📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ডারউইনের স্বীকারোক্তি

📄 ডারউইনের স্বীকারোক্তি


বিবর্তনবাদ তত্ত্ব যে একটা অনুমান-নির্ভর তত্ত্বমাত্র, প্রমাণিত সত্য নহে, স্বয়ং ডারউইন তাহা স্বীকার করিয়া গিয়াছেন। প্যারিস হইতে প্রকাশিত এস ডারনেট লিখিত “ইভ্যুলিউশন অব দি লিভিং ওয়ার্ল্ড” পুস্তকে তাঁহার স্বলিখিত একটি স্বীকারোক্তিপত্রের ফটোকপিও মুদ্রিত হইয়াছে, যাহার মূল কপি বৃটিশ মিউজিয়ামে সংরক্ষিত রহিয়াছে বলিয়া লেখক তথ্য প্রকাশ করিয়াছেন (সূত্র এ ডি এম এস, ৩৭৭২৫ এফ ৬)।
১৮৬১ সালে টমাস হটন স্কয়ারকে লিখিত উক্ত পত্রে ডারউইন স্পষ্ট ভাষায় স্বীকার করেন যে, বিবর্তনবাদের ব্যাখ্যায় সত্য সত্যই তিনি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়াছেন। অবশ্য উক্ত পত্রে ডারউইন ইহাও বলিয়াছেন, “তবে আমি নেচার‍্যাল সিলেকশন বা প্রকৃতির নির্বাচন তত্ত্বে বিশ্বাসী। যদিও এই থিওরী অনুযায়ী কোন প্রজাতি এ যাবৎ পরিবর্তিত হইয়া অন্য আরেকটি প্রজাতিতে পরিণত হইয়াছে এমন একটি প্রমাণও আমি দেখাইতে পারিব না, তথাপি আমি এই তত্ত্বে বিশ্বাস করি.....।”
উপরিউক্ত পত্রখানা উদ্ধৃত করিয়া ফরাসী বিজ্ঞানী মরিস বুকাইলী মন্তব্য করেন : “উপরিউক্ত পত্রের বক্তব্য থেকে একটা বিষয় সুস্পষ্ট। ডারউইন নেচারাল সিলেকশনের নামে যে থিওরীর কথা বলতেন তার দ্বারা একটি প্রজাতি পরিবর্তিত হয়ে পুরোপুরি অন্য একটা প্রাণীতে যে পরিণত হয় না, সে বিষয়ে তিনি সম্যক অবহিত ছিলেন। শুধু তাই নয়, নিজস্ব উদ্দেশ্যমূলক পর্যবেক্ষণের সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হিসাবে যখন তিনি নেচারাল সিলেকশনের আনুমানিক প্রভাবের কথা বলতেন, তখনও তিনি গোটা বিষয়টাকে নিছক একটা থিওরী বা তত্ত্ব হিসাবেই উপস্থাপন করতে চাইতেন। অথচ সংজ্ঞা হিসাবেই থিওরী বা তত্ত্ব হচ্ছে নিছক একটা ধারণা বা হাইপোথিসিস মাত্র, তার বেশী কিছু নয়। এই ধরনের থিওরী বা তত্ত্ব সময়ে সময়ে বিভিন্ন ধরনের ঘটনার ব্যাখ্যায় সূত্র হিসাবে কাজ করে থাকে। মানবজ্ঞানের অগ্রযাত্রার একটা পর্যায় বা সময়কাল পর্যন্ত এ ধরনের কোন থিওরী উপযোগী বলে প্রতীয়মানও হইতে পারে। তবে কোন্ থিওরী কতটা সঠিক, তার প্রমাণ সাব্যস্ত হয় সময়ের ধারায়। সময়ের সেই বিচারে ডারউইন থিওরী যে সঠিক তত্ত্ব হিসাবে প্রমাণিত হয়েছে সে কথা এখন আর বলা চলে না” (মানুষের আদি উৎস, পৃ. ৬৪)।