📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ধ্বংসপ্রাপ্ত ছামূদ সম্প্রদায়কে সালিহ (আ)-এর সম্বোধন

📄 ধ্বংসপ্রাপ্ত ছামূদ সম্প্রদায়কে সালিহ (আ)-এর সম্বোধন


এই সম্পর্কে সাঈদ আলূসী বলেন, সালিহ (আ) কর্তৃক উহাদিগকে সম্বোধনের আখ্যান জানানো ছিল রাসূলুল্লাহ্ (স) কর্তৃক মূর্খ মুশরিকদেরকে সম্বোধনের মতো। মূর্খ মুশরিকদেরকে যদ্দরজা তিরস্কার করা হইয়াছে তাহাদের প্রতি রাসূলুল্লাহ্ (স) তাহাদের প্রতিপালকের পক্ষ হইতে প্রেরিত পয়গামের জন্য সেই তিরস্কার করা হইয়াছিল। ইয়াহূদী ও খৃস্টান সম্প্রদায়কে সম্বোধন করিয়াছিলেন, যে সম্বোধন জাতিগতভাবে তাহাদের জন্য পরিপূর্ণ ও সর্বাঙ্গীণ ছিল। হইতে পারে সালিহ (আ)-এর সম্বোধন এমনিভাবে সর্বতোভাবে তাহাদের জন্য পরিব্যাপ্ত ছিল। কেহ কেহ বলিয়াছেন, এখানে আয়াত অংশ-বিশেষে করা হইয়াছে। আয়াতের মধ্যে অংশ-বিশেষ উদ্ধৃত করা হয় এবং অবশিষ্ট অংশ বাদ দেওয়া হইয়াছে। এই আয়াতের মধ্যে অংশটি এই যে, সালিহ (আ)-এর সম্বোধনের অংশবিশেষ। ইয়াহূদীগণকে সম্বোধনের ক্ষেত্রে ইহা ব্যবহৃত হয়। ইহাতে অর্থ এইরূপ হইবে : হে ইয়াহূদীগণ! তোমরা স্মরণ কর যখন আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করিয়াছিলেন, তাহা কি তোমরা বিস্মৃত হইয়াছ। তোমরা সালিহ (আ)-এর সম্বোধনের প্রতি লক্ষ্য কর, সালিহ (আ)-এর সম্বোধন অংশবিশেষ হইবে।
মু‘তাদেকে সম্বোধনের পক্ষে ইমাম রাযীর যুক্তি এই যে, ইহা শুনিয়া অনেক জীবিত লোক উপদেশ গ্রহণ করিবে এবং এইরূপ করা হইতে মূর্খ মুশরিকদেরকে যদ্দরজা তিরস্কার করা হইবে। ইহা তাহাদের জন্য উপদেশ হইবে এবং তাহাদের নিজেদের প্রতিপালকের প্রতি তাহাদের সম্বোধন। আল্লাহ্র নবী মূসা (আ)-এর সম্বোধন তাহাদের জন্য উপদেশ ছিল (আত্-তাফসীরুল কবীর, দারুস্ সাক্কাফাহ্, ১৪ খ, ১৬৭)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 তাবৃক গমনকালে রাসূলুল্লাহ (স)-এর ছামূদ জনপদ অতিক্রম

📄 তাবৃক গমনকালে রাসূলুল্লাহ (স)-এর ছামূদ জনপদ অতিক্রম


ইবন উমার (রা) হইতে বর্ণিত। ছামূদ সম্প্রদায়ের (আবাসভূমি) অতিক্রম করিবার সময় রাসূলুল্লাহ্ (স) বলেন : তোমরা ক্রন্দনরত অবস্থা ছাড়া এই সম্প্রদায়ের আবাসে প্রবেশ করিও না, যাহারা নিজেদের উপর “জুলুম” করিয়াছে যাহাতে উহাদের যে শাস্তি ভোগ করিতে হইয়াছে তাহা তোমাদেরকে স্পর্শ না করে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (স) চাদর দ্বারা নিজ মস্তক আবৃত করিয়া দ্রুতগতিতে উপত্যকা অতিক্রম করিলেন” (বুখারী, কিতাবুল মাগাযী, বাব নুযূলিন-নবী (স) আল-হিজর, ২খ, ৫৩)।

ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেন :
لَمَّا كَانَ فِي غَزْوَةِ تَبُوكٍ فَأَسْرَعَ النَّاسُ إِلى أَهْلِ الْحِجْرِ يَدْخُلُوْنَ عَلَيْهِمْ فَبَلَغَ ذلِكَ رَسُولَ اللهِ ﷺ فَنَادَى فِي النَّاسِ الصَّلَاةَ جَامِعَةً قَالَ فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ ﷺ وَهُوَ يُمْسِكُ بَعِيْرَهُ وَهُوَ يَقُولُ
“তাবুক যুদ্ধে গমনের পথে লোকজন হিজরবাসীদের দিকে দ্রুত ধাবিত হইয়া তাহাদের নিকট প্রবেশ করিতে প্রবৃত্ত হইল। এই কথা রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর নিকট পৌঁছিলে। তিনি লোকজনকে “সালাতে জামাত খাড়া” বলিয়া আহ্বান করিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আমি নবী করীম (স)-এর নিকট আগমন করিলাম। এই সময় রাসূলুল্লাহ্ (স) তাঁহার বাহন উষ্ট্রীকে ধরিয়া রাখিতেছিলেন। তিনি বলিলেন, তোমরা এই সম্প্রদায়ের নিকট প্রবেশ করিও না যাহাদের উপর গযব অবতীর্ণ হইয়াছিল। অতঃপর এই সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করিয়া রাসূলুল্লাহ্ (স)-কে বলিতে শুনিলাম! ইহা দেখিয়া বিস্ময় প্রকাশ করিবার কিছু নাই। আল্লাহ্র রাসূল! ইহা দেখিয়া বিস্ময় প্রকাশ করিবার কিছু নাই। আল্লাহ্র রাসূল! ইহা দেখিয়া বিস্ময় প্রকাশ করিবার কিছু নাই।” (ইব্‌ন কাছীর, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, প্রাগুক্ত)।

হইতে বর্ণিত :
ثُمَّ زَجَرَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ رَاحِلَتَهُ فَأَسْرَعَ حَتَّى خَلَّفَهَا .
“অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (স) তাহার সাওয়ারীকে তাড়া করিলেন এবং এই স্থানটি ত্যাগ করিবার পূর্ব পর্যন্ত দ্রুত চলিলেন” (তাফসীরুল কবীর, ৪খ, ৪৮৪)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ছামূদ সম্প্রদায়ের শাস্তির ধরন

