📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 পরিবার-পরিজন ও সন্তান-সন্ততি

📄 পরিবার-পরিজন ও সন্তান-সন্ততি


হযরত নূহ (আ)-এর কয়জন স্ত্রী ছিলেন সে ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোনও বিবরণ পাওয়া না গেলেও আল-কুরআন ও ইতিহাসের বিবরণ পর্যালোচনা করিলে বুঝা যায় যে, প্লাবনের পূর্ব পর্যন্ত তাঁহার দুইজন স্ত্রী ছিলেন। একজন ছিলেন তাঁহার প্রতি ঈমান আনয়নকারিনী যিনি তাঁহার সহিত নৌকায় আরোহণ করিয়া মুক্তি পাইয়াছিলেন (আছ-ছা'লাবী, কাসাসুল আম্বিয়া, পৃ. ৫৯)। আর অপরজন ছিল কাফির; সে প্লাবনে নিমজ্জিত হইয়াছিল এবং পরিণামে তাহার জন্য জাহান্নামের ফায়সালা হইয়াছে। আল-কুরআনে সুস্পষ্টভাবে এই স্ত্রীর কথাই উক্ত হইয়াছে:
ضَرَبَ اللَّهُ مَثَلًا لَّلَّذِينَ كَفَرُوا امْرَأَتَ نُوحٍ وَامْرَأَتَ لُوطٍ كَانَتَا تَحْتَ عَبْدَيْنِ مِنْ عِبَادِنَا صَالِحَيْنِ فَخَانَتْهُمَا فَلَمْ يُغْنِيَا عَنْهُمَا مِنَ اللهِ شَيْئًا وَقِيلَ ادْخُلاَ النَّارَ مَعَ الدَّاخِلِينَ ( ١٠ : ٦٦ ) .
"আল্লাহ কাফিরদের জন্য নূহের স্ত্রী ও লুতের স্ত্রীর দৃষ্টান্ত দিতেছেন, উহারা ছিল আমার বান্দাদের মধ্যে দুই সৎকর্মপরায়ণ বান্দার অধীন। কিন্তু উহারা তাহাদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করিয়াছিল। ফলে নূহ ও লুত উহাদিগকে আল্লাহ্ শাস্তি হইতে রক্ষা করিতে পারিল না এবং উহাদিগকে বলা হইল, তোমরা উভয়ে প্রবেশকারীদের সহিত জাহান্নামে প্রবেশ কর" (৬৬ঃ ১০)।
তবে বাইবেলে এই স্ত্রীর উল্লেখ নাই। শুধুমাত্র যে নৌকায় আরোহণ করিয়াছিল তাহার উল্লেখ রহিয়াছে। ইব্‌ন আব্বাস (রা) হইতে বর্ণিত যে, প্লাবনের পর নূহ (আ) কাবীলের বংশের এক মহিলাকে বিবাহ করেন। তাহার গর্ভে ঘৃনাতান (یوناطن) নামক এক পুত্র জন্মগ্রহণ করে (ইবন সা'দ, আত-তাবাকাতুল-কুবরা, ১খ., ৪২)।
হাদীছ ও অন্যান্য বর্ণনায় হযরত নূহ (আ)-এর চারজন পুত্রের কথা জানা যায়। তন্মধ্যে তিন পুত্র, সাম, হাম ও য়াফিছ মুমিন ছিলেন বলিয়া নূহ (আ)-এর সহিত নৌকায় আরোহণ করিয়া রক্ষা পান। নৌকায় আরোহণের সময় সাম-এর বয়স ছিল ৭৮ বৎসর (আছ-ছা'লাবী, কাসাস, পৃ. ৬২), মতান্তরে ৯৮ বৎসর (আত-তাবারী, তারীখ, ১খ., ৯৭)। পরবর্তীতে ইহাদের দ্বারাই সমগ্র বিশ্বে নূহ (আ)-এর বংশ বিস্তৃত হয়। বর্তমান কালে বিশ্বে যত লোক আছে সবাই নূহ (আ)-এর উক্ত তিন পুত্রের বংশধর। এই কথাই আল্লাহ্ তা'আলা ঘোষণা করিয়াছেন:
. وَجَعَلْنَا ذُرِّيَّتَهُ هُمُ الباقين
"তাহার বংশধরদিগকেই আমি বিদ্যমান রাখিয়াছি বংশ-পরম্পরায়" (৩৭ঃ ৭৭)।
নূহ (আ)-এর অপর পুত্র য়াম, যাহাকে আহলে কিতাবগণ কিন'আন বলিয়া থাকে এবং সাধারণত এই নামেই সে পরিচিত, কাফির হওয়ার কারণে প্লাবনে নিমজ্জিত হইয়া মারা যায়। আবির নামে তাঁহার আর এক পুত্রের কথা জানা যায় যে প্লাবনের পূর্বেই মারা গিয়াছিল (আত-তাবারী, তারীখ, ১খ., ৯৭; ইব্‌ন কাছীর, কাসাসুল আম্বিয়া, পৃ. ৮২)। এক বর্ণনামতে তাঁহার উপরিউক্ত তিন পুত্র (সাম, হাম ও য়াফিছ) প্লাবনের পর জন্মগ্রহণ করেন। প্লাবনের পূর্বে শুধু কিন'আন জন্মগ্রহণ করে। সে প্লাবনে নিমজ্জিত হইয়া প্রাণ হারায়। কিন্তু এই বর্ণনা সঠিক নহে; বরং সঠিক হইল, উক্ত তিন পুত্রও প্লাবনের পূর্বে জন্মগ্রহণ করেন এবং মুমিন হওয়ার কারণে প্লাবনের সময় নৌকায় আরোহণ করে তাহাদের স্ত্রীগণসহ (ইব্‌ন কাছীর, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ১খ., ১১৫-১১৬)। ঘৃনাতান নামে তাঁহার আরও এক পুত্রের কথা জানা যায় যাহার বিবরণ উপরে উল্লিখিত হইয়াছে।
ইমাম আহমাদ (র) আবদুল ওয়াহহাব সূত্রে সামুরা (রা) হইতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (স) বলেন, সাম হইলেন আরবের পিতা; হাম হইলেন হাবশের পিতা; আর য়াফিছ হইলেন রূম-এর পিতা (ইব্‌ন কাছীর, কাসাস, পৃ. ৮১; ঐ লেখক, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ১খ., ১১৫)। ইমাম তিরমিযীও বিশর ইব্‌ন্ন মুআয আল-আকাদী সূত্রে সামুরা (রা) হইতে অনুরূপ মারফু' একটি হাদীছ বর্ণনা করিয়াছেন (ইব্‌ন কাছীর, কাসাসুল আম্বিয়া, পৃ. ৮১)। ইসমাঈল ইব্‌ন আয়‍্যাশ সূত্রে সাঈদ ইবনুল মুসায়্যাব হইতে মুরসাল হাদীছ বর্ণিত যে, নূহ (আ)-এর তিন পুত্র জন্মগ্রহণ করেন: সাম, য়াফিছ ও হাম। এই তিনজনের প্রত্যেকেরই আবার তিন পুত্র: সাম-এর পুত্র হইল আরব, ফারিস ও রূম; য়াফিছ-এর পুত্র তুরক্, সাকালিবা ওইয়াজুজ-মাজুজ; আর হাম-এর পুত্র হইল কিবত, সুদান ও বারবার (ইবনুল-আছীর, আল-কামিল, ১খ., ৬১; ইব্‌ন কাছীর, কাসাস, পৃ. ৮১; ঐ লেখক, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১খ., ১১৫; ইবন সা'দ, তাবাকাত, ১খ., ৪০-৪১)।
