📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হাজার (হাজেরা)-এর পরিচয়

📄 হাজার (হাজেরা)-এর পরিচয়


বাইবেলে হযরত হাজার (আ)-কে ইবরাহীম (আ)-এর স্ত্রী সারার 'মিসরীয় দাসী' বলিয়া উল্লেখ করা হইয়াছে (Genesis, 16: 1)। সারা বন্ধ্যা ও নিঃসন্তান ছিলেন। ইবরাহীম (আ) নিঃসন্তান ও নির্বংশ থাকিবেন ইহা তাহার নিকট খুবই দুঃখের বিষয় ছিল। তাই সন্তানের আশায় তিনি আপন দাসী হাগারকে আপন স্বামী আব্রামের সহিত বিবাহ দেন (Genesis, 16: 3)। এই সূত্র ধরিয়া পাশ্চাত্যের সকল লেখক এবং কোন কোন মুসলিম লেখকও তাহাদের অনুসরণ করত হাজারকে সাধারণ একজন দাসী বলিয়া উল্লেখ করিয়াছেন। কিন্তু ইহা সঠিক নহে, বরং বলা যায় অজ্ঞতা বা বিদ্বেষের ফল। প্রকৃতপক্ষে হাজার ছিলেন মিসরের রাজকন্যা (আল-কিসাঈ, কাসাসুল আম্বিয়া, পৃ. ১৪২; ইসলামী বিশ্বকোষ ২০ খ, ৫৬০-৬১)।
আল্লাহ তা'আলার প্রতি তাঁহার দৃঢ় বিশ্বাস, অবিচল আস্থা, ও মজবুত ইয়াকীন ছিল। তাই সম্পূর্ণ জনমানবহীন মরু প্রান্তরে সহায়-সম্বলহীন অবস্থায় মাত্র কয়েকটি খেজুর ও কিছু পানি দিয়া ইবরাহীম (আ) যখন চলিয়া যাইতেছিলেন তখন শিশু সন্তানসহ নিশ্চিত মৃত্যুর হাতছানি দেখিয়া তিনি ইবরাহীম (আ)-এর পিছু গমন করত জিজ্ঞাসা করিলেন, "আমাদিগকে এই জনমানবহীন মরুপ্রান্তরে রাখিয়া আপনি কোথায় যাইতেছেন?" কয়েকবার এইরূপ বলার পরও ইবরাহীম (আ)-এর পক্ষ হইতে কোন উত্তর না পাইয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, "আল্লাহই আপনাকে এইরূপ করিতে নির্দেশ দিয়াছেন কি?" ইবরাহীম (আ) বলিলেন, হাঁ। তখন যেন তিনি আশ্রয় খুঁজিয়া পাইলেন। দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলিলেন, اذا لا يضيعنا "তাহা হইলে আল্লাহ আমাদিগকে ধ্বংস করিবেন না" (ইন্ন কাছীর, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, পৃ. ১৫৪)।
তিনটি মিথ্যা কথন
পূর্বে আলোচিত হযরত ইবরাহীম (আ)-এর কর্মকাণ্ডে বাহ্যত প্রতীয়মান হয় যে, তিনটি স্থানে তিনি মিথ্যার আশ্রয় গ্রহণ করিয়াছেন : (১) তাঁহার সম্প্রদায় তাঁহাকে মেলায় যাইতে বলিলে তিনি বলিয়াছিলেন 'আমি অসুস্থ'; (২) মন্দিরের মূর্তিগুলি ভাঙ্গিয়া বড়টির ঘাড়ে কুঠার রাখিয়া দিয়াছিলেন এবং তাহাদের জিজ্ঞাসার উত্তরে বলিয়াছিলেন: 'উহাদের এই বড়টিই এই করিয়াছে'; (৩) হিজরত করিয়া মিসরে উপস্থিত হইলে সেখানকার জালিম বাদশাহর নিকট স্বীয় স্ত্রী সারাকে ভগ্নী পরিচয় দেন। হাদীছেও ইহার সমর্থন পাওয়া যায়। রাসূলুল্লাহ (স) বলেন :

