📄 নূহ (আ)-এর বয়স
হযরত নূহ (আ) পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা দীর্ঘজীবি রাসূল ও সর্বাপেক্ষা দীর্ঘজীবী মানব ছিলেন। এই ব্যাপারে কাহারও দ্বিমত নাই। তবে তিনি সর্বমোট কত বৎসর জীবিত ছিলেন এই ব্যাপারে বেশ কিছু মতামত পাওয়া যায়: আহলে কিতাব ও কিছু সংখ্যক আলিমের মতে নৌকায় আরোহণের সময় তাঁহার বয়স ছিল ৬০০ বৎসর, প্লাবনের পর তিনি আরও ৩৫০ বৎসর জীবিত ছিলেন। তাই তাঁহার মোট বয়স হইয়াছিল ৯৫০ বৎসর (Bible, Genesis, 7: 6; 9: 28-29; আত-তাবারী, তারীখ, ১খ., ৯৬)।
ইব্ন আব্বাস (রা) হইতেও এই ধরনের একটি মত বর্ণিত আছে (ইব্ন কাছীর, কাসাসুল-আম্বিয়া, পৃ. ৯০; আছ-ছা'লাবী, কাসাসুল-আম্বিয়া, পৃ. ১২)। কিন্তু ইহা সঠিক নহে। আওন ইব্ন আবী শাদ্দাদের এক বর্ণনামতে নূহ (আ) প্লাবনের পর ৯৫০ বৎসর জীবিত ছিলেন এবং প্লাবনের পূর্বে তাঁহার বয়স ছিল ৩৫০ বৎসর। তদনুসারে নূহ (আ)-এর মোট বয়স ১৩০০ বৎসর (আছ-ছা'লাবী, প্রাগুক্ত)। এই মতটিও সঠিক নহে। উপরিউক্ত মতদ্বয় সঠিক না হওয়ার কারণ হইল ইহা কুরআন করীমের সুস্পষ্ট আয়াতের পরিপন্থী। কুরআন করীমের বর্ণনায় ইহা জানা যায় যে, নবুওয়াত প্রাপ্তির পর হইতে প্লাবন পর্যন্ত ৯৫০ বৎসর তিনি কওমের মধ্যে অবস্থান করত দাওয়াতী কাজ করেন। ইহার পর প্লাবন শুরু হয়। যেমন ইরশাদ হইয়াছে:
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوْحًا إِلَى قَوْمِهِ فَلَبِثَ فِيهِمْ الْفَ سَنَةٍ إِلَّا خَمْسِينَ عَامًا فَأَخَذَهُمُ الطُّوْفَانُ وَهُمْ ظُلِمُونَ .
"আমি তো নূহকে তাহার সম্প্রদায়ের নিকট প্রেরণ করিয়াছিলাম। সে উহাদের মধ্যে অবস্থান করিয়াছিল পঞ্চাশ কম হাজার বৎসর। অতঃপর প্লাবন উহাদিগকে গ্রাস করে; কারণ উহারা ছিল সীমালংঘনকারী” (২৯: ১৪)। ইব্ন আব্বাস (রা)-এর অপর এক রিওয়ায়াতমতে নূহ (আ) ৪০ বৎসরে নবুওয়াত প্রাপ্ত হন; ৯৫০ বৎসর তিনি দাওয়াতী কাজ করেন এবং প্লাবনের পর আর ৬০ বৎসর জীবিত ছিলেন। ফলে তাঁহার মোট বয়স ৪০+৯৫০+৬০=১০৫০ বৎসর (আল-আলুসী; রূহুল-মাআনী, ১২খ., ৩৫)। মুকাতিল বলেন, নূহ (আ) ২৫০ বৎসরে নবুওয়াত প্রাপ্ত হন (মতান্তরে ১০০ ও ৫০ বৎসরে); ৯৫০ বৎসর তিনি দাওয়াতী কাজ করেন এবং প্লাবনের পর জীবিত ছিলেন ২৫০ বৎসর। সুতরাং তাঁহার মোট বয়স ছিল ১৪৫০ বৎসর (প্রাগুক্ত, ১২খ., ৩৫-৩৬; ৮খ., ১৪৯)। তবে দুই-একটি রিওয়ায়াত ব্যতীত অধিকাংশ বর্ণনামতে প্লাবনের পর তিনি ৩৫০ বৎসর জীবিত ছিলেন। ইতোপূর্বে নবুওয়াত