📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ইবলীসের দম্ভ ও তাহার পরিণতি

📄 ইবলীসের দম্ভ ও তাহার পরিণতি


আল্লাহ্ তা'আলা যাহির-বাতিন অন্তর-বাহির সবকিছু অবগত থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববাসীর জ্ঞাতার্থে ইবলীসকে তাঁহার নির্দেশ পালন না করার কারণ জিজ্ঞাসা করেন এবং তাহার ঔদ্ধত্যপূর্ণ কূটতর্ক ও ইহার পরিণতিতে করুণ পরিণতির কথাও আসমানী কিতাবসমূহে বর্ণনা করেন। আল-কুরআনের ভাষায়:
قَالَ مَا مَنَعَكَ أَلَّا تَسْجُدَ إِذْ أَمَرْتُكَ قَالَ أَنَا خَيْرٌ مِّنْهُ خَلَقْتَنِي مِنْ نَارٍ وَخَلَقْتَهُ مِنْ طِيْنِ. قَالَ فَاهْبِطَ مِنْهَا فَمَا يَكُونُ لَكَ أَنْ تَتَكَبَّرَ فِيهَا فَاخْرُجْ إِنَّكَ مِنَ الصَّغِرِينَ .
"তিনি বলিলেন, আমি যখন তোমাকে আদেশ দিলাম তখন কী তোমাকে নিবৃত্ত করিল যে, তুমি সিজদা করিলে না? সে বলিল, আমি তাহার তুলনায় শ্রেষ্ঠ, আল্লাহ্ আমাকে অগ্নি দ্বারা সৃষ্টি করিয়াছেন এবং তাহাকে কর্দম দ্বারা সৃষ্টি করিয়াছেন। তিনি বলিলেন, এই স্থান হইতে নামিয়া যাও, এখানে থাকিয়া অহঙ্কার করিবে ইহা হইতে পারে না। সুতরাং বাহির হইয়া যাও, তুমি অধমদের অন্তর্ভুক্ত” (৭: ১২-১৩)।
فَسَجَدَ الْمَلَئِكَةُ كُلُّهُمْ أَجْمَعُوْنَ ، إِلا ابْلَيْسَ أَبَى أَنْ يَكُونَ مَعَ السَّجِدِينَ . قَالَ يَابْلَيْسُ مَا لَكَ الا تَكُونَ مَعَ السَّجِدِينَ . قَالَ لَمْ أَكُنْ لَاسْجُدَ لِبَشَرٍ خَلَقْتَهُ مِنْ صَلْصَالٍ مِّنْ حَمَا مُسْنُونٍ، قَالَ فَاخْرُجْ مِنْهَا فَإِنَّكَ رجيم.
"তখন ফেরেশতাগণ সকলে একত্রে সিজদা করিল, ইবলীস ব্যতীত। সে সিজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হইতে অস্বীকার করিল। আল্লাহ্ বলিলেন, 'হে ইবলীস! তোমার কি হইল যে, তুমি সিজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হইলে না?' সে বলিল, আপনি গন্ধযুক্ত কর্দমের শুষ্ক ঠন্ঠনে মৃত্তিকা হইতে যে মানুষ সৃষ্টি করিয়াছেন, আমি তাহাকে সিজদা করিবার নহি। তিনি বলিলেন, তবে তুমি এখান হইতে বাহির হইয়া যাও; কারণ তুমি তো অভিশপ্ত এবং কর্মফল দিবস পর্যন্ত অবশ্যই তোমার প্রতি রহিল লা'নত" (১৫: ৩০-৩৪)।
এইভাবে মহান আল্লাহ্ তা'আলার একটি আদেশ অমান্য করায় আসমানে-যমীনে আযাযীলের দীর্ঘকালের ইবাদত-বন্দেগী ব্যর্থতায় পর্যবসিত হইল।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 শয়তানের অবকাশ প্রার্থনা ও দম্ভোক্তি

📄 শয়তানের অবকাশ প্রার্থনা ও দম্ভোক্তি


قَالَ انْظُرْنِي إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ . قَالَ إِنَّكَ مِنَ الْمُنْظَرِينَ . قَالَ فَبِمَا أَغْوَيْتَنِي لَأَقْعُدَنَّ لَهُمْ صِرَاطَكَ المُستَقِيمَ . ثُمَّ لَأْتِيَنَّهُمْ مِنْ بَيْنِ أَيْدِيهِمْ وَمِنْ خَلْفِهِمْ وَعَن أَيْمَانِهِمْ وَعَنْ شَمَائِلِهِمْ وَلَا تَجِدُ أَكْثَرَهُم شُكِرِينَ . قَالَ اخْرُجْ مِنْهَا مَدْمُومًا مُدْحُورًا لَمَنْ تَبِعَكَ مِنهُمُ لَأَمْلَتَنْ جَهَنَّمَ مِنْكُمْ أَجْمَعِينَ .
