📄 আদ শব্দটির অর্থ
সেমিটিক (সামী) ভাষাসমূহের মধ্যে সাহিত্যে অস্তিত্বের দিক হইতে হিব্রু প্রাচীনতম ভাষা। ইহার ফলে প্রাচীন শব্দসমূহের উৎপত্তি 'আরবী ভাষার তুলনায় 'হিব্রু ভাষায় অধিক সংরক্ষিত। হিব্রু ভাষায় 'আদ' শব্দের অর্থ 'উচ্চ ও বিখ্যাত' এবং আশ্চর্যের বিষয় এই যে, ইরাম এবং ইসাম (সাম) শব্দদ্বয়ের অর্থও অনুরূপ। এই অর্থের প্রভাব আরবীতেও বিদ্যমান। ইরাম-এর অর্থ পার্বত্য / পাহাড়ী ও দিকনির্দেশক পাথর। তাওরাতে 'আদ' পুংলিঙ্গের নামের জন্য এবং স্ত্রীবাচক নামের জন্য একাধিক স্থানে আসিয়াছে, যাহার ফলে ইহা স্পষ্ট যে, প্রাচীন কালে এই নাম ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হইত (সায়্যিদ সুলায়মান নদবী, তারীখু আরদিল কুরআন, খ. ১, পৃ. ৯৭-৯৮, করাচী ১৯১৫ খৃ.)।
📄 আদ জাতির আবির্ভাবকাল
আদ জাতির আবির্ভাবের সময়কাল আনুমানিক ৩০০০ খৃস্টপূর্বাব্দ। কেননা 'আদকে عوض بن ارم بن سام -এর সন্তান বলা হইয়াছে। কিন্তু পবিত্র কুরআনের যে স্থানে 'আদ-এর উল্লেখ করা হইয়াছে, সেই স্থানে তাহাদেরকে কওমে নূহ-এর প্রতিনিধি বলা হইয়াছে:
وَاذْكُرُوا إِذْ جَعَلَكُمْ خُلَفَاءَ مِنْ بَعْدِ قَوْمٍ نُوحٍ وَزَادَكُمْ فِي الخَلْقِ بَسْطَةً فَاذْكُرُوا أَلَاءَ اللَّهِ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ .
“এবং স্মরণ কর, আল্লাহ তোমাদিগকে নূহের সম্প্রদায়ের পরে তাহাদিগের স্থলাভিষিক্ত করিয়াছেন এবং তোমাদিগের অবয়ব অন্য লোক অপেক্ষা শক্তিতে অধিকতর সমৃদ্ধ করিয়াছেন। সুতরাং তোমরা আল্লাহ্র অনুগ্রহ স্মরণ কর, হয়ত তোমরা সফলকাম হইবে" (৭ঃ ৬৯)।
'আদ-ই ইরাম অথবা 'আদ-ই উলা তথা আমাদের আলোচ্য 'আদ জাতির আবির্ভাবকাল ২২০০ খৃ. পূর্বাব্দ হইতে আরম্ভ হয় বলিয়া অনুমিত। 'আদ জাতির অন্তিমকাল নির্ধারণের পদ্ধতি এই যে, ১৫০০ খৃ. পূর্বাব্দে য়ামান-এ অপর একটি শক্তির উদ্ভব ঘটে এবং ঐ সময়ের কিছু পূর্বের যুগ ছিল হযরত মূসা (আ)-এর যুগ। হযরত মূসা (আ)-এর একজন অনুসারী মুমিন ব্যক্তি ফিরআওনের দরবারে বলিয়াছিলেন:
يَا قَوْمِ إِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ مِثْلَ يَوْمِ الأَحْزَابِ مِثْلَ دَابِ قَوْمِ نُوحٍ وَعَادٍ وَثَمُودَ وَالَّذِينَ مِنْ بَعْدِهِمْ.
