📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 মৃতকে জীবিত করা স্বচক্ষে দেখার আবেদন

📄 মৃতকে জীবিত করা স্বচক্ষে দেখার আবেদন


হযরত ইবরাহীম (আ) বাল্যকাল হইতেই অজানাকে জানিবার প্রতি কৌতুহলী ছিলেন। তাই আল্লাহ তা'আলা যখন তাঁহার নিকট ওয়াহী পাঠাইলেন যে, তিনি একদিন সকল মৃতকে জীবিত করিবেন এবং সবাইকে একদিন তাঁহার নিকট একত্র করিবেন, অতঃপর সৎকর্মপরায়ণকে প্রতিদান ও পুরস্কার হিসাবে জান্নাত দান করিবেন এবং অসৎকর্মপরায়ণকে তাহার কর্মের প্রতিফল হিসাবে জাহান্নামে নিক্ষেপ করিবেন তখন তিনি মৃতকে আবার কিভাবে জীবিত করিবেন তাহা স্বচক্ষে দেখিবার কৌতুহল জাগিল তাঁহার মধ্যে। তিনি আল্লাহকে বলিলেন, رَبِّ أَرِنِي كَيْفَ تُحْيِ الْمَوْتَى “হে আমার প্রতিপালক! কিভাবে তুমি মৃতকে জীবিত কর তাহা আমাকে দেখাও”। আল্লাহ বলিবেন, أَوَلَمْ تُؤْمِنْ “তবে কি তুমি বিশ্বাস কর না”। তিনি বলিলেন, بَلَى وَلَكِنْ لِيَطْمَئِنَّ قَلْبِي “কেন করিব না, তবে ইহা কেবল আমার চিত্ত প্রশান্তির জন্য।” তখন আল্লাহ তাঁহাকে উহা স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করাইবার জন্য বলিলেন :

হযরত ইবরাহীম (আ) বাল্যকাল হইতেই অজানাকে জানিবার প্রতি কৌতুহলী ছিলেন। তাই আল্লাহ তা'আলা যখন তাঁহার নিকট ওয়াহী পাঠাইলেন যে, তিনি একদিন সকল মৃতকে জীবিত করিবেন এবং সবাইকে একদিন তাঁহার নিকট একত্র করিবেন, অতঃপর সৎকর্মপরায়ণকে প্রতিদান ও পুরস্কার হিসাবে জান্নাত দান করিবেন এবং অসৎকর্মপরায়ণকে তাহার কর্মের প্রতিফল হিসাবে জাহান্নামে নিক্ষেপ করিবেন তখন তিনি মৃতকে আবার কিভাবে জীবিত করিবেন তাহা স্বচক্ষে দেখিবার কৌতুহল জাগিল তাঁহার মধ্যে। তিনি আল্লাহকে বলিলেন, رَبِّ أَرِنِي كَيْفَ تُحْيِ الْمَوْتَى “হে আমার প্রতিপালক! কিভাবে তুমি মৃতকে জীবিত কর তাহা আমাকে দেখাও”। আল্লাহ বলিবেন, أَوَلَمْ تُؤْمِنْ “তবে কি তুমি বিশ্বাস কর না”। তিনি বলিলেন, بَلَى وَلَكِنْ لِيَطْمَئِنَّ قَلْبِي “কেন করিব না, তবে ইহা কেবল আমার চিত্ত প্রশান্তির জন্য।” তখন আল্লাহ তাঁহাকে উহা স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করাইবার জন্য বলিলেন :

