📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ফেরেশতাদের আগমন ও পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দান

📄 ফেরেশতাদের আগমন ও পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দান


ইবরাহীম (আ) এই কিত্তা বা কাত্ত নামক স্থানেই বসবাস করিতে থাকেন। তাঁহার নিকট যাহারা আগমন করিত তিনি তাহাদের মেহমানদারী করিতেন। আল্লাহ তা'আলা তাঁহাকে প্রচুর ধন-সম্পদ ও চাকর-বাকর দান করিয়ছিলেন। এই সময় লূত (আ)-এর সম্প্রদায় এক জঘন্য অপকর্ম করিত যাহা বিশ্ববাসীর কেহ ইতিপূর্বে করে নাই। সঙ্গে সঙ্গে লূত (আ)-কে তাহারা অমান্য করিত এবং তাঁহার উপদেশ প্রত্যাখ্যান করিত। অতঃপর তাহাদিগকে শাস্তি দেওয়ার জন্য আল্লাহ এই সময় ফেরেশতা প্রেরণ করেন। তাহারা প্রথমে ইবরাহীম (আ)-এর নিকট আগমন করেন মেহমানের বেশে। ইবরাহীম (আ)-এর অভ্যাস ছিল সব সময় মেহমানকে সঙ্গে লইয়া আহার করা। কিন্তু ইহাদের আগমনের পূর্বে পনের দিন পর্যন্ত কোন মেহমানের আগমন ঘটে নাই। ইহাতে তিনি খুবই বিচলিত ছিলেন। অতঃপর ফেরেশতাগণ মেহমানদের বেশে আগমন করিলে তিনি খুবই খুশী হন। তিনি তাহাদের জন্য একটি ভুনা মাংসল গোবৎস লইয়া আসিলেন। কিন্তু তাহারা উহা না খাইয়া হাত গোটাইয়া বসিয়া রহিলেন। ইবরাহীম (আ) তাহাদিগকে বলিলেন, আপনারা খাইতেছেন না কেন? তাহাদের হস্তসমূহ খাবার স্পর্শ করিতেছে না দেখিয়া ইবরাহীম (আ) শংকিত হইয়া পড়িলেন। তাহারা বলিলেন, আপনি ভীত হইবেন না। আমরা লূত (আ)-এর সম্প্রদায়ের প্রতি প্রেরিত হইয়াছি। তাঁহার স্ত্রী সারা নিকটে দণ্ডায়মান ছিলেন। আর ইবরাহীম (আ) তাহাদের সহিত আহারে বসিয়াছিলেন। তাহারা তাহাদের প্রেরিত হইবার কারণ অবহিত করিলেন এবং তাঁহার পুত্র ইসহাক-এর জন্মের ও ইসহাকের পর ইয়া'কূবের জন্মের সুসংবাদ দিলেন। ইহা শুনিয়া সারা হাসিয়া ফেলিলেন। কুরআন কারীমে উক্ত ঘটনা এইভাবে বর্ণিত হইয়াছে:
وَامْرَأَتُهُ قَائِمَةً فَضَحِكَتْ فَبَشِّرْنُهَا بِإِسْحَقَ وَمِنْ وَرَاءِ اسْحَقَ يَعْقُوبَ. قَالَتْ يُوَيْلَتِي أَلِدُ وَأَنَا عَجُوزٌ وَهُذَا بَعْلِى شَيْئًا إِنْ هَذَا لَشَيْئٌ عَجِيْبٌ । "আর তাহার স্ত্রী দণ্ডায়মান এবং সে হাসিয়া ফেলিল। তারপর আমি তাহাকে ইসহাকের ও ইসহাকের পরবর্তী ইয়া'কূবের সুসংবাদ দিলাম। সে বলিল, কি আশ্চর্য! সন্তানের জননী হইব আমি যখন আমি বৃদ্ধা এবং এই আমার স্বামী বৃদ্ধ! ইহা অবশ্যই একটি অদ্ভুত ব্যাপার। তাহারা বলিল, আল্লাহ্ কাজে তুমি বিস্ময়বোধ করিতেছ? হে পরিবার্বর্গ! তোমাদের প্রতি রহিয়াছে আল্লাহ্ অনুগ্রহ ও কল্যাণ। তিনি তো প্রশংসার্হ ও সম্মানার্হ” (১১: ৭১-৭৩)। সারার এই হাসির কারণ সম্পর্কে আলিমগণ বিভিন্ন রকমের ব্যাখ্যা দিয়াছেন। সুদ্দী বলেন, তাহারা যখন আহার গ্রহণ করিতেছিলেন তখন তিনি বলিয়াছিলেন, কি অদ্ভূত আমাদের এই সকল মেহমান! আমরা তাহাদের সম্মানার্থে প্রাণপণ খেদমত করিতেছি, আর তাহারা আমাদের আহার গ্রহণ করিতেছেন না! কাতাদা বলেন, লুত (আ)-এর সম্প্রদায়ের কর্মকাণ্ড এবং শান্তি নিকটবর্তী জানিয়া তিনি হাসিয়াছিলেন। মুকাতিল ও কালবী বলেন, তিনি ইবরাহীম (আ)-এর ভয় পাওয়ায় হাসিয়াছিলেন। কারণ তিনি চাকর-বাকর ও পরিবার-পরিজন বেষ্টিত থাকিয়া ভয় পাইয়াছিলেন। ইবন আব্বাস (রা) বলেন, তাঁহার ও তাঁহার স্বামীর বার্ধক্যে পৌঁছা সত্ত্বেও সন্তান হওয়ার সংবাদে তিনি হাসিয়াছিলেন। তাঁহার বয়স ছিল তখন ৯০ বৎসর। আর ইবরাহীম (আ)-এর বয়স এই বর্ণনামতে ১২০ বৎসর। কিন্তু বাইবেলের বর্ণনামতে সুসংবাদ দেওয়া এই