“হে আমার সম্প্রদায়! আমি তোমাদিগের জন্য পূর্ববর্তী সম্প্রদায়সমূহের শাস্তির দিনের অনুরূপ দুর্দিনের আশংকা করি, যেমন ঘটিয়াছিল নূহ, 'আদ, ছামূদ এবং তাহাদিগের পূর্ববর্তীদের ক্ষেত্রে” (৪০:৩০-৩১)।
সুতরাং উপরিউক্ত তথ্যাদির ভিত্তিতে 'আদ জাতির আবির্ভাবকাল ৩০০০ খৃ. পূর্বাব্দ হইলেও তাহাদের গৌরবময় যুগ খৃ. পূর্ব ২২০০ সাল হইতে খৃ. পৃ. ১৭০০ সাল পর্যন্ত ছিল। অবশ্য 'আদ জাতির নেককার লোকজন হযরত ঈসা (আ)-এর যুগ পর্যন্ত ছিলেন। গ্রীকগণ 'আদ জাতিকে عاد) عاد أديت (عادام) عاد رمثيا( ইত্যাদি নামে উল্লেখ করে, যাহারা হাদ্রামাওত ও য়ামানের বাসিন্দা ছিল। পার্থক্য নির্ধারণের জন্য ১ম যুগকে 'আদ-ই উলা এবং ২য় যুগকে 'আদ-ই ছানিয়া বলা হয় (তারীখু আরদিল কুরআন, ১খ., পৃ. ৯৮-৯৯)।
যে সকল ঐতিহাসিক আদ জাতি সম্পর্কে আলোচনা করিয়াছেন তাঁহারা লিখেন যে, হযরত ইবরাহীম (আ) যখন মক্কায় বায়তুল্লাহ্ নির্মাণ করেন এবং হযরত ইসমাঈল (আ) ও তাঁহার মাতা হযরত হাজেরা (রা)-কে ঐ স্থানে বসবাসের ব্যবস্থা করেন, তখন 'আদ জাতি ধ্বংস হইয়া গিয়াছিল।
📄 আদ জাতির বাসস্থান
'আদ জাতির কেন্দ্রীয় আবাসভূমি 'আরবের উৎকৃষ্ট বিস্তৃত অংশ অর্থাৎ য়ামান ও হাদ্রামাওত তথা পারস্য উপসাগরের উপকূল হইতে ইরাক সীমান্ত পর্যন্ত ছিল। প্রকৃতপক্ষে তাহাদের রাজত্বের মূল কেন্দ্র ছিল য়ামান (তারীখু আরদিল কুরআন, ১খ., পৃ. ৯৯)।
কাসাসুল কুরআন গ্রন্থের গ্রন্থকারের মতে 'আদ জাতি হযরত নূহ (আ)-এর পর পৃথিবীতে আবাদ হয়। “আহকাফ” নামক বালুকাময় মরুভূমিতে তাহাদের বসতি ছিল। ঐ এলাকা হাদ্রামাওত ও য়ামানের উত্তরে য়ামান উপসাগরের (ভারত মহাসাগর সংলগ্ন) তীর ব্যাপী বিস্তৃত ছিল। এই অঞ্চল প্রাচীন কাল হইতেই বালুকাময় ছিল, না 'আদ জাতির ধ্বংসের পর বালুকাময় মরুভূমিতে পরিণত হয়, তাহা জানা যায় না। তাওরাত ইত্যাদি আসমানী গ্রন্থ 'আদ জাতি সম্পর্কে নীরব। ইতিহাসও এই প্রাচীনতম জাতি সম্পর্কে কিছু বলে না। তবে কুরআনুল কারীমই এই 'আদ জাতির অবস্থা ও বাসস্থান সম্পর্কে জানার একমাত্র নির্ভরযোগ্য মাধ্যম।
ইব্ন কাছীর রচিত কাসাসুল আম্বিয়ার মতে এই 'আদ জাতি অর্থাৎ 'আদ ইব্ন আওস ইব্ন সাম ইব্ন নূহ ছিল একটি 'আরবী জাতিগোষ্ঠী। তাহারা আল-আহকাফে বসবাস করিত এবং আহকাফ হইল বালির পাহাড়। ইহা উমান ও হাদ্রামাওতের মধ্যবর্তী স্থলে অবস্থিত ছিল। এই স্থান সমুদ্র উপকূলে বিস্তৃত ছিল। উপকূল সংলগ্ন স্থানকে الشحر )আশ্-শিহ্র) বলা হইত এবং ঐ স্থানের উপত্যকার নাম مغیث )মুগীছ) (বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ১খ., পৃ. ৯৫)। পবিত্র কুরআনে 'আদ জাতির বাসস্থান কোথায় তাহা নির্দিষ্ট করিয়া বলা না হইলেও সূরা আহকাফে বলা হইয়াছে:
وَاذْكُرْ أَخَا عَادٍ إِذْ أَنْذَرَ قَوْمَهُ بِالأَحْقَافِ وَقَدْ خَلَتِ النُّذُرُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَمِنْ خَلْفِهِ إِلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا اللَّهَ إِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ.
