📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হজ্জের ঘোষণা

📄 হজ্জের ঘোষণা


কা'বা গৃহের নির্মাণকর্ম সমাপ্ত হওয়ার পর আল্লাহ তা'আলা ইবরাহীম (আ)-কে হজ্জের ঘোষণা দেওয়ার নির্দেশ দেন। কুরআন কারীমে ইরশাদ হইয়াছে:
وَاذِّنْ فِي النَّاسِ بِالْحَجِّ يَأْتُوكَ رِجَالًا وَعَلَى كُلِّ ضَامِرٍ يَأْتِينَ مِنْ كُلِّ فَجٍّ عَمِيقٍ لِيَشْهَدُوا مَنَافِعَ لَهُمْ وَيَذْكُرُوا اسْمَ اللهِ فِي أَيَّامٍ مَّعْلُومَاتٍ عَلَى مَا رَزَقَهُمْ مِنْ بَهِيمَةِ الأَنْعَامِ فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْبَائِسَ الْفَقِيرَ. (۲۲:۲۷-۲۸)
"এবং মানুষের নিকট হজ্জের ঘোষণা করিয়া দাও। উহারা তোমার নিকট আসিবে পদব্রজে ও সর্বপ্রকার ক্ষীণকায় উষ্ট্রসমূহের পিঠে, ইহারা আসিবে দূর-দূরান্ত পথ অতিক্রম করিয়া যাহাতে তাহারা তাহাদের কল্যাণময় স্থানগুলিতে উপস্থিত হইতে পারে এবং তিনি তাহাদিগকে চতুষ্পদ জন্তু হইতে যাহা রিযক হিসাবে দান করিয়াছেন উহার উপর নির্দিষ্ট দিনগুলিতে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করিতে পারে। অতঃপর তোমরা উহা হইতে আহার কর এবং দুস্থ ও অভাবগ্রস্তকে আহার করাও" (২২ঃ ২৭-২৮)।
বর্ণিত আছে যে, ইবরাহীম (আ)-কে যখন হজ্জের ঘোষণা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হইল তখন তিনি বলিলেন, হে আমার প্রতিপালক! এই ঘোষণা আমি কিভাবে মানুষের নিকট পৌঁছাইব, আমার আওয়ায তো তাহাদের পর্যন্ত যাইবে না? আল্লাহ তা'আলা বলিলেন, তুমি ঘোষণা দাও, পৌছাইবার দায়িত্ব আমার। অতঃপর তিনি মাকামে ইবরাহীমে দাঁড়াইয়া গেলেন। এক বর্ণনামতে তিনি পাথরের উপর দাঁড়াইয়াছিলেন, অপর এক বর্ণনাতে সাফা পর্বতে, ভিন্নমতে আবূ কুবায়স পর্বতে দাঁড়াইয়া বলিলেন, "হে লোকসকল! তোমাদের প্রতিপালক একটি গৃহ নির্মাণ করিয়াছেন; তোমরা উহার হজ্জ কর।" বর্ণিত আছে যে, এই ঘোষণার সময় পাহাড়সমূহ নীচু হইয়া যায়, বিশ্বের সর্বত্র তাঁহার আওয়ায পৌছিয়া যায় এবং মাতৃগর্ভে ও পিতৃ ঔরসে যাহারা রহিয়াছে সকলেই উহা শুনিতে পায়। পাথর, কাঁচা-পাকা ঘরবাড়ী, গাছপালা ও কিয়ামত পর্যন্ত যাহাদের তাকদীরে আল্লাহ তা'আলা হাজ্জ লিখিয়াছেন- তাহারা সকলেই উহা শুনিয়াছে এবং উহার উত্তর দিয়াছে। এইজন্য হজ্জ আদায়কারী বলিয়া থাকে, لبيك اللهم لبيك "আমি হাজির হে আল্লাহ! আমি হাজির" (ইব্‌ন কাছীর, তাফসীরুল কুরআনিল আযীম, ৩খ, ২১৬)। ইবরাহীম ও ইসমাঈল (আ) নিজেদের হাজ্জ সমাপনের নিয়ম-কানুন জানাইয়া দেওয়ার জন্য আল্লাহ্র নিকট দু'আ করেন এবং ভুল-ত্রুটি হইতে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তাঁহাদিগকে পূর্ণ অনুগত করার জন্যও দু'আ করেন। ইরশাদ হইয়াছে: رَبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ وَمِنْ ذُرِّيَّتِنَا أُمَّةً مُسْلِمَةً لَكَ وَآرِنَا مَنَاسِكَنَا وَتُبْ عَلَيْنَا إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ - (۲:۱۲۸)
"হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের উভয়কে তোমার একান্ত অনুগত কর এবং আমাদের বংশধর হইতে তোমার এক অনুগত উম্মত করিও। আমাদিগকে ইবাদতের (অর্থাৎ হজ্জের) নিয়ম-কানুন দেখাইয়া দাও এবং আমাদের প্রতি ক্ষমাশীল হও। তুমি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু" (২ঃ ১২৮)।
তাঁহারা আরো দু'আ করিয়াছেন যে, তাঁহাদের বংশধরদের মধ্যে যেন আল্লাহ একজন মহান রাসূল প্রেরণ করেন, যিনি উম্মাতকে হিদায়াত করিবেন। কুরআন কারীমে ইরশাদ হইয়াছে: رَبَّنَا وَابْعَثْ فِيهِمْ رَسُولًا مِّنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ ابْتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ الكتب والحِكْمَةَ وَيُزَكِّيهِمْ إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ (۲:۱۲۹)
"হে আমাদের প্রতিপালক! তাহাদের মধ্য হইতে তাহাদের নিকট এক রাসূল প্রেরণ করিও যে তোমার আয়াতসমূহ তাহাদের নিকট তিলাওয়াত করিবে, তাহাদিগকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দিবে এবং তাহাদিগকে পবিত্র করিবে। তুমি তো পরাক্রমশীল, প্রজ্ঞাময়" (২ঃ ১২৯)।
আল্লাহ তা'আলা তাঁহাদের এই দু'আ কবুল করিয়াছিলেন। অতঃপর ইসমাঈল (আ)-এর বংশে প্রেরণ করেন সর্বশেষ নবী হয়রত মুহাম্মাদ (স)-কে তাই রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন, "আমি আল্লাহ্র নিকট রক্ষিত উম্মুল কিতাবে 'খাতামুন নাবিয়্যীন' হিসাবেই লিপিবদ্ধ ছিলাম। আর তখন আদম (আ)-এর রূহ দেহে প্রবেশ করে নাই। অতি সত্ত্বর আমি তোমাদিগকে ইহার ব্যাখ্যা দিব। আমি হইলাম আমার আদি পিতা ইবরাহীমের দু'আ এবং ঈসা (আ)-এর সুসংবাদ” (আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৪খ, ১২৭-১২৮; ডঃ সালাহ আল-খালিদী, আল-কাসাসুল-কুরআনী, ১খ, ৪০৯)।
আবু উমামা (রা) বলেন, আমি বলিলাম ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার প্রথম সৃষ্টি কিভাবে? তিনি বলিলেন, "আমি ইবরাহীমের দু'আ ও ঈসার সুসংবাদ। আমার মাতা এমন আলোকচ্ছটা দেখিয়াছিলেন যাহা দ্বারা শাম-এর প্রাসাদসমূহ আলোকিত হইয়া গিয়াছিল” (আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৫খ, ২৬২)। বায়তুল্লাহ নির্মাণের পর ইবরাহীম (আ) আরো দীর্ঘদিন জীবিত ছিলেন (আবদুল ওয়াহ্হাব নাজ্জার, কাসাসুল-কুরআন, পৃ. ১০৬)।