প্রাপ্তির সময় তাঁহার বয়স সম্পর্কিত তিনটি মত উল্লেখ করা হইয়াছে। কুরআন করীমের উপরিউক্ত আয়াত-এর পরিপ্রেক্ষিতে এবং প্লাবনের পর তিনি ৩৫০ বৎসর জীবিত ছিলেন, ইহা মানিয়া লইলে (যেমন অধিকাংশ মত) বর্ণিত তিনটি মতানুযায়ী তাঁহার বয়স দাঁড়ায় নিম্নরূপঃ (১) নবুওয়াত প্রাপ্তি ৫০ বৎসর+ দাওয়াতী কাজ ৯৫০+ প্লাবনের পর ৩৫০ বৎসর মোট বয়স = ১৩৫০ বৎসর; (২) নবুওয়াত প্রাপ্তি ৩৫০ বৎসর+ দাওয়াতী কাজ ৯৫০+ প্লাবনের পর ৩৫০ বৎসর = মোট ১৬৫০ বৎসর। এক বর্ণনামতে ইহা আওন ইব্ন আবী শাদ্দাদের মত বলিয়া উল্লেখ করা হইয়াছে (ইবনুল-আছীর, আল-কামিল, ১খ., ৫৫; আত-তাবারী, তারীখ, ১খ., ৯০)। (৩) নবুওয়াত প্রাপ্তি ৪৮০ বৎসর+ দাওয়াতী কাজ ৯৫০ বৎসর+প্লাবনের পর ৩৫০ বৎসর; মোট বয়স ১৭৮০ বৎসর। ইহাই ইব্ন আব্বাস (রা)-এর মত বলিয়া উল্লেখ করা হইয়াছে (ইব্ন কাছীর, কাসাসুল-আম্বিয়া, পৃ. ৯০)। ইমাম আবু জাফর তাবারী অবশ্য এই মতটির মধ্যে দাওয়াতী সময়কাল ১২০ বৎসর বলিয়া উল্লেখ করিয়াছেন, যাহার ফলে তাঁহার বয়স হয় সর্বপ্রথম উল্লিখিত মতটির অনুরূপ (আত-তাবারী, তারীখ, ১খ., ৯০)। পূর্বেই উল্লেখ করা হইয়াছে যে, এই মত সঠিক নহে।
এত দীর্ঘ বয়স পাওয়া সত্ত্বেও মৃত্যু উপস্থিত হইলে হযরত নূহ (আ)-কে যখন জিজ্ঞাসা করা হইল, দুনিয়াকে আপনি কিরূপ পাইয়াছেন? তখন ইহার উত্তরে তিনি বলিলেন, উহা এমন একটি গৃহের ন্যায় যাহার দুইটি দরজা রহিয়াছে। উহার একটি দিয়া আমি প্রবেশ করিলাম এবং অপরটি দিয়া বাহির হইলাম। এই সামান্য সময়মাত্র (ইবনুল আছীর, আল-কামিল, ১খ., ৫৮; আছ-ছা'লাবী, কাসাসুল আম্বিয়া, পৃ. ৮২)।
📄 নূহ (আ)-এর কবর
হযরত নূহ (আ)-এর কবর কোথায় অবস্থিত এই ব্যাপারে বিভিন্ন মত পাওয়া যায়। এক বর্ণনামতে তাঁহার কবর কূফার মসজিদে অবস্থিত, অপর এক বর্ণনামতে জাবাল-ই আহমারে। আধুনিক কালের কোন কোন আলিমের মতে নূহ (আ)-এর কবর বর্তমানে লেবাননের একটি পর্বতের পাদদেশে অবস্থিত "কারাক" শহরে, যাহা বর্তমানে "কারাক নূহ" নামে পরিচিত। এই কারণে সেখানে একটি মসজিদ নির্মিত হইয়াছে। ইব্ন জারীর ও আল-আযরাকী আবদুর রহমান ইব্ন ছাবিত প্রমুখ তাবিঈ হইতে মুরসাল হাদীছ বর্ণনা করিয়াছেন যে, নূহ (আ)-এর কবর আল-মাসজিদুল-হারাম-এ অবস্থিত। হাফিজ ইব্ন কাছীর এই মতটিকে অধিকতর সঠিক ও নির্ভরযোগ্য বলিয়া মন্তব্য করিয়াছেন (দ্র. আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ১খ., ১২০; কাসাসুল-আম্বিয়া, পৃ. ৯০)।
