📄 আদম (আ)-এর শ্রেষ্ঠত্ব
আল্লাহ তা'আলা নূরের তৈরী ফেরেশতা ও আগুনের তৈরী জিন্ন জাতির উপর কেন আদমকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করিলেন, কিভাবে শ্রেষ্ঠত্ব দান করিলেন, কেনই-বা মানবজাতির মধ্যে অশান্তি সৃষ্টিকারী রক্তপাতকারী থাকা সত্ত্বেও এই কাঁদামাটির সৃষ্টি মানুষকেই খলীফা (প্রতিনিধি) বানাইয়া দুনিয়ায় পাঠাইবার জন্য বাছিয়া লইলেন, তাহার কারণও বর্ণিত হইয়াছে আল-কুরআনে। আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ
وَعَلَّمَ أَدَمَ الْأَسْمَاءَ كُلَهَا ثُمَّ عَرَضَهُمْ عَلَى الْمَلْئِكَةِ فَقَالَ أَنْبِئُونِي بِأَسْمَاءِ هُؤُلَاءِ إِنْ كُنْتُمْ صَدِقِينَ.
"আর তিনি আদমকে যাবতীয় নাম শিক্ষা দিলেন, তৎপর সে সমুদয় ফেরেশতাদের সম্মুখে প্রকাশ করিলেন এবং বলিলেন, এই সমুদয়ের না আমাকে বলিয়া দাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও” (২ঃ ৩১)।
ফেরেশতাগণের জ্ঞানভাণ্ডারে সে জ্ঞান ছিল না। তাই তাহাদের পক্ষে তাহা বলা সম্ভবত হয় নাই। তাহারা লা জবাব হইয়া গেলেন। তাঁহাদের তখনকার অবস্থা এইভাবে বিবৃত হইয়াছে:
قَالُوا سُبْحْنَكَ لَا عِلْمَ لَنَا إِلَّا مَا عَلَّمْتَنَا إِنَّكَ أَنْتَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ.
"তাহারা বলিল, আপনি মহান, পবিত্র! আপনি আমাদেরকে যাহা শিক্ষা দিয়াছেন তাহা ছাড়া আমাদের তো কোন জ্ঞানই নাই। আপনিই জ্ঞানময় ও প্রজ্ঞাময়" (২ঃ ৩১)।
সুতরাং ফেরেশতাকুলের উপর আদম (আ)-এর সুস্পষ্ট প্রাধান্য সূচিত হইল। শুধু বস্তুসমূহের নামই আল্লাহ তা'আলা আদম (আ)-কে শিক্ষা দিয়াছিলেন এমন নহে। আল্লামা রাগিব আল-ইসফাহানীর ভাষায়: "নামকের পরিচয় চিত্র অন্তরে ও মস্তিষ্কে ধারণ ব্যতীত নামের পরিচয় অর্জন সম্ভব নহে” (আল-মুফদারাত ফী গারীবিল কুরআন, পৃঃ ২৪৪)।
মওলানা আশরফ আলী থানবী (র) উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, “পৃথিবীর যাবতীয় বস্তুর বাহ্যিক পরিচয় ও লক্ষণাদি এবং এইগুলির বৈশিষ্ট্যাবলী তাঁহাকে ব্যাপকভাবে শিক্ষা দিয়াছেন” (দ্র. তাফসীরে বয়ানুল কুরআন, সূরা বাকারার ৩১তম আয়াত)। অন্যান্য বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থেও অনুরূপ ব্যাখ্যা রহিয়াছে। আল্লামা কুরতুবী বলেন, "আরবী ভাষায় যাত, নাফস, 'আইন ও ইসম শব্দগুলি সমার্থক"। তাফসীরে কাশ্শাফে আছে, "আল্লাহ তা'আলা