📄 আল-মাসজিদুল আকসা নির্মাণ
বায়তুল মাকদিস-এ অবস্থিত আল-মাসজিদুল আকসাও সর্বপ্রথম হযরত ইবরাহীম (আ) নির্মাণ করেন। বায়তুল্লাহ নির্মাণের চল্লিশ বৎসর পর তিনি উহা নির্মাণ করেন। আবূ যার (রা) বলেন, আমি বলিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! পৃথিবীতে সর্বপ্রথম কোন্ মসজিদ নির্মিত হইয়াছে? তিনি বলিলেন, আল-মাসজিদুল-হারাম। আমি বলিলাম, ইহার পর? তিনি বলিলেন, আল-মাসজিদুল আকসা। আমি বলিলাম, এতদোভয়ের মধ্যে ব্যবধান কত? তিনি বলিলেন, চল্লিশ বৎসর (আল-বুখারী, আস-সাহীহ, কিতাবুল- আম্বিয়া/বাদউল-খালক, হাদীছ নং ৩১৫০)।
বায়তুল মাকদিস-এ অবস্থিত আল-মাসজিদুল আকসাও সর্বপ্রথম হযরত ইবরাহীম (আ) নির্মাণ করেন। বায়তুল্লাহ নির্মাণের চল্লিশ বৎসর পর তিনি উহা নির্মাণ করেন। আবূ যার (রা) বলেন, আমি বলিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! পৃথিবীতে সর্বপ্রথম কোন্ মসজিদ নির্মিত হইয়াছে? তিনি বলিলেন, আল-মাসজিদুল-হারাম। আমি বলিলাম, ইহার পর? তিনি বলিলেন, আল-মাসজিদুল আকসা। আমি বলিলাম, এতদোভয়ের মধ্যে ব্যবধান কত? তিনি বলিলেন, চল্লিশ বৎসর (আল-বুখারী, আস-সাহীহ, কিতাবুল- আম্বিয়া/বাদউল-খালক, হাদীছ নং ৩১৫০)।
📄 খতনার সুন্নাত
আল্লাহ তা'আলা ইবরাহীম (আ)-এর নিকট হইতে খতনা করার অঙ্গীকার লইয়াছিলেন। হাদীছে বর্ণিত হইয়াছে যে, ইবরাহীম (আ) কাদ্দম নামক স্থানে বা কাদূম নামক অস্ত্র দ্বারা খতনা করিয়াছিলেন। তখন তাঁহার বয়স ছিল ৮০ বৎসর (বুখারী, কিতাবুল আম্বিয়া, হাদীছ নং ৩১৪০)। অন্য এক বর্ণনামতে তাঁহার ৯৯ বৎসর বয়সকালে তিনি এই সুন্নাত পালন করেন। ইসমাঈল (আ)-এর বয়স ছিল তখন ১৩ বৎসর। তখন ইবরাহীম (আ), ইসমাঈল (আ) এবং ইবরাহীম (আ)-এর যত দাস ছিল সকলেই খাতনা করেন। বারনাবাসের বাইবেলে খতনার কারণস্বরূপ বলা হইয়াছে যে, আদম (আ) যখন স্বীয় প্রভুর নাফরমানী করেন তখন মানত করেন যে, আল্লাহ তওবা কবুল করিলে তিনি শরীরের কোন একটি অঙ্গ কাটিয়া ফেলিবেন। অতঃপর তাঁহার তওবা কবুল হইলে তিনি মানত পূর্ণ করিতে চাহিলেন। কিন্তু কিভাবে তাহা করিবেন সেই ব্যাপারে পেরেশান হইয়া গেলেন। তখন জিবরীল (আ) আসিয়া উক্ত স্থানটি নির্দেশ করিলেন। অতঃপর তিনি উহা কাটিয়া ফেলিলেন। সম্ভবত তাঁহার বংশধরগণ এই সুন্নাত ত্যাগ করিয়াছিল। তাই আল্লাহ তা'আলা ইবরাহীম (আ)-কে উক্ত সুন্নাত জীবিত করার নির্দেশ দেন (আবদুল ওয়াহ্হাব আন-নাজ্জার, কাসাসুল আম্বিয়া, পৃ. ৯৪)।