পুত্র ইসহাক (আ) যখন জন্মগ্রহণ করেন তখন ইবরাহীম (আ)-এর বয়স ১০০ বৎসর (তাবারী, তারীখ, ১খ, ১২৮; ছা'লাবী, কাসাসুল আম্বিয়া; পৃ. ৮৬; Genesis, 21: 5)। তবে মুজাহিদ ও ইকরিমা (র) বলেন, কুরআন কারীমে উল্লিখিত ضحكت শব্দটির অর্থ “তিনি হাসিলেন” নহে; বরং “তিনি ঋতুবতী হইলেন”। আরবী পরিভাষায় ইহার ব্যবহার পাওয়া যায়। যেমন খরগোশ যখন ঋতুবতী হয় তখন বলা হয় ضحكت الارنب "খরগোশটি ঋতুবতী হইয়াছে” (ছা'লাবী, প্রাগুক্ত)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 দূত সম্প্রদায়ের ব্যাপারে বাদানুবাদ

📄 দূত সম্প্রদায়ের ব্যাপারে বাদানুবাদ


হযরত ইবরাহীম (আ) ছিলেন খুবই কোমল হৃদয়। তিনি যখন জানিতে পারিলেন যে, ফেরেশতাগণ লূত সম্প্রদায়কে ধ্বংস করিতে আসিয়াছেন তখন সেই সম্প্রদায়ের প্রতি তাঁহার হৃদয় বিগলিত হইল। তিনি ফেরেশতাদের সহিত তাহাদের ব্যাপারে বাদানুবাদ শুরু করিলেন। তাহাদের প্রতি আল্লাহ্র রহমত কামনা করিলেন। কুরআন কারীমে ইরশাদ হইয়াছে:
فَلَمَّا ذَهَبَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ الرَّوْعُ وَجَاءَتْهُ الْبُشْرَى يُجَادِلُنَا فِي قَوْمٍ لُوطٍ إِنَّ إِبْرَاهِيمَ لَعَلِيمٌ أَوَاهُ مُّنِيبٌ .(١١:٧٤-٧٥) "অতঃপর যখন ইবরাহীমের ভীতি দূরীভূত হইল এবং তাহার নিকট সুসংবাদ আসিল তখন সে লূতের সম্প্রদায়ের সম্বন্ধে আমার সহিত বাদানুবাদ করিতে লাগিল। ইবরাহীম তো অবশ্যই সহনশীল, কোমল হৃদয়, সতত আল্লাহ অভিমুখী” (১১: ৭৪-৭৫)। তাঁহার এই বাদানুবাদের বিষয়টি কুরআন কারীমে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয় নাই, বরং বাইবেলে উহার উল্লেখ রহিয়াছে (আবদুল ওয়াহ্হাব নাজ্জার, কাসাসুল-আম্বিয়া, পৃ. ৯৫)। মুসলিম সীরাতবিদগণও উহার উল্লেখ করিয়াছেন। সাঈদ ইব্‌ন জুবায়র, সুদ্দী, কাতাদা ও মুহাম্মাদ ইব্‌ন ইসহাক প্রমুখ বর্ণনা করিয়াছেন যে, ফেরেশতাগণ বলিলেন যে, আমরা এই জনপদের জীবদ্বাসীদিগকে ধ্বংস করিব। ইবরাহীম (আ) বলিলেন, তোমরা কি এমন জনপদ ধ্বংস করিবে, যেখানে তিন শত মু'মিন রহিয়াছে? তাহারা বলিলেন, না। তিনি বলিলেন, যেখানে দুই শত মু'মিন রহিয়াছে? তাহারা বলিলেন, না। তিনি বলিলেন, চল্লিশজন মু'মিন থাকিলে? তাহারা বলিলেন, না। ইবরাহীম (আ) ধারণা করিয়াছিলেন যে, লূত (আ)-এর স্ত্রীসহ সেখানে চৌদ্দজন মু'মিন রহিয়াছে। তাই তাহাদের কথায় তিনি স্বস্তি লাভ করিলেন এবং চুপ হইয়া গেলেন। ইব্‌ন ইসহাক বলেন, এইভাবে বলিতে বলিতে বলিতে সর্বশেষ বলিলেন, সেখানে একজন মুমিন থাকিলে তোমাদের কি অভিমত? তাহারা বলিলেন, না, একজন মু'মিন থাকিলেও সেই জনপদ আমরা ধ্বংস করিব না। তারপর ইবরাহীম (আ) যখন ফেরেশতাদের নিকট হইতে লূত সম্প্রদায়ের সম্পর্কে অবহিত হইলেন যে, তাহাদিগকে মাটির ঢেলা নিক্ষেপ করিয়া বিলীন করিয়া দেওয়া হইবে (৫১ঃ ৩৩)। তখন লূত (আ)-এর প্রতি স্নেহভরে বলিলেন, إِنَّ فِيهَا لُوْطًا “এই জনপদে তো লূত রহিয়াছে” (২৯ঃ ৩২)। ফেরেশেতাগণ জবাবে বলিলেন, نَحْنُ أَعْلَمُ بِمَنْ فِيْهَا لَنُنَجِّيَنَّهُ وَأَهْلَهُ إِلَّا امْرَأَتَهُ “সেথায় কাহারা আছে, তাহা আমরা ভালো জানি। আমরা তো লূতকে ও তাহার পরিজনবর্গকে রক্ষা করিবই, তাহার স্ত্রীকে ব্যতীত” (২৯ঃ ৩২)। অতঃপর আল্লাহ্র পক্ষ হইতে স্থির সিদ্ধান্ত ঘোষিত হইল : يَا إِبْرَاهِيمُ أَعْرِضْ عَنْ هَذَا إِنَّهُ قَدْ جَاءَ أَمْرُ رَبِّكَ وَإِنَّهُمْ آَتِيهِمْ عَذَابٌ غَيْرُ مَرْدُود. "হে ইবরাহীম! ইহা হইতে বিরত হও। তোমার প্রতিপালকের বিধান আসিয়া পড়িয়াছে; উহাদের প্রতি তো আসিবে এমন শাস্তি যাহা অনিবার্য" (১১:৭৬) (দ্র. ইব্‌ন কাছীর, আল-বিদায়া, ওয়ান-নিহায়া, ১খ, ১৭৮-১৭৯; আত-তাবারী, তারীখ, ১খ, ১৫৩-১৫৪)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 প্রথম পুত্র ইসমাঈল (আ)-এর জন্ম