হাফিজ আবূ বাক্স আল-বায্যার তাঁহার মুসনাদ গ্রন্থে আবূ হুরায়রা (রা) হইতে একটি মারফু' হাদীছ বর্ণনা করিয়াছেন যে, রাসূলুল্লাহ (স) বলেন: নূহ-এর সন্তানগণ হইলেন সাম, হাম ও রাফিছ। সামের বংশধর হইল আরব, ফারিস ও রূম। কল্যাণ ইহাদের মধ্যেই রহিয়াছে। য়াফিছের বংশধর হইল, য়াজুজ-মাজুজ, তুরক্ ও সাকালিবা; ইহাদের মধ্যে কল্যাণ নাই। আর হাম-এর বংশধর হইল কিন্তু, বারবার ও সুদান। ইহা রিওয়ায়াত করিয়া তিনি মন্তব্য করিয়াছেন যে, এই একটিমাত্র সূত্রই কেবল মারফু'রূপে বর্ণিত হইয়াছে। অন্যরা ইহাকে মুরসালরূপে বর্ণনা করিয়াছেন (ইবন কাছীর, কাসাসুল আম্বিয়া, পৃ.৮১)।
এক বর্ণনামতে নূহ (আ) নিষেধ করিয়াছিলেন যে, নৌকায় থাকাকালে কেহ যেন নিজ স্ত্রীর সহিত সঙ্গত না হয়। কিন্তু হাম উহা অমান্য করত স্ত্রীর সহিত মিলিত হইলে নূহ (আ) বদদুআ করিলেন যে, তাহার এই বীর্যের সৃষ্টি যেন কালো বর্ণের হয় এবং তাহার সন্তানগণ যেন স্বীয় ভ্রাতৃদ্বয়ের সন্তানগণের গুলাম হয়। অতঃপর তাহার কালো বর্ণের এক পুত্র সন্তান হয়, যাহার নাম কিনআন ইবন হাম। তিনি ছিলেন সুদানের দাদা (আছ-ছা'লাবী, কাসাসুল আম্বিয়া, পৃ.৫৯; ইবন কাছীর, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ১খ, ১১৬; ঐ লেখক, কাসাসুল আম্বিয়া, পৃ. ৮২)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 সন্তানদের মধ্যে ভূমি বণ্টন

📄 সন্তানদের মধ্যে ভূমি বণ্টন


নৌযান হইতে অবতরণের পর নূহ (আ) পৃথিবীকে তাঁহার সন্তানদের মধ্যে তিন ভাগে ভাগ করেন: সাম-এর জন্য তিনি পৃথিবীর মধ্য ভাগ বরাদ্দ করেন। উহার অন্তর্ভুক্ত ছিল বায়তুল মাকদিস, নীল, ফুরাত ও দিজলা, সায়তুন (সির দরিয়া) জায়তুন (আমু দরিয়া) ও ফায়শূন। আর উহা ফায়শূন হইতে নীল নদের পূর্ব দুই প্রান্ত পর্যন্ত এবং উত্তরের বায়ু চলাচলের স্থান হইতে দক্ষিণের চলাচলের স্থান পর্যন্ত। আর হামের জন্য বরাদ্দ করা হয় নীল নদের পশ্চিম দুই তীর এবং পশ্চিম-এর বায়ু যতদূর যায় ততদূর পর্যন্ত ও ইহার অপর প্রান্ত হইতে সায়হূন পর্যন্ত, পশ্চাতের বায়ু চলাচলের স্থান পর্যন্ত; আর য়াফিছ-এর জন্য বরাদ্দ করা হয় কায়শূন ও ইহার পরবর্তী স্থান হইতে পূর্বের বায়ু যতদূর যায় ততদূর পর্যন্ত (আত-তাবারী, তারীখ, ১খ., ৯৮; আছ-ছা'লাবী, কাসাসুল-আম্বিয়া, পৃ. ৬৩)। কুরআন কারীমে ইহার প্রতি ইঙ্গিত রহিয়াছে:
وَجَعَلْنَا ذُرِّيَّتَهُ هُمُ الْبَاقِينَ، وَتَرَكْنَا عَلَيْهِ فِي الآخِرينَ . سَلَامٌ عَلَى نُوحٍ فِي الْعَلَمِينَ إِنَّا كَذَلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ إِنَّهُ مِنْ عِبَادِنَا الْمُؤْمِنِينَ.