আল্লাহ তা'আলা ইবরাহীম (আ)-এর নিকট হইতে খতনা করার অঙ্গীকার লইয়াছিলেন। হাদীছে বর্ণিত হইয়াছে যে, ইবরাহীম (আ) কাদ্দম নামক স্থানে বা কাদূম নামক অস্ত্র দ্বারা খতনা করিয়াছিলেন। তখন তাঁহার বয়স ছিল ৮০ বৎসর (বুখারী, কিতাবুল আম্বিয়া, হাদীছ নং ৩১৪০)। অন্য এক বর্ণনামতে তাঁহার ৯৯ বৎসর বয়সকালে তিনি এই সুন্নাত পালন করেন। ইসমাঈল (আ)-এর বয়স ছিল তখন ১৩ বৎসর। তখন ইবরাহীম (আ), ইসমাঈল (আ) এবং ইবরাহীম (আ)-এর যত দাস ছিল সকলেই খাতনা করেন। বারনাবাসের বাইবেলে খতনার কারণস্বরূপ বলা হইয়াছে যে, আদম (আ) যখন স্বীয় প্রভুর নাফরমানী করেন তখন মানত করেন যে, আল্লাহ তওবা কবুল করিলে তিনি শরীরের কোন একটি অঙ্গ কাটিয়া ফেলিবেন। অতঃপর তাঁহার তওবা কবুল হইলে তিনি মানত পূর্ণ করিতে চাহিলেন। কিন্তু কিভাবে তাহা করিবেন সেই ব্যাপারে পেরেশান হইয়া গেলেন। তখন জিবরীল (আ) আসিয়া উক্ত স্থানটি নির্দেশ করিলেন। অতঃপর তিনি উহা কাটিয়া ফেলিলেন। সম্ভবত তাঁহার বংশধরগণ এই সুন্নাত ত্যাগ করিয়াছিল। তাই আল্লাহ তা'আলা ইবরাহীম (আ)-কে উক্ত সুন্নাত জীবিত করার নির্দেশ দেন (আবদুল ওয়াহ্হাব আন-নাজ্জার, কাসাসুল আম্বিয়া, পৃ. ৯৪)।
📄 মৃতকে জীবিত করা স্বচক্ষে দেখার আবেদন
হযরত ইবরাহীম (আ) বাল্যকাল হইতেই অজানাকে জানিবার প্রতি কৌতুহলী ছিলেন। তাই আল্লাহ তা'আলা যখন তাঁহার নিকট ওয়াহী পাঠাইলেন যে, তিনি একদিন সকল মৃতকে জীবিত করিবেন এবং সবাইকে একদিন তাঁহার নিকট একত্র করিবেন, অতঃপর সৎকর্মপরায়ণকে প্রতিদান ও পুরস্কার হিসাবে জান্নাত দান করিবেন এবং অসৎকর্মপরায়ণকে তাহার কর্মের প্রতিফল হিসাবে জাহান্নামে নিক্ষেপ করিবেন তখন তিনি মৃতকে আবার কিভাবে জীবিত করিবেন তাহা স্বচক্ষে দেখিবার কৌতুহল জাগিল তাঁহার মধ্যে। তিনি আল্লাহকে বলিলেন, رَبِّ أَرِنِي كَيْفَ تُحْيِ الْمَوْتَى “হে আমার প্রতিপালক! কিভাবে তুমি মৃতকে জীবিত কর তাহা আমাকে দেখাও”। আল্লাহ বলিবেন, أَوَلَمْ تُؤْمِنْ “তবে কি তুমি বিশ্বাস কর না”। তিনি বলিলেন, بَلَى وَلَكِنْ لِيَطْمَئِنَّ قَلْبِي “কেন করিব না, তবে ইহা কেবল আমার চিত্ত প্রশান্তির জন্য।” তখন আল্লাহ তাঁহাকে উহা স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করাইবার জন্য বলিলেন :
হযরত ইবরাহীম (আ) বাল্যকাল হইতেই অজানাকে জানিবার প্রতি কৌতুহলী ছিলেন। তাই আল্লাহ তা'আলা যখন তাঁহার নিকট ওয়াহী পাঠাইলেন যে, তিনি একদিন সকল মৃতকে জীবিত করিবেন এবং সবাইকে একদিন তাঁহার নিকট একত্র করিবেন, অতঃপর সৎকর্মপরায়ণকে প্রতিদান ও পুরস্কার হিসাবে জান্নাত দান করিবেন এবং অসৎকর্মপরায়ণকে তাহার কর্মের প্রতিফল হিসাবে জাহান্নামে নিক্ষেপ করিবেন তখন তিনি মৃতকে আবার কিভাবে জীবিত করিবেন তাহা স্বচক্ষে দেখিবার কৌতুহল জাগিল তাঁহার মধ্যে। তিনি আল্লাহকে বলিলেন, رَبِّ أَرِنِي كَيْفَ تُحْيِ الْمَوْتَى “হে আমার প্রতিপালক! কিভাবে তুমি মৃতকে জীবিত কর তাহা আমাকে দেখাও”। আল্লাহ বলিবেন, أَوَلَمْ تُؤْمِنْ “তবে কি তুমি বিশ্বাস কর না”। তিনি বলিলেন, بَلَى وَلَكِنْ لِيَطْمَئِنَّ قَلْبِي “কেন করিব না, তবে ইহা কেবল আমার চিত্ত প্রশান্তির জন্য।” তখন আল্লাহ তাঁহাকে উহা স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করাইবার জন্য বলিলেন :
