাফহীমুল কুরআন, উক্ত সূরার টীকা ৪৬; মাআরেফুল কোরআন, সংক্ষিপ্ত সং, পৃ. ১৩১১) এবং পরবর্তী (৫৪) আয়াতে তাহাদের সর্বগ্রাসী শাস্তিতে আচ্ছন্ন হওয়ার কথা বলা হইয়াছে। অবশিষ্ট সূরাসমূহে লূত (আ)-এর দাওয়াত, তাঁহার জাতি কর্তৃক তাহা প্রত্যাখ্যান, তাঁহার জাতির অপকর্ম এবং পরিণতিতে তাহাদের করুণভাবে ধ্বংস হওয়ার বিষয় উক্ত হইয়াছে (যাহা নিবন্ধের সংশ্লিষ্ট স্থানসমূহে উল্লেখ করা হইবে)।
সহীহ বুখারীতে হযরত লূত (আ) সম্পর্কে নিম্নোক্ত হাদীছ বিদ্যমানঃ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَغْفِرُ اللهِ لِلُوطُ إِنْ كَانَ لَيَأْوِي إِلى رُكْنِ شَدِيدٍ . "আবূ হুরায়রা (রা) হইতে বর্ণিত। নবী (স) বলেন: "আল্লাহ লূত (আ)-কে ক্ষমা করুন। তিনি একটি মজবুত খুঁটির আশ্রয় লইতে চাহিয়াছিলেন” (বুখারী, কিতাবুল আম্বিয়া, বাব: লাকাদ কানা ফী ইয়ূসুফা...., ভারতীয় সং, ১খ, পৃ. ৪৭৯; ২খ, পৃ. ৬৭৯, তাফসীর সূরা ইয়ূসুফ লাকাদ কানা ফী ইয়ুসুফা...)।
সুনান ইবন মাজায় হাদীছটি বিস্তারিতভাবে বর্ণিত:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَحْنُ أَحَقُّ بِالشَّكْ مِنْ إِبْرَاهِيمَ إِذْ قَالَ رَبِّ أَرِنِي كَيْفَ تُحْيِ الْمَوْتَى قَالَ أَوَلَمْ تُؤْمِنْ قَالَ بَلَى وَلَكِنْ لِيَطْمَئِنَّ قَلْبِي وَيَرْحُمُ اللَّهُ لُوْطًا لَقَدْ كَانَ يَأْوِي إِلى رُكْنِ شَدِيدٍ وَلَوْ لَبِثْتُ فِي السِّجْنِ طُولَ مَا لَبِثَ يُوسُفُ لَأَجَبْتُ الدَّاعِي . "আবূ হুরায়রা (রা) হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন: ইবরাহীম (আ)-এর তুলনায় আমরাই সন্দেহ পোষণের অধিক উপযুক্ত, যখন তিনি বলিলেন, "হে আমার প্রতিপালক! কিভাবে তুমি মৃতকে জীবিত কর (তাহা) আমাকে দেখাও। তিনি বলিলেন, তবে কি তুমি বিশ্বাস কর না? সে বলিল, কেন করিব না, তবে ইহা কেবল আমার অন্তরের প্রশান্তির জন্য" (২: ২৬০)। আল্লাহ লূত (আ)-কে অনুগ্রহ করুন। তিনি এক শক্তিশালী স্তম্ভের আশ্রয় চাহিয়াছিলেন। আমি ইয়ূসুফ (আ)-এর মত তত কাল জেলখানায় বন্দী থাকিলে অবশ্যই আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দিতাম" (কিতাবুল ফিতান, বাবুস সার আলাল বালা, দেওবন্দ সং, পৃ. ২৯১; বৈরূত সং, ২খ, পৃ. ১৩৩৫-৬, নং ৪০২৬)।
ইমাম ইব্‌ন কাছীর (র) তাঁহার ইতিহাস গ্রন্থে (১খ, পৃ. ১৮০) একটি হাদীছ উদ্ধৃত করিয়াছেন যাহা হইতে "শক্তিশালী স্তম্ভ" (রুকন শাদীদ)-এর একটি ব্যাখ্যা পাওয়া যায়:
رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَى لُوطٍ لَقَدْ كَانَ يَأْوِي إِلى رُكْنِ شَدِيدٍ يَعْنِي اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ فَمَا بَعَثَ اللَّهُ بَعْدَهُ مِنْ نَبِيٍّ إِلَّا فِي ثُرْوَةٍ مِّنْ قَوْمِهِ . "লূত (আ)-এর উপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হউক। তিনি একটি সুদৃঢ় স্তম্ভের অর্থাৎ মহামহিম আল্লাহ্ আশ্রয় প্রার্থনা করিয়াছিলেন। আল্লাহ তা'আলা তাঁহার পর হইতে যে কোনও জাতির নিকট তাহাদের মধ্যকার প্রভাবশালী বংশ হইতেই নবী পাঠাইয়াছে”। হাদীছটি আল-মুসতাদরাক গ্রন্থেও সামান্য শাব্দিক পার্থক্যসহ উক্ত হইয়াছে (২খ, পৃ. ৫৬১)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 দাওয়াত ও তাবলীগের বিবরণ

📄 দাওয়াত ও তাবলীগের বিবরণ


হযরত লূত (আ) পিতৃব্য হযরত ইবরাহীম (আ)-এর সহিত বর্তমান ইরাকের বাবিল অর্থাৎ মেসোপটামিয়ার ঊর নামক স্থান হইতে বসতি ত্যাগ করিয়া কিছুকাল যাবত সিরিয়া, ফিলিস্তীন ও মিসর পরিভ্রমণ করিয়া দীনের প্রচারকার্যে অংশগ্রহণ করিতে থাকেন। এইভাবে তিনি নুবুওয়াত লাভের পূর্ব হইতেই দীনের প্রচারকার্যে ব্যাপৃত হন। তিনিই সর্বপ্রথম হযরত ইবরাহীম (আ)-এর উপর ঈমান আনেন (আল-কামিল, ১খ, পৃ. ৭৬; বিদায়া, ১খ, পৃ. ১৪৯)। এই সম্পর্কে কুরআন মজীদে বলা হইয়াছে: فَامَنَ لَهُ لُوْطُ "লূত তাঁহার প্রতি ঈমান আনিল" (২৯: ২৬)। নমরূদের অগ্নিকুণ্ড হইতে ইবরাহীম (আ) মুক্তিলাভ করার পরপরই তিনি তাঁহার প্রতি প্রথম ঈমান আনেন। তিনি হিজরতেও ইবরাহীম (আ)-এর সঙ্গী ছিলেন। উপরিউক্ত আয়াতের পরবর্তী অংশে বলা হইয়াছেঃ
وَقَالَ إِنِّي مُهَاجِرُ إِلى رَبِّي إِنَّهُ هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ "এবং ইবরাহীম বলিল, আমি আমার প্রতিপালকের উদ্দেশে দেশত্যাগ করিতেছি। নিশ্চয় তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়” (২৯: ২৬)।
উক্ত আয়াতে হযরত ইবরাহীম (আ)-এর হিজরতের কথা বলা হইলেও তাঁহার সহিত লূত (আ)-ও ছিলেন। এখানে মুখ্য ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হইয়াছে মাত্র। মতান্তরে ২৯: ২৬ আয়াতের বক্তব্য হযরত লূত (আ)-এর (আল-মুসতাদরাক, ২খ, পৃ. ৫৬২; নাজ্জার, কাসাসুল আম্বিয়া, পৃ. ৮০)। কিন্তু এই মত প্রসঙ্গের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ নহে (মাআরেফুল কোরআন, সৌদী সংস্করণ, পৃ. ১২২৭; তাফসীরে উছমানী, পৃ. ৫০১, টীকা ৯)। এখানে আরও একটি জ্ঞাতব্য বিষয় এই যে, হযরত ইবরাহীম (আ)-এর উপর