📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 প্রথম লাশ দাফন

📄 প্রথম লাশ দাফন


পৃথিবীতে যেহেতু ইতোপূর্বে কোন মানুষের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে নাই, তাই হাবীলের লাশ কাবীলের জন্য এক মহা সমস্যা হইয়া দেখা দিল। লাশ এইভাবে পড়িয়া থাকিলে তাহা পিতা-মাতা ও অন্যান্য ভাই-বোনের গোচরে আসিবে। হাবীলকে যেহেতু সে প্রকাশ্যেই হত্যার হুমকি দিয়াছিল এবং তাঁহার প্রতি তাহার বিদ্বেষ ও কোপানলের কথা অজ্ঞাত ছিল না, তাই এই লাশ দেখামাত্র যে কেহ চক্ষু খুঁজিয়া বলিয়া দিবে যে, ইহা একমাত্র কাবীলেরই কাজ হইতে পারে। তাই দুশ্চিন্তায় কাবীল দিক-বিদিক জ্ঞান হারাইয়া ফেলিল এবং লাশ কাঁধে তুলিয়া এদিক-সেদিক ছুটিতে লাগিল। ভাইয়ের লাশ লইয়া কাবীলের উদ্ভ্রান্তভাবে বেড়াইবার এই মেয়াদ কেহ চল্লিশ দিন, আবার কেহ এক বৎসর কাল দীর্ঘ ছিল বলিয়া উল্লেখ করিয়াছেন (তাফসীর মাযহারী, ৩খ, পৃ. ৮১; বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ১খ, পৃ. ৮৮)।
فَبَعَثَ اللَّهُ غُرَابًا يَبْحَثُ فِي الْأَرْضِ لِيُرِيَهُ كَيْفَ يُوَارِي سَوْءَةَ أَخِيهِ قَالَ يُوَيْلَتِي أَعْجَزْتُ أَنْ أَكُونَ مِثْلَ هُذَا الْغُرَابِ فَأُوَارِي سَوْءَةَ أَخِي فَاصْبَحَ مِنَ النَّدِمِينَ .
"অতঃপর আল্লাহ একটি কাক পাঠাইলেন, যে তাহার ভ্রাতার মৃতদেহ কিভাবে গোপন করা যায় তাহা দেখাইবার জন্য মাটি খনন করিতে লাগিল। সে বলিল, হায়! আমি কি এই কাকের মতও হইতে পারিলাম না, যাহাতে আমার ভ্রাতার মৃতদেহ গোপন করিতে পারি? অতঃপর সে অনুতপ্ত হইল" (৫: ৩১)।
আস-সুদ্দী কতক সাহাবীর বরাতে বর্ণনা করেন যে, ঐ সময় আল্লাহ তা'আলা দুইটি সহোদর কাক প্রেরণ করিয়াছিলেন। উভয় কাক সংঘর্ষে লিপ্ত হয় এবং তাহাদের একটি অপরটিকে হত্যা করে। হত্যাকৰ্ম সম্পন্ন করার পর হস্তা কাকটি মাটি খনন করিয়া তাহার মৃত ভাইয়ের দেহটি গর্তে নিক্ষেপ করিল এবং তারপর তাহা মাটি চাপা দিল। তাহা প্রত্যক্ষ করিয়া কাবীল বলিয়া উঠিল, হায়! আমি কি ঐ কাকটির মতও হইতে পারিলাম না যে, আমার ভাইয়ের লাশটি লোকচক্ষুর অন্তরালে গোপন করিয়া ফেলি! তখন সে কাকের অনুসরণে ঐরূপই করিল এবং হাবীলের মৃতদেহ দাফন করিল (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ১খ, পৃ. ৮৮; তাফসীর তাবারী, ৬খ, পৃ. ১৯৭; তাফসীর রূহুল মা'আনী, ৬খ, পৃ. ১১৫-১১৬)।
এই ঘটনার পর্যালোচনা প্রসঙ্গে আল্লামা হিফযুর রহমান লিখেন, হাবীল ছিলেন আল্লাহ্র প্রিয়পাত্র আর কাবীল ছিল অভিশপ্ত। তাই হাবীলের পবিত্র মৃতদেহের যাহাতে অবমাননা না হয়, আদম সন্তানগণের মৃত্যুর পর যাহাতে সম্মানজনকভাবে তাহাদের মৃতদেহ দাফনের সুন্নাত বা রীতি প্রবর্তিত হয় এবং কাবীলকে যেন তাহার লজ্জাজনক অপরাধের দরুন এই দুনিয়ায়ও লাঞ্ছিত অপমানিত হইতে হয়, সে তাহার নির্বুদ্ধিতা ও অদূরদর্শিতার কথা যাহাতে হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করিতে পারে তজ্জন্য এই ব্যবস্থা করা হইয়াছিল। এইজন্য আপন অপরাধ গোপন করার মত সাধারণ জ্ঞানটুকুও তাহার মনে উদ্রেক হয় নাই, বরং এমন একটি প্রাণীকে এই ব্যাপারে তাহার পথিকৃত করা হইল যাহার ধূর্ততা ও সহজাত নোংরামী সর্বজন বিদিত। ফলে শেষ পর্যন্ত কাবীলকে এই খোদোক্তি করিতে হয় : 'হায়! আমি এই কাকটির মতও হইতে পারিলাম না' (হিফযুর রহমান, কাসাসুল কুরআন, ১খ, ৬২)!