"তাহার বংশধরদিগকেই আমি বিদ্যমান রাখিয়াছি বংশ-পরম্পরায়; আমি ইহা পরবর্তীদের স্মরণে রাখিয়াছি। সমগ্র বিশ্বের মধ্যে নূহ-এর প্রতি শান্তি বর্ষিত হউক। এইভাবেই আমি সৎকর্মপরায়ণদিগকে পুরস্কৃত করিয়া থাকি। সে ছিল আমার মু'মিন বান্দাদের অন্যতম" (৩৭: ৭৭-৮১)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 নূহ (আ)-এর এলাকা

📄 নূহ (আ)-এর এলাকা


(ক) নূহ (আ)-এর এলাকা
কুরআন কারীমের ইঙ্গিত ও বাইবেলের বর্ণনা হইতে প্রতীয়মান হয় যে, নূহ (আ)-এর কওম বর্তমান ইরাকের বাবিল নগরীতে বসবাস করিত। বাবিল-এর প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনে বাইবেল হইতে এবং প্রাচীন যে শিলালিপি পাওয়া গিয়াছে উহা হইতেও ইহার সত্যতার প্রমাণ পাওয়া যায়। উহাতে কুরআন ও বাইবেলে উল্লিখিত ঘটনার অনুরূপ বর্ণনা রহিয়াছে। ইহার ঘটনার স্থল মাওসিল-এর পার্শ্ববর্তী কোন স্থান বলিয়া বর্ণনা করা হইয়াছে (মাওলানা মাওদূদী-তাফহীমুল কুরআন, ২খ., ৪০-৪১)। আবুল হাসান-এর বর্ণনামতে নূহ (আ)-এর এলাকা ছিল ইরাকের কুফা নগরী। বলা হয় যে, নূহ (আ)-ই সর্বপ্রথম এখানে বসবাস করেন। এক বর্ণনামতে প্লাবনের পর তিনি ও তাঁহার সাথী-সঙ্গীবর্গ খাদ্য-পানীয়ের সন্ধানে এখানে আসিয়া বসতি স্থাপন করেন। এখানেই তাহাদের বংশ বৃদ্ধি হয়। এখানেই তাহারা নগর পত্তন করেন। তাহাদের বসতি ছিল দিজলা ও ফুরাত সংলগ্ন এলাকায় (ইয়াকৃত আল-হামাবী, মু'জামুল-বুলদান, ১খ., ৩০৯)। ইবন সা'দ-এর একটি বর্ণনা হইতেও ইহার সমর্থন পাওয়া যায়। তিনি লিখিয়াছেন, (নূহ (আ) প্লাবন শেষে জুদী পর্বতের পাদদেশে অবতরণ করেন এবং সেখানে "সূক ছামানীন" নামে একটি নগরীর পত্তন করেন], অতঃপর 'সূক ছামানীন-এ যখন স্থান সংকুলান হইতেছিল না তখন তাহারা বাবিল গমন করত বসতি স্থাপন করেন। ইহা ফুরাত ও সুরাত (সেরা)-এর মধ্যবর্তী স্থান যাহার আয়তন ১৪৪ বর্গ ফারসাখ, সেইখানে তাহার বংশ বৃদ্ধি হয়, এবং সংখ্যায় তাহারা এক লাখে পৌছায়, এবং তাহারা সকলেই মুসলিম ছিলেন (ইবন সা'দ, তাবাকাত, ১খ., ৪২)।