ঈমান আনার পূর্বে লূত (আ)-এর ধর্মীয় বিশ্বাস কি ছিল? তাঁহার জাতি ছিল মুশরিক। কুরআন মজীদের যত জায়গায় তাঁহার সম্পর্কে আলোচনা আছে, উহার কোথাও বলা হয় নাই যে, তিনিও তাঁহার জাতির মত বিভ্রান্ত ছিলেন। তিনি শিশুকাল হইতে পিতৃব্য হযরত ইবরাহীম (আ)-এর তত্ত্বাবধানে লালিত-পালিত হওয়ায় তাঁহার চিন্তাধারা দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন এই কথা বলা যায়। আল্লাহ তা'আলা যাঁহাদেরকে নুবুওয়াত ও রিসালাতের পদে অভিষিক্ত করিয়াছেন তাঁহাদের জন্মাবধি তাঁহাদেরকে পৌত্তলিকতা (শিক)-সহ সকল প্রকারের পঙ্কিলতা হইতে মুক্ত ও পবিত্র রাখিয়াছেন। অতএব হযরত লূত (আ)-ও যাবতীয় পঙ্কিলতা হইতে মুক্ত ছিলেন। কয়েকজন নবীর নামোল্লেখের পর মহান আল্লাহ বলেন:
وَلَوْ أَشْرَكُوا لَحَبِطَ عَنْهُمْ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ . "তাহারা যদি শির্ক করিত তাহা হইলে তাহাদের কৃতকর্ম নিষ্ফল হইয়া যাইত" (৬:৮৮)। অনন্তর ২১ঃ ৭১ আয়াতে বলা হইয়াছে:
وَنَجَّيْنَاهُ وَلُوطًا إِلَى الْأَرْضِ الَّتِي بَارَكْنَا فِيهَا لِلْعَلَمِينَ . "এবং আমি তাহাকে ও লূতকে উদ্ধার করিয়া সেই দেশে লইয়া গেলাম যেথায় আমি বিশ্ববাসীর জন্য কল্যাণ রাখিয়াছি" (২১ঃ ৭১)।
উবায় ইব্‌ন কাব (রা), আবুল 'আলিয়া, কাতাদা (র) প্রমুখের মতে উক্ত আয়াতে তাহাদের সিরিয়া গমন বুঝানো হইয়াছে এবং ইব্‌ন 'আব্বাস (রা)-র মতে মক্কাকে বুঝানো হইয়াছে (বিদায়া, ১খ, পৃ. ১৫০; তাফসীরে কবীর, ২২খ, পৃ. ১৯০; রূহুল মাআনী, ১৭খ, পৃ. ৭০)। রূহুল মাআনীতে মিসরের কথাও উল্লিখিত হইয়াছে, তবে সিরিয়া সম্পর্কিত মতকে সহীহ বলা হইয়াছে। তাফসীরে কাশশাফে শুধু সিরিয়ার উল্লেখ আছে (২খ, পৃ. ৫৭৮)। পৃথিবীর বুকে ইবরাহীম (আ)-ই সর্বপ্রথম হিজরত করেন এবং তাঁহার স্ত্রীও তাঁহার সঙ্গী হন। লূত (আ)-ও তাঁহার সঙ্গে ছিলেন। হযরত উছমান (রা) সস্ত্রীক হাবশায় হিজরত করিলে মহানবী (স) বলেন:
انَّ عُثْمَانَ أَوَّلُ مُهَاجِرٍ بِأَهْلِهِ بَعْدَ لُوطٍ . "লূত (আ)-এর পর উছমানই সস্ত্রীক সর্বপ্রথম মুহাজির" (নাজ্জারের কাসাসুল আম্বিয়া, পৃ. ৮৪)। ইহাতে প্রমাণিত হয় যে, লূত (আ)-এর স্ত্রীও তাঁহার সঙ্গে ছিলেন। অতঃপর চাচা-ভ্রাতুষ্পুত্র সিরিয়ায় পৌঁছিয়া কিন'আনীদের এলাকা সিক্কীম (নাবলুস)-এ বসবাস করিতে থাকেন (নাজ্জার, পৃ. ৮৪)। এই এলাকায় দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে তাঁহারা মিসর গমন করেন, বিভিন্ন বিপদাপদের পর প্রচুর সম্পদসহ পুনরায় পবিত্র ভূমিতে প্রত্যাবর্তন করেন (বিদায়া, ১খ, পৃ. ১৫২; আরাইস, পৃ. ১০৯; আল-কামিল, ১খ, পৃ. ৯১)। প্রত্যাবর্তনের পথে লূত (আ) পিতৃব্যের সম্মতিক্রমে সাদৃমে বসতি স্থাপন করেন এবং এই ভ্রমণের এক পর্যায়ে নুবুওয়াত লাভ করেন (নাজ্জার, পৃ. ৯০-৯১; আল-কামিল, ১খ, পৃ. ৯১; আরাইস, পৃ. ১০৯; বিদায়া, ১খ, পৃ. ১৫২, ১৭৬; আল-মুসতাদরাক, ২খ, পৃ. ৫৬২)। বাইবেলে বলা হইয়াছে: "আর ইবরাহীমের সহযাত্রী দূতেরও অনেক মেষ ও গো এবং তাম্বু ছিল। আর সেই দেশে একত্র বাস সম্পোষ্য হইল না, কেননা তাঁহাদের প্রচুর সম্পত্তি থাকাতে তাঁহারা একত্র বাস করিতে পারিলেন না। আর ইবরাহীমের পশুপালকদের ও ভূতের পশুপালকদের পরস্পর বিবাদ হইল। ... তাহাতে ইবরাহীম লূতকে কহিলেন, বিনয় করি, তোমাতে ও আমাতে এবং তোমার পশুপালকগণে ও আমার পশুপালকগণে বিবাদ না হউক। কেননা আমরা পরস্পর জ্ঞাতি। তোমার সম্মুখে কি সমস্ত দেশ নাই? বিনয় করি, আমা হইতে পৃথক হও, হয় তুমি বামে যাও, আমি দক্ষিণে যাই, নয় তুমি দক্ষিণে যাই" (আদিপুস্তক, ১৩:৫-৯)।
এখানে দুইজনের পৃথক হওয়ার বিষয়টি সুস্পষ্ট। (১) তাঁহাদের উভয়ের সহায়-সম্পত্তি ও গবাদিপশুর প্রাচুর্যের কারণে স্থান সংকুলান হইতেছিল না। (২) তাঁহাদের দুইজনের পশুপালকদের মধ্যে বিবাদ হইয়াছিল এবং পশুপালকদের মধ্যে বিবাদ হওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক। যাহাতে সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণে স্থান সংকুলান হয় এবং যাহাতে তাহাদের পশুচারকদের মধ্যে বিবাদ বাধিতে না পারে সেই লক্ষ্যে তাঁহারা পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে পৃথক হইয়াছিলেন। কোন কোন ইসলামী সূত্রে বলা হইয়াছে যে, দুই মহান নবীর পশু সম্পদে অত্যধিক বরকত হওয়ায় তাঁহারা স্থান সংকুলানের জন্য পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে দুই ভিন্ন এলাকায় নিজ নিজ সম্পত্তি স্থানান্তরিত করেন (নাজ্জার, কাসাসুল আম্বিয়া, পৃ. ৮৯-৯০)। লূত (আ) স্থানান্তরিত হওয়ার পর এক পর্যায়ে এলমের কদলায়মূর শাহ তাহার অপর তিনজন যুক্তরাষ্ট্রীয় শাহগণকে সঙ্গে লইম্মা সাদূম ও ইহার চার যুক্তরাষ্ট্রীয় বাদশাহগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করিয়া জয়যুক্ত হইল এবং অন্যান্য লুণ্ঠিত সম্পদের সহিত হযরত লূত (আ)-কে তাঁহার সম্পদসহ বন্দী করিয়া লইয়া গেল। হযরত ইবরাহীম (আ) এই সংবাদ প্রাপ্ত হইয়া তাহাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন এবং জয়যুক্ত হইয়া লূত (আ)-কে মুক্ত করেন ও অনেক গানীমাত লাভ করেন (আদিপুস্তক, ১৪ : ১-১৬; বিদায়া, ১খ, পৃ. ১৫২-৫৩)।
