📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 আদম (আ)-এর শরীআত ও আমল

📄 আদম (আ)-এর শরীআত ও আমল


সভ্যতার আদি যুগে আদম (আ)-এর সহীফাগুলি তো বটেই, পূর্ববর্তী যুগের তাবৎ নবী-রাসূলগণের প্রতি নাযিলকৃত আসমানী কিতাব ও সহীফাগুলি বিকৃতি, বিস্মৃতি ও বিলুপ্তির শিকার হইয়াছে। সায়্যিদ সুলায়মান নদভীর ভাষায়: "এ কথা আমরাও মানি, যুগে যুগে পয়গাম্বরগণের মাধ্যমে আল্লাহ্ পয়গাম দুনিয়ায় এসেছে, কিন্তু আমরা বারবার বলেছি এবং ঐতিহাসিক ঘটনাবলীর আলোকে প্রমাণ করেও দেখিয়েছি যে, বিশেষ বিশেষ যুগ বা বিশেষ বিশেষ দেশের জন্যই তাঁদের আবির্ভাব ঘটেছিল। তাঁরা ছিলেন সাময়িক প্রয়োজন মেটানোর তাগিদে সাময়িক পয়গাম্বর। আর এজন্যই তাঁদের পয়গামসমূহ চিরদিনের জন্য সুসংরক্ষণের ইন্তেজাম হয়ে উঠেনি, ছিন্ন হয়ে গেছে এগুলোর মূল সূত্র" (নবী চিরন্তন, অনুবাদ আবদুল্লাহ বিন সাঈদ জালালাবাদী, ২য় সং, বুক সোসাইটি, ঢাকা ১৯৭৯ খৃ.)।
বলা বাহুল্য, উপরিউক্ত বক্তব্যটি আদি মানব এবং সর্বপ্রথম নবী আদম (আ) এবং তাঁহার শরী'আত ও সহীফাগুলির ব্যাপারে সর্বাধিক প্রযোজ্য। তাই তাঁহার শরী'আতের কাঠামো কী ছিল বা তাঁহার ইবাদাত ও 'আমলের নমুনা কী ছিল তাহা সুনির্দিষ্টভাবে বলা এক সুকঠিন ব্যাপার। তবে এতদসংক্রান্ত রিওয়ায়াতসমূহ হইতে ইহার কিছু কিছু আঁচ করা যায়।
কুরআন শরীফে যেমন নবী-রাসূলগণের সকলের নাম উল্লিখিত হয় নাই, তেমনি কোন্ কোন্ রাসূল বা নবীর প্রতি কোন্ কোন্ কিতাব অবতীর্ণ করা হইয়াছে তাহারও বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হয় নাই এবং ইজমালীভাবে বলা হইয়াছে :
لَقَدْ اَرْسَلْنَا رُسُلَنَا بِالْبَيِّنَتِ وَاَنْزَلْنَا مَعَهُمُ الْكِتٰبَ وَالْمِيْزَانَ لِيَقُوْمَ النَّاسُ بِالْقِسْطِ .
"নিশ্চয় আমি আমার রাসূলগণকে প্রেরণ করিয়াছি স্পষ্ট প্রমাণসহ এবং তাহাদের সঙ্গে দিয়াছি কিতাব ও ন্যায়নীতি, যাহাতে মানুষ সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে" (৫৭ঃ ২৫)।
'শরহ উমদা'-এর বরাতে মওলানা আবদুল হক হক্কানী দেহলবী (র) লিখেন: মোট আসমানী কিতাবের সংখ্যা ১০৪। তন্মধ্যে ছোট ছোট ৫০টি হযরত শীছ (আ), ৩০টি হযরত ইদরীস (আ), ১০টি হযরত ইবরাহীম (আ) এবং ১০টি হযরত আদম (আ)-এর প্রতি অবতীর্ণ হইয়াছে। আর প্রধান প্রধান চারিখানা চারিজন নবীর প্রতি নাযিল হইয়াছে" (ইসলামী আকীদা, পৃ. ৯৭, অনুবাদ: মওলানা আবদুস সুবহান, ইফা প্রকাশিত, ১ম সং, ১৯৮১)।

