📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 আকৃতি-প্রকৃতি

📄 আকৃতি-প্রকৃতি


দৈহিক অবয়ব ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়া তিনি ছিলেন অবিকল স্বীয় পিতা আদম (আ)-এর ন্যায় (দা. মা. ই., ১১খ, ৮৫১)। তবে আদম (আ) ছিলেন শশ্রুবিহীন, আর তিনি ছিলেন শত্রুমণ্ডিত (পৃ. গ্র., পৃ. ৮৫০)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 সন্তান-সন্তুতি

📄 সন্তান-সন্তুতি


বাইবেলের বর্ণনামতে শীছ (আ)-এর বয়স ১০৫ (এক শত পাঁচ) বৎসর কালে তাঁহার পুত্র আনূশ জন্মগ্রহণ করে (Genesis, 5:6-8)। আনূশ ছাড়াও তাঁহার আরও বেশ কয়েকজন পুত্র-কন্যা ছিল (ইব্‌ন কুতায়বা, আল-মা'আরিফ, পৃ. ১৩)। কিন্তু ইতিহাস ও সীরাত গ্রন্থসমূহে তাহাদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায় না। পরবর্তী কালের সকল মানুষ শীছ (আ)-এরই বংশধর। কারণ আদম (আ)-এর দ্বিতীয় পুত্র হাবীল-এর অকাল শাহাদাত লাভের কারণে তাহার কোনও সন্তান-সন্ততি ছিল না। আর কাবীলের বংশধর সকলেই কাফির হওয়ার ফলে হযরত নূহ (আ)-এর মহাপ্লাবনে সকলেই ডুবিয়া মারা যায় (ইব্‌ন কাছীর, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১খ, ৯৮)।
ইনতিকালের সময় শীছ (আ) স্বীয় পুত্র আনূশকে ডাকিয়া হিদায়াতের সিলসিলা জারী রাখার জন্য ওসিয়ত করিয়া যান। ওসিয়ত অনুযায়ী তিনি আল্লাহ্র পয়গাম পৌছাইতে থাকেন। অতঃপর তদীয় পুত্র কীনান, অতঃপর তদীয় পুত্র মাহলাঈল তাহার স্থলাভিষিক্ত হন। কথিত আছে যে, পারস্যবাসীর ধারণামতে, মাহলাঈল সাত ইকলীমের বাদশাহ ছিলেন, সকল আদম সন্তানের বাদশাহ ছিলেন। তিনিই সর্বপ্রথম বৃক্ষ কাটিয়া কাঠের ব্যবহার শুরু করেন। তিনিই বিভিন্ন শহর এবং শহরের বাহিরে বড় বড় কিল্লা নির্মাণ করেন। তিনিই ছিলেন বাবিল ও সূর নগরীর প্রতিষ্ঠাতা। তিনিই শয়তানের অনুসারীদেরকে মারপিট করিয়া দূর-দূরান্তে তাড়াইয়া দেন। তাহারা পাহাড়-পর্বতে গিয়া বসবাস করিতে থাকে। তিনি একটি মুকুট বানাইয়াছিলেন, যাহা পরিধান করিয়া তিনি রাজকার্য পরিচালনা করিতেন। চল্লিশ বৎসর তিনি রাজত্ব পরিচালনা করেন (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ১খ, ৯৯; যায়নুল আবিদীন মীরাঠী, কাসাসুল কুরআন, পৃ. ৪২)। মাহলাঈলের পর তাহার পুত্র য়ারুদ এবং তাহার পর তৎপুত্র আখনূখ তথা ইদরীস (আ) এই দায়িত্ব প্রাপ্ত হন (পৃ. গ্র.)।
আল-মুকান্না, যে ৭৮০ খৃ.-এর দিকে খুরাসানে নুবুওয়াতের দাবি করিয়াছিল, সে মনে করিত যে, আল্লাহ্র আত্মা হযরত আদম (আ) হইতে শীছ (আ)-এর মধ্যে স্থানান্তরিত হইয়াছিল (মুতাহ্হার ইব্‌ন তাহির আল-মাকদিসী, কিতাবুল-খালক, Huart কর্তৃক অনূদিত ও সম্পাদিত, ৬খ, ৯৬-এর বরাতে স. ই. বি., ২খ, ৩৯৬)। এই ধারণাটি নসটিক (Gnostic= মর্মজ্ঞ) নামীয় একটি সম্প্রদায় হইতে বিস্তার লাভ করিয়াছে, যাহারা শীছীয় সম্প্রদায় এবং খৃস্টীয় ৪র্থ শতাব্দী হইতে ইহাদের অনুসারীদেরকে মিসরে দেখা যায় (পৃ. গ্র.; দা. মা. ই., ১১খ, ৮৫১; বুতরুস আল-বুসতানী সম্পা., দাইরাতুল-মা'আরিফ, ১০খ, ৬৪৮)। ইহাদের নিকট "সাহীফায়ে শীছ-এর ভাষ্য" (Paraphrase of Seth) বিদ্যমান ছিল। সাতখানি সাহীফা ছিল শীছ (আ)-এর এবং অন্য সাতখানি তাহার পরবর্তীদের, যেগুলিকে তাহারা "আজনবী" (অপরিচিত) বলিত (Epiphanes, Hear, 5: 39)। নসটিকদের নিকট Jaldabaoth-এর গ্রন্থ বিদ্যমান রহিয়াছে, যাহা শীছ (আ)-এর প্রতি আরোপ করা হয় (Epiphanes, পৃ. গ্র., ৮: ২৬)। হাররান-এর সাবীদের নিকট কয়েকখানি সাহীফা ছিল যাহা শীছ (আ)-এর প্রতি আরোপ করা হইত (E. J. Brills, First Encyclopaedia of Islam, Vol. vii, 385; দা. মা. ই., ১১খ, ৮৫১)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00