📄 নূহ (আ)-এর এলাকা
(ক) নূহ (আ)-এর এলাকা
কুরআন কারীমের ইঙ্গিত ও বাইবেলের বর্ণনা হইতে প্রতীয়মান হয় যে, নূহ (আ)-এর কওম বর্তমান ইরাকের বাবিল নগরীতে বসবাস করিত। বাবিল-এর প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনে বাইবেল হইতে এবং প্রাচীন যে শিলালিপি পাওয়া গিয়াছে উহা হইতেও ইহার সত্যতার প্রমাণ পাওয়া যায়। উহাতে কুরআন ও বাইবেলে উল্লিখিত ঘটনার অনুরূপ বর্ণনা রহিয়াছে। ইহার ঘটনার স্থল মাওসিল-এর পার্শ্ববর্তী কোন স্থান বলিয়া বর্ণনা করা হইয়াছে (মাওলানা মাওদূদী-তাফহীমুল কুরআন, ২খ., ৪০-৪১)। আবুল হাসান-এর বর্ণনামতে নূহ (আ)-এর এলাকা ছিল ইরাকের কুফা নগরী। বলা হয় যে, নূহ (আ)-ই সর্বপ্রথম এখানে বসবাস করেন। এক বর্ণনামতে প্লাবনের পর তিনি ও তাঁহার সাথী-সঙ্গীবর্গ খাদ্য-পানীয়ের সন্ধানে এখানে আসিয়া বসতি স্থাপন করেন। এখানেই তাহাদের বংশ বৃদ্ধি হয়। এখানেই তাহারা নগর পত্তন করেন। তাহাদের বসতি ছিল দিজলা ও ফুরাত সংলগ্ন এলাকায় (ইয়াকৃত আল-হামাবী, মু'জামুল-বুলদান, ১খ., ৩০৯)। ইবন সা'দ-এর একটি বর্ণনা হইতেও ইহার সমর্থন পাওয়া যায়। তিনি লিখিয়াছেন, (নূহ (আ) প্লাবন শেষে জুদী পর্বতের পাদদেশে অবতরণ করেন এবং সেখানে "সূক ছামানীন" নামে একটি নগরীর পত্তন করেন], অতঃপর 'সূক ছামানীন-এ যখন স্থান সংকুলান হইতেছিল না তখন তাহারা বাবিল গমন করত বসতি স্থাপন করেন। ইহা ফুরাত ও সুরাত (সেরা)-এর মধ্যবর্তী স্থান যাহার আয়তন ১৪৪ বর্গ ফারসাখ, সেইখানে তাহার বংশ বৃদ্ধি হয়, এবং সংখ্যায় তাহারা এক লাখে পৌছায়, এবং তাহারা সকলেই মুসলিম ছিলেন (ইবন সা'দ, তাবাকাত, ১খ., ৪২)।
যে সকল রিওয়ায়াত (জনশ্রুতি) কুরদিস্তান ও আর্মেনিয়ায় প্রাচীন কাল হইতে বংশ-পরম্পরায় চলিয়া আসিতেছে উহা হইতেও জানা যায় যে, প্লাবনের পর হযরত নূহ (আ)-এর নৌকা উক্ত অঞ্চলের কোনও এক স্থানে স্থির হইয়াছিল। মাওসিল-এর উত্তরে জাযীরা ইবন উমার-এর আশেপাশে আর্মেনিয়া সীমান্তে আরারাত পর্বতের পার্শ্ববর্তী এলাকায় এখনও নূহ (আ)-এর বিভিন্ন নিদর্শন চিহ্নিত করা হয়। নাখচিওয়ান শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে এখনও প্রসিদ্ধ আছে যে, উক্ত শহর নূহ (আ) পত্তন করেন (মাওলানা মাওদূদী, তাফহীমুল কুরআন, ২খ, ৪০-৪১)। সুতরাং অনুমিত হয় যে, প্লাবনের পর নূহ (আ) উক্ত অঞ্চলে অবতরণ করেন এবং খাদ্য-পানীয়ের সন্ধানে দিজলা ও ফুরাত মধ্যবর্তী কৃষ্ণায় গিয়া স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।
📄 জুদী পর্বতের অবস্থান
(খ) জুদী পর্বতের অবস্থান
বাইবেলে উক্ত পবর্তকে "আরারাত" পর্বত বলা হইয়াছে। দিজলা ও ফুরাত নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলই ছিল নূহ (আ)-এর দাওয়াত ও তাবলীগের কেন্দ্রস্থল এবং পৃথক পৃথকভাবে প্রবাহিত হইয়া ইরাকে আসিয়া মিলিত হইয়াছে। অতঃপর ইহা পারস্য উপসাগরে গিয়া পতিত হইয়াছে। আর্মেনিয়ার পর্বতশ্রেণী "আরারাত" অঞ্চলে অবস্থিত। এইজন্য বাইবেলে উহাকে আরারাত পর্বত বলা হইয়াছে। কিন্তু কুরআন কারীমে শুধুমাত্র নৌকা যে স্থানে গিয়া স্থির হইয়াছিল অর্থাৎ 'জুদী', উহার উল্লেখ করা হইয়াছে। উহা দিজলা নদীর পূর্ব দিকে মাওসিল-এর অন্তর্গত দিয়ার বাকর-এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে অবস্থিত (ইয়াকৃত আল-হামাবী, মু'জামুল বুলদান, ২খ., ১৭৯)। উহা আর্মেনিয়া পর্বতমালার সহিত মিলিত হইয়াছে। কামূসুল মুহীতে বলা হইয়াছে, জুদী জাযীরার একটি পর্বতের নাম যেখানে নূহ (আ)-এর নৌকা স্থির হইয়াছিল। তাওরাতে উহাকে আরারাত বলা হইয়াছে (আবদুল ওয়াহ্হাব আন-নাজ্জার, কাসাসুল-আম্বিয়া, পৃ. ৩৭)। তাওরাতের ভাষ্য- কারগণের ধারণা হইল : জুদী সেই পর্বতশ্রেণীর নাম যাহা আরারাত ও জর্জিয়ার পর্বতশ্রেণীকে পরস্পরের সহিত একত্র করিয়া দিয়াছে। তাহারা আরও বলেন, আলেকজাণ্ডার-এর সময়কালে গ্রীক লেখনীও ইহার সমর্থন করে। তদুপরি খৃস্টীয় অষ্টম শতক পর্যন্ত এখানে একটি মসজিদ ছিল যাহাকে মা'বাদু'স-সাফীনা (مَـعْـبَـدُ الـسَّـفِـيْـنَـةِ ) বলা হইত (হিফজুর রাহমান সিউহারবী, কাসাসুল কুরআন, ১খ., ৮৫)।