📄 জন্ম ও বংশপরিচয়
হযরত ইদরীস (আ)-এর নাম, বংশপরিচয় এবং তাঁহার সময়কাল সম্পর্কে ইতিহাস-বেত্তা ও জীবনীকারগণের মধ্যে মতপার্থক্য রহিয়াছে। কেহ কেহ বলেন, তিনি হযরত নূহ (আ)-এর দাদা। কাহারও মতে ইদরীস শব্দটি মূল অক্ষর (দরস) ধাতু হইতে নিষ্পন্ন হইয়াছে। ইহার অর্থ পাঠ করা। ইদরীস (আ) যেহেতু আল্লাহর কিতাব বেশী বেশী পাঠ করিতেন তাই তাঁহাকে ইদরীস নাম দেওয়া হইয়াছে। বস্তুতঃ এই কথাটি সহীহ নয় (কাশ্শাফ, ৩য় খণ্ড, পৃ. ২০)। হিব্রু ও সুরয়ানী ভাষায় তাঁহার নাম আখনুখ অর্থাৎ ইদরীস (দরস) শব্দ হইতে নিষ্পন্ন হয় নাই। কেননা অনারব কোন শব্দ অন্য কোন শব্দ হইতে মুশতাক হওয়া সর্বজনবিদিত নহে। অধিকন্তু ইহাকে মুশতাক ধরা হইলে তাহা মুনসরিফ (রূপান্তরবিহীন বিশেষ্য) হইতে পারে না। অথচ এই শব্দটি গয়রে মুনসরিফ (রূহুল মাআনী, ষষ্ঠদশ খণ্ড, পৃ. ১০৫)। আল্লামা যামাখশারী (র) বলেন, দরস শব্দটিকে ইঞ্চিলে এক সবক (পাঠ) -এর ওখানে ধরা হইলে ইহাতে এক সবব পাওয়া যায়। কিন্তু এক সবব দ্বারা গয়রে ইস্ম (নাম) মুনসরিফ (সীমাবদ্ধ রূপান্তরযোগ্য বিশেষ্য) হইতে পারে না। এখন অবশ্যম্ভাবী শব্দটি গয়রে মুনসরিফ হওয়ার দলীল। সম্ভবত: আরবী ভাষায় কাহাকাছি অন্য কোন ভাষায় শব্দটির অর্থ এই হইতে পারে। কিন্তু বিষয়টি যথাযথ উপলব্ধি না করিয়াহই হয়তো বর্ণনাকারী এই কথা বলিয়া দিয়াছেন যে, ইহা দরস ধাতু হইতে নিষ্পন্ন হইয়াছে। কাজেই এই ব্যাখ্যা বিশুদ্ধ নয় (কাসাসুল কুরআন, ১ম খণ্ড, পৃ. ৯০; আল-জামি' লিআহকামিল কুরআন, ১১ খ., পৃ. ৭৫; তাফসীরে রূহুল মাআনী, ১৬শ, পৃ. ১০৫)। দার্শনিক ও বৈজ্ঞানিকদিগকেও এই বিষয়ে মতপার্থক্য রহিয়াছে। এক দলের মতে তাঁহার নাম ছিল হারমাসুল হারামিসা (হারমাস আলহারামিস)। তিনি মিসরের 'আনাফ' (عنف) নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন।
শ্রীকীরা হারামাসকে আরমীস (এরমিয়স) বলে। অপর এক দলের মতে তাঁহার নাম গ্রীক ভাষায় তারমীস (তরমিইস)। তারমীসকে হিব্রু ভাষায় হানূখ বা খানূখ (خنوج) ও আরবী ভাষায় আখনুখ (اخنوخ) বলা হয়। আর কুরআন মজিদে আল্লাহ তাআলা তাঁহাকে ইদরীস বলিয়া নামকরণ করিয়াছেন। তৃতীয় আরেক দলের মতে হযরত ইদরীস (আ) বাবিল (বাবিলন) শহরে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই লালিত-পালিত হন (কাসাসুল আম্বিয়া, পৃ. ২৫; কাসাসুল কুরআন, ২৮, পৃ. ৯০-৯৪)।