কা'বা গৃহের নির্মাণকর্ম সমাপ্ত হওয়ার পর আল্লাহ তা'আলা ইবরাহীম (আ)-কে হজ্জের ঘোষণা দেওয়ার নির্দেশ দেন। কুরআন কারীমে ইরশাদ হইয়াছে:
وَاذِّنْ فِي النَّاسِ بِالْحَجِّ يَأْتُوكَ رِجَالًا وَعَلَى كُلِّ ضَامِرٍ يَأْتِينَ مِنْ كُلِّ فَجٍّ عَمِيقٍ لِيَشْهَدُوا مَنَافِعَ لَهُمْ وَيَذْكُرُوا اسْمَ اللهِ فِي أَيَّامٍ مَّعْلُومَاتٍ عَلَى مَا رَزَقَهُمْ مِنْ بَهِيمَةِ الأَنْعَامِ فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْبَائِسَ الْفَقِيرَ. (۲۲:۲۷-۲۸)
"এবং মানুষের নিকট হজ্জের ঘোষণা করিয়া দাও। উহারা তোমার নিকট আসিবে পদব্রজে ও সর্বপ্রকার ক্ষীণকায় উষ্ট্রসমূহের পিঠে, ইহারা আসিবে দূর-দূরান্ত পথ অতিক্রম করিয়া যাহাতে তাহারা তাহাদের কল্যাণময় স্থানগুলিতে উপস্থিত হইতে পারে এবং তিনি তাহাদিগকে চতুষ্পদ জন্তু হইতে যাহা রিযক হিসাবে দান করিয়াছেন উহার উপর নির্দিষ্ট দিনগুলিতে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করিতে পারে। অতঃপর তোমরা উহা হইতে আহার কর এবং দুস্থ ও অভাবগ্রস্তকে আহার করাও" (২২ঃ ২৭-২৮)।
বর্ণিত আছে যে, ইবরাহীম (আ)-কে যখন হজ্জের ঘোষণা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হইল তখন তিনি বলিলেন, হে আমার প্রতিপালক! এই ঘোষণা আমি কিভাবে মানুষের নিকট পৌঁছাইব, আমার আওয়ায তো তাহাদের পর্যন্ত যাইবে না? আল্লাহ তা'আলা বলিলেন, তুমি ঘোষণা দাও, পৌছাইবার দায়িত্ব আমার। অতঃপর তিনি মাকামে ইবরাহীমে দাঁড়াইয়া গেলেন। এক বর্ণনামতে তিনি পাথরের উপর দাঁড়াইয়াছিলেন, অপর এক বর্ণনাতে সাফা পর্বতে, ভিন্নমতে আবূ কুবায়স পর্বতে দাঁড়াইয়া বলিলেন, "হে লোকসকল! তোমাদের প্রতিপালক একটি গৃহ নির্মাণ করিয়াছেন; তোমরা উহার হজ্জ কর।" বর্ণিত আছে যে, এই ঘোষণার সময় পাহাড়সমূহ নীচু হইয়া যায়, বিশ্বের সর্বত্র তাঁহার আওয়ায পৌছিয়া যায় এবং মাতৃগর্ভে ও পিতৃ ঔরসে যাহারা রহিয়াছে সকলেই উহা শুনিতে পায়। পাথর, কাঁচা-পাকা ঘরবাড়ী, গাছপালা ও কিয়ামত পর্যন্ত যাহাদের তাকদীরে আল্লাহ তা'আলা হাজ্জ লিখিয়াছেন- তাহারা সকলেই উহা শুনিয়াছে এবং উহার উত্তর দিয়াছে। এইজন্য হজ্জ আদায়কারী বলিয়া থাকে, لبيك اللهم لبيك "আমি হাজির হে আল্লাহ! আমি হাজির" (ইব্‌ন কাছীর, তাফসীরুল কুরআনিল আযীম, ৩খ, ২১৬)। ইবরাহীম ও ইসমাঈল (আ) নিজেদের হাজ্জ সমাপনের নিয়ম-কানুন জানাইয়া দেওয়ার জন্য আল্লাহ্র নিকট দু'আ করেন এবং ভুল-ত্রুটি হইতে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তাঁহাদিগকে পূর্ণ অনুগত করার জন্যও দু'আ করেন। ইরশাদ হইয়াছে: رَبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ وَمِنْ ذُرِّيَّتِنَا أُمَّةً مُسْلِمَةً لَكَ وَآرِنَا مَنَاسِكَنَا وَتُبْ عَلَيْنَا إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ - (۲:۱۲۸)
"হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের উভয়কে তোমার একান্ত অনুগত কর এবং আমাদের বংশধর হইতে তোমার এক অনুগত উম্মত করিও। আমাদিগকে ইবাদতের (অর্থাৎ হজ্জের) নিয়ম-কানুন দেখাইয়া দাও এবং আমাদের প্রতি ক্ষমাশীল হও। তুমি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু" (২ঃ ১২৮)।
তাঁহারা আরো দু'আ করিয়াছেন যে, তাঁহাদের বংশধরদের মধ্যে যেন আল্লাহ একজন মহান রাসূল প্রেরণ করেন, যিনি উম্মাতকে হিদায়াত করিবেন। কুরআন কারীমে ইরশাদ হইয়াছে: رَبَّنَا وَابْعَثْ فِيهِمْ رَسُولًا مِّنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ ابْتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ الكتب والحِكْمَةَ وَيُزَكِّيهِمْ إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ (۲:۱۲۹)
"হে আমাদের প্রতিপালক! তাহাদের মধ্য হইতে তাহাদের নিকট এক রাসূল প্রেরণ করিও যে তোমার আয়াতসমূহ তাহাদের নিকট তিলাওয়াত করিবে, তাহাদিগকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দিবে এবং তাহাদিগকে পবিত্র করিবে। তুমি তো পরাক্রমশীল, প্রজ্ঞাময়" (২ঃ ১২৯)।
আল্লাহ তা'আলা তাঁহাদের এই দু'আ কবুল করিয়াছিলেন। অতঃপর ইসমাঈল (আ)-এর বংশে প্রেরণ করেন সর্বশেষ নবী হয়রত মুহাম্মাদ (স)-কে তাই রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন, "আমি আল্লাহ্র নিকট রক্ষিত উম্মুল কিতাবে 'খাতামুন নাবিয়্যীন' হিসাবেই লিপিবদ্ধ ছিলাম। আর তখন আদম (আ)-এর রূহ দেহে প্রবেশ করে নাই। অতি সত্ত্বর আমি তোমাদিগকে ইহার ব্যাখ্যা দিব। আমি হইলাম আমার আদি পিতা ইবরাহীমের দু'আ এবং ঈসা (আ)-এর সুসংবাদ” (আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৪খ, ১২৭-১২৮; ডঃ সালাহ আল-খালিদী, আল-কাসাসুল-কুরআনী, ১খ, ৪০৯)।
আবু উমামা (রা) বলেন, আমি বলিলাম ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার প্রথম সৃষ্টি কিভাবে? তিনি বলিলেন, "আমি ইবরাহীমের দু'আ ও ঈসার সুসংবাদ। আমার মাতা এমন আলোকচ্ছটা দেখিয়াছিলেন যাহা দ্বারা শাম-এর প্রাসাদসমূহ আলোকিত হইয়া গিয়াছিল” (আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৫খ, ২৬২)। বায়তুল্লাহ নির্মাণের পর ইবরাহীম (আ) আরো দীর্ঘদিন জীবিত ছিলেন (আবদুল ওয়াহ্হাব নাজ্জার, কাসাসুল-কুরআন, পৃ. ১০৬)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 আল-মাসজিদুল আকসা নির্মাণ

📄 আল-মাসজিদুল আকসা নির্মাণ


বায়তুল মাকদিস-এ অবস্থিত আল-মাসজিদুল আকসাও সর্বপ্রথম হযরত ইবরাহীম (আ) নির্মাণ করেন। বায়তুল্লাহ নির্মাণের চল্লিশ বৎসর পর তিনি উহা নির্মাণ করেন। আবূ যার (রা) বলেন, আমি বলিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! পৃথিবীতে সর্বপ্রথম কোন্ মসজিদ নির্মিত হইয়াছে? তিনি বলিলেন, আল-মাসজিদুল-হারাম। আমি বলিলাম, ইহার পর? তিনি বলিলেন, আল-মাসজিদুল আকসা। আমি বলিলাম, এতদোভয়ের মধ্যে ব্যবধান কত? তিনি বলিলেন, চল্লিশ বৎসর (আল-বুখারী, আস-সাহীহ, কিতাবুল- আম্বিয়া/বাদউল-খালক, হাদীছ নং ৩১৫০)।

বায়তুল মাকদিস-এ অবস্থিত আল-মাসজিদুল আকসাও সর্বপ্রথম হযরত ইবরাহীম (আ) নির্মাণ করেন। বায়তুল্লাহ নির্মাণের চল্লিশ বৎসর পর তিনি উহা নির্মাণ করেন। আবূ যার (রা) বলেন, আমি বলিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! পৃথিবীতে সর্বপ্রথম কোন্ মসজিদ নির্মিত হইয়াছে? তিনি বলিলেন, আল-মাসজিদুল-হারাম। আমি বলিলাম, ইহার পর? তিনি বলিলেন, আল-মাসজিদুল আকসা। আমি বলিলাম, এতদোভয়ের মধ্যে ব্যবধান কত? তিনি বলিলেন, চল্লিশ বৎসর (আল-বুখারী, আস-সাহীহ, কিতাবুল- আম্বিয়া/বাদউল-খালক, হাদীছ নং ৩১৫০)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 খতনার সুন্নাত

📄 খতনার সুন্নাত


আল্লাহ তা'আলা ইবরাহীম (আ)-এর নিকট হইতে খতনা করার অঙ্গীকার লইয়াছিলেন। হাদীছে বর্ণিত হইয়াছে যে, ইবরাহীম (আ) কাদ্দম নামক স্থানে বা কাদূম নামক অস্ত্র দ্বারা খতনা করিয়াছিলেন। তখন তাঁহার বয়স ছিল ৮০ বৎসর (বুখারী, কিতাবুল আম্বিয়া, হাদীছ নং ৩১৪০)। অন্য এক বর্ণনামতে তাঁহার ৯৯ বৎসর বয়সকালে তিনি এই সুন্নাত পালন করেন। ইসমাঈল (আ)-এর বয়স ছিল তখন ১৩ বৎসর। তখন ইবরাহীম (আ), ইসমাঈল (আ) এবং ইবরাহীম (আ)-এর যত দাস ছিল সকলেই খাতনা করেন। বারনাবাসের বাইবেলে খতনার কারণস্বরূপ বলা হইয়াছে যে, আদম (আ) যখন স্বীয় প্রভুর নাফরমানী করেন তখন মানত করেন যে, আল্লাহ তওবা কবুল করিলে তিনি শরীরের কোন একটি অঙ্গ কাটিয়া ফেলিবেন। অতঃপর তাঁহার তওবা কবুল হইলে তিনি মানত পূর্ণ করিতে চাহিলেন। কিন্তু কিভাবে তাহা করিবেন সেই ব্যাপারে পেরেশান হইয়া গেলেন। তখন জিবরীল (আ) আসিয়া উক্ত স্থানটি নির্দেশ করিলেন। অতঃপর তিনি উহা কাটিয়া ফেলিলেন। সম্ভবত তাঁহার বংশধরগণ এই সুন্নাত ত্যাগ করিয়াছিল। তাই আল্লাহ তা'আলা ইবরাহীম (আ)-কে উক্ত সুন্নাত জীবিত করার নির্দেশ দেন (আবদুল ওয়াহ্হাব আন-নাজ্জার, কাসাসুল আম্বিয়া, পৃ. ৯৪)।

আল্লাহ তা'আলা ইবরাহীম (আ)-এর নিকট হইতে খতনা করার অঙ্গীকার লইয়াছিলেন। হাদীছে বর্ণিত হইয়াছে যে, ইবরাহীম (আ) কাদ্দম নামক স্থানে বা কাদূম নামক অস্ত্র দ্বারা খতনা করিয়াছিলেন। তখন তাঁহার বয়স ছিল ৮০ বৎসর (বুখারী, কিতাবুল আম্বিয়া, হাদীছ নং ৩১৪০)। অন্য এক বর্ণনামতে তাঁহার ৯৯ বৎসর বয়সকালে তিনি এই সুন্নাত পালন করেন। ইসমাঈল (আ)-এর বয়স ছিল তখন ১৩ বৎসর। তখন ইবরাহীম (আ), ইসমাঈল (আ) এবং ইবরাহীম (আ)-এর যত দাস ছিল সকলেই খাতনা করেন। বারনাবাসের বাইবেলে খতনার কারণস্বরূপ বলা হইয়াছে যে, আদম (আ) যখন স্বীয় প্রভুর নাফরমানী করেন তখন মানত করেন যে, আল্লাহ তওবা কবুল করিলে তিনি শরীরের কোন একটি অঙ্গ কাটিয়া ফেলিবেন। অতঃপর তাঁহার তওবা কবুল হইলে তিনি মানত পূর্ণ করিতে চাহিলেন। কিন্তু কিভাবে তাহা করিবেন সেই ব্যাপারে পেরেশান হইয়া গেলেন। তখন জিবরীল (আ) আসিয়া উক্ত স্থানটি নির্দেশ করিলেন। অতঃপর তিনি উহা কাটিয়া ফেলিলেন। সম্ভবত তাঁহার বংশধরগণ এই সুন্নাত ত্যাগ করিয়াছিল। তাই আল্লাহ তা'আলা ইবরাহীম (আ)-কে উক্ত সুন্নাত জীবিত করার নির্দেশ দেন (আবদুল ওয়াহ্হাব আন-নাজ্জার, কাসাসুল আম্বিয়া, পৃ. ৯৪)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 মৃতকে জীবিত করা স্বচক্ষে দেখার আবেদন