আদমকে ঐ সমস্ত নামের 'নামকসমূহের' জ্ঞান দান করিলেন।” বায়যাবী বলেন, "তিনি তাঁহাকে বস্তুসমূহের নাম, সত্তা, গুণাবলী, ধর্ম, সেই সাথে যাবতীয় জ্ঞানের সূত্র ও নীতিমালা এবং প্রযুক্তির নিয়মকানুন ও এই গুলির উপকরণাদির ব্যবহার পদ্ধতি শিক্ষা দিয়াছেন।" ইমাম রাযী (র) তাফসীরে কাবীরে লিখেন, "আল্লাহ তা'আলা তাঁহাকে প্রতিটি বস্তুর বিবরণ, সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্যর জ্ঞান দান করিলেন"।
আল্লামা মাযহারী তা'বীল হিসাবে তাঁহার নিজস্ব একটি মত প্রকাশ করিয়াছেন। উক্ত আয়াতে উল্লিখিত اسماء (নামসমূহ) শব্দের দ্বারা আল্লাহ্র সত্তা ও গুণবাচক নামসমূহ বুঝান হইয়াছে। এইগুলির সংক্ষিপ্ত ও সামগ্রিক ইল্ল্ম তিনি পাইয়া গিয়াছিলেন এবং প্রতিটি গুণের সহিত এমন পরিপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপিত হইয়া গিয়াছিল যে, যখন যে গুণের প্রতি তিনি নিবিষ্ট হইতেন, মুহূর্তেই তাহা তাঁহার সত্তায় পূর্ণরূপে উদ্ভাসিত হইত। উদাহরণস্বরূপ যখন তাহার উপর الاول (আল-আওয়ালু) গুণবাচক পবিত্র নামটির বিভাসন ঘটিল তখন প্রতিটি বস্তু তাঁহার মানসপটে উদ্ভাসিত হইয়া উঠিল।
অনুরূপভাবে الاخر (আল-আখিরু) নামটির বিভাসনের প্রসঙ্গও অনুরূপ (দ্র. তাফসীরে মাজেদী, সূরা বাকারার ৩১ নং আয়াতের ব্যাখ্যায়)।
📄 মানুষের জ্ঞানগত শ্রেষ্ঠত্ব
“এ পর্যায়ে আমরা যেন অন্তর্চক্ষু দিয়া দেখতে পাচ্ছি যে, যা ফেরেশতারা দেখেছিলেন, খিলাফতের দায়িত্ব অর্পণকালে যে গুপ্ত রত্নভাণ্ডার আল্লাহ্ মানুষকে দিয়েছিলেন তার কিছুটা আমরা উপলব্ধি করতে পারছি। সে জিনিসটা হচ্ছে নাম দ্বারা নির্দিষ্ট জিনিসকে চিহ্নিত করার ক্ষমতা। ব্যক্তি ও বস্তুর নামকরণের ক্ষমতা এবং সেই নামকে ঐ ব্যক্তি বা বস্তুর সংকেত চিহ্ন হিসাবে ব্যবহার করতে সক্ষম হওয়া। পৃথিবীতে মানুষের জীবন যাপনের ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে মূল্যবান ও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা, মানুষ এভাবে নামকে জিনিসের সঙ্কেত হিসাবে ব্যবহার করতে না পারলে কিরূপ জটিলতা দেখা দিত তা' কল্পনা করলেই এই ক্ষমতার মূল্য কত তা আমরা বুঝতে পারি। পারস্পরিক লেনদেন ও মনোভাব ব্যক্ত করার ক্ষেত্রে কী দুঃসহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো, তা' একটু চিন্তা করলেই পরিষ্কার হয়ে যায়। একটি জিনিস সম্পর্কে দু’জনে আলোচনা