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 তিনটি মিথ্যা কথন

📄 তিনটি মিথ্যা কথন


পূর্বে আলোচিত হযরত ইবরাহীম (আ)-এর কর্মকাণ্ডে বাহ্যত প্রতীয়মান হয় যে, তিনটি স্থানে তিনি মিথ্যার আশ্রয় গ্রহণ করিয়াছেন : (১) তাঁহার সম্প্রদায় তাঁহাকে মেলায় যাইতে বলিলে তিনি বলিয়াছিলেন 'আমি অসুস্থ'; (২) মন্দিরের মূর্তিগুলি ভাঙ্গিয়া বড়টির ঘাড়ে কুঠার রাখিয়া দিয়াছিলেন এবং তাহাদের জিজ্ঞাসার উত্তরে বলিয়াছিলেন: 'উহাদের এই বড়টিই এই করিয়াছে'; (৩) হিজরত করিয়া মিসরে উপস্থিত হইলে সেখানকার জালিম বাদশাহর নিকট স্বীয় স্ত্রী সারাকে ভগ্নী পরিচয় দেন। হাদীছেও ইহার সমর্থন পাওয়া যায়। রাসূলুল্লাহ (স) বলেন :
لَمْ يَكْذِبُ إِبْرَاهِيمُ النَّبِيُّ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَطَ إِلَّا ثَلْثَ كَذَبَاتٍ .
"নবী ইবরাহীম (আ) তিনটি স্থলে ছাড়া আর কখনও মিথ্যা (বাহ্যত) বলেন নাই...." (বুখারী, আস-সাহীহ, ৪খ, ২৮০; মুসলিম, আস-সাহীহ, ৭খ, ৯৭-৯৮)।
এই হাদীছটি হাদীছের বিভিন্ন কিতাবে উল্লিখিত আছে। এতদ্ব্যতীত বুখারীতে আরো একটি দীর্ঘ হাদীছ আছে যাহা শাফা'আতের হাদীছ নামে খ্যাত (উহা বিভিন্ন অধ্যায়ে, যথা সূরা বাকারার তাফসীর অধ্যায়ে, কিতাবুর রিকাক ও কিতাবুত-তাওহীদ-এ উল্লিখিত হইয়াছে)। উহাতে ইবরাহীম (আ) সম্পর্কে যে আলোচনা করা হইয়াছে তাহার সারাংশ হইল : হাশরের ময়দানে যখন সকল মানুষ হযরত আদম ও নূহ (আ)-এর নিকট আল্লাহ্র দরবারে সুপারিশের অনুরোধ করিয়া এক পর্যায়ে ইবরাহীম (আ)-এর নিকট গিয়া বলিবে, আপনি আল্লাহর খলীল! আপনি আমাদের জন্য সুপারিশ করুন যেন শীঘ্রই তিনি আমাদের ফায়সালা করেন। তখন তিনি বলিবেন, আমি লজ্জাবোধ করিতেছি। কারণ দুনিয়াতে আমি তিনটি মিথ্যা বলিয়াছিলাম : بل فعله كبيرهم هذا ، اني سقيم এবং স্ত্রীকে বলিয়াছিলাম انى اخوك সাহীহ বুখারী ছাড়াও এই রিওয়ায়াত মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ, সাহীহ ইবন খুযায়মা, হাকেমের মুসতাদরাক, মু'জাম তাবারানী, মুসান্নাফ ইব্‌ন আবী শায়বা, তিরমিযী ও মুসনাদ আবী আওয়ানাতে বিভিন্ন সাহাবী হইতে রিওয়ায়াত বর্ণিত আছে। কোনটিতে সংক্ষিপ্ত, কোনটিতে বিস্তারিত। ইহারই কোন কোন বর্ণনায় সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হইয়াছে যে, ما منها كذبة الا حل بها عن دين الله অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (স) বলেন, "ইবরাহীম (আ)-এর তিনটি মিথ্যার প্রতিটিই কেবলমাত্র আল্লাহর দীনের স্বার্থেই বলিয়াছিলেন।"
মোটকথা এই উভয় রিওয়ায়াতই বুখারী ও মুসলিমের রিওয়ায়াত যাহা সর্বপ্রকার ত্রুটিমুক্ত। এই রিওয়ায়াত ইবরাহীম (আ)-এর ন্যায় একজন উঁচু স্তরের মহান নবীর প্রতি 'মিথ্যা' আরোপ করে। যদিও এই সকল রিওয়ায়াতের কোন কোনটিতে স্পষ্ট করিয়া দেওয়া হইয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ (স) এই ক্ষেত্রে 'মিথ্যা' (كذب) -এর দ্বারা সেই প্রচলিত সাধারণ অর্থ বুঝান নাই যাহা কথাবার্তা ও আচার-আচরণে খুবই ঘৃণ্য ও কবীরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। ইহার বিপরীত তিনি এই কথা স্পষ্ট করিয়া দিয়াছেন যে, ইবরাহীম (আ) এই তিনটি কথা কোন ব্যক্তিস্বার্থে কিংবা পার্থিব কোন লাভের জন্য বলেন নাই; বরং সত্যের দুশমনদের বিরুদ্ধে আল্লাহ তা'আলার খাঁটি দীনের স্বার্থেই বলিয়াছিলেন।
ইহা ঠিক যে, কোন কোন রিওয়ায়াত সুস্পষ্টভাবে ইহাকে 'মিথ্যা' (كذب) -এর সাধারণ অর্থ হইতে পৃথক করিয়া দিয়াছে। তবুও প্রথমত, এই 'অতিরিক্ত ব্যাখ্যা' বুখারী-মুসলিমের রিওয়ায়াতে নাই, যদিও সাহীহ রিওয়ায়াতে তাহা উল্লেখ আছে। দ্বিতীয়ত, 'সত্যবাদিতা' যখন নবীদের অবিচ্ছেদ্য এবং নবীর পবিত্র ও নিষ্পাপ থাকার জন্য অপরিহার্য একটি গুণ, উপরন্তু কুরআন কারীমে যখন বিশেষভাবে ইবরাহীম (আ) সম্পর্কে নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যগুলি সুষ্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হইয়াছে, তখন তাঁহার সম্পর্কে বাহ্যিক মিথ্যার আরোপ শোভনীয় হয় না।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ফিলিস্তীনের নিকটস্থ কিতআ'বা কাত নামক স্থানে হিজরত