📄 প্রথম পুত্র ইসমাঈল (আ)-এর জন্ম


আল-কুরআনে ইবরাহীম (আ)-এর প্রথম পুত্র ইসমাঈল (আ)-এর জন্মবৃত্তান্ত বিস্তারিতভাবে উল্লিখিত হয় নাই। বাইবেলের বর্ণনামতে ইবরাহীম (আ) আল্লাহ্র নিকট সুসন্তান প্রার্থনা করেন। আল্লাহ তাঁহাকে উহার সুসংবাদ দেন। কুরআন কারীমেও ইহার উল্লেখ আছে। ইরশাদ হইয়াছে:
رَبِّ هَبْ لِي مِنَ الصَّلِحِينَ فَبَشِّرْنَهُ بِغُلَامٍ حَلِيمٍ (۳۷ : ۱۰۰-۱۰۱) "(ইবরাহীম বলিল,) হে আমার প্রতিপালক! আমাকে এক সৎকর্মপরায়ণ সন্তান দান কর। অতঃপর আমি তাহাকে এক স্থিরবুদ্ধি পুত্রের সুসংবাদ দিলাম" (৩৭ঃ ১০০-১০১)।
পুত্র ইসমাঈল এই কথার সঙ্গে সঙ্গে নির্দ্বিধায় ও সোৎসাহে উত্তর দিলেন: قَالَ يَابَتِ افْعَلْ مَا تُؤْمَرُ سَتَجِدُنِي إِنْ شَاءَ اللهُ مِنَ الصَّابِرِينَ (۳۷:۱۰۲) "সে বলিল, হে আমার পিতা! আপনি যাহা আদিষ্ট হইয়াছেন তাহাই করুন। আল্লাহর ইচ্ছায় আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাইবেন" (৩৭ঃ ১০২)।
কোন কোন ইতিহাসবিদের বর্ণনামতে ইবরাহীম (আ) প্রথমেই যবাহের কথাটি প্রকাশ করেন নাই, বরং যবাহের স্থানে (মিনা) পৌঁছিয়া তাঁহাকে এই কথা জানান এবং ইসমাঈল (আ) তখন উক্ত উত্তর দেন। প্রথমে তাঁহাকে কাষ্ঠ সংগ্রহ করার কথা বলা হইয়াছিল (তাবারী, তারীখ, ১খ., ১৪০-১৪১)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হাজার ও ইসমাঈল (আ)-এর মক্কায় আবাসন

📄 হাজার ও ইসমাঈল (আ)-এর মক্কায় আবাসন


আবদুল্লাহ ইব্‌ন আব্বাস (রা) হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নারীরা ইসমাঈল (আ)-এর মাতার নিকট হইতে সর্বপ্রথম কোমরবন্ধের ব্যবহার রপ্ত করে। তিনি তাঁহার (সতীন) সারা (রা) হইতে স্বীয় চিহ্নাদি লুকাইবার জন্য একটি কোমরবন্ধ ধারণ করেন। অতঃপর ইবরাহীম সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম ইসমাঈলের মাতা ও তাহার দুগ্ধপোষ্য শিশুকে (ইসমাঈল) লইয়া আসিলেন। তাহাদেরকে তিনি একটি প্রকাণ্ড বৃক্ষের নিচে, মসজিদের উচ্চ ভূমিতে যমযমের স্থানে রাখিলেন। সে সময় মক্কায় কোন জনবসতি কিংবা পানির ব্যবস্থা ছিল না। তিনি তাহাদেরকে সেখানে রাখিলেন। আর তাহাদের পাশে এক ঝুড়ি খেজুর ও এক মশক (চামড়ার তৈরি পানির পাত্র) পানি রাখিলেন। অতঃপর ইবরাহীম (আ) তথা হইতে রওয়ানা হইলেন। ইসমাঈলের মাতা তাঁহার পিছনে পিছনে যাইতেছিলেন এবং বলিতেছিলেন, হে ইবরাহীম! আপনি আমাদেরকে এই জনপ্রাণীহীন উপত্যকায় রাখিয়া কোথায় যাইতেছেন? এখানে তো বন্ধু-বান্ধব ও পরিচিত পরিবেশ কিছুই নাই। তিনি তাঁহাকে এই কথা বারবার বলিতে থাকিলেন। কিন্তু ইবরাহীম (আ) তাহার কথায় ভ্রুক্ষেপ করিলেন না। তিনি পুনরায় জিজ্ঞাসা করিলেন, আল্লাহ কি আপনাকে ইহার নির্দেশ দিয়াছেন? ইবরাহীম (আ) বলিলেনঃ হাঁ। তখন ইসমাঈলের মাতা বলিলেন, তবে আল্লাহ আমাদেরকে ধ্বংস করিবেন না। অতঃপর তিনি স্বস্থানে ফিরিয়া আসিলেন। ইবরাহীম সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বিদায় হইলেন। তিনি তাহাদের দৃষ্টিসীমার বাহিরে 'সানিয়াহ্' নামক স্থানে পৌঁছিয়া কা'বা ঘরের দিকে মুখ ফিরাইলেন এবং দুই হাত তুলিয়া দু'আ করিলেনঃ "হে আমাদের প্রতিপালক! আমি পানি ও তরুলতাশূন্য উষর এক প্রান্তরে আমার সন্তানদের একটি অংশ তোমার মহাসম্মানিত ঘরের কাছে আনিয়া বসবাসের জন্য রাখিয়া গেলাম। .... অতএব তুমি লোকদের অন্তরকে তাহাদের প্রতি অনুরক্ত করিয়া দাও, ফলমূল হইতে তাহাদেরকে খাবার দান কর, যেন তাহারা কৃতজ্ঞ ও শোকরকারী বান্দাহ হইতে পারে" (১৪:৩৭)।