করতে চাইলে ঐ জিনিসটা হাযির করতে হতো। নচেৎ পুরো কথাটাই দুর্বোধ্য থেকে যেতো। মনে করুন একটা পাহাড় সম্পর্কে কথা বলতে হলে বক্তা ও শ্রোতাকে সশরীরে সোজাসুজি পাহাড়ের কাছে চলে যেতে হতো। কোন ব্যক্তি সম্বন্ধে কথা বলতে হলে সেই ব্যক্তিকে সশরীরে হাজির করে নিতে হতো। এভাবে এ সমস্যা এত কঠিন আকার ধারণ করতো যে, আল্লাহ্ মানুষকে নাম ব্যবহারের ক্ষমতা না দিলে তাদের গোটা জীবনটাই দুর্বিসহ হয়ে উঠতো” (ফী যিলালিল কুরআন, ১খ, পৃ. ১০৫-১০৬, বাংলা অনু., সূরা বাকারা ৩০-৩৩ আয়াতের ব্যাখ্যায়)। সুতরাং হযরত আদমের জ্ঞান কেবল বস্তুসমূহের নামের জ্ঞান ছিল না, ছিল ব্যাপক জ্ঞান-যাহা এই মহাবিশ্বে আল্লাহ্ প্রতিনিধিরূপে দায়িত্ব পালনের জন্য অপরিহার্য ছিল (দ্র. তফসীরে উসমানী, ১খ, ২৪-২৫)।
📄 ফেরেশতাগণের জ্ঞানগত সীমাবদ্ধতা উপলব্ধি ও উহার স্বীকারোক্তি
আদমকে দুনিয়াতে আল্লাহ্ তা'আলা খলীফারূপে কেন প্রেরণ করা হইবে এবং ফেরেশতাগণই বা কী করিয়া আদম সন্তানের দুর্বলতা উপলব্ধি করিলেন, তাহার একটি বর্ণনা দিয়াছেন মওলানা হিফযুর রহমান। তিনি বলেন, "এটা মনে করা ভুল যে, এ স্থলে ফেরেশতাদের জিজ্ঞাসা এ উদ্দেশ্যে ছিল যে, তাঁরা আল্লাহ্র সাথে বাদানুবাদ করতে বা তাঁর সিদ্ধান্তের মধ্যে ছিদ্রান্বেষণ করতে চেয়েছিলেন, বরং তাঁরা আদম সৃষ্টির তাৎপর্য এবং তাঁকে খলীফা বানানোর রহস্য কি তা জানতে চেয়েছিলেন। যা হোক, আল্লাহ্ তা'আলা তাদের এরূপ বাকভঙ্গির উপর তাদেরকে সাবধান করে দেন। অতঃপর তাদের সেই জিজ্ঞাসার, যার মধ্যে আদমকে হেয় প্রতিপন্ন করার আভাস ছিল, উত্তর এমনভাবে দেন যাতে ফেরেশতারা শুধু আদমের শ্রেষ্ঠত্বই স্বীকার করেনি, বরং নিজেদের দুর্বলতা ও পশ্চাৎপদতা নিজেরাই প্রত্যক্ষ করেছিল। যেহেতু মহা প্রজ্ঞাশীল আল্লাহ্র নৈকট্যে তাঁরা ছিলেন তাই তৎক্ষণাৎ বুঝে নিলেন যে, আল্লাহ্র প্রশ্নের উদ্দেশ্য তাদেরকে পরীক্ষা করা নয়, বরং এই মর্মে সতর্ক করে দেওয়া যে, আল্লাহ্ প্রতিনিধিত্বের যোগ্যতা আল্লাহ্ পবিত্রতা মাহাত্ম্য বর্ণনার আধিক্যের উপর নয়, ইল্ম-এর উপর নির্ভর করে। কেননা বিশ্ব পরিচালনা ইল্ম ব্যতীত সম্ভব নয়। অতএব যখন আল্লাহ্ তা'আলা আদমকে পরিপূর্ণ ইল্ম-এর অধিকারী করেছেন তখন নিঃসন্দেহে তিনিই দুনিয়ার প্রতিনিধিত্বের অধিক যোগ্য। আর প্রকৃত ব্যাপার এই যে, আল্লাহ্ তা'আলা ফেরেশতাদের উপর যে দায়িত্ব অর্পণ করেছেন তাতে তাঁরা দুনিয়ায় সমস্ত