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ইবরাহীম (আ)-এর ইনতিকাল

📄 ইবরাহীম (আ)-এর ইনতিকাল


হযরত ইবরাহীম (আ)-এর ইনতিকালের ব্যাপারে কুরআন ও হাদীছে কোন সুস্পষ্ট বর্ণনা পাওয়া যায় না। ইব্‌ন আসাকির প্রমুখ ইবরাহীম (আ)-এর নিকট মালাকুল মওত আগমনের বিবিধ বিবরণ দিয়াছেন। কিন্তু তাহার সত্যতা নিশ্চিত নহে। তম্মধ্যে একটি এই যে, মালাকুল মওত এক বৃদ্ধের আকৃতিতে তাঁহার নিকট আগমন করেন। সুদ্দী বর্ণনা করেন যে, ইবরাহীম (আ) ধনী লোক ছিলেন। তাঁহার প্রচুর খাদ্যদ্রব্য ছিল। তিনি লোকজনকে উহা দ্বারা মেহমানদারী করিতেন। একবার তিনি লোকজনকে আহার করাইতেছিলেন। তখন তিনি এক বৃদ্ধকে দেখিতে পাইলেন, যে রৌদ্রে হাঁটিয়া যাইতেছিল। তখন তিনি একটি গাধা প্রেরণ করিয়া তাহাকে আনাইলেন এবং আহার করিতে দিলেন। বৃদ্ধ তাহার মুখে আহার দিতে গিয়া একবার চোখের মধ্যে দিলেন, একবার কানের মধ্যে দিলেন। অতঃপর এক লোকমা যখন মুখে দিলেন তখন উহা পেটের মধ্য দিয়া তাহার মলদ্বার দিয়া বাহির হইয়া গেল। ইবরাহীম (আ) পূর্বে আল্লাহ্র নিকট দরখাস্ত করিয়া রাখিয়াছিলেন যে, তাহার রূহ যিনি কবয করিবেন তাঁহাকে তিনি মৃত্যু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিয়া লইবেন। বৃদ্ধের এই হাল দেখিয়া তিনি তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, হে বৃদ্ধ! তোমার কি অবস্থা? এইরূপ করিতেছ কেন? বৃদ্ধ বলিল, ইবরাহীম! বয়সের ভারে আমার আজ এই অবস্থা’। ইবরাহীম (আ) জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমার বয়স কত? বৃদ্ধ বলিল, এত... এত....। ইবরাহীম (আ) হিসাব করিয়া দেখিলেন, বৃদ্ধের বয়স তাঁহার বয়স হইতে মাত্র দুই বৎসর বেশী। ইবরাহীম (আ) তাহাকে বলিলেন, তোমার ও আমার মধ্যে মাত্র দুই বৎসরের ব্যবধান। আমি যখন তোমার বয়সে উপনীত হইব তখন তো তোমার মতই হইয়া যাইব। বৃদ্ধ বলিল, হ্যাঁ। ইবরাহীম (আ) দু'আ করিলেন, হে আল্লাহ! আমাকে তাহার পূর্বেই উঠাইয়া লউন। বৃদ্ধ তখন উঠিয়া দাঁড়াইল এবং তাঁহার জান কবয করিল। এই বৃদ্ধই ছিলেন মালাকুল মওত। ইবরাহীম (আ)-এর বয়স ছিল তখন ২০০, মতান্তরে ১৯৫ ও ১৭৫ বৎসর (আত-তাবারী, তারীখ, ১খ., ১৬০-১৬১; আছ-ছা'লাবী, কাসাসুল-আম্বিয়া, পৃ. ১০৪)।
কাহারও কাহারও বর্ণনামতে তিনি আকস্মিকভাবে ইনতিকাল করেন। আহলে কিতাবদের বর্ণনামতে তিনি রোগাক্রান্ত হইয়া ১৭৫, মতান্তরে ১৯৫ বৎসর বয়সে ইনতিকাল কলেন। তাঁহাকে কানআনে অবস্থিত হেবরূন নামক গ্রামের সেই স্থানে দাফন করা হয় যাহা তিনি স্বীয় স্ত্রী সারাকে কবর দেওয়ার জন্য ইফরূন আল-হায়ছী নামক এক ব্যক্তির নিকট হইতে ৪০০ মিছকালের বিনিময়ে ক্রয় করিয়াছিলেন এবং সারাকে সেখানে দাফন করিয়াছিলেন। পুত্র ইসমাঈল ও ইসহাক (আ) মিলিয়া তাঁহাকে উক্ত স্থানে সারার নিকট দাফন করেন (ইব্‌ন কাছীর, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ১খ, ১৭৪)। উক্ত স্থানের নামকরণ করা হইয়াছে 'মাদীনাতুল-খালীল'। বর্তমানেও এই নামই প্রচলিত আছে। পূর্বে ইহার নাম ছিল কারয়া আওবা' ( قرية أوبع ) (আবদুল ওয়াহ্হাব আন-নাজ্জার, কাসাসুল আম্বিয়া, পৃ. ১১০)। ইহা হেবরূনেরই একটি অংশ। বর্তমানে গোটা হিবরূনকেই 'মাদীনাতুল খালীল' বলা হয়। ইবনুল-কালবীর বর্ণনামতে ইবরাহীম (আ) ২০০ বৎসর জীবিত ছিলেন। আবূ হাতিম ইবন হিববান তাঁহার সাহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করিয়াছেন যে, মুফাদ্দাল ইবন মুহাম্মদ জুনদী সূত্রে আবূ হুরায়রা (রা) হইতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (স) বলেন, ইবরাহীম (আ) কাদূম নামক স্থানে (কাহারো কাহারো মতে কাদূম নামক অস্ত্রের সাহায্যে) খাতনা করেন। তখন তাঁহার বয়স হইয়াছিল ১২০ বৎসর। ইহার পর তিনি ৮০ বৎসর জীবিত ছিলেন। হাফিজ ইব্‌ন আসাকির ইহা আবূ হুরায়রা (রা) হইতে মাওকূফরূপে রিওয়ায়াত করিয়াছেন (ইব্‌ন কাছীর, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ১খ, ১৭৪)।