“সে (ইবলীস) বলিল, পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত আমাকে অবকাশ দিন। তিনি বলিলেন, যাহাদিগকে অবকাশ দেওয়া হইয়াছে তুমি অবশ্যই তাহাদের অন্তর্ভুক্ত হইলে। সে বলিল, আপনি আমাকে শাস্তি দান করিলেন, এইজন্য আমিও আপনার সরল পথে মানুষের জন্য নিশ্চয়ই ওঁৎ পাতিয়া থাকিব। অতঃপর আমি তাহাদের নিকট আসিবই তাহাদের সম্মুখ, পশ্চাৎ, দক্ষিণ ও বাম দিক হইতে এবং আপনি তাহাদের অধিকাংশকেই কৃতজ্ঞ পাইবেন না। তিনি বলিলেন, এই স্থান হইতে ধিকৃত ও বিতাড়িত অবস্থায় বাহির হইয়া যাও। মানুষের মধ্যে যাহারা তোমার অনুসরণ করিবে নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সকলের দ্বারা জাহান্নাম পূর্ণ করিবই” (৭ : ১৪-১৮)।
কুরআন শরীফের অন্যত্র ঐ একই ঘটনার বিবরণ আসিয়াছে ভিন্নশব্দে :
قَالَ يَابْلِيسُ مَا مَنَعَكَ أَنْ تَسْجُدَ لِمَا خَلَقْتُ بِيَدِي اسْتَكْبَرْتَ أَمْ كُنْتَ مِنَ الْعَالِينَ . قَالَ أَنَا خَيْرٌ مِّنْهُ خَلَقْتَنِي مِنْ نَّارٍ وَخَلَقْتَهُ مِنْ طِينٍ . قَالَ فَاخْرُجْ مِنْهَا فَإِنَّكَ رَجِيمٌ ، وَإِنَّ عَلَيْكَ لَعْنَتِي إِلَى يَوْمِ الدِّينِ . قَالَ رَبِّ فَانْظُرْنِي إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ . قَالَ فَإِنَّكَ مِنَ الْمُنْظَرِينَ ، إِلى يَوْمِ الْوَقْتِ الْمَعْلُوْمِ ، قَالَ فَبِعِزَّتِكَ لأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ ، إِلَّا عِبَادَكَ مِنْهُمُ الْمُخْلَصِينَ . قَالَ فَالْحَقِّ وَالْحَقِّ أَقُولُ ، لَأَمْلَنَّ جَهَنَّمَ مِنْكَ وَمِمَّنْ تَبعَكَ مِنْهُمْ أَجْمَعِينَ.
