📄 আবূ রিগালের ঘটনা
আল্লামা তাবারী জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রা) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন:
(جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ) قَالَ لَمَّا مَرَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْحَجَرِ قَالَ لَا تَسْتَالُوا الْآيَاتِ فَقَدْ سَأَلَهَا قَوْمُ صَالِحٍ فَكَانَتْ تَرِدُ مِنْ هَذَا الْفَجِّ وَتَصْدُرُ مِنْ هذا الفَجِّ فَعَتَوا عَنْ أَمْرِ رَبِّهِمْ فَعَقَرُوهَا وَكَانَتْ تَشْرَبُ مَا ءَهُمْ يَوْمًا وَيَشْرَبُونَ لَبَنَهَا يَوْمًا فَعَقَرُوهَا فَأَخَذَتْهُمُ الصَّيْحَيةُ مِنْ تَحْتِ أَديمُ السَّمَاءِ مِنْهُمْ إِنَّا رَجُلًا وَاحِداً كَانَ فِي حَرَامِ اللهِ قِيلَ مَنْ هُوَ قَالَ أَبُو رِغَالٍ فَلَمَّا خَرَجَ مِنَ الْحَرَامِ أَصَابَهُ مَا أَصَابَ قَوْمَهُ .
"জাবির (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) হিজর নামক স্থান দিয়া অতিক্রম করা কালে বলিলেন: তোমরা অলৌকিক নিদর্শনাবলী (মুজিযা) চাহিও না। সালিহ সম্প্রদায় এই সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিয়াছিল। তাহাদের মুজিযাটি এই প্রশস্ত রাস্তা দিয়া গমন করিত এবং ঐ রাস্তা দিয়া (উন্ত্রী) ফিরিয়া আসিত। তাহারা আল্লাহ্র নির্দেশ লঙ্ঘন করিয়া উষ্ট্রীটিকে হত্যা করিল। উষ্ট্রীটি একদিন তাহাদের পানি পান করিত এবং উহারা একদিন উষ্ট্রীর দুধ পান করিত। ইহার কারণে উহারা ইহাকে বধ করিল। ইহার ফলে মহানাদ তাহাদেরকে আঘাত করিল। ইহার সূত্রপাত হইয়াছিল আকাশের নিম্নভাগ হইতে। তবে একটি লোক এই ভয়াবহ পরিণতি হইতে রক্ষা পাইয়াছিল। সে হারাম শরীফে (আশ্রয়াধীন) ছিল। সাহাবী জিজ্ঞাসা করিলেন, এই লোকটি কে? রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন : আবূ রিগাল! সে যখন "হারাম" হইতে বাহির হইল তখন তাহার সম্প্রদায়ের ন্যায় সেও তাহা ভোগ করিল"।
আবদুর রায্যাক মুআম্মার সূত্রে এবং তিনি ইসমাঈল ইবন উমায়্যা সূত্রে বলেন:
إِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرٌّ بِقَبْرِ أَبِي رِغَالٍ فَقَالَ أَتَدْرُونَ مَا هَذَا قَالُوا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ هَذَا قَبْرِ أَبِي رِغَالٍ قَالُوا فَمَنْ أَبُو رِغَالٍ قَالَ رَجُلٌ مِنْ ثَمُودَ كَانَ فِي حَرَمِ اللَّهِ فَمَنَعَهُ حَرَمُ اللَّهِ عَذَابَ اللَّهِ فَلَمَّا خَرَجَ أَصَابَهُ مَا أَصَابَ قَوْمَهُ فَدُفِنَ هَهُنَا وَدُفِنَ مَعَهُ غُصْنٌ مِنْ ذَهَبٍ فَنَزَلَ الْقَوْمُ فَابْتَدَرُوهُ بِأَسْيَافِهِمْ فَبَحَثُوا علَيْهِ فَاسْتَخْرَجُوا الغُصْنَ.
