📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 মানুষের জ্ঞানগত শ্রেষ্ঠত্ব

📄 মানুষের জ্ঞানগত শ্রেষ্ঠত্ব


“এ পর্যায়ে আমরা যেন অন্তর্চক্ষু দিয়া দেখতে পাচ্ছি যে, যা ফেরেশতারা দেখেছিলেন, খিলাফতের দায়িত্ব অর্পণকালে যে গুপ্ত রত্নভাণ্ডার আল্লাহ্ মানুষকে দিয়েছিলেন তার কিছুটা আমরা উপলব্ধি করতে পারছি। সে জিনিসটা হচ্ছে নাম দ্বারা নির্দিষ্ট জিনিসকে চিহ্নিত করার ক্ষমতা। ব্যক্তি ও বস্তুর নামকরণের ক্ষমতা এবং সেই নামকে ঐ ব্যক্তি বা বস্তুর সংকেত চিহ্ন হিসাবে ব্যবহার করতে সক্ষম হওয়া। পৃথিবীতে মানুষের জীবন যাপনের ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে মূল্যবান ও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা, মানুষ এভাবে নামকে জিনিসের সঙ্কেত হিসাবে ব্যবহার করতে না পারলে কিরূপ জটিলতা দেখা দিত তা' কল্পনা করলেই এই ক্ষমতার মূল্য কত তা আমরা বুঝতে পারি। পারস্পরিক লেনদেন ও মনোভাব ব্যক্ত করার ক্ষেত্রে কী দুঃসহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো, তা' একটু চিন্তা করলেই পরিষ্কার হয়ে যায়। একটি জিনিস সম্পর্কে দু’জনে আলোচনা করতে চাইলে ঐ জিনিসটা হাযির করতে হতো। নচেৎ পুরো কথাটাই দুর্বোধ্য থেকে যেতো। মনে করুন একটা পাহাড় সম্পর্কে কথা বলতে হলে বক্তা ও শ্রোতাকে সশরীরে সোজাসুজি পাহাড়ের কাছে চলে যেতে হতো। কোন ব্যক্তি সম্বন্ধে কথা বলতে হলে সেই ব্যক্তিকে সশরীরে হাজির করে নিতে হতো। এভাবে এ সমস্যা এত কঠিন আকার ধারণ করতো যে, আল্লাহ্ মানুষকে নাম ব্যবহারের ক্ষমতা না দিলে তাদের গোটা জীবনটাই দুর্বিসহ হয়ে উঠতো” (ফী যিলালিল কুরআন, ১খ, পৃ. ১০৫-১০৬, বাংলা অনু., সূরা বাকারা ৩০-৩৩ আয়াতের ব্যাখ্যায়)। সুতরাং হযরত আদমের জ্ঞান কেবল বস্তুসমূহের নামের জ্ঞান ছিল না, ছিল ব্যাপক জ্ঞান-যাহা এই মহাবিশ্বে আল্লাহ্ প্রতিনিধিরূপে দায়িত্ব পালনের জন্য অপরিহার্য ছিল (দ্র. তফসীরে উসমানী, ১খ, ২৪-২৫)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ফেরেশতাগণের জ্ঞানগত সীমাবদ্ধতা উপলব্ধি ও উহার স্বীকারোক্তি

📄 ফেরেশতাগণের জ্ঞানগত সীমাবদ্ধতা উপলব্ধি ও উহার স্বীকারোক্তি


আদমকে দুনিয়াতে আল্লাহ্ তা'আলা খলীফারূপে কেন প্রেরণ করা হইবে এবং ফেরেশতাগণই বা কী করিয়া আদম সন্তানের দুর্বলতা উপলব্ধি করিলেন, তাহার একটি বর্ণনা দিয়াছেন মওলানা হিফযুর রহমান। তিনি বলেন, "এটা মনে করা ভুল যে, এ স্থলে ফেরেশতাদের জিজ্ঞাসা এ উদ্দেশ্যে ছিল যে, তাঁরা আল্লাহ্র সাথে বাদানুবাদ করতে বা তাঁর সিদ্ধান্তের মধ্যে ছিদ্রান্বেষণ করতে চেয়েছিলেন, বরং তাঁরা আদম সৃষ্টির তাৎপর্য এবং