📄 ছামূদ সম্প্রদায়ের শাস্তির ধরন


আবদুল্লাহ্ ওয়ায়ল আন-নাজ্জার বলেন, ছামূদ সম্প্রদায়কে ধ্বংস করা হইয়াছিল বজ্রনিনাদে (সায়েকা) দ্বারা। এই বজ্রনাদ পৃথিবীকে প্রকম্পিত করিয়াছিল বজ্রনিনাদের কারণে সময় আতংকিত হইয়াছিল এবং সকল প্রকার ধ্বনি প্রচণ্ড শব্দে পরিণত হয়। ইহাতে তাহাদের কলিজা ফাটিয়া গিয়াছিল এবং তাহারা নিজ নিজ ঘরে উপুড় হইয়া পড়িয়াছিল। ইব্‌ন কাছীর বলেন, ছামূদ সম্প্রদায়ের প্রতি প্রেরিত হয় বজ্রনিনাদ। ইহার ফলে তাহাদের হৃৎপিণ্ডের শিরা ফাটিয়া যায়। আল-কালবী ইব্‌ন আব্বাস (রা) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন : إِن صَيْحَةً كَانَتْ مِن جَوْفِهِمْ “তাহাদের পেটের ভিতর হইতে বিকট শব্দ আসিয়াছিল”। অথবা ইহা দ্বারা বুঝানো হইয়াছে তাহাদের শহরের মধ্যে বিকট শব্দ হইয়াছিল। আল-আলূসী বলেন, الرحيم ماخذهم আয়াতে উক্ত রহমতের ব্যাপারে আল-ফাররা ও আয-যাজ্জাজ নিকট হইতে শব্দে রহমতের ব্যাপারে দুইটি মত রহিয়াছে। ইহার অর্থ হইল তাহাদের ভয়ানক ভূমিপ্রকম্পন। মুজাহিদ ও আস-সুদ্দী বলেন, رحمة শব্দটি এখানে رحمة এর স্থানে ব্যবহৃত হইয়াছে। এই দুইটি অভিধানের মধ্যে শব্দের পার্থক্য লক্ষ্য করা যায় যে, একটিতে প্রথমে যবর ও দ্বিতীয়টিতে যবরের পর যবর দেওয়া হইয়াছে। আল-আলূসী বলেন, আল-কুরআনের কোন কোন رحمة শব্দে সাকিন দেওয়া রহিয়াছে। আবহাওয়া ব্যাপারী কোন কোন ক্ষেত্রে رحمة শব্দে যবর ব্যবহার করা হইয়াছে। ছামূদ সম্প্রদায়ের ধ্বংসের কারণ হইল তাহারা তাহাদের নবীকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করিয়াছিল। ইহা হইতেই তাহাদের হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হইয়াছিল। আল-কালবী ইব্‌ন আব্বাস (রা) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন “কেমন করিয়া এমন হইল যে, তাহাদের ছায়া হইতে তাহাদের শরীর পৃথক হইয়া গেল”। অথবা ইহা দ্বারা বুঝানো হইয়াছে “তাহাদের শরীর হইতে রূহ বাহির হইয়া গেল”। সায়ীদ আলূসীও এই বর্ণনা করিয়াছেন (দ্র. কাসাসুল কুরআন, ১ম খণ্ড, পৃ. ১৬২-৩৪)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 সালিহ (আ)-এর প্রস্থান ও ইনতিকাল