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 কাবীলের পরিণতি

📄 কাবীলের পরিণতি


-মুজাহিদ (র)-এর বরাতে আল্লামা ইব্ন কাছীর (র) বলেন, "ভ্রাতৃ হত্যার দিনই কাবীলকে তাৎক্ষণিকভাবে উহার শাস্তি দেওয়া হয়। তাহার নলাকে তাহার উরুর সহিত সংলগ্ন করিয়া দেওয়া হয়, তাহার মুখমণ্ডলকে সূর্যের দিকে করিয়া দেওয়া হয়। সূর্য যে দিকে আবর্তিত হইত তাহার মুখমণ্ডলকে সেদিকেই ঘুরাইয়া দেওয়া হইত। ইহা ছিল তাহার পাপের আশু ফলস্বরূপ এবং তাহার দ্রোহ ও আপন ভ্রাতার প্রতি বিদ্বেষের পরিণতি।" রাসূলুল্লাহ (স) বলেন, "আখিরাতের প্রাপ্য শাস্তি ছাড়াও দুনিয়ার ত্বরিৎ শাস্তি লাভের জন্য বিদ্রোহ ও নিকট আত্মীয়তা সম্পর্ক ছেদনের মত পাপ আর হয় না” (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ১খ, পৃ. ৮৮; আরও দ্র. আবূ দাউদ (৪৯০২), তিরমিযী (২৫১১), ইবন মাজা (৪২১১), আহমাদ, ৫খ, পৃ. ৩৬, ৩৮ ও ৩৮ এবং আল-আদাবুল-মুফরাদ, অধ্যায় ৩৩, হাদীছ নং ৬৭, তাশখন্দ মুদ্রণ ১৩৯০/১৯৭০)।
বাইবেল পুরাতন নিয়মের আদি পুস্তকে কাবীলের পরিণতি বর্ণিত হইয়াছে এইভাবেঃ "এরপর একদিন মাঠে থাকার সময় কয়িন তার ভাই হেবলের সঙ্গে কথা বলছিল, আর তখন সে হেবলকে আক্রমণ করে মেরে ফেলল। তখন সদাপ্রভু কয়িনকে বলেন, তোমার ভাই হেবল কোথায়? কয়িন বলল, আমি জানি না। আমার ভাইয়ের দেখাশোনার ভার কি আমার উপর? তখন সদাপ্রভু বললেন, এ তুমি কি করেছ? দেখ, জমি থেকে তোমার ভাইয়ের রক্ত আমার কাছে কাঁদছে। জমি যখন তোমার হাত থেকে তোমার ভাইয়ের রক্তগ্রহণ করবার জন্য মুখ খুলেছে, তখন জমির অভিশাপই তোমার উপর পড়ল। তুমি যখন জমি চাষ করবে, তখন তা আর তোমাকে তেমন ফসল দেবে না। তুমি পলাতক হয়ে পৃথিবীতে ঘুরে বেড়াবে। তখন কয়িন সদাপ্রভুকে বলল, এই শাস্তি আমার সহ্যের বাইরে। আজ তুমি আমাকে জমি থেকে তাড়িয়ে দিলে, যার ফলে আমি তোমার চোখের আড়াল হয়ে যাব। পলাতক হয়ে আমি পৃথিবীতে ঘুরে বেড়াব, ফলে যার সামনে আমি পড়ব সে-ই আমাকে খুন করতে পারে। তখন সদাপ্রভু তাকে বললেন, তাহলে যে তোমাকে খুন করবে, তার উপর সাত গুণ প্রতিশোধ নেয়া হবে। এই বলে সদাপ্রভু কয়িনের জন্য এমন একটা চিহ্নের ব্যবস্থা করলেন যাতে কেউ তাকে হাতে পেয়েও খুন না করে" (আদিপুস্তক, ৪ : ৮-১৫, সৃষ্টির আদিতে, প্রকাশক বাংলাদেশ বাইবেল সোসাইটি, ঢাকা)।
বাইলেলের এই বর্ণনা বিভ্রান্তিকর। ইবন কাছীর (র) বলেন, আহলে কিতাব তথা ইয়াহুদী-খৃস্টান সমাজ যাহাকে তৌরাত বলিয়া মনে করে তাহাদের গ্রন্থে আমি দেখিয়াছি যে, আল্লাহ তা'আলা কাবীলকে তাৎক্ষণিক শাস্তি না দিয়া অবকাশ দিয়াছিলেন এবং সে এডেনের পূর্ব দিকে অবস্থিত নূদ অঞ্চল বসবাস করে যাহাকে তাহারা কান্নীম নামে অভিহিত করিয়া থাকে (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ১খ, পৃ. ৮৮)। বর্তমান বাইবেলেও এই বক্তব্য বিদ্যমান আছে। কাবীলের বংশতালিকা প্রমাণ করে যে, তাৎক্ষণিকভাবে কাবীল শাস্তিপ্রাপ্ত হইয়া ধ্বংস হইয়া যায় নাই, বরং সুদীর্ঘ কাল পৃথিবীতে বসবাস করিয়া বংশ বিস্তার করিয়াছে।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 পুত্র বিরহে আদম (আ)

📄 পুত্র বিরহে আদম (আ)


এই প্রথমবারের মত পৃথিবীতে মানুষের মৃত্যু, তাহাও আবার নিজের প্রাণপ্রিয় সন্তানের মৃত্যু। তাই পুত্র বিরহে আদম (আ) ও মা হাওয়া (আ) অত্যধিক বিমর্ষ হইয়া পড়িলেন। পূর্বেই উক্ত হইয়াছে যে, হাবীল হত্যার সময় আদম (আ) হজ্জ উপলক্ষে মক্কা শরীফে ছিলেন। মক্কা হইতে প্রত্যাবর্তনের পর অনেক খোঁজ করিয়াও তিনি হাবীলের কোন সন্ধান পাইলেন না। লোকজনকে জিজ্ঞাসা করিলে তাহারাও ইহার কোন উত্তর দিতে পারিল না। কাবীলের অন্যায় জিদ এবং খুনের হুমকির কথা তাঁহার জানা ছিল। তাই হাবীলের ব্যাপারে তাঁহার দুশ্চিন্তার অন্ত ছিল না। তাবারী ও ইবন কাছীর (র) প্রমুখ ঐতিহাসিকগণের গ্রন্থাবলীতে হাবীলের মৃত্যুতে আদম (আ)-এর শোকগাথা উদ্ধৃত হইয়াছে:
"বদলে গেছে জনপদ সব বদলেছে তার বাসিন্দারা পৃথ্বী আনন ধুসরিত বীভৎস আজ বসুন্ধরা রঙিনেরা রঙ হারালো সুস্বাদুরা স্বাদের খ্যাতি লাবণীদের লাবণ্য নেই নেই চেহারায় রূপের ভাতি"।
জবাবে আদম (আ)-এর উদ্দেশ্যে ধ্বনিত হলো : "হাবীলের পিতা! দুইজনই আজ নিহতের পর্যায়ে জীবিত হন্তা নিহতেরই মত মরিতেছে তড়পায়ে। জিঘাংসা বশে হলো যেন কাজ তাহার হস্ত দিয়া আর্ত কণ্ঠে ফুকারি ফিরিছে সাদা শঙ্কিত হিয়া"।
(তাবারী, তারীখুল উমাম ওয়ার রুসুল-ওয়াল-মুলুক, ১০খ, পৃ. ২২০; ইবন কাছীর, কাসাসুল আম্বিয়া, পৃ. ৫৫, কায়রো ১৯৯৭ খৃ.)।
ইবন কাছীর (র) তদীয় গ্রন্থে পংক্তিগুলি উদ্ধৃত করিয়া মন্তব্য করেন: "উক্ত পংক্তিগুলি সম্পর্কে সন্দেহের অবকাশ রহিয়াছে। যতদূর মনে হয়, শোকার্ত আদম (আ) বিলাপ ছলে তাঁহার নিজের ভাষায় কিছু বলিয়াছিলেন। পরর্বতীতে কোন কবি তাহা এইভাবে কবিতায় রূপ দান করিয়াছেন। আল্লাহই সম্যক জ্ঞাত (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ১খ. পৃ. ৮৮)। উর্দু দায়িরাতুল মা'আরিফ গ্রন্থে ও ইসলামী বিশ্বকোষে উক্ত ঘটনার বিবরণ প্রদান ও উক্ত শোকগাথা উদ্ধৃত করার পর মন্তব্য করা হইয়াছে: "উক্ত ঘটনার এই সকল বিবরণ হাদীছ ও যুক্তির মৌল নীতিমালা অনুযায়ী সত্য নহে” (ইসলামী বিশ্বকোষ, ২৫খ, পৃ. ২৩৭)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 মা হাওয়া (আ) সংক্রান্ত কিছু কথা

📄 মা হাওয়া (আ) সংক্রান্ত কিছু কথা


কুরআন মজীদে বলা হইয়াছে :
يَا بُهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً.