"স্মরণ কর আদ সম্প্রদায়ের ভ্রাতার কথা, যাহার পূর্বে ও পরেও সতর্ককারীরা আসিয়াছিল। সে তাহার আহকাফবাসী সম্প্রদায়কে সতর্ক করিয়াছিল এই বলিয়া, আল্লাহ ব্যতীত কাহারও ইবাদত করিও না। আমি তো তোমাদিগের জন্য মহাদিবসের শাস্তির আশংকা করিতেছি" (৪৬: ২১)।
জানা যায় যে, 'আদ জাতির নির্দিষ্ট বাসস্থান য়ামান হইতে পারস্য উপসাগর পর্যন্ত দক্ষিণ 'আরব এবং পারস্য উপসাগরের তীর ঘেঁষিয়া ইরাক পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। মনে হয় বর্তমান য়ামান, হাদ্রামাওত, উমান, কাতার, আল-আহ্সা ইত্যাদি স্থানে 'আদ জাতির বসতি বিস্তৃত ছিল। ইহাদের কেন্দ্রস্থল ছিল আহকাফ, যাহা হাদ্রামাওতের উত্তরে, উমানের পশ্চিমে এবং রাবউল খালী'র দক্ষিণে অবস্থিত। বর্তমানে আহকাফে বালির টিলা ছাড়া আর কিছুই দেখা যায় না। কিন্তু ঐ যুগে হয়ত আহকাফ অঞ্চল সবুজ-শ্যামল প্রান্তর ছিল। শায়খ আবদুল ওয়াহ্হাব আন্-নাজ্জার তাঁহার 'কাসাসুল আম্বিয়া' গ্রন্থে হাদ্রামাওতের সায়্যিদ 'আবদুল্লাহ ইব্ন আহমাদের বর্ণনা উদ্ধৃত করেন যে, একবার তিনি একদল লোকের সঙ্গে প্রাচীন কালে ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিসমূহের খোঁজ করার জন্য হাদ্রামাওতের উত্তর দিকের প্রান্তরে কর্মরত ছিলেন। তাঁহারা অনেক চেষ্টার পর বালির টিলা খোদাই করিয়া মর্মর পাথরের কতিপয় পাত্র উদ্ধার করেন। ঐ সকল পাত্রে কিলক পদ্ধতির লেখা ছিল। কিন্তু আর্থিক সমস্যার কারণে তাঁহারা খননকার্য সমাপ্ত করিতে পারেন নাই (হিফজুর রহমান, কাসাসুল কুরআন, খণ্ড ১, পৃ. ৮৯; আবদুল ওয়াহ্হাব আন-নাজ্জার, কাসাসুল আম্বিয়া, পৃ. ৫১)। এই খননকার্য দ্বারা অনুমান করা যায় যে, 'আদ জাতি বসবাস করার সময় ঐ স্থান হয়ত বর্তমান সময়ের মত মরুময় ছিল না, বরং সবুজ, সজীব ও শ্যামল অঞ্চল ছিল। পবিত্র কুরআনের বর্ণনায় তাহা বুঝা যায়:
وَاتَّقُوا الَّذِي آمَدَّكُمْ بِمَا تَعْلَمُونَ . آمَدَكُمْ بِأَنْعَامِ وَبَنِينَ وَجَنَّتٍ وَعُيُونٍ إِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ.
