📄 যুগ সম্পর্কে সচেতন হোন
উপদেশ: ৭
যুগ সম্পর্কে সচেতন হন
কতিপয় দ্বীনদার যুবক দ্বীনী ইলম অর্জন করার পর সমুদ্রের মাঝে কোনো নির্জন দ্বীপে বসবাস শুরু করে। তারা মনে করলো, জাতির ভাগ্য পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। যুগ পরিবর্তনের এই সংগ্রামকে তাদের অসম্ভব মনে করার কারণ হচ্ছে, তারা যুগ সম্পর্কে সচেতন ছিল না। বিশ্ব-প্রেক্ষাপট সম্পর্কে তাদের জ্ঞান ছিল যৎসামান্য। তাই বাস্তবমুখী জ্ঞানার্জন করুন।
বাস্তবমুখী জ্ঞান বলতে আমি মাদরাসা বা ভার্সিটির পরিবেশ-বিদ্যার কথা বলছি না। সেই রাষ্ট্র বা দেশের কথাও বলছি না, যে রাষ্ট্র বা দেশে আপনি বসবাস করছেন, বরং আমার উদ্দেশ্য হচ্ছে, গোটা মুসলিমবিশ্ব; তৎসঙ্গে পুরো বিশ্ব সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করা।
পৃথিবীর ইতিহাসে যত জাতির ভাগ্যে উত্থান-পতনের ইতিহাস রচিত হয়েছে, যত জাতির মাঝে পরিবর্তন সাধিত হয়েছে, তাদের ইতিহাস সবিস্তারে পাঠ করা পরিবর্তনকামী মানুষের জন্য অতীব জরুরি। জনাব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদেরকে অতীতে ঘটে যাওয়া সকল ঘটনা সম্পর্কে জ্ঞান দান করতেন। তিনি তাদেরকে তৎকালীন পৃথিবীর ঘটনাও বর্ণনা করে শুনাতেন। তিনি তাদেরকে খসরু, সিজার পারস্য, পারস্যের অন্যান্য শহর, রোম, রোমের দুর্গ, ইয়েমেন, আবিসিনিয়া, মিসর, বাহরাইন ইত্যাদি দেশের জ্ঞান দান করতেন। ফলে সাহাবায়ে কেরাম নিজেদের অবস্থান ও বিশ্ববাসীর অবস্থান সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করতে পারতেন এবং যুগের চাহিদা উপলব্ধি করতে পারতেন।
এ কারণেই যুগসচেতন বিচক্ষণ যুবকের উচিত, বর্তমান বিশ্ব সম্পর্কে অধ্যয়ন করা। বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক ম্যাগাজিন (রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ইত্যাদি) অধ্যয়ন করা। চলমান বিশ্ব পরিবর্তনের মৌলিক কারণ নির্ণয় করা। এভাবে যুবসমাজ বাস্তব জীবনকে উপলব্ধি করতে পারবে এবং বর্তমানে বিশ্ব-মানবতার দ্বীন-ধর্মের বাস্তব অবস্থাও অনুধাবন করতে পারবে।
এভাবেই যুবসমাজ একটি পূর্ণাঙ্গ দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে, যাদের কাঁধে ভর করে জাতির ভবিষ্যৎ নির্মিত হবে।