রাসূলুল্লাহ (স) আবূ রিগালের কবরের পাশ দিয়া অতিক্রম করিবার সময় সাহাবীদেরকে জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমরা কি জান ইহা কি? তাঁহারা বলিলেন, আল্লাহ ও তাঁহার রাসূল এই ব্যাপারে সম্যক জ্ঞাত। রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, ইহা আবূ রিগালের কবর। তাহারা জিজ্ঞাসা করিলেন, আবু রিগাল কে? রাসূলুল্লাহ (স) বলিলেন, ছামূদ সম্প্রদায়ের এক লোক। সে আল্লাহ্ হারাম শরীফে অবস্থান করিয়াছিল। ফলে ইহা তাহাকে আল্লাহ্ শাস্তি হইতে রক্ষা করে। সে যখন উহা হইতে বাহির হইল তখন তাহার সম্প্রদায়ের যেই পরিণতি হইয়াছিল সেও উহা ভোগ করিল এবং তাহাকে ঐ স্থানে দাফন করা হইয়াছিল। দাফনের সময় তাহার সহিত স্বর্ণের একটি লম্বা টুকরাও দাফন করা হইয়াছিল। ইহা শুনিয়া সাহাবীগণ খুব দ্রুত তরবারি লইয়া কবরটি খুঁড়িয়া স্বর্ণের লম্বা টুকরাটি তাহারা বাহির করিলেন।
আবদুর রায্যাক ইমাম যুহরী সূত্রে বলেন, আবু রিগাল হইল ছাকীফের পিতা (তাবারী, জামিউল বায়ান ফী তাফসীরিল কুরআন, ৮খ, ১৬২)। আবূ রিগাল সম্পর্কিত প্রথমোক্ত হাদীছটি সম্পর্কে আল্লামা ইব্ন কাছীর বলেন, এই হাদীছটি সহীহ মুসলিমের শর্তানুযায়ী বর্ণিত। কিন্তু সিহাহ সিত্তায় ইহা বর্ণিত হয় নাই। দ্বিতীয় হাদীছ সম্পর্কে তিনি বলেন, ইহা একটি মুরসাল হাদীছ।
আবদুল্লাহ্ ইব্ন আমর (রা) হইতে বর্ণিত এক হাদীছে বলা হইয়াছে, সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ (স)-এর সাহিত তাইফের দিকে বাহির হইয়াছিলেন। অপরাপর বর্ণনাগুলিতে রহিয়াছে হিজর অভিমুখে রওয়ানার কথা। এই হাদীছটি বর্ণনা করিয়া ইবন কাছীর বলেন, আবূ দাউদের বর্ণনাও অনুরূপ। তিনি আরও বলেন, হাফিজ আবুল হাজ্জাজ আল-মিযী (র) এই হাদীছটিকে 'হাসান আযীয' বলিয়াছেন। বুহায়র ইব্ন আবূ বুহায়র একা এই হাদীছটি বর্ণনা করিয়াছেন। এই হাদীছটি ব্যতীত তাহার অন্য কোন পরিচয় নাই। ইসমাঈল ইব্ন উমায়্যা ব্যতীত তাহার নিকট হইতে অন্য কেহ হাদীছ বর্ণনা করেন নাই। আল-মিযযী বলিয়াছেন, হাদীছটিকে মারফু হিসাবে বর্ণনা করা সম্ভবত ধারণাপ্রসূত। ইহা আবদুল্লাহ্ ইব্ন আমরের উক্তি হইতে পারে (ইব্ন কাছীর, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, দারুদ-দায়্যান মিসর ১৪০৮ হি., ১৯৮৮ খৃ., ১খ., ১২৯-১৩০)। আল-মাসউদী বলেন, আবূ রিগাল তাইফ ও মক্কার মধ্যবর্তী স্থান আল-মুগাম্মাস নামক স্থানের রাস্তায় ধ্বংসপ্রাপ্ত হইয়াছিল। তাহার কবরকে পরবর্তী কালে প্রস্তারাঘাত করা হইত। আরবরা ইহা দ্বারা উপমা দান করিত। জারীর ইবনুল খিতফী আল-ফারাযদাক সম্পর্কে উপমাস্বরূপ বলেন:
إِذَا مَاتَ الْفَرَزْدَقُ فَارْجُمُوهُ + كَمَا تَرْمُونَ قَبْرَ أَبِي رِعَالٍ .