তাঁকে খলীফা বানানোর রহস্য কি তা জানতে চেয়েছিলেন। যা হোক, আল্লাহ্ তা'আলা তাদের এরূপ বাকভঙ্গির উপর তাদেরকে সাবধান করে দেন। অতঃপর তাদের সেই জিজ্ঞাসার, যার মধ্যে আদমকে হেয় প্রতিপন্ন করার আভাস ছিল, উত্তর এমনভাবে দেন যাতে ফেরেশতারা শুধু আদমের শ্রেষ্ঠত্বই স্বীকার করেনি, বরং নিজেদের দুর্বলতা ও পশ্চাৎপদতা নিজেরাই প্রত্যক্ষ করেছিল। যেহেতু মহা প্রজ্ঞাশীল আল্লাহ্র নৈকট্যে তাঁরা ছিলেন তাই তৎক্ষণাৎ বুঝে নিলেন যে, আল্লাহ্র প্রশ্নের উদ্দেশ্য তাদেরকে পরীক্ষা করা নয়, বরং এই মর্মে সতর্ক করে দেওয়া যে, আল্লাহ্ প্রতিনিধিত্বের যোগ্যতা আল্লাহ্ পবিত্রতা মাহাত্ম্য বর্ণনার আধিক্যের উপর নয়, ইল্ম-এর উপর নির্ভর করে। কেননা বিশ্ব পরিচালনা ইল্ম ব্যতীত সম্ভব নয়। অতএব যখন আল্লাহ্ তা'আলা আদমকে পরিপূর্ণ ইল্ম-এর অধিকারী করেছেন তখন নিঃসন্দেহে তিনিই দুনিয়ার প্রতিনিধিত্বের অধিক যোগ্য। আর প্রকৃত ব্যাপার এই যে, আল্লাহ্ তা'আলা ফেরেশতাদের উপর যে দায়িত্ব অর্পণ করেছেন তাতে তাঁরা দুনিয়ায় সমস্ত কামনা-বাসনা ও রিপুর তাড়না থেকে মুক্ত। তাই এ সমস্ত ব্যাপারে তাঁদের কোন ধারণাই নেই, আর আদমকে যেহেতু এ সমস্ত ব্যাপারে মুখোমুখি হতে হবে তাই এ সমস্ত বিষয়ে জ্ঞানলাভ করা তার জন্যে একটি স্বাভাবিক ঘটনা। মহাজ্ঞানী আল্লাহ্ তা'আলা প্রকৃতই তাঁকে ঐ সমস্ত জিনিসের জ্ঞান দান করেছিলেন এবং তার জন্য যা কিছু জানার প্রয়োজন ছিল সবকিছুই তাকে জানিয়ে দিয়েছিলেন।
"মোটকথা হযরত আদম (আ)-কে জ্ঞান নামক গুণ দ্বারা গুণান্বিত করায় ফেরেশতারা বাধ্য হয়েছিলেন তাঁর খিলাফতের যোগ্যতাকে স্বীকার করে নিতে। তাঁরা একথা মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন যে, যদি আমাদেরকে আল্লাহ্র খলীফা করা হতো তাহলে বিশ্বসৃষ্টির যাবতীয় রহস্য থেকে আমরা মূর্খই রয়ে যেতাম এবং আল্লাহ্ তা'আলা সৃষ্টির পরতে পরতে যে সমস্ত জ্ঞান সন্নিবেশিত করেছেন তা অনবহিত রয়ে যেতাম। এ জন্যে যে, না আমাদের পানাহারের প্রয়োজন আছে, সে জন্য জমির নীচে সংরক্ষিত রিযিক ও ধনভাণ্ডারের অন্বেষণ করব, না আমাদের ডুবে যাওয়ার আশংকা আছে যে, সে জন্য বিভিন্ন প্রকারের নৌযান উদ্ভাবন করব এবং না আমাদের রোগ-ব্যাধির আশঙ্কা আছে যে, সে জন্য বিভিন্ন প্রকারের ঔষধের বৈশিষ্ট্য ও রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া, প্রাকৃতিক জ্ঞান-বিজ্ঞান, মহাকাশ সম্পর্কিত জ্ঞান, চিকিৎসা বিদ্যা, বস্তুগত জ্ঞান প্রভৃতি অগণিত জ্ঞান-বিজ্ঞানের রহস্য উদ্ধারের চেষ্টা করব। এটা শুধু মহান সৃষ্টি মানবের জন্যেই সাজে যে, তারা পৃথিবীতে 'আল্লাহ্ প্রতিনিধি' হবে এবং ঐ সমস্ত জ্ঞান-বিজ্ঞান ও রহস্যাদি আয়ত্ত করে আল্লাহ্র প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করবে" (কাসাসুল কুরআন, ১খ, ইফা প্রকাশিত পৃ. ১৮-২১, সংক্ষেপিত ও ঈষৎ সম্পাদিত)।