তাঁহার বংশধারা নিম্নরূপ: ইদরীস ইব্ন ইয়ারিদ ইব্ন মাহলাইল ইব্ন কায়নান ইব্ন আনুশ (মতান্তরে ইয়ানিশ) ইব্ন শীছ ইব্ন আদম (আ) (কাসাসুল আম্বিয়া, পৃ. ২৪; কাসাসুল কুরআন, পৃ. ৯০; আল-জামি‘ লিআহকামিল কুরআন, ১৬ খ., পৃ. ৭৯)।
কাহারো মতে হযরত ইদরীস (আ) হযরত নূহ (আ)-এর পূর্বেকার নবী নহেন, বরং বনী ইসরাঈল বংশীয় নবীগণের একজন।
ইমাম বুখারী (র) বলেন, হযরত আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ এবং হযরত আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) হইতে বর্ণিত। তাঁহারা বলেন, ইলয়াস (আ)-এর নামই ইদরীস (আ)। তাঁহার এইরূপ উক্তির কারণ সেই রিওয়ায়াতটি যাহা ইমাম যুহরী (র) হযরত আনাস (রা)-এর সূত্রে মি'রাজ প্রসঙ্গে বর্ণনা করিয়াছেন। উহাতে উল্লেখ আছে যে, জিবরাঈল (আ) যখন নবী করীম (স)-কে সঙ্গে লইয়া হযরত ইদরীস (আ)-এর পাশ দিয়া অতিক্রম করিলেন, তখন তিনি বলিলেন, হে নেক নবী এবং নেক ভাই! আপনাকে মারহাবা! তিনি হযরত আদম এবং হযরত ইবরাহীম (আ)-এর মত “হে নেক নবী এবং নেক সন্তান! মারহাবা!” কথাটি বলিলেন না। ইহাতে বুঝা যায় যে, হযরত ইদরীস (আ) যদি আখনুখ হইতেন তবে তিনিও তাঁহাদের ন্যায় “হে নেক সন্তান” বলিতেন।
এই রিওয়ায়াতটি উল্লেখ করার পর হাফিজ ইবন কাছীর (র) বলেন, এই প্রমাণটি দুর্বল। কেননা এই দীর্ঘ হাদীছটিতে রাবী হয়তো শব্দগুলো সম্পূর্ণরূপে স্মরণ রাখিতে পারেন নাই অথবা (২) হযরত ইদরীস (আ) হয়তো বিনয়বশত নবী করীম (স)-এর সম্মনার্থে এইভাবে বলিয়াছেন, নিজের পিতৃত্ব সম্পর্কটির কথা এখানে উল্লেখ করেন নাই (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ১খ., পৃ. ১১২-১১০)।
হযরত আদম ও শীছ (আ)-এর পর হযরত ইদরীস (আ)-ই সর্বপ্রথম নবী। তাঁহার প্রতি আল্লাহ তাআলা ৩০টি সহীফা নাযিল করিয়াছেন। তিনিই সর্বপ্রথম মানব যাহাকে আল্লাহ তাআলা মুজিযা হিসাবে জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং অংক শাস্ত্রের জ্ঞান দান করিয়াছিলেন। হযরত ইদরীস (আ)-ই সর্বপ্রথম কলমের সাহায্যে লেখা আবিষ্কার করেন এবং সর্বপ্রথম কাপড় সেলাই করেন। প্রতিবার সুই চালাইবার সময় তিনি একবার “সুবহানাল্লাহ” বলিতেন। তৎকালে তাঁহার তুলনায় উত্তম আমলকারী আর কেহই ছিল না (মুখতাসার তাফসীরে ইব্ন কাছীর, ২খ., পৃ. ৪৫৬)। এবং সেলাইকৃত কাপড় পরিধান করেন। তাঁহার পূর্ববর্তী লোকেরা জীব-জন্তুর চামড়া পরিধান করিত। ওজন ও পরিমাপের পদ্ধতিও তিনিই সর্বপ্রথম আবিষ্কার করেন এবং অস্ত্রশস্ত্রের আবিষ্কার ও ব্যবহার তাঁহার আমল। হইতেই শুরু হয়। তিনি অস্ত্র তৈরি করিয়া কাবীল গোত্রের বিরুদ্ধে জিহাদ করেন (রূহুল মাআনী, ১৬ খ., পৃ. ১০৫)।