📄 মৃতকে জীবিত করা স্বচক্ষে দেখার আবেদন


হযরত ইবরাহীম (আ) বাল্যকাল হইতেই অজানাকে জানিবার প্রতি কৌতুহলী ছিলেন। তাই আল্লাহ তা'আলা যখন তাঁহার নিকট ওয়াহী পাঠাইলেন যে, তিনি একদিন সকল মৃতকে জীবিত করিবেন এবং সবাইকে একদিন তাঁহার নিকট একত্র করিবেন, অতঃপর সৎকর্মপরায়ণকে প্রতিদান ও পুরস্কার হিসাবে জান্নাত দান করিবেন এবং অসৎকর্মপরায়ণকে তাহার কর্মের প্রতিফল হিসাবে জাহান্নামে নিক্ষেপ করিবেন তখন তিনি মৃতকে আবার কিভাবে জীবিত করিবেন তাহা স্বচক্ষে দেখিবার কৌতুহল জাগিল তাঁহার মধ্যে। তিনি আল্লাহকে বলিলেন, رَبِّ أَرِنِي كَيْفَ تُحْيِ الْمَوْتَى “হে আমার প্রতিপালক! কিভাবে তুমি মৃতকে জীবিত কর তাহা আমাকে দেখাও”। আল্লাহ বলিবেন, أَوَلَمْ تُؤْمِنْ “তবে কি তুমি বিশ্বাস কর না”। তিনি বলিলেন, بَلَى وَلَكِنْ لِيَطْمَئِنَّ قَلْبِي “কেন করিব না, তবে ইহা কেবল আমার চিত্ত প্রশান্তির জন্য।” তখন আল্লাহ তাঁহাকে উহা স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করাইবার জন্য বলিলেন :

হযরত ইবরাহীম (আ) বাল্যকাল হইতেই অজানাকে জানিবার প্রতি কৌতুহলী ছিলেন। তাই আল্লাহ তা'আলা যখন তাঁহার নিকট ওয়াহী পাঠাইলেন যে, তিনি একদিন সকল মৃতকে জীবিত করিবেন এবং সবাইকে একদিন তাঁহার নিকট একত্র করিবেন, অতঃপর সৎকর্মপরায়ণকে প্রতিদান ও পুরস্কার হিসাবে জান্নাত দান করিবেন এবং অসৎকর্মপরায়ণকে তাহার কর্মের প্রতিফল হিসাবে জাহান্নামে নিক্ষেপ করিবেন তখন তিনি মৃতকে আবার কিভাবে জীবিত করিবেন তাহা স্বচক্ষে দেখিবার কৌতুহল জাগিল তাঁহার মধ্যে। তিনি আল্লাহকে বলিলেন, رَبِّ أَرِنِي كَيْفَ تُحْيِ الْمَوْتَى “হে আমার প্রতিপালক! কিভাবে তুমি মৃতকে জীবিত কর তাহা আমাকে দেখাও”। আল্লাহ বলিবেন, أَوَلَمْ تُؤْمِنْ “তবে কি তুমি বিশ্বাস কর না”। তিনি বলিলেন, بَلَى وَلَكِنْ لِيَطْمَئِنَّ قَلْبِي “কেন করিব না, তবে ইহা কেবল আমার চিত্ত প্রশান্তির জন্য।” তখন আল্লাহ তাঁহাকে উহা স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করাইবার জন্য বলিলেন :

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00