"হে মানব! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি হইতে সৃষ্টি করিয়াছেন এবং যিনি তাহা হইতে তাহার স্ত্রীকে সৃষ্টি করেন, যিনি তাহাদের দুইজন হইতে বহু নর-নারী ছড়াইয়া দেন" (৪:১)।
উক্ত আয়াত হইতে আমরা জানিতে পারিলামঃ (১) একটিমাত্র মানুষ অর্থাৎ হযরত আদম (আ) হইতে গোটা মানবজাতির সৃষ্টি; (২) হাওয়া (আ) তাঁহারই দেহপিঞ্জর হইতে নির্গত; (৩) হাওয়া বিশ্বের গোটা মানবজাতির মহীয়সী জননী। মহানবী (স) বলেন, "স্ত্রীলোকদের সহিত উত্তম আচরণ করিবে, কেননা নারীকে পাঁজর হইতে সৃষ্টি করা হইয়াছে” (বুখারী ও মুসলিম)।
ইবন ইসহাকের মতে ইহার অর্থ হইল, হাওয়াকে আদমের বাম পাঁজর হইতে সৃষ্টি করা হইয়াছে। কুরতুবী ইহার অর্থ করিয়াছেন, 'স্ত্রীলোককে মূলত পাঁজরের সাথে তুলনা করা হইয়াছে এবং বলা হইয়াছে, স্ত্রীলোকের সৃষ্টির সূচনা পাঁজর থেকেই হইয়াছে এবং ইহাদের অবস্থা পাঁজরের। মত যদি ইহাদের বক্রতাকে সোজা করিতে চাও তবে তাহা ভাঙ্গিয়া যাইবে। অতএব পাঁজরের বক্রতা সত্ত্বেও যেমন তাহা থেকে কাজ নেওয়া হয় এবং ত্রুটি (বক্রতা) দূর করার চেষ্টা করা হয় না, তেমনি স্ত্রীলোকদের সাথেও নম্র ও সহানুভূতিশীল আচরণ করিতে হইবে। যদি তাহাদের সাথে রূঢ় আচরণ করা হয় তবে তাহাদের সাথে সম্বন্ধ মধুর হওয়ার চাইতে বরং আরো তিক্ত হইবে (ফতুহুল বারী, ৬খ, পৃ. ২৮৩-এর বরাতে হিফযুর রহমান, কাসাসুল কুরআন, বাংলা অনু, ১খ, পৃ. ৩৩; ইফা প্রকাশিত, ১ম সং, ১৯৯০ খৃ.)। কুরতুবীর এই বর্ণনায় পাঁজর হইতে স্ত্রীলোক সৃষ্টিকে আক্ষরিক অর্থে গ্রহণ না করিয়া যে রূপক অর্থ গ্রহণ করা হইয়াছে তাহা সুস্পষ্ট।
বাইবেলের বর্ণনায় রহিয়াছে : “পরে সদাপ্রভু বললেন, 'মানুষটির পক্ষে একা থাকা ভাল নয়। আমি তার জন্যে একজন উপযুক্ত সঙ্গী তৈরী করব। সদাপ্রভু মাটি থেকে যেসব ডাঙ্গার জীবজন্তু ও আকাশের পাখি তৈরী করেছিলেন সেগুলো সেই মানুষটির কাছে আসলো। সদাপ্রভু দেখতে চাইলেন তিনি সেগুলোকে কি বলে ডাকেন। তিনি সেইসব জীবন্ত প্রাণীগুলোকে যেটির যে নামে ডাকলেন সেটির সেই নামই হল। তিনি প্রত্যেকটি পোষ মানা ও পোষ না মানা এবং আকাশের পাখির নাম দিলেন। কিন্তু সেগুলোর মধ্যে সেই পুরুষ মানুষটির অর্থাৎ আদমের কোন উপযুক্ত সঙ্গী দেখা গেল না। সেইজন্য সদাপ্রভু আদমের উপর একটা গভীর ঘুমের ভাব আনলেন। আর তাতে তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন। তখন