ইসমাঈলের মাতা ইসমাঈলকে বুকের দুধ পান করাইয়া লালন-পালন করিতে লাগিলেন। তিনি নিজে মশকের পানি পান করিতে থাকিলেন। পরিশেষে পাত্রের পানি শেষ হইয়া গেল, তিনি নিজে এবং তাঁহার সন্তান পিপাসাকাতর হইয়া পড়িলেন। তিনি দেখিলেন যে, তাঁহার দুগ্ধপোষ্য শিশু পিপাসায় ছটফট করিতেছে। তিনি তাহা সহ্য করিতে না পারিয়া উঠিয়া চলিয়া গেলেন। সেখানে সাফা পাহাড়কে তিনি তাঁহার সর্বাধিক নিকটে দেখিতে পাইলেন। তিনি সাফা পাহাড়ে উঠিয়া চারিদিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করিলেন। উপত্যকার দিকে এই আশায় তাকাইলেন যে, কাহারো দেখা পাওয়া যায় কি না, কিন্তু কাহারো দেখা পাইলেন না। অতএব তিনি সাফা পাহাড় হইতে নামিয়া আসিলেন এবং উপত্যকা পার হইয়া মারওয়া পাহাড়ের পাদদেশে পৌছিয়া তাহাতে আরোহণ করিলেন। পাহাড়ের উপর দাঁড়াইয়া তিনি এদিক-সেদিক তাকাইয়া দেখিলেন কাহাকেও দেখা যায় কি না, কিন্তু কোন লোকজন দেখিতে পাইলেন না। এমনিভাবে তিনি দুই পাহাড়ের মাঝখানে সাতবার দৌড়াইলেন। আবদুল্লাহ ইব্‌ন আব্বাস (রা) বর্ণনা করিয়াছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন : এই কারণেই লোকেরা (হজ্জের সময়) উভয় পাহাড়ের মধ্যে দৌড়াইয়া (সাঈ করিয়া) থাকে। ইসমাঈলের মা (শেষবারের মত) দৌড়াইয়া মারওয়া পাহড়ে উঠিলে একটি শব্দ শুনিতে পাইলেন। তিনি নিজেকে লক্ষ্য করিয়া বলিলেন, কি ব্যাপার! আওয়াজ শুনিতে পাইলাম যেন। অতঃপর তিনি শব্দের প্রতি কান খাড়া করিলেন। তিনি আবার শব্দ শুনিতে পাইলেন এবং মনে মনে বলিলেন, তুমি আমাকে আওয়াজ শুনাইলে, হয়তো তোমার কাছে আমার বিপদের কোন প্রতিকার আছে। হঠাৎ তিনি (বর্তমান) যমযমের কাছে একজন ফেরেশতাকে দেখিতে পাইলেন। তিনি তাহার পায়ের গোড়ালি দিয়া মাটি খুঁড়িতেছিলেন এবং এইভাবে পানি ফুটিয়া বাহির হইল। তিনি ইহার চারিপাশে বাঁধ দিলেন এবং অঞ্জলি ভরিয়া মশকে পানি ভরিতে লাগিলেন। তিনি মশকে পানি ভরিতে ছিলেন, এদিকে পানি উথলিয়া পড়িতে থাকিল। অন্য বর্ণনায় আছে, তিনি মশক ভরিয়া পানি রাখিলেন। ইব্‌ন আব্বাস (রা) বর্ণনা করিয়াছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলিয়াছেন : ইসমাঈলের মায়ের উপর আল্লাহ্র রহমত বর্ষিত হউক। যদি তিনি যমযমকে ঐ অবস্থায় রাখিয়া দিতেন, অথবা বলিয়াছেন : তাহা হইতে যদি মশক ভরিয়া তিনি পানি না রাখিতেন, তবে যমযম একটি প্রবহমান ঝর্ণায় পরিণত হইত। নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলিয়াছেন : তিনি পানি পান করিলেন এবং তাঁহার সন্তানকে দুধ পান করাইলেন। ফেরেশতা তাঁহাকে বলিলেন, আপনি ধ্বংস হইয়া যাওয়ার ভয় করিবেন না। কেননা এখানে আল্লাহর ঘরের স্থান নির্দিষ্ট আছে, যাহা এই ছেলে ও তাহার পিতা নির্মাণ করিবেন। আল্লাহ এখানকার বাসিন্দাদেরকে ধ্বংস করেন না। ঘটনাক্রমে বনী জুরহুমের কাফেলা অথবা বনী জুরহুম গোত্রের লোক এই পথ ধরিয়া 'কাদাআ' নামক স্থান দিয়া আসিতেছিল। তাহারা মক্কার নিম্নভূমিতে পৌঁছিলে সেখানে কিছু পাখি বৃত্তাকারে উড়িতে দেখিয়া বলিল, এসব পাখি নিশ্চয়ই পানির উপর চক্কর খাইতেছে। আমরা তো এই মরুভূমিতে আসিয়াছি অনেক দিন হইল, কিন্তু কোথাও পানি দেখি নাই। তাহারা একজন অথবা দুইজন অনুসন্ধানকারীকে খোঁজ নেওয়ার জন্য পাঠাইল। তাহারা গিয়া পানি দেখিতে পাইল এবং ফিরিয়া গিয়া তাহাদেরকে জানাইল। কাফেলার লোকেরা অনতিবিলম্বে পানির দিকে চলিয়া আসিল। ইসমাঈলের মাতা তখন পানির কাছে বসা ছিলেন। তাহারা আসিয়া তাহাকে বলিল, আপনি কি আমাদেরকে এখানে আসিয়া অবস্থান করার অনুমতি দিবেন? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ, কিন্তু পানির উপর তোমাদের কোন মালিকানা স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত হইবে না। তাহারা বলিল, হাঁ, তাহাই হইবে। আবদুল্লাহ ইব্‌ন আব্বাস (রা) বর্ণনা করিয়াছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলিয়াছেন : ইসমাঈলের মায়ের উদ্দেশ্য ছিল তাহাদের সহিত পরিচিত হইয়া একটা অন্তরংগ ও সহানুভূতিসম্পন্ন পরিবেশ গড়িয়া তোলা। ঐ সকল লোক অসিয়া এখানে বসতি স্থাপন করিল এবং কাফেলার অন্যান্য লোকও তাহাদের পরিবার-পরিজনদেরকে ডাকিয়া আনিল। অবশেষে সেখানে বেশ কয়েক ঘর বসতি গড়িয়া উঠিল। ইসমাঈল যৌবনে পদার্পণ করিলেন এবং তাহাদের নিকট হইতে আরবী ভাষা শিখিলেন। তাঁহার স্বাস্থ্য-চেহারা ও সুরুচিপূর্ণ জীবন তাহারা খুবই পছন্দ করিল। তিনি বড় হইলে ঐ লোকেরা তাহাদের এক কন্যার সহিত তাঁহার বিবাহ দিল। ইতিমধ্যে ইসমাঈলের মা ইন্তিকাল করিলেন। ইসমাঈলের বিবাহের পর ইবরাহীম (আ) মক্কায় আসিলেন নিজের রাখিয়া যাওয়া পরিজনের খোঁজে। তিনি ইসমাঈলকে বাড়িতে পাইলেন না। তিনি পুত্রবধূর কাছে জিজ্ঞাসা করিলেন, ইসমাঈল কোথায় গিয়াছে? সে বলিল, খাদ্যের সংস্থান করার জন্য তিনি বাহিরে গিয়াছেন। অন্য বর্ণনায় আছে : তিনি শিকারে বাহির হইয়াছেন। ইবরাহীম (আ) তাহাদের জীবনযাত্রা ও সাংসারিক বিষয়াদির খোঁজ নিলেন। পুত্রবধূ বলিল, আমরা খুব খারাপ অবস্থায় আছি। কঠোরতা ও সংকীর্ণতা আমাদেরকে গ্রাস করিয়াছে। এসব কথা বলিয়া সে অভিযোগ করিল। তিনি বলিলেন, তোমার স্বামী আসিলে তাহাকে আমার সালাম জানাইয়া বলিবে, সে যেন তাহার ঘরের দরজার চৌকাঠ পরিবর্তন করে। বাড়ী ফিরিয়া ইসমাঈল (আ) যেন কিছু অনুভব করিতে পারিলেন। তিনি স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করিলেন, কেহ আসিয়াছিলেন নাকি? স্ত্রী বলিল, হাঁ! আমার কাছে একজন সুন্দর সুঠাম বৃদ্ধ লোক আসিয়াছিলেন। স্ত্রী বৃদ্ধের কিছু প্রশংসাও করিল। তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, কিভাবে আমাদের জীবিকা ও ভরণপোষণ চলিতেছে? আমি বলিলাম, আমরা বেশ ভাল আছি। ইসমাঈল (আ) জিজ্ঞাসা করিলেন, তিনি কি তোমাকে কোন কথা বলিয়া গিয়াছেন? স্ত্রী বলিল, হাঁ! তিনি আপনাকে সালাম পৌঁছাইতে বলিয়াছেন এবং আপনাকে আপনার ঘরের চৌকাঠ পরিবর্তন করিতে বলিয়াছেন। ইসমাঈল (আ) বলিলেন, তিনি আমার পিতা। তিনি তোমাকে পরিত্যাগ করিতে আদেশ দিয়াছেন। সুতরাং তুমি তোমার পরিবার-পরিজনের কাছে চলিয়া যাও। পরে তিনি তাহাকে তালাক দিলেন এবং ঐ গোত্রেরই অন্য এক মেয়েকে বিবাহ করিলেন। আল্লাহর ইচ্ছামত ইবরাহীম (আ) বেশ কিছু দিন আর এদিকে আসেন নাই। পরে তিনি যখন আবার আসিলেন তখনও ইসমাঈলের সাথে তাঁহার দেখা হইল না। পুত্রবধূর কাছে গিয়া ইসমাঈলের কথা জিজ্ঞাসা করিলে সে বলিল, তিনি আমাদের খাদ্যের সন্ধানে গিয়াছেন। তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমরা কেমন আছ? তিনি তাহাদের সাংসারিক জীবন ও অন্যান্য বিষয়েও জানিতে চাহিলেন। ইসমাঈলের স্ত্রী বলিল, আমরা খুব ভাল এবং স্বচ্ছল অবস্থায় দিন যাপন করিতেছি। এই কথা বলিয়া সে মহান আল্লাহ্ প্রশংসা করিল। ইবরাহীম (আ) জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমরা কি খাও? পুত্রবধূ বলিল, গোস্ত। তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, কি পান কর? সে বলিল, পানি। তখন ইবরাহীম (আ) দু'আ করিলেনঃ হে আল্লাহ! ইহাদের গোস্ত ও পানিতে বরকত দান করুন। নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলিয়াছেন: সেই সময় তাহাদের কাছে কোন খাদ্যশস্য ছিল না, যদি থাকিত তাহা হইলে ইবরাহীম (আ) তাহাদের খাদ্যশস্যেও বরকতের দু'আ করিতেন। এইজন্যই মক্কা ছাড়া অন্য কোথায়ও শুধু গোস্ত ও পানির উপর নির্ভর করিলে তাহা স্বাস্থ্যের জন্য অনুকূল হয় না। ইবরাহীম (আ) বলিলেন, তোমার স্বামী ফিরিয়া আসিলে তাহাকে আমার সালাম জানাইয়া বলিবে, সে যেন তাহার ঘরের চৌকাঠ হিফাজত করিয়া রাখে। ইসماঈল (আ) ফিরিয়া আসিয়া স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমার কাছে কেহ কি আসিয়াছিল? স্ত্রী বলিল, হাঁ! আমার কাছে একজন সুন্দর সুঠাম বৃদ্ধ লোক আসিয়াছিলেন। স্ত্রী বৃদ্ধের কিছু প্রশংসাও করিল। তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, কিভাবে আমাদের জীবিকা ও ভরণপোষণ চলিতেছে? আমি বলিলাম, আমরা বেশ ভাল আছি। ইসমাঈল (আ) জিজ্ঞাসা করিলেন, তিনি কি তোমাকে কোন কথা বলিয়া গিয়াছেন? স্ত্রী বলিল, হাঁ! তিনি আপনাকে সালাম পৌঁছাইতে বলিয়াছেন এবং আপনাকে আপনার ঘরের চৌকাঠ পরিবর্তন করিতে বলিয়াছেন। ইসমাঈল (আ) বলিলেন, তিনি আমার পিতা এবং তুমি ঘরের চৌকাঠ। তিনি আমাকে তোমার সহিত বৈবাহিক সম্পর্ক সুদৃঢ় রাখার নির্দেশ দিয়া গিয়াছেন। ইবরাহীম (আ) আল্লাহ্র ইচ্ছায় বেশ কিছু দিন পর্যন্ত আর এখানে আসেন নাই। একদিন ইসমাঈল (আ) যমযম কূপের পাশে একটি প্রকাণ্ড বৃক্ষের নিচে বসিয়া তাঁহার তীর ঠিক করিতেছিলেন। এমন সময় ইবরাহীম (আ) আসিলেন। ইসমাঈল (আ) পিতাকে দেখিয়া উঠিয়া আগাইয়া গেলেন। অতঃপর যেভাবে পিতা পুত্রের সঙ্গে এবং পুত্র পিতার সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করিয়া থাকে, তাঁহারাও তাহাই করিলেন। তিনি বলিলেন, হে ইসমাঈল! আল্লাহ্ আমাকে একটি কাজের নির্দেশ দিয়াছেন। ইসমাঈল (আ) বলিলেন, আপনার প্রভু আপনাকে যে কাজের নির্দেশ দিয়াছেন তাহা আঞ্জাম দিন। তিনি বলিলেন, তুমি এই কাজে আমাকে সাহায্য কর। পুত্র বলিলেন, আমি আপনাকে অবশ্যই সাহায্য করিব। ইবরাহীম (আ) বলিলেন, আল্লাহ আমাকে এখানে একখানা ঘর নির্মাণ করার নির্দেশ দিয়াছেন। এই কথা বলিয়া তিনি একটি উঁচু টিলার দিকে ইশারা করিয়া বলিলেন, ইহার চারিদিকে ঘর নির্মাণ করিতে হইবে। অতঃপর তাঁহারা এই ঘরের ভিত্তি স্থাপন করিলেন। ইসমাঈল (আ) পাথর বহিয়া আনিতেন, আর ইবরাহীম (আ) তাহা দ্বারা ভিত গাঁথিতেন। চতুর্দিকের দেয়াল অনেকটা উঁচু হইয়া গেলে ইবরাহীম (আ) এই পাথরটি আনিয়া (মাকামে ইবরাহীম) উহার উপর দাঁড়াইয়া ভিত গাঁথিতে থাকিলেন এবং ইসমাঈল (আ) পাথর আনিয়া যোগান দিতে থাকিলেন। পিতা-পুত্র উভয়ে ঘর নির্মাণকালে প্রার্থনা করিতে থাকিলেন: “হে আমাদের প্রভু! আমাদের এই প্রচেষ্টা ও পরিশ্রম কবুল করুন। আপনি সব কিছু শুনেন এবং জানেন" (২ঃ ১২৭)। রাবী বলেন, তাঁহারা নির্মাণ কাজ করিতে থাকিলেন। তাঁহারা উভয়ে কা'বা ঘরের চারিদিকে প্রদক্ষিণ করিতেছিলেন এবং বলিতেছিলেনঃ "হে আমাদের প্রভু! আমাদের এই প্রচেষ্টা ও পরিশ্রম কবুল করুন; নিশ্চয় আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা” (বুখারী, কিতাবুল আম্বিয়া, ১খ, পৃ. ৪৭৪-৬)। বুখারীর অপর বর্ণনায়ও প্রায় অনুরূপ বর্ণিত হইয়াছে। হযরত ইব্‌ন আব্বাস (রা) বলেনঃ