"ভয় কর তাঁহাকে যিনি তোমাদিগকে দিয়াছেন সেই সমুদয় যাহা তোমরা জ্ঞাত। তিনি তোমাদিগকে দিয়াছেন আন'আম তথা উট, গরু, মেষ, ছাগল ও সন্তান-সন্তুতি, উদ্যান ও প্রস্রবণ। আমি তোমাদিগের জন্য আশংকা করি মহাদিবসের শাস্তি" (২৬ঃ ১৩২-১৩৫)।
'আদ জাতির লোকেরা মাঠে তাঁবুর মধ্যে বসবাস করিত। ঐসব তাঁবু বিশাল উঁচু স্তম্ভের উপর স্থাপিত ছিল। অথবা তাহারা এমন উঁচু গৃহে বাস করিত, যেসব গৃহের ছাদ অত্যন্ত উঁচু স্তম্ভের উপর স্থাপিত ছিল।
সায়্যিদ সুলায়মান নদবী তাঁহার 'তারীখু আরদিল কুরআন' গ্রন্থে بلاد احقاف শিরোনামে লিখেন, য়ামামা, উমান, বাহরাইন, হাদরামাওত এবং পশ্চিম য়ামানের মধ্যবর্তী যে বিশাল প্রান্তর 'আদ্-দুবনা" অথবা "রাবউ'ল-খালী" নামে পরিচিত, যদিও তাহা আবাদীর উপযুক্ত নহে, কিন্তু ইহার আশেপাশে কোথায়ও কোথায়ও আবাদীযোগ্য কিছু ভূমি বিদ্যমান, বিশেষ করিয়া ঐ অংশে, যে অংশ হাদ্রামাওত হইতে নাজরান পর্যন্ত বিস্তৃত। বর্তমানে অবশ্য এই অংশটিও আবাদ নহে। তাহা সত্ত্বেও প্রাচীন কালে হাদ্রামাওত ও নাজরানের মধ্যবর্তী অংশে “আদ-ই ইরাম”-এর বিখ্যাত জাতির বসবাস ছিল। এই জাতিকে আল্লাহ নাফরমানীর কারণে ধ্বংস করিয়া দেন (তারীখু আরদিল কুরআন, খ. ১, পৃ. ৭৩)।
মুহাম্মাদ জামীল আহমাদ তাঁহার রচিত 'আম্বিয়ায়ে কুরআন' নামক গ্রন্থে 'আদ জাতির আবাসভূমির পরিচয় দিতে গিয়া বলেন, “দক্ষিণ-পূর্ব আরবে পারস্য উপসাগরীয় উপকূল হইতে ইরাক সীমান্ত এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে (আরবে) হাদ্রামাওত পর্যন্ত 'আد জাতির আবাসভূমি বিস্তৃত ছিল (অম্বিয়ায়ে কুরআন, ১খ., পৃ. ১২৪, লাহোর)।
📄 আদ জাতির পার্থিব সমৃদ্ধির বর্ণনা
পবিত্র কুরআনে 'আদ জাতিকে হযরত নূহ (আ)-এর পরে পৃথিবীতে আগমনকারী এবং শারীরিক শক্তি, ধনসম্পদ ও মর্যাদার ক্ষেত্রে বিশিষ্ট বলিয়া অভিহিত করা হইয়াছে। সর্বোপরি তাহাদেরকে কাওমে নূহের পরে দুনিয়ার খিলাফত দান করা হয়:
وَاذْكُرُوا إِذْ جَعَلَكُمْ خُلَفَاءَ مِنْ بَعْدِ قَوْمٍ نُوحٍ وَزَادَكُمْ فِي الخَلْقِ بَسْطَةً فَاذْكُرُوا أَلَاءَ اللَّهِ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ.