তিনি তাঁর একটা পাঁজর তুলে নিয়ে সেই ফাঁকা জায়গাটা বন্ধ করে দিলেন। আদম থেকে তুলে নেওয়া সেই পাঁজরটা দিয়ে সদাপ্রভু একজন স্ত্রীলোক তৈরী করে তাকে আদমের কাছে নিয়ে গেলেন। তাকে দেখে আদম বললেন, এবার হয়েছে। এর হাড়-মাংস আমার হাড়-মাংস থেকেই তৈরী। পুরুষ লোকের দেহের মধ্য থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে বলে একে 'স্ত্রীলোক' বলা হয়। এজন্যেই মানুষ মা-বাবাকে ছেড়ে তার স্ত্রীর সঙ্গে এক হয়ে থাকবে আর তারা দু'জন একদেহ হবে” (আদি পুস্তক ২: ১৮-২৫)।
কুরআন, হাদীছ ও বাইবেলের উক্ত বর্ণনা হইতে আক্ষরিক অর্থেই হাওয়া যে আদম (আ)-এর পাঁজর হইতে সৃষ্ট এবং মানবজাতির পরম সম্মানিত আদিমাতা তাহার প্রমাণ পাওয়া যায়। বাইবেলের বর্ণনায় প্রতীয়মান হয় যে, মা হাওয়াই প্রথমে শয়তানের দ্বারা প্ররোচিত হইয়া নিষিদ্ধ গাছের ফল ভক্ষণ করেন এবং তিনিই আদম (আ)-কে নিষিদ্ধ ফল খাইতে প্রলুব্ধ করেন। পক্ষান্তরে আল-কুরআনের বর্ণনায় নিষিদ্ধ ফল খাওয়ার ব্যাপারে শয়তানের প্ররোচনাকেই দায়ী করা হইয়াছে এবং এই ব্যাপারে আদম ও হাওয়া (আ) দুইজনকে সমপর্যায়ে রাখিয়া এমনভাবে ঘটনাটি বিবৃত করা হইয়াছে, যাহাতে এই অপরাধের জন্য কেহ কাহারও উপর নির্ভরশীল বা কেহ কাহারও অগ্রণী বা কেহ কাহারও চাইতে বেশী অপরাধী ছিলেন এমনটি বুঝা যায় না। যেমন আল্লাহ পাক বলিয়াছেন :
فَأَزَلَّهُمَا الشَّيْطَنُ عَنْهَا فَأَخْرَجَهُمَا مِمَّا كَانَا فِيهِ
"কিন্তু শয়তান উহা হইতে তাহাদের পদস্খলন ঘটাইল এবং তাহারা যেখানে ছিল সেখান হইতে তাহাদেরকে বহিষ্কৃত করিল" (২ঃ ৩৬)।
فَوَسْوَسَ لَهُمَا الشَّيْطَانُ .
"শয়তান তাহাদের উভয়কে কুমন্ত্রণা দিল" (৭-২০)।
বরং শয়তানের কুমন্ত্রণা ছিল শিকাররূপে। অন্যত্র আদম (আ)-এর প্রতিই ইঙ্গিত করা হইয়াছেঃ
فَوَسْوَسَ إِلَيْهِ الشَّيْطَانُ
"অতঃপর শয়তান তাহাকে কুমন্ত্রণা দিল" (২০: ১২০)।
বরং আরও সুস্পষ্টভাবে আদম (আ)-এর প্রতিই বিস্মৃতি, দৃঢ়তার অভাব এবং বিচ্যুতি আরোপ করা হইয়াছে। যেমন:
وَلَقَدْ عَهِدْنَا إِلَى آدَمَ مِنْ قَبْلُ فَنَسِيَ وَلَمْ نَجِدْ لَهُ عَزْمًا .
"আমি তো ইতোপূর্বে আদমের প্রতি নির্দেশ দান করিয়াছিলাম, কিন্তু সে ভুলিয়া গিয়াছিল! আমি তাহাকে সংকল্পে দৃঢ় পাই নাই" (২০: ১১৫)।
وَعَطَى آدَمُ رَبُّهُ فَغَوى .