📄 ইবরাহীম (আ)-এর ইনতিকাল
হযরত ইবরাহীম (আ)-এর ইনতিকালের ব্যাপারে কুরআন ও হাদীছে কোন সুস্পষ্ট বর্ণনা পাওয়া যায় না। ইব্ন আসাকির প্রমুখ ইবরাহীম (আ)-এর নিকট মালাকুল মওত আগমনের বিবিধ বিবরণ দিয়াছেন। কিন্তু তাহার সত্যতা নিশ্চিত নহে। তম্মধ্যে একটি এই যে, মালাকুল মওত এক বৃদ্ধের আকৃতিতে তাঁহার নিকট আগমন করেন। সুদ্দী বর্ণনা করেন যে, ইবরাহীম (আ) ধনী লোক ছিলেন। তাঁহার প্রচুর খাদ্যদ্রব্য ছিল। তিনি লোকজনকে উহা দ্বারা মেহমানদারী করিতেন। একবার তিনি লোকজনকে আহার করাইতেছিলেন। তখন তিনি এক বৃদ্ধকে দেখিতে পাইলেন, যে রৌদ্রে হাঁটিয়া যাইতেছিল। তখন তিনি একটি গাধা প্রেরণ করিয়া তাহাকে আনাইলেন এবং আহার করিতে দিলেন। বৃদ্ধ তাহার মুখে আহার দিতে গিয়া একবার চোখের মধ্যে দিলেন, একবার কানের মধ্যে দিলেন। অতঃপর এক লোকমা যখন মুখে দিলেন তখন উহা পেটের মধ্য দিয়া তাহার মলদ্বার দিয়া বাহির হইয়া গেল। ইবরাহীম (আ) পূর্বে আল্লাহ্র নিকট দরখাস্ত করিয়া রাখিয়াছিলেন যে, তাহার রূহ যিনি কবয করিবেন তাঁহাকে তিনি মৃত্যু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিয়া লইবেন। বৃদ্ধের এই হাল দেখিয়া তিনি তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, হে বৃদ্ধ! তোমার কি অবস্থা? এইরূপ করিতেছ কেন? বৃদ্ধ বলিল, ইবরাহীম! বয়সের ভারে আমার আজ এই অবস্থা’। ইবরাহীম (আ) জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমার বয়স কত? বৃদ্ধ বলিল, এত... এত....। ইবরাহীম (আ) হিসাব করিয়া দেখিলেন, বৃদ্ধের বয়স তাঁহার বয়স হইতে মাত্র দুই বৎসর বেশী। ইবরাহীম (আ) তাহাকে বলিলেন, তোমার ও আমার মধ্যে মাত্র দুই বৎসরের ব্যবধান। আমি যখন তোমার বয়সে উপনীত হইব তখন তো তোমার মতই হইয়া যাইব। বৃদ্ধ বলিল, হ্যাঁ। ইবরাহীম (আ) দু'আ করিলেন, হে আল্লাহ! আমাকে তাহার পূর্বেই উঠাইয়া লউন। বৃদ্ধ তখন উঠিয়া দাঁড়াইল এবং তাঁহার জান কবয করিল। এই বৃদ্ধই ছিলেন মালাকুল মওত। ইবরাহীম (আ)-এর বয়স ছিল তখন ২০০, মতান্তরে ১৯৫ ও ১৭৫ বৎসর (আত-তাবারী, তারীখ, ১খ., ১৬০-১৬১; আছ-ছা'লাবী, কাসাসুল-আম্বিয়া, পৃ. ১০৪)।