শারীরিক গঠন: হযরত ইদ্রীস (আ)-এর শারীরিক গঠন ও আকৃতি কেমন ছিল, এই সম্বন্ধে উল্লেখ রহিয়াছে যে, তিনি গোধূম বর্ণের, মধ্যমাকৃতির, পূর্ণ অবয়ববিশিষ্ট, পাতলা চুলবিশিষ্ট, সুদর্শন এবং ঘন দাড়ি বিশিষ্ট ছিলেন। তাঁহার চেহারা অত্যন্ত সুন্দর, বাহুদ্বয় মযবুত, কাঁধ খুবই প্রশস্ত এবং শরীরের হাড় শক্ত ছিল। তিনি হালকা- পাতলা গড়নের ছিলেন। তাঁহার চক্ষুদ্বয় ছিল উজ্জ্বল, কাল। তিনি ছিলেন কথা-বার্তায় ধীরস্থির, নিরবতাপ্রিয় ও চাল-চলনে গাম্ভীর্যপূর্ণ এবং চলার সময় তিনি দৃষ্টি অবনমিত রাখিতেন। তিনি চিন্তাশীল ও অনুসন্ধিৎসু মনের অধিকারী ছিলেন এবং রাগের সময়ে শাহাদাত অঙ্গুলি দ্বারা বারবার ইশারা করিতেন। তাঁহার আংটির উপর এই বাক্যটি অংকিত ছিল : الصبر مع الايمان بالله يورث الظفر. "আল্লাহ্র প্রতি ঈমানের সহিত ধৈর্য অবলম্বন বিজয়ের পথ সুগম করিয়া দেয়।"
তাঁহার কোমরবন্দের উপর লিখিত ছিল : الاعيد في حفظ الفروض والشريعة من تمام الدين وتمام الدين كمال المروة. "প্রকৃত ঈদ ফরযসমূহ আদায় করার মধ্যে নিহিত, দীনের পূর্ণতা শরীআতের সহিত সংশ্লিষ্ট আর মানবতার পূর্ণতাই দীনের পূর্ণতা।"
তিনি জানাযার নামাযের সময় যে পাগড়ী ব্যবহার করিতেন তাহাতে নিম্নের বাক্যটি লিখিত ছিল : السعيد من نظر لنفسه وشفاعته عند ربه اعماله الصالحة. "ভাগ্যবান সেই ব্যক্তি যে নিজের নফসের প্রতি দৃষ্টি রাখে। আর আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে মানুষের জন্য সুপারিশ হইল তাহার নেক আমলসমূহ" (কাসাসুল আম্বিয়া, পৃ. ২৭-২৮; কাসাসুল কুরআন, ১খ., পৃ. ৯৮-৯৯)।
তাওরাতে হযরত ইদ্রীস (আ) সম্বন্ধে বিশদ কোন বিবরণ পাওয়া যায় না। সেখানে শুধু এতটুকু উল্লেখ রহিয়াছে যে, হনোক পঁয়ষট্টি বৎসর বয়সে মধূশেলহের জন্ম দিলেন। মথূশেলহের জন্ম দিলে পর হনোক তিন শত বৎসর ঈশ্বরের সহিত গমনাগমন করিলেন এবং আরও পুত্র কন্যার জন্ম দিলেন। সর্বশুদ্ধ হনোক তিন শত পঁয়ষট্টি বৎসর রহিলেন। হনোক ঈশ্বরের সহিত গমনাগমন করিতেন। পরে তিনি আর রহিলেন না (আদি পুস্তক, পৃ. ৭)।
📄 কুরআন মজীদে হযরত ইদরীস (আ)
কুরআন মজীদের শুধু দুই জায়গায় হযরত ইদ্রীস (আ) সম্বন্ধে উল্লেখ রহিয়াছে :
وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ إِدْرِيسَ . إِنَّهُ كَانَ صِدِّيقًا نَّبِيًّا ، وَرَفَعْنَاهُ مَكَانًا عَلِيًّا .