"আদম তাহার প্রতিপালকের হুকুম অমান্য করিল, ফলে সে ভ্রমে পতিত হইল" (২০: ১২১)।
এমতাবস্থায় নিষিদ্ধ গাছের ফল খাইয়া জান্নাত হারোনোর জন্য কেবল মা হাওয়াকে দায়ী করা বাস্তবসম্মত নহে।
আদম (আ)-এর বর্ণনা প্রসঙ্গে ময়ূর, সাপ প্রভৃতি বাইবেলীয় কাহিনী বহুল প্রচলিত। বলা হইয়া থাকে যে, সাপের মুখ গহবরে প্রবেশ করিয়া শয়তান বেহেশতে প্রবেশ করিয়া মা হাওয়াকে নিষিদ্ধ ফল খাওয়ার জন্য প্ররোচিত করিয়াছিল। ওস্তয়াসা বা প্ররোচনা দেওয়ার জন্য শয়তানের বেহেশতে প্রবেশের আদৌ কোন প্রয়োজন ছিল না। কেননা তাহার কিয়ামত পর্যন্ত দীর্ঘায়ু এবং প্ররোচনা দানের শক্তি তাহার প্রার্থনা অনুযায়ী স্বয়ং আল্লাহ তা'আলা তাহার জন্য মঞ্জুর করিয়াছিলেন, যাহা কুরআন শরীফের উদ্ধৃতিসহ পূর্বেই উক্ত হইয়াছে। সুতরাং সে বেহেশতের বাহির হইতেও প্ররোচিত করিতে সক্ষম ছিল। উপরন্ত সাপের মুখে প্রবিষ্ট শয়তানকে দেখিতে মানব চক্ষু ব্যর্থ হইলেও আল্লাহ্র পক্ষ হইতে বেহেশতের জন্য নিযুক্ত ফেরেশতা প্রহরীগণের দৃষ্টি এভাবে এড়াইয়া যাওয়া সম্ভবপর ছিল না। মানবীয় দৃষ্টি সীমাবদ্ধতা ও অক্ষমতার দিকে লক্ষ্য রাখিয়াই যে এরূপ কল্প-কাহিনী গ্রীক ও ভারতীয় উপকথার মত করিয়া রচিত তাহা সহজেই বোধগম্য। তাই আল্লামা হিফযুর রহমান সিউহারভী (র) যথার্থই লিখিয়াছেন:
"তাওরাত ও ইঞ্জীলে সাপ-ময়ূরের কাহিনী বা এই জাতীয় অন্য যে সব উপাখ্যান বর্ণনা করা হয়েছে তার উল্লেখ পবিত্র কুরআন বা হাদীছের কোথাও নেই। এই সব ইসরাঈলী কাহিনী সম্পূর্ণ বানোয়াট ও মনগড়া। এগুলোর ভিত্তি না ইলমে সহীহ-এর উপর প্রতিষ্ঠিত আর না এগুলো বিবেক-বুদ্ধি ও ইতিহাস দ্বারা সমর্থিত। কোন কোন মুফাসসির অবাধে এ সব কাহিনী বর্ণনা করে থাকেন, যার মারাত্মক কুফল এই যে, শুধু সাধারণ মানুষই না, বরং বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও এ ধারণা পোষণ করে বসে থাকেন যে, অন্যান্য ইসলামী রিওয়ায়াতের মত এগুলোরও বুঝি কোন সঠিক ভিত্তি রয়েছে” (কাসাসুল কুরআন, বাংলা অনু., ১খ, পৃ. ৪৫, ইফা প্রকাশিত ১ম সংস্করণ, ১৯৯০ ইং)।

কুরআন মজীদে বলা হইয়াছে :
يَا بُهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً.
"হে মানব! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি হইতে সৃষ্টি করিয়াছেন এবং যিনি তাহা হইতে তাহার স্ত্রীকে সৃষ্টি করেন, যিনি তাহাদের দুইজন হইতে বহু নর-নারী ছড়াইয়া দেন" (৪:১)।
উক্ত আয়াত হইতে আমরা জানিতে পারিলামঃ (১) একটিমাত্র মানুষ অর্থাৎ হযরত আদম (আ) হইতে গোটা মানবজাতির সৃষ্টি; (২) হাওয়া (আ) তাঁহারই দেহপিঞ্জর হইতে নির্গত; (৩) হাওয়া বিশ্বের গোটা মানবজাতির মহীয়সী জননী। মহানবী (স) বলেন, "স্ত্রীলোকদের সহিত উত্তম আচরণ করিবে, কেননা নারীকে পাঁজর হইতে সৃষ্টি করা হইয়াছে” (বুখারী ও মুসলিম)।
