📄 হযরত ইদরীস (আ)-এর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা
নবুওয়াতের সাথে সাথে আল্লাহ্ তাআলা হযরত ইদ্রীস (আ)-কে জাগতিক বহু জ্ঞান ও প্রজ্ঞার অধিকারীও করিয়াছিলেন। হযরত ইদ্রীস (আ)-ই সর্বপ্রথম জ্যোতির্বিজ্ঞান প্রবর্তন করিয়াছিলেন। আল্লাহ্ তাআলা তাঁহাকে সৌরজগত এবং নক্ষত্রসমূহের পারস্পরিক আকর্ষণ ও বিকর্ষণের গুরুত্ব ও রহস্য শিক্ষা দিয়াছিলেন। তারীখুল হুকামা গ্রন্থে উল্লেখ রহিয়াছে যে, হযরত নূহ (আ)-এর সময়ের তুফানের পূর্বে জ্ঞানের যত প্রসার ও ব্যাপ্তি ঘটিয়াছিল তাহার প্রধান পুরোধা ছিলেন হযরত ইদ্রীস (আ)। একদল জ্ঞানী ব্যক্তি এমনও ধারণা করেন যে, দর্শন শাস্ত্রের পুস্তকসমূহে যে সমস্ত জ্ঞান-গভীর আলোচনা এবং নক্ষত্রসমূহের গতিবিধির যে বিবরণ পাওয়া যায় তাহা সর্বপ্রথম হযরত ইদ্রীস (আ)-ই বলিয়াছেন। আল্লাহ্ ইবাদতের জন্য ইবাদতখানা নির্মাণ, চিকিৎসা শাস্ত্রের আবিষ্কার, যমীন ও আসমানের যাবতীয় বস্তু সম্বন্ধে যথোপযোগী কবিতা রচনার মাধ্যমে স্বীয় মতামত প্রকাশও তাঁহারই অমর কার্যাবলীর অন্তর্গত। তিনি সর্বপ্রথম তুফান সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করিয়াছিলেন এবং বলিয়াছিলেন, আমাকে দেখান হইয়াছে একটি "আসমানী মুসীবত", যাহার পানি ও আগুন ভূমণ্ডলকে গ্রাস করিবে। ইহা দেখিয়া তিনি জ্ঞান-বিজ্ঞানের এবং শিল্প ও প্রযুক্তির বিলুপ্তি সম্বন্ধে শংকিত হইয়া পড়িলেন। অতঃপর তিনি মিসরে আহ্রাম ( اهرام ) এবং বারাবী ( برابی ) অর্থাৎ মজবুত অট্টালিকা নির্মাণ করিয়া উহাতে সমস্ত শিল্প ও তৎসম্পর্কিত নব আবিষ্কৃত যন্ত্রপাতিসমূহের নকশা তৈয়ার করিলেন এবং যাবতীয় জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রয়োজনীয় তথ্যাবলী তাহাতে অংকিত করিলেন, যাহাতে এই শিল্প ও বিদ্যা চিরদিনের জন্য সংরক্ষিত থাকে এবং ধ্বংসের হাত হইতে রক্ষা পাইয়া যায়। তবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের শিল্প-প্রযুক্তি রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে হযরত ইদ্রীস (আ) সম্বন্ধে যেসব বর্ণনার উল্লেখ পাওয়া যায়, তাহার মধ্যে কিছুটা অতিরঞ্জন থাকিতে পারে বলিয়া অনেকে উল্লেখ করিয়াছেন (কাসাসুল আম্বিয়া, পৃ. ২৮-২৯; কাসাসুল কুরআন, ১ম খণ্ড, পৃ. ১০০-১০১; আনওয়ারে আম্বিয়া; পৃ. ২২; মুহাম্মাদ জামীল আহমাদ, আম্বিয়া-ই কুরআন, ১খ., পৃ. ৭৮-৮৩)।
মিসরে অবস্থানকালে স্বীয় সম্প্রদায়ের লোকদিগকে ধর্মের প্রতি আহ্বান করা ছাড়াও তিনি দেশ শাসন, শহরের জীবন যাপন পদ্ধতি এবং একত্রে জীবন যাপনের নিয়ম-পদ্ধতি শিক্ষা দিয়াছিলেন। এই শিক্ষা প্রদানের জন্য তিনি প্রত্যেক সম্প্রদায় হইতে শিক্ষার্থী সংগ্রহ করিয়া তাহাদিগকে দেশ শাসন ও এতদসম্পর্কিত মূলনীতি শিক্ষা দিতেন। তাহারা এই বিষয়ে জ্ঞান অর্জনপূর্বক নিজ নিজ সম্প্রদায়ে প্রত্যাবর্তন করিয়া উক্ত নীতিমালার আলোকে শহর ও গ্রামগুলিকে আবাদ করিলেন। তাহাদের আবাদকৃত শহরের ন্যূনতম সংখ্যা হইল দুই শতের মত। ইহার মধ্যে ক্ষুদ্রতম শহরটির নাম ছিল রাহা (رها), যাহার ধ্বংসাবশেষ এখনও বিদ্যমান। তিনি তাঁহার শাসিত ভূখণ্ডকে চারি ভাগে বিভক্ত করিয়া প্রত্যেক অংশের জন্য একজন করিয়া শাসনকর্তা নিযুক্ত করিয়াছিলেন। তাহাদিকে তিনি দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে আল্লাহ্র বিধান অনুসরণের হুকুম দিয়াছিলেন। এইসব শাসকদের মধ্যে চারজনের নাম: (১) ঈলাওয়াস (ایلاوس) (২) যূস (زوس), (৩) ইসকিলীবৃস (اسقليبوس) ও (৪) যূস আমূন (زوس امون) অথবা ঈলাওয়াস আমুন (ایلاوس امون) অথবা বস্সীলুখাস (بسيلوخس)।
হযরত ইদরীস (আ) ইলম ও আমলের পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহর বান্দাদিগকে তিন ভাগে বিভক্ত করিয়াছিলেন: (১) জ্যোতিষী, (২) রাজা ও (৩) প্রজা। জ্যোতিষীদের মর্যাদা সকলের ঊর্ধ্বে ছিল। কেননা তাহাকে আল্লাহর দরবারে নিজের ব্যাপারসহ রাজা ও প্রজার ব্যাপারেও জবাবদিহি করিতে হইবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ছিল রাজা। কেননা তাহাকে নিজের এবং রাজত্ব সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়ের জবাবদিহি করিতে হইবে। আর তৃতীয় পর্যায়ে ছিল প্রজা। কেননা তাহাকে শুধু নিজের ব্যাপারে জবাবদিহি করিতে হইবে। উল্লেখ্য যে, আল্লাহর বান্দাদের এই পর্যায়ক্রমিক মর্যাদাভেদ কর্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ছিল- বংশ ও খান্দানের পার্থক্যের প্রেক্ষিতে নহে (কাসাসুল আম্বিয়া, পৃ. ২৬-২৭; কাসাসুল কুরআন, ১ম খণ্ড, পৃ. ৯৫-৯৮)।
📄 সন্তান-সন্তুতি ও মৃত্যু
তাওরাতে হযরত ইদ্রীস (আ) সম্পর্কে উল্লেখ আছে, আর হানুক বা ইদ্রীস (আ)- এর পঁয়ষট্টি বৎসর বয়সে পুত্র মুতাওয়াশাল্লাহ জন্মগ্রহণ করেন। মুতাওয়াশালাহ-এর জন্মের পর হানুক (ইদ্রীস) তিন শত বৎসর আল্লাহ্র সহিত ছিলেন। তাঁহার বহু সন্তান-সন্ততি হইয়াছিল। এই হিসাবে হানুকের পূর্ণ বয়স হইয়াছিল তিন শত পঁয়ষট্টি বৎসর। তিনি আল্লাহ্র সাথেই ছিলেন, পরে অদৃশ্য হইয়া যান অর্থাৎ আল্লাহ তাঁহাকে উঠাইয়া লইয়া যান। আর মুতাওয়াশালাহ্-এর বয়স যখন ১৮৭ তখন লমক (এ) জন্মগ্রহণ করেন। লমকের জন্মের পর মুতাওয়াশাল্লাহ্ ৭৪২ বৎসর জীবিত ছিলেন। তাহার ঔরসে বহু সন্তানাদি জন্মগ্রহণ করে। ৯৬৯ বৎসর বয়সে মুতাওয়াশশালাহ মারা যান। আর লমক ১৮২ বৎসর বয়সে এক পুত্র সন্তান লাভ করেন। তিনি তাঁহার নাম রাখেন নূহ (আওয়ারে আম্বিয়া, পৃ. ২৩)।
তাওরাতের এই আলোচনার দ্বারা বুঝা যায় যে, আল্লাহ্ তাআলা হযরত ইদ্রীস (আ)-কে জীবিত অবস্থায়ই আসমানে তুলিয়া নেন। কুরআন মজীদেও এ সম্বন্ধে উল্লেখ রহিয়াছে:
"এবং আমি তাহাকে উন্নীত করিয়াছিলাম উচ্চ স্থানে" (১৯:৫৬)।
وَرَفَعْنَاهُ مَكَانًا عَلِيًّا *