“তিনি বলিলেন, হে ইবলীস! আমি যাহাকে নিজ হাতে সৃষ্টি করিলাম তাহার প্রতি সিজদাবনত হইতে তোমাকে কিসে বাধা দিল? তুমি কি ঔদ্ধত্য প্রকাশ করিলে, না তুমি উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন? সে বলিল, আমি উহা হইতে শ্রেষ্ঠ; আপনি আমাকে আগুন হইতে সৃষ্টি করিয়াছেন এবং উহাকে সৃষ্টি করিয়াছেন কর্দম হইতে। তিনি বলিলেন, তুমি এখান হইতে বাহির হইয়া যাও, নিশ্চয় তুমি বিতাড়িত এবং তোমার উপর লা'নত স্থায়ী হইবে, কর্মফল দিবস পর্যন্ত। সে বলিল, হে আমার প্রতিপালক! আপনি আমাকে অবকাশ দিন উত্থান দিবস পর্যন্ত। তিনি বলিলেন, 'তুমি অবকাশ-প্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হইলে অবধারিত সময় উপস্থিত হওয়ার দিন পর্যন্ত'। সে বলিল, 'আপনার ক্ষমতার শপথ! আমি উহাদের সকলকেই পথভ্রষ্ট করিব, তবে উহাদের মধ্যে আপনার একনিষ্ঠ বান্দাদেরকে নহে'। তিনি বলিলেন, 'তবে ইহাই সত্য, আর আমি সত্যই বলি, তোমার দ্বারা ও তোমার অনুসারীদের দ্বারা আমি জাহান্নাম পূর্ণ করিবই'।” (৩৮ : ৭৫-৮৫)।
কুরআন শরীফের অন্যত্র শয়তানের দম্ভোক্তিটি বিবৃত হইয়াছে এইভাবে :
قَالَ رَبِّ بِمَا أَغْوَيْتَنِي لَأَزَيَّنَنَّ لَهُمْ فِي الْأَرْضِ وَلَأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ.
“সে বলিল, হে আমার প্রতিপালক! আপনি যে আমাকে বিপথগামী করিলেন, তজ্জন্য আমি পৃথিবীতে মানুষের নিকট পাপকর্মটি অবশ্যই শোভন করিয়া তুলিব এবং আমি উহাদের সকলকেই বিপথগামী করিব, তবে উহাদের মধ্যে আপনার নির্বাচিত বান্দাগণ ব্যতীত” (১৫ : ৩৯-৪০)।
তাহারই বিভ্রান্তকরণের কৌশল কত ব্যাপক হইবে, তাহার বর্ণনা রহিয়াছে সূরা আ'রাফের ১৪ হইতে ১৮ নং আয়াতে।
আল্লাহ্ তা'আলা ও পূণ্যবান আদম সন্তানদের ব্যাপারে তাঁহার গভীর আস্থার কথা উল্লেখ করিয়া শয়তানের অনুসারীদের কঠোর পরিণতির কথা বর্ণনা করেন এই ভাবে:
إِنَّ عِبَادِي لَيْسَ لَكَ عَلَيْهِمْ سُلْطَنَ إِلَّا مَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْغَوِينَ . وَإِنْ جَهَنَّمَ لَمَوْعِدُهُمْ أَجْمَعِينَ . لَهَا سَبْعَةُ أَبْوَابِ لِكُلِّ بَابٍ مِنْهُمْ جُزْءٌ مُقْسُومٌ ، إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي جَنَّتِ وَعُيُونٍ.