لَمَّا كَانَ بَيْنَ إِبْرَاهِيمَ وَبَيْنَ أَهْلِهِ مَا كَانَ خَرَجَ بِإِسْمَاعِيلَ وَأُمَّ إِسْمَاعِيلَ مَعَهُمْ شَنَّةٌ فِيْهَا مَاءً فَجَعَلَتْ أُمُّ إِسْمَاعِيلَ تَشْرَبُ مِنَ السُّنَّةِ فَيَدِرُّ لَبَنُهَا عَلَى صَبِيهَا حَتَّى قَدِمَ مَكَّةَ فَوَضَعَهَا تَحْتَ دَوْحَةٍ ثُمَّ رَجَعَ إِبْرَاهِيمُ إلى أَهْلِهِ فَاتَّبَعَتْهُ أُمُّ إِسْمَاعِيلَ حَتَّى لَمَّا بَلَغُوا كَذَاءَ نَادَتْهُ مِنْ وَرَائِهِ يَا إِبْرَاهِيمُ إِلَى مَنْ تَتْرُكْنَا قَالَ إِلَى اللَّهِ قَالَتْ رَضِيْتُ بِاللَّهِ فَرَجَعَتْ وَجَعَلَتْ تَشْرَبُ مِنَ السُّنَّةِ وَيَدِرُّ لَبَنُهَا عَلَى صَبِيهَا حَتَّى لَمَّا فَنَى الْمَاءُ قَالَتْ لَوْ ذَهَبْتُ فَنَظَرْتُ لَعَلَى أُحِسُّ أَحَداً قَالَ فَذَهَبَتْ فَصَعِدَتِ الصَّفَا فَنَظَرَتْ وَنَظَرَتْ هَلْ تُحِسُّ أَحَدًا فَلَمْ تُحِسُّ أَحَداً فَلَمَّا بَلَغَتِ الْوَادِي سَعَتْ وَآتَتِ الْمَرْوَةَ وَفَعَلَتْ ذَلِكَ أَشْوَاطًا ثُمَّ قَالَتْ لَوْ ذَهَبْتُ فَنَظَرْتُ مَا فَعَلَ الصَّبِيُّ فَذَهَبَتْ وَنَظَرَتْ فَإِذَا هُوَ عَلَى حَالِهِ كَأَنَّهُ يَنْشَعُ لِلْمَوْتِ فَلَمْ تُقِرُّهَا نَفْسُهَا فَقَالَتْ لَوْ ذَهَبْتُ فَنَظَرْتُ لَعَلَى أُحِسَ احدا فَذَهَبَتْ فَصَعِدَتِ الصَّفَا فَنَظَرَتْ وَنَظَرَتْ فَلَمْ تُحِسُّ أَحَداً حَتَّى أَتِمُتْ سَبْعًا ثُمَّ قَالَتْ لَوْ ذَهَبْتُ فَنَظَرْتُ مَا فَعَلَ فَإِذَا هِيَ بِصَوْتٍ فَقَالَتْ أَغِتْ إِنْ كَانَ عِنْدَكَ خَيْرٌ فَإِذَا جِبْرِيلُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ بِعَقِبِهِ لهكذا وَغَمَزَ بِعَقِبِهِ عَلَى الْأَرْضِ قَالَ فَانْبَثَقَ الْمَاءُ فَدَهَشَتْ أُمُّ اسْمَعِيلَ فَجَعَلَتْ تَخْفِرُ قَالَ فَقَالَ أَبُو الْقَاسِمِ صلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَوْ تَرَكَتْهُ كَانَ الْمَاءُ ظَاهِراً قَالَ فَجَعَلَتْ تَشْرَبُ مِنَ السُّنَّةِ وَيَدِرُّ لَبَنُهَا عَلَى صَبِيهَا قَالَ فَمَرَّ نَاسٌ مِنْ جُرْهُم بِبَطْنِ الْوَادِي فَإِذَاهُمْ بِطَيْرِ كَأَنَّهُمْ أَنْكَرُوا ذَلِكَ وَقَالُوا مَا يَكُونُ الطَّيْرُ إِلَّا عَلَى مَاء لَعَهِدْنَا بِهُذَا الْوَادِي وَمَا فِيْهِ مَاءً فَأَرْسَلُوا جَرِيًّا أَوْ جَرِييْنِ فَإِذَا هُمْ بِالْمَاءِ فَفَرَجَعُوا فَأَخْبَرُوهُمْ بِالْمَاءِ فَأَقْبَلُوا قَالَ وَأَمُّ إِسْمَاعِيلَ عِنْدَ الْمَاءِ فَقَالُوْ أَتَأْذَنِينَ لَنَا أَنْ نَنْزِلَ عِنْدِكِ قَالَتْ نَعَمْ وَلَكِنْ حَقٌّ لَكُمْ فِي الْمَاءِ قَالُوا نَعَمْ . قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَالْفَى ذَلِكَ أَمَّ اسْمَاعِيلَ وَهِيَ تُحِبُّ الْأَنْسَ فَنَزَلُوا فَأَرْسَلُوا إِلى أَهْلِيْهِمْ فَنَزَلُوا مَعَهُمْ حَتَّى إِذَا كَانُوا بِهَا أَهْلُ أَبْيَاتٍ مِنْهُمْ وَشَبُّ الْغُلَامُ وَتَعَلَّمَ الْعَرَبِيَّةَ مِنْهُمْ وَأَنْفُسَهُمْ وَأَعْجَبَهُمْ حِيْنَ شَبٌ فَلَمَّا أَدْرَكَ زَوَّجُوهُ امْرَأَةً مِنْهُمْ وَمَاتَتْ أُمُّ إِسْمَاعِيلَ فَجَاءَ إِبْرَاهِيمُ بَعْدَ مَا تَزَوَّجَ اسْمَاعِيلُ يُطَالِعُ تَرِكَتَهُ فَلَمْ يَجِدْ إِسْمَاعِيلَ فَسَأَلَ امْرَأَتَهُ عَنْهُ فَقَالَتْ خَرَجَ يَبْتَغِي لَنَا وَفِي رِوَايَةٍ يَصِيدُ لَنَا ثُمَّ سَأَلَهَا عَنْ عَيْشِهِمْ وَهَيْئَتِهِمْ فَقَالَتْ نَحْنُ بَشَرٍ نَحْنُ فِي