📄 পরিবার-পরিজন ও সন্তান-সন্ততি
হযরত নূহ (আ)-এর কয়জন স্ত্রী ছিলেন সে ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোনও বিবরণ পাওয়া না গেলেও আল-কুরআন ও ইতিহাসের বিবরণ পর্যালোচনা করিলে বুঝা যায় যে, প্লাবনের পূর্ব পর্যন্ত তাঁহার দুইজন স্ত্রী ছিলেন। একজন ছিলেন তাঁহার প্রতি ঈমান আনয়নকারিনী যিনি তাঁহার সহিত নৌকায় আরোহণ করিয়া মুক্তি পাইয়াছিলেন (আছ-ছা'লাবী, কাসাসুল আম্বিয়া, পৃ. ৫৯)। আর অপরজন ছিল কাফির; সে প্লাবনে নিমজ্জিত হইয়াছিল এবং পরিণামে তাহার জন্য জাহান্নামের ফায়সালা হইয়াছে। আল-কুরআনে সুস্পষ্টভাবে এই স্ত্রীর কথাই উক্ত হইয়াছে:
ضَرَبَ اللَّهُ مَثَلًا لَّلَّذِينَ كَفَرُوا امْرَأَتَ نُوحٍ وَامْرَأَتَ لُوطٍ كَانَتَا تَحْتَ عَبْدَيْنِ مِنْ عِبَادِنَا صَالِحَيْنِ فَخَانَتْهُمَا فَلَمْ يُغْنِيَا عَنْهُمَا مِنَ اللهِ شَيْئًا وَقِيلَ ادْخُلاَ النَّارَ مَعَ الدَّاخِلِينَ ( ١٠ : ٦٦ ) .
"আল্লাহ কাফিরদের জন্য নূহের স্ত্রী ও লুতের স্ত্রীর দৃষ্টান্ত দিতেছেন, উহারা ছিল আমার বান্দাদের মধ্যে দুই সৎকর্মপরায়ণ বান্দার অধীন। কিন্তু উহারা তাহাদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করিয়াছিল। ফলে নূহ ও লুত উহাদিগকে আল্লাহ্ শাস্তি হইতে রক্ষা করিতে পারিল না এবং উহাদিগকে বলা হইল, তোমরা উভয়ে প্রবেশকারীদের সহিত জাহান্নামে প্রবেশ কর" (৬৬ঃ ১০)।
তবে বাইবেলে এই স্ত্রীর উল্লেখ নাই। শুধুমাত্র যে নৌকায় আরোহণ করিয়াছিল তাহার উল্লেখ রহিয়াছে। ইব্ন আব্বাস (রা) হইতে বর্ণিত যে, প্লাবনের পর নূহ (আ) কাবীলের বংশের এক মহিলাকে বিবাহ করেন। তাহার গর্ভে ঘৃনাতান (یوناطن) নামক এক পুত্র জন্মগ্রহণ করে (ইবন সা'দ, আত-তাবাকাতুল-কুবরা, ১খ., ৪২)।
হাদীছ ও অন্যান্য বর্ণনায় হযরত নূহ (আ)-এর চারজন পুত্রের কথা জানা যায়। তন্মধ্যে তিন পুত্র, সাম, হাম ও য়াফিছ মুমিন ছিলেন বলিয়া নূহ (আ)-এর সহিত নৌকায় আরোহণ করিয়া রক্ষা পান। নৌকায় আরোহণের সময় সাম-এর বয়স ছিল ৭৮ বৎসর (আছ-ছা'লাবী, কাসাস, পৃ. ৬২), মতান্তরে ৯৮ বৎসর (আত-তাবারী, তারীখ, ১খ., ৯৭)। পরবর্তীতে ইহাদের দ্বারাই সমগ্র বিশ্বে নূহ (আ)-এর বংশ বিস্তৃত হয়। বর্তমান কালে বিশ্বে যত লোক আছে সবাই নূহ (আ)-এর উক্ত তিন পুত্রের বংশধর। এই কথাই আল্লাহ্ তা'আলা ঘোষণা করিয়াছেন:
. وَجَعَلْنَا ذُرِّيَّتَهُ هُمُ الباقين
"তাহার বংশধরদিগকেই আমি বিদ্যমান রাখিয়াছি বংশ-পরম্পরায়" (৩৭ঃ ৭৭)।