"আল-ফারাযদাক যখন মারা যাইবে তখন তাহাকে প্রস্তরাঘাত কর, যেইভাবে তোমরা আবূ রিগালকে প্রস্তরাঘাত কর"। আল-মাসউদী আরও বলেন: কেহ কেহ বলেন, আবূ রিগালকে সালিহ (আ) সম্পদের সাদাকা আদায়ের জন্য নিয়োগ করিয়াছিলেন। সে তাঁহার নির্দেশ অমান্য করিল এবং তাহার চরিত্র ছিল অসৎ। ফলে তাহার উপর ছাকীফ চড়াও ইহল। ছাকীফের নাম ছিল কাস্সী ইবন মুনাব্বিহ। হারাম শরীফের অধিবাসীদের সহিত তাহার অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে ছাকীফ আবূ রিগালকে নির্মমভাবে হত্যা করিল। গায়লান ইবন সালামা তাহার পূর্বপুরুষ ছাকীফ কর্তৃক আবু রিগালের উপর কঠোরতা অবলম্বন সম্পর্কে বলেন, আমরা নির্দয় বংশীয় লোক, আমাদের পিতা কঠোরতা অবলম্বন করিয়াছেন। এই সম্পর্কে উমায়্যা ইব্ন আবিস-সালত আছ-ছাকীফ বলেন,
نَفَوا عَنْ أَرْضِهِمْ عَدْنَانِ طَراً * وَكَانُوا لِلْقَبَائِلِ قَاهَرِيْنَا وَهُمْ قَتَلُوا الرئيسَ أَبَا رِعَالٍ + بِمَكَّةَ إِذْ يَسُوقُ بِهَا الْوَضِيْنَا .
"আদনান বংশকে তাহারা বলপূর্বক তাহাদের ভূমি হইতে বিতাড়িত করিল। ইহারা ছিল গোত্রসমূহের উপর বল প্রয়োগকারী। উহারা আবূ রিগালের মত নেতাকে হত্যা করিল। হত্যা স্থলটি ছিল মক্কায় যখন সে তথায় উৎপাত করিত"।
'আমার ইব্ন দাররাক আল-আবদী এই সম্পর্কে বলেন,
تَرَانِي إِنْ قَطَعْتُ حِبَالَ قَيْسٍ + وَخَالَفْتُ الْمُرُورَ عَلَى تَمِيمٍ . لَأَعْظَمُ فَجْرَةً مِنْ أَبِي رِغَالٍ + وَأَجْوَرُ فِي الْحُكُومَةِ مِنْ سَدُومٍ .
"তুমি আমাকে দেখিবে যদি আমি কায়সের দড়িসমূহ কাটিয়া ফেলি এবং বানু তামীমের চলাচলের বিরুদ্ধাচারণ করি। আমি আবূ রিগাল হইতে অনেক বড় দুষ্ট এবং রাজ্য পরিচালনায় সাদৃম হইতে বহু গুণ বেশি অত্যাচারী"।
মিসকীন আদ-দারিমী বলেন,
وَأَرْجُمُ قَبْرَهُ فِي كُلُّ عَامِ + كَرَجْمِ النَّاسِ قَبْرَ أَبِي رِغَالَ .
"আমি প্রতি বৎসর তাহার কবরে প্রস্তরাঘাত করি, যেইভাবে লোকে আবূ রিগালের কবরে প্রস্তরাঘাত করে" (আল-মাসউদী, মুরূজুয-যাহাব, ২খ, ৭৮-৭৯)।
📄 আল্লাহ্র উষ্ট্রী আখ্যায়িত করার কারণ
আল-কুরআনে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করিয়াছেন, هَذِهِ نَاقَةُ الله لَكُمْ آيَةً "ইহা আল্লাহ্র উস্ত্রী, ইহা তোমাদের জন্য একটি নিদর্শন" (৭: ৭৩)। এই সম্পর্কে আল্লামা কুরতুবী বলেন, উষ্ট্রীটিকে আল্লাহ্ দিকে সম্পর্ক করা হইয়াছে সৃষ্টির সহিত স্রষ্টার সম্পর্ক হিসাবে। ইহা উষ্ট্রীটির মর্যাদার ইঙ্গিতবহ (কুরতুবী, আল-জামি লিআহকামিল কুরআন, ৮খ, ২৩৮)। সায়ি্যদ আলুসী বলেন, উষ্ট্রীটির সম্পর্ক আল্লাহ্র সাথে করা হইয়াছে ইহার সম্মানার্থে, যেইভাবে মসজিদকে বায়তুল্লাহ বলা হয়। তবে এখানে ইযাফতটি (সম্পর্ক) অতি নগণ্য সামঞ্জস্যের কারণে হইয়াছে। আল্লাহ্ দিকে ইযাফত করার আরও কারণ হইল, উষ্ট্রীর স্বাভাবিক জন্মলাভের