কুরআন ও হাদীছে হযরত লূত (আ)
কুরআন মজীদের মোট ১৭টি সূরায় সাতাশবার নামোল্লেখসহ হযরত লূত (আ) ও তাঁহার কাওম সম্পর্কে আলোচনা বিদ্যমান: ৬ : ৮৬; ৭ : ৮০-৮৪; ১১ : ৬৯-৮৩; ১৫ : ৫১-৭৭; ২১ : ৫১-৭৫; ২২:৪২-৪৩; ২৫: ৪০; ২৬ : ১৬০-১৭৫; ২৭:৫৪-৫৮; ২৯: ২৬-৩৫; ৩৭: ১৩৩-১৩৮; ৩৮: ১৩; ৫০: ১৩; ৫১: ২৪-৩৭; ৫৩ ৫৩-৫৪; ৫৪ : ৩৩-৩৮ এবং ৬৬:১০। সূরা আল-আন'আম (৬)-এ ৮৩-৮৬ আয়াতে মোট আঠারজন নবীর নামোল্লেখ করা হইয়াছে, এই ৮৬ নং আয়াতে তিনজন নবীর নাম সহীহ আল-বুখারীর কিতাবুত তাফসীরে, বাব: "উলাইকাল্লাযীনা হাদাল্লাহু ফাবিহুদাহুম ইকতাদিহ্" (৬: ৯০) অনুচ্ছেদেও উক্ত হইয়াছে। সূরা আম্বিয়া (২১)-র ৭১ নং আয়াতে ইবরাহীম (আ)-এর সহিত তাঁহার বরকতময় ভূমিতে হিজরতের কথা ব্যক্ত হইয়াছে। সূরা হজ্জের ৪২-৪৮ আয়াতে কয়েকজন নবীর উম্মতের করুণ পরিণতির উল্লেখপূর্বক মহানবী (স)-কে সান্ত্বনা দিয়া বলা হইয়াছে যে, তাঁহার জাতি তাঁহাকে প্রত্যাখ্যান করিলে তাহাদেরও অনুরূপ পরিণতি হইবে। এই প্রসঙ্গে কওমে দূতেরও উল্লেখ করা হইয়াছে। সূরা 'আনকাবূতের ২৬ নং আয়াতে ইবরাহীম (আ)-এর উপর তাঁহার ঈমান আনার কথা ব্যক্ত হইয়াছে। ৩৮: ১৩ এবং ৫০ : ১৩ আয়াতে লূত (আ)-কে তাঁহার জাতি কর্তৃক প্রত্যাখ্যান করার কথা উক্ত হইয়াছে। ৬৬: ১০ আয়াতে লূত (আ)-এর স্ত্রীর কুফরী এবং পরিণামে তাহার জাহান্নামী হওয়ার কথা বলা ইয়াছে। ৫৩ঃ ৫৩ আয়াতে "আল-মু'তাফিকাহ” (উল্টানো আবাসভূমি) দ্বারা দূত (আ)-এর সম্প্রদায়কে বুঝানো হইয়াছে (তাফসীরে ইবন 'আব্বাস, পৃ. ৪৪৮; তাফসীরে তাবারী, ২৭ খ, পৃ. ৪৭; তাফসীরে কুরতুবী, ২৭খ, পৃ. ১২০; তাফসীরে উছমানী, পৃ. ৭০১, টীকা ৬; তাফহীমুল কুরআন, উক্ত সূরার টীকা ৪৬; মাআরেফুল কোরআন, সংক্ষিপ্ত সং, পৃ. ১৩১১) এবং পরবর্তী (৫৪) আয়াতে তাহাদের সর্বগ্রাসী শাস্তিতে আচ্ছন্ন হওয়ার কথা বলা হইয়াছে। অবশিষ্ট সূরাসমূহে লূত (আ)-এর দাওয়াত, তাঁহার জাতি কর্তৃক তাহা প্রত্যাখ্যান, তাঁহার জাতির অপকর্ম এবং পরিণতিতে তাহাদের করুণভাবে ধ্বংস হওয়ার বিষয় উক্ত হইয়াছে (যাহা নিবন্ধের সংশ্লিষ্ট স্থানসমূহে উল্লেখ করা হইবে)। সহীহ বুখারীতে হযরত লূত (আ) সম্পর্কে নিম্নোক্ত হাদীছ বিদ্যমানঃ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَغْفِرُ اللهِ لِلُوطُ إِنْ كَانَ لَيَأْوِي إِلى رُكْنِ شَدِيدٍ . "আবূ হুরায়রা (রা) হইতে বর্ণিত। নবী (স) বলেন: "আল্লাহ লূত (আ)-কে ক্ষমা করুন। তিনি একটি মজবুত খুঁটির আশ্রয় লইতে চাহিয়াছিলেন” (বুখারী, কিতাবুল আম্বিয়া, বাব: লাকাদ কানা ফী ইয়ূসুফা...., ভারতীয় সং, ১খ, পৃ. ৪৭৯; ২খ, পৃ. ৬৭৯, তাফসীর সূরা ইয়ূসুফ লাকাদ কানা ফী ইয়ুসুফা...)।