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন পদার্থ বিজ্ঞানী অধ্যাপক আবুল কাসেম তদীয় আলোচনার উপসংহারে লিখেন : “উপরে যা বলা হয়, তাতে দেখা যাবে, বিশেষ সৃষ্টিতত্ত্বকে নস্যাৎ করবার শক্তি এখনও বিবর্তন তত্ত্ব পায়নি। বিশেষ সৃষ্টি তত্ত্বের সমর্থকরা বলেন, বিবর্তন যে হয় তা সত্য কিন্তু এটা হয় এক একটা প্রজাতির মধ্যে সীমাবদ্ধভাবে। এটা স্বীকার করে নিলে বিশেষ সৃষ্টিতত্ত্ব তথা আল্লাহ্ সৃষ্টিকে স্বীকার করে নেওয়া ছাড়া গতি থাকে না। বিবর্তন তত্ত্বে যে বহু অলৌকিকতার অস্তিত্ব রয়েছে তাও আজ বৈজ্ঞানিকদের দ্বারা স্বীকৃত হয়েছে। বৃটিশ জীববিজ্ঞানী ডগলাস ডিওয়ার বলেন, বিবর্তন তত্ত্ব অলৌকিকতার অবসান কামনা করেছিল সত্য, কিন্তু তার দ্বারা তা সম্ভব হয়নি। এটা বিশেষ সৃষ্টিতত্ত্বের অলৌকিকতাকে নতুনভাবে পরিবেশন করেছে মাত্র” (আবুল কাসেম, বিজ্ঞান সমাজ ধর্ম, পৃ. ১৪৩)।
ডারউইনের বিবর্তনবাদ তত্ত্ব যতই সেকেলে ও অবান্তর হউক না কেন, এক শ্রেণীর লোক উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাহা আঁকড়াইয়া ধরিয়া আছে। এই কথাটি মরিস বুকাইলী ব্যক্ত করিয়াছেন এইভাবে : “দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, এই ডারউইনবাদকে যতটা না জ্ঞান-বিজ্ঞানের সহায়ক হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তার চেয়ে অধিক মাত্রায় ব্যবহার করা হয়েছে আদর্শগত উদ্দেশ্য পূরণের নিমিত্ত হিসাবে। অধুনা আমরা বিবর্তনবাদের প্রক্রিয়া সম্পর্কে অনেক বেশী ওয়াকিফহাল। আর এটা সম্ভব হয়েছে জীবাশ্ম বিজ্ঞানসহ অপরাপর প্রকৃতি বিজ্ঞানের বহুবিধ সঠিক তথ্য ও প্রমাণ আবিস্কারের দরুন। শুধু তাই নয়, ডারউইনের পর থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত প্রাপ্ত বংশগতি (জেনেটিক) ও জীববিজ্ঞান (বিশেষত মলিকুলার বায়োলজি) সংক্রান্ত প্রচুর তথ্য জ্ঞান অর্জনে যে কারো পক্ষেই এখন একটা সহজ হয়ে পড়েছে। অথচ এখনও আমাদের কেউ কেউ শতাধিক বছর পূর্বেকার এই বিভ্রান্তিকর ডারউইন থিওরীকে নিয়েই বসে রয়েছে। শুধু তাই নয়, এখনো এই ডারউইন থিওরীর এমন সমর্থকও আছেন, যাহারা মনে করেন, এই থিওরী বাদ দেওয়া মানে তাদের আদর্শের পৃষ্ঠে ছুরিকাঘাত করা। সুতরাং ডারউইনের এই থিওরী আজকের যুগে যতই বাতিল বলে প্রমাণিত ও হাস্যকর বলে বর্জিত হোক না কেন, তারা যে কোন মূল্যেই যে তা আঁকড়ে ধরে থাকতে চাইবেন, সেটাই স্বাভাবিক” (মানুষের আদি উৎস, পৃ. ৬৪-৬৫)।
বিবর্তন সম্বন্ধে আধুনিক মতবাদ প্রসঙ্গে আলোচনা করিতে গিয়া অধ্যক্ষ আবুল কাসেম বৈজ্ঞানিক উদ্ধৃতিসহ যে মন্তব্য করিয়াছেন তাহা প্রণিধানযোগ্য। তিনি লিখেন: “জীবদেহের কার্যপ্রকৃতি মূলত যন্ত্রের কার্য প্রকৃতি থেকে পৃথক। জীব প্রকৃতি মেসিনের স্বরূপ দ্বারা ব্যাখ্যা করা অসম্ভব। মনে হয় জীবন একটি মৌলিক সত্তা। অধিকন্তু ইহা সৃষ্টিশীল। ইহা জীবদেহের স্বরূপগুলিকে এমনভাবে তৈরি ও ব্যবহার করে যাতে তার উদ্দেশ্য ও স্বার্থ সিদ্ধ হয়। এই কারণে