"বিভ্রান্তদের মধ্যে যাহারা তোমার অনুসরণ করিবে, তাহারা ব্যতীত আমার বান্দাদের উপর তোমার কোনই ক্ষমতা থাকিবে না। অবশ্যই জাহান্নাম তাহাদের সকলেরই প্রতিশ্রুত স্থান, উহার সাতটি দরজা আছে, প্রত্যেক দরজার জন্য পৃথক পৃথক শ্রেণী আছে" (১৫:৪২-৪৫)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হাওয়া (আ)-এর সৃষ্টি ও বেহেশতে বসবাসের আদেশ

📄 হাওয়া (আ)-এর সৃষ্টি ও বেহেশতে বসবাসের আদেশ


আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
وَقُلْنَا يَأْدَمُ اسْكُنْ أَنْتَ وَزَوْجُكَ الْجَنَّةَ وَكُلا مِنْهَا رَغَدًا حَيْثُ شِئْتُمَا
"এবং আমি বলিলাম, 'হে আদম! তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস কর এবং যেথা ইচ্ছা স্বচ্ছন্দে আহার কর' ...." (২ঃ৩৫)।
এই আয়াতের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে আল্লামা ইব্‌ন কাছীর (র) বলেন, "আয়াতের বিন্যাস হইতে বুঝা যায়, হাওয়া (আ) আদম (আ)-এর জান্নাতে প্রবেশের পূর্বেই সৃষ্টি হইয়াছেন। কিন্তু কেহ কেহ বলেন, হাওয়ার সৃষ্টি হইয়াছে আদম (আ)-এর জান্নাতে প্রবেশের পর, যেমনটি সুদ্দী হযরত ইব্‌ন আব্বাস (রা) ও সাহাবীগণের অনেকের বরাতে বর্ণনা করেন। এই বর্ণনায় বলা হয়: ইবলীস জান্নাত হইতে বহিষ্কৃত হয় এবং আদম (আ)-কে জান্নাতে বসবাস করিতে দেওয়া হয়। তিনি তখন জান্নাতে একাকী ঘোরাফেরা করিতেন, তাঁহার সাথে বসবাসের জন্য তাঁহার স্ত্রী ছিলেন না। একবার তিনি ঘুম হইতে উঠিয়া দেখিলেন, তাঁহার শিয়রে একজন নারী উপস্থিত, যাহাকে আল্লাহ্ তা'আলা তাঁহার বাম পাজর হইতে সৃষ্টি করিয়াছিলেন। তিনি তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, তুমি কে? হাওয়া বলিলেন, আমি নারী। আদম বলিলেন, তুমি কেন সৃষ্টি হইয়াছ? হাওয়া বলিলেন, যাহাতে আপনি আমার সহিত বসবাস করেন এবং শান্তি লাভ করেন। ফেরেশতাগণ তখন আদমের বিদ্যার দৌড় কি পর্যন্ত পৌছিয়াছে দেখার উদ্দেশ্যে আদমকে প্রশ্ন করিলেন, এর নাম কি হে আদম? জবাবে আদম বলিলেন, হাওয়া। ফেরেশতাগণ বলিলেন, তাহার হাওয়া নামকরণের কারণ কি? আদম (আ) বলিলেন, সে حى বা জীবিত বস্তু হইতে নির্গত হইয়াছে বলিয়া তাহার নামকরণ করা হইয়াছে” (মুখতসর তাফসীরে ইব্‌ন কাছীর, ১খ, ৫৪, মুহাম্মদ আলী সাবৃনী সম্পা.)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 আদম-হাওয়া কোন্ জান্নাতে ছিলেন?

📄 আদম-হাওয়া কোন্ জান্নাতে ছিলেন?


এ সম্পর্কে আলিমগণের মধ্যে মতভেদ রহিয়াছে। জমহুর উলামার মতে, উহা সেই জান্নাতুল মাওয়া যাহার ওয়াদা মুত্তাকী বান্দাদের জন্য করা হইয়াছে। কুরআন ও হাদীছের আলোকে তাঁহারা এই মত পোষণ করেন। যেমন আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
وَقُلْنَا يَأْدَمُ اسْكُنْ أَنْتَ وَزَوْجُكَ الْجَنَّةَ
"আমি বলিলাম, হে আদম! তুমি ও তোমার সহধর্মিনী জান্নাতে বসবাস কর” (২: ৩৫)।