ইন জারীর তাবারী (র) স্বীয় তাফসীর গ্রন্থে হিলাল ইন ইয়াসাফ (র)-এর সূত্রে বর্ণনা করেন যে, একদা ইন্ন 'আব্বাস (রা) কা'ব আল-আহবার (রা)-কে জিজ্ঞাসা করিলেন, হযরত ইদ্রীস (আ) সম্বন্ধে কুরআন মজীদে যে উল্লেখ রহিয়াছে, وَرَفَعْنَاهُ مَكَانًا عَلِيًّا ইহার অর্থ কি? জবাবে তিনি বলিলেন, একদা আল্লাহ্ তাআলা হযরত ইদ্রীস (আ)-এর প্রতি ওহী নাযিল করিলেন, হে ইদ্রীস! সমস্ত দুনিয়াবাসী দৈনিক যেই পরিমাণ নেক আমল করিবে, সেই সমুদয় আমলের সমান আমি তোমাকে প্রত্যেক দিন সওয়াব দান করিব (ইহার দ্বারা তাঁহার যমানার লোকদিগের আমলের কথা বুঝানোই হয়তো আল্লাহ্ উদ্দেশ্য ছিল)। এই কথা শুনিয়া হযরত ইদ্রীস (আ)-এর মনের মধ্যে এই আকাঙক্ষার উদয় হইল যেন প্রত্যেক দিন তাঁহার আমল বৃদ্ধি পাইতে থাকে। অতঃপর তাঁহার এক ফেরেস্তা বন্ধু তাঁহার নিকট আসিলে তিনি তাহাকে বলিলেন, আল্লাহ তাআলা আমার প্রতি এইরূপ ওহী নাযিল করিয়াছেন। সুতরাং আপনি এই মর্মে মৃত্যুর ফেরেস্তার সহিত আলোচনা করুন, যাহাতে আমি আমার আমল বৃদ্ধি করিবার সুযোগ পাই। অতঃপর চার বন্ধু ফেরেস্তা তাঁহাকে নিজের ডানার উপর বসাইয়া আসমানের দিকে আরোহণ করিলেন। ইহার পর তাহারা যখন চতুর্থ আসমানের উপর দিয়া যাইতেছিলেন ঠিক সেই সময়ে মৃত্যুর ফেরেস্তা যমীনের দিকে অবতরণ করিতেছিলেন। সেখানেই তাহাদের পরস্পরের মধ্যে সাক্ষাত হইয়া গেল। বন্ধু ফেরেস্তা মালাকুল মওত ফেরেস্তাকে হযরত ইদ্রীস (আ)-এর বাসনার কথা বলিলে তিনি বলিলেন, ইদরীস এখন কোথায়? বন্ধু ফেরেস্তা বলিলেন, এই তো তিনি আমার পিঠের উপর আছেন। তখন মালাকুল মওত ফেরেস্তা বলিলেন, চতুর্থ আসমানে তাঁহার রূহ কবয করিবার জন্য আমি আদিষ্ট হইয়াছি। এই কারণে আমি বিস্ময়ের মধ্যে ছিলাম যে, ইহা কেমন করিয়া সম্ভব হইবে। কেননা তাঁহার তো যমীনে থাকার কথা। আর আমাকে চতুর্থ আসমানে তাঁহার জান কবয করার হুকুম করা হইয়াছে। অতঃপর এই স্থানেই মালাকুল মওত ফেরেস্তা তাঁহার রূহ কবয করিয়া নিলেন। ইহার পর কা'ব আল-আহবার (র) বলিলেন, মহান আল্লাহর বাণী وَرَفَعْنَاهُ مَكَانًا عَلِيًّا (এবং আমি তাহাকে উন্নীত করিয়াছিলাম উচ্চ স্থানে)-এর অর্থ ইহাই।
এই ঘটনা বর্ণনা করার পর হাফিয ইব্ন্ন কাছীর (র) বলেন, ইহা ইসরাঈলী বর্ণনাসমূহের অন্তর্ভুক্ত। ইহার কোন কোন তথ্যে সন্দেহের অবকাশ আছে (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ১ম খণ্ড ,পৃ. ১১২)।
এই কারনেই আল্লামা সায়্যিদ মাহমূদ আলুসী (র) وَرَفَعْنَاهُ مَكَانًا عَلَيًّا-এর ব্যাখ্যায় বলিয়াছেন, এই আয়াতের অর্থ হইল, আমি তাহাকে নবুওয়ত, রিসালাত ও নৈকট্যের বিশেষ মর্যাদা দান করিয়াছি (রূহুল মাআনী, পৃ. ১০৫)।