কামনা-বাসনা ও রিপুর তাড়না থেকে মুক্ত। তাই এ সমস্ত ব্যাপারে তাঁদের কোন ধারণাই নেই, আর আদমকে যেহেতু এ সমস্ত ব্যাপারে মুখোমুখি হতে হবে তাই এ সমস্ত বিষয়ে জ্ঞানলাভ করা তার জন্যে একটি স্বাভাবিক ঘটনা। মহাজ্ঞানী আল্লাহ্ তা'আলা প্রকৃতই তাঁকে ঐ সমস্ত জিনিসের জ্ঞান দান করেছিলেন এবং তার জন্য যা কিছু জানার প্রয়োজন ছিল সবকিছুই তাকে জানিয়ে দিয়েছিলেন।
"মোটকথা হযরত আদম (আ)-কে জ্ঞান নামক গুণ দ্বারা গুণান্বিত করায় ফেরেশতারা বাধ্য হয়েছিলেন তাঁর খিলাফতের যোগ্যতাকে স্বীকার করে নিতে। তাঁরা একথা মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন যে, যদি আমাদেরকে আল্লাহ্র খলীফা করা হতো তাহলে বিশ্বসৃষ্টির যাবতীয় রহস্য থেকে আমরা মূর্খই রয়ে যেতাম এবং আল্লাহ্ তা'আলা সৃষ্টির পরতে পরতে যে সমস্ত জ্ঞান সন্নিবেশিত করেছেন তা অনবহিত রয়ে যেতাম। এ জন্যে যে, না আমাদের পানাহারের প্রয়োজন আছে, সে জন্য জমির নীচে সংরক্ষিত রিযিক ও ধনভাণ্ডারের অন্বেষণ করব, না আমাদের ডুবে যাওয়ার আশংকা আছে যে, সে জন্য বিভিন্ন প্রকারের নৌযান উদ্ভাবন করব এবং না আমাদের রোগ-ব্যাধির আশঙ্কা আছে যে, সে জন্য বিভিন্ন প্রকারের ঔষধের বৈশিষ্ট্য ও রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া, প্রাকৃতিক জ্ঞান-বিজ্ঞান, মহাকাশ সম্পর্কিত জ্ঞান, চিকিৎসা বিদ্যা, বস্তুগত জ্ঞান প্রভৃতি অগণিত জ্ঞান-বিজ্ঞানের রহস্য উদ্ধারের চেষ্টা করব। এটা শুধু মহান সৃষ্টি মানবের জন্যেই সাজে যে, তারা পৃথিবীতে 'আল্লাহ্ প্রতিনিধি' হবে এবং ঐ সমস্ত জ্ঞান-বিজ্ঞান ও রহস্যাদি আয়ত্ত করে আল্লাহ্র প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করবে" (কাসাসুল কুরআন, ১খ, ইফা প্রকাশিত পৃ. ১৮-২১, সংক্ষেপিত ও ঈষৎ সম্পাদিত)।
কিন্তু যে ইবলীস আদম সৃষ্টির সূচনা হইতেই প্রতিহিংসার আগুনে জ্বলিয়া-পুড়িয়া মরিতেছিল, আদম অবয়বে পদাঘাত করিয়া যে তাহার বিদ্বেষ চরিতার্থ করিত, তাহার সম্মুখে ঐ মহা সত্যটি উদ্ঘাটিত হইল না। তাই ফেরেশতাগণ যেখানে আল্লাহ্র আদেশ পাওয়ামাত্র সিজদায় পড়িয়া গেলেন, ইবলীস তখন অন্য পথ ধরিল। তাহার জন্য অন্য পরিণতি অপেক্ষা করিতেছিল। আল-কুরআনের ভাষায়
وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلْئِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ أَبَى وَاسْتَكْبَرَ وَكَانَ مِنَ الْكَفِرِينَ.
"যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বলিলাম, আদমকে সিজদা কর, তখন ইবলীস ব্যতীত সকলেই সিজদা করিল, সে অমান্য করিল ও অহঙ্কার করিল। সুতরাং সে কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হইল" (২ঃ৩৪)।
📄 ইবলীসের দম্ভ ও তাহার পরিণতি
আল্লাহ্ তা'আলা যাহির-বাতিন অন্তর-বাহির সবকিছু অবগত থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববাসীর জ্ঞাতার্থে ইবলীসকে তাঁহার নির্দেশ পালন না করার কারণ জিজ্ঞাসা করেন এবং তাহার ঔদ্ধত্যপূর্ণ কূটতর্ক ও ইহার পরিণতিতে করুণ পরিণতির কথাও আসমানী কিতাবসমূহে বর্ণনা করেন। আল-কুরআনের ভাষায়:
قَالَ مَا مَنَعَكَ أَلَّا تَسْجُدَ إِذْ أَمَرْتُكَ قَالَ أَنَا خَيْرٌ مِّنْهُ خَلَقْتَنِي مِنْ نَارٍ وَخَلَقْتَهُ مِنْ طِيْنِ. قَالَ فَاهْبِطَ مِنْهَا فَمَا يَكُونُ لَكَ أَنْ تَتَكَبَّرَ فِيهَا فَاخْرُجْ إِنَّكَ مِنَ الصَّغِرِينَ .
"তিনি বলিলেন, আমি যখন তোমাকে আদেশ দিলাম তখন কী তোমাকে নিবৃত্ত করিল যে, তুমি সিজদা করিলে না? সে বলিল, আমি তাহার তুলনায় শ্রেষ্ঠ, আল্লাহ্ আমাকে অগ্নি দ্বারা সৃষ্টি করিয়াছেন এবং তাহাকে কর্দম দ্বারা সৃষ্টি করিয়াছেন। তিনি বলিলেন, এই স্থান হইতে নামিয়া যাও, এখানে থাকিয়া অহঙ্কার করিবে ইহা হইতে পারে না। সুতরাং বাহির হইয়া যাও, তুমি অধমদের অন্তর্ভুক্ত” (৭: ১২-১৩)।
فَسَجَدَ الْمَلَئِكَةُ كُلُّهُمْ أَجْمَعُوْنَ ، إِلا ابْلَيْسَ أَبَى أَنْ يَكُونَ مَعَ السَّجِدِينَ . قَالَ يَابْلَيْسُ مَا لَكَ الا تَكُونَ مَعَ السَّجِدِينَ . قَالَ لَمْ أَكُنْ لَاسْجُدَ لِبَشَرٍ خَلَقْتَهُ مِنْ صَلْصَالٍ مِّنْ حَمَا مُسْنُونٍ، قَالَ فَاخْرُجْ مِنْهَا فَإِنَّكَ رجيم.
"তখন ফেরেশতাগণ সকলে একত্রে সিজদা করিল, ইবলীস ব্যতীত। সে সিজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হইতে অস্বীকার করিল। আল্লাহ্ বলিলেন, 'হে ইবলীস! তোমার কি হইল যে, তুমি সিজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হইলে না?' সে বলিল, আপনি গন্ধযুক্ত কর্দমের শুষ্ক ঠন্ঠনে মৃত্তিকা হইতে যে মানুষ সৃষ্টি করিয়াছেন, আমি তাহাকে সিজদা করিবার নহি। তিনি বলিলেন, তবে তুমি এখান হইতে বাহির হইয়া যাও; কারণ তুমি তো অভিশপ্ত এবং কর্মফল দিবস পর্যন্ত অবশ্যই তোমার প্রতি রহিল লা'নত" (১৫: ৩০-৩৪)।
এইভাবে মহান আল্লাহ্ তা'আলার একটি আদেশ অমান্য করায় আসমানে-যমীনে আযাযীলের দীর্ঘকালের ইবাদত-বন্দেগী ব্যর্থতায় পর্যবসিত হইল।