কিন্তু যে ইবলীস আদম সৃষ্টির সূচনা হইতেই প্রতিহিংসার আগুনে জ্বলিয়া-পুড়িয়া মরিতেছিল, আদম অবয়বে পদাঘাত করিয়া যে তাহার বিদ্বেষ চরিতার্থ করিত, তাহার সম্মুখে ঐ মহা সত্যটি উদ্ঘাটিত হইল না। তাই ফেরেশতাগণ যেখানে আল্লাহ্র আদেশ পাওয়ামাত্র সিজদায় পড়িয়া গেলেন, ইবলীস তখন অন্য পথ ধরিল। তাহার জন্য অন্য পরিণতি অপেক্ষা করিতেছিল। আল-কুরআনের ভাষায়
وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلْئِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ أَبَى وَاسْتَكْبَرَ وَكَانَ مِنَ الْكَفِرِينَ.
"যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বলিলাম, আদমকে সিজদা কর, তখন ইবলীস ব্যতীত সকলেই সিজদা করিল, সে অমান্য করিল ও অহঙ্কার করিল। সুতরাং সে কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হইল" (২ঃ৩৪)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ইবলীসের দম্ভ ও তাহার পরিণতি

📄 ইবলীসের দম্ভ ও তাহার পরিণতি


আল্লাহ্ তা'আলা যাহির-বাতিন অন্তর-বাহির সবকিছু অবগত থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববাসীর জ্ঞাতার্থে ইবলীসকে তাঁহার নির্দেশ পালন না করার কারণ জিজ্ঞাসা করেন এবং তাহার ঔদ্ধত্যপূর্ণ কূটতর্ক ও ইহার পরিণতিতে করুণ পরিণতির কথাও আসমানী কিতাবসমূহে বর্ণনা করেন। আল-কুরআনের ভাষায়:
قَالَ مَا مَنَعَكَ أَلَّا تَسْجُدَ إِذْ أَمَرْتُكَ قَالَ أَنَا خَيْرٌ مِّنْهُ خَلَقْتَنِي مِنْ نَارٍ وَخَلَقْتَهُ مِنْ طِيْنِ. قَالَ فَاهْبِطَ مِنْهَا فَمَا يَكُونُ لَكَ أَنْ تَتَكَبَّرَ فِيهَا فَاخْرُجْ إِنَّكَ مِنَ الصَّغِرِينَ .
"তিনি বলিলেন, আমি যখন তোমাকে আদেশ দিলাম তখন কী তোমাকে নিবৃত্ত করিল যে, তুমি সিজদা করিলে না? সে বলিল, আমি তাহার তুলনায় শ্রেষ্ঠ, আল্লাহ্ আমাকে অগ্নি দ্বারা সৃষ্টি করিয়াছেন এবং তাহাকে কর্দম দ্বারা সৃষ্টি করিয়াছেন। তিনি বলিলেন, এই স্থান হইতে নামিয়া যাও, এখানে থাকিয়া অহঙ্কার করিবে ইহা হইতে পারে না। সুতরাং বাহির হইয়া যাও, তুমি অধমদের অন্তর্ভুক্ত” (৭: ১২-১৩)।
فَسَجَدَ الْمَلَئِكَةُ كُلُّهُمْ أَجْمَعُوْنَ ، إِلا ابْلَيْسَ أَبَى أَنْ يَكُونَ مَعَ السَّجِدِينَ . قَالَ يَابْلَيْسُ مَا لَكَ الا تَكُونَ مَعَ السَّجِدِينَ . قَالَ لَمْ أَكُنْ لَاسْجُدَ لِبَشَرٍ خَلَقْتَهُ مِنْ صَلْصَالٍ مِّنْ حَمَا مُسْنُونٍ، قَالَ فَاخْرُجْ مِنْهَا فَإِنَّكَ رجيم.