হযরত ইবরাহীম (আ)-এর ইনতিকালের ব্যাপারে কুরআন ও হাদীছে কোন সুস্পষ্ট বর্ণনা পাওয়া যায় না। ইব্‌ন আসাকির প্রমুখ ইবরাহীম (আ)-এর নিকট মালাকুল মওত আগমনের বিবিধ বিবরণ দিয়াছেন। কিন্তু তাহার সত্যতা নিশ্চিত নহে। তম্মধ্যে একটি এই যে, মালাকুল মওত এক বৃদ্ধের আকৃতিতে তাঁহার নিকট আগমন করেন। সুদ্দী বর্ণনা করেন যে, ইবরাহীম (আ) ধনী লোক ছিলেন। তাঁহার প্রচুর খাদ্যদ্রব্য ছিল। তিনি লোকজনকে উহা দ্বারা মেহমানদারী করিতেন। একবার তিনি লোকজনকে আহার করাইতেছিলেন। তখন তিনি এক বৃদ্ধকে দেখিতে পাইলেন, যে রৌদ্রে হাঁটিয়া যাইতেছিল। তখন তিনি একটি গাধা প্রেরণ করিয়া তাহাকে আনাইলেন এবং আহার করিতে দিলেন। বৃদ্ধ তাহার মুখে আহার দিতে গিয়া একবার চোখের মধ্যে দিলেন, একবার কানের মধ্যে দিলেন। অতঃপর এক লোকমা যখন মুখে দিলেন তখন উহা পেটের মধ্য দিয়া তাহার মলদ্বার দিয়া বাহির হইয়া গেল। ইবরাহীম (আ) পূর্বে আল্লাহ্র নিকট দরখাস্ত করিয়া রাখিয়াছিলেন যে, তাহার রূহ যিনি কবয করিবেন তাঁহাকে তিনি মৃত্যু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিয়া লইবেন। বৃদ্ধের এই হাল দেখিয়া তিনি তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, হে বৃদ্ধ! তোমার কি অবস্থা? এইরূপ করিতেছ কেন? বৃদ্ধ বলিল, ইবরাহীম! বয়সের ভারে আমার আজ এই অবস্থা’। ইবরাহীম (আ) জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমার বয়স কত? বৃদ্ধ বলিল, এত... এত....। ইবরাহীম (আ) হিসাব করিয়া দেখিলেন, বৃদ্ধের বয়স তাঁহার বয়স হইতে মাত্র দুই বৎসর বেশী। ইবরাহীম (আ) তাহাকে বলিলেন, তোমার ও আমার মধ্যে মাত্র দুই বৎসরের ব্যবধান। আমি যখন তোমার বয়সে উপনীত হইব তখন তো তোমার মতই হইয়া যাইব। বৃদ্ধ বলিল, হ্যাঁ। ইবরাহীম (আ) দু'আ করিলেন, হে আল্লাহ! আমাকে তাহার পূর্বেই উঠাইয়া লউন। বৃদ্ধ তখন উঠিয়া দাঁড়াইল এবং তাঁহার জান কবয করিল। এই বৃদ্ধই ছিলেন মালাকুল মওত। ইবরাহীম (আ)-এর বয়স ছিল তখন ২০০, মতান্তরে ১৯৫ ও ১৭৫ বৎসর (আত-তাবারী, তারীখ, ১খ., ১৬০-১৬১; আছ-ছা'লাবী, কাসাসুল-আম্বিয়া, পৃ. ১০৪)।
কাহারও কাহারও বর্ণনামতে তিনি আকস্মিকভাবে ইনতিকাল করেন। আহলে কিতাবদের বর্ণনামতে তিনি রোগাক্রান্ত হইয়া ১৭৫, মতান্তরে ১৯৫ বৎসর বয়সে ইনতিকাল কলেন। তাঁহাকে কানআনে অবস্থিত হেবরূন নামক গ্রামের সেই স্থানে দাফন করা হয় যাহা তিনি স্বীয় স্ত্রী সারাকে কবর দেওয়ার জন্য ইফরূন আল-হায়ছী নামক এক ব্যক্তির নিকট হইতে ৪০০ মিছকালের বিনিময়ে ক্রয় করিয়াছিলেন এবং সারাকে সেখানে দাফন করিয়াছিলেন। পুত্র ইসমাঈল ও ইসহাক (আ) মিলিয়া তাঁহাকে উক্ত স্থানে সারার নিকট দাফন করেন (ইব্‌ন কাছীর, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ১খ, ১৭৪)। উক্ত স্থানের নামকরণ করা হইয়াছে 'মাদীনাতুল-খালীল'। বর্তমানেও এই নামই প্রচলিত আছে। পূর্বে ইহার নাম ছিল কারয়া আওবা' ( قرية أوبع ) (আবদুল ওয়াহ্হাব আন-নাজ্জার, কাসাসুল আম্বিয়া, পৃ. ১১০)। ইহা হেবরূনেরই একটি অংশ। বর্তমানে গোটা হিবরূনকেই 'মাদীনাতুল খালীল' বলা হয়। ইবনুল-কালবীর বর্ণনামতে ইবরাহীম (আ) ২০০ বৎসর জীবিত ছিলেন। আবূ হাতিম ইবন হিববান তাঁহার সাহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করিয়াছেন যে, মুফাদ্দাল ইবন মুহাম্মদ জুনদী সূত্রে আবূ হুরায়রা (রা) হইতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (স) বলেন, ইবরাহীম (আ) কাদূম নামক স্থানে (কাহারো কাহারো মতে কাদূম নামক অস্ত্রের সাহায্যে) খাতনা করেন। তখন তাঁহার বয়স হইয়াছিল ১২০ বৎসর। ইহার পর তিনি ৮০ বৎসর জীবিত ছিলেন। হাফিজ ইব্‌ন আসাকির ইহা আবূ হুরায়রা (রা) হইতে মাওকূফরূপে রিওয়ায়াত করিয়াছেন (ইব্‌ন কাছীর, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ১খ, ১৭৪)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 স্ত্রী ও সন্তান-সন্তুতি