"স্মরণ কর, আল্লাহ তোমাদিগকে নূহের সম্প্রদায়ের পরে তাহাদিগের স্থলাভিষিক্ত করিয়াছেন এবং তোমাদিগের অবয়ব অন্য লোক অপেক্ষা শক্তিতে অধিক সমৃদ্ধ করিয়াছেন। সুতরাং তোমরা আল্লাহ্র অনুগ্রহ স্মরণ কর, হয়ত তোমরা সফলকাম হইবে" (৭ঃ ৬৯)।
বলা বাহুল্য, 'আদ জাতির লোকেরা বিশালদেহী এবং প্রচণ্ড শারীরিক শক্তির অধিকারী ছিল। ইসরাঈলী রিওয়ায়াতসমূহে তাহাদের দেহের গঠন ও শক্তি সম্পর্কে আতিরঞ্জিত কথাবার্তা বর্ণিত আছে। তবে হযরত 'আবদুল্লাহ ইব্ন 'আব্বাস (রা) ও হযরত মুকাতিল (র) হইতে তাহাদের উচ্চতা ১২ হাত তথা ১৮ ফুট বলিয়া বর্ণনা পাওয়া যায় (তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন, সংক্ষিপ্ত বাংলা অনুবাদ, পৃ. ১৪৫৪)। তাহাদের মত শক্তিশালী আর কোন জাতি তৎকালে পৃথিবীতে ছিল না। হাফেজ ইব্ন কাছীর লিখিয়াছেন যে, 'আদ জাতির একেকজন লোক বিরাট পাথরের চাড় হাতে উঠাইয়া শত্রু গোত্রের উপর নিক্ষেপ করিয়া ধ্বংস করিয়া দিতে পারিত। তাহারা তাহাদের সচ্ছলতা, ধন-সম্পদ ও শিল্প বিজ্ঞানের বিচারে সমসাময়িক সকল জাতির মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী ছিল। তাহাদের শান-শওকত ও সার্বিক শক্তিমত্তা তাহাদেরকে অংহকারী, অত্যাচারী ও সীমালংঘনকারী বানাইয়া দেয়। তাহাদের অধিকৃত এলাকায় তাহারা সদম্ভে বিচরণ করিত। তাহারা ক্ষুদ্র ও দুর্বল জাতিসমূহের উপর অন্যায়ভাবে কঠোর আচরণ ও জুলম করিত। তাহাদের অন্তরে আল্লাহ্ ভয় ছিল না। নিজেদের শক্তিমত্তার ক্ষেত্রে তাহারা কাহাকেও পরওয়া করিত না।
তাহারা অহংকারের সহিত বলিত, এই পৃথিবীতে আমাদের চেয়ে শক্তিশালী আর কে আছে? তাহাদের এই অন্যায় দাবি পবিত্র কুরআনে বিবৃত হইয়াছে: "আর আদ সম্প্রদায়ের ব্যাপার এই যে, উহারা পৃথিবীতে অযথা দম্ভ করিত এবং বলিত, আমাদিগের অপেক্ষা শক্তিশালী কে আছে? উহারা কি তবে লক্ষ্য করে নাই যে, যে আল্লাহ তাহাদেরকে সৃষ্টি করিয়াছেন, তিনি তাহাদের অপেক্ষা শক্তিশালী? বস্তুত তাহারা আমার নিদর্শনাবলী অস্বীকার করিত” (৪১: ১৫)।
'আদ জাতির ঔদ্ধত্য ও অবিমৃষ্যকারিতা এমন পর্যায়ে ছিল যে, তাহারা তাহাদের উপর আপতিত আযাবের কথা বা আখিরাতের আযাবের কথা হযরত হূদ (আ)-এর মুখ হইতে শ্রবণ করার পরও দম্ভভরে কথা বলে। পবিত্র কুরআনের সূরা আহকাফে বলা হইয়াছে:
"উহারা বলিয়াছিল, 'তুমি আমাদিগকে আমাদিগের দেব-দেবীগুলির পূজা হইতে নিবৃত্ত করিতে আসিয়াছ? তুমি সত্যবাদী হইলে আমাদিগকে যাহার ভয় দেখাইতেছ তাহা আনয়ন কর" (৪৬: ২২)।