"তখন ফেরেশতাগণ সকলে একত্রে সিজদা করিল, ইবলীস ব্যতীত। সে সিজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হইতে অস্বীকার করিল। আল্লাহ্ বলিলেন, 'হে ইবলীস! তোমার কি হইল যে, তুমি সিজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হইলে না?' সে বলিল, আপনি গন্ধযুক্ত কর্দমের শুষ্ক ঠন্ঠনে মৃত্তিকা হইতে যে মানুষ সৃষ্টি করিয়াছেন, আমি তাহাকে সিজদা করিবার নহি। তিনি বলিলেন, তবে তুমি এখান হইতে বাহির হইয়া যাও; কারণ তুমি তো অভিশপ্ত এবং কর্মফল দিবস পর্যন্ত অবশ্যই তোমার প্রতি রহিল লা'নত" (১৫: ৩০-৩৪)।
এইভাবে মহান আল্লাহ্ তা'আলার একটি আদেশ অমান্য করায় আসমানে-যমীনে আযাযীলের দীর্ঘকালের ইবাদত-বন্দেগী ব্যর্থতায় পর্যবসিত হইল।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 শয়তানের অবকাশ প্রার্থনা ও দম্ভোক্তি

📄 শয়তানের অবকাশ প্রার্থনা ও দম্ভোক্তি


قَالَ انْظُرْنِي إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ . قَالَ إِنَّكَ مِنَ الْمُنْظَرِينَ . قَالَ فَبِمَا أَغْوَيْتَنِي لَأَقْعُدَنَّ لَهُمْ صِرَاطَكَ المُستَقِيمَ . ثُمَّ لَأْتِيَنَّهُمْ مِنْ بَيْنِ أَيْدِيهِمْ وَمِنْ خَلْفِهِمْ وَعَن أَيْمَانِهِمْ وَعَنْ شَمَائِلِهِمْ وَلَا تَجِدُ أَكْثَرَهُم شُكِرِينَ . قَالَ اخْرُجْ مِنْهَا مَدْمُومًا مُدْحُورًا لَمَنْ تَبِعَكَ مِنهُمُ لَأَمْلَتَنْ جَهَنَّمَ مِنْكُمْ أَجْمَعِينَ .
“সে (ইবলীস) বলিল, পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত আমাকে অবকাশ দিন। তিনি বলিলেন, যাহাদিগকে অবকাশ দেওয়া হইয়াছে তুমি অবশ্যই তাহাদের অন্তর্ভুক্ত হইলে। সে বলিল, আপনি আমাকে শাস্তি দান করিলেন, এইজন্য আমিও আপনার সরল পথে মানুষের জন্য নিশ্চয়ই ওঁৎ পাতিয়া থাকিব। অতঃপর আমি তাহাদের নিকট আসিবই তাহাদের সম্মুখ, পশ্চাৎ, দক্ষিণ ও বাম দিক হইতে এবং আপনি তাহাদের অধিকাংশকেই কৃতজ্ঞ পাইবেন না। তিনি বলিলেন, এই স্থান হইতে ধিকৃত ও বিতাড়িত অবস্থায় বাহির হইয়া যাও। মানুষের মধ্যে যাহারা তোমার অনুসরণ করিবে নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সকলের দ্বারা জাহান্নাম পূর্ণ করিবই” (৭ : ১৪-১৮)।
কুরআন শরীফের অন্যত্র ঐ একই ঘটনার বিবরণ আসিয়াছে ভিন্নশব্দে :
قَالَ يَابْلِيسُ مَا مَنَعَكَ أَنْ تَسْجُدَ لِمَا خَلَقْتُ بِيَدِي اسْتَكْبَرْتَ أَمْ كُنْتَ مِنَ الْعَالِينَ . قَالَ أَنَا خَيْرٌ مِّنْهُ خَلَقْتَنِي مِنْ نَّارٍ وَخَلَقْتَهُ مِنْ طِينٍ . قَالَ فَاخْرُجْ مِنْهَا فَإِنَّكَ رَجِيمٌ ، وَإِنَّ عَلَيْكَ لَعْنَتِي إِلَى يَوْمِ الدِّينِ . قَالَ رَبِّ فَانْظُرْنِي إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ . قَالَ فَإِنَّكَ مِنَ الْمُنْظَرِينَ ، إِلى يَوْمِ الْوَقْتِ الْمَعْلُوْمِ ، قَالَ فَبِعِزَّتِكَ لأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ ، إِلَّا عِبَادَكَ مِنْهُمُ الْمُخْلَصِينَ . قَالَ فَالْحَقِّ وَالْحَقِّ أَقُولُ ، لَأَمْلَنَّ جَهَنَّمَ مِنْكَ وَمِمَّنْ تَبعَكَ مِنْهُمْ أَجْمَعِينَ.