সৃষ্টিধর্মী বিবর্তনবাদের উদ্ভব হয়েছে। এই তত্ত্ব এমন একটি উদ্দেশ্যশীল শক্তি বা নীতির প্রমাণ দেয় যা জীবদেহ থেকে একটি আপাত দুর্জেয় উদ্দেশ্যের দিকে পরিচালিত করার তাগিদে ক্রমশ উন্নততর জীবনের বিকাশ সাধন করছে। অতীতে জীব বিজ্ঞান ডারউইন তত্ত্বকে অবলম্বন করে নাস্তিক্যবাদী ভাবের বিস্তার করেছিল। আধুনিক জীববিজ্ঞান আজ নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করেছে, জীবন বস্তুধর্মী যন্ত্র নয়, জীবন একটি মৌলিক ব্যাপার। অধিকন্তু এটা সৃষ্টিশীল ও উদ্দেশ্যশীল।
"আধুনিক দার্শনিক ও বিজ্ঞানীরা ভাবছেন বিবর্তন সত্য হলেও সেটা অন্ধভাবে ঘটছে না। এমন সুন্দর ও সুসমঞ্জস সৃষ্টি বিনা চিন্তায় বিনা পরিকল্পনায় সম্ভব নয়। প্রত্যেকটি বিবর্তন ধারার মধ্যে একটি মহামন master mind কাজ করছে। এই মহামনই প্রত্যেকটি বিবর্তনের ধারার মধ্য দিয়ে একটা উদ্দেশ্যের দিকে সৃষ্টিকে পরিচালিত করছে। সুতরাং জীববিজ্ঞান আজ একটি মহামনের দিকে একটি উদ্দেশ্যশীল সত্তার দিকে আমাদের নিয়ে যাচ্ছে। অন্য কথায়, যে বিবর্তনবাদ নাস্তিকতার পোষক হিসাবে দেখা দিয়েছিল তারই আধুনিক রূপ আজ তাকে আস্তিকতার মাহাত্ম্যে উন্নত করে তুলে ধরছে” (বিজ্ঞান সমাজ ধর্ম, পৃ. ১৪৩-৪৪)।
আল-কুরআনে এই সত্যটিই ঘোষিত হইয়াছে মুমিনের দু'আরূপে:
رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هَذا بَاطِئًا سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ .
"হে আমাদের প্রতি পালক! এই সৃষ্টিজগত তুমি অনর্থক সৃষ্টি কর নাই। তুমি পবিত্র, আমাদেরকে দোযখের শাস্তি হইতে রক্ষা করিও” (৩: ১৯১)।
শেখ সাদী (র) সম্ভবত এই উপলব্ধি হইতেই বলিয়াছিলেন: "বৃক্ষপত্রে কিশলয় দেখে তারে সজাগ সুজন স্রষ্টার মহিমা কীর্তি প্রতিপত্রে রয়েছে লিখন।"
মহান স্রষ্টা আল্লাহ তা'আলা যে একটা মহান উদ্দেশ্যে আসমান-যমীন সৃষ্টি করিয়াছেন, কুরআন শরীফের বহু স্থানে উহার উল্লেখ রহিয়াছে। যেমন:
وَمَا خَلَقْنَا السَّمَاءَ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا بَاطِلًا ذَلِكَ ظَنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا فَوَيْلٌ لِّلَّذِينَ كَفَرُوا مِنَ النَّارِ .
"আমি আকাশ, পৃথিবী এবং এতদুভয়ের মধ্যবর্তী কোন কিছুই অনর্থক সৃষ্টি করি নাই। অনর্থক সৃষ্টি করার ধারণা তাহাদের যাহারা কাফির। সুতরাং কাফিরদের জন্য রহিয়াছে জাহান্নামের দুর্ভোগ" (৩৮:২৭)।
অন্যত্র আল্লাহ তা'আলা এই সম্পর্কে বলেন,
وَمَا خَلَقْنَا السَّمَواتِ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا لَعِبِينَ. مَا خَلَقْنَهُمَا إِلَّا بِالْحَقِّ وَلَكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ .
"আমি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী এবং উহাদের মধ্যে কোন কিছুই ক্রীড়াচ্ছলে সৃষ্টি করি নাই। আমি এই দুইটি অযথা সৃষ্টি করি নাই, কিন্তু উহাদের অধিকাংশই ইহা জানে না” (৪৪ : ৩৮-৩৯)।
বিবর্তনবাদের আলোচেক বৈজ্ঞানিকগণ যে সৃষ্টিতত্ত্বের আলোচনা-সমালোচনায় কুরআনের উক্ত সত্য উপলব্ধির পথে অগ্রসর হইতেছেন ইহা একটি শুভ লক্ষণ সন্দেহ নাই।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 কয়েকটি প্রাসঙ্গিক বিষয়

📄 কয়েকটি প্রাসঙ্গিক বিষয়


এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ফেরেশতা

📄 ফেরেশতা


বাংলা ভাষায় বহুল ব্যবহৃত ফিরিশতা বা ফেরেশতা শব্দটির মূল ফার্সী রূপ হইতেছে ফেরেস্তা বা ফারিশতা। উহাও ফার্সীর ব্যবহৃত রূপ। আসলে ফার্সী فرسادان ধাতু হইতে নিষ্পন্ন শব্দটি হইতে فرسته যাহার অর্থ প্রেরিত। তাঁহারা আল্লাহর নিকট হইতেই প্রেরিত এবং তাহার বার্তাবহনই তাঁহাদের প্রধান কাজ, সেই হেতু তাহাদের এইরূপ নামকরণ। ইহার আরবী প্রতিশব্দ: এক বচনে 'মালাক' এবং বহু বচনে 'মালাইকা' (লুগাতে কিশওয়ারী, পৃ. ৩৪৫( لوك। ধাতু হইতে নিষ্পন্ন। রাগিব ইস্পাহানীয় ভাষায়ঃ
উলুক শব্দের অর্থ রিসালত বা বার্তা পৌঁছাইয়া দেওয়া। তাই আরবী বাক্যে যখন বলা হয় واددنی তখন ইহার অর্থ হয় "অমুককে আমার বার্তা পৌঁছাইয়া দাও"। আরবী مان শব্দটি আসলে এ অর্থাৎ বার্তা পৌঁছানোর দায়িত্বপ্রাপ্ত (আল-মুফরাদাত ফী গারীবিল কুরআন, শিরো., পৃ. ২১)।
শব্দটি √ ধাতু হইতে নিষ্পন্ন ইহার অর্থ বার্তা পৌঁছানো (রূহুল মাআনী)।
কুরআন শরীফেও সূরা যুখরুফ (৪৩ নং সূরা) ৮০ নং আয়াতে ফেরেশতা অর্থে এ আমার রাসূলগণ শব্দ ব্যবহৃত হইয়াছে।
তাফসীরে বায়যাবীতে আছে: "যেহেতু তাঁহারা আল্লাহর ও মানুষের মধ্যে মাধ্যমস্বরূপ, সেই হিসাবে তাহারা আল্লাহ্র বার্তাবাহক অথবা মানুষের প্রতি তাঁহার দূতস্বরূপ"।
'তাফসীরে কাবীর'-এর বর্ণনামতে: ইহারা সূক্ষ্ম বায়বীয় দেহধারী, বিভিন্ন রূপ বা আকৃতি ধারণে সক্ষম, তাহাদের আবাসস্থল আসমান। ইহা অধিকাংশ মুসলমানের মত।
বায়যাভী শরীফে ঈষৎ শাব্দিক পরিবর্তনসহ তাহাদের এই পরিচয়ই দেওয়া হইয়াছে।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ফেরেশতাগণের উল্লেখ আল-কুরআনে

📄 ফেরেশতাগণের উল্লেখ আল-কুরআনে


আসমানী কিতাব ও হিদায়াতে বিশ্বাসীদের জন্য ফেরেশতাদের অস্তিত্ব ও তাহাদের ভূমিকা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কুরআন শরীফের অসংখ্য স্থানে ইহাদের আলোচনা আসিয়াছে। কুরআন শরীফের ১০টি স্থানে 'মালাকুন', তিনটি স্থানে 'মালাকান', দুইটি স্থানে 'মালাকায়ন' (দ্বি-বচনে), ৬৮টি স্থানে 'মালাইকা' এবং ৫টি স্থানে 'মালাইকাতুহু'-রূপে ইহার ব্যবহার পরিলক্ষিত হয় (মুহাম্মদ ফুওয়াদ আবদুল বাকী, আল-মু'জাম আল-মুফাহ্রাস, পৃ. ৬৭৪।
কাসাসুল আম্বিয়া প্রণেতা আবদুল ওয়াহ্হাব আনাজ্জার কুরআন শরীফের ৮৬টি সূরায় উক্ত মালাকুন বা মালাইকা শব্দের উল্লেখ ৮৮ বার রহিয়াছে বলিয়া উল্লেখ করিয়াছেন-যাহার চিত্র নিম্নরূপ:
সূরার ক্রমিক নং | সূরার নাম | আয়াত নম্বরসমূহ
(২) | আল-বাকারা | ৩০, ৩১, ৩৪, ৯ ১৬১, ১৭৭, ২১০, ২৪৮, ২৮৫
(৩) | আলে ইমরান | ১৮, ৩৯, ৪২, ৪৫, ৮০, ৮৭, ১২৪
(৪) | সূরা নিসা | ৯৭, ১৩৬, ১৬৬, ১৭২
(৬) | সূরা আন'আম | ৮, ৯, ৫০, ৯৩, ১১১, ১৯৮
(৭) | সূরা আ'রাফ | ১১, ২০
(৮) | সূরা আনফাল | ৯, ১২, ৫০
(১১) | সূরা হুদ | ১২, ৩১
(১২) | সূরা ইউসুফ | ৩১
(১৩) | সূরা রা'দ | ১৩, ২৩
(১৫) | আল-হিজর | ৭, ৮, ২৮, ৩০
(১৬) | সূরা নাহল | ২, ২৮, ৩২, ৩৩, ৪৯
(১৭) | সূরা কাফ্ফ | ৫০
উক্ত আয়াতসমূহ দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, ফেরেশতা আল্লাহর অতি নৈকট্যপ্রাপ্ত সম্মানিত সৃষ্টি। আল্লাহ্ তা'আলা নূরের দ্বারা তাহাদেরকে সৃষ্টি করিয়াছেন। বিভিন্ন আয়াতে তাহাদের বিবিধ বৈশিষ্ট্য ও দায়িত্বের কথা উল্লিখিত হইয়াছে। যেমন, সূরা ফাতিরে শুরুতেই আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
الْحَمْدُ للهِ فَاطِرِ السَّمواتِ وَالأَرْضِ جَاعِلِ الْمَلَكَةِ رُسُلًا أُولِى أَجْنِحَة مَثْنَى وَثُلكَ وَرُبَعَ يَزِيدُ فِي الْخَلْقِ مَا يَشَاءُ إِنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ .
"সকল প্রশংসা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্রই, যিনি বাণীবাহক করেন ফেরেশতাদেরকে, যাহারা দুই দুই, তিন তিন অথবা চার চার পক্ষবিশিষ্ট। তিনি সৃষ্টিতে যাহা ইচ্ছা বৃদ্ধি করেন। আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সর্বশক্তিমান" (৩৫:১)।
বিভিন্ন স্তরের ফেরেশতাদের বিভিন্ন সংখ্যক পাখা বা ডানা বিশিষ্ট করিয়া সৃষ্টি করা হইয়াছে। কিন্তু ঐ ডানাসমূহের সংখ্যা চারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নহে, বরং কোন কোন ফেরেশতাকে আল্লাহ্ তা'আলা অনেক বেশি সংখ্যক ডানাও দান করিয়াছেন। যেমন বুখারী, মুসলিম ও তিরমিযী শরীফের এক হাদীছে বর্ণিত আছে যে, হযরত আবদুল্লাহ্ ইবন মাসউদ (রা) বর্ণনা করেন, একদা নবী করীম (সা) জিবরাঈল (আ)-কে ছয়শত ডানাবিশিষ্ট অবস্থায় প্রত্যক্ষ করিয়াছেন। তিরমিযী শরীফে উদ্ধৃত হযরত আয়েশা (রা) বর্ণিত হাদীছে আছে, জিবরাঈল (আ)-কে মহানবী (সা) দুইবার ছয়শত ডানাসহ এমন অবস্থায় দেখিয়াছেন যে, গোটা দিগন্ত তাহার ডানাসমূহে ঢাকা পড়িয়া গিয়াছিল [তাফহীমূল কুরআন, খ. ৪, পৃ. ২১৮ ও মুখতাসার, ইব্‌ন কাছীর (সাবৃনী), ৩খ, পৃ. ১৩৮]।
সূরা আস-সাফফাত-এর প্রারম্ভে উল্লিখিত হইয়াছে:
والصفت صفا . فالزاجرات زَجْرًا . فالتليت ذكراً .
"শপথ তাহাদের যাহারা সারিবদ্ধভাবে দণ্ডায়মান ও যাহারা মেঘমালার কঠোর পরিচালক এবং যাহারা যিকির আবৃত্তিতে রত” (৩৭:১-৩)।
উক্ত আয়াতসমূহের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে আল্লামা ইন্ন কাছীর (র) বলেনঃ
ইবন মাসউদ (রা) বলেন: ইহারা হইতেছেন ফেরেশতাগণ। ইহা ইব্‌ন আব্বাস (রা), মাসরূক, সাঈদ ইব্‌ন জুবায়র, ইকরিমা, মুজাহিদ, সুদ্দী ও কাতাদা (র) প্রমুখেরও অভিমত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00