📄 স্ত্রী ও সন্তান-সন্তুতি


হযরত ইবরাহীম (আ)-এর চার পত্নীর নাম জানা যায়, যাহাদের গর্ভে তাঁহার বহু সন্তান-সন্তুতির জন্ম হয়। প্রথম পুত্র ইসমাঈল (আ) হাজার-এর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন। অতঃপর দ্বিতীয় সন্তান ইসহাক (আ) জন্মগ্রহণ করেন সারার গর্ভে। সারার মৃত্যুর পর ইবরাহীম (আ) কানআনের কানতৃরা, মতান্তরে কাতুরা বিনত য়াকতান (মতান্তরে য়াকতার) নাম্নী এক মহিলাকে বিবাহ করেন। তাহার গর্ভে ছয় পুত্রঃ মাদয়ান, যামরান, সারাজ, য়াকশান ও বুসর জন্মগ্রহণ করে। ইহার পর ইবরাহীম (আ) হাজুন (মতান্তরে হাজুরা) বিন্ত আমীন (মতান্তরে উহায়ব)-কে বিবাহ করেন। তাহার গর্ভে পাঁচ পুত্র: কায়সান, সূরাজ (মতান্তরে শামরূখ)। আমীম, লুতান ও নাফিস জন্মগ্রহণ করে। আবুল কাসিম আস-সুহায়লী তাঁহার আত-তা'রীফ ওয়া'ল-আ'লাম গ্রন্থে এইরূপ উল্লেখ করিয়াছেন (ইব্‌ন কাছীর, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ১খ, ১৭৫; আত-তাবারী, তারীখ, ১খ, ১৫৯; আছ-ছা'লাবী, কাসাসুল-আম্বিয়া, পৃ. ১০৩)। ইসমাঈল (আ) ও ইসহাক (আ)-সহ তাঁহার মোট ১৩ পুত্রের নাম জানা যায়। ইবন কুতায়বা অবশ্য বলিয়াছেন, কাতৃরার গর্ভে ৪ সন্তান এবং হাজরার গর্ভে ৭ সন্তানের জন্ম হয়। সর্বমোট ইবরাহীম (আ)-এর ১৩ সন্তান ছিল (ইব্‌ন কুতায়বা, আল-মা'আরিফ, পৃ. ৩৩)।
ইবরাহীম (আ) জীবিত থাকিতেই তাঁহার পুত্রদিগকে বিভিন্ন স্থানে বসতি করান। ইসমাঈল (আ)-কে মক্কায়, ইসহাক (আ)-কে শামে এবং অন্যান্য পুত্রকে বিভিন্ন দেশে আবাসন করান। তাঁহারা ইবরাহীম (আ)-এর নিকট আরয করিল, হে পিত! আপনি ইসহাক ও ইসমাঈলকে আপনার নিকটস্থ জায়গায় বসবাস করাইলেন এবং আমাদিগকে অপরিচিত জায়গায়, দূরদেশে বসবাস করিতে বলিয়াছেন! তিনি বলিলেন, আমাকে এইরূপ নির্দেশ দেওয়া হইয়াছে। অতঃপর তিনি তাহাদিগকে আল্লাহর নামসমূহ হইতে একটি নাম শিক্ষা দিলেন। তাঁহারা সেই নাম লইয়াই পানি ও অন্যান্য সাহায্য প্রার্থনা করিত (আছ-ছা'লাবী, পৃ. ১০৪)।
পরবর্তী কালে যত নবী-রাসূল আগমন করিয়াছেন সবই হযরত ইবরাহীম (আ)-এর পুত্র ইসমাঈল (আ) ও ইসহাক (আ)-এর বংশধর হইতে। সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ (স) ইসমাঈল (আ)-এর বংশধর। আর অন্যান্য সকল নবী ইসহাক (আ)-এর বংশধর। ইসহাক (আ)-এর পুত্র ইয়া'কূব (আ)। তাঁহার পুত্র ইউসুফ (আ) নবী ছিলেন। ইতিহাস ও তাফসীর বিশারদ ইব্‌ন জারীর তাবারী ইবরাহীম (আ)-এর অন্যান্য পুত্রের এবং তাঁহাদের বংশধরদের বিস্তারিত বিবরণ প্রদান করিয়াছেন (তাবারী, তারীখ, ১খ, ১৫৯-৬০)।