“তিনি বলিলেন, হে ইবলীস! আমি যাহাকে নিজ হাতে সৃষ্টি করিলাম তাহার প্রতি সিজদাবনত হইতে তোমাকে কিসে বাধা দিল? তুমি কি ঔদ্ধত্য প্রকাশ করিলে, না তুমি উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন? সে বলিল, আমি উহা হইতে শ্রেষ্ঠ; আপনি আমাকে আগুন হইতে সৃষ্টি করিয়াছেন এবং উহাকে সৃষ্টি করিয়াছেন কর্দম হইতে। তিনি বলিলেন, তুমি এখান হইতে বাহির হইয়া যাও, নিশ্চয় তুমি বিতাড়িত এবং তোমার উপর লা'নত স্থায়ী হইবে, কর্মফল দিবস পর্যন্ত। সে বলিল, হে আমার প্রতিপালক! আপনি আমাকে অবকাশ দিন উত্থান দিবস পর্যন্ত। তিনি বলিলেন, 'তুমি অবকাশ-প্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হইলে অবধারিত সময় উপস্থিত হওয়ার দিন পর্যন্ত'। সে বলিল, 'আপনার ক্ষমতার শপথ! আমি উহাদের সকলকেই পথভ্রষ্ট করিব, তবে উহাদের মধ্যে আপনার একনিষ্ঠ বান্দাদেরকে নহে'। তিনি বলিলেন, 'তবে ইহাই সত্য, আর আমি সত্যই বলি, তোমার দ্বারা ও তোমার অনুসারীদের দ্বারা আমি জাহান্নাম পূর্ণ করিবই'।” (৩৮ : ৭৫-৮৫)।
কুরআন শরীফের অন্যত্র শয়তানের দম্ভোক্তিটি বিবৃত হইয়াছে এইভাবে :
قَالَ رَبِّ بِمَا أَغْوَيْتَنِي لَأَزَيَّنَنَّ لَهُمْ فِي الْأَرْضِ وَلَأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ.
“সে বলিল, হে আমার প্রতিপালক! আপনি যে আমাকে বিপথগামী করিলেন, তজ্জন্য আমি পৃথিবীতে মানুষের নিকট পাপকর্মটি অবশ্যই শোভন করিয়া তুলিব এবং আমি উহাদের সকলকেই বিপথগামী করিব, তবে উহাদের মধ্যে আপনার নির্বাচিত বান্দাগণ ব্যতীত” (১৫ : ৩৯-৪০)।
তাহারই বিভ্রান্তকরণের কৌশল কত ব্যাপক হইবে, তাহার বর্ণনা রহিয়াছে সূরা আ'রাফের ১৪ হইতে ১৮ নং আয়াতে।
আল্লাহ্ তা'আলা ও পূণ্যবান আদম সন্তানদের ব্যাপারে তাঁহার গভীর আস্থার কথা উল্লেখ করিয়া শয়তানের অনুসারীদের কঠোর পরিণতির কথা বর্ণনা করেন এই ভাবে:
إِنَّ عِبَادِي لَيْسَ لَكَ عَلَيْهِمْ سُلْطَنَ إِلَّا مَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْغَوِينَ . وَإِنْ جَهَنَّمَ لَمَوْعِدُهُمْ أَجْمَعِينَ . لَهَا سَبْعَةُ أَبْوَابِ لِكُلِّ بَابٍ مِنْهُمْ جُزْءٌ مُقْسُومٌ ، إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي جَنَّتِ وَعُيُونٍ.
"বিভ্রান্তদের মধ্যে যাহারা তোমার অনুসরণ করিবে, তাহারা ব্যতীত আমার বান্দাদের উপর তোমার কোনই ক্ষমতা থাকিবে না। অবশ্যই জাহান্নাম তাহাদের সকলেরই প্রতিশ্রুত স্থান, উহার সাতটি দরজা আছে, প্রত্যেক দরজার জন্য পৃথক পৃথক শ্রেণী আছে" (১৫:৪২-৪৫)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00