নূহ (আ)-এর অপর পুত্র য়াম, যাহাকে আহলে কিতাবগণ কিন'আন বলিয়া থাকে এবং সাধারণত এই নামেই সে পরিচিত, কাফির হওয়ার কারণে প্লাবনে নিমজ্জিত হইয়া মারা যায়। আবির নামে তাঁহার আর এক পুত্রের কথা জানা যায় যে প্লাবনের পূর্বেই মারা গিয়াছিল (আত-তাবারী, তারীখ, ১খ., ৯৭; ইব্ন কাছীর, কাসাসুল আম্বিয়া, পৃ. ৮২)। এক বর্ণনামতে তাঁহার উপরিউক্ত তিন পুত্র (সাম, হাম ও য়াফিছ) প্লাবনের পর জন্মগ্রহণ করেন। প্লাবনের পূর্বে শুধু কিন'আন জন্মগ্রহণ করে। সে প্লাবনে নিমজ্জিত হইয়া প্রাণ হারায়। কিন্তু এই বর্ণনা সঠিক নহে; বরং সঠিক হইল, উক্ত তিন পুত্রও প্লাবনের পূর্বে জন্মগ্রহণ করেন এবং মুমিন হওয়ার কারণে প্লাবনের সময় নৌকায় আরোহণ করে তাহাদের স্ত্রীগণসহ (ইব্ন কাছীর, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ১খ., ১১৫-১১৬)। ঘৃনাতান নামে তাঁহার আরও এক পুত্রের কথা জানা যায় যাহার বিবরণ উপরে উল্লিখিত হইয়াছে।
ইমাম আহমাদ (র) আবদুল ওয়াহহাব সূত্রে সামুরা (রা) হইতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (স) বলেন, সাম হইলেন আরবের পিতা; হাম হইলেন হাবশের পিতা; আর য়াফিছ হইলেন রূম-এর পিতা (ইব্ন কাছীর, কাসাস, পৃ. ৮১; ঐ লেখক, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ১খ., ১১৫)। ইমাম তিরমিযীও বিশর ইব্ন্ন মুআয আল-আকাদী সূত্রে সামুরা (রা) হইতে অনুরূপ মারফু' একটি হাদীছ বর্ণনা করিয়াছেন (ইব্ন কাছীর, কাসাসুল আম্বিয়া, পৃ. ৮১)। ইসমাঈল ইব্ন আয়্যাশ সূত্রে সাঈদ ইবনুল মুসায়্যাব হইতে মুরসাল হাদীছ বর্ণিত যে, নূহ (আ)-এর তিন পুত্র জন্মগ্রহণ করেন: সাম, য়াফিছ ও হাম। এই তিনজনের প্রত্যেকেরই আবার তিন পুত্র: সাম-এর পুত্র হইল আরব, ফারিস ও রূম; য়াফিছ-এর পুত্র তুরক্, সাকালিবা ওইয়াজুজ-মাজুজ; আর হাম-এর পুত্র হইল কিবত, সুদান ও বারবার (ইবনুল-আছীর, আল-কামিল, ১খ., ৬১; ইব্ন কাছীর, কাসাস, পৃ. ৮১; ঐ লেখক, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১খ., ১১৫; ইবন সা'দ, তাবাকাত, ১খ., ৪০-৪১)।
হাফিজ আবূ বাক্স আল-বায্যার তাঁহার মুসনাদ গ্রন্থে আবূ হুরায়রা (রা) হইতে একটি মারফু' হাদীছ বর্ণনা করিয়াছেন যে, রাসূলুল্লাহ (স) বলেন: নূহ-এর সন্তানগণ হইলেন সাম, হাম ও রাফিছ। সামের বংশধর হইল আরব, ফারিস ও রূম। কল্যাণ ইহাদের মধ্যেই রহিয়াছে। য়াফিছের বংশধর হইল, য়াজুজ-মাজুজ, তুরক্ ও সাকালিবা; ইহাদের মধ্যে কল্যাণ নাই। আর হাম-এর বংশধর হইল কিন্তু, বারবার ও সুদান। ইহা রিওয়ায়াত করিয়া তিনি মন্তব্য করিয়াছেন যে, এই একটিমাত্র সূত্রই কেবল মারফু'রূপে বর্ণিত হইয়াছে। অন্যরা ইহাকে মুরসালরূপে বর্ণনা করিয়াছেন (ইবন কাছীর, কাসাসুল আম্বিয়া, পৃ.৮১)।