📄 ফিলিস্তীনের নিকটস্থ কিতআ'বা কাত নামক স্থানে হিজরত


অতঃপর সেখানকার অধিবাসিগণ তাহাকে কষ্ট দিল। তিনি সেখান হইতে বাহির হইয়া ফিলিসতীনের পার্শ্ববর্তী রামলা ও ঈলিয়ার মধ্যবর্তী 'কিতা' নামক স্থানে চলিয়া গেলেন। আল্লাহ তা'আলা ওহীর মাধ্যমে তাঁহাকে উত্তর-দক্ষিণে ও পূর্ব-পশ্চিমে দৃষ্টি প্রসারিত করিতে বলিলেন এবং তাঁহাকে সুসংবাদ দিলেন যে, এই ভূমি সবটাই তোমার এবং তোমার পরবর্তী বংশধরদের জন্য একেবারে শেষ যমানা পর্যন্ত আমি বরাদ্দ করিব। আর তোমার বংশধর অতিশয় বৃদ্ধি করিব, এমনকি তাহাদের সংখ্যা হইবে মাটির ধুলিকণা সম। এই সুসংবাদ বর্তমান উম্মতের সহিত সংশ্লিষ্ট, বরং উহার বিরাট এক সংখ্যাই উম্মাতে মুহাম্মাদ (স)। রাসূলুল্লাহ (স)-এর একটি হাদীছ হইতে ইহার সমর্থন পাওয়া যায়। তিনি বলিয়াছেন: إِنَّ اللَّهَ زَوى لِي الأَرْضَ فََرَأَيْتُ مَشَارِقَهَا وَمَغَارِبَهَا وَسَيَبْلُغُ مَلِكُ أُمَّتِي مَا زَوى لِي مِنْهَا । "আল্লাহ তা'আলা আমার জন্য পৃথিবীকে একত্রিত করিয়া দিয়াছেন। আর আমি উহার পূর্ব-পশ্চিম দর্শন করিয়াছি। আমার উম্মাতের রাজত্ব ততদূর পর্যন্ত পৌঁছিবে যতদূর আমার জন্য একত্র করা হইয়াছিল" (ইব্‌ন কাছীর, আল-ইবনুল-আছীর, আল-কামিল, ১খ, ৭৯)। সাব'বাসীদের নিকট হইতে চলিয়া আসার পর উক্ত কূপের পানি শুকাইয়া যায়। ফলে তাহারা নিজদের কৃতকর্মের জন্য অনুতাপ ও অনুশোচনা করে এবং বলে, আমরা একজন সৎ লোককে