যে সকল রিওয়ায়াত (জনশ্রুতি) কুরদিস্তান ও আর্মেনিয়ায় প্রাচীন কাল হইতে বংশ-পরম্পরায় চলিয়া আসিতেছে উহা হইতেও জানা যায় যে, প্লাবনের পর হযরত নূহ (আ)-এর নৌকা উক্ত অঞ্চলের কোনও এক স্থানে স্থির হইয়াছিল। মাওসিল-এর উত্তরে জাযীরা ইবন উমার-এর আশেপাশে আর্মেনিয়া সীমান্তে আরারাত পর্বতের পার্শ্ববর্তী এলাকায় এখনও নূহ (আ)-এর বিভিন্ন নিদর্শন চিহ্নিত করা হয়। নাখচিওয়ান শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে এখনও প্রসিদ্ধ আছে যে, উক্ত শহর নূহ (আ) পত্তন করেন (মাওলানা মাওদূদী, তাফহীমুল কুরআন, ২খ, ৪০-৪১)। সুতরাং অনুমিত হয় যে, প্লাবনের পর নূহ (আ) উক্ত অঞ্চলে অবতরণ করেন এবং খাদ্য-পানীয়ের সন্ধানে দিজলা ও ফুরাত মধ্যবর্তী কৃষ্ণায় গিয়া স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 জুদী পর্বতের অবস্থান

📄 জুদী পর্বতের অবস্থান


(খ) জুদী পর্বতের অবস্থান
বাইবেলে উক্ত পবর্তকে "আরারাত" পর্বত বলা হইয়াছে। দিজলা ও ফুরাত নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলই ছিল নূহ (আ)-এর দাওয়াত ও তাবলীগের কেন্দ্রস্থল এবং পৃথক পৃথকভাবে প্রবাহিত হইয়া ইরাকে আসিয়া মিলিত হইয়াছে। অতঃপর ইহা পারস্য উপসাগরে গিয়া পতিত হইয়াছে। আর্মেনিয়ার পর্বতশ্রেণী "আরারাত" অঞ্চলে অবস্থিত। এইজন্য বাইবেলে উহাকে আরারাত পর্বত বলা হইয়াছে। কিন্তু কুরআন কারীমে শুধুমাত্র নৌকা যে স্থানে গিয়া স্থির হইয়াছিল অর্থাৎ 'জুদী', উহার উল্লেখ করা হইয়াছে। উহা দিজলা নদীর পূর্ব দিকে মাওসিল-এর অন্তর্গত দিয়ার বাকর-এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে অবস্থিত (ইয়াকৃত আল-হামাবী, মু'জামুল বুলদান, ২খ., ১৭৯)। উহা আর্মেনিয়া পর্বতমালার সহিত মিলিত হইয়াছে। কামূসুল মুহীতে বলা হইয়াছে, জুদী জাযীরার একটি পর্বতের নাম যেখানে নূহ (আ)-এর নৌকা স্থির হইয়াছিল। তাওরাতে উহাকে আরারাত বলা হইয়াছে (আবদুল ওয়াহ্হাব আন-নাজ্জার, কাসাসুল-আম্বিয়া, পৃ. ৩৭)। তাওরাতের ভাষ্য- কারগণের ধারণা হইল : জুদী সেই পর্বতশ্রেণীর নাম যাহা আরারাত ও জর্জিয়ার পর্বতশ্রেণীকে পরস্পরের সহিত একত্র করিয়া দিয়াছে। তাহারা আরও বলেন, আলেকজাণ্ডার-এর সময়কালে গ্রীক লেখনীও ইহার সমর্থন করে। তদুপরি খৃস্টীয় অষ্টম শতক পর্যন্ত এখানে একটি মসজিদ ছিল যাহাকে মা'বাদু'স-সাফীনা (مَـعْـبَـدُ الـسَّـفِـيْـنَـةِ ) বলা হইত (হিফজুর রাহমান সিউহারবী, কাসাসুল কুরআন, ১খ., ৮৫)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00