হযরত কাতাদা (র) বলেন, হযরত ইদ্রীস (আ) সপ্তম আকাশে ফেরেস্তাগণের সহিত একত্রে ইবাদত-বন্দেগী করিতেন এবং জান্নাতের যে কোন স্থানে ইচ্ছা বিচরণ করিয়া বেড়াইতেন। অধিকাংশ ব্যাখ্যাকারের মতে তাঁহাকে সশরীরে আসমানে উঠাইয়া নেওয়া হইয়াছে। মুকাতিল (র)-এর মতে তিনি আসমানে মৃত অবস্থায় আছেন। তবে এই মতটি বিরল। কা'ব আল-আহ্বার (র)-এর মতে হযরত ইদরীস (আ)-কে আসমানে উঠাইয়া নেওয়ার ঘটনাটি নিম্নরূপ: একদা হযরত ইদ্রীস (আ) নিজ প্রয়োজনে কোথাও যাইতেছিলেন। পথে সূর্যের প্রচণ্ড তাপ তিনি অনুভব করিলেন এবং আল্লাহ্র কাছে ফরিয়াদ করিয়া বলিলেন, হে আমার প্রতিপালক! আমি কেবল একদিন রৌদ্রের মধ্যে হাঁটিয়াছি। ইহাতেই আমার এত কষ্ট হইয়াছে। তাহা হইলে যে একদিন পাঁচ শত বৎসরের পথ ইহাকে বহন করিয়া চলিবে তাহার কি অবস্থা হইবে! সুতরাং হে আমার রব! আপনি ইহার ওজন ও তাপ উভয়টিই কমাইয়া দিন। সকাল হইলে পর সূর্য বহনকারী ফেরেস্তা উহাকে ওজন ও তাপের দিক হইতে পূর্বের তুলনায় কম পাইলেন। কিন্তু তিনি ইহার কারণ বুঝিতে পারিলেন না। তাই উক্ত ফেরেস্তা বলিলেন, হে আমার রব! আপনি আমাকে সূর্য বহনের জন্য সৃষ্টি করিয়াছেন। কিন্তু কিছুই তো বুঝিতে পারিলাম না, সূর্য যে খুবই হালকা হইয়া গিয়াছে। আপনি এই ব্যাপারে কি ফয়সালা করিয়াছেন? আল্লাহ্ বলিলেন, আমার বান্দা ইদ্রীস আমার নিকট ইহার তাপ ও ওজন কমাইয়া দেওয়ার জন্য দুআ করিয়াছেন। আমি তাঁহার দুআ কবুল করিয়াছি। এই কথা শুনিয়া সূর্য বহনকারী ফেরেস্তা বলিলেন, হে আমার প্রতিপালক! আপনি আমাকে তাঁহার সহিত একত্র করিয়া দিন এবং আমার ও তাঁহার মধ্যে বন্ধুত্ব সৃষ্টি করিয়া দিন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাহাকে অনুমতি দিলেন এবং তিনি হযরত ইদ্রীস (আ)-এর নিকট আসিলেন। তৎপর হযরত ইদ্রীস (আ) তাঁহাকে আসমানে উঠাইয়া নেওয়ার জন্য তাঁহার নিকট আবেদন করিলেন এবং আল্লাহ তাআলাও এই বিষয়ে তাহাকে অনুমতি প্রদান করিলেন। অবশেষে তিনি তাঁহাকে আসমানে উঠাইয়া লইয়া গেলেন।
ইবনুল মুনযির (র) আফরা (রা)-এর আযাদকৃত গোলাম উমার থেকে বর্ণনা করেন। নবী করীম (স) ইরশাদ করেন: হযরত ইদ্রীস (আ) একজন পূণ্যবান-পবিত্রাত্মা নবী ছিলেন। তিনি তাঁহার সময়টাকে দুই ভাগে ভাগ করিয়া লইয়াছিলেন। সপ্তাহে তিন দিন তিনি লোকদিগকে কল্যাণ তথা ইল্ল্ম শিক্ষা দিতেন, চার দিন দেশ-বিদেশে সফর করিতেন এবং অত্যন্ত মুজাহাদার সহিত আল্লাহ্ ইবাদত-বন্দেগী করিতেন। সকল বনী আদমের যেই পরিমাণ আমল আসমানে উত্থিত হইত একাই তাঁহার প্রাত্যহিক আমল সেই পরিমাণ আসমানে সমুত্থিত হইত। মালাকুল মওত তাঁহাকে আল্লাহ্ ওয়াস্তে ভালবাসিতেন। একদা তিনি যখন সফরের উদ্দেশে বাহির হইলেন তখন ঐ ফেরেস্তা তাঁহার নিকট আসিলেন এবং বলিলেন, হে আল্লাহ্ নবী! আপনি অনুমতি দিলে আমি আপনার সাহচর্যে থাকিতে চাই। হযরত ইদ্রীস (আ) তাঁহাকে চিনিতেন না। তাই তিনি তাঁহাকে বলিলেন, আপনি আমার সাহচর্যে থাকিতে সক্ষম হইবেন না। ফেরেস্তা বলিলেন, এ বিষয়ে আল্লাহ তাআলা আমাকে শক্তি-সামর্থ দিবেন বলিয়া আমি আশাবাদী। অতঃপর এই দিনই ফেরেস্তা তাঁহার সহিত সফরে বাহির হইলেন। দিনের শেষভাগে তাঁহারা বকরীর এক রাখালের নিকট দিয়া যাইতেছিলেন।