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ফেরেশতাদের আগমন ও পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দান

📄 ফেরেশতাদের আগমন ও পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দান


ইবরাহীম (আ) এই কিত্তা বা কাত্ত নামক স্থানেই বসবাস করিতে থাকেন। তাঁহার নিকট যাহারা আগমন করিত তিনি তাহাদের মেহমানদারী করিতেন। আল্লাহ তা'আলা তাঁহাকে প্রচুর ধন-সম্পদ ও চাকর-বাকর দান করিয়ছিলেন। এই সময় লূত (আ)-এর সম্প্রদায় এক জঘন্য অপকর্ম করিত যাহা বিশ্ববাসীর কেহ ইতিপূর্বে করে নাই। সঙ্গে সঙ্গে লূত (আ)-কে তাহারা অমান্য করিত এবং তাঁহার উপদেশ প্রত্যাখ্যান করিত। অতঃপর তাহাদিগকে শাস্তি দেওয়ার জন্য আল্লাহ এই সময় ফেরেশতা প্রেরণ করেন। তাহারা প্রথমে ইবরাহীম (আ)-এর নিকট আগমন করেন মেহমানের বেশে। ইবরাহীম (আ)-এর অভ্যাস ছিল সব সময় মেহমানকে সঙ্গে লইয়া আহার করা। কিন্তু ইহাদের আগমনের পূর্বে পনের দিন পর্যন্ত কোন মেহমানের আগমন ঘটে নাই। ইহাতে তিনি খুবই বিচলিত ছিলেন। অতঃপর ফেরেশতাগণ মেহমানদের বেশে আগমন করিলে তিনি খুবই খুশী হন। তিনি তাহাদের জন্য একটি ভুনা মাংসল গোবৎস লইয়া আসিলেন। কিন্তু তাহারা উহা না খাইয়া হাত গোটাইয়া বসিয়া রহিলেন। ইবরাহীম (আ) তাহাদিগকে বলিলেন, আপনারা খাইতেছেন না কেন? তাহাদের হস্তসমূহ খাবার স্পর্শ করিতেছে না দেখিয়া ইবরাহীম (আ) শংকিত হইয়া পড়িলেন। তাহারা বলিলেন, আপনি ভীত হইবেন না। আমরা লূত (আ)-এর সম্প্রদায়ের প্রতি প্রেরিত হইয়াছি। তাঁহার স্ত্রী সারা নিকটে দণ্ডায়মান ছিলেন। আর ইবরাহীম (আ) তাহাদের সহিত আহারে বসিয়াছিলেন। তাহারা তাহাদের প্রেরিত হইবার কারণ অবহিত করিলেন এবং তাঁহার পুত্র ইসহাক-এর জন্মের ও ইসহাকের পর ইয়া'কূবের জন্মের সুসংবাদ দিলেন। ইহা শুনিয়া সারা হাসিয়া ফেলিলেন। কুরআন কারীমে উক্ত ঘটনা এইভাবে বর্ণিত হইয়াছে:
وَامْرَأَتُهُ قَائِمَةً فَضَحِكَتْ فَبَشِّرْنُهَا بِإِسْحَقَ وَمِنْ وَرَاءِ اسْحَقَ يَعْقُوبَ. قَالَتْ يُوَيْلَتِي أَلِدُ وَأَنَا عَجُوزٌ وَهُذَا بَعْلِى شَيْئًا إِنْ هَذَا لَشَيْئٌ عَجِيْبٌ । "আর তাহার স্ত্রী দণ্ডায়মান এবং সে হাসিয়া ফেলিল। তারপর আমি তাহাকে ইসহাকের ও ইসহাকের পরবর্তী ইয়া'কূবের সুসংবাদ দিলাম। সে বলিল, কি আশ্চর্য! সন্তানের জননী হইব আমি যখন আমি বৃদ্ধা এবং এই আমার স্বামী বৃদ্ধ! ইহা অবশ্যই একটি অদ্ভুত ব্যাপার। তাহারা বলিল, আল্লাহ্ কাজে তুমি বিস্ময়বোধ করিতেছ? হে পরিবার্বর্গ! তোমাদের প্রতি রহিয়াছে আল্লাহ্ অনুগ্রহ ও কল্যাণ। তিনি তো প্রশংসার্হ ও সম্মানার্হ” (১১: ৭১-৭৩)। সারার এই হাসির কারণ সম্পর্কে আলিমগণ বিভিন্ন রকমের ব্যাখ্যা দিয়াছেন। সুদ্দী বলেন, তাহারা যখন আহার গ্রহণ করিতেছিলেন তখন তিনি বলিয়াছিলেন, কি অদ্ভূত আমাদের এই সকল মেহমান! আমরা তাহাদের সম্মানার্থে প্রাণপণ খেদমত করিতেছি, আর তাহারা আমাদের আহার গ্রহণ করিতেছেন না! কাতাদা বলেন, লুত (আ)-এর সম্প্রদায়ের কর্মকাণ্ড এবং শান্তি নিকটবর্তী জানিয়া তিনি হাসিয়াছিলেন। মুকাতিল ও কালবী বলেন, তিনি ইবরাহীম (আ)-এর ভয় পাওয়ায় হাসিয়াছিলেন। কারণ তিনি চাকর-বাকর ও পরিবার-পরিজন বেষ্টিত থাকিয়া ভয় পাইয়াছিলেন। ইবন আব্বাস (রা) বলেন, তাঁহার ও তাঁহার স্বামীর বার্ধক্যে পৌঁছা সত্ত্বেও সন্তান হওয়ার সংবাদে তিনি হাসিয়াছিলেন। তাঁহার বয়স ছিল তখন ৯০ বৎসর। আর ইবরাহীম (আ)-এর বয়স এই বর্ণনামতে ১২০ বৎসর। কিন্তু বাইবেলের বর্ণনামতে সুসংবাদ দেওয়া এই পুত্র ইসহাক (আ) যখন জন্মগ্রহণ করেন তখন ইবরাহীম (আ)-এর বয়স ১০০ বৎসর (তাবারী, তারীখ, ১খ, ১২৮; ছা'লাবী, কাসাসুল আম্বিয়া; পৃ. ৮৬; Genesis, 21: 5)। তবে মুজাহিদ ও ইকরিমা (র) বলেন, কুরআন কারীমে উল্লিখিত ضحكت শব্দটির অর্থ “তিনি হাসিলেন” নহে; বরং “তিনি ঋতুবতী হইলেন”। আরবী পরিভাষায় ইহার ব্যবহার পাওয়া যায়। যেমন খরগোশ যখন ঋতুবতী হয় তখন বলা হয় ضحكت الارنب "খরগোশটি ঋতুবতী হইয়াছে” (ছা'লাবী, প্রাগুক্ত)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00