হযরত ইবরাহীম (আ)-এর চার পত্নীর নাম জানা যায়, যাহাদের গর্ভে তাঁহার বহু সন্তান-সন্তুতির জন্ম হয়। প্রথম পুত্র ইসমাঈল (আ) হাজার-এর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন। অতঃপর দ্বিতীয় সন্তান ইসহাক (আ) জন্মগ্রহণ করেন সারার গর্ভে। সারার মৃত্যুর পর ইবরাহীম (আ) কানআনের কানতৃরা, মতান্তরে কাতুরা বিনত য়াকতান (মতান্তরে য়াকতার) নাম্নী এক মহিলাকে বিবাহ করেন। তাহার গর্ভে ছয় পুত্রঃ মাদয়ান, যামরান, সারাজ, য়াকশান ও বুসর জন্মগ্রহণ করে। ইহার পর ইবরাহীম (আ) হাজুন (মতান্তরে হাজুরা) বিন্ত আমীন (মতান্তরে উহায়ব)-কে বিবাহ করেন। তাহার গর্ভে পাঁচ পুত্র: কায়সান, সূরাজ (মতান্তরে শামরূখ)। আমীম, লুতান ও নাফিস জন্মগ্রহণ করে। আবুল কাসিম আস-সুহায়লী তাঁহার আত-তা'রীফ ওয়া'ল-আ'লাম গ্রন্থে এইরূপ উল্লেখ করিয়াছেন (ইব্‌ন কাছীর, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ১খ, ১৭৫; আত-তাবারী, তারীখ, ১খ, ১৫৯; আছ-ছা'লাবী, কাসাসুল-আম্বিয়া, পৃ. ১০৩)। ইসমাঈল (আ) ও ইসহাক (আ)-সহ তাঁহার মোট ১৩ পুত্রের নাম জানা যায়। ইবন কুতায়বা অবশ্য বলিয়াছেন, কাতৃরার গর্ভে ৪ সন্তান এবং হাজরার গর্ভে ৭ সন্তানের জন্ম হয়। সর্বমোট ইবরাহীম (আ)-এর ১৩ সন্তান ছিল (ইব্‌ন কুতায়বা, আল-মা'আরিফ, পৃ. ৩৩)।
ইবরাহীম (আ) জীবিত থাকিতেই তাঁহার পুত্রদিগকে বিভিন্ন স্থানে বসতি করান। ইসমাঈল (আ)-কে মক্কায়, ইসহাক (আ)-কে শামে এবং অন্যান্য পুত্রকে বিভিন্ন দেশে আবাসন করান। তাঁহারা ইবরাহীম (আ)-এর নিকট আরয করিল, হে পিত! আপনি ইসহাক ও ইসমাঈলকে আপনার নিকটস্থ জায়গায় বসবাস করাইলেন এবং আমাদিগকে অপরিচিত জায়গায়, দূরদেশে বসবাস করিতে বলিয়াছেন! তিনি বলিলেন, আমাকে এইরূপ নির্দেশ দেওয়া হইয়াছে। অতঃপর তিনি তাহাদিগকে আল্লাহর নামসমূহ হইতে একটি নাম শিক্ষা দিলেন। তাঁহারা সেই নাম লইয়াই পানি ও অন্যান্য সাহায্য প্রার্থনা করিত (আছ-ছা'লাবী, পৃ. ১০৪)।
পরবর্তী কালে যত নবী-রাসূল আগমন করিয়াছেন সবই হযরত ইবরাহীম (আ)-এর পুত্র ইসমাঈল (আ) ও ইসহাক (আ)-এর বংশধর হইতে। সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ (স) ইসমাঈল (আ)-এর বংশধর। আর অন্যান্য সকল নবী ইসহাক (আ)-এর বংশধর। ইসহাক (আ)-এর পুত্র ইয়া'কূব (আ)। তাঁহার পুত্র ইউসুফ (আ) নবী ছিলেন। ইতিহাস ও তাফসীর বিশারদ ইব্‌ন জারীর তাবারী ইবরাহীম (আ)-এর অন্যান্য পুত্রের এবং তাঁহাদের বংশধরদের বিস্তারিত বিবরণ প্রদান করিয়াছেন (তাবারী, তারীখ, ১খ, ১৫৯-৬০)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 দৈহিক অবয়ব

📄 দৈহিক অবয়ব


একাধিক বর্ণনা হইতে জানা যায় যে, হযরত ইবরাহীম (আ)-এর দৈহিক গঠন ও আকৃতি ছিল হযরত রাসূলে কারীম (আ)-এর ন্যায়। ইবন আব্বাস (রা) হইতে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ (স) বলেন, আমি ঈসা ইবন মারয়াম, মূসা ও ইবরাহীম (আ)-কে দেখিয়াছি। ঈসা হইলেন লাল বর্ণের হাল্কা পাতলা গড়ন ও প্রশস্ত বক্ষধারী, মূসা হইলেন গৌর বর্ণের বিশাল দেহধারী। সাহাবীগণ তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, ইবরাহীম (আ) কেমন ছিলেন? তিনি বলিলেন, তোমাদের সঙ্গীর (অর্থাৎ তাঁহার নিজের) প্রতি তাকাও (বুখারী, আস-সাহীহ, ৪খ, ২৭৯, কিতাবুল-আম্বিয়া, হাদীছ নং ৩১৩৯)।

একাধিক বর্ণনা হইতে জানা যায় যে, হযরত ইবরাহীম (আ)-এর দৈহিক গঠন ও আকৃতি ছিল হযরত রাসূলে কারীম (আ)-এর ন্যায়। ইবন আব্বাস (রা) হইতে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ (স) বলেন, আমি ঈসা ইবন মারয়াম, মূসা ও ইবরাহীম (আ)-কে দেখিয়াছি। ঈসা হইলেন লাল বর্ণের হাল্কা পাতলা গড়ন ও প্রশস্ত বক্ষধারী, মূসা হইলেন গৌর বর্ণের বিশাল দেহধারী। সাহাবীগণ তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, ইবরাহীম (আ) কেমন ছিলেন? তিনি বলিলেন, তোমাদের সঙ্গীর (অর্থাৎ তাঁহার নিজের) প্রতি তাকাও (বুখারী, আস-সাহীহ, ৪খ, ২৭৯, কিতাবুল-আম্বিয়া, হাদীছ নং ৩১৩৯)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00