আবূ হুরায়রা (রা) হইতে বর্ণিত মুসলিম শরীফের হাদীছে আছেঃ "আল্লাহ্ তা'আলা সমস্ত লোককে একত্র করিবেন। যখন জান্নাতকে মুমিনদের জন্য সুসজ্জিত অবস্থায় প্রস্তুত করা হইবে তখন তাহারা আদম (আ)-এর নিকট গিয়া বলিবেন, পিত! আমাদের জন্য জান্নাতের দ্বার উম্মোচন করুন। তখন তিনি বলিবেন, তোমাদেরকে তোমাদের পিতার অপরাধ ভিন্ন অন্য কিছুই জান্নাত হইতে বহিষ্কৃত করে নাই।" ইব্‌ন কাছীর (র) 'আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া' গ্রন্থে হাদীছটি উদ্ধৃত করিয়া বলেন, ঐ জান্নাত যে জান্নাতুল মাওয়া ছিল এ ব্যাপারে এই উক্তিটিই শক্তিশালী প্রমাণ।
পক্ষান্তরে অন্য একদল আলিম তাঁহাদের একটি গাছ ছাড়া সকল গাছের ফলমূল খাওয়া, সেখানে তাঁহাদের নিদ্রা যাওয়া, সেখান হইতে তাঁহাদের বহিষ্করণ, সেখানে ইবলীসের প্রবেশ এবং ওয়াস-ওয়াসা প্রদান, আদমের অপরাধ ও তাঁহার প্রভূর আদেশ মান্যকরণ প্রভৃতি কারণে মনে করেন যে, উহা জান্নাতুল মাওয়া হইতে পারে না। নিশ্চয়ই উহা দুনিয়ায় অন্য কোন বাগান হইবে।
উবায়্য ইব্‌ন কাব, আবদুল্লাহ ইব্‌ন আব্বাস (রা), ওয়াহ্হ্ ইব্‌ন্ন মুনাব্বিহ, সুফিয়ান ইব্‌ন উয়ায়না, ইব্‌ন কুতায়বা প্রমুখ হইতে অনুরূপ বর্ণিত হইয়াছে। কাযী মুনযির ইন্ন সাঈদ বালুতী তদীয় তফসীরে এই অভিমতই গ্রহণ করিয়াছেন এবং এ সম্পর্কে তিনি স্বতন্ত্র একখানা পুস্তকও রচনা করিয়াছেন। ইমাম আবু হানীফা (র) ও তদীয় সঙ্গীগণও এরূপ মত পোষণ করিতেন বলিয়া তিনি উল্লেখ করিয়াছেন। আবূ আবদুল্লাহ্ মুহাম্মদ ইবন উমার আর-রাযী ইন্ন খাতীব আর-রাঈ তদীয় তাফসীর গ্রন্থে আবুল কাসিম বালখী ও আবূ মুসলিম ইস্পাহানী হইতে এবং কুরতুবী তদীয় তাফসীর গ্রন্থে মুতাযিলা ও কাদরিয়াদের অনুরূপ মত রহিয়াছে বলিয়া বর্ণনা করিয়াছেন। তাওরাতের বর্ণনাও অনুরূপ (পবিত্র বাইবেলে, পৃ. ৩)।
এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করা অপ্রাসঙ্গিক হইবে না যে, যাহারা বলেন, আদম ও হাওয়া (আ) দুনিয়ার কোন বাগানেই ছিলেন, তাহারা যুক্তি দেন যে, তাঁহারা যদি চিরস্থায়ী জান্নাতেই বসবাস করিতেন, তাহা হইলে-ঐ নিষিদ্ধ বৃক্ষের ফলভক্ষণে চিরস্থায়ী জান্নাতের তাঁহারা অধিকারী হইবেন-ইবলীসের এইরূপ বলার কী কারণ থাকিতে পারে।
আবার যাহারা বলেন, তাঁহারা স্থায়ী জান্নাতে বা জান্নাতুল মাওয়ায় বসবাস করিতেন, তাহারা বলেন, তাঁহারা যদি ঐ এই অস্থায়ী দুনিয়ার কোন অস্থায়ী বাগানেই বসবাস করিতেন, তাহা হইলে যেখানে স্থায়িত্ব বলিয়া কিছুই নাই সেখানে শাজারাতু'ল-খুল্দ বা স্থায়ী বৃক্ষের কথা আসে কোথা হইতে? আবার কোন কোন তাফসীরকার বলেন, উহা চিরস্থায়ী জান্নাত—জান্নাতুল মাওয়াও নহে, পৃথিবীর কোন বাগানও নহে, আল্লাহ্ তা'আলা ঊর্ধ্ব জগতে তাঁহাদের জন্য এক বিশেষ জান্নাত সৃষ্টি করিয়াছিলেন (আবদুল ওয়াহহাব নাজ্জার, কাসাসুল আম্বিয়া, পৃ. ৮-১০)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00