📄 সালিহ (আ)-এর প্রস্থান ও ইনতিকাল


ছালিহ ইব্‌ন যুবায়র ইব্‌ন-আব্বাস-শারক বর্ণনা করিয়াছেন, সালিহ (আ) ও তাঁহার উম্মতের যাহারা ঈমান আনিয়াছিল তাহারা হিজরত করিয়া হাযারামাউতে শরিক হইয়াছিল। আল-বাগাভী বলেন, ছালিহ (আ) ও তাঁহার উম্মতের যাহারা ঈমান আনিয়াছিল তাহারা হাযারামাউতে বসবাস করিত এবং সেই স্থানের নাম ‘হাদূর’। ছালিহ (আ) সম্পর্কে বলা হইয়াছে, ইবরাহীম (আ) আটান্ন বৎসর বয়সে ইনতিকাল করেন। ইকরিমা আল-আযদী বর্ণনা করিয়াছেন, উষ্ট্রীকে যখন জবেহ্ করা হইয়াছিল তখন আল্লাহ্র গজবের কারণ হইয়াছিল হিজরের ধ্বংস। তখন তাঁহারা মক্কা শরীফে হিজরত করেন। ইবরাহীম (আ)-এর মৃত্যুর দশ বৎসর পরে সালিহ (আ) মৃত্যুমুখে পতিত হন। আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ হইতে এই ধরনের গজবের কারণ হইল হিজরবাসীরা তাহাদের নবীকে মিথ্যাবাদী প্রতিপন্ন করিয়াছিল। ইব্‌ন খালদূন বলেন, তাঁহার মৃত্যুর পর তাঁহার সিংহাসনে তাঁহার বংশের এক ব্যক্তি আরোহণ করে। ইব্‌ন খালদূন বলেন, তাহার নাম মাখলূফ। তাঁহার মৃত্যুর পর তাঁহার সিংহাসনে তাঁহার বংশের লোকেরা আরোহণ করে। ইহার পর তাঁহারা ফিলিস্তীনে আগমন করে। ছালিহ (আ)-এর কবর হাযারামাউতে রহিয়াছে বলিয়া কথিত আছে। আল্লামা আলূসী আরো বলেন, ফিলিস্তীনের রামলা-এর নিকটবর্তী স্থানে তাঁহার কবর রহিয়াছে। সালিহ (আ)-এর হিজরতের পর ছামূদ সম্প্রদায়ের উষ্ট্রীদের মধ্য হইতে এক ব্যক্তি বাহির হইয়াছিল তাহার নাম ‘হাদির’। আবদুর রাযযাক ইব্‌ন হুমাম ইব্‌ন নাফি’ ইব্‌ন উমার (রা) বর্ণনা করিয়াছেন, আলী ইব্‌ন আবী তালিব (রা) বলেন, নবী করীম (স) বলিয়াছেন, ‘হে আলী! তুমি কি জান, প্রথম যুগের মধ্যে সর্বাধিক জঘন্য ব্যক্তি কে ছিল’? আলী (রা) বলেন, ‘হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনিই ভাল জানেন’। রাসূলুল্লাহ্ (স) বলেন, ‘ছামূদ সম্প্রদায়ের উষ্ট্রী বধকারী’। রাসূলুল্লাহ্ (স) আবার বলেন, ‘হে আলী! তুমি কি জান, পরবর্তীকালে সর্বাধিক জঘন্য ব্যক্তি কে হইবে’? আলী (রা) বলেন, ‘হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনিই ভাল জানেন’। রাসূলুল্লাহ্ (স) বলেন, ‘হে আলী! তোমার হত্যাকারী’। অথবা রাসূলুল্লাহ্ (স) বলেন, ‘তোমার এখানে আঘাতকারী’। রাসূলুল্লাহ্ (স) ইহা বলিয়া আলীর দাড়ির দিকে ইঙ্গিত করিলেন (আল-বাগাভী, তাফসীর, ২খ, ১৭৮)।
ইব্‌ন কাছীর বর্ণনা করেন, উষ্ট্রীর পা কাটিয়াছিল যে লোকটি তাহার নাম ছিল কুদার ইব্‌ন সালিফ। সে ছিল ছামূদ সম্প্রদায়ের মধ্যে একজন সম্মানিত ব্যক্তি। তাহার পিতা ছামূদ সম্প্রদায়ের ছিল না। সে ছিল অন্য সম্প্রদায়ের লোক। সে ছিল জারজ সন্তান। যখন তাহার বয়স হইয়াছিল তখন তাহাকে ছামূদ সম্প্রদায়ের মধ্যে গণ্য করা হইত। ছামূদ সম্প্রদায়ের নেতারা তাহাকে তাহাদের অন্তর্ভুক্ত