এই অবস্থায় মালাকুল মওত বলিলেন, হে আল্লাহ্ নবী! আমাদের সন্ধ্যা কোথায় হইবে তাহা আমাদের জানা নাই। যদি এই বকরীর পাল হইতে একটি বকরীর বাচ্চা নেই তাহা হইলে ইহার দ্বারা আমরা ইফতার করিতে পারিব। অর্থাৎ আমরা তাহা আহার করিতে পারিব। হযরত ইদ্রীস (আ) বলিলেন, এইরূপ কথা আর বলিবেন না। যে খাদ্য আমাদের নয় আপনি কি আমাকে সেইরূপ খাদ্য গ্রহণের জন্য বলিতেছেন? যেখানে আমাদের সন্ধ্যা হইবে সেইখানে আল্লাহ তাআলাই আমাদের জন্য জীবিকার ব্যবস্থা করিয়া দিবেন। সন্ধ্যা হওয়ার পর আল্লাহ্র পক্ষ হইতে জীবিকার ব্যবস্থা হইয়া গেল, যেইভাবে অন্যান্য সময় তিনি হযরত ইদ্রীস (আ)-এর জন্য ব্যবস্থা করিতেন।
খানা হাযির হওয়ার পর হযরত ইদ্রীস (আ) ফেরেস্তা মালাকুল মওতকে বলিলেন, অগ্রসর হউন এবং আহার করুন। ফেরেস্তা বলিলেন, যে আল্লাহ্ আপনাকে নবুওয়াতের মর্যাদায় ভূষিত করিয়াছেন তাঁহার শপথ! আমার আহার করার ইচ্ছা নাই। আপনি একাই আহার করুন। তারপর তাঁহারা উভয়ে সালাত আদায়ের নিমিত্তে দাঁড়াইলেন। সালাত আদায় করিতে করিতে হযরত ইদ্রীস (আ) ক্লান্ত পরিশ্রান্ত হইয়া ঘুমাইয়া পড়িলেন। কিন্তু ফেরেস্তা ক্লান্তও হইলেন না এবং কোনরূপ নিদ্রাও তাঁহাকে স্পর্শ করিতে পারিল না। ইহাতে হযরত ইদ্রীস (আ) আশ্চর্যান্বিত হইলেন এবং নিজের ইবাদতকে তুচ্ছ জ্ঞান করিলেন। অতঃপর ভোরে আবার তাঁহারা উভয়ে চলিতে আরম্ভ করিলেন। চলিতে চলিতে দিনের শেষে তাঁহারা একটি আঙ্গুরের বাগানের নিকট গেলেন। তখন ফেরেস্তা বিগত দিনের ন্যায় তাঁহাকে পুনরায় সেই কথা বলিলেন। সন্ধ্যা হওয়ার পর আল্লাহ্ তাআলা তাহাদের খাবার পাঠাইয়া দিলেন। হযরত ইদ্রীস (আ) সাথী ফেরেস্তাকে আহার করার জন্য ডাকিলেন, কিন্তু তিনি আহার করিলেন না। ইহার পর তাঁহারা সালাত আদায়ের উদ্দেশে দাঁড়াইলেন এবং তাঁহাদের অবস্থা বিগত রাত্রের অনুরূপই হইল। এই অবস্থা দেখিয়া হযরত ইদরীস (আ) বলিলেন, যে সত্তার নিয়ন্ত্রণে আমার প্রাণ তাঁহার শপথ! আপনি তো আদম বংশজাত কোন মানুষ নহেন। জবাবে ফেরেস্তা বলিলেন, হাঁ, আমি মানব বংশজাত নই, বরং আমি মালাকুল মওত (মৃত্যুদূত)। এই কথা শুনিয়া হযরত ইদ্রীস (আ) বলিলেন, আপনি কি আমার কোন বিষয়ে আদিষ্ট হইয়া আসিয়াছেন। উত্তরে মালাকুল মওত বলিলেন, আমি আপনার কোন ব্যাপারে আদিষ্ট হইয়া আসিলে আপনাকে আমি লক্ষ্য করিতাম না। আমি তো আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য আপনাকে মহব্বত করি এবং এইজন্যই আমি আপনার সাহচর্য অবলম্বন করিয়াছি। ইহার পর হযরত ইদ্রীস (আ) তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, যত সময় আপনি আমার সহিত ছিলেন এই সময়ের মধ্যে আপনি কাহ রো জান কব্য করিয়াছেন কী? জবাবে তিনি বলিলেন, হাঁ, আপনার সাহচর্যে থাকা অবস্থায় মাশরিক হইতে মাগরিব পর্যন্ত যত মানুষের জান কব্য করার জন্য আমি আদিষ্ট হইয়াছি তাহাদের সকলের প্রাণই আমি এই অবস্থায় সংহার করিয়াছি। বস্তুত গোটা পৃথিবী আমার সামনে মানুষের সম্মুখস্ত দস্তরখানের মত যা থেকে মানুষ ইচ্ছামত খাদ্য গ্রহণ করিতে পারে। হযরত ইদ্রীস (আ) তাঁহাকে বলিলেন, হে