সভ্যতার আদি যুগে আদম (আ)-এর সহীফাগুলি তো বটেই, পূর্ববর্তী যুগের তাবৎ নবী-রাসূলগণের প্রতি নাযিলকৃত আসমানী কিতাব ও সহীফাগুলি বিকৃতি, বিস্মৃতি ও বিলুপ্তির শিকার হইয়াছে। সায়্যিদ সুলায়মান নদভীর ভাষায়: "এ কথা আমরাও মানি, যুগে যুগে পয়গাম্বরগণের মাধ্যমে আল্লাহ্ পয়গাম দুনিয়ায় এসেছে, কিন্তু আমরা বারবার বলেছি এবং ঐতিহাসিক ঘটনাবলীর আলোকে প্রমাণ করেও দেখিয়েছি যে, বিশেষ বিশেষ যুগ বা বিশেষ বিশেষ দেশের জন্যই তাঁদের আবির্ভাব ঘটেছিল। তাঁরা ছিলেন সাময়িক প্রয়োজন মেটানোর তাগিদে সাময়িক পয়গাম্বর। আর এজন্যই তাঁদের পয়গামসমূহ চিরদিনের জন্য সুসংরক্ষণের ইন্তেজাম হয়ে উঠেনি, ছিন্ন হয়ে গেছে এগুলোর মূল সূত্র"।
বলা বাহুল্য, উপরিউক্ত বক্তব্যটি আদি মানব এবং সর্বপ্রথম নবী আদম (আ) এবং তাঁহার শরী'আত ও সহীফাগুলির ব্যাপারে সর্বাধিক প্রযোজ্য। তাই তাঁহার শরী'আতের কাঠামো কী ছিল বা তাঁহার ইবাদাত ও 'আমলের নমুনা কী ছিল তাহা সুনির্দিষ্টভাবে বলা এক সুকঠিন ব্যাপার। তবে এতদসংক্রান্ত রিওয়ায়াতসমূহ হইতে ইহার কিছু কিছু আঁচ করা যায়।
কুরআন শরীফে যেমন নবী-রাসূলগণের সকলের নাম উল্লিখিত হয় নাই, তেমনি কোন্ কোন্ রাসূল বা নবীর প্রতি কোন্ কোন্ কিতাব অবতীর্ণ করা হইয়াছে তাহারও বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হয় নাই এবং ইজমালীভাবে বলা হইয়াছে :
لَقَدْ اَرْسَلْنَا رُسُلَنَا بِالْبَيِّنَتِ وَاَنْزَلْنَا مَعَهُمُ الْكِتٰبَ وَالْمِيْزَانَ لِيَقُوْمَ النَّاسُ بِالْقِسْطِ .
"নিশ্চয় আমি আমার রাসূলগণকে প্রেরণ করিয়াছি স্পষ্ট প্রমাণসহ এবং তাহাদের সঙ্গে দিয়াছি কিতাব ও ন্যায়নীতি, যাহাতে মানুষ সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে" (৫৭ঃ ২৫)।
'শরহ উমদা'-এর বরাতে মওলানা আবদুল হক হক্কানী দেহলবী (র) লিখেন: মোট আসমানী কিতাবের সংখ্যা ১০৪। তন্মধ্যে ছোট ছোট ৫০টি হযরত শীছ (আ), ৩০টি হযরত ইদরীস (আ), ১০টি হযরত ইবরাহীম (আ) এবং ১০টি হযরত আদম (আ)-এর প্রতি অবতীর্ণ হইয়াছে। আর প্রধান প্রধান চারিখানা চারিজন নবীর প্রতি নাযিল হইয়াছে"।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হাম্দ ও সালাম

📄 হাম্দ ও সালাম


আল্লামা ইব্‌ন কাছীর সহীহ ইব্‌ন হিব্বান হইতে হযরত আবূ হুরায়রা (রা) বর্ণিত একখানা হাদীছ উদ্ধৃত করিয়াছেন: "রাসূলুল্লাহ (স) বলেন, আল্লাহ যখন আদমকে সৃষ্টি করেন এবং তাঁহার মধ্যে রূহ ফুঁকিলেন তখন তিনি হাঁচি দিয়া উঠিলেন এবং বলিলেন: আলহামদু লিল্লাহ্ (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্)। তিনি তাঁহার আদেশক্রমেই হাহমদ বা আল্লাহ্র প্রশংসা করিলেন। তখন তাঁহার প্রতিপালক তাঁহার উদ্দেশে বলিলেন, তোমার প্রতিপালক তোমার প্রতি সদয় হউন হে আদম! ঐ পাশে উপবিষ্ট ফেরেশতামণ্ডলীর দিকে যাও এবং তাহাদেরকে সালাম দাও। তখন তিনি গিয়া তাহাদেরকে সালাম দিলেন। তিনি বলিলেন: আস্সালামু 'আলায়কুম। তাহারা বলিলেন: ওয়া 'আলায়কুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি। তারপর তিনি তাঁহার প্রতিপালকের নিকট ফিরিয়া গেলেন। তখন তিনি বলিলেন; ইহাই তোমার ও তোমার সন্তানদের মধ্যকার সম্ভাষণ" (কাসাসুল আম্বিয়া, ইবন কাছীর, পৃ. ৪৪ ও আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া)। বুখারীর রিওয়ায়াতেও অনুরূপ বক্তব্য রহিয়াছে।
উক্ত বর্ণনার দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হইল যে, সৃষ্টির প্রথম প্রভাতে আদম (আ)-এর সর্বপ্রথম ইবাদতটি ছিল 'আলহামদু লিল্লাহ' বলিয়া সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তা'আলার দরবারে হাম্দ বা স্তুতিবাদ।
আল্লামা ছা'লাবীর ভাষায়: 'হাঁচি দেওয়া শেষ হইতে না হইতেই আদমের রূহ তাঁহার মুখ ও রসনায় সঞ্চারিত হইল এবং আল্লাহ তা'আলা তাঁহাকে শিক্ষা দিলেন যেন তিনি বলেন, আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল 'আলামীন। সুতরাং উহাই ছিল তাঁহার মুখ নিঃসৃত সর্বপ্রথম বাণী' (আরাইস, কাসাসুল আম্বিয়া, পৃ. ২৯)।
পৃথিবী ব্যাপী মুসলমানদের মধ্যে বহুল প্রচলিত সালাম ও তাহার জবাব দানের শিষ্টাচার পূর্ণ বিধানটিও যে সৃষ্টির সূচনালগ্ন হইতেই চলিয়া আসিতেছে উপরিক্ত বর্ণনা দ্বারা তাহাও নিশ্চিতভাবে জানা গেল।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বিবাহ ও দেনমোহর