পদ্ধতি ও কারণসমূহের দ্বারা সৃষ্টি হয় নাই। ফলে ইহাকে আল্লাহ্র স্পষ্ট নিদর্শন বলা হইয়াছে। কেহ কেহ বলিয়াছেন, আল্লাহ ব্যতীত ইহার কোন মালিক ছিল না বিধায় তাঁহার উষ্ট্রী বলা হইয়াছে (আল-আলুসী, রূহুল মাআনী, ৮খ., ১৬৩)। ইমাম রাযী বলেন, কাহারও কাহারও মতে উহা আল্লাহ্ নিদর্শন হইল এই হিসাবে যে, ইহা পূর্ণ অবয়বে পাথর হইতে নির্গত হইয়াছিল। কাদী ইয়াদ বলেন, এই অভিমত সঠিক হইলে তিনটি কারণে ইহাতে অলৌকিকতা রহিয়াছে, তাহা হইল: পর্বত হইতে ইহার আবির্ভাব, স্বাভাবিকভাবে উষ্ট্রীর পেটে জন্ম না হওয়া এবং ধাপে ধাপে বৃদ্ধি হওয়া ছাড়াই পূর্ণ উষ্ট্রী হিসাবে আত্মপ্রকাশ। দ্বিতীয় অভিমত হইল, উহা আল্লাহর নিদর্শন ছিল এই হিসাবে যে, এই উষ্ট্রীর পানি পানের পালা ছিল একদিন আর সমূদয় ছামূদ সম্প্রদায়ের পানের পালা ছিল আর একদিন। তৃতীয় অভিমত হইল উষ্ট্রীটি যেইদিন পানি পান করিত সেইদিন সমগ্র ছামূদ সম্প্রদায়ের লোকজন তাহাদের চাহিদামত উষ্ট্রী হইতে দুধ দোহন করিত। চতুর্থ অভিমত হইল, উষ্ট্রীটি যেই দিন পানি পান করিত সেই দিন অন্যান্য সকল প্রাণী পানি পানের ঘাটে অবতরণ করা হইতে বিরত থাকিত। আর যেই দিন সে পানি পান করিত না সেই দিন সকল প্রাণী ঘাটে নামিয়া আসিত। মোটকথা, আল-কুরআন উষ্ট্রীটিকে নিদর্শন বলিয়া আখ্যায়িত করিয়াছে কিন্তু তাহা কি কারণে নিদর্শন তাহা উল্লেখ করে নাই। তবে ইহা অবশ্যই জ্ঞাতব্য যে, উষ্ট্রীটি নিঃসন্দেহ মুজিযা ছিল (ফাখরুদ্দীন আর-রাযী, আত-তাফসীরুল কাবীর, বৈরুত তা, বি., ১৪.খ, ১৬২)।
📄 ধ্বংসপ্রাপ্ত ছামূদ সম্প্রদায়কে সালিহ (আ)-এর সম্বোধন
এই সম্পর্কে সাঈদ আলূসী বলেন, সালিহ (আ) কর্তৃক উহাদিগকে সম্বোধনের আখ্যান জানানো ছিল রাসূলুল্লাহ্ (স) কর্তৃক মূর্খ মুশরিকদেরকে সম্বোধনের মতো। মূর্খ মুশরিকদেরকে যদ্দরজা তিরস্কার করা হইয়াছে তাহাদের প্রতি রাসূলুল্লাহ্ (স) তাহাদের প্রতিপালকের পক্ষ হইতে প্রেরিত পয়গামের জন্য সেই তিরস্কার করা হইয়াছিল। ইয়াহূদী ও খৃস্টান সম্প্রদায়কে সম্বোধন করিয়াছিলেন, যে সম্বোধন জাতিগতভাবে তাহাদের জন্য পরিপূর্ণ ও সর্বাঙ্গীণ ছিল। হইতে পারে সালিহ (আ)-এর সম্বোধন এমনিভাবে সর্বতোভাবে তাহাদের জন্য পরিব্যাপ্ত ছিল। কেহ কেহ বলিয়াছেন, এখানে আয়াত অংশ-বিশেষে করা হইয়াছে। আয়াতের মধ্যে অংশ-বিশেষ উদ্ধৃত করা হয় এবং অবশিষ্ট অংশ বাদ দেওয়া হইয়াছে। এই আয়াতের মধ্যে অংশটি এই যে, সালিহ (আ)-এর সম্বোধনের অংশবিশেষ। ইয়াহূদীগণকে সম্বোধনের ক্ষেত্রে ইহা ব্যবহৃত হয়। ইহাতে অর্থ এইরূপ হইবে : হে ইয়াহূদীগণ! তোমরা স্মরণ কর যখন আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করিয়াছিলেন, তাহা কি তোমরা বিস্মৃত হইয়াছ। তোমরা সালিহ (আ)-এর সম্বোধনের প্রতি লক্ষ্য কর, সালিহ (আ)-এর সম্বোধন অংশবিশেষ হইবে।