সুনান ইবন মাজায় হাদীছটি বিস্তারিতভাবে বর্ণিত: عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَحْنُ أَحَقُّ بِالشَّكْ مِنْ إِبْرَاهِيمَ إِذْ قَالَ رَبِّ أَرِنِي كَيْفَ تُحْيِ الْمَوْتَى قَالَ أَوَلَمْ تُؤْمِنْ قَالَ بَلَى وَلَكِنْ لِيَطْمَئِنَّ قَلْبِي وَيَرْحُمُ اللَّهُ لُوْطًا لَقَدْ كَانَ يَأْوِي إِلى رُكْنِ شَدِيدٍ وَلَوْ لَبِثْتُ فِي السِّجْنِ طُولَ مَا لَبِثَ يُوسُفُ لَأَجَبْتُ الدَّاعِي . "আবূ হুরায়রা (রা) হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন: ইবরাহীম (আ)-এর তুলনায় আমরাই সন্দেহ পোষণের অধিক উপযুক্ত, যখন তিনি বলিলেন, "হে আমার প্রতিপালক! কিভাবে তুমি মৃতকে জীবিত কর (তাহা) আমাকে দেখাও। তিনি বলিলেন, তবে কি তুমি বিশ্বাস কর না? সে বলিল, কেন করিব না, তবে ইহা কেবল আমার অন্তরের প্রশান্তির জন্য" (২: ২৬০)। আল্লাহ লূত (আ)-কে অনুগ্রহ করুন। তিনি এক শক্তিশালী স্তম্ভের আশ্রয় চাহিয়াছিলেন। আমি ইয়ূসুফ (আ)-এর মত তত কাল জেলখানায় বন্দী থাকিলে অবশ্যই আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দিতাম" (কিতাবুল ফিতান, বাবুস সার আলাল বালা, দেওবন্দ সং, পৃ. ২৯১; বৈরূত সং, ২খ, পৃ. ১৩৩৫-৬, নং ৪০২৬)।
ইমাম ইব্‌ন কাছীর (র) তাঁহার ইতিহাস গ্রন্থে (১খ, পৃ. ১৮০) একটি হাদীছ উদ্ধৃত করিয়াছেন যাহা হইতে "শক্তিশালী স্তম্ভ" (রুকন শাদীদ)-এর একটি ব্যাখ্যা পাওয়া যায়:
রَحْمَةُ اللَّهِ عَلَى لُوطٍ لَقَدْ كَانَ يَأْوِي إِلى رُكْنِ شَدِيدٍ يَعْنِي اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ فَمَا بَعَثَ اللَّهُ بَعْدَهُ مِنْ نَبِيٍّ إِلَّا فِي ثُرْوَةٍ مِّنْ قَوْمِهِ . "লূত (আ)-এর উপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হউক। তিনি একটি সুদৃঢ় স্তম্ভের অর্থাৎ মহামহিম আল্লাহ্ আশ্রয় প্রার্থনা করিয়াছিলেন। আল্লাহ তা'আলা তাঁহার পর হইতে যে কোনও জাতির নিকট তাহাদের মধ্যকার প্রভাবশালী বংশ হইতেই নবী পাঠাইয়াছে”। হাদীছটি আল-মুসতাদরাক গ্রন্থেও সামান্য শাব্দিক পার্থক্যসহ উক্ত হইয়াছে (২খ, পৃ. ৫৬১)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00