এক বর্ণনামতে নূহ (আ) নিষেধ করিয়াছিলেন যে, নৌকায় থাকাকালে কেহ যেন নিজ স্ত্রীর সহিত সঙ্গত না হয়। কিন্তু হাম উহা অমান্য করত স্ত্রীর সহিত মিলিত হইলে নূহ (আ) বদদুআ করিলেন যে, তাহার এই বীর্যের সৃষ্টি যেন কালো বর্ণের হয় এবং তাহার সন্তানগণ যেন স্বীয় ভ্রাতৃদ্বয়ের সন্তানগণের গুলাম হয়। অতঃপর তাহার কালো বর্ণের এক পুত্র সন্তান হয়, যাহার নাম কিনআন ইবন হাম। তিনি ছিলেন সুদানের দাদা (আছ-ছা'লাবী, কাসাসুল আম্বিয়া, পৃ.৫৯; ইবন কাছীর, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ১খ, ১১৬; ঐ লেখক, কাসাসুল আম্বিয়া, পৃ. ৮২)।
📄 সন্তানদের মধ্যে ভূমি বণ্টন
নৌযান হইতে অবতরণের পর নূহ (আ) পৃথিবীকে তাঁহার সন্তানদের মধ্যে তিন ভাগে ভাগ করেন: সাম-এর জন্য তিনি পৃথিবীর মধ্য ভাগ বরাদ্দ করেন। উহার অন্তর্ভুক্ত ছিল বায়তুল মাকদিস, নীল, ফুরাত ও দিজলা, সায়তুন (সির দরিয়া) জায়তুন (আমু দরিয়া) ও ফায়শূন। আর উহা ফায়শূন হইতে নীল নদের পূর্ব দুই প্রান্ত পর্যন্ত এবং উত্তরের বায়ু চলাচলের স্থান হইতে দক্ষিণের চলাচলের স্থান পর্যন্ত। আর হামের জন্য বরাদ্দ করা হয় নীল নদের পশ্চিম দুই তীর এবং পশ্চিম-এর বায়ু যতদূর যায় ততদূর পর্যন্ত ও ইহার অপর প্রান্ত হইতে সায়হূন পর্যন্ত, পশ্চাতের বায়ু চলাচলের স্থান পর্যন্ত; আর য়াফিছ-এর জন্য বরাদ্দ করা হয় কায়শূন ও ইহার পরবর্তী স্থান হইতে পূর্বের বায়ু যতদূর যায় ততদূর পর্যন্ত (আত-তাবারী, তারীখ, ১খ., ৯৮; আছ-ছা'লাবী, কাসাসুল-আম্বিয়া, পৃ. ৬৩)। কুরআন কারীমে ইহার প্রতি ইঙ্গিত রহিয়াছে:
وَجَعَلْنَا ذُرِّيَّتَهُ هُمُ الْبَاقِينَ، وَتَرَكْنَا عَلَيْهِ فِي الآخِرينَ . سَلَامٌ عَلَى نُوحٍ فِي الْعَلَمِينَ إِنَّا كَذَلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ إِنَّهُ مِنْ عِبَادِنَا الْمُؤْمِنِينَ.
"তাহার বংশধরদিগকেই আমি বিদ্যমান রাখিয়াছি বংশ-পরম্পরায়; আমি ইহা পরবর্তীদের স্মরণে রাখিয়াছি। সমগ্র বিশ্বের মধ্যে নূহ-এর প্রতি শান্তি বর্ষিত হউক। এইভাবেই আমি সৎকর্মপরায়ণদিগকে পুরস্কৃত করিয়া থাকি। সে ছিল আমার মু'মিন বান্দাদের অন্যতম" (৩৭: ৭৭-৮১)।