করিয়াছিল। সে ছিল নীল বর্ণের, খাটো এবং কুৎসিত চেহারার লোক। তাহাকে সকল পাপী লোক অনুসরণ করিত। আবূ যাম'আ নামক এক ব্যক্তি তাহার প্রশংসা করিয়াছিল। ইব্‌ন কাছীর বর্ণনা করেন, উষ্ট্রীর পা কাটিয়াছিল যে ব্যক্তি তাহার নাম ছিল কুদার ইব্‌ন সালিফ। আর যে ব্যক্তি উষ্ট্রীকে হত্যা করিয়াছিল তাহার নাম ছিল মিসদা ইব্‌ন দাহার। এই দুই ব্যক্তি ছিল ছামূদ সম্প্রদায়ের মধ্যে সর্বাধিক জঘন্য লোক। উষ্ট্রীর পা কাটার সময় এই দুইজন একসঙ্গে ছিল। তাহাদের সঙ্গে আরো সাতজন লোক ছিল। তাহারা সকলেই ছিল ছামূদ সম্প্রদায়ের মধ্যে সর্বাধিক জঘন্য লোক। উষ্ট্রীর পা কাটার পর যখন উষ্ট্রীর বাচ্চা চীৎকার করিতে লাগিল তখন তাহারা সকলেই বাচ্চার পিছনে দৌড়াইল। বাচ্চাটি একটি উঁচু পাহাড়ে উঠিল। তখন কুদার ইব্‌ন সালিফ তাহার পিছনে উঠিয়া তাহাকে হত্যা করিল। এইজন্য আল্লাহ্ তা'আলা বলিয়াছেন, ‘যখন তাহাদের মধ্যে সর্বাধিক হতভাগ্য ব্যক্তি উত্থিত হইল’। আলী ইব্‌ন আবী তালিব (রা) বলেন, ‘নবী করীম (স) বলিয়াছেন, হে আলী! প্রথম যুগের মধ্যে সর্বাধিক জঘন্য ব্যক্তি কে ছিল এবং পরবর্তীকালের মধ্যে সর্বাধিক জঘন্য ব্যক্তি কে হইবে? আলী (রা) বলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমি বলিলাম, ‘আল্লাহ্ ও তাঁহার রাসূলই ভাল জানেন’। রাসূলুল্লাহ্ (স) বলেন, প্রথম যুগের মধ্যে সর্বাধিক জঘন্য ব্যক্তি ছিল উষ্ট্রী বধকারী। আর পরবর্তীকালে সর্বাধিক জঘন্য ব্যক্তি হইবে তোমার হত্যাকারী। যে তোমার এখানে আঘাত করিবে’। এই বলিয়া রাসূলুল্লাহ্ (স) আলীর দাড়ির দিকে ইঙ্গিত করিলেন এবং বলিলেন, ‘তোমার দাড়ি রক্তে রঞ্জিত হইবে’। আল্লাহ্ তা'আলা তাহাকে ‘সর্বাধিক হতভাগ্য’ বলিয়াছেন, কারণ সে ছিল তাহাদের মধ্যে সর্বাধিক জঘন্য লোক। আর যে ব্যক্তি তাহাকে অনুসরণ করিয়াছিল, সেও ছিল তাহার মতো। আলী (রা) বলিয়াছেন, ‘হে আল্লাহ্র রাসূল! যখন আমি জানিতে পারিলাম যে, আমি নিহত হইব, তখন আমি কি তাহাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করিব না’? রাসূলুল্লাহ্ (স) বলেন, ‘না। তুমি ধৈর্য ধারণ করিবে’। আল্লাহ্ তা'আলা তাহাকে ‘সর্বাধিক হতভাগ্য’ বলিয়াছেন, কারণ সে ছিল তাহাদের মধ্যে সর্বাধিক জঘন্য লোক। আর যে ব্যক্তি তাহাকে অনুসরণ করিয়াছিল, সেও ছিল তাহার মতো। আলী (রা) বলিয়াছেন, ‘হে আল্লাহ্র রাসূল! যখন আমি জানিতে পারিলাম যে, আমি নিহত হইব, তখন আমি কি তাহাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করিব না’? রাসূলুল্লাহ্ (স) বলেন, ‘না। তুমি ধৈর্য ধারণ করিবে’। ইহা শুনিয়া জঘন্য লোকেরা চুপ হইয়া গেল। আর এক ব্যক্তি বলিল, আমি ইহার অপেক্ষা করিব না। তবে ইহা দ্বারা আল্লাহ্র গজব নামিয়া আসিবে এই সম্পর্কে তাহাদের নিশ্চয়তা ছিল।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00