মু‘তাদেকে সম্বোধনের পক্ষে ইমাম রাযীর যুক্তি এই যে, ইহা শুনিয়া অনেক জীবিত লোক উপদেশ গ্রহণ করিবে এবং এইরূপ করা হইতে মূর্খ মুশরিকদেরকে যদ্দরজা তিরস্কার করা হইবে। ইহা তাহাদের জন্য উপদেশ হইবে এবং তাহাদের নিজেদের প্রতিপালকের প্রতি তাহাদের সম্বোধন। আল্লাহ্র নবী মূসা (আ)-এর সম্বোধন তাহাদের জন্য উপদেশ ছিল (আত্-তাফসীরুল কবীর, দারুস্ সাক্কাফাহ্, ১৪ খ, ১৬৭)।
📄 তাবৃক গমনকালে রাসূলুল্লাহ (স)-এর ছামূদ জনপদ অতিক্রম
ইবন উমার (রা) হইতে বর্ণিত। ছামূদ সম্প্রদায়ের (আবাসভূমি) অতিক্রম করিবার সময় রাসূলুল্লাহ্ (স) বলেন : তোমরা ক্রন্দনরত অবস্থা ছাড়া এই সম্প্রদায়ের আবাসে প্রবেশ করিও না, যাহারা নিজেদের উপর “জুলুম” করিয়াছে যাহাতে উহাদের যে শাস্তি ভোগ করিতে হইয়াছে তাহা তোমাদেরকে স্পর্শ না করে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (স) চাদর দ্বারা নিজ মস্তক আবৃত করিয়া দ্রুতগতিতে উপত্যকা অতিক্রম করিলেন” (বুখারী, কিতাবুল মাগাযী, বাব নুযূলিন-নবী (স) আল-হিজর, ২খ, ৫৩)।
ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেন :
لَمَّا كَانَ فِي غَزْوَةِ تَبُوكٍ فَأَسْرَعَ النَّاسُ إِلى أَهْلِ الْحِجْرِ يَدْخُلُوْنَ عَلَيْهِمْ فَبَلَغَ ذلِكَ رَسُولَ اللهِ ﷺ فَنَادَى فِي النَّاسِ الصَّلَاةَ جَامِعَةً قَالَ فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ ﷺ وَهُوَ يُمْسِكُ بَعِيْرَهُ وَهُوَ يَقُولُ
“তাবুক যুদ্ধে গমনের পথে লোকজন হিজরবাসীদের দিকে দ্রুত ধাবিত হইয়া তাহাদের নিকট প্রবেশ করিতে প্রবৃত্ত হইল। এই কথা রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর নিকট পৌঁছিলে। তিনি লোকজনকে “সালাতে জামাত খাড়া” বলিয়া আহ্বান করিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আমি নবী করীম (স)-এর নিকট আগমন করিলাম। এই সময় রাসূলুল্লাহ্ (স) তাঁহার বাহন উষ্ট্রীকে ধরিয়া রাখিতেছিলেন। তিনি বলিলেন, তোমরা এই সম্প্রদায়ের নিকট প্রবেশ করিও না যাহাদের উপর গযব অবতীর্ণ হইয়াছিল। অতঃপর এই সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করিয়া রাসূলুল্লাহ্ (স)-কে বলিতে শুনিলাম! ইহা দেখিয়া বিস্ময় প্রকাশ করিবার কিছু নাই। আল্লাহ্র রাসূল! ইহা দেখিয়া বিস্ময় প্রকাশ করিবার কিছু নাই। আল্লাহ্র রাসূল! ইহা দেখিয়া বিস্ময় প্রকাশ করিবার কিছু নাই।” (ইব্ন কাছীর, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, প্রাগুক্ত)।
হইতে বর্ণিত :
ثُمَّ زَجَرَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ رَاحِلَتَهُ فَأَسْرَعَ حَتَّى خَلَّفَهَا .
“অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (স) তাহার সাওয়ারীকে তাড়া করিলেন এবং এই স্থানটি ত্যাগ করিবার পূর্ব পর্যন্ত দ্রুত চলিলেন” (তাফসীরুল কবীর, ৪খ, ৪৮৪)।