ইবন ইসহাকের মতে ইহার অর্থ হইল, হাওয়াকে আদমের বাম পাঁজর হইতে সৃষ্টি করা হইয়াছে। কুরতুবী ইহার অর্থ করিয়াছেন, 'স্ত্রীলোককে মূলত পাঁজরের সাথে তুলনা করা হইয়াছে এবং বলা হইয়াছে, স্ত্রীলোকের সৃষ্টির সূচনা পাঁজর থেকেই হইয়াছে এবং ইহাদের অবস্থা পাঁজরের। মত যদি ইহাদের বক্রতাকে সোজা করিতে চাও তবে তাহা ভাঙ্গিয়া যাইবে। অতএব পাঁজরের বক্রতা সত্ত্বেও যেমন তাহা থেকে কাজ নেওয়া হয় এবং ত্রুটি (বক্রতা) দূর করার চেষ্টা করা হয় না, তেমনি স্ত্রীলোকদের সাথেও নম্র ও সহানুভূতিশীল আচরণ করিতে হইবে। যদি তাহাদের সাথে রূঢ় আচরণ করা হয় তবে তাহাদের সাথে সম্বন্ধ মধুর হওয়ার চাইতে বরং আরো তিক্ত হইবে (ফতুহুল বারী, ৬খ, পৃ. ২৮৩-এর বরাতে হিফযুর রহমান, কাসাসুল কুরআন, বাংলা অনু, ১খ, পৃ. ৩৩; ইফা প্রকাশিত, ১ম সং, ১৯৯০ খৃ.)। কুরতুবীর এই বর্ণনায় পাঁজর হইতে স্ত্রীলোক সৃষ্টিকে আক্ষরিক অর্থে গ্রহণ না করিয়া যে রূপক অর্থ গ্রহণ করা হইয়াছে তাহা সুস্পষ্ট।
বাইবেলের বর্ণনায় রহিয়াছে : “পরে সদাপ্রভু বললেন, 'মানুষটির পক্ষে একা থাকা ভাল নয়। আমি তার জন্যে একজন উপযুক্ত সঙ্গী তৈরী করব। সদাপ্রভু মাটি থেকে যেসব ডাঙ্গার জীবজন্তু ও আকাশের পাখি তৈরী করেছিলেন সেগুলো সেই মানুষটির কাছে আসলো। সদাপ্রভু দেখতে চাইলেন তিনি সেগুলোকে কি বলে ডাকেন। তিনি সেইসব জীবন্ত প্রাণীগুলোকে যেটির যে নামে ডাকলেন সেটির সেই নামই হল। তিনি প্রত্যেকটি পোষ মানা ও পোষ না মানা এবং আকাশের পাখির নাম দিলেন। কিন্তু সেগুলোর মধ্যে সেই পুরুষ মানুষটির অর্থাৎ আদমের কোন উপযুক্ত সঙ্গী দেখা গেল না। সেইজন্য সদাপ্রভু আদমের উপর একটা গভীর ঘুমের ভাব আনলেন। আর তাতে তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন। তখন তিনি তাঁর একটা পাঁজর তুলে নিয়ে সেই ফাঁকা জায়গাটা বন্ধ করে দিলেন। আদম থেকে তুলে নেওয়া সেই পাঁজরটা দিয়ে সদাপ্রভু একজন স্ত্রীলোক তৈরী করে তাকে আদমের কাছে নিয়ে গেলেন। তাকে দেখে আদম বললেন, এবার হয়েছে। এর হাড়-মাংস আমার হাড়-মাংস থেকেই তৈরী। পুরুষ লোকের দেহের মধ্য থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে বলে একে 'স্ত্রীলোক' বলা হয়। এজন্যেই মানুষ মা-বাবাকে ছেড়ে তার স্ত্রীর সঙ্গে এক হয়ে থাকবে আর তারা দু'জন একদেহ হবে” (আদি পুস্তক ২: ১৮-২৫)।
কুরআন, হাদীছ ও বাইবেলের উক্ত বর্ণনা হইতে আক্ষরিক অর্থেই হাওয়া যে আদম (আ)-এর পাঁজর হইতে সৃষ্ট এবং মানবজাতির পরম সম্মানিত আদিমাতা তাহার প্রমাণ পাওয়া যায়। বাইবেলের বর্ণনায় প্রতীয়মান হয় যে, মা হাওয়াই প্রথমে শয়তানের দ্বারা প্ররোচিত হইয়া নিষিদ্ধ গাছের ফল ভক্ষণ করেন এবং তিনিই আদম (আ)-কে নিষিদ্ধ ফল খাইতে প্রলুব্ধ করেন। পক্ষান্তরে আল-কুরআনের বর্ণনায় নিষিদ্ধ ফল খাওয়ার ব্যাপারে শয়তানের প্ররোচনাকেই দায়ী করা হইয়াছে এবং এই ব্যাপারে আদম ও হাওয়া (আ) দুইজনকে সমপর্যায়ে রাখিয়া এমনভাবে ঘটনাটি বিবৃত করা হইয়াছে, যাহাতে এই অপরাধের জন্য কেহ কাহারও উপর নির্ভরশীল বা কেহ কাহারও অগ্রণী বা কেহ কাহারও চাইতে বেশী অপরাধী ছিলেন এমনটি বুঝা যায় না। যেমন আল্লাহ পাক বলিয়াছেন :
فَأَزَلَّهُمَا الشَّيْطَنُ عَنْهَا فَأَخْرَجَهُمَا مِمَّا كَانَا فِيهِ
"কিন্তু শয়তান উহা হইতে তাহাদের পদস্খলন ঘটাইল এবং তাহারা যেখানে ছিল সেখান হইতে তাহাদেরকে বহিষ্কৃত করিল" (২ঃ ৩৬)।
فَوَسْوَسَ لَهُمَا الشَّيْطَانُ .