মালাকুল মওত! যেই সত্তাকে সন্তুষ্ট করার জন্য আপনি আমাকে মহব্বত করেন তাঁহার উসীলায় আমি আপনার নিকট এমন কিছু যাজ্ঞা করিব যাহা অবশ্যই আপনি দিবেন। তিনি বলিলেন, হাঁ, আপনি যাজ্ঞা করুন হে আল্লাহ্ নবী! হযরত ইদ্রীস (আ) বলিলেন, আমি মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করিয়া পুনরায় আমার জান ফিরিয়া পাইতে চাই। জবাবে মালাকুল মওত বলিলেন, অনুমতি গ্রহণ ব্যতিরেকে আমি এই কাজ করিতে সক্ষম নই। অতঃপর তিনি স্বীয় রবের নিকট এই ব্যাপারে অনুমতি প্রার্থনা করিলেন এবং মহান আল্লাহ তাআলা এই বিষয়ে তাহাকে অনুমতি প্রদান করিলেন। অনন্তর তিনি তাঁহার জান কবয করিলেন এবং আল্লাহ তাআলা তাঁহার জান পুনরায় তাঁহাকে ফেরত দিলেন। প্রাণ ফিরিয়া পাওয়ার পর মালাকুল মওত তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, হে আল্লাহ্ নবী! মৃত্যুর স্বাদ আপনার কেমন অনুভূত হইল? তিনি বলিলেন, আমাকে যেমন বলা হইয়াছে এবং আমি যাহা শুনিয়াছি ইহার চাইতেও কঠিন পাইয়াছি। ইহার পর জাহান্নাম দেখার জন্য তিনি তাঁহার নিকট আবেদন করিলেন। ফেরেস্তা তাঁহাকে জাহান্নামের এক দরজার কাছে লইয়া গেলেন এবং জাহান্নামের একজন প্রহরীকে ডাক দিলেন। জাহান্নামের প্রহরী ফেরেস্তাগণ মালাকুল মওতের আগমন টের পাইতেই তাহাদের শরীর শিহরিয়া উঠিল এবং তাহারা বলিলেন, আপনি আমাদের ব্যাপারে আদিষ্ট হইয়া এখানে আগমন করিয়াছেন কি? তিনি বলিলেন, আমি তোমাদের ব্যাপারে আদিষ্ট হইয়া এখানে আসিলে তোমাদের প্রতি আদৌ ভ্রুক্ষেপ করিতাম না। আমার আগমনের কারণ এই যে, আল্লাহ্ নবী হযরত ইদ্রীস (আ) জাহান্নামের কিছু নমুনা দেখার জন্য আমার নিকট আবেদন করিয়াছেন। তাই আমি এখানে আসিয়াছি। অতঃপর তাহারা সূঁচের ছিদ্র পরিমাণ জায়গা উন্মুক্ত করিয়া দিলে জাহান্নামের সামান্য পরিমাণ বাতাস তাঁহার গায়ে লাগিতেই তিনি বেহুঁশ হইয়া পড়িয়া যান। মালাকুল মওত বলিলেন, জাহান্নামের দরজা বন্ধ করিয়া দিন। তৎক্ষণাৎ তাহারা জাহান্নামের দরজা বন্ধ করিয়া দিলেন। অতঃপর মালাকুল মওত হযরত ইদ্রীস (আ)-এর মুখমণ্ডলে হাত বুলাইয়া বলিলেন, হে আল্লাহর নবী! আমার সাহচর্যে থাকা অবস্থায় আপনার গাঁয়ে এতটুকু স্পর্শ লাগুক আমি তাহা চাই নাই। তাঁহার হুঁশ ফিরিয়া আসিলে ফেরেস্তা তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, জাহান্নামকে কেমন দেখিলেন? তিনি বলিলেন, আমাকে যেমন বলা হইয়াছে এবং যেমন আমি শুনিয়াছি তাহার চাইতেও ভয়াবহ এবং কঠিন পাইয়াছি। ইহার পর হযরত ইদ্রীস (আ) জান্নাতের সামান্য কিছু দর্শন করার জন্য সাথী ফেরেস্তার নিকট আবেদন করিলেন এবং এই বিষয়ে তাহাদের মধ্যে পূর্ববৎ কথাবার্তা হইল। অবশেষে জান্নাতের দ্বার খুলিয়া দেওয়ার পর জান্নাতের স্নিগ্ধ বাতাস, সুগন্ধি ও ফুলের সৌরভ তাঁহার তনু ও মনকে বিমোহিত ও আমোদিত করিয়া ফেলিল। ইহাতে তাঁহার হৃদয় প্রফুল্ল ও মন খুশীতে ভরিয়া উঠিল। হযরত ইদ্রীস (আ) সাথী ফেরেশতাকে বলিলেন, হে মালাকুল মওত! আমি জান্নাতে প্রবেশ করিয়া জান্নাতের ফলমূল ভক্ষণ করিতে চাই এবং উহার শরাবান তহুরা পান করিতে চাই। তবে হয়ত আমার এই চাওয়া-পাওয়া অত্যন্ত দুরুহ ব্যাপার হইবে বলিয়া আমি মনে করি। অতঃপর তিনি জান্নাতে প্রবেশ করিয়া সেখান হইতে কিছু আহার করিলেন এবং পান করিলেন। তারপর ফেরেস্তা মালাকুল মওত বলিলেন, হে আল্লাহ্ নবী! আপনার উদ্দেশ্য তো হাসিল হইয়াছে। এখন আপনি বাহির হইয়া আসুন। আল্লাহ তা'আলা পুনরায় আপনাকে আম্বিয়ায়ে কিরামের সঙ্গে এখানে প্রবেশ করান, ইহাই আমার কামনা। এই কথা শুনিয়া হযরত ইদ্রীস (আ) জান্নাতের বৃক্ষরাজির মধ্যকার একটি বৃক্ষ জড়াইয়া ধরিলেন এবং বলিলেন, আমি এখান হইতে বাহির হইব না। এই বিষয়ে আপনি যদি আমার সহিত বিতর্ক করিতে চাহেন তবে আমি আপনার সহিত বিতর্ক করিতেও প্রস্তুত আছি। তখন আল্লাহ তা'আলা মালাকুল মওতের প্রতি প্রত্যাদেশ করিলেন, ঝগড়া শেষ করিয়া দাও।
এই কথা শুনিয়া তিনি হযরত ইদ্রীস (আ)-কে বলিলেন, হে আল্লাহ্ নবী! কোন যুক্তির ভিত্তিতে আপনি আমার সঙ্গে এই বিষয়ে বিতর্ক করিতেছেন? জবাবে হযরত ইদ্রীস (আ) বলিলেন, কুরআন মজীদে আল্লাহ্ তা'আলা বলিয়াছেন, كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْت (জীবমাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করিবে)। আর আমি তাহা আস্বাদন করিয়াছি। তিনি বলিয়াছেন, وَإِنْ مِنْكُمْ الأَ وَأَرَدُهَا (এবং তোমাদের প্রত্যেকেই উহা অতিক্রম করিবে), আমি তাহাও অতিক্রম করিয়াছি। অধিকন্তু আল্লাহ তা'আলা জান্নাতে প্রবেশকারী লোকদিগের ব্যাপারে বলিয়াছেন وَمَا هُمْ مِنْهَا بِمُخْرَجِيْنَ (এবং তাহারা সেথা হইতে বহিষ্কৃতও হইবে না)। কাজেই আল্লাহ তা'আলা আমাকে জান্নাতে দাখিল করার পর আমি কি এখান হইতে বাহির হইয়া যাইব? তখন আল্লাহ তা'আলা মালাকুল মওতের প্রতি প্রত্যাদেশ করিলেন, তোমার সহিত যে ব্যক্তি বিতর্ক করিতেছে সে আমার বান্দা ইদ্রীস। আমি আমার ইজ্জত ও মহাপরাক্রমের কসম করিয়া বলিতেছি, বিষয়টি অনুরূপ ঘটিবে বলিয়াই আমার জ্ঞানের মধ্যে ছিল। সুতরাং তুমি তাহাকে ছাড়িয়া দাও। সে তোমার বিপক্ষে বলিষ্ঠ যুক্তি পেশ করিয়াছে।
এই ঘটনা বর্ণনা করার পর আল্লামা আলুসী (র) বলেন, ইহার বিশুদ্ধতার ব্যাপারে আল্লাহ্ই সর্বাধিক জ্ঞাত। এই পর্যায়ে মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (র) বলেন, এখানে وَرَفَعْنَاهُ مَكَانًا -এর অর্থ "আমি তাহাকে উন্নীত করিয়াছি উচ্চ মর্যাদায়" অর্থাৎ رفع معنوی তথা মর্যাদার দিক হইতে উন্নীত করা উদ্দেশ্য। আর رفع حسی তথা জীবিত অবস্থায় আসমানে তুলিয়া নেওয়ার বিষয়টিকে যদি বিশুদ্ধ বলিয়া মানিয়া নেওয়া হয় তথাপি এই তথ্যটির উপর কুরআনের মর্ম বুঝা নির্ভরশীল নহে। উল্লেখ্য যে, رفعت-এর معنوی হওয়ার বিষয়টি তো বহুল ব্যবহৃত। এমনিভাবে مكان -এর معنوى হওয়ার বিষয়টিও আরবী ভাষায় কম ব্যবহৃত নহে। যেমন নিম্নোক্ত কবিতায় ইহার সমর্থন রহিয়াছে:
ولك في مكان اذا ما سقطت + تقوم ورجلك في عافية
(বায়ানুল কুরআন, ২য় খণ্ড, পৃ. ১১)।
আল্লামা মাহমূদ আলুসী (র) উপরিউক্ত রিওয়ায়াতসমূহ উল্লেখ করার পর বলিয়াছেন যে, কাব আল-আহবারের বর্ণনাটিতে সন্দেহ আছে। আল্লাহ তা'আলাই ইহার বিশুদ্ধতার ব্যাপারে সর্বাধিক জ্ঞাত (রূহুল মাআনী, ১৬খ., পৃ. ১০৭)।
📄 ইদরীস (আ)-এর উপদেশাবলী
হযরত ইদ্রীস (আ)-এর বহু উপদেশ, প্রজ্ঞাজনিত উক্তি ও শিষ্টাচারমূলক বক্তব্য সাধারণ্যে প্রবাদের ন্যায় ছড়াইয়া আছে। নিম্নে ইহার কয়েকটি উল্লেখ করা হইল:
(১) لن يستطيع احد ان يشكر الله على نعمه بمثل الانعام على خلقه. আল্লাহ তা'আলা তাঁহার সৃষ্টিকে যে অফুরন্ত নিয়ামত দান করিয়াছেন এইগুলির শোকর আদায় করিতে কেহই সক্ষম নহে।
(২) من اراد بلوغ العلم وصالح العمل فليترك من يده اداة الجهل وسيئ العمل كما ترك الصانع الذى يعرف الصنائع كلها اذا اراد الخياطة اخذ التها وترك آلة النجارة فحب الدنيا وحب الآخرة لا يجتمعان في قلب ابدا .
যেই ব্যক্তি জ্ঞানে পূর্ণতা লাভের ও নেক আমলের ইচ্ছা করে সে যেন তাহার হাত হইতে মূর্খতার উপকরণ এবং বদ আমলকে বর্জন করে। যেমন কারিগর যে সকল প্রকার কারিগরীতে দক্ষ, সে যখন সেলাই কাজ করার ইচ্ছা করে তখন সুঁই হাতে নেয় কিন্তু মিস্ত্রীর যন্ত্রপাতি হাত হইতে রাখিয়া দেয়। দুনিয়ার এবং আখিরাতের মহব্বত একই দিলে কখনও একত্র হয় না।
(৩) خير الدنيا حسرة وشرها ندم. দুনিয়ার ধন-সম্পদের পরিণাম হইল আক্ষেপ এবং মন্দ কাজের পরিণাম হইল অনুতাপ।
(৪) اذا دعوتم الله سبحانه فاخلصوا النية وكذا الصيام والصلوات فافعلوا . যখন তোমরা আল্লাহ তাআলাকে ডাকিবে তখন তোমাদের নিয়াতকে একনিষ্ঠ করিয়া নিবে। সাওম ও সালাতের ক্ষেত্রেও অনুরূপ করিবে।
(৫) لا تحلفوا كاذبين ولا تهجموا على الله سبحانه باليمين ولا تحلفوا الكاذبين فتشاركوهم في الاثم. মিথ্যা শপথ করিও না, আল্লাহ তা'আলার পবিত্র নামে শপথের ধৃষ্টতা প্রদর্শন করিও না এবং মিথ্যাবাদী লোকদিগকে শপথ করিবার জন্য উৎসাহিত করিও না। কেননা এইরূপ করিলে তোমরাও তাহাদের পাপের অংশীদার হইয়া যাইবে।
(৬) تجنبوا المكاسب الدنيئة. নিকৃষ্ট উপার্জন পরিহার কর।
(৭) اطيعوا لملوككم واخضعوا لا كابركم واملاوا افواهكم بحمد الله .
তোমরা তোমাদের শাসকগণের আনুগত্য করিবে, বয়ঃজ্যেষ্ঠদের সামনে অবনত থাকিবে এবং সর্বদা মুখে আল্লাহ্র প্রশংসা করিবে।
(۸) حياة النفس الحكمة. জ্ঞান-বিজ্ঞানই আত্মার জীবন।
(۹) لا تحسدوا الناس على مؤاتاة الحظ فان استمتاعهم به قليل. অপরের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ জীবন দেখিয়া হিংসা পোষণ করিও না। কেননা তাহাদের এই উপভোগ ক্ষণস্থায়ী।
(۱۰) من تجاوز الكفاف لم يغنه شي . যে ব্যক্তি তাহার চাহিদার চাইতেও বেশী পাইতে চায় সে কখনোও তৃপ্ত হইবে না (কাসাসুল আম্বিয়া, পৃ. ২৮; কাসাসুল কুরআন, ১ম খণ্ড, পৃ. ৯৯-১০০)।