📄 বিবাহ ও দেনমোহর


কোন কোন রিওয়ায়াতে আছে, হাওয়াকে সৃষ্টির পর আদম (আ) তাহার দিকে হস্ত প্রসারিত করিলে ফেরেশতাগণ বলিলেন, থামুন আদম, একটু থামুন। আদম (আ) বলিলেন, আবার থামিতে হইবে কেন? হাওয়াকে তো আল্লাহ তা'আলা আমার জন্যই সৃষ্টি করিয়াছেন। ফেরেশতাগণ বলিলেন, তাহার মোহরানা আদায়ের পরই কেবল তিনি আপনার জন্য বৈধ হইবেন। আদম (আ) জিজ্ঞাসা করিলেন, তাহা কিভাবে আদায় করিতে হইবে। ফেরেশতাগণ বলিলেন, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের প্রতি তিনবার দুরূদ পাঠ করুন। তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, মুহাম্মাদ কে? ফেরেশতাগণ তাঁহার পরিচয় দিলেন এইভাবে: আপনার সন্তানদের মধ্য হইতে তিনি হইতেছেন সর্বশেষ নবী, মুহাম্মাদের সৃষ্টি না হইলে আপনাকে সৃষ্টি করা হইত না (ছা'লাবী, আরাইস, পৃ. ৩১)।
বলা বাহুল্য, তিনি তখন তাঁহার সেই সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান আখেরী নবীর প্রতি দুরূদ পাঠ করিয়াই মোহরানা আদায় করেন। ইহার পর হাওয়াকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করিয়া তিনি দাম্পত্য জীবন শুরু করেন। এইভাবেই পৃথিবীতে সর্বপ্রথম দুরূদ উচ্চারিত হয় এবং মোহরানা আদায়ের মাধ্যমে বিবাহের সূচনা হয়। খুলাসাতুল আম্বিয়া (পৃ. ১৩) গ্রন্থে বলা হইয়াছে, আদম (আ)-এর সহিত হাওয়া (আ) বিবাহের মোহর ছিল মহান আল্লাহর প্রশংসা, তাসবীহ, তাহলীল, পবিত্রতা বর্ণনা ও কলেমা শাহাদাত।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা

📄 তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা


পৃথিবীতে অবতরণের পর আদম (আ) একটি হাঁচি দিলে তাঁহার নাক হইতে টাটকা রক্ত ঝরিতে লাগিল। মাটিতে সেই রক্ত গড়াইয়া পড়িলে উহা কয়লার মত কালো বর্ণ ধারণ করে। উহা দেখিয়া আদম ভীত-বিহ্বল হইয়া পড়েন। কেননা এরূপ দৃশ্য ইতোপূর্বে তিনি কখনও দেখেন নাই। জান্নাতের সুখস্মৃতি তাঁহার স্মৃতিপটে জাগরূক হইয়া উঠিল। তখন তিনি মূর্ছা গেলেন। একাদিক্রমে চল্লিশটি বৎসর তাঁহার ক্রন্দনে ক্রন্দনে অতিবাহিত হইল। উহার পর আল্লাহ একজন ফেরেশতাকে প্রেরণ করিলেন। তিনি আসিয়া আদম (আ)-এর পৃষ্ঠদেশে ও পেটে হাত বুলাইয়া উহা তাঁহার বক্ষের উপর রাখিলেন। ইহাতে আদমের ভীতি-বিহ্বলতা দূর হইল এবং তিনি অনেকটা স্বস্তি বোধ করিলেন。
'হযরত শাহর ইব্‌ন হাওশাব (রা) বলেন, আমার নিকট এই বিবরণ পৌছিয়াছে যে, পৃথিবীতে আগমনের পর আদম (আ) লজ্জায় তিন শত বৎসর পর্যন্ত মাথা উঠাইয়া তাকান নাই। ইব্‌ন আব্বাস (রা) বলেন, আদম-হাওয়া জান্নাতের নিয়ামতরাজি হারাইয়া দুই শত বৎসর পর্যন্ত কান্নাকাটি করিয়া কাটান। চল্লিশ বৎসর পর্যন্ত তাঁহারা কোনরূপ পানাহার করেন নাই। আদম ও হাওয়া এক শত বৎসর পরস্পর মিলিত হন নাই। তারপর যখন আল্লাহ তদীয় বান্দা আদমের প্রতি দয়া করিতে মনস্থ করেন তখন তাঁহাকে কতিপয় কলেমা শিক্ষা দেন (ছা'লাবী, আরাইস, পৃ. ৩৬)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00