"শয়তান তাহাদের উভয়কে কুমন্ত্রণা দিল" (৭-২০)।
বরং শয়তানের কুমন্ত্রণা ছিল শিকাররূপে। অন্যত্র আদম (আ)-এর প্রতিই ইঙ্গিত করা হইয়াছেঃ
فَوَسْوَسَ إِلَيْهِ الشَّيْطَانُ
"অতঃপর শয়তান তাহাকে কুমন্ত্রণা দিল" (২০: ১২০)।
বরং আরও সুস্পষ্টভাবে আদম (আ)-এর প্রতিই বিস্মৃতি, দৃঢ়তার অভাব এবং বিচ্যুতি আরোপ করা হইয়াছে। যেমন:
وَلَقَدْ عَهِدْنَا إِلَى آدَمَ مِنْ قَبْلُ فَنَسِيَ وَلَمْ نَجِدْ لَهُ عَزْمًا .
"আমি তো ইতোপূর্বে আদমের প্রতি নির্দেশ দান করিয়াছিলাম, কিন্তু সে ভুলিয়া গিয়াছিল! আমি তাহাকে সংকল্পে দৃঢ় পাই নাই" (২০: ১১৫)।
وَعَطَى آدَمُ رَبُّهُ فَغَوى .
"আদম তাহার প্রতিপালকের হুকুম অমান্য করিল, ফলে সে ভ্রমে পতিত হইল" (২০: ১২১)।
এমতাবস্থায় নিষিদ্ধ গাছের ফল খাইয়া জান্নাত হারোনোর জন্য কেবল মা হাওয়াকে দায়ী করা বাস্তবসম্মত নহে।
আদম (আ)-এর বর্ণনা প্রসঙ্গে ময়ূর, সাপ প্রভৃতি বাইবেলীয় কাহিনী বহুল প্রচলিত। বলা হইয়া থাকে যে, সাপের মুখ গহবরে প্রবেশ করিয়া শয়তান বেহেশতে প্রবেশ করিয়া মা হাওয়াকে নিষিদ্ধ ফল খাওয়ার জন্য প্ররোচিত করিয়াছিল। ওস্তয়াসা বা প্ররোচনা দেওয়ার জন্য শয়তানের বেহেশতে প্রবেশের আদৌ কোন প্রয়োজন ছিল না। কেননা তাহার কিয়ামত পর্যন্ত দীর্ঘায়ু এবং প্ররোচনা দানের শক্তি তাহার প্রার্থনা অনুযায়ী স্বয়ং আল্লাহ তা'আলা তাহার জন্য মঞ্জুর করিয়াছিলেন, যাহা কুরআন শরীফের উদ্ধৃতিসহ পূর্বেই উক্ত হইয়াছে। সুতরাং সে বেহেশতের বাহির হইতেও প্ররোচিত করিতে সক্ষম ছিল। উপরন্ত সাপের মুখে প্রবিষ্ট শয়তানকে দেখিতে মানব চক্ষু ব্যর্থ হইলেও আল্লাহ্র পক্ষ হইতে বেহেশতের জন্য নিযুক্ত ফেরেশতা প্রহরীগণের দৃষ্টি এভাবে এড়াইয়া যাওয়া সম্ভবপর ছিল না। মানবীয় দৃষ্টি সীমাবদ্ধতা ও অক্ষমতার দিকে লক্ষ্য রাখিয়াই যে এরূপ কল্প-কাহিনী গ্রীক ও ভারতীয় উপকথার মত করিয়া রচিত তাহা সহজেই বোধগম্য। তাই আল্লামা হিফযুর রহমান সিউহারভী (র) যথার্থই লিখিয়াছেন:
"তাওরাত ও ইঞ্জীলে সাপ-ময়ূরের কাহিনী বা এই জাতীয় অন্য যে সব উপাখ্যান বর্ণনা করা হয়েছে তার উল্লেখ পবিত্র কুরআন বা হাদীছের কোথাও নেই। এই সব ইসরাঈলী কাহিনী সম্পূর্ণ বানোয়াট ও মনগড়া। এগুলোর ভিত্তি না ইলমে সহীহ-এর উপর প্রতিষ্ঠিত আর না এগুলো বিবেক-বুদ্ধি ও ইতিহাস দ্বারা সমর্থিত। কোন কোন মুফাসসির অবাধে এ সব কাহিনী বর্ণনা করে থাকেন, যার মারাত্মক কুফল এই যে, শুধু সাধারণ মানুষই না, বরং বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও এ ধারণা পোষণ করে বসে থাকেন যে, অন্যান্য ইসলামী রিওয়ায়াতের মত এগুলোরও বুঝি কোন সঠিক ভিত্তি রয়েছে” (কাসাসুল কুরআন, বাংলা অনু., ১খ, পৃ. ৪৫, ইফা প্রকাশিত ১ম সংস্করণ, ১৯৯০ ইং)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00