📘 শোনো হে যুবক > 📄 বন্ধু নির্বাচন ভেবেচিন্তে করুন

📄 বন্ধু নির্বাচন ভেবেচিন্তে করুন


উপদেশ: ৬
বন্ধু নির্বাচন করুন ভেবে-চিন্তে
আপনার ঈমান যতই উন্নত হোক না কেন, অসৎসঙ্গ আপনার ঈমানকে প্রাথমিক পর্যায় কিংবা আরও নিম্ন স্তরে নিয়ে যেতে পারে। এ কথা বলবেন না, আমি আমার ঈমান হেফাজত করব, কারও প্রভাবে আমি প্রভাবিত হব না।
কারণ, মানুষের আখলাক-চরিত্র, দ্বীন-ধর্ম, স্বভাব-চরিত্র সাথী-সঙ্গীদের অনুরূপ হয়ে থাকে।
এ বিষয়টি জনাব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি হাদীসে বর্ণনা করেছেন। হাদীসটি ইমাম তিরমিযী, আবু দাউদ ও আহমদ রহ. হযরত আবু হুরায়রা রা. এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
المرء على دين خليله فلينظر أحدكم من يُخالِل. (رواه الترمذي وأبوداود)
'মানুষ তার বন্ধুর ধর্মের অনুসারী হয়ে থাকে। সুতরাং তোমাদেরকে দেখা হবে যে, তোমরা কাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছ?'
সুতরাং আপনি যদি জান্নাতের পথ অবলম্বন করতে চান, তাহলে সৎসঙ্গ অবলম্বন করুন। ইমাম আহমদ রহ. হযরত ইবনে ওমর রা. এর সূত্রে বর্ণনা করেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
من أراد بحبوحة الجنة فليلزم الجماعة. (رواه أحمد)
'যে ব্যক্তি জান্নাতের সুখ কামনা করে সে যেন জামাতের সঙ্গে থাকে।[42]
এবং আপনি শয়তানের ওপর বিজয়ী হতে চাইলে একাকী তার সঙ্গে লড়াই করতে পারবেন না।
ইমাম আহমদ রহ. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
فَإِنَّ الشَّيْطَانَ مَعَ الْفَةٌ، وَهُوَ مِنَ الاثْنَيْنِ أَبْعَدُ. (رواه أحمد)
'কারণ নিশ্চয় শয়তান একাকী ব্যক্তির সঙ্গে থাকে। দু'জন থেকে দূরে থাকে।'
মোট কথা, যে ব্যক্তি উম্মতের কল্যাণের ইচ্ছা রাখে, তার জন্য আবশ্যক হলো সৎসঙ্গ অবলম্বন করা। সৎসঙ্গ আপনাকে প্রতিমুহূর্তে ভালো কাজের কথা মনে করিয়ে দেবে। নামায ছুটে গেলে স্মরণ করিয়ে দেবে। আপনি কুরআন পাঠের অজিফা ভুলে গেলে মনে করিয়ে দেবে। যখন আপনি ক্লাসের পাঠ বোঝার জন্য সহযোগিতা চাইবেন, তারা আপনার সহযোগিতায় এগিয়ে আসবে। বিপদে পড়লে তারা আপনাকে উদ্ধারের জন্য এগিয়ে আসবে। কারণ, তাদের আদর্শ আপনার মতোই। আপনার মতোই ইসলাম তাদের অনুসরণীয়। আপনার মতো তাদেরও স্বভাব-চরিত্র হলো কোমল, দয়াময়, সহনশীল। তাদের চিন্তা-ভাবনা গভীর। তাদের চরিত্র-মাধুর্য সুষম। তারা মুসলমানদের বিপদে এগিয়ে আসে। বুঝেশুনে আল্লাহর ইবাদত করে। তারা পিতা-মাতার প্রতি আনুগত্যশীল। তারা আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে। ছোটদের স্নেহ করে। বড়দের সম্মান করে। কাজেকর্মে সবাইকে ছাড়িয়ে যায়- সৎসঙ্গীরা এরূপ গুণে গুণান্বিত হয়ে থাকে।
এমন লোকের সঙ্গ পেলে মানুষ রক্ষা পায়। সফলতা লাভ করে।
আপনি কি ভাবছেন, এরকম লোক স্বপ্নলোকেই বিদ্যমান, বাস্তবে এমন লোক খুঁজে পাওয়া যায় না?!
আল্লাহর শপথ! আল্লাহর দুনিয়ায় এমন মানুষ সব সময়ই থাকে। আল্লাহর নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উম্মতের মাঝে কল্যাণ সব সময় থাকবে।
পক্ষান্তরে যে যুবক অসৎ-সাহচর্যে ডুবে থাকে, তার চোখের ওপর আবরণ পড়ে যায়। সে সবকিছুতে খারাপ দেখতে পায়। হ্যাঁ, যদি অসৎ সঙ্গ ত্যাগ করে, তাহলে সে আবার কল্যাণ ও সফলতার পথ দেখতে পায়। সৎসঙ্গী গ্রহণকারী নিজেও মুক্তি পায় এবং তার আশপাশের সবাইও মুক্তি পায়। আল্লাহ তা'আলা মুমিনদের অন্তরকে ভ্রাতৃত্ববন্ধনে আবদ্ধ করুন এবং তাদের এক কাতারবদ্ধ করুন। আমীন।

টিকাঃ
৪২. মুসনাদে আহমদ: ১৭৭

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00