"এবং স্মরণ কর এই কিতাবে ইদ্রীসের কথা, সে ছিল সত্যনিষ্ঠ নবী এবং আমি তাহাকে উন্নীত করিয়াছিলাম উচ্চ মর্যাদায়” (১৯৪ঃ ৫৬)।
وَاسْمَعِيلَ وَإِدْرِيسَ وَذَالْكِفْلِ طَ كُلٌّ مِّنَ الصَّبِرِينَ ، وَأَدْخَلْتُهُمْ فِي رَحْمَتِنَا إِنَّهُمْ مِّنَ الصلحين *
"এবং স্মরণ কর ইসমাঈল, ইদ্রীস ও যুলকিফ্ল-এর কথা; তাহাদের প্রত্যেকেই ছিল ধৈর্যশীল এবং তাহাদিগকে আমি আমার অনুগ্রহভাজন করিয়াছিলাম। তাহারা ছিল সৎকর্ম-পরায়ণদিগের অন্তর্ভুক্ত” (২১:৮৫-৮৬)।
📄 নবুওয়াত প্রাপ্তি ও দীনের প্রচারে আত্মনিয়োগ
হযরত শীছ (আ)-এর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে তাঁহার সম্প্রদায়ের কিছু সংখ্যক লোক ঈমান আনয়ন করিয়াছিল। অতঃপর তাহারা নিজ গোত্রের অপরাপর মুশরিক ও মূর্তিপূজকদের দেখাদেখি হযরত শীছ (আ)-এর মূর্তি তৈরি করিয়া উহার পূজা করিতে থাকে। এইভাবে তাহারা পথভ্রষ্ট হইয়া মুশরিকে পরিণত হইয়া যায়। অতঃপর আল্লাহ্ তাআলা তাহাদের হিদায়াতের জন্য তাহাদের মধ্য হইতে হযরত ইদ্রীস (আ)-কে নবুওয়ত দান করেন এবং তাহাদেরকে হিদায়াতের নির্দেশ দান করেন (আনওয়ারে আম্বিয়া, পৃ. ২১)।
নবুওয়ত প্রাপ্তির পর তিনি তাহাদিগকে আল্লাহ্ দীন, একত্ববাদ এবং আল্লাহ্ ইবাদতের প্রতি আহবান জানান। নেক আমলের মাধ্যমে তিনি লোকদিগকে জাহান্নামের আগুন হইতে মুক্তির জন্য উৎসাহিত করেন। তিনি তাহাদেরকে বিশেষ পদ্ধতিতে সালাত আদায় করা এবং নির্দিষ্ট দিনসমূহে (আইয়ামে বীদ) সওম পালনের জন্য হুকুম করেন। পার্থিব দৌলতের প্রতি আসক্ত না হওয়া, সর্ব ব্যাপারে আদল ও ইনসাফ কায়েম করা এবং আল্লাহর দীনের শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার জন্য তিনি তাঁহার সম্প্রদায়কে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেন। দুর্বল ও অসহায় লোকদিগকে সাহায্য করার নিমিত্ত যাকাত প্রদানের জন্য নির্দেশ দেন। উপরন্তু তিনি তাহাদিগকে নাপাকী হইতে পবিত্রতা অর্জন করা, কুকুর ও শূকর ভক্ষণ না করা এবং মাদক দ্রব্য গ্রহণ না করার ব্যাপারে কঠোর বিধান প্রদান করেন। এমনিভাবে বিশেষ বিশেষ সময়ে ঈদ তথা আনন্দ উৎসব উদযাপন এবং বিশেষ ধরনের নেক আমল করার জন্য তিনি তাকীদ করিতেন। হযরত ইদ্রীস (আ) তিন ধরনের বস্তু আল্লাহ্ নামে মানত ও কুরবানী করার জন্য নির্দেশ দিতেন : সুগন্ধি দ্রব্যের ধুয়া, জীব কুরবানী করা এবং মদ।