ضَيْقٍ وَشِدَّةٍ فَشَكَتْ إِلَيْهِ قَالَ فَإِذَا جَاءَ زَوْجُكِ فَأَقْرِى عَلَيْهِ السَّلَامَ وَقَوْلِى لَهُ يُغَيِّرُ عَتَبَةً بِابِهِ فَلَمَّا جَاءَ إِسْمَاعِيلُ كَأَنَّهُ أَنَسَ شَيْئًا فَقَالَ هَلْ جَاءَكُمْ مِنْ أَحَدٍ قَالَتْ نَعَمْ جَاءَنَا شَيْخٌ كَذَا وَكَذَا فَسَأَلَنَا عَنْكَ فَأَخْبَرْتُهُ فَسَأَلَنِي كَيْفَ عَيْشُنَا فَأَخْبَرْتُهُ أَنَّا فِي جَهْدٍ وَشِدَّةٍ قَالَ فَهَلْ أَوْصَاكِ بِشَيْءٍ قَالَتْ نَعَمْ أَمَرَنِي أَنْ أَقْرَأَ عَلَيْكَ السَّلَامَ وَيَقُولُ غَيْرُ عَتَبَةَ بَابِكَ قَالَ ذَاكَ أَبِي وَقَدْ أَمَرَنِي أَنْ أَفَارِقَكِ الْحَقِي بِأَهْلِكِ فَطَلَّقَهَا وَتَزَوَّجَ مِنْهُمْ أُخْرَى فَلَبِثَ عَنْهُمْ إِبْرَاهِيمُ مَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ آتَاهُمْ بَعْدُ فَلَمْ يَجِدُهُ فَدَخَلَ عَلَى امْرَأَتِهِ فَسَأَلَ عَنْهُ قَالَتْ خَرَجَ يَبْتَغِي لَنَا قَالَ كَيْفَ أَنْتُمْ وَسَأَلَهَا عَنْ عَيْشِهِمْ وَهَيْئَتِهِمْ فَقَالَتْ نَحْنُ بِخَيْرٍ وَسَعَةٍ وَاثْنَتْ عَلَى اللهِ فَقَالَ مَا طَعَامُكُمْ قَالَتِ اللَّحْمُ قَالَ فَمَا شَرَابُكُمْ قَالَتِ الْمَاءُ قَالَ اللَّهُمَّ بَارِكْ لَهُمْ فِي اللَّحْمِ وَالْمَاء قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَمْ يَكُنْ لَهُمْ يَوْمَئِذٍ حَبُّ وَلَوْ كَانَ لَهُمْ دَعَا لَهُمْ فِيهِ قَالَ فَهُمَا لَا يَخْلُوْ عَلَيْهِمَا أَحَدٌ بِغَيْرِ مَكَّةَ إِلَّا لَمْ يُوَافِقَاهُ قَالَ فَإِذَا جَاءَ زَوْجُكَ فَأَقْرَنِي عَلَيْهِ السَّلَامَ وَمُرِيهِ يُثَبِّتُ عَتَبَةَ بَابِهِ فَلَمَّا جَاءَ إِسْمَاعِيلُ قَالَ هَلْ أَتَاكُمْ مِنْ أَحَدٍ قَالَتْ نَعَمْ أَتَانَا شَيْخٌ حَسَنُ الْهَيْئَةِ وَاثْنَتْ عَلَيْهِ فَسَأَلَنِي عَنْكَ فَأَخْبَرْتُهُ فَسَأَلَنِي كَيْفَ عَيْشُنَا فَأَخْبَرْتُهُ أَنَّا بِخَيْرٍ قَالَ فَأَوْصَاكِ بِشَيْءٍ قَالَتْ نَعَمْ يَقْرَأُ عَلَيْكَ السَّلامَ وَيَأْمُرُكَ أَنْ تُثَبِّتَ عَتَبَةَ بَابِكَ قَالَ ذَاكَ أَبِي وَأَنْتَ الْعَتَبَةُ أَمَرَنِي أَنْ أَمْسِكَكَ ثُمَّ لَبِثَ عَنْهُمْ مَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ جَاءَ بَعْدَ ذَلِكَ وَاسْمَاعِيلُ يَبْرِئُ نَبْلًا لَهُ تَحْتَ دَوْحَةٍ قَرِيبًا مِنْ زَمْزَمَ فَلَمَّا رَاهُ قَامَ إِلَيْهِ فَصَنَعَ كَمَا يَصْنَعُ الْوَالِدُ بِالْوَلَدِ وَالْوَلَدُ بِالْوَالِدِ ثُمَّ قَالَ يَا إِسْمَاعِيلُ إِنَّ اللَّهَ أَمَرَنِي بِأَمْرٍ قَالَ فَاصْنَعْ مَا أَمَرَكَ رَبُّكَ قَالَ وَتُعِينُنِي قَالَ وَأُعِينُكَ قَالَ فَإِنَّ اللَّهَ أَمَرَنِي أَنْ أَبْنِي بَيْتًا هُهُنَا وَأَشَارَ إلى أَكْمَةٍ مُرْتَفِعَةٍ عَلَى مَا حَولَهَا قَالَ فَعِنْدَ ذَلِكَ رَفَعَ القَوَاعِدَ مِنَ البَيْتِ فَجَعَلَ إِسْمَاعِيلُ يَأْتِي بِالْحِجَارَةِ وَإِبْرَاهِيمُ يَبْنِي حَتَّى إِذَا ارْتَفَعَ الْبِنَاءُ جَاءَ بِهَذَا الحَجَرِ فَوَضَعَهُ لَهُ فَقَامَ عَلَيْهِ وَهُوَ يَبْنِي وَإِسْمَاعِيلُ يُنَاوِلُهُ الْحِجَارَةَ وَهُمَا يَقُولَانِ رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ قَالَ فَجَعَلَا يَبْنِيَانِ حَتَّى يَدُورًا حَوْلَ الْبَيْتِ وَهُمَا يَقُولَانِ رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ العليم।

টিকাঃ
(১৪:৩৭)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00