কাহারও কাহারও বর্ণনামতে তিনি আকস্মিকভাবে ইনতিকাল করেন। আহলে কিতাবদের বর্ণনামতে তিনি রোগাক্রান্ত হইয়া ১৭৫, মতান্তরে ১৯৫ বৎসর বয়সে ইনতিকাল কলেন। তাঁহাকে কানআনে অবস্থিত হেবরূন নামক গ্রামের সেই স্থানে দাফন করা হয় যাহা তিনি স্বীয় স্ত্রী সারাকে কবর দেওয়ার জন্য ইফরূন আল-হায়ছী নামক এক ব্যক্তির নিকট হইতে ৪০০ মিছকালের বিনিময়ে ক্রয় করিয়াছিলেন এবং সারাকে সেখানে দাফন করিয়াছিলেন। পুত্র ইসমাঈল ও ইসহাক (আ) মিলিয়া তাঁহাকে উক্ত স্থানে সারার নিকট দাফন করেন (ইব্ন কাছীর, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ১খ, ১৭৪)। উক্ত স্থানের নামকরণ করা হইয়াছে 'মাদীনাতুল-খালীল'। বর্তমানেও এই নামই প্রচলিত আছে। পূর্বে ইহার নাম ছিল কারয়া আওবা' ( قرية أوبع ) (আবদুল ওয়াহ্হাব আন-নাজ্জার, কাসাসুল আম্বিয়া, পৃ. ১১০)। ইহা হেবরূনেরই একটি অংশ। বর্তমানে গোটা হিবরূনকেই 'মাদীনাতুল খালীল' বলা হয়। ইবনুল-কালবীর বর্ণনামতে ইবরাহীম (আ) ২০০ বৎসর জীবিত ছিলেন। আবূ হাতিম ইবন হিববান তাঁহার সাহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করিয়াছেন যে, মুফাদ্দাল ইবন মুহাম্মদ জুনদী সূত্রে আবূ হুরায়রা (রা) হইতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (স) বলেন, ইবরাহীম (আ) কাদূম নামক স্থানে (কাহারো কাহারো মতে কাদূম নামক অস্ত্রের সাহায্যে) খাতনা করেন। তখন তাঁহার বয়স হইয়াছিল ১২০ বৎসর। ইহার পর তিনি ৮০ বৎসর জীবিত ছিলেন। হাফিজ ইব্ন আসাকির ইহা আবূ হুরায়রা (রা) হইতে মাওকূফরূপে রিওয়ায়াত করিয়াছেন (ইব্ন কাছীর, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ১খ, ১৭৪)।
হযরত ইবরাহীম (আ)-এর ইনতিকালের ব্যাপারে কুরআন ও হাদীছে কোন সুস্পষ্ট বর্ণনা পাওয়া যায় না। ইব্ন আসাকির প্রমুখ ইবরাহীম (আ)-এর নিকট মালাকুল মওত আগমনের বিবিধ বিবরণ দিয়াছেন। কিন্তু তাহার সত্যতা নিশ্চিত নহে। তম্মধ্যে একটি এই যে, মালাকুল মওত এক বৃদ্ধের আকৃতিতে তাঁহার নিকট আগমন করেন। সুদ্দী বর্ণনা করেন যে, ইবরাহীম (আ) ধনী লোক ছিলেন। তাঁহার প্রচুর খাদ্যদ্রব্য ছিল। তিনি লোকজনকে উহা দ্বারা মেহমানদারী করিতেন। একবার তিনি লোকজনকে আহার করাইতেছিলেন। তখন তিনি এক বৃদ্ধকে দেখিতে পাইলেন, যে রৌদ্রে হাঁটিয়া যাইতেছিল। তখন তিনি একটি গাধা প্রেরণ করিয়া তাহাকে আনাইলেন এবং আহার করিতে দিলেন। বৃদ্ধ তাহার মুখে আহার দিতে গিয়া একবার চোখের মধ্যে দিলেন, একবার কানের মধ্যে দিলেন। অতঃপর এক লোকমা যখন মুখে দিলেন তখন উহা পেটের মধ্য দিয়া তাহার মলদ্বার দিয়া বাহির হইয়া গেল। ইবরাহীম (আ) পূর্বে আল্লাহ্র নিকট দরখাস্ত করিয়া রাখিয়াছিলেন যে, তাহার রূহ যিনি কবয করিবেন তাঁহাকে তিনি মৃত্যু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিয়া লইবেন। বৃদ্ধের এই হাল দেখিয়া তিনি তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, হে বৃদ্ধ! তোমার কি অবস্থা? এইরূপ করিতেছ কেন? বৃদ্ধ বলিল, ইবরাহীম! বয়সের ভারে আমার আজ এই অবস্থা’। ইবরাহীম (আ) জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমার বয়স কত? বৃদ্ধ বলিল, এত... এত....। ইবরাহীম (আ) হিসাব করিয়া দেখিলেন, বৃদ্ধের বয়স তাঁহার বয়স হইতে মাত্র দুই বৎসর বেশী। ইবরাহীম (আ) তাহাকে বলিলেন, তোমার ও আমার মধ্যে মাত্র দুই বৎসরের ব্যবধান। আমি যখন তোমার বয়সে উপনীত হইব তখন তো তোমার মতই হইয়া যাইব। বৃদ্ধ বলিল, হ্যাঁ। ইবরাহীম (আ) দু'আ করিলেন, হে আল্লাহ! আমাকে তাহার পূর্বেই উঠাইয়া লউন। বৃদ্ধ তখন উঠিয়া দাঁড়াইল এবং তাঁহার জান কবয করিল। এই বৃদ্ধই ছিলেন মালাকুল মওত। ইবরাহীম (আ)-এর বয়স ছিল তখন ২০০, মতান্তরে ১৯৫ ও ১৭৫ বৎসর (আত-তাবারী, তারীখ, ১খ., ১৬০-১৬১; আছ-ছা'লাবী, কাসাসুল-আম্বিয়া, পৃ. ১০৪)।
কাহারও কাহারও বর্ণনামতে তিনি আকস্মিকভাবে ইনতিকাল করেন। আহলে কিতাবদের বর্ণনামতে তিনি রোগাক্রান্ত হইয়া ১৭৫, মতান্তরে ১৯৫ বৎসর বয়সে ইনতিকাল কলেন। তাঁহাকে কানআনে অবস্থিত হেবরূন নামক গ্রামের সেই স্থানে দাফন করা হয় যাহা তিনি স্বীয় স্ত্রী সারাকে কবর দেওয়ার জন্য ইফরূন আল-হায়ছী নামক এক ব্যক্তির নিকট হইতে ৪০০ মিছকালের বিনিময়ে ক্রয় করিয়াছিলেন এবং সারাকে সেখানে দাফন করিয়াছিলেন। পুত্র ইসমাঈল ও ইসহাক (আ) মিলিয়া তাঁহাকে উক্ত স্থানে সারার নিকট দাফন করেন (ইব্ন কাছীর, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ১খ, ১৭৪)। উক্ত স্থানের নামকরণ করা হইয়াছে 'মাদীনাতুল-খালীল'। বর্তমানেও এই নামই প্রচলিত আছে। পূর্বে ইহার নাম ছিল কারয়া আওবা' ( قرية أوبع ) (আবদুল ওয়াহ্হাব আন-নাজ্জার, কাসাসুল আম্বিয়া, পৃ. ১১০)। ইহা হেবরূনেরই একটি অংশ। বর্তমানে গোটা হিবরূনকেই 'মাদীনাতুল খালীল' বলা হয়। ইবনুল-কালবীর বর্ণনামতে ইবরাহীম (আ) ২০০ বৎসর জীবিত ছিলেন। আবূ হাতিম ইবন হিববান তাঁহার সাহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করিয়াছেন যে, মুফাদ্দাল ইবন মুহাম্মদ জুনদী সূত্রে আবূ হুরায়রা (রা) হইতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (স) বলেন, ইবরাহীম (আ) কাদূম নামক স্থানে (কাহারো কাহারো মতে কাদূম নামক অস্ত্রের সাহায্যে) খাতনা করেন। তখন তাঁহার বয়স হইয়াছিল ১২০ বৎসর। ইহার পর তিনি ৮০ বৎসর জীবিত ছিলেন। হাফিজ ইব্ন আসাকির ইহা আবূ হুরায়রা (রা) হইতে মাওকূফরূপে রিওয়ায়াত করিয়াছেন (ইব্ন কাছীর, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ১খ, ১৭৪)।