দার্শনিকদের বিপরীতমুখী বর্ণনায় বিস্মিত হইতে হয়। একদিকে তাহারা হযরত ইদ্রীস (আ)-এর শরীআতে মদ হারাম বলিয়া উক্তি করেন এবং অপর দিকে তিনি আল্লাহ্ নামে মদ উৎসর্গ করিবার জন্য উপদেশ দিতেন বলিয়াও বর্ণনা করেন। এতদ্ব্যতীত মৌসুমের প্রথম ফল ও ফুল আল্লাহ্ নামে উৎসর্গ করাকেও প্রয়োজনীয় মনে করা হইত। ফুলের মধ্যে গোলাপ, শস্য বীজের মধ্যে গম এবং ফলের মধ্যে আঙ্গুরের অগ্রাধিকার ছিল (কাসাসুল আম্বিয়া, পৃ. ২৬-২৭; আনওয়ারে আম্বিয়া, পৃ. ২১; কাসাসুল কুরআন, ১ম খণ্ড, পৃ. ৯৬-৯৭)।
📄 হিজরত
নবুওয়াত প্রাপ্তির পর হযরত ইদরীস (আ) দীনের প্রচার ও প্রসারের আপ্রাণ চেষ্টা চালাইয়া যান। কিছু সংখ্যক লোক তাঁহার কথা বিশ্বাস করে এবং তাঁহার উপর ঈমান আনয়ন করে। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই তাঁহার দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করে এবং তাঁহার বিরোধিতা শুরু করে। ফলে হযরত ইদরীস (আ) নিজ এলাকা হইতে হিজরত করিয়া অন্যত্র চলিয়া যাইতে মনস্থ করিলেন এবং নিজের অনুগামীদেরকেও হিজরত করিতে বলিলেন। ইদ্রীস (আ)-এর অনুসারিগণ যখন এই কথা শুনিলেন তখন তাহারা জন্মভূমি ত্যাগ করা দুঃসাধ্য কাজ মনে করিয়া বলিল, বাবিল শহরের মত অনুরূপ শহর আমরা কোথায় পাইব?
অতঃপর হযরত ইদরীস (আ) তাহাদিগকে সান্ত্বনা দিয়া বলিলেন, আমরা যদি আল্লাহ্র উদ্দেশ্যে হিজরত করি তবে আমাদিগকে সেইখানেও রিযিক দান করা হইবে। অতঃপর তিনি ও তাঁহার অনুসারিগণ মিসরের উদ্দেশে বাবিল শহর ত্যাগ করিলেন। এই ক্ষুদ্র দলটি যখন নীল নদ অববাহিকার সুজলা-সুফলা অঞ্চল দেখিতে পাইল তখন তাহারা আনন্দিত হইল এবং এই উৎকৃষ্ট স্থানটিকে নির্বাচন করিয়া তাহারা নীল নদের পার্শ্বেই বসবাস করিতেন লাগিল। এখানে পৌছিয়া হযরত ইদ্রীস (আ) আল্লাহ্ পয়গাম তথা সৎকাজের আদেশ এবং অসৎ কাজে বাধা প্রদান করার দায়িত্ব পালনে ব্রতী হইলেন। কথিত আছে যে, তাঁহার যমানায় বাহাত্তরটি ভাষা প্রচলিত ছিল। তিনি আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহে উপরিউক্ত সব ভাষায়ই অভিজ্ঞ ছিলেন এবং তিনি প্রত্যেক সম্প্রদায়কে তাহাদের ভাষায় দাওয়াত দিতেন এবং শিক্ষা দান করিতেন (কাসাসুল আম্বিয়া, পৃ. ২৫-২৬; কাসাসুল কুরআন